-
কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
(না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ১৭
আমার জীবনের ( সোহেল ও জাবেদ) দুইজন সাপের মত কুন্ডলি পাকিয়ে বসে রয়েছে। কোথায় গেলে এদের থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে?
আমার এই প্রশ্নের উত্তর পেতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি।
এরমধ্যে এক শুক্রবার আমি আর রিয়া বসে বসে বিটিভিতে বাংলা ছবি দেখছিলাম।(বিটিভিতে এখন বাতাবি লেবু ও সবজির বাম্পার ফলন দেখালেও সেই সময়ে বিভিন্ন নাটক, ছবি দেখাতো।
সে সময়ে বিটিভির নাটকের জনপ্রিয়তা ছিল।
এখন তো রিমোটে চাপ লেগে ভুলে বিটিভি এলে দেখার আগেই পাল্টাই।)
তো যা বলছিলাম বিটিভিতে ছবি দেখছি এরমধ্যে বিদ্যুৎ চলে যায়।
ছবিটি ছিল আমার প্রিয় নায়ক সালমান শাহ এর।
হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাওয়াতে মেজাজটা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল।
এর মধ্যে রিয়া কানের সামনে গুনগুন করেই চলছে,
তাও যে সে গুনগুন নয় , আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে রিতিমত গান গাচ্ছে।
সে যে কেন এলো না
দূর ছাই, কখন যে আসবে, কিচ্ছুই ভাল্লাগাছে না,
দেখা পেলেই হয়, আচ্ছা করে মজা দেখাবো।সে যে কেন এলো না, কিছু ভালো লাগে না,
এবার আসুক তারে আমি মজা দেখাবো।
যদি ফুল গুলো হায়, অভিমানে ঝরে যায়,
আমি মালা গেথে বলো কারে পরাবো।সে যে কেন এলো না, কিছু ভালো লাগে না,
না ভালো লাগে না—–প্রজাপতি উড়ে গিয়ে বলনা,
আমি নই তার হাতের খেলনা, বলনা।
প্রজাপতি উড়ে গিয়ে বলনা,
আমি নই তার হাতের খেলনা।সে যে যখন তখন, মোরে করে জ্বালাতন,
ভালোবাসা কারে বলে তারে সিখাবো।
এবার আসুক তারে আমি মজা দেখাবো।সে যে কেন এলো না, কিছু ভালো লাগে না,
না ভালো লাগে না——যারে পাখী তারে গিয়ে বলনা,
আমি কি এমনতর খেলনা।
যারে পাখী তারে গিয়ে বলনা,
আমি কি এমনতর খেলনা।এই উতালা ফাগুন মনে জ্বেলেছে আগুন,
এই উতালা ফাগুন মনে জ্বেলেছে আগুন,
আমি কেমন করে বল তারে নিভাবো,
এবার আসুক তারে আমি মজা দেখাবো।সে যে কেন এলোনা কিছু ভালো লাগে না,
না ভালো লাগে না—-চিঠি নিয়ে ওরে মেঘ চলনা,
তার কানে কানে গিয়ে বলনা।
চিঠি নিয়ে ওরে মেঘ চলনা,
তার কানে কানে গিয়ে বলনা।
এই মেয়ের গানের গলা ভালো হলেও তেমন ভালো নয় যে মুগ্ধ হয়ে শুনবো।
তাছাড়া আমি খুব কম গান শুনি, হাতেগোনা কয়েকটি গান ছাড়া আমি তেমন একটা গান শুনি না।
আর এই মেয়ে সকাল থেকে আমার কান ঝালাপালা করছে।
ওকে থামাতে হবে ভেবে রেগে বললাম, দাঁড়া চাচাকে বলছি তোর জন্য একজনকে এনে দিতে।
যেহেতু তোর আজকাল একা থাকতে ভালো লাগছে না।রিয়া আমার কথাটা শুনে মুচকি হেসে বললো, তোর আসায় পানি ঢালতে তোর জামাইকে দুলাভাই না ডেকে আমি বিয়ে করছি না।
আমার আগে বিয়ে হলে তোর জামাই আমাকে শালী না বলে জেট্টেস বলবে তা তো হতে পারে না।
আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম, তোর সে আশা আশায় থেকে যাবে।
ও আমার কথা শুনে বলে,দেখিস আমার মনের আশা জলদি পূরণ হবে তুই দেখিস।
এমন আছে আমার আশাটা আজৌও পূরণ হতে পারে।
কথাটা শুনে আমি রেগে ওকে কিল দিলাম।
এই মেয়ে আজকে সকাল থেকে গুন গুন করে শুরু করে গান করছে আর বাড়িঘর পরিষ্কার করছে।
আমি ওকে বললাম,তা আজ এতো ঝাঁড়পোঁচ করছিস ব্যাপার কি?
তোকে দেখতে আসবে নাকি?
ফাজিলটা বলে কিনা আমাকে না তোকে দেখতে আসবে।
আমি ওর কথা তেমন আমলে নেয়নি কারণ রিয়া আমার সাথে সবসময় এমন মজা করে।
এখনও সেই গুনগুন আজ হলোটা কি ওর!
আমি কথাগুলো ভাবছিলাম
এরমধ্যে রিয়া বলে উঠলো,এই সীমা চলনা ছবিটা দেখে আসি।
আশ্চর্য বিদ্যুৎ নেই ছবি দেখব কিভাবে?
আরে আমার নানু বাড়িতে তো ব্যাটারিতে টিভি চলে।
ওখানে যাব।
এই ছেমরি তোর মাথা খারাপ?
হাঁটু সমান পানি ভেঙে তোর নানু বাড়িতে যাবো টিভি দেখতে!
এতো পাগল হয়নি।আমার কথা শুনে রিয়া বললো, ঠিক আছে না গেলে নাই।
এই সীমা শুন না ?
কি হয়েছে চেঁচাতে শুরু করলি কেন?
আচ্ছা, সালমান শাহ্ কি তার বোনকে খুঁজে পাবে?
সে তো জানেই না তার বোন চলে গেছে।
আহারে ওর বোনটাকে তমালিকা বের করে দিয়েছে।
বেচারি বোনটা বুকে হাত দিয়ে ছিলেন।এই ছেমরি আমার মাথা না খেয়ে থামবে না,
এমনিতেই ছবি দেখতে পারছিলাম না তার জন্য খারাপ লাগছে এর মধ্যে একটু পর পর ছবি সম্পর্কে প্রশ্ন করে কান ঝালাপালা করে দিচ্ছে।
আমি ওর কথা থেকে বাঁচতে বললাম চল তোর ছবি দেখার সখ মিটাই।
রিয়া তার সামনের দাঁত বের করে হেসে বলে,চল চল দেরি হয়ে যাচ্ছে।
আমি আর রিয়া ঘরে থেকে বের হচ্ছিলাম এরমধ্যে নানু বললেন,এই ছেরিরা দাঁড়া আমিও তো যামু!
আমি তার কথা শুনে চমকে বললাম,নানু পানির মধ্যে কষ্ট করে আপনি যাবেন কোন দুঃখে?
তো কিছুক্ষণ আগেই না এখানে এলেন?
বরং আমরা যাই আপনি মেয়ের জামাই বাড়ি কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে আসেন।নানু আমার কথা শুনে বললেন, হুঁ সতিনদেরকে একা পাঠিয়ে আমার আলাভোলা স্বামীকে হারাই,
নানু আপনি চিন্তা করবেন না, আমাদের নজর যথেষ্ট ভালো।
আমরা আপনার বুড়োর দিকে নজর দিবো না।
যদিও আমাদের নানা দেখতে নায়ক সালমান শাহ্ এর মত তবুও আপনার দিকে চেয়ে সেদিকে নজর দিচ্ছি না।
নানু আমার কথা কানে তুললেন না।
বরং আমাদের সাথে সাথে যেতে লাগলেন।
পানি না থাকলে নানুদের বাসায় যেতে লাগে পাঁচ মিনিটের কম।
পানি থাকায় দশ মিনিট লাগল।
আমরা আগে আগে যাচ্ছিলাম আর নানু পিছনে পিছনে আসছিল।
পিছনে থেকে নানু হঠাৎ করে বলে উঠলেন, ওখানে গিয়ে সবাইকে সালাম দিবি,আর ফটর ফটর করবি না এবং তারা যা জিজ্ঞেস করবে তার উত্তর দিবি।
আমি অবাক হয়ে বললাম,কারা?
আর আপনাদের বাসায় মেহমান থাকলে আমি যাবো না।
এই রিয়া বাসায় চল ছবি দেখব না।
নানু আমার কথা শুনে বললেন, তুই না গেলে আমার মেয়ের সম্মান নষ্ট হবে।
রিয়ার ছোট খালার দেবর আসছে তোকে দেখতে।
চলবে11 Comments

Saifun nesa Shima
Housewife
Friends
Nahar moyna
@moyna
বিপুল চন্দ্র রায়
@sreebipulchondrorayraygmail-com
এমদাদ হোসেন
@emdad123
Jebunnesa jebu (জেবুন্নেছা জেবু)
@jebunnesa-jebu
TARIN
@tarin
Latifur-rahman-Pramanik
@latifur-rahman-pramanik
Md-Nadiruzzaman
@md-nadiruzzaman
Md. Habibur Rahman
@habib
তাওহীদ সুফিয়ান
@tawhidsufian


ভাল লিখেছেন