-
অভিশাপ (পর্ব ২)
সাব্বির আহমেদ
রফিক স্যারের বাড়িতে দিনগুলো সুখেই কাটছিল, স্যারের স্ত্রী আমাকে খুব আদর করেন,তাঁকে আমি চাচী বলে ডাকতাম। একদিন তিনি আমাকে ডেকে বললেন নার্গিস এ দিকে আসো,আমি চাচীর কাছে গিয়ে বললাম জ্বি চাচি।তিনি বললেন আমার পাশে বসো তারপর আমার আমার মাথায় পিঠে হাত হাত বুলাতে বুলাতে বললেন হ্যাঁরে আমাকে মা বলে ডাকতে কি তোর খুব কষ্ট হবে? চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না কেঁদে ফেললাম।তিনি আমাকে টান দিয়ে কোলে বসিয়ে বুকে মধ্যে চেপে ধরলেন।কান্না যেন কিছুতেই থামছে চাইছে না এভাবে আগে কখনো কাঁদিনি।চাচী আমার মাথাটা তার বুকের মধ্যে এখনও চেপে ধরে আছেন।আর বলছেন কাঁদ মা কাঁদ বুকটা হালকা হবে।এভাবে কেটে গেল অনেকক্ষন।তারপর থেকে আমি তাকে মা বলেই ডাকতাম তিনি আমাকে কোন কাজ করতে দিতেন না, শুধু খাওয়া-দাওয়া খেলাধুলা আর স্কুলে যাও। স্যারের দুই ছেলেই আমাকে ছোট বোনের মত আদর করতেন এভাবে কেটে গেল প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিনমাস মত।হঠাৎ
এক দিন ঘুম থেকে উঠে সবে মাত্র বারান্দায় গিয়ে বসেছি,দেখি বাবা এসে হাজির।তাকে দেখে খুশি হতে পারলাম না আমার হাত পা কাপতে শুরু করেছে,বাবা বললেন ল বাড়িত ল। আমি কোন কথা না বলে দৌড়ে ঘোরের মধ্যে ঢুকে পরলাম।চাচি ঘুমাচ্ছিলেন আমি তার বুকের মধ্যে মাথা গুজে শুয়ে কাপছি,চাচি বললেন কিরে মা কি হয়েছে কাপছিস কেন?আমি কেঁদে ফেললাম,চাচি বললেন কি হয়েছ কাঁদছিস কেন?বল মা আমাকে বল!চাচিকে আরও শক্ত করে জরিয়ে ধরে বললাম,আমি যাবো না মা।কোথায় যাবি?কি বলছিস?কে এসেছে?তোর বাবা?আমি শুধু মাথা নাড়লাম।কাদিস না কেউ তোকে নিয়ে যেতে পারবেনা।তোর চাচা আগে আসুক তার পর দেখছি।চাচা ফজরের নামাজ পরে হাটতে বেরিয়েছেন আসতে হয়তো আটটা বাজবে।ততক্ষনে আমার না জানি বারোটা বেজে যায়।বাবা উঠানে দাড়িয়ে ডাকা ডাকি করছেন,আমি চাচিকে ধরে চুপচাপ শুয়ে আছি।সাড়ে সাতটার সময় চাচা আসলেন।অনেক কথা কাটাকাটি হলো তাদের মাঝে।আশেপাশের কিছু লোক এসেছিলো।এক পর্যায়ে বাবা ফিরে গেলেন।কিন্তু হাল ছাড়েন নাই।বিচার চাইলেন চেয়ারম্যানের কাছে।বিকালে বিচার বসলো,মাতব্বর চেয়ারম্যান আরও অনেক লোক এসেছেন রায় গেলো আমাদের বিপক্ষে,সবাই স্যারকে দোষারপ করছেন,বাবার কাছথেকে আমাকে লিখপড়ে আনেন নাই কেন?বাবা নাকি আদালতে গেলে তারই জয় হবে কারন আমার বয়স এখনো আঠার হয়নাই।তাই রায়টা বাবার পক্ষেই গেলো।আমাকে আবার ওই নরকেই ফিরতে হলো।আসার সময় চাচি আমাকে জরিয়ে ধরে অনেক কেদেছেন।আমি কাঁদতে পারি নাই।কান্নার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছিলাম।এর পর থেকে শুরু হলো নির্যাতনের নতুন মাত্রা।এখন আমার সব গা সওয়া হয়ে গেছে।দেখতে দেখতে বছর শেষ হয়ে গেলো আমি সপ্তম শ্রেণিতে উঠলাম,বরাবরের মত এবারেও প্রথম হলাম।স্কুলে আসলেই চাচির সাথে দেখা করতাম,এভাবেই কাটছিলো দিনগুলি।এক দিন বাড়িতে আসলেন আমার ফুপাতো ভাই আর ভাবি,উদয় হলো আমার জিবনে নতুন শনি। (চলবে)3 Comments
Friends
Syeda Tahmin Ara
@tahmina-s
MD AKRAMUL HOQUE
@akramul-here
MD AMAN ULLA
@aman06
Farhana Nawrin (Sumi)
@nawrin
Omar Sani
@omar-sani
RITON MOSTOFA
@riton
Mustafa Nazmus Sakib (Zubair)
@mustafasakib
Md.Akram hosen
@hosen
Arefeen
@arefeen


চমৎকার