Profile Photo

Shimanto Peter GomesOffline

  • Shimanto-Peter-Gomes
  • Profile picture of Shimanto Peter Gomes

    Shimanto Peter Gomes

    • 4 years, 11 months ago

    বাড়ি নাম্বার ফোর নট থ্রি (পর্ব-২)
    —————————————

    মিঃ থমাস, ওয়াহিদ সাহেব কে সাথে নিয়ে আগের খুনের যায়গা গুলো ঘুরে এসেছেন। আর সব জায়গাতেই লাভ চিহ্নের ভিতরে ক্রস আকা পেয়েছেন। প্রথমটা তে দুইটা ক্রস, দ্বিতীয় টা তে তিনটা, তৃতীয়টাতে চারটা আর চতুর্থ টায় পাঁচটা। তারমানে খুনি আরো একটা খুন করেছে যেটা কোন সংবাদে আসে নি।
    মিঃ থমাস তার ডায়েরিটা নিয়ে বসলেন। তিনি এক এক করে সূত্র সাজানো শুরু করলেন। “খুনি একজন মেয়ে। কম্ফু কারাতে তে দক্ষ।” লাভের ভিতর ক্রস চিহ্ন এবং হৃদপিণ্ড বিক্ষত করে দেওয়ার কি কারন হতে পারে তিনি ভেবে পাচ্ছেন না। এমন সময় টিভিতে চলতে থাকা নাটকে নায়ক, নাইকা কে বলছে, “আমি তোমাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি।” ডায়লগটা শুনেই মিঃথমাসের মাথার অর্ধেক জট খুলে গেল। হৃদয়, হৃদপিণ্ড, হৃদয়, হৃদপিণ্ড বিরবির করতে করতে হো হো করে হেসে উঠলেন মিঃ থমাস। খুনি খুন করেছে হয়তো প্রেম ভালোবাসা জনিত কারনে। তাই লাভের ভিতর ক্রস চিহ্ন ও হৃদপিণ্ড ক্ষত বিক্ষত করে দিয়েছে খুনি। কিন্তু এতো গুলো পুরুষের সাথে এক নারীর প্রেম, এটা কিভাবে সম্ভব? আবার খুন হওয়া ব্যক্তিগুলো এক অপরের অপরচিত। তার থেকেও বড় কথা হলো তারা সবাই বিবাহিত ছিলো। তাহলে কি পরকীয়া? সেটাও যদি হয়, চারজন অপরিচিত ব্যক্তি কিভাবে একজন নারীর প্রেমে আসক্ত হলো? কেসটা বড্ড গোলমেলে। এই মনে হয় যে সব জট খুলে গেছে তারপরই আবার আরো বড় গোলক ধাঁধায় জরিয়ে যায় সব কিছু। মাথা টা ঝিমঝিম করছে। মিঃ থমাস তার শোবার ঘরের সেল্ফ থেকে হুইস্কির বোতল বের করে গ্লাসে এক পেগ হুইস্কি আর একটা সিগারেট নিয়ে বেলকনিতে গিয়ে দাড়ালেন। সকালের কোমলতা ছেড়ে রোদ ধীরে ধীরে প্রখর হচ্ছে। কিছু দূরে একটা ডোবায় একটা কুকুর গলা পর্যন্ত শরীর ডুবিয়ে বসে আছে। আসলেই প্রচন্ড গরম পড়ছে গত দুই দিন ধরে।

    দুপুর দুইটা দিকে জামান সাহেব ফোন করেছিলেন। মিঃ থমাসের সন্দেহ আংশিক সঠিক। খুন হওয়া প্রত্যেক জনেরই পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো। তবে সবাই আলাদা আলাদা বক্তি। তাদের কে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মিঃ থমাস বনানী থানার দিকে রওনা হলেন। ওই চারজন মহিলার সাথে কথা বলতে হবে। হয়তো কোন সূত্র হাতে আসতেও পারেন।

    শেষ পর্যন্ত আশাহত হয়েই বাড়ি ফিরতে হলো। ঐ মহিলাদের সাথে কথা বলে কোন কিছুই পাওয়া গেল না। তাদের কল লিস্ট চেক করেও কোন রকম সন্দেহজনক কিছুই সামনে আসলো না। কিভাবে কোন সূত্র ধরে এগিয়ে যাবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। মিঃ থমাস ঠিক করলেন খুন হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্ত্রীদের সাথে কথা বলবেন। তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত যে খুনির সাথে তাদেরও কোন সংযোগ নেই। কারন তিনি চতুর্থ ব্যক্তির স্ত্রী কে ঐদিন ঘটনাস্থলে দেখেছেন। মহিলা যেভাবে কান্না কাটি আর আহাজারি করছিলো তাতে বোঝা গেছে যে সে কোনভাবেই নিজের স্বামীর হত্যার চিন্তা মাথায় আনতে পারবে না। তবুও কথা বলতে হবে। এটাই এখন সর্বশেষ রাস্তা।

    মিঃ থমাস তার বসার ঘরের আরাম কেদারায় বসে দুলছেন। অবশেষে এক টুকরো আশার আলোর ঝলকানির তিনি পেয়েছেন। তিনি আজ সারাদিন ঘুরে ঘুরে ভিক্টিমদের প্রত্যেকের স্ত্রীদের সাথে কথা বলে এসেছেন। প্রত্যেকেরই মানসিক অবস্থা খুব খারাপ। কেউই স্বামীর এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেল তারা সবাই তাদের স্বামীর পরকিয়ার কথা জানতেন। এ নিয়ে প্রত্যেকেরই স্বামীর সাথে বাকবিতন্ডা লেগেই থাকতো। দুইজনের তো প্রায় ডিভোর্সই হয়ে যাচ্ছিলো। তারা এ বিষয়ে কারো সাহায্য চেয়েছিলেন কিনা বা কারো স্মরনাপন্ন হয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে তারা সবাই, “দৈনিক দেশ ও বিশ্ব” পত্রিকার একটা বিজ্ঞাপন দেখালেন। বিজ্ঞাপনের একটা লাইনে লেখা, “সংসারে অশান্তি, স্বামী/স্ত্রী পরকীয়া, ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানো, সকল সমস্যার সমাধান করতে আসুন বাবা কদম শেখের দরবারে।” পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখে সংসার বাঁচানোর জন্য তারা এই কদম শেখের দরবারে গিয়েছিলেন। মিঃ থমাস এখন অনেকটাই নিশ্চিত যে, বাবা কদম শেখের দরবারে গেলেই রহস্যের একটা সমাধান পওয়া যাবে। কাল একবার বাবার পায়ের ধুলো নিতে যাবেন মিঃ থমাস। ডাক্তারের আদেশ মান্য করতেই আজ তিনি তারাতারি বিছানায় চলে গেলেন। আসলেই তার প্রচুর বিশ্রামের দরকার।

    তারাতাড়ি বিছানায় এসেও কোন লাভ হলো না। এ পাশ ওপাশ করে এক ঘন্টা পার হয়ে গেল কিন্তু চোখে ঘুম আসার কোন লক্ষ্মণই নেই। মিঃ থমাস উঠে গিয়ে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে তার কম্পিউটার টা অন করলেন। “বাংলাদেশের টপ মহিলা কারাতে বিদ” লিখে সার্চ দিলেন গুগলে। জাতীয় পুরষ্কার বিজয়ী শামীমা আক্তার সহ রাজিয়া পারভীন, শাপলা দাস ও রুহেলী খানমের নাম ছবি সহ ভেসে উঠলো কম্পিউটারের পর্দায়। মিঃ থমাস খুটিয়ে খুটিয়ে সবার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য ও তাদের প্রকাশিত সব ধরনের চিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পর্যবেক্ষণ করলেন। কারো সাথেই খুনির উচ্চতার কোন মিল নেই। সবার উচ্চতাই পাঁচ ফুট চার ইঞ্চির নিচে। কিন্তু মিঃ থমাসের হিসাব অনুযায়ী খুনির উচ্চতা পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি। আর অন্য কোন ধরনের সন্দেহ জনক কিছুও খুজে পেলেন না তাদের বিরুদ্ধে মিঃ থমাস।

    হঠাৎ একটা ছবির উপর চোখ আটকে গেল মিঃ থমাসের। ছবিতে একটি বাড়ির ভিতরে একজন মহিলা আট দশজন মেয়েকে কারতে শিক্ষা দিচ্ছে। ছিপছিপে গড়নের, দূধ সাদা গায়ের বরণ মহিলাটির। এক পলক দেখেই মোহিত হয়ে যাওয়ার মত রূপের অধিকারী মহিলা। উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চির মতই হবে। তার মধ্যে একটা রাজকীয় রাজকীয় ভাব স্পষ্ট। তাদের অদূরে একটি খাচার ভিতর দানবাকৃতির দুটি রটওয়েলার আটকানো। রোগ নিয়ন্ত্রন ও প্রতিরোধ কেন্দ্র ‘সিডিসি’র তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্টে কুকুরের কামড়ে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার অর্ধেক মৃত্যুর কারন ছিল রটওয়েলার প্রজাতির কুকুর। এই তথ্যই বলে দেয় এই প্রজাতির কুকুর কতটা আক্রমণাত্মক স্বভাবের হয়ে থাকে এরা। প্রচণ্ড শক্তিশালী হয় এরা। আর যে কোনও সময় মারাত্মক বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তবে খারাপ গুণের মধ্যে ভালো যা আছে, তা হল এরা খুব ভালো পাহারাদার এবং প্রভুভক্ত হয়ে থাকে। তবে খুব ভালোভাবে ট্রেইনড করতে না পারলে এরা ভয়ংকর হয়ে ওঠে। পোল্যান্ড, রোমানিয়া, পর্তুগাল এবং আয়্যারল্যান্ডে রটওয়েলার প্রজাতির কুকুর পোষা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রটওয়েলার একটি জার্মান বংশোদ্ভূত কুকুর। তবে, রোমান সাম্রাজ্যের যুগেও রটওয়েলারের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।

    ছবিটাতে ক্লিক করতেই নিচে একই বাড়ির আরেকটা ছবি সাথে ভেসে উঠলো। পরের ছবিটাতে বাড়ি গেইট থেকে শুরু করে পুরো বাড়িটার মোটামুটি একটা স্পষ্টতা ফুটে উঠেছে। গেটের পাশে দেয়ালে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লেখা “বাড়ি নাম্বার-৪০৩ (ফোর নট থ্রি), রোড- ৩২, রাধাচূড়া আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।” গেটের সামনে শক্তপোক্ত গড়নের দূই জন গার্ড দাড়িয়ে আছে। যাদের দেখে মনে হয় অবসর প্রাপ্ত দক্ষ সামরিক অফিসার। বাড়ির প্রতি পরতে পরতে আভিযাত্যের ছাপ স্পষ্ট। বাড়ির ছাদের উপরে উন্নত প্রযুক্তির রাডার, এন্টেনা বসানো। যেগুলো দিয়ে সরাসরি স্যাটেলাইটের সহয়াতা খুব সহজেই পাওয়া সম্ভব। বোঝাই যাচ্ছে বাড়িতে যিনি বা যারা থাকেন তারা উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে থাকেন। এমন কি তাদের ব্যবহৃত প্রযুক্তির মাধ্যমে যেকোন প্রকার ভার্চুয়াল অপরাধ করা তাদের কাছে জলের মত সহজ। এর বেশি কোন তথ্য আর সে বাড়ি সম্পর্কে পাওয়া গেল না। এমন কি সেই মহিলার নাম ও কোথাও পাওঅ গেল না। মিঃ থমাস মনে মনে ঠিক করে ফেলেছেন আজ রাতেই তিনি গোপনে “বাড়ি নাম্বার ফোর নট থ্রি” তে ঢুকে দেখবেন যে ঐ বাড়ির ভিতর লোকচক্ষুর আড়ালে কি চলছে। এরকম একটা আভিজাত্যপূর্ণ পরিবারের মহিলা কারাতে শিক্ষিকা এটা মিঃ থমাসের মন কোনভাবেই সায় দিচ্ছে না।

    মিঃ থমাস ছদ্মবেশ নিয়ে আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেই চমকে উঠলেন। তাকে এখন পরিপূর্ণ পেশাদার চোর মনে হচ্ছে। যেহেতু তিনি রাতের বেলায় যাচ্ছেন তাই চোরের ছদবেশই সব থেকে উত্তম। ধরা পরে গেলেও ছ্যাচড়া চোর ভেবে ছেড়ে দিবে। অন্য কোন কিছু সন্দেহ কেউ করবে না। রাত প্রায় সোয়া তিনটে। মিঃ থমাস বাড়ি নাম্বার “ফোর নট থ্রি” এর প্রাচীর টপকে ভিতরে ঢুকেছেন পয়তাল্লিশ মিনিট হয়ে গেল। এখনো তার কোন সাড়াশব্দ নেই। আচমকা মি থমাসের বিকট চিকারে কেপে উঠলো পুরো বাড়ি। বাড়ি এমাথা থেকে ওমাথা চিৎকার করে ছুটাছুটি করতে দেখা গেল রটওয়েলার দুটোকে। প্রায় পাঁচ মিনিট পড় দেখা গেল মিঃ থমাসকে কাঁধে করে একজন গার্ড গটগট করে গেটের বাহিরে এলো। মিঃ থমাস অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে তার কাঁধে। আর তার সাথে সাথেই একটা পিক-আপ ভ্যান এসে দাড়ালো বাড়ি গেট এ। গার্ডটা টা মিঃ থমাসকে প্রায় ছুড়েই দিলো পিক-আপ ভ্যানের উপরে। ভ্যানটাও সাথে সাথে একগাদা ধুলো উড়িয়ে সাই করে মোড়ের আড়ালে হাড়িয়ে গেলো। (চলবে)

    9
    6 Comments
Skip to toolbar