Profile Photo

মিথিলা কনকOffline

  • Methila06
  • Profile picture of মিথিলা কনক

    মিথিলা কনক

    4 years, 7 months ago

    * হিমি’র ডয়েরী
    _______________

    হিমির চলে যাওয়া, বিনা দোষে ই আমার জীবনে সমস্যার পর সমস্যার দেয়াল তৈরী করতে থাকলো , পাড়ায় কলেজে সবাই আমাকে এমন ভাবে দেখতো ,আমার দিকে আঙ্গুল তুলতো যেন আমিই আসামী । হিমি’র চলে যাওয়া আমার জীবন টাকে একদিকে উত্তাল আর একদিকে স্থবির করে যাচ্ছিলো । রোজ বাড়ির বাইরে সাংবাদিক আর পুলিশের আনাগোনা , বাবা ভীষণ বিরক্ত আর রাগাম্বিত হয়ে উঠেছিলো ।
    খাওয়া দাওয়া করতে পারতাম না , এই ঘটনা কোনভাবেই ভোলা বা এরিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিলোনা ।চোখের সামনে হিমির চেহারা ভাসতো শুধু আর মাথায় ঘুরতো একটাই প্রশ্ন ‘কে এই নীল ?’
    কোন দিশা ছিলোনা সামনে যেন ঘন কালো অন্ধকার রাত শুধু ।
    সেদিন সারারাত ঘুমাতে পারিনি , ঘরে এই শীতেও ঘেমে নেয়ে উঠেছিলাম । কখন বারান্দায় এসে বসেছি আর কখন ভোর হয়ে গেছে কিছুই বুঝতে পারিনি শুধু হিমি আর হিমি চলছিলো মাথা জুড়ে ।
    মা আমার কাধে ঝাকুনি দিয়ে ডাকছিলো তাতেই যেন উদভ্রান্ত আমি বাস্তবে ফিরে এলাম ।
    মা বললেন ‘ কিরে এভাবে এখানে বসে আছিস ! নিজের কি চেহারা হয়েছে দেখেছিস? তোর বাবা ভীষণ রেগে আছে , আজ আবার পুলিশের ফোন এসেছিলো ,তোকে বাড়িতে থাকতে বলেছে ওদের নাকি আর কি সব জিজ্ঞেস করার আছে ।
    আর এই দেখ আজকের খবরের কাগজ ,কি যে সব হচ্ছে ! একটা এতো ভালো মেয়ে কেনোই বা এভাবে যাবে ? তুই কিছু জেনে থাকলে বলে দে ,
    মা ! তুমিও এভাবে বলছো !
    আমি কিছু জানলে অনেক আগেই বলে দিতাম ।
    খবরের কাগজের সামনের পাতায় বড় করে খবর ছেপেছে। খবরের উপরে একপাশে হিমির হাঁসিহাঁসি মুখ আর অন্যপাশে নিথর হিমিকে দেখা যাচ্ছে ।খবর পড়ার আগেই চোক ঝাপসা হয়ে আসলো, খবর কি পড়বো!
    মা এক জায়গায় ঈঙ্গিত করাতে সেই লাল কালিতে মার্ক করা লাইন টা পড়ে আরোও আতঙ্কিত হলাম ।
    ওখানে লেখা আছে ,আমাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে ! সব নাকি আমাকে জেরা করলেই বের হয়ে আসবে !
    কি হচ্ছে এসব ! কারো এতোবড় বিপদে এসব চাটকদার কথা এরা কিভাবে লিখতে পারে!
    শুধু পত্রিকা বিক্রির জন্য!
    মা বললেন হিমির চাচা চাচীর খোঁজ পাওয়া যায়নি তারা নাকি পলাতক , কেমন আশ্চর্য্য হচ্ছি সব খবরে !
    ওদিক থেকে বাবার কন্ঠ ভেসে এলো ,’ তোমাকে কলেজ যেতে হবেনা বাড়িতে থাকো । কে জানে আর কি তামাশা দেখতে হবে !’
    উঠে ফ্রেশ হবো ভাবলাম তখন আবার বাবা বলে উঠলেন , ‘ ইন্সপেক্টর সাহেব এসেছেন এদিকে এসো কথা বলে যাও । ‘
    রোবটের মতো আবার ইন্সপেক্টর এর মুখোমুখি হলাম
    এক দৈত্যের মতো মহিলা কনস্টেবল কেমন ক্রুর দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে , এই পরিবেশে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিলো ।
    ইন্সপেক্টর বললেন ‘ এই ডায়েরী দেখছো ? এটা তোমার ঘনিষ্ট বন্ধুর ডায়েরী । চেনা এটাকে ?’
    চিনি খুব ভালো করেই চিনি । এইটা সব সময় হিমির ব্যাগেই থাকতো ।
    ‘ আচ্ছা আমাকে সত্যি করে বলো , গত ১৫ তারিখে হিমি কলেজে এসেও ক্লাস না করে চলে যায় কিন্তু সে বাড়িতে না যেয়ে নীল এর সাথে দেখা করতে যায়।এর আগেও একাধিক বার সে এমন ভাবে নীলের সাথে দেখা করতে গেছে । তুমি কি কিছুই জানতেনা এ বিষয়ে?’
    জানতাম কারণ ,মহিলা কলেজ হওয়াতে এভাবে চাইলেই কলেজ শেষ হবার আগে আমরা বেরুতে পারতাম না ,কিন্তু হিমি প্রয়ই কিভাবে যেন ক্লাস পালিয়ে দেখা করতে যেত ।
    ‘ তাহলে তুমি বলতে চাইছো তুমি সত্যিই নীল কে চেনোনা? দেখোনি?’
    আমি সত্যিই নীল কে তাকে চিনিনা ।
    (চলবে )২

    10
    5 Comments
Skip to toolbar