Profile Photo

মিথিলা কনকOffline

  • Methila06
  • Profile picture of মিথিলা কনক

    মিথিলা কনক

    4 years, 7 months ago

    * হিমির ডায়েরী
    ______________

    আমার পৃথিবী যেন আমার ঘরটাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে , বিছানা ,মেঝে আর বারান্দা !
    এই ঘরটাতে কতোদিন আমি আর হিমি গল্প করে ঘন্টা পার করে দিয়েছি ,সব স্মৃতিগুলো চলচ্চিত্রের মতো চোখের সামনে দেখিয়ে যাচ্ছে মস্তিষ্ক যেন । চোখ বন্ধ করেও কোন লাভ হচ্ছেনা , হঠাৎ কেউ যেন খুব কাছ থেকে ডেকে উঠলো কারো নিঃশ্বাস কান ছুঁয়ে গেল চমকে চিৎকার করে উঠলাম পরক্ষণেই বহু দূর থেকে যেন কেউ নাম ধরে ডেকে গেল মুখে পানির ঝাপটা লাগতে ই চোখ মেলে দেখি আমি স্বপ্ন দেখছিলাম অথবা আমি হয়তো জ্ঞানেই ছিলাম না ।
    মা আমার দিকে ঝুঁকে আতঙ্কিত চেহারা নিয়ে ডেকে ই যাচ্ছে আমাকে।
    উঠে বসতে ই আমাকে ধরে কেঁদে উঠলেন মা
    বলতে লাগলেন ‘নিজেকে সামলা , তুই জানিস তোর বাবা ঠিকমতো খাচ্ছেন না তোর চিন্তায় ?
    এমনিতেই হিমির মা ,বাবা যেদিন গাড়ি দূর্ঘটনায় মারা গেলেন এটাও অনেক বড় একটা আঘাত ছিলো তোর বাবার জন্য আর এখন তুই এমন করলে তোর বাবা হয়তো স্ট্রোক করবেন । একটু সামলে নে মা নিজেকে ‘
    দরজা থেকে একটা আবছা কাউকে সরে যেতে দেখলাম, তারমানে বাবা !
    আমার কঠোর বাবা আমার চিন্তায় কেমন ভেঙ্গে পরেছে উনার চেহারায় কঠোরতার ভাজ গুলো যেন একটু নরম হতে শুরু করেছে । আসলে বাবারা মনে হয় এমনি হন । সন্তানের জন্য একবুক স্নেহ নিয়েও চেহারায় রুক্ষতা ফুটিয়ে রাখেন ।এতো মায়া হলো ,ঠিক করলাম – নাহ্ আর এভাবে নয় ,
    আমি তো কোন অপরাধ করিনি আমি কেন ভয় পাবো !
    বরং একটু চিন্তা করে দেখি কোন কিছু এমন যা ভুলে গেছি কিন্তু মনে করতে পারলে, হিমির অপরাধিকে ধরতে সহায়তা করতে পারবো ।
    মা’র আনা খাবার প্লেট হাতে নিলাম একটু একটু স্যুপ খেলাম আসলে চেষ্টা করতে হবে তা নাহলে আমার এমন অবস্থা আমার মা বাবা কেউ সহ্য করতে পারবেনা ।
    আমি খাচ্ছি আর মায়ের কথা শুনছি ,
    ‘ তোর বাবা , মনিকা আর হায়াত সাহেব ( হিমির মা ,বাবা) অনেক ভালো বন্ধু ছিলেন । মনিকা বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে, ভালোবেসে বিয়ে করেন হায়াত ভাইকে । বিয়েটা মনিকা ওর বাবাকে না জানিয়ে করেছিলো এই বিয়ের সাক্ষি ছিলেন তোর বাবা ।পরে অবশ্য বিয়েটা মনিকা র বাবা মেনে নেন । হায়াত ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ে টপ করা ছাত্র । বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষক হিসেবে জয়েন্ট করতেন কিন্তু মনিকা র বাবা হঠাৎ মারা যাবার কারণে উনার বিশাল ব্যাবসা সামলাতে শুরু করলেন এবং মনিকাদের বাড়িতেই একবারে চলে এলেন ।
    মনিকা র সাথে আমার পরিচয় বিয়ের পর আর ঘনিষ্ঠতা তোকে স্কুলে নিয়ে যেতাম ওখানে উনিও আসতেন হিমিকে নিয়ে । কত কথা হতো ধীরে ধীরে তোর বাবার বন্ধু আমারও ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে গেল ।
    ওরা শ্বামী স্ত্রী দু’জন এতো ব্যাস্ত থাকতে শুরু করেছিলেন যে হিমিকে ঠিক সময় দিতে পারছিলেন না , যতোই কাজের লোকজন থাক ,আপনজন তো আপনজন তাই দেশ থেকে বহুত বলে কয়ে রাজি করিয়ে হায়াত ভাই খালাম্মা কে নিয়ে এলেন ।
    খালাম্মা হিমিকে একমুহূর্ত চোখের আড়াল করতেন না । তারপর এলো সেই অশুভ দিন , কি এক মিটিং এটেন করতে মনিকা আর হায়াত ভাই চিটাগং গেলেন আর ফিরতি পথে ফিরলেন লাশ হয়ে ।
    এরপর হায়াত ভাই এর ছোট ভাই তার বৌ সমেত এখানে এসে সব ধীরে ধীরে নিজেদের আয়ত্তে আনতে লাগলেন ।
    এতো অহংকার মহিলার যেন এই বিত্তবৈভব উনারা জন্ম সুত্রে পেয়েছেন । ‘
    তাহলে কি মা সত্যিই উনারাই দায়ি হিমির মৃত্যুর জন্য ?
    ‘ জানিনা মা , এতো ভালো একটা মেয়ে । তুই হয়তো খেয়াল করিস নি , হিমি খুব একটা নতুন জামা প্রতি না পরলেও খুব কম । আর ভালো কিছু খেতে দিলে কেমন যেন চোখ ছলছল করে উঠতো ওর , তুই খেয়াল করিসনি, কিন্তু আমার চোখে ঠিকই পরতো । তবুও মনের ভুল ভেবে কখনোও তোকে কিছু বলিনি ।
    কিন্তু এখন অনেক প্রশ্ন মাথায় ভর করছে ।
    আল্লাহ্ জানে । তবে যেই মেয়েটার সাথে অন্যায় করেছে আল্লাহ যেন তাকে উপযুক্ত শাস্তি দেন ।
    বাবা এসে বললেন থানা থেকে ফোন এসেছে , উঠে ফোন ধরলাম ।
    ইন্সপেক্টর সাহেবের গম্ভীর আওয়াজ শোনা গেল ,
    ‘ আচ্ছা তুমি তো হিমির এতো ভালো বন্ধু ছিলে তুমি কি জানো ? হিমি সেক্চুয়্যেলি একটিভ ছিলো ? আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম ওকে রেপ করা হয়েছে কিন্তু পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট দেখে ডক্টর বলছে, যা হয়েছে তাতে জোর করার মতো কোন লক্ষণ তারা পাননি।
    তুমি এই ব্যাপারে কি জানো ? ‘

    এই কথা শুনে আবার যেন হৃদপিন্ড হাপরের মতো শব্দ করতে লাগলো ।এসব কি শুনছি ! নিজের কানকে বিশ্বাস হচ্ছিলো না ।
    হিমি কে এতো ভালো করে জানতাম! আর এখন মনে হচ্ছে আসলেই কি জানতাম!
    একটা প্রশ্নের যেখানে উত্তর হাতরাতে হাতরাতে ক্লান্ত
    সেখানে অসংখ্য প্রশ্নেরা যেন ভীড় করে আসছে ।এমনিতে ঠিক মতো না খাওয়া এখন আবার এমন একটা ধাক্কা লাগায় মাথা ঘুরে জ্ঞান হারালাম ।
    (চলবে) ৩

    8
    8 Comments
Skip to toolbar