-
• 4 years, 6 months agoঅবাক রহমান• 4 years, 6 months ago
ওর নাম আঙ্গুর – ৩
এভাবেই শুরু হলো আমাদের চোখাচোখি, উকিঝুকি।
দুজনের কথা যেন শেষ হতেই চায় না। সারাদিন গল্প করার পরও মনে হয় কি যেন বলা হয়নি। আঙ্গুর যখন কথা বলতো আমি ওর মুখের পানে অপলক দৃষ্টিতে চেযে থাকতাম। ওর কথার ভঙ্গিমা, কথার সুর, গানের চেয়েও সুন্দর লাগে আমার কাছে। আমি বিভোর হয়ে শুধু ওর কথা শুনি।
ওটা আমার শহর নয়। আমার বাড়ি নয়। তাই বেশি দিন থাকার উপায় ছিলো না। বেশি হলেও এক সপ্তাহ বেড়াতে পারতাম তার বেশি নয়। আঙ্গুর পাগল হয়ে যেতে ওদের বাসায় আমাকে নেয়ার জন্য। যতবার নানা বাড়ি বেড়াতে গিয়েছি ওদের বাসায় দুই একদিন থাকতাম।
আঙ্গুর ওদের গ্রাম ঘুরিয়ে দেখাতো, দুজনে গ্রামের মেঠো পথে , কথনো শস্য, কখনো ধান, কখনো, বাঙ্গি, ক্ষেতের আইল ধরে হাটতাম। মনে হতো জীবন ফুরিয়ে গেলেই এই পথ যেন শেষ না হয়। একটা অকল্পনিয় অনুভূতিতে মন প্রান শিহরিত হতো সারাক্ষন।
আমি সুযোগ পেলেই ছুটে যেতাম নানা বাড়িতে। এভাবেই কাটছে বছর মাস দিন।
একদিন হঠাত একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে মিস কল। কয়েকটা মিস কল আসার পর আমি ব্যাক করলাম। আমি বললাম কি ব্যাপার মিস কল দিচ্ছেন কেন ?
ওপাশ থেকে উত্তর এলা প্রেম করবো তাই…………………
এর পর থেকে প্রতিদিন আমাদের চলতে থাকে মোবাইলে কথা। এখন আর তেমন নানা বাড়ি ছুটে যেতে হয় না। দুরে থেকেও কাছাকাছি আমারা।
আঙ্গুর এখন অনেক বড় হয়েছে। পাংশা কলেজে বাংলায় অনার্স করছে।কলেজের হোস্টেলেই থাকে। মাঝে মাঝে ব্যাগ পত্র গুচিয়ে ট্রেনে চেপে আমার সাথে দেখা করতে চলে আসে। একদিন দুদিন থেকে আবার হোস্টেলে ফিরে যায়।
এর মাঝে একবার নানা নানীর সাথে আঙ্গুর আমাদের বাসায় বেড়াতে আসে। নানার বিছানা হয় আমার রুমে আমার সাথে। আঙ্গর আর নানী এক রুমে । রাতে আঙ্গুর উঠে চলে আসতো আমার কাছে। আমরা দুজন ঘুম বাদ দিয়ে অন্ধকার রাতে ভোর পর্যন্ত বারান্দায় প্রেম করতাম। এমনটা এই প্রথম নয়।
আমি যথন আঙ্গুরদের বাসায় বেড়াতে যেতাম তখন আমি একা এক রুমে থাকতাম । আঙ্গুর আমার কাছে আর কাউকে ঘুমাতে দিতো না। আঙ্গুর ঘুমাতে যেতো ছোট বোনের সাথে। রাতে ঠিকই উঠে চলে আসতো আমার কাছে।
এভাবে কেটে গেলো কয়েকটা বছর । আমিও মাঝে মাঝে আঙ্গুরের কলেজের সামনে যেতাম।দেখা করে সারাদিন গল্প করে রাতে ফিরে আসতাম।কখনো কখনো রাতে হোটেলে থেকে যেতাম।
সবই ঠিক ঠাক চলছিলো। বিপত্তি ঘটলো মিথ্যা নিয়ে।
আমি এখন প্রায়ই আঙ্গুরের ফোন বিজি পাই। জিজ্ঞাসা করলেই বলতো , ফুফুর সাথে কথা বলছিলাম, দাদার সাথে কথা বলছিলাম, কাকা, কাকী কখনো ছোট বোন এভাবেই চলছিলো। আমার পক্ষ থেকে কখনো ওকে সন্দেহ হতো না। কারন বিশ্বাস করতাম ভালোবাসতাম তাই। লাফিয়ে লাফিয়ে চলছিলো ভালোবাসার ময়ুরপড়্খি।
আঙ্গুরও নিজের ইচ্ছা মতো বেপরয়া হয়ে গেলো। যখন যার কাছে যায় তখন তার । আচার ব্যবহারে কোন ক্রটি নাই। ওর নামে কোন কথা কেউ বিশ্বাসই করতে চায় না। আমিও না।
কিন্তু গোমর ভাস করলো ওর ঘনিষ্ট কিছু বন্ধুরা যারা একসাথে হোস্টেলে থাকতো বা পড়ালেখা করতো।
আমার কাছে সব খোলাসা হয়ে গেলো । অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে বান্ধবীদের কাঝ থেকে জানতে পারলাম, সাবু ও আরিফ । বান্ধবীরা আর কিছু বলতে নারাজ। শুধু বললো মাসে দুই চারটে থ্রিপিচ ও গিফট পায়।
আমি একজনের নাম্বার যোগাড় করে ফোন দিলাম। সে আমাকে অনেক আজেবাজে কথা বললো। ওকে বিশ্বাস করে তা নয়। সে আমাকে বললো , আপনি বলদ তাই ওকে ভালোবেসেছেন। আমি জানি এবং বুঝি যে হোস্টেল ফাকি দিয়ে আমার কাছে আসে সে অন্য জনের কাছেও যায় তাই শুধু মাত্র টাইম পাস।
আমি প্রথম যখন সব শুনলাম তখন নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি। আঙ্গুরকেও অনেক বকাঝকা, গালমন্দ করেছি। কিন্তু যখন জানতে পারলাম ও ধোকার মধ্যে পড়ে আছে তথন ওকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম কিন্তু কোন লাভ হলোনা।
রাগে, দুঃখে ক্ষোভে নিজেকে শেষ করে দেয়ার প্ররোচনায় কিটনাশক পান করে ফেললাম।
তারপর ভাগ্যক্রমে আল্লাহ বাচিয়ে রেখেছে। সেই থেকে যোগাযোগ চিরতরে বন্ধ। তবে ওর বান্ধবীদের কাছ থেকে ওর খোজ খবর নিতাম।
হ্যা তবে একবার ওকে ফোন করেছিলাম।উক্ত ঘটনার দশ বছর পর যখন আমি বিয়ে করলাম তখন । ফোন করে শুধু বলেছিলাম – যদি পারো আমার ভূলগুলো ক্ষমা করে দিও। বলে আমার নামটা বলে কেটে দিলাম।ওর নম্বর এবং ওর পাঠানো সকল এস এম এস ডিলিট করে দিলাম। এভাবেই নিভে গেলো জীবনের প্রথম প্রেমের প্রদীপ। তারপর আর কোন দিন এমন প্রেমও হয়নি, কাউকে বিশ্বাসও হয়নি।
বিস্তারিত লিখলে হয়তো কযেক মাসেও শেষ হবেনা । তাই সংক্ষেপে শেষ করে দিলাম।5 Comments

nice