Profile Photo

Mehedi TonmoyOffline

  • Mehedi-Hasan-Tonmoy
  • Profile picture of Mehedi Tonmoy

    Mehedi Tonmoy

    4 years, 6 months ago

    শীতের এক সকালে জন্ম হয়েছিল আমার। কোন ধনী ঘর নয় সাধারণ এক মধ্যবিত্ত ঘরে। অতি সাধারণভাবে সেখানে সব খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যায়। আমার জন্মের পর থেকেই আমার বাবা মা আমাকে খুব কষ্ট করে মানুষ করে। তাদের কাছে একমাত্র সম্বল বলে ছিল কিছু জমিজমা। সেখানে চাষাবাদ করে যা পেতো তাই দিয়ে সঙ্গসার চালানো হতো। সংসার চালানোর জন্য বাবা পাশের মাটিতে কাজ করতো। আমাকে পড়াশোনা শেখাতো তাঁরা। আমি পড়াশোনার পাশাপাশি টুশনি করতাম। তাদের সাহায্যের জন্য আমিও কাজ করার স্পৃহা পেতাম। এর মাঝে আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়লো সে শুকিয়ে কাঢ় হয়ে গেল। ভাত রুটি তরুতরকারী কিছুই খেতে পারছিল না। কিছুদিনের ভেতরেই, কোনো বলা নেই, কওয়া নেই। তার এমন অসুস্থতা আমি মেনে নিতে পারলাম না। আমরা। গ্রামের ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করালাম। সেখানে সে কিছু ওষুধ দিলো। তার অবস্থা একটু উন্নতির মতো হলো। আবার কিছুদিন পর তার একই অবস্থা তৈরি হলো। কেন জানিনা তখন আমার সন্দেহ তৈরি হল মায়ের কোনো বড় রোগ হয়েছে। আল্লাহ্‌ না করুক আমার এমন ভাবনা যেন বিফলে যায়। আমি আর বাবা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম আবার। সে কিছু পরীক্ষা করলো কিন্তু কোনো ফলাফল আসলো না। এতে তিনি চিন্তিত হয়ে শহরের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে বললেন। আমরা শহুরে ডাক্তারের কাছে যেতে চাইলেও কিছুটা দ্বিধা করলাম না। শহরের ডাক্তারের কাছেও কোন ফল বের করতে পারলো না সেখানে থেকে রাজধানীতে নিয়ে যেতে বললেন। আমরা কিছুদিন পরে রাজধানীতে গেলাম। সেখানে বড়বড় সব কারবার। বড়বড় ডাক্তার বড় বড় দালানকোঠা দেখে চোখ উপরে ওঠার মতো অবস্থা। মাকে দেখে ডাক্তার সাহেব কিছু টেস্ট দিলেন। টেস্ট পেতে আবার কয়েকদিন সময় লাগবে। এজন্য তিনি সেখানে ভর্তি করালেন। হস্পিটালে মানুষের সমাগম। কেমন দুর্গন্ধময় পরিব্বশ স্বাদহী রান্না আমাদের কয়েকদিনের মধ্যেই অস্থির করে তুলেছিল। কিছুদিনের জন্য ওষুধ দিয়েছিল ডাক্তার, সেগুলোই চলছিল। নার্সই এসে খাওয়াচ্ছিল ওষুধ ঠিকভাবে। আমার বলেন, মেয়েরা এত এগিয়ে গিয়েছে বড়বড় দেশ সেখানে বড় বড় ব্যাপার। এবার ডাক্তারের ডাক পড়লো। ডাক্তার আমাদের ডেকে আনলেন আমার মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে। আমাদের শক্ত হতে বললেন, আরও বললেন যে ভাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ঠিকমত চিকিৎসা করানো যায়। এমন নয় যে ক্যান্সার হয়েছে বলেই তিনি মারা যাবেন। তা ঠিক নয় এর জন্য ক্যামো থেরাপি দিতে হবে যদিও আমি কিছু ওষুধ দিচ্ছি তারপরও যদি বেড়ে যায় রোগ। আমরা বাবা নিজেদের ধরে রাখতে পারছেন না। আমি খুব কষ্ট করে নিজেকে সামলে রাখলাম। তারপর হস্পিটাল থেকে বাড়িতে ফিরলাম। সবকিছু শূন্য মনে হলো আমাদের। ওষুধের দাম দিতেই আমাদের পরিবারের অবস্থা খারাপ হয়ে এলো। তারপর হস্পিটাল থেকে বাড়িতে ফিরলাম। সবকিছু শুন্য মনে হলো আমাদের। ওষুধের দাম দিতেই আমাদের পারিবারিক অবস্থা খারাপ হয়ে এলো। তার উপরে আমার দুইটা বোন রয়েছে। তাদের বিয়ে দিতে হবে। বিয়ে ঠিক হয়ে আছে আগামী মাসে। এখন কিভাবে সব সম্ভব হয়ে উঠবে। তা ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। কিছুদিন পর মায়ের অবস্থা আরো খারাপ হলে আমি ডাক্তার সাহএবের সাথে যোগাযোগ করলাম। তিনি আমার মাকে নিয়ে যেতে বললেন। আমি থেরাপী হতে পারে বলে টাকা নিয়ে যেতে বললেন। আমি টাকার পরিমাণ শুনে মুর্ছা গেলাম। (ফোন রেখে বাবাকে কথাটা বললাম) বাবা বললেন জমি বিক্রি করতে হবে। কোন কথা বললাম না আমি। কিছুদিনের ভেতরে বাবা একটি জমি খুবই স্বল্পদামে বিক্রি করে দেন। তারপর আমরা আবার ডাক্তারের কাছে গেলাম। ডাক্তার আমাদের আলাদা একটা হস্পিটালে আসতে বললেন। যেখানে উচু এবং মার্জিত স্বভাবের মানুষের দেখা পেলাম। তিনি আমাদের কেমো-থেরাপি বিষয়টা বুঝিয়ে বললেন। এতে কি কি হতে পারে সে বিষয়ে ধারনা দিলেন। এখানে ভর্তি হতে বললেন। অনেক বেশি টাকা দিয়ে আমার মাকে সেখানে ভর্তি করালাম। এখন কেমো-থেরাপি দেওয়া হলো। তারপূর্বে তার চুল কেটে ফেলা হলো। কেমো-থেরাপি দেয়ার পরে সে ডাক্তার বললো রোগীর অবস্থা ভাল তবে সুস্থ হয়ে উঠতে আরো সময় লাগবে। সেখানে কিছুদিন রেখে আরো টাকার প্রয়োজন পড়লে বাবা বাড়ি চলে গেলো এবং আরো একটা জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়লো। আমরা মাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে এলাম। এখন মা কাউকে সেভাবে চিনপতে পারলো না। মা আমাদের কাছে চিন্তিত হয়ে কথা বলেন। তবুও তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন ভেবে আমরা ভাল থাকার চেষ্টা করি। আমার মা প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এমন সময়ে আবার তার ঠান্ডা জ্বর কাশি দেখা দিলো। আমরা ভাবলাম এতো সাধারণ অসুখ তাই তেমন নজরে আনলাম না একেবারেই। কিছুদিন ভুলে থাকলাম। ওষুধ দিলাম। হটাৎ করে দুনিয়ায় নতুন ধরণের রোগের সন্ধান মিলেছে। করোনা নামকীয় এই রোগেও এমন লক্ষণসুলভ আচারণ করে বিষয়টা জেনে ডাক্তারের কাছে গেলাম। কেমো-থেরাপি দেয়া হয়েছে প্রায় বিশ দিন। এতদিন সুস্থই ছিল আমি ডাক্তারকে দেখাতেই ডাক্তার বললেন বড় হস্পিটালে নিয়ে যেতে। তার করোনা হয়েছে। আমরা হস্পিতালে নিয়ে যাবার জন্য অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা করলাম। ধার করে, সুদ টেনে, বেশি করে টিউশন করে নতুনভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিলাম। বেশ কয়েকদিন সময় লাগলো। এর মাঝে মা আরো অসুস্থ হয়ে পড়লো। আমরা যেদিন মাকে হস্পিটালে নিয়ে যাবো, তার আগের রাতে আমাদের মা সব শুন্য করে চলে গেলেন।

    Mother.

    5
    4 Comments
Skip to toolbar