-
সেই রাতে
একদিন খুব রাতের বেলা সেদিন যানি না কি হচ্ছিলো আমার আমাকে খু্ব ক্লান্ত লাগছিলো। আমি নিজেও জানি না আসলে কি হয়েছে আমার, আমি বোঝার চেষ্টা করলাম আসলে আমার কি হয়েছে। আসলে এমন হয়নাতো কখন হঠাৎ করেই এমন হচ্ছিলো আমার। আমি খুব শান্ত মাথায় চিন্তা করলাম আসলে আমার কি হয়েছে। আমার খুব ক্ষুধা লেগেছে, তাই আম্মুকে ডাকলাম বললাম যে আম্মু আমাকে ভাত খেতে দেও। আমি খাওয়া-দাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ বই নিয়ে বসলাম কিন্তু মন বসলো না, তাই পড়া বাদ দিয়ে একটু নেটে গিয়ে বন্ধুদের সাথে কথা বললাম। কিছুক্ষণ কথা বলার পর সেটাতে আর ভালো লাগলো না। তাই ভাবলাম জেগে থেকে লাভ নাই, এখন ঘুমিয়ে পড়ি। আমি ঘুমানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু ঘুমতো আসছে না। আসলে আমার একটু দেরিতে ঘুমানোর আভ্যাস আছে। রাত জেগে পড়া হতো আগে, এখন অবশ্য রাত জেগে আর পড়িনা। আমি রাত জেগে কিছু পাঠ্য বই, আর কিছু গল্পের বই পড়তাম। এখন পড়ার অভ্যাস না থাকলেও রাত জেগে থাকার অভ্যাসটা রয়ে গেছে। মাঝে মাঝে বই পড়িনা তা কিন্তু নয়। এখন ঘুমাতে এসেও আমার ক্লান্ত যেনো যায়নি। আসলে মানুষ কখন ঘুমাতে যায়? যখন তার সব ক্লান্ত থেকে নিরাময় পাওয়ার আসায়। কিন্তু আমার যেনো ক্লান্ত বাড়ছে। আসলে কি হচ্ছে আমি বুঝে উঠতে পারছিনা। আমার শরীলটা খুব খারাপ লাগছে। এমনি ঠান্ডা লেগেছে, সারাক্ষণ নাক টেনে যাচ্ছি তারউপরে আবার এখন কি হলো। ঠান্ডা এটা প্রায় আমার সারাবছরই লেগে থাকে। এখন ঠান্ড হলে আমার তেমন কিছু মনে হয়না। যতরাত বাড়ছে আমার শরীল ততই খারাপ হচ্ছে। এখন সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, কাউকে ডাকতেও ইচ্ছে করছে না। আমি চিন্তা করলাম আর কিছুক্ষণ দেখি যদি ভালো হয়ে যায়তো তাহলে আর কাউকে এত রাতে ডাকবো না। কিন্তু আমি যা ভাবছিলাম তার ব্যতিক্রম হচ্ছে মনে হয়। আমার শরীল আরো খারাপ হচ্ছে। আচ্ছে আচ্ছে আমার গায়ে জ্বর আর নাক যেনো এটে আসছে। আমার শ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে। পাশের ঘরে দাদা দাদি থাকে আর মা থাকে ঐ পাশের আলাদা করে একটা ঘর আছে ঐ ঘরে। দাদা দাদি যেহেতু নিকটে থাকে সেহেতু আমি দাদা আর দাদিকে ডাকলাম। দাদা আর দাদির হালকা ঘুম তাই আমার একডাকই তাদের কাছে পৌছে গেলো। প্রথমে দাদি এসে দেখে যে আমি অনেক জরে জরে শ্বাস নিচ্ছি। তারপর দাদা এসে আমার গায়ে হাত দিয়ে দেখে যে আমার গায়ে প্রচুর জ্বর আর শ্বাসতো মনে হচ্ছে ভালোভাবে নিতে পাচ্ছিনা। আসলে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। আমার ঘরে থার্মোমিটার আছে। দাদা জিজ্ঞেস করলো থার্মোমিটারটা কয়? আমি বললাম টেবিলের ড্রোয়ারে আছে দেখো। দাদা থার্মোমিটারটা আমার বোগোলের নিচে দিয়ে দিলেন। কিছুক্ষণপর থার্মোমিটারটা বের করে দেখলো যে আমার গায়ে প্রচন্ড জ্বর। দাদি গিয়ে আম্মুকে ঐ ঘর থেকে ডেকে আনলো। আম্মু কল থেকে এক বালতি পানি এনে আমার মাথায় দেওয়া শুরু করলো। কিন্তু জ্বর তেমন কমছে না। আমার শ্বাসকষ্ট মনে হয় আসলে অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগার কারনেই হয়েছে। আমার শ্বাস নিতে কষ্ট প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছিলো, দম আটকে আসছিলো। দাদি বলছে ডাক্তারের কাছে ফোন করতে, কিন্তু এত রাতেতো আর ডাক্তার আসতে পারবেনা। আম্মু অনেক পানি দেওয়ার পর আমার গা মুছে দিলো। দাদা ঘর থেকে সরিষার তেল এনে আমার গলাই এবং আমার মাথার মাঝখানে দিয়ে দিলো। দাদি বলছে তেল আর পানি একসাথে দিতে। দাদা হঠ্যৎ বলে উঠলো তোমার মাথার ঠিক আছে? এমিনতেই প্রচন্ড ঠান্ডা লেগেছে তার উপর তেল পানি দিলে ওর ঠান্ড বসে যাবেনা। সরিষার তেল মাথায় দেওয়ার পর আচ্ছে আচ্ছে আমার শ্বাসকষ্ট দুর হতে থাকলো। আমি এখন মুটামুটি ভালো শ্বাস নিতে পারছি, তেমন কষ্ট হচ্ছেনা। আমার জ্বরের থেকে শ্বাসকষ্টের জন্য বেশি খারাপ লাগছিলো। জ্বর ও কমতে শুরু করেছে, এখন মুটামুটি ভালো লাগছে। রাতে আর নেই এখন ফজরের আযানে অপেক্ষা, আর কিছূক্ষণের মধ্যেই হয়তো আযান দেবে। সকাল হলে মা আপুকে ফোন করে সব বললো। আপু হয়তো ভালো ডাক্তারের সাথে কথা বলবে, না হয় আমাকে যেতে হবে ডাক্তার কাছে।
2 Comments
Friends
Mashud Rahman
@mashud-rahman
Farhana Hossain
@farhana-hossain
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
অভিমানী মন
@ovimanimon
তুলট ডেস্ক
@toulot
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor


সুন্দর অন্যরকম বর্ণনাভঙ্গি। একধরণের টানা কথা বলে যাওয়া যেন। সুন্দর। আরও লিখবেন।