-
-Excuse me.রেট কত আপনার?
.
.
সাঝের মায়া কাটিয়ে চারিদিকে আধার নেমেছে।গাড়িগুলো হলুদ বাতি জ্বালিয়ে ছুটে চলছে আপন গন্তব্যে। রাস্তার সোডিয়াম বাতিগুলো আপ্রান চেষ্টা করছে পথচারীদের পথ দেখাতে।ফুট ওভারব্রিজের উপর এক কোনায় দাঁড়িয়ে আনমনে শহরটাকে একে যাচ্ছে ইনা।পুরো নাম ইনায়াত আফরিন।খোলা চুলে গায়ে পাতলা একটা চাদর জড়িয়ে শহরের যান্ত্রিকতাকে মাপতে ব্যস্ত।অন্যদের কাছে শহরটা যান্ত্রিক কিন্তু ইনার কাছে শহরটা মায়া নগরী।রাতের আধারের মাঝে একঠায়ে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্টগুলো শহরটাকে আরও মায়াময়ী করে তোলে।ইনার খুব ইচ্ছে হয় এই মায়া নগরীর মায়ার হারিয়ে যেতে।চিন্তায় ছেদ পরে হঠাত এক পুরুষালী কন্ঠস্বর শুনে। পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখে সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট পরিহিতা ২৪/২৫ বছরের এক সুদর্শন যুবক তার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।শার্টের দুই হাতের স্লিভ কনুই পর্যন্ত ফোল্ড করা।হাতে দামী ব্রাণ্ডের ঘড়ি। চুলগুলো স্পাইক করা তবে হালকা উষ্কখুষ্ক।দেখে ধনী পরিবারের ছেলে মনে হলেও চেহারায় মলিনতার ছাপ স্পষ্ট। চোখে মুখে বিরাজ করছে এক রাশ ক্লান্তি। কিন্তু এরকম একটা প্রশ্ন কেন করে বসল সেটা এখন ইনার কাছে মুখ্য।উত্তর খুজতে আশেপাশে চোখ ফেরাতেই ব্যাপারটা বোধগোম্য হল ইনার।ওভারব্রিজের উপর কয়েক হাত দূরে দূরে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন সুন্দরী মহিলা।চোখে গাঢ় কাজল,ঠোটে কড়া লিপস্টিক ভারী মেকাপ আর শাড়ির আচল দুলিয়ে রাস্তায় হেটে যাওয়া পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষন করার চেস্টা করছে।তাদের কামাতুর দৃষ্টি দেখে কোন কোন পুরুষ তাল সামলাতে না পেরে আত্মসমর্পণ করছে।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল কাটা গুলো ১২ সংখ্যা পার করেছে সবে।যান্ত্রিকতা বিলীন হয়ে প্রকৃত অর্থেই শহরটাকে মায়ানগর মনে হচ্ছে।সেই সাথে খন্ডাংশে গ্রাস করছে নিকষ কালো আধার। যেমনটা বিরাজ করছে বর্তমানে এই ওভারব্রিজের উপর।মায়ানগরের মায়ার ডুবে থাকতে কখন সময় বয়ে গেছে ইনা টেরই পায় নি।
ইনাকে বেশ খানিকক্ষন চুপ থাকতে দেখে ছেলেটা আবার বলে উঠল
-কি হল?কথা বলছেন না কেন?what’s your rate?
কথাটার মাঝে কোন বিরক্তি বা রাগ ছিল না। ছিল আগ্রহ আর সামান্য আশঙ্কা।
.
.
.
কথাটা শুনে ইনার হালকা অস্বস্তি লাগল।যথাসম্ভব নিজেকে সামাল দিয়ে ঠোটে হাসির রেখা ফুটিয়ে বলল
-Sorry. I’m not for sale.অন্যকাউকে খুজে নিন।
কথাটা বলেই ইনা ছেলেটাকে পাশ কাটিয়ে চলে আসতে চাইল।কিন্তু হঠাত করেই হাতে টান পড়ল। পিছনে ঘুরে দেখে ছেলে হাটু গেড়ে বসে আছে।মাথাটা সামনে ঝোলানো।বাম হাত দিয়ে তার ডান হাতটা শক্ত করে চেপে আছে।মুখটা নিচের দিকে করেই বিড়বিড় করে বলছে
-I need u. plz don’t leave me..
কথাগুলো ইনার বোধগোম্য হলেও সে কোন ভ্রুক্ষেপ করছে না।মাতালদের জন্য এসব কথা জাতীয় ডায়লগ।নিজের হাতটা ছাড়ানোর চেস্টা করতে লাগল ইনা।
.
-হাতটা ছাড়ুন প্লিজ।
.
কিন্তু ছেলেটা হাত ছাড়ার বদলে আরো শক্ত করে হাতটা চেপে ধরে একই বুলি আওরাতে লাগল।ইনা বেশ কিছুক্ষন যাবত হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।কিন্তু শেষমেশ না পেরে চেঁচিয়ে উঠল
-কথা কানে যাচ্ছে না আপনার? হাত ছাড়ুন আমার।I said leave my hand.
.
.
.
ইনা ভাবল ছেলেটা হয়তো এবার তার হাত ছেড়ে দিবে।কিন্তু ঘটল হিতের বিপরীত।হুড়মুড় করে উঠে ছেলেটা তাকে জড়িয়ে ধরল।ইনার যেন এবার ভয় করতে শুরু করল।মধ্যেরাতে এমন একটা পরিস্থিতিতে পরবে সে কখনো ভাবে নি।অচেনা অজানা একটা ছেলে এইভাবে তাকে জড়িয়ে আছে।একনাগাড়ে সে বলেই চলছে
-প্লিজ আমাকে ছেড়ে যেও না। আই নিড ইউ।ডোন্ট লিভ মি প্লিজ।
ছেলেটার কথায় ইনা প্রচন্ড বিব্রত অনুভব করছে।কি করবে সে এখন?কীভাবে ছাড়া পাবে এই ঝামেলা থেকে।আস্তে আস্তে ছেলেটার কথাগুলো জড়িয়ে আসছে। ধীরে ধীরে জড়িয়ে পরল ইনার কাধে।বুঝতে পারল ছেলেটা জ্ঞান হারিয়েছে।নিজের কাধে ভর দিয়ে ছেলেটাকে নিচে নামাল।তারপর একটা সিএনজি ভাড়া করে রওয়ানা হল বাসার দিকে।
চলবে
#পার্ট০১3 Comments
Friends
Tariqul Sazzib
@tariqulsazzib
Kabi Doctor Mohammad Zakir Hossain Biplob
@zakir-hossain
অরন্য হিল্লোল
@oronnyohillol
নাজমুল হক জুয়েল
@nazmulhoqjewel
Dr. Shaheen Mahmud
@shaheen
Suhas Barnabash Gomes
@barnabash
তানভীর তীব্র
@tanvir3
Drako Shajib
@drako
Emotionless Rima
@emotionless-rima


শুরুটা অন্যরকম মনে হলেও শেষটায় কাহিনী অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং লাগল। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।