Profile Photo

Omi RezaOffline

  • Omi-Reza
  • Profile picture of Omi Reza

    Omi Reza

    5 years, 2 months ago

    ছোট গল্প
    বিনা কারনে-(পর্ব-২)
    লেখক-অমি রেজা।

    ——————————-
    ভালো থেকো অঞ্জলি,ঘুম থেকে লাফ দিয়ে ওঠে বসে সে। কানের কাছে সারাক্ষণ কে যেন বলে চলেছে। ওওও। সে,দুই হাতের তালু দিয়ে কান চেপে ধরে। মানুষটা কি যাদু জানে। তার কথা বলার ধরন,সম্পূর্ণ আলাদা। আর অন্য সকল ছেলেদের মত নয়। আচ্ছা যদি সে সত্যি বলে থাকে?এমন একজন কারো জন্য কি সে,বিশ টি বসন্ত ধরে অপেক্ষা করছে। অঞ্জলি,লজ্জায় লাল হয়ে যায়।
    ফোন বাজছে,
    হ্যালো,
    সারারাত ঘুমাও নাই,রাইট। আমারও একই অবস্থা,অঞ্জলি। আমিও তোমার কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমাতে পারিনি।
    কে আপনি?কি চান?আমার’ত মনে হয়,আপনার মানসিক ডাক্তার এর কাছে যাওয়া উচিত।
    হা-হা-হা, ভালো বলেছ’ত অঞ্জলি।
    শোন অঞ্জলি,জানো অঞ্জলি,তোমার কথা মনে হলে কিচ্ছু ভালো লাগে না। ও অঞ্জলি,আমার চারিদিক এ শুধু অঞ্জলি,অঞ্জলি,অঞ্জলি আর অঞ্জলি।

    হি হি হি হি (অঞ্জলি হাসতে থাকে)
    ওয়াও,তুমি হাসতে পার?
    কেন,আমি কি রোবট নাকি।
    না,আমি তো শুনেছি তুমি খুব রাগী একটা মেয়ে।
    আমি ফোন রাখলাম,অঞ্জলি,ফোনটা কেটে দেয়। মুখে তার মিষ্টি একটা হাসি লেগে থাকে।

    অমি টেক্সট পাঠায়-সে লিখেছে,ফোনটা কেটে দিলে। নিষ্ঠুরতা তোমাকে মানায়। আমি জানি তুমি আমাকে পরখ করে নিচ্ছ। কিন্ত বিশ্বাস করো,আমি সত্যি বলছি। তোমাকে না দেখেই আমার মনে, তোমাকে নিয়ে, ভালোবাসার বীজ বপন করেছি। আমার কল্পনার ক্যানভাসে তোমার ছবি এঁকেছি। তা তুমি যেমনই হও,এই মায়ার বাঁধন থেকে আমি কখনও বের হতে চাই না। দেখব তুমি কতটা নিষ্ঠুর হতে পার।

    অঞ্জলি টেক্সট টা পড়ে কেমন যেন নির্বাক হয়ে গেল। অদ্ভূত মানুষ। যেমন সুন্দর করে কথা বলে। তেমন সুন্দর করে লিখতেও পারে। আর যাই হোক,এই মানুষটা কখনও খারাপ হতে পারে না। তার হৃদয় গহীনের বরফ পাহাড় টা,একটু একটু করে গলতে শুরু করে।

    অঞ্জলি,রিপ্লাই দেয়,কি জন্যে এমন করছেন,লাভ কি? আমি প্রেম, ভালোবাসা এসব কে ভয় পাই।
    আমার কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা খুব কম। আর তাছাড়া,না দেখে রিলেশন করাতে আমি বিশ্বস্ত নই। আমি এ যুগের মেয়ে,সেন্ড করে দেয়।

    ওকে, তোমার কথায় লজিক আছে অঞ্জলি। আমরা, কথা দিয়ে শুরুটা,ত করতে পারি। যদি আমাকে দেখার পর তোমার পছন্দ না হয়,তাহলে আমি তোমাকে কখনও বিরক্ত করব না,প্রমিজ। অমি টেক্সট পাঠায়।

    ফোনটা অনেকক্ষণ ধরে বেজে যাচ্ছে। অঞ্জলি ধরবে কিনা বুঝতে পারছে না।
    অমি র সাথে কথা বলার জন্য,সেও ব্যাকুল হয়ে আছে। সে ফোনটা রিসিভ করে।
    অঞ্জলি,কেমন আছ। আমার সাথে কথা বলতে চাওনা,একদিন দেখবে,তুমি অনেক কথা বলতে চাইবে। কিন্ত সেদিন তুমি আমাকে কোথাও খুঁজে পাবেনা। আমাকে অভিশাপ দিচ্ছেন।
    কি বললে,আরেকবার বলতো। অমির হৃদয়ে তখন খুশির বান বয়ে যায়।
    বলছি আমাকে অভিশাপ দিচ্ছ।
    না অঞ্জলি,তোমার অমঙ্গল আমি কোন প্রানে কামনা করি।
    আচ্ছা অমি,আপনি করেন কি? অঞ্জলি কে বিরক্ত করা ছাড়া আপনার আর কোন কাজ নেই?
    একটু আগে তুমি বলছিলে,সেটাই’ত শুনতে ভালো লাগছিল।
    আমি আসলে অনেক বছর দেশে ছিলাম না। হায়ার স্টাডি করতে সিংগাপুর ছিলাম। পড়াশুনা শেষ করে ফিরেছি। এখনও বুঝতে পারছি না।দেশে থাকব নাকি বিদেশ এ সেটেল্ড হব।
    আপনি আবার বিদেশ চলে যান। ওখানে যেয়ে একটা নাক চেপ্টা জোগাড় করে নিন। হি-হি-হি।
    জীবনেও না।
    অঞ্জলি বলল,জীবনেও হা।
    মোটেও না। আমি নাক চ্যাপটা একদম পছন্দ করি না।
    আপনি কি জানেন,আমার নাকটাও চ্যাপটা।
    জীবনেও না।
    অঞ্জলি বললো,জীবনেও হা।
    আমি শুনেছি তুমি অনেক সুন্দরী।
    কে বলেছে,তার নামটা একটু বলবেন।
    সেটাত বলা যাবে না,সে আমার উপকারী বন্ধু।
    যদি জানতে পারতাম,তার কল্লাটা আমি চিবিয়ে খেতাম।

    আল-লামা,তুমি কি এনিমেল,মানুষের কল্লা চিবিয়ে খেতে চাও।
    আচ্ছা আল-লামা মানে কি।
    সিংগাপোরিয়ান রা কথায় কথায় এই শব্দ টা ব্যাবহার করে। যার মানে অনেকটা অবাক হওয়ার মত।
    আচ্ছা রাখি,মা ডাকছে।
    আবার কখন কথা হবে।
    জানিনা।
    ওকে।
    চলবে।

Skip to toolbar