-
জীবন চলছে
—— শাহ্ কামালজীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
সরকারি হাসপাতালের তেল চিট চিটে শয্যায় জীবন যুদ্ধে পা হারানো সবুর আলী আবার ব্যস্ত রাস্তায় বাদাম বিক্রি করবে বলে দাঁড়াতে চায়।
রুনু খালা গলির মোড়ে পলি মোড়ানো ঝুপড়িতে পিঠা বিক্রি করে সংসার চালায়,
শাড়ির ছেঁড়া আঁচলে চুলের খোপাটা বের হয়ে থাকলেও একটা নতুন শাড়ি কিনে না;
ছোট ছেলের পড়ার মাইনে শোধ করবে বলে।
জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
লেকু মাঝি নৌকায় বসে যৌবনের দিনগুলো পার করেছে,
খক খক করে কাশতে কাশতে রক্ত বেরুলেও থামে না তাঁর বৈঠা,
ভাঙা পাটাতনের নৌকার গলুই সামনেই চলে বিরামহীন;
ধার দেনা শোধ না হলে খাওয়ার দেনা বোঝা বইবে অনন্তকালের।
জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
বড় বাবুদের মাছ কেটে পেটি আর ফুসফুস রেখে দেয়া জমির মিয়া তা বেচেই জীবিকার বন্দোবস্ত করে রোজ রোজ;
বটির ধারে জীবনের স্বপ্ন তাঁর কাছে আরো ধারালো, মিশে থাকে স্বপ্নময় মগজে।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শুক্কুরবী কাঁপতে কাঁপতে লাঠি ভর করে এখনো আসে সভ্য পাড়ার দুয়ারে দুয়ারে;
দু’ছেলে বিয়ে করে সংসার পেতে সংসারী হয়েছে ভব-তল্লাটে।
মায়ের ভার তাঁর কাছে অনেক বেশি,
সংসারে সবগুলো মুখে খাবার তুলে দিতে তাঁর কষ্ট না হলেও
মায়ের উদরের কথা তাঁর মনে পড়ে না,
তাকে জন্ম দিয়ে যে উদর শূন্য হয়েছে তা পূর্ণ করার দায় বিধাতার!
তাঁর দায় স্বপ্ন ছোঁয়, অবরুদ্ধ বিবেক না।
জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
জীবনভর বিদ্যে-বেচা মাষ্টারবাবু অবসরের পরেও থেমে থাকে না।
দু’জন ছাত্র পড়িয়ে ওষুধের টাকা যোগার করতে শেষ দিনও কাঁপা কাঁপা হাতে কলম ধরে।
দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যে নিজের প্রজন্ম বাঁচাতে সঞ্চয়ের বীজ বোনে
তাঁর কামাইতে ভাগ বসাতে চাঁদার দরদাম করে উলঙ্গ বোধের ধূর্ত চাঁদাবাজ;
তাঁর ছেলেকেও তো মানুষ করতে হবে!
জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
আদুল পায়ে ফুলের মালা বেচা অনাথ শিশুটি দু’টো টাকার জন্যই পাঠশালার সময়টা বিক্রি করে দেয় ক্ষুধার দামে।
লাখ টাকা বেতন পাওয়া মেম সাহেবের দশ তলা বাড়ির মেঝে মুছে হত দরিদ্র্য ছালেহা বাপ ছাড়া ছেলে মেয়ের মুখে খাবার তুলে দেয়।
জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
ফাইল বন্দী সার্চিফিকেটের কালো বর্ণমালার চিৎকারে অতিষ্ট বেকার ছেলেটা তিন চাকার যানে উদ্বোধন করে জীবিকার কঠিন দুয়ার,
মেহেদীর রঙের পরিবর্তে তাঁর তাগড়া হাতে অভাবের চাপে ছাপ পড়ে তরতাজা ঠোসার,
প্রিয়তমার বিয়ে হয়ে যায় অজানা গন্তব্যের কোন এক উচ্চবিত্তের ঘরে।
জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
পরের বাড়ির দোতলা ছাদের রড সাজাতে সাজাতে ক্লান্ত আজগর মিয়া,
ঘামের দামে বিক্রি করে জীবনের উচ্ছ্বাস,
টাকার নোটে তাঁর ঘরে ছাদ হয় না
ভগ্ন স্বপ্নেরা আনাগোনা করে ইট-বালু-সিমেন্টের চারপাশে,
অভাবের গর্দানে পা টিপে জীবন সংগ্রামে এগিয়ে চলে নিরন্তর।
জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
এভাবেই চলে যাবে সবার দিন
ক্লান্ত জীবনের ফুলদানিতে সবাই তো ফুল রাখে না;
কেউ কেউ মোমও জ্বালায়।6 Comments
Friends
Rakib Rakib
@abdurrakib
Md Ashfak Sayed
@ashfak
আব্দুল মজিদ মারুফ
@abdulmojid
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
Md.Emamuzzaman Wahedi
@emamuzzaman
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
Foyzur Khan
@foyzur-khan
sanjida akter jim
@sanjidajim


শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন!