-
কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
(না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ২২আবার বাড়িতে গিয়ে তো দেখাও তোমাকে খুন করে ফেলব, কথাটা বলে শ্রাবণ প্রিয়াকে শক্ত করে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেন।
এমন করে জড়িয়ে ধরেছেন যাতে আর কোথাও হারিয়ে যেতে না পারে।
আর প্রিয়া তার ভালোবাসার মানুষটির বুকে মাথা রেখে চুপটি করে হৃদস্পন্দন শুনছে।
আসেপাশের কোনদিকে খেয়াল নেই প্রিয়া এই মুহূর্তে তার ভালোবাসার আলিঙ্গনে বিভোর হয়ে রয়েছে।
শ্রাবণ আরও কিছুক্ষণ প্রিয়ার সাথে খুনসুটি করে চলে যায়।সীমা নাস্তা হয়েছে?
আমি আমতা আমতা করে বললাম,আর কিছুক্ষণ বস হয়ে যাবে।
হয়ে যাবে মানে কী?
তারেক রেগে বলেন,তুমি জানো না নয়টার সময় আমি অফিসে যাই?
আসলে উঠতে দেরি হয়ে গেছে, তুমি একটু বস আমি এখানেই দিচ্ছি।
আজ দুই সপ্তাহ হয়েছে তারেক দেশে থেকে এসেছে,
তার সাথে আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ি ও লায়লা এসেছিলেন।
শ্বশুর ঢাকা এসে দশ পনেরো দিন এর বেশি থাকতে পারেন না।
তার দমবন্ধ হয়ে আসে।
সেজন্য দুইদিন আগে দেশে চলে গেছেন।
শ্বাশুড়ি আম্মা ও লায়লা রয়েছে।এখন লায়লা পরির কাছে বসে আছে।
আমি তাড়াহুড়ো করে খাবার আনতে গেলাম ,ভাত,ডাল,দুই পদের ভর্তা তারেক এর সামনে দিয়ে ডিম ভাজতে যাচ্ছিলাম এরমধ্যে তারেক বাসায় থেকে বের যেতে নেয়
আমি তা দেখে তার সামনে এসে হাত ধরে বললাম,কি হলো না খেয়ে যাচ্ছ কোথায়?
তারেক আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বললেন,তোর খাবার তুই খা।
কথাটা বলে সে অফিসে উদ্দেশ্য চলে গেলেন।
আমি সেদিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শ্বাশুড়ি আম্মার কাছে গিয়ে তাকে লায়লাকে নিয়ে খেতে আসতে বললাম।শ্বাশুড়ি আম্মা মুখ ভার করে খেতে বসে বললেন,একটু তাড়াতাড়ি উঠলে কি হয়!
দেরিতে উঠায় আমার ছেলেটাকে না খেয়ে যেতে হলো?
আমি তার কথা শুনে কিছু বললাম না যেহেতু দোষটা আমার সেহেতু চুপ থাকাই ভালো।
লায়লা খেতে বসে বললো,পাখি তুমি খাবা না?
আমি তার কথা শুনে বললাম, তুমি খাও আমি পরিকে খাওয়ানোর পর খাব।
এরমধ্যে শ্বাশুড়ি আম্মা বিরবির করে বললেন,আমরা স্বামীকে সবসময় কত সম্মান করে এসেছি।
আপনি ছাড়া কখনো তুমি বলিনি আর এখনকার মেয়েরা স্বামীকে দাম দেয় না।
নির্লজ্জের মত তুমি তুমি করে বলে।
শ্বাশুড়ি আম্মার কথা শুনে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না কথাটা তিনি আমাকে বলছেন।
তাই তাকে আস্তে করে বললাম,আম্মা আমি কিন্তু আগে আপনি করেই বলতাম পরির বাবাকে।
আমি আপনি বললে নাকি আপনার ছেলে বন্ধুদের কাছে ছোট হয়ে যায়।
সেজন্য তার আদেশে তুমি করে বলি।বন্ধুরা আপনাদের তো বলাই হয়নি আমাদের সম্পর্ক আপনি থেকে তুমিতে নেমে এসেছে আরো আগেই।
তবে এই তুমি নিয়ে ঝামেলায় পড়েছি।
ঝামেলা বলছি তার কারণ,পরির বাবা আপনি বলে ডাকলে রেগে যান আর পরির দাদু তুমি বলে ডাকলে। আমার হয়েছে যত জ্বালা।কয়েকদিন পর
তোর মত অপদার্থ কে দিয়ে কিছুই হবে না,
আর কিছু পারিস আর না পারিস ফুটানি মারতে ওস্তাদ।
শ্রাবণ মাথা নিচু করে তার বাবার বকা শুনে যাচ্ছে।
প্রতিবাদ না করে চুপচাপ তার বাবার বকাবকি হজম করার পাত্র সে নয়।
কিন্তু এখন ইচ্ছে করলেও কিছু বলতে পারছে না।
দোকানে লস হওয়াতে বাবাকে উত্তর দেওয়ার সাহস পাচ্ছে না।
মালপত্র ফুরিয়ে এসেছে এখন দোকানের যে অবস্থা তাতে আর দুই মাস দোকান টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।
শ্রাবণ বুঝতে পারছে আসলে সমস্যা কোথায় হয়েছে, কিন্তু বাবাকে সাহস করে বলতে পারছে না।
আর বলবে তো বলবে কী?
বাবা আমি প্রেম করতে এতটাই মুশগুল ছিলাম যে দোকানের দিকে নজর দিতে পারিনি।
নাকি এটা বলবে,বাকি বেশি দেওয়াতে লস হয়েছে।
বাকির কথা বললে আজ নির্ঘাত কপালে শনি রয়েছে শ্রাবণের।
কারণ ওর বাবা আগেই বলে দিয়েছিলেন, পরিচিত ছাড়া কাউকে বাকি না দিতে।
শ্রাবণ মাথা নিচু করে যখন এসব ভাবছিল সে সময়ে শাহেদ বেপারি ধমকে বলে উঠলেন, তা আজ নবাব জাদার মুখে কথা নেই কেন?
এমনিতে তো খই ফোটে!
সাব্বিরের মা তোমার এই ছেলে এক নাম্বার বাদাইম্যা।
তার দ্বারা এই জীবনে কিছুই করা সম্ভব না।
তোমার এই ছেলের জন্ম হয়েছেই আমাকে জ্বালিয়ে মারতে।তোর জন্য আমাকে আর কতো কথা শুনতে হবে?
তুই কি আমায় একটু শান্তি দিবি না?
তোকে বারবার বলেছি মনোযোগ দিয়ে দোকান কর আড্ডা ঘুরাঘুরি বন্ধু বান্ধব বাদ দে।
আমার কথা কখনো শুনলে তো এমন অবস্থা হতো না।
এবার শান্তি পেয়েছিস তো?
সুমনা তার স্বামীর কথা শুনে শ্রাবণের কাছে গিয়ে রেগে উপরের কথাগুলো বলেন।
শ্রাবণ তার মায়ের কথা শুনে তার দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলেন।
শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীর কথা শুনে বললেন,থাক আমার সামনে অভিনয় করতে হবে না।
তোমার লাই পেয়ে আজ ওর এই অবস্থা হয়েছে।
শ্রাবণ তার বাবার কথা শুনে বলেন,বাবা যা বলার আমাকে বলেন।
মা’কে কিছু বলবেন না।
কুত্তার বাচ্চা আমার সাথে বড় বড় কথা বলিস , বের হ আমার বাড়ি থেকে।
তোর মত ভাদাইম্যার জায়গা আমার এখানে নেই।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা ইনকাম করব আমরা।
আর সে টাকা উড়াবি তুই?
তা হবে না এক্ষুণি বের হয়ে যা।
শ্রাবণ তার বাবার কথা শুনে রেগে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।
তা দেখে সুমনা তার স্বামীকে বললেন, আপনি কথায় কথায় শাসনের নামে ওকে বাসা থেকে বের করে আরও নষ্ট করছেন।
বিষয়টি আপনাকে বুঝতে হবে।
আমার শাসনে নয় তোমার লাই পেয়েই তোমার ছেলে বিগড়ে গিয়েছে বুঝলে।
আরো আদর দিয়ে মাথায় তুলো।
সুমনা তার স্বামীর কথা শুনে বলেন,আপনি এই কথা বলতে পারলেন?
আমি যদি লাই দিতাম তাহলে আপনি যখন শাসনের নামে ওকে মেরে রক্তাক্ত করেছেন তখন বাঁধা দিতাম।
যখন শাসন করতে গিয়ে এক বেলা খেতে দিতে বারণ করেছেন তখন মুখ বুজে আপনার কথা মানতাম না।
তবে হ্যাঁ এক সপ্তাহ পর ছেলেকে দেখলে দুর্বল হয়ে পড়তাম।
তাই বলে তা ওকে কখনো বুঝতে দেয়নি।
আপনি কেন বুঝতে চান না আমি একজন মা হয়ে
কিভাবে ছেলে মেয়ের কষ্ট সহ্য করব!
আমি মানছি ওর চলাফেরা কখনো ঠিক ছিল না।
কিন্তু তাই বলে আমি তো কখনো পক্ষ নিয়ে কথা বলিনি।
বরং শাসন করেছি।
এখন ওর হয়ে কথা বলছি কারন আমি চাই না ও আবারো বিপথে চলে যাক।
সেখানে থেকে ওকে ফেরাতে আপনার কম কষ্ট হয়নি।
শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীর কথা চুপচাপ শুনে রুমের মধ্যে চলে যায়।
এমনিতেই তার চিন্তার শেষ নেই মেয়েকে বড় অনুষ্ঠান করে তুলে দিয়েছে।
এরমধ্যে একটা মারামারির ঘটনায় বাজারের সবার সাথে শ্রাবণও ছিল।
কিন্তু একমাত্র শ্রাবণ ফেঁসে যায় ।
সবাই মারামারি করলেও নাম এসেছে শ্রাবণের।
এই মারামারি কে কেন্দ্র করে এক মাস্তান ওকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু শাহেদ বেপারির জন্য পারেনি।
শাহেদ বেপারি পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে সেটা ফেরায় এরপর আবার শ্রাবণের দোকানের পিছনে টাকা গিয়েছে।
শাহেদ বেপারি ভাবছে,আমাদের দোকানে যা কেনাবেঁচা হচ্ছে তা দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ ভালো ভাবেই সংসার চলে যাচ্ছে তবে জমানো নেই কিছু।
এখন হাত সম্পূর্ণ খালি এরমধ্যে আবার শ্রাবণ লস সব মিলিয়ে তার হাঁসফাঁস অবস্থা।
কয়েক মাস পর
আজকাল সুমনা বেগমের শরীর বেশি ভালো যাচ্ছে না।
মাঝে মাঝে তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হয় তাছাড়া অনিয়মিত ঋতুস্রাব রয়েছেই।
শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীর এমন অবস্থা দেখে বেশ কয়েকদিন ধরে ডাক্তারের কাছে যেতে বলেছেন।
কিন্তু টাকা পয়সার চিন্তা করে সুমনা ডাক্তারের কাছে যায়নি কিন্তু এখন দিনদিনই ব্যথা বাড়ছে না গিয়েও তার উপায় নেই।
শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীর শরীর খারাপ দেখে জোর করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন।
ডাক্তার সুমনা কে চেক আপ করার পর কয়েক হাজার টাকার টেষ্ট করতে দেয়।
সুমনা করতে চায়নি কিন্তু
শাহেদ বেপারি তা জোর করে করিয়েছে।
দুইদিন পর তার রিপোর্ট দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে সুমনা ডাক্তারের কাছে থেকে এসেই মেয়ে আর নাতনিকে দেখতে রওয়ানা হলেন,
তার মেয়েটার ইদানিং শরীর বেশি ভালো যাচ্ছে না।
বারবার বমি করছে কিছু খেতে পারছে না তারমধ্যে আজকাল পরি যা চঞ্চল হয়েছে একদন্ড চুপচাপ বসতে চায় না।
সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করে খাওয়া নিয়ে।
পরিটা খেতেই চায় না।
তার মেয়েটা কত কষ্ট করে নাতনিকে খাওয়ায় তা দেখে সুমনা অবাক হন।
তার ছোট মেয়েটা কবে থেকে এতো বড় হলেন।
কয়েকদিন আগে যে কিনা নিজের হাতে খেতে চাইতো না।
মায়ের হাতে খাওয়ার বায়না ধরত আজ সে মা হয়ে তার মেয়ের খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত।
যে মেয়ে কথায় কথায় অভিমান করত তার সে অভিমান কোথায় গেল!
মেয়েটা তার নরম মনের কিন্তু তার মেয়ের জামাই রাগী স্বভাবের প্রায় সময় মেয়েটাকে বকাবকি করে।
কখনো তো তার সামনেই মেয়ের সাথে রাগারাগী করেন।
তার ছোট মেয়েটি কি সুন্দর করে সে সময়ে জামাইয়ের দোষ ঢাকতে ব্যস্ত হয়ে যায়।
মেয়েটা সবসময় সুমনার সামনে তার জামাইয়ের সুনামের ফুলঝুরি ফোঁটায় ।
তার মেয়েটা মনে করে তার মা এসবের কিছু বুঝতে পারে না।
কিন্তু সব বুঝেও তার মা না বুঝার অভিনয় করেন।
মেয়েকে তার জীবনের অতীত শুনান,
একটা সংসার গড়তে ভালো লাগা, মন্দ লাগা কতকিছু ত্যাগ করতে হয় তা বলেন।
যাতে মেয়েটা মনে সাহস নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে।
সুমনা রিকসায় চড়ে মেয়ের বাসায় যাচ্ছে আর এসব ভাবছিল এরপর রিকসা মেয়ের বাসার সামনে এসে থামল।
সুমনা মেয়ের বাসায় আসতে আসতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে ।
তার মেয়ে ছাদে গিয়ে নাতনিকে রাতের খাবার খাওয়াচ্ছে।
কারণ বাসায় বসে তাকে খাওয়ানো যায় না।সুমনা ছাদের একপাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নাতনি কে দেখছিল,এর মধ্যেই সীমা বমি করলো।
তা দেখে সুমনা দৌড়ে মেয়ের কাছে গিয়ে তাকে ধরে বললেন, তোকে না সেদিন প্রেগনেন্সি টেষ্ট করতে বলেছিলাম?
সীমা তার মায়ের কথা শুনে লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে বললো,করেছি তো।
সুমনা নাতনিকে কোলে নিয়ে বলেন, তা রিপোর্ট কী এসেছে?
সীমা তার মায়ের কথা শুনে নিচের দিকে তাকিয়ে বলেন,আম্মু রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে।
সুমনা পজেটিভ এসেছে শুনে হতাশ কন্ঠে বললেন,পরির মাত্র এক বছর তিন মাস এরমধ্যে তুই আবার অসুস্থ শুনে
আমার চিন্তা লাগছে রে মা।
কারণ পরি পেটে আসার পর তুই কিছু খেতে পারতি না পানি খেলেও বমি করতি।
সাত মাস পর্যন্ত স্যালাইন এর উপর চলেছিস এবারো তো প্রথম থেকেই বমি করছিস সামনে কি হবে আল্লাহ জানেন।
দুই দিন পর
শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীকে বললেন,সাব্বিরের মা তা কবে অপারেশন করবে ঠিক করলে?
আমি এখন কোন অপারেশন করবো না।
আমার মেয়েটা নাতনিকে নিয়ে সংসার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে এরমধ্যে আবারও সে মা হবে।
তাছাড়া মেয়েটার বয়স কম তারমধ্যে দুইটা বাচ্চা!
ভাবতে পারছেন!
তাছাড়া আমি প্রতিদিন গিয়ে জোর করে একটু আধটু খাওয়াই আপনার মেয়েকে।
কিন্তু আমি অপারেশন করালে নিজের খেয়াল রাখব না মেয়ের?
তোমার জরায়ুতে টিউমার হয়েছে সুমনা তা বুঝতে হবে।
সুমনা তার স্বামীর কথা শুনে বলেন,আমরা ছাড়া সীমার খেয়াল রাখার আর কে আছে?
ওর শ্বশুর শ্বাশুড়ির বৃদ্ধ মানুষ তারা তো নিজেরাই কিছু করতে পারেন না।
আমার মেয়ের খেয়াল রাখবে কেমনে?
উল্টো মেয়েটা তাদের গোসল করায়,যত্ন আদ্ধি করে ।
সুমনা কথা শুনে তার স্বামী চিন্তা করে#চলবে
বিঃদ্রঃ আমার লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে তো লাইক ও আপনাদের মূল্যবান মতামত দিয়ে পাশে থাকবেন।
লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।4 Comments

Saifun nesa Shima
Housewife
Friends
Nahar moyna
@moyna
বিপুল চন্দ্র রায়
@sreebipulchondrorayraygmail-com
এমদাদ হোসেন
@emdad123
Jebunnesa jebu (জেবুন্নেছা জেবু)
@jebunnesa-jebu
TARIN
@tarin
Latifur-rahman-Pramanik
@latifur-rahman-pramanik
Md-Nadiruzzaman
@md-nadiruzzaman
Md. Habibur Rahman
@habib
তাওহীদ সুফিয়ান
@tawhidsufian


অভিনন্দন