Profile Photo

Mohammad Shahriar HossainOffline

  • ShrSifat
  • Profile picture of Mohammad Shahriar Hossain

    Mohammad Shahriar Hossain

    5 years, 1 month ago

    *করোনা মহামারী,আমাদের প্রস্তুতি ও আমরা*

    করোনা জ্বরে কাপছে পুরো বিশ্ব।ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে শুরু করে আজ এপ্রিল ২০২১ শেষ হতে যাচ্ছে।দিনকে দিন যেখানে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমে যাবার কথা সেখানে,নতুন নতুন জিনোম সিকুয়েন্স নিয়ে বিশ্ববাসী কে বার বার চমকে দিচ্ছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস।
    কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস নামেই বেশি পরিচিতি যার।২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহান প্রদেশে উদ্ভুত হয় ভাইরাস টি।সেখান থেকে এক এক করে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে।
    সব দেশের স্থানীয় সরকার স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা আর ফ্রন্ট লাইনে থাকা স্বাস্থ্যকর্মী’রা ঢাল তলোয়ার বিহীন এই যুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়ে যাচ্ছে এক অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে।

    থেমে নেই আমাদের বাংলাদেশও।
    মার্চ ২০২০ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ।একই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মৃতের সংখ্যাও,যার সংখ্যা বর্তমানে প্রায় এগারো হাজার।
    করোনা ভাইরাস আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে আমাদের জন্যে প্রায় নতুন কিছু জিনিসের সাথে,লকডাউন যার মধ্যে অন্যতম।এছাড়াও আমাদের কে শিখিয়েছে হাত ধুতে কিংবা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে।
    কিন্তু আমরা কি শুধু পরিচিতই হয়েছি নাকি কিছু শিখেছিও!
    উত্তর যদি হয় না,তবে কি আমরা আসলেই করোনা থেকে মুক্তির পথে হাটছি নাকি দেশের জন্য ঘনিয়ে আসছে ঘোর অন্ধকার।

    আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত কে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা রেড জোন দিয়ে চিহ্নিত করেছে।প্রায় সমগ্র ভারত জুড়ে এখন শুধু হাহাকার আর আহাজারী।
    অক্সিজেন সংকট,হাসপাতাল সংকট এমন কি কিছু কিছু হাসপাতালে রোগী কে দেয়া ইঞ্জেকশন সিরিঞ্জের সংকট ও দেখা গেছে।একই হাসপাতালে কয়েক মুহুর্তের ব্যাবধানে অক্সিজেনের অভাবে,শ্বাস না নিতে পেরে মারা যাচ্ছে ২০-২৫ জন।
    লকডাউনের মত ভারত কে করোনা ভাইরাস গত কয়েকদিনে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে নতুন আরেক টার্ম যার নাম গনচীতা।
    খুব বেশিদুরে যেতে হবে না,সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই দেখা যাচ্ছে মানুষের আহাজারী আর কষ্ট।বিশ্বের এক অনন্য উন্নয়নশীল দেশ ভারতের স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা এভাবেই ভেঙে পড়েছে।
    আমরা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কি প্রস্তুত এমন পরিস্থিত সামনে দাঁড়ানোর জন্যে?
    ভারত বাংলাদেশের দুরত্ব খুব বেশি না।সুতরাং বাংলাদেশে নতুন করোনার নতুন সিকোয়েন্স আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
    সরকার ঘোষিত লকডাউন শেষ হচ্ছে আগামী ২৯ এপ্রিল,আর আজ ২৫ এপ্রিল থেকে বিপনী বিতান সহ দেশের সব মার্কেট বা শপিংমল খুলে দেয়া হয়েছে সকাল ১০ টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।
    আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষের জন্যে লকডাউণ হতে পারে এক বিলাসিতা।
    কেননা যেখানে খাদ্য অনিশ্চিত সেখানে মৃত্যুভয়ে ঘরে বসে থাকা বোকামীর পর্যায়ে পড়ে।সুতরাং কেও শপিং মল বা মার্কেট খুলে দেবার বিরুদ্ধাচারণ করলে তার উচিৎ আগে খাদ্যাভাবে মরতে বসা বাঙালীর কথা চিন্তা করা।
    এতকিছুর পরেও কি আমরা প্রস্তুত নিজেদের কে করোনা থেকে বাচিয়ে রাখার জন্যে?
    নাকি লকডাউন তুলে দিয়েছে শপিংমল খুলে দিয়েছে বলে,ফিরে যাব সেই আগের দিনগুলোই,রমজানের বিকেলে কর্পোরেট ইফতার পার্টি আর পরিবার নিয়ে ঈদের শপিং।
    হাতে সময় খুব বেশি নেই তবুও বলতে হয় একটু হলেও সময় আছে একটু সচেতন হই।
    কে জানে হতে পারে করোনার পরবর্তী শিকার আপনি বা আপনার পরিবার।

    4
    2 Comments
Skip to toolbar