Profile Photo

আসাদুজ্জামান জুয়েলOffline

  • asadjewel
  • সমকালীন রঙ্গ-৩
    নির্বাচন পরিচালানকারী পরিষদ বাছাই রঙ্গ
    ……………………………
    আসাদুজ্জামান জুয়েল
    ……………………………
    বন্ধুরাতো জানোই যে, আমি একটু ঘুরতে ভালোবাসি। সেটা হোক দেশে কিংবা বিদেশে। এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে একদিন গিয়েছিলাম নতুন একটি দেশে। দেশটির নাম শুনলে জিভে জল চলে আসতে পারে। হ্যা বন্ধুরা, দেশটির নাম ‘সন্দেশ’। সন্দেশে ভিসা প্রাপ্তিতে খুব একটা জটিলতা পোহাতে হয় না। আন্তরিকতা নিয়ে ভিসা চাইলেই দিয়ে দেয়। আমি অবশ্য স্বপ্নে পেয়েছিলাম ভিসাটা। যেতে কোনই খরচ নেই। সন্দেশে স্বপ্নে প্রাপ্ত ভিসা নিয়ে গিয়ে আমার বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা হয়েছে। ঘুরে ঘুরে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে সেই অভিজ্ঞতা আমি শেয়ার করবো সবার সাথে। আসলে জ্ঞানীরা বলেন, জানার কোন শেষ নাই। তাই আমি প্রতিনিয়ত জানার চেষ্টা করি এবং অন্যকে জানাতে চেষ্টা করি।

    আমাদের দেশের বড় বড় অফিসাররা বিদেশে যায় অভিজ্ঞতা নিতে। আমার মতে এটা দরকার আছে। কারন, আমাদের দেশে কোন বিষয় যেভাবে চর্চা করা হয়, বিদেশে একই বিষয় অন্য ভাবেও চর্চা করতে পারে। এমনও হতে পারে সেই চর্চাটা আমাদের দেশের চর্চার চেয়ে বেশি টেকশই, ফলপ্রসু, স্বল্প ব্যায়ী। অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজটা করলে সকলের জন্যই মঙ্গল হবে।

    যেমন আমাদের দেশে স্কুলের বাচ্চাদের মিড ডে মিল সম্পর্কে আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন। আমাদের দেশের বাচ্চাদের মিড ডে মিলে খিচুরি দেয়া হয়। গরম খিচুরি গিলতে গিয়ে অনেকেরই গলায় ঘা হয়ে যায়। অনেকের ঝাল সহ্য হয় না। নানান সমস্যা হয়। বিদেশে কিভাবে এই প্রকল্প ফলপ্রসু করে তা দেখার জন্য বিদেশ ভ্রমণ খুবই দরকারী। সমস্যা হলো, বাচ্চাদের পেটের সাইজ বাচ্চা টাইপ আর আমাদের অফিসারদের পেটের সাইজ চৌবাচ্চার সমান। এটাই হলো আমাদেরর দেশের মূল সমস্যা। আবার আমাদের দেশে খাল, পুকুর কাটা হয় এক পদ্ধতিতে। বিদেশে নিশ্চই সফটওয়্যার ব্যবহার করে কাজটা করা হয়! সেটা যদি না দেখা হয় তাহলে কিভাবে আমাদের দেশে সেই পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা উন্নত হবো? একশ কোটি টাকার প্রকল্পে প্রয়োজনে দুইশ কোটি টাকা খরচ করে হলেও অভিজ্ঞতা নেয়া দরকার।

    আপনারা তো জানেনই যে, কিছুদিন আগে গিয়েছিলাম সন্দেশে। আমি অবশ্য প্রকল্প দেখতে যাইনি। নিজের গাটের সময় ও স্বপ্ন খরচ করে গিয়েছিলাম অবকাশ যাপন করতে। কিন্তু ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। নরকে গেলেও কিন্তু ধান ভানে সেটা কেউ জানে না! সন্দেশে ঘুরতে গিয়ে নানান বিষয়ে আমার অটো অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা আমি আস্তে আস্তে শেয়ার করবো।

    সন্দেশে গিয়ে দেখি সেদেশে নির্বাচন পরিচালনার জন্য বুদ্ধিজীবী নিয়োগ দিবে। সেদেশে নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য একটা পরিষদ গঠনের নিয়ম আছে। রাজা নির্বাচন পরিচালনার জন্য নতুন পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে সেদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমি যেহেতু সেদেশে ফরেইনার। আমাকে রাজা মহাশয় আমন্ত্রণ জানালো আলোচনা দেখার জন্য। আমি এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইলাম না। একটা নসিমন নিয়ে রাজপ্রাসাদে চলে গেলাম আলোচনা দেখতে। একেকটা রাজনৈতিক দল আসছে আর তারা তাদের মতামত ব্যক্ত করছে। কারো মতামতই রাজার মনের মত হচ্ছে না। কেউ কেউ এমন প্রস্তাব দিচ্ছে যে, রাজা মহাশয়, বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমাদের ভাগে পড়তে হবে। আমাদের পাস নিশ্চিত ও ক্ষমতা আমাদের হাতে আসবে এমন নিশ্চয়তা যারা যারা দিবে তাদেরই পরিষদে যুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন আইন করতে হবে। রাজা মহাশয় সকলের কথাই মনোযোগ দিয়ে শুনছেন আর মনে মনে মুচকি মুচকি হাসছে। আপনারা হয়তো ভাবতে পারেন রাজা মহাশয় মুচকি হাসছে আর আমি সেটা কেমনে দেখলাম? আসলে সন্দেশের সকল নাগরিকের মন স্বচ্ছ। একদম স্ফটিক স্বচ্ছ। তাইতো আমি দেখতে পেলাম। সন্দেশেও দেখলাম আমাদের দেশের মত তালগাছ পেলে বিচার মানা ঘাউরা দল আছে। তারা আলোচনায় গেলোই না। বাইরে বসে বিবৃতি দিচ্ছে। তাতে বিষয়টা পরিস্কার বুঝলাম একটা দুইটা তালগাছ নয়, তাদের পুরো তাল বাগানই চাই!

    রাজা মহাশয় আগত দলগুলোর সাথে আলাপ আলোচনা করলেন। সকলের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন এবং পরিশেষে একটা বিষয়ে একমত হলেন যে, আসলে কোন দলই তাদের মতামতের সাথে একমত নয়। তাই রাজা মহাশয় সকলের কথা নিয়ম মাফিক লিপিবদ্ধ করে সে যেটা ভেবে রেখেছে সেই বিষয়ে মতামত দিয়ে সেদেশের মন্ত্রীপরিষদে পাঠিয়ে দিলেন। বলে দিলেন, আইন বানাও। যেভাবে বানালে তোমাদের সুবিধা হবে সেভাবেই বানাও। কারন সবাই তালবাগান নিজের দখলে চায়। ক্ষমতাধর দলতো সেক্ষেত্রে তালবাগানের সাথে সাথে পাশের ফলবাগানও চাইবে এটাই স্বাভাবিক। ক্ষমতাধর দল অন্যান্য বাগানের সাথে অন্যদের পিছনে ব্যবহারের জন্য একটা বাঁশ বাগানও নিজেদের দখলে নিয়ে আইন তৈরীর প্রস্তাত করে বিষয়টা তাদের সংসদে পাঠিয়ে দিলো। নতুন আইনে প্রস্তাব করলো একজন প্রধান করে আরো কয়েকজন নিয়ে একটি নির্বাচন পরিচালনাকারী পরিষদ তৈরী করতে হবে।

    আমি বিষয়টা দেখে আবারও পুলোকিত হলাম। আমার পপি গাইডকে জিজ্ঞাসা করলাম, এইযে পরিষদের প্রধান সে নিশ্চই খুব জ্ঞানী গুণী এবং সততার সর্বোচ্চ চুড়ায় অবস্থান করে। এহেন গুণাগুণ না থাকলে নিশ্চই তাকে নিয়োগ দিতো না বা দেয়ার বিধান তৈরী করতো না। আমার গাইড আবারও আমার দিকে তাকিয়ে পুলোকিত হলো। আমি এবার ডাবল পুলকিত হয়ে জানতে চাইলাম, বিষয়টা কি ভাইজান? এভাবে তাকালেন কেন?

    আমার পপি গাইড আমাকে বললো, কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান কেমন হয় তা জানতে হলে একটা গল্প শুনতে হবে। কথাটা আমি শুনে বেশ আগ্রহ দেখালাম। গল্প শুনতে কার না ভালো লাগে। ছোটবেলায় কাথার নিচে শুয়ে শুয়ে কিচ্ছা শুনতাম। কিচ্ছা কয় কিচকিচানির মায়,,,,,,,,, ইত্যাদি বলে দাদী-নানীরা গল্প বলা শুরু করতেন। এক দেশে ছিলো এক রাজা… রাজা ঘোড়া দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে… যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। ঘোড়া জায়গা মত পৌছালো কিন্ জানতাম না তবে ঘুম চলে আসতো ঠিকই। সেই থেকে গল্প শোনার খুব আগ্রহ আমার। পপি গাইডকে বললাম, চলেন বাদাম খেতে খেতে আপনার গল্পটা শুনি। পপি গাইড বললো, কাচা বাদাম না ভাজা বাদাম, আমাদের দেশে কিন্তু ঐ দুটি চলে না, এখানে চলে সিদ্ধ বাদাম। আমি বললাম, এতদিন আমাদের দেশে ভাজা বাদামই খেতাম, সম্প্রতি কাচা বাদামের প্রতি আমাদের দেশে আগ্রহ বেশ বেড়ে গেছে। আপনাদের দেশে এসেছি, কাচা, পাকা, সিদ্ধ যা দেন তাই খাবো। সিদ্ধ বাদাম খেতে খেতে আমার পপি গাইড বলা শুরু করলো-
    জানেন, ছাগলের কিছু ঐতিহাসিক গুণ রয়েছে। আগেই বলে রাখি, এটা সন্দেশের ঘটনা নয়। অন্য এক দেশে ছিল এক রাজা। একদিন রাজার মৎস শিকারের শখ হলো। রাজা আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে ডেকে জিজ্ঞাস করলো, আমি মৎস শিকারে যেতে চাই, সামনে আবহাওয়া কেমন থাকবে হিসেব নিকেশ করে আমাকে জানাও।
    রাজার কথা শুনে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান খাতা-পেন্সিল, কাটা-কম্পাস নিয়ে বসে পড়লো। ঘন্টা ছয়েক পরে এসে বললো-আগামী মঙ্গলবার দিনটি খুবই ভালো। মঙ্গবারে সবই মঙ্গল হবে। সুন্দর, উজ্জল, চমৎকার আবহাওয়া থাকবে জাহাপনা। আপনি মঙ্গলবার মৎস্ শিকারে নির্ভাবনায় যেতে পারেন।
    মঙ্গলবার রাজা বের হলেন মৎস শিকারে। রাজা যখন সাগর পাড়ে গেলেন, সাগর পাড়ে এক জেলে ছাগল চড়াচ্ছিলো, মহারাজকে দেখে সে কুর্নিশ জানিয়ে বলল, মহারাজ আজকে কেন আপনি সাগরে যাচ্ছেন? একটু পরেই তো বৃষ্টি হবে!
    রাজা বললেন, বেটা জেলের বাচ্চা তুই কি জানিস? আমি আবহাওয়ার খবর জেনেই এসেছি! আমার আবহাওয়া বিভাগের প্রধান অনেক জ্ঞানী। তুই বেটা জাউল্যার বাচ্চা তার উপর কথা কস!
    রাজা সাগরে গেলেন, কিছুক্ষন পর শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি! রাজা প্রাসাদে ফিরে এসে আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে বরখাস্ত করে, ঐ জেলেকে ধরে এনে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানিয়ে দিলেন!
    জেলে পড়লো মহা বিপদে। সে তো আবহাওয়ার কিছুই জানেনা। রাজ দরবারে গিয়ে হাত জোড় করে জেলে বললো, মহারাজ আমাকে যেতে দিন, আমি আসলে আবহাওয়ার কিচ্ছু জানিনা।
    রাজা বললো, তাহলে ঐদিন আমার আবহাওয়া বিভাগ থেকেও সঠিক খবর তুই কি করে দিলি!
    জেলে উত্তরে বিনয়ের সাথে বললো, মহারাজ, সেখানে আমার কোন কৃতিত্ব ছিল না! সব কৃতিত্ব আমার ছাগলের! বৃষ্টি আসার আধা ঘন্টা আগে থেকে আমার ছাগলটা ঘন ঘন মুতে! এর থেকেই আমি বুঝতে পারি একটু পর বৃষ্টি হবে!
    তারপর রাজা জেলেকে ছেড়ে দিয়ে তার ছাগলটাকে ধরে এনে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানিয়ে দিলেন! সেই থেকেই বড় বড় পদগুলোতে ছাগল নিয়োগ দেওয়ার রীতি চালু হয়েছে!!

    এবার আমার পুলকের আর শেষ নেই। ছাগলের ঘন ঘন মুতার মত আমিও ঘন ঘন পুলকিত হচ্ছি। আসলে দেশ বিদেশ না ঘুরলে বুঝাই যায় না, কিভাবে নিয়োগ দিতে হয় এবং কাদের নিয়োগ দেয়া হয়। জ্ঞান-ট্যান কিছুই না। ভালো মানের ছাগল হতে পারলে বড় বড় জায়গায় বসার সুযোগ হয়। সন্দেশেও নাকি জ্ঞানী-গুণী হওয়ার দরকার পরে না। জায়গা মত তেল ঢালতে পারলে আর সঠিক সময় সঠিক বাসের টিকিট কিনতে পারলে লক্ষ্যে পৌছা সুনিশ্চিত। আসলে লক্ষ্যে পৌছানোই শেষ কথা! টিকিট ব্ল্যাকে কিনছে না কাউন্টারে দাড়িয়ে কিনছে সেটা বড় কথা নয়। ভেবে দেখলাম শেখার কোন শেষ নেই।

    7
    3 Comments
Skip to toolbar