Profile Photo

অনিক ভট্টাচার্য্যOffline

  • Cholechi-Udoyer-Pathdhore
  • মায়ের আত্ম ত্যাগ
    অনিক ভট্টাচার্য্য

    অনেকদিন ধরে সৌরভের মনটা কেমন অস্বস্থি হচ্চে মাস খানেক হয়ে গেলো মা আর ফোন করেনি,এতো ব্যাস্ততার মধ্যে মনেই পড়েনি মা ফোন করেনি,হয়তো করেছে ,এ কদিন তো হাসপাতালেও ছোটাছুটি কম হয়নি বিদেশে এলো আজ মেরেকেটে বছর দশেক হবে, আসার পর থেকেই নানা ভাবেই এতো ব্যাস্ততায় ডুবে যায় , নিজের ক্যারিয়ার গড়তে আর দুনিয়াজারীর কোন খবর ছিলোনা, তার মধ্যে বছরখানেক আগে বিয়েও করলো, সব কিছু ভালোয় এগোচ্ছে , দিনে সব কিছুই ভালো লাগে , শুধু বিরক্ত লাগে , অপ্রত্যাশিত ভাবে দেশ থেকে মায়ের ফোন, অফিসের মাঝে, মিটিং এর মাঝে, কত্তোবার কল কাটে , কতোবার বিরক্ত হয়ে বকাঝকা ও করেছে , তবুও করে, আর কথা বলতে শুরু করলে তো কথায় নেই, লম্বা চলে, কখনো কখনো, সৌরভ ভাবে , হয়তো ছেলের থেকে পয়সার জন্য বারবার ফোন করে, আজ হটাৎ কেন জানি মায়ের জন্য খারাপ লাগছে, আসলে হাসপাতালে , স্ত্রীর পাশে , নিজের সন্তানকে দেখে হটাৎ মায়ের কথা মনে পড়লো, এতো কষ্ট নিয়ে দশমাস , পেটে নানা যন্ত্রনা নিয়ে, এর পর এতো ভয়ানক অসহ্য যন্ত্রনা সহ্য করেও , কি অবলীলায় হাসছে, যেন কোন কষ্ট‌ই হয়নি, আচ্ছা এভাবে তো তার মা ও তার জন্য কতো কষ্ট করলো,অথচ তার সন্তান হ‌ওয়ার সংবাদ দূরে থাক বিয়ের সংবাদ টা জানানো দরকার বলে ভাবেনি,অথচ অল্প বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই হাজারো , ঝড়-ঝাপটা সামলেও শত অভাবের স্বত্বেও লড়াই করে , ছেলেকে মানুষ করে তোলে বিদেশে পাঠায়, সত্যিই তো সৌরভ ছাড়া তো , উনার আর কেউ নেই, প্রতিদিন একটু কথা বলার জন্য বারবার শত অপমান সহ্য করেও ফোন দেয়, কিন্তু টাকার জন্য না, একটু কথা বলার জন্য, আজ এ প্রথমবার মাকে ফোন দেওয়ার জন্য , টেলিফোনে কল দিলো “চৌধুরী বাড়িতে”, গ্রামের একমাত্র তাদের ঘরেই ফোন আছে, সেখানে সব সময় বসে থাকে সৌরভের ফোন আসবে সে আশায় সৌরভের মা, কারন সৌরভ ফোনের কল এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বলতো পরে কল ব্যাক করবে, কিন্তু আর করেনা, ফোন টা রিং যাচ্ছে , কিন্তু কেউ তুললো না, আবার ফোনে কল দিলো,‌এবার চৌধুরী বাড়ির বড়ো মেয়ে ফোন ধরলো, এর পর পরিচয় দেওয়াতে চিনলো এর পর সৌরভ বললো “একটু মা কে ডেকে দেবে? আসলে আজ আমার বাচ্চার জন্ম হলো , খুশির খবর টা দিই, কিছুক্ষণ চুপ থেকে মেয়েটা বললো , “তুমি কিছু জানো না?” আজ প্রায় দিন দশেক হলো দীর্ঘদিন অসুখে ভোগার পর মারা গেছেন, তোমাকে জানাতে ফোন ও করা হয় কিন্তু ফোন সুইচ অফ ছিলো,শেষ মুহূর্তে ও তোমার সাথে কথা বলতে চাইলো, কিন্তু আমাদের কাউকে কল দিতে দিলো না, “বললো সৌরভের কাজ এর মাঝে কল করলে ওর কাজের সমস্যা হবে, এভাবে আর কাউকে ফোন এ কল দিতে দিলো না, ফোনটা হাতে থেকে রেখে সৌরভ পাথরের মত শক্ত হয়ে গেলো, শুধু দু চোখ বেয়ে পানি পরতে লাগলো,আর ভাবতে লাগলো ” মায়েরাই পারে নিজের স্বর্বস্য দিয়েও সন্তানের কাছ থেকে কিছু‌ই চান না,সন্তান জন্মের পর থেকে মা ছাড়া কেউ ই বেশি কাছের হয়না, কিন্তু সন্তানরা বড়ো হলে তাদের কতো অবহেলা করি, তাদের অনুভূতি, তাদের আত্মত্যাগ তখন‌ই বুঝি যখন নিজেরায় সন্তানের মাতা-পিতায় হয়।।।।।।।।

    5
    3 Comments

Friends

Profile Photo
Md-Zahidul-Islam-Prince
@md-zahidul-islam-prince
Profile Photo
Mohammad-Rakibul-Hasan
@mohammad-rakibul-hasan
Profile Photo
Tahmina-Shikha
@tahmina-shikha
Profile Photo
MD-Naimul-Islam
@md-naimul-islam
Profile Photo
charumannan
@charumannan
Profile Photo
Mehebub-Hasan
@mehebub-hasan
Profile Photo
Omar Faruk Rayhan
@rayhanpoet
Profile Photo
Arif Muslimeen
@arif-muslimeen
Skip to toolbar