<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | আবু তাহের রিপন | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/abutaherripon/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/abutaherripon/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for আবু তাহের রিপন.</description>
	<lastBuildDate>Wed, 28 Oct 2026 12:00:11 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">400f70e67753710e8fc99de57640e47d</guid>
				<title>একদিন সন্ধ্যায় লোকটি আবিষ্কার করল, সে যে বাড়িটিতে গত সাত বছর ধরে বাস করছে, সেই বাড়িটির কোনো ঠিকানা নেই।

ঘটনাটা অবশ্য হঠাৎ ঘটেনি। সেদিন অফিস থেকে ফেরার পথে রিকশাওয়ালাকে বাড়ির ঠিকানা বলতে গিয়ে আটকে গিয়েছিল সে। রাস্তার নাম মনে পড়ছিল না। আশপাশের দোকানপাট চেনা, মোড়টা চেনা, এমনকি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছটাও। শুধু বাড়িতে পৌঁছানোর পথটা মনে করতে পারছিল না।

শেষ পর্যন্ত হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরেছিল। রাতে ঘুমানোর আগে গুগল ম্যাপে নিজের ঠিকানা খুঁজতে গিয়ে দেখল, ওই নামে কোনো রাস্তা নেই।

পরদিন বাড়িওয়ালাকে জিজ্ঞেস করেছিল।

বাড়িওয়ালা বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, ‘আপনি সাত বছর ধরে এখানে থাকেন, আর এখন ঠিকানা জানতে চাইছেন?’

সে আর কথা বাড়ায়নি।

তারপর থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় একটু হাঁটতে বের হতো। শহরের পুরোনো রাস্তাগুলো ধরে হাঁটত, অচেনা গলিতে ঢুকত, চায়ের দোকানে বসে মানুষের কথাবার্তা শুনত। মাঝে মাঝে মনে হতো, এই শহরে একসময় কাউকে চিনত সে। কারও সঙ্গে কোথাও যাওয়ার কথা ছিল। কাউকে একটা কথা বলার কথা ছিল, যা আর বলা হয়নি।

কিন্তু কিছুই মনে পড়ত না।

একদিন একটা পুরোনো বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থমকে গেল।

দোতলার জানালায় নীল পর্দা। বারান্দায় কয়েকটি টব। দেয়ালের এক কোণে বৃষ্টির পানিতে শ্যাওলা জমেছে। অদ্ভুত ব্যাপার, বাড়িটা তার খুব চেনা মনে হলো। মনে হলো, এখানে একসময় থাকত সে। কিংবা কেউ একজন তার জন্য অপেক্ষা করত।

পরদিন আবার এল।

তার পরদিনও।

চতুর্থ দিন বাড়ির দরজা খুলে এক বৃদ্ধ বেরিয়ে এলেন।

‘কাউকে খুঁজছেন?’

কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে বলল, ‘জানি না। তবে মনে হচ্ছে, কেউ একজন এখানে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।’

বৃদ্ধ তার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার নাম কী?’

নামটা শুনেও তাঁর মুখে কোনো পরিবর্তন হলো না।

‘এ নামে কাউকে চিনি না।’

দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল।

সেদিন রাতে বারান্দায় অনেকক্ষণ বসে ছিল সে। পাশের বাড়ির ছাদে একটা কাক বসেছিল। দূরে কোথাও ট্রেনের শব্দ হচ্ছিল। তার মনে হচ্ছিল, এই শব্দ, এই সন্ধ্যা, এই বাতাস - সবকিছু সে আগে কোথাও পেয়েছে। শুধু সেই জায়গাটির নাম মনে করতে পারছে না।

পরদিন অফিসে গেল না।

আলমারি থেকে পুরোনো কাগজপত্র বের করল। পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র, চাকরির নিয়োগপত্র। সবখানেই তার নাম আছে, ছবি আছে, ঠিকানাও আছে। অথচ কোনো কাগজেই নিজের জীবনটাকে খুঁজে পেল না।

বিকেলে আবার সেই বাড়িটার সামনে গেল।

বৃদ্ধ এবার দরজা খুললেন না। জানালার ওপাশে নীল পর্দাটা একটু নড়ে উঠল। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পকেট থেকে একটা কাগজ বের করল সে। দরজার নিচ দিয়ে গলিয়ে দিল।

কাগজে লেখা ছিল, ‘আমি আপনাকে চিনি না। আপনিও আমাকে চেনেন না। তবু মনে হয়, এই পৃথিবীতে কোথাও একজন মানুষ আছেন, যাঁর কাছে গেলে আমাকে আর নিজের পরিচয় দিতে হবে না।’

সেদিন রাতে সে আর বাড়ি ফিরল না।

পরদিন সকালে ঘরে তার বিছানা অগোছালো পাওয়া গেল। টেবিলের ওপর চাবি, মানিব্যাগ, পরিচয়পত্র - সবকিছু ঠিকঠাক রাখা। শুধু মানুষটা নেই।

কেউ থানায় খবর দিল না। অফিস থেকে দু-এক দিন খোঁজ নেওয়ার পর সবাই ধরে নিল, সে চাকরি ছেড়ে চলে গেছে।

কয়েক সপ্তাহ পর বৃদ্ধ বাড়ির দরজার নিচে পড়ে থাকা কাগজটা খুঁজে পেলেন। পড়ে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন।

তারপর কাগজটা ভাঁজ করে আলমারিতে রেখে দিলেন।

বহু বছর আগে তাঁর ছেলেও একদিন এভাবেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি। কোথায় গিয়েছিল, কেন গিয়েছিল, বৃদ্ধ আজও জানেন না। শুধু ছেলের ঘরের জানালায় নীল পর্দা টাঙিয়ে রেখেছেন। ছোটবেলায় ছেলেটি এই রং পছন্দ করত।

সেদিন সন্ধ্যায় বৃদ্ধ দরজার বাইরে এসে দাঁড়ালেন। রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইলেন অনেকক্ষণ।

হয়তো কাউকে খুঁজছিলেন।

হয়তো কাউকে চিনতে পারছিলেন না।

শহরে তখন সন্ধ্যা নামছে। মানুষ বাড়ি ফিরছে। দোকানের শাটার নামছে। রাস্তার বাতিগুলো একে একে জ্বলে উঠছে।

কেউ জানে না, এই শহরে এমন একজন মানুষ হাঁটছে, যার কোনো ঠিকানা নেই। যে হয়তো বাড়ি খুঁজছে না, খুঁজছে এমন একজন মানুষকে, যার কাছে সে কোনো দিন অপরিচিত ছিল না।

আমরা সবাই কি কোনো না কোনোভাবে এমন একটা বাড়ি খুঁজি না?

যেখানে ফিরে গিয়ে নিজের নাম বলতে হবে না। নিজের দুঃখের ব্যাখ্যা দিতে হবে না। কেউ জিজ্ঞেস করবে না, এত দিন কোথায় ছিলে।

শুধু দরজাটা খুলে বলবে, ‘এত দেরি করলে কেন?’

তারপর হয়তো আমরা বুঝতে পারব, সারাজীবন যে বাড়িটা খুঁজেছি, সেটা কোনো বাড়ি ছিল না।

ছিল একজন মানুষ।

অথবা এমন একটা জীবন, যে জীবনটা আমরা কোনো দিন বাঁচতেই পারিনি।

গল্প : নিজের শহরে অপরিচিত
-আবু তাহের রিপন 
বাইশ অক্টোবর ছাব্বিশ। 

জীবনানন্দ দাশের কবিতার নিঃসঙ্গতা, স্মৃতি ও ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত।

জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/286290/</link>
				<pubDate>Thu, 22 Oct 2026 18:25:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একদিন সন্ধ্যায় লোকটি আবিষ্কার করল, সে যে বাড়িটিতে গত সাত বছর ধরে বাস করছে, সেই বাড়িটির কোনো ঠিকানা নেই।</p>
<p>ঘটনাটা অবশ্য হঠাৎ ঘটেনি। সেদিন অফিস থেকে ফেরার পথে রিকশাওয়ালাকে বাড়ির ঠিকানা বলতে গিয়ে আটকে গিয়েছিল সে। রাস্তার নাম মনে পড়ছিল না। আশপাশের দোকানপাট চেনা, মোড়টা চেনা, এমনকি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছটাও। শুধু বাড়িতে পৌঁছা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-286290"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/286290/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9a06e2c135fce727cac010cfceed004a</guid>
				<title>ঘড়িওয়াল বুড়োটা প্রতিদিনের মতো আজও তার চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে একটা প্রাচীন ম্যান্ডেল ক্লক ঠিক করায় মন দিয়েছেন। দোকানে থরে থরে সাজানো শত শত ঘড়ি কোনোটা চলছে টিকটিক শব্দে, কোনোটার কাঁটা কবেই থেমে গেছে। পথচলতি মানুষ বাইরে থেকে উঁকি দিয়ে দেখে আর ভাবে, বুড়োটা বুঝি কেবল লোহা-লক্কর আর মেকানিক্যাল যন্ত্রের হিসাব মেলাচ্ছে।

কিন্তু দোকানের ভেতরের নিস্তব্ধতা অন্য কথা বলে। ঘড়ির নিখুঁত টিকটিক শব্দের আড়ালে বুড়ো আসলে নিজের জীবনের হিসাব মেলাচ্ছিলেন।

সারাজীবন তিনি এই শরীররূপী খাঁচাটাকে কত যত্নেই না আগলে রাখলেন! ঘড়ির মেকানিজমের মতো যত্ন করে তেল দিয়েছেন, ধুলোবালি জমতে দেননি। কিন্তু আজ এই পড়ন্ত বেলায় এসে তার মনে হচ্ছে, এই যে কাঠামো বা খাঁচা - এর আসল সৌন্দর্য তো এর বাহ্যিক রূপের মাঝে নয়। আসল রহস্য লুকিয়ে আছে এর ভেতরে থাকা অদৃশ্য চালকটার মাঝে। যাকে সাধকেরা বলেন &quot;অচিন পাখি&quot;।

সে কখন যেন বিনা নোটিশে এই খাঁচায় এসে বাসা বেঁধেছিল। সারাজীবন তার কলকাকলিতে মুখরিত ছিল এই সংসার, এই চেনা পৃথিবী। অথচ আজ সম্পর্কের ভিড়ে, মানুষের কোলাহলেও মানুষ বড্ড একা! ঠিক খাঁচাবন্দি একটি পাখির মতো, যে হয়তো চারপাশের খাঁচার ভাষা খুব ভালো বোঝে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তার সমস্ত টান কেবল ওই অন্তহীন আকাশের দিকে।

যে কোনো মুহূর্তে, কারো ইশারায় সেই অচিন পাখিটা দরজা খুলে উড়ে যাবে। তখন এই সাজানো খাঁচাটা নিছকই পড়ে থাকবে একখণ্ড জড়পদার্থ হয়ে।

আজ ফকির লালন সাঁইয়ের প্রয়াণ দিনে এই ভাবনাটাই বারবার মনে দোলা দেয়। পার্থিব অর্জন, অহংকার, কিংবা খাঁচা নিয়ে আমাদের যত অহমিকা সবই আসলে সাময়িক। আসল সাধনা তো এই নশ্বর খাঁচায় বসে সেই অচিন পাখির সুর চেনার এবং নিজের আত্মার সাথে তার সংযোগ ঘটানোর।
যত দিন এই মন নামক খাঁচায় অচিন পাখিটার বাস, তত দিনই এ জীবনের সার্থকতা। পাখি উড়ে গেলে বাকি থাকে কেবল শূন্যতা আর ইতিহাস।

আজ বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবসে, তাঁর প্রতি আমাদের অন্তহীন শ্রদ্ধা। জাত-পাত, গোঁড়ামি আর সব কৃত্রিম বিভেদের ঊর্ধ্বে গিয়ে তিনি মানুষকে চেনার যে চিরন্তন মন্ত্র দিয়ে গেছেন, তা আজও আমাদের বিভ্রান্ত সময়ে একমাত্র আলোর দিশারী। সাঁইজির স্মৃতির প্রতি গভীর প্রণতি।

আবু তাহের রিপন 
সতেরো অক্টোবর ছাব্বিশ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/285540/</link>
				<pubDate>Sat, 17 Oct 2026 17:32:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ঘড়িওয়াল বুড়োটা প্রতিদিনের মতো আজও তার চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে একটা প্রাচীন ম্যান্ডেল ক্লক ঠিক করায় মন দিয়েছেন। দোকানে থরে থরে সাজানো শত শত ঘড়ি কোনোটা চলছে টিকটিক শব্দে, কোনোটার কাঁটা কবেই থেমে গেছে। পথচলতি মানুষ বাইরে থেকে উঁকি দিয়ে দেখে আর ভাবে, বুড়োটা বুঝি কেবল লোহা-লক্কর আর মেকানিক্যাল যন্ত্রের হিসাব মেলাচ্ছে।</p>
<p>কিন্তু দোকানের ভেতর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-285540"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/285540/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f07874c3983bb7961ade8a036a67c037</guid>
				<title>‘একটি স্কুলঘরে শেষ হয়েছিল তাঁর জীবন, কিন্তু শেষ হয়নি তাঁকে ঘিরে থাকা বিপ্লবের গল্প।’

আজ চে গুয়েভারার ৫৯তম মৃত্যুবার্ষিকী।

মৃত্যুর মুখেও যিনি কিংবদন্তি।

একটি ছোট্ট শ্রেণিকক্ষ। সামনে দাঁড়িয়ে একজন সৈনিক। তাঁর হাতে বন্দুক। আর যাঁকে হ*ত্যা করতে এসেছেন, তিনি বন্দি এক বিপ্লবী - আর্নেস্তো চে গুয়েভারা।

১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর। বলিভিয়ার লা হিগুয়েরা গ্রামের একটি স্কুলঘরে শেষ হতে চলেছে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম আলোচিত বিপ্লবীর জীবন।

চেকে হ*ত্যা করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন বলিভিয়ার সেনাসদস্য মারিও তেরান। পরবর্তী সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ঘরে প্রবেশ করার পর চে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনি আমাকে মারতে এসেছেন?’

তেরান কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তাঁর বর্ণনায়, চে তখন উঠে বসেছিলেন। তাঁর চোখে ছিল দৃঢ়তা।

চে তাঁকে বলেছিলেন, ‘শান্ত হও, ঠিকমতো নিশানা করো।’

এরপর গর্জে উঠেছিল বন্দুক।

কিন্তু একজন মানুষের শরীরকে হ*ত্যা করা আর তাঁর বিশ্বাসকে হ*ত্যা করা যে এক কথা নয়, চে গুয়েভারার মৃত্যুর পরের ইতিহাস যেন তারই সাক্ষ্য দেয়।

১৯২৮ সালে আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া এই চিকিৎসক তরুণ বয়সে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করতে গিয়ে দেখেছিলেন দারিদ্র্য, বৈষম্য ও শোষণের নির্মম বাস্তবতা। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে বিপ্লবের পথে নিয়ে যায়।

কিউবার বিপ্লবে ফিদেল কাস্ত্রোর অন্যতম সহযোগী হিসেবে তিনি পরিচিতি পান। পরে কিউবার বাইরে গিয়েও বিপ্লব ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। বলিভিয়ায় সেই প্রচেষ্টারই এক পর্যায়ে ধরা পড়েন এবং নিহত হন।

চে গুয়েভারা বিতর্কের ঊর্ধ্বে নন। তাঁর বিপ্লবী আদর্শ, সশস্ত্র সংগ্রাম এবং বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে তাঁর ভূমিকা নিয়ে রয়েছে নানা সমালোচনা ও মতভেদ। তাঁকে বুঝতে হলে সেই ইতিহাসও মনে রাখতে হয়।

তবু মৃত্যুর প্রায় ছয় দশক পরও তাঁর মুখচ্ছবি পৃথিবীর নানা প্রান্তে প্রতিবাদ, বিদ্রোহ ও বিপ্লবের প্রতীকের মতো ব্যবহৃত হয়।

কেন?

সম্ভবত এ কারণে যে, চে কেবল একজন ব্যক্তি নন; তিনি এমন এক স্বপ্নের প্রতীক, যে স্বপ্নে মানুষ বৈষম্যহীন পৃথিবীর কথা ভাবে।

আবার তাঁর জীবন মনে করিয়ে দেয়, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ কতটা জটিল, রক্তাক্ত ও বিতর্কিত হতে পারে।

১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর একটি স্কুলঘরে তাঁর জীবন শেষ হয়েছিল। কিন্তু তাঁর নাম থেমে থাকেনি সেই ঘরের চার দেয়ালে।

কেউ তাঁকে বিপ্লবের নায়ক মনে করেন, কেউ দেখেন বিতর্কিত এক সশস্ত্র বিপ্লবী হিসেবে। ইতিহাস তাঁকে বিচার করবে তাঁর কাজ, আদর্শ ও সিদ্ধান্তের পূর্ণ প্রেক্ষাপটে।

তবে একটি সত্য অস্বীকার করা কঠিন - কিছু মৃত্যু একজন মানুষের জীবন শেষ করে, কিন্তু তাঁকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলোকে শেষ করতে পারে না।

চে গুয়েভারার মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ।

আবু তাহের রিপন। 
.
.
 #CheGuevara  #চে_গুয়েভারা  #বিপ্লব  #ইতিহাস</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/283826/</link>
				<pubDate>Fri, 09 Oct 2026 11:23:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>‘একটি স্কুলঘরে শেষ হয়েছিল তাঁর জীবন, কিন্তু শেষ হয়নি তাঁকে ঘিরে থাকা বিপ্লবের গল্প।’</p>
<p>আজ চে গুয়েভারার ৫৯তম মৃত্যুবার্ষিকী।</p>
<p>মৃত্যুর মুখেও যিনি কিংবদন্তি।</p>
<p>একটি ছোট্ট শ্রেণিকক্ষ। সামনে দাঁড়িয়ে একজন সৈনিক। তাঁর হাতে বন্দুক। আর যাঁকে হ*ত্যা করতে এসেছেন, তিনি বন্দি এক বিপ্লবী &#8211; আর্নেস্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-283826"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/283826/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8003c5031c13c140048947d9ceb9ac2a</guid>
				<title>শেষ পর্যন্ত Anne Carson! &#x1f4da;

অনেক নামের ভিড়ে আলোচনায় ছিলেন Anne Carson-ও।
শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার উঠল তাঁর হাতে।

কিন্তু কেন পেলেন তিনি নোবেল?

সুইডিশ একাডেমির মতে, সাহিত্যে তাঁর সাহসী ও সৃজনশীল কাজ প্রাচীন ধ্রুপদি সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে এক ধরনের সৃজনশীল সংলাপ তৈরি করেছে এবং সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন নতুন রূপ তৈরি করেছে।

সহজ করে বললে 
Carson পুরোনো সাহিত্যকে শুধু নতুন করে পড়েননি, পুরোনো আর নতুনকে মিলিয়ে সাহিত্যের নিজস্ব ধরনকেই নতুনভাবে ভেঙেছেন ও গড়েছেন।

কবিতা, গদ্য, অনুবাদ, প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য বিভিন্ন ধারাকে মিলিয়ে তৈরি করেছেন তাঁর নিজস্ব সাহিত্যভুবন। তাঁর বিখ্যাত কাজের মধ্যে রয়েছে Autobiography of Red, Eros the Bittersweet এবং Nox।

 অভিনন্দন  Anne Carson &#x2764;&#xfe0f;

এখন বলুন, Anne Carson-এর কোন লেখা দিয়ে তাঁর সাহিত্যজগতে ঢোকা উচিত?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/283613/</link>
				<pubDate>Thu, 08 Oct 2026 13:38:20 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শেষ পর্যন্ত Anne Carson! &#x1f4da;</p>
<p>অনেক নামের ভিড়ে আলোচনায় ছিলেন Anne Carson-ও।<br />
শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার উঠল তাঁর হাতে।</p>
<p>কিন্তু কেন পেলেন তিনি নোবেল?</p>
<p>সুইডিশ একাডেমির মতে, সাহিত্যে তাঁর সাহসী ও সৃজনশীল কাজ প্রাচীন ধ্রুপদি সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে এক ধরনের সৃজনশীল সংলাপ তৈরি করেছে এবং সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন নতুন রূপ তৈরি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-283613"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/283613/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e1e672f3fdf3360212b56d5c43560db3</guid>
				<title>পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীর এক সরু গলির ভেতরে, শতবর্ষী পুরোনো মেসবাড়ির দুতলার ঘরটায় যখন বিকেল গলে সন্ধ্যা নামছিল, বুড়িগঙ্গার দিক থেকে আসা বাতাসেও যেন এক ক্লান্ত বিষাদ লেগে ছিল।

লেখক নির্ঝর ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে চারপাশের চুনসুড়কি খসে পড়া বিবর্ণ দেওয়ালগুলোর দিকে তাকাল।

এই সেই ঘর। কাঠের নড়বড়ে মেঝে আর কড়িবরগার ছাদওয়ালা এই এক চিলতে ঘরে বসেই এক খেয়ালি মানুষ লিখে গেছেন মানুষের হাসির অজস্র গল্প। অথচ ঘরের চারপাশের দেওয়ালে কোনো বাঁধাই করা পদক নেই; আছে কয়লা আর পেনসিল দিয়ে লিখে রাখা দেনার হিসাব, এলোমেলো কিছু ঠিকানা আর ধুলোর পুরু আস্তরণ।

নির্ঝরের ঝোলা ব্যাগে রাখা ছিল সেই মেসঘর থেকে উদ্ধার হওয়া কিছু অপ্রকাশিত চিঠি আর পুরনো নোটের ছেঁড়া পাতা।

সেখানে বারবার একটি নাম ঘুরেফিরে এসেছে।

চঞ্চলা।

পাঠকদের কাছে চঞ্চলা মানেই ছিল হাসির ফোয়ারা, এক চপল প্রেমিকা। কিন্তু এই ছেঁড়া খসড়াগুলোতে চঞ্চলা নিছক কোনো হাসির চরিত্র নয়।

কোথাও কাঁপা কাঁপা হরফে লেখা &quot;চঞ্চলা আজ চলে গেল। কিন্তু ওর চলে যাওয়াটাই তো দরকার ছিল, নইলে এই ভাঙা তক্তপোশে বসে রাজার মতো হাসতাম কী করে?&quot;

নির্ঝর তক্তপোশের ধুলো ঝেড়ে বসল।

তার মনের ভেতর এক তীব্র দ্বন্দ্ব। সে প্রমাণের পেছনে ছুটছে চঞ্চলা কি সত্যিই রক্ত-মাংসের কোনো রূপসী ছিল, যার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল কোনো ধনাঢ্য পরিবারে? 
যার বিরহেই যৌবনের রাজনৈতিক ঝড় আর জেল খাটার পর এই মেসঘরে নিজের একাকী নির্বাসন বেছে নিয়েছিলেন সেই লেখক?

নাকি ‘চঞ্চলা’ স্রেফ নিজের ক্ষতকে আড়াল করার জন্য তৈরি করা শতাব্দীর সবচেয়ে বড় এক আত্মপ্রবঞ্চনামূলক কৌতুক?

হঠাৎ একটা দমকা বাতাসে জানালার পুরোনো খড়খড়ি নড়ে উঠল। মেঝের ওপর পড়ে থাকা হলদে কাগজের টুকরোগুলো খসখস শব্দে ডানা মেলল।

ঘরের নিস্তব্ধতায় নির্ঝরের মনে হলো, এই শূন্য মেসের এক কোণে কেউ একজন তামাকের ধোঁয়া উড়িয়ে নিঃশব্দে মুচকি হাসছে।

দেয়ালের এক চিলতে পিলপেজের দিকে চোখ যেতেই নির্ঝর থমকে গেল। সেখানে পেনসিল দিয়ে খুব অস্পষ্ট করে লেখা একটি মাত্র পঙক্তি  

&quot;যে তোমাকে ছেড়ে যায়, সে তোমাকে কাঁদায়। কিন্তু যে তোমাকে চিরকাল ছেড়ে থাকে, সে তোমাকে লেখক বানায়।&quot;

পুরান ঢাকার মেসঘরের সেই হলুদ পাতাগুলো যেন সময়ের এক দীর্ঘ সুড়ঙ্গ খুলে দিল। নির্ঝরের চোখ বন্ধ হতেই বর্তমানের কোলাহল মিলিয়ে গিয়ে এক লহমায় ফিরে গেল ১৯৩০-এর দশকের এক নিস্তব্ধ মধ্যরাতে।

ঘরের টেবিলে তখন টিমটিম করে জ্বলছে একটা সস্তার কেরোসিন বাতি।

তরুণ লেখক বসে আছেন কাঠের সেই পুরোনো চেয়ারটায়। পকেটে ফুটো পয়সাও নেই, রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্তাল দিন আর জেল খাটার পর আশ্রয় নিয়েছেন এই মেসের অন্ধকারে। দরজায় হয়তো কাল সকালেই মেস-ম্যানেজারের তাগাদা আসবে, পাওনাদার দাঁড়িয়ে থাকবে।

অথচ তাঁর সামনে রাখা খসড়া কাগজের ওপর কলম চলছে উল্কার বেগে। তিনি লিখছেন এক কাল্পনিক দাম্পত্যের কথা, লিখছেন এমন এক নারীর কথা যে তাঁকে ছেড়ে চলে গেছে।

হঠাৎ টেবিলের ওপাশে এসে বসল এক মায়াবী ছায়া। হালকা জরির পাড় শাড়ি, চোখে তীব্র অভিমান আর অস্ফুট বিষাদ।

চঞ্চলা। 

কোনো রক্ত-মাংসের নারী হয়ে নয়, লেখকের আজীবন একাকীত্বের দীর্ঘশ্বাস থেকেই যেন তার জন্ম।

চঞ্চলা তাঁর দিকে গভীর চোখে তাকাল। তার কণ্ঠে ছিল এক অনন্ত নালিশ -

&quot;তুমি আমাকে সত্যি ভালোবাসলে কখনো এত হাসির খোরাক করতে পারতে না।&quot;

লেখক এক মুহূর্তের জন্য কলম থামালেন। তাঁর মুখে ফুটে উঠল এক চিরচেনা, নিষ্পাপ অথচ অদ্ভুত উদাসীন হাসি। তিনি বললেন 

&quot;কান্নার চেয়ে হাসির আয়ু বেশি চঞ্চলা। তোমাকে যদি কাঁদার জন্য রাখতাম, তবে কবেই ভুলে যেতাম। হাসির ভেতর রেখেছি বলেই তুমি আমার মেসের তক্তপোশে অমর হয়ে আছ।&quot;

চঞ্চলার চোখের কোণ দিয়ে কি এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল, নাকি বাতির আলোয় তা কেবলই চোখের ভুল?

লেখক আবার কলম চালালেন। যে বিচ্ছেদের ক্ষত একজন সাধারণ মানুষকে সারাজীবন গম্ভীর বিষাদে ডুবিয়ে রাখতে পারত, লেখক নিজের সেই রক্তক্ষরণকে অনায়াসে এক চুটকিতে পরিণত করে হাসির ফোয়ারায় উড়িয়ে দিলেন।

তিনি জানতেন, পৃথিবীর মানুষ দুঃখের গল্প শুনতে গিয়ে ক্লান্ত হয়, কিন্তু দুঃখী মানুষের নির্ভার হাসির আড়ালে নিজেদের সান্ত্বনা খোঁজে।

কিন্তু এই কল্পনার ছায়ামূর্তির ওপাশে কি সত্যিই বাস্তব কোনো মানবী ছিল না? নাকি এই হাসির দেওয়ালটি তোলা হয়েছিল কোনো এক সত্যিকারের ক্ষতের ওপর পাথরচাপা দিতে?

চোখ মেলল নির্ঝর।
মেসের ঘরে তখন আঁধার ঘনিয়ে এসেছে। জানালার ফাঁক গলে দূরের বাতির এক চিলতে আলো এসে পড়েছে ধুলোমাখা তক্তপোশের ওপর।

টেবিলের খাতাগুলোর দিকে তাকিয়ে নির্ঝরের বুকের ভেতর হঠাৎ এক পুরোনো চিনচিনে ব্যথা জেগে উঠল।

তার মনে পড়ে গেল বহু বছর আগের এক বিকেলের কথা। এক নারী, যার চলে যাওয়াটা মেনে নিতে না পেরে নির্ঝর দিনের পর দিন নিজেকে এক গম্ভীর, বিষণ্ণ খোলোসের ভেতর বন্দি করে রেখেছিল। সে ভেবেছিল, বিরহ যত ভারী হবে, ভালোবাসার গভীরতা বুঝি ততই প্রমাণিত হবে।

অথচ পুরান ঢাকার এই পুরোনো মেসঘরে দাঁড়িয়ে ছেঁড়া পাতাগুলো তাকে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল।

নির্ঝর বুঝতে পারল, কোনো জমিদারের সাথে চঞ্চলার বিয়ে হয়েছিল কি না, সেই ঐতিহাসিক নথির খোঁজে যাওয়াটাই তার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল।

&#039;চঞ্চলা&#039; আসলে কোনো একক রক্ত-মাংসের মানবী নয়। চঞ্চলা হলো মানুষের না-পাওয়া প্রেমের সেই অধরা রূপ - যা চিরকাল হাত ফসকে চলে যায়।

অধিকাংশ মানুষ সেই না-পাওয়াকে বুকে পাথর করে নিয়ে সারাজীবন কাঁদে। আর এই মেসঘরের বাসিন্দা - সেই চিরকুমার একাকী মানুষটি - সেই পাথরটিকে নিয়ে এক চপল হাসির বেলুন বানিয়ে অনন্ত আকাশে উড়িয়ে দিয়েছেন!

বেদনাকে আঁকড়ে ধরে গাম্ভীর্যের ট্র্যাজেডি বানানোর চেয়ে, তাকে নির্ভার কৌতুকের শব্দে ভাসিয়ে দিয়ে হাসিমুখে বেঁচে থাকাটাই জীবনের সবচেয়ে বড় মুক্তি।

নির্ঝর তার নোটবুক ব্যাগে পুরে নিল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক অচেনা, হালকা হাসি।

মেসঘরের ভেতর যে গবেষক তথ্য খুঁজতে ঢুকেছিল, সে যেন বেরিয়ে আসছে এক মুক্ত মানুষ হয়ে।

মেসঘরের ভারী কাঠের দরজাটা পেছনে ফেলে নির্ঝর যখন পাটুয়াটুলীর রাস্তায় নেমে এল, তখন পুরান ঢাকার বুকে রাত নেমেছে।

গলির মুখে চেনা চায়ের দোকান, রিকশার টুংটাং ঘণ্টার আওয়াজ আর মানুষের চিরচেনা কোলাহল। কিন্তু এই চেনা শহরের ভিড়ে নির্ঝরের চোখে সবকিছু এক লহমায় বদলে গেছে।

সে বুঝতে পেরেছিল, মানুষ কেন এই মেসের বাসিন্দাকে স্রেফ এক ‘হাস্যরসের জাদুকর’ ভেবেই নিশ্চিন্ত থাকতে চেয়েছে। কারণ মানুষ ভয় পায়। মানুষ হাসির পেছনে লুকিয়ে থাকা গভীর আত্মত্যাগের মুখোমুখি হতে ভয় পায়।

যদি তারা জেনে যায়, তাদের হাসির রসদ জোগাতে গিয়ে একজন মানুষ নিজের চরম একাকীত্ব আর বুকভাঙা বিরহকে প্রতিদিন তুচ্ছ করে গেছেন - তবে হয়তো তাদের হাসির আনন্দটুকু অপরাধবোধে আটকে যাবে।

লেখক কাউকে অপরাধী করতে চাননি। তিনি চেয়েছেন মানুষ হাসুক।

তিনি শিখিয়ে দিয়ে গেছেন, নিজের না-পাওয়াকে মহিমান্বিত ট্র্যাজেডি বানিয়ে সহানুভূতি কুড়ানোর চেয়ে, জীবনের সমস্ত অভাব নিয়ে নির্ভার হয়ে হেসে ওঠাটা অনেক বেশি সম্মানের।

চঞ্চলা হারিয়ে যায়নি। 

চঞ্চলা বেঁচে আছে সাহিত্যের প্রতিটি চপল বাক্যে, শব্দের মোচড়ে আর এই পুরোনো মেসের ধুলোমাখা স্মৃতিতে -  এক অবিনশ্বর রূপকথা হয়ে।

যিনি বৈভবের হাতছানি ছেড়ে সারাজীবন এক চিলতে মেসঘরে কাটিয়ে দিলেন, যার তক্তপোশের নিচে জমানো ছিল কেবল না-বলা পাণ্ডুলিপি আর হাসির আড়ালে মোড়া চরম স্বাধীনতা -তিনি কোনো কাঙাল ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাহিত্যের এক নিঃস্ব সম্রাট।

ব্যক্তিগত একাকীত্ব আর জীবনের সমস্ত অপূর্ণতাকে হাসির চাবুক মেরে উড়িয়ে দিয়ে বাংলা সাহিত্যকে যিনি নির্ভার আনন্দের সন্ধান দিয়েছেন - 
তিনি সেই চিরকুমার দার্শনিক ও কালজয়ী কথাসাহিত্যিক শিবরাম চক্রবর্তী Shibram Chakrabort।
আর তাঁর সেই না-পাওয়ার হাসিমুখের আড়ালে অমর হয়ে থাকা চিরন্তন সৃষ্টি &quot;চঞ্চলা&quot; ।

এই লেখা মহান রসরাজ ও নিঃসঙ্গ দার্শনিককে উৎসর্গ! 

গল্প : চঞ্চলা 
—আবু তাহের রিপন 
পঁচিশ সেপ্টেম্বর ছাব্বিশ। 

গল্পের ভেতরের গল্প।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/278565/</link>
				<pubDate>Fri, 25 Sep 2026 16:44:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীর এক সরু গলির ভেতরে, শতবর্ষী পুরোনো মেসবাড়ির দুতলার ঘরটায় যখন বিকেল গলে সন্ধ্যা নামছিল, বুড়িগঙ্গার দিক থেকে আসা বাতাসেও যেন এক ক্লান্ত বিষাদ লেগে ছিল।</p>
<p>লেখক নির্ঝর ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে চারপাশের চুনসুড়কি খসে পড়া বিবর্ণ দেওয়ালগুলোর দিকে তাকাল।</p>
<p>এই সেই ঘর। কাঠের নড়বড়ে মেঝে আর কড়িবরগার ছাদওয়ালা এই এক চিলতে ঘরে বসেই এক খেয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-278565"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/278565/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d9d0f8e4cf5249b60fb886cc0459611a</guid>
				<title>পাড়ার লোকে আমাকে নিয়ে যা বলে, সবটাই সত্যি। আবার একটা কথাও সত্যি না।

এই দুটো কথা একসাথে কীভাবে সত্যি হতে পারে, সেটা বোঝাতেই আজ কলম ধরলাম।

রাত নয়টায় আমি একা বের হই ঘর থেকে, এটা সত্যি। কালো বোরকা বা ওড়না গায়ে জড়িয়ে অন্ধকার গলি দিয়ে হাঁটি, এটাও সত্যি। মাঝেমধ্যে ভোররাতে ফিরি, সেটাও কেউ মিথ্যা বলেনি।

পাড়ার মুরুব্বিরা আমার নাম শুনলে মুখ ফিরিয়ে নেন। মহিলারা নিজেদের মেয়েদের সাবধান করেন, &quot;ওই মেয়ের মতো হইস না যেন।&quot;

আমার নাম তাদের মুখে মুখে একটাই  &quot;চরিত্রহীন।&quot;

আমার স্বামী মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে, একটা রোড অ্যাক্সিডেন্টে। তখন আমার বয়স তেইশ, কোলে একটা দুধের বাচ্চা। শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হলো ছয় মাসের মধ্যেই - সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ঝামেলা।

তখন আমি একটা কাজ পেলাম  শহরের একটা হাসপাতালে নাইট শিফটের নার্স হিসেবে। প্রথম যেদিন রাতের বেলা কালো ওড়না জড়িয়ে গলি দিয়ে হাঁটছিলাম, পাশের বাড়ির রহিমা খালা জানালা দিয়ে দেখে ফেললেন। পরদিন সকালেই পুরো পাড়া জেনে গেল, &quot;ওই মেয়ে রাতে বাইরে যায়, নিশ্চয়ই কোনো নষ্টামি করে।&quot;

কে শুনবে, আমি হাসপাতালে ডিউটি করি? একজন বিধবা মেয়ে রাতে একা বের হয় - এই একটা বাক্যই যথেষ্ট ছিল একটা জীবনভর তকমা লাগিয়ে দেওয়ার জন্য।

আজ পাঁচ বছর পর, এই লেখাটা লিখছি একটা কারণে। কাল রাতে এমন কিছু ঘটেছে, যেটা আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছে - এই পাড়ায় &quot;চরিত্র&quot; শব্দটার আসল মানে কী।

কাল রাতে ডিউটি চলাকালীন একটা ইমার্জেন্সি কেস এলো - বুকে ছু*রিকা*ঘাত, প্রচুর র*ক্ত*ক্ষরণ। আলোর নিচে আসতেই আমি চমকে উঠলাম। লোকটা আমাদের পাড়ার সবচেয়ে &quot;সম্মানিত&quot; মানুষ - মসজিদ কমিটির সভাপতি, হাজী সাহেব।

আর রক্তাক্ত রোগীটা ছিল তার নিজের গাড়িচালকের কিশোরী মেয়ে।

মেয়েটার নাম রূপা, বয়স ষোলো। হাজী সাহেবের ব্যক্তিগত গাড়িচালক মতিনের একমাত্র মেয়ে।

&quot;মেয়েটা কীভাবে আহত হলো?&quot; আমি জিজ্ঞেস করলাম।

&quot;সিঁড়ি থেকে পড়ে গেছে, নার্স।&quot; তার গলার স্বরে একটা অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো ছিল। সিঁড়ি থেকে পড়ে বুকে এমন গভীর, ধারালো ক্ষত হয় না।

মধ্যরাতে অপারেশন শেষ হলে রূপা স্থিতিশীল হলো। ভোররাতে জ্ঞান ফিরতেই সে ফিসফিস করে বলল, &quot;তিনি... তিনি আমাকে...&quot; তারপর আবার অচেতন হয়ে গেল।

সকালে হাজী সাহেব আবার এলেন, আমাকে করিডোরে ডেকে বললেন, &quot;নার্স, মেয়েটা সিঁড়ি থেকে পড়ে গেছে, এটাই যেন লেখা থাকে রিপোর্টে।&quot; একটা খাম বের করলেন। &quot;এটা তোমার কষ্টের জন্য।&quot;

আমি খামটা নিইনি। &quot;আমি রিপোর্টে যা সত্যি, তাই লিখব, হাজী সাহেব।&quot;

তার চোখে হিংস্র ঝিলিক। &quot;তুমি তো সেই মেয়ে, যাকে নিয়ে পাড়ায় সবাই কানাঘুষা করে। তোমার কথা আদালতে কে বিশ্বাস করবে, নার্স?&quot;

কথাটা সত্যি ছিল, বাস্তবতার হিসেবে। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, সেই রাতেই - এবার চুপ থাকব না।

সকালে আমি গেলাম মতিন সাহেবের কাছে। &quot;আপনার মেয়ের সাথে যা হয়েছে, সেটা সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়া না।&quot;

মতিন সাহেবের চোখ ছলছল করে উঠল। &quot;আপা, আমি বিশ বছর ধরে এই বাড়িতে কাজ করি। যদি হাজী সাহেবের বিরুদ্ধে কিছু বলি, আমার চাকরি যাবে, আমার তিনটা বাচ্চা না খেয়ে মরবে।&quot;

&quot;আমিও গরিব, মতিন ভাই। আমিও বিধবা, আমার নামেও বদনাম। কিন্তু আজ যদি আমরা চুপ থাকি, আগামীকাল আরও মেয়েরা এই বাড়িতে একা থাকবে।&quot;

মতিন সাহেব ধীরে ধীরে বললেন, &quot;রূপা আমাকে বলেছিল, কয়েক সপ্তাহ ধরে হাজী সাহেব তাকে ডাকতেন বাড়ির ভেতরের ঘরে। কাল রাতে যখন সে বাধা দিয়েছিল, তখনই...&quot;

&quot;আপনি এই কথা আদালতে বলবেন?&quot;

&quot;যদি আপনি পাশে থাকেন, আপা।&quot;

সেদিন বিকেলে আমি হাসপাতালের রিপোর্টে সত্যি ঘটনা লিখলাম। রূপাও রাজি হলো পুলিশের কাছে বলতে, &quot;আমি চাই না আর কোনো মেয়ের সাথে এমন হোক।&quot;

খবরটা পাড়ায় ছড়াতে সময় লাগল না - এবার আমার নামে বদনাম না, ছড়াল হাজী সাহেবের আসল রূপের কথা। ধীরে ধীরে আরও দুটো মেয়ের পরিবার সাহস করে এগিয়ে এলো।

মামলা দায়ের হলো এক সপ্তাহের মধ্যে। হাজী সাহেব প্রভাবশালী উকিল ভাড়া করলেন, &quot;এসব ষড়যন্ত্র&quot; বলে প্রচার চালালেন।

পাড়ার অনেকে প্রথমে তার পক্ষে দাঁড়াল। &quot;তুই একটা চরিত্রহীন মেয়ে, তোর কথায় কেউ বিশ্বাস করবে কেন?&quot;

আদালতে প্রথম শুনানিতে আমি সাক্ষী হিসেবে দাঁড়ালাম। &quot;আমি জানি পাড়ায় আমাকে নিয়ে কী বলা হয়। আমি রাতে একা কাজে বের হই, কারণ আমার স্বামী নেই, সন্তান আছে। এই সত্যিটা যদি আমাকে &#039;চরিত্রহীন&#039; বানায়, আমি সেই তকমা মাথা পেতে নেব। কিন্তু যা সত্যি, সেটা বলা থেকে আমাকে কেউ থামাতে পারবে না।&quot;

মামলা আট মাস চলল। আমার বাড়িতে দুইবার ইট ছোঁড়া হলো, একবার আমার বাচ্চাকে ভয় দেখানো হলো। কিন্তু মতিন সাহেব আর রূপা প্রতিটা শুনানিতে পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন।

অবশেষে তিন-তিনটা মেয়ের সাক্ষ্যের সামনে হাজী সাহেবের সব প্রভাব টিকল না। আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করল।

রায়ের দিন রহিমা খালা আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন, চোখে লজ্জা। &quot;আমরা ভুল বুঝেছিলাম তোমাকে, মা। ক্ষমা করে দিও।&quot;

আমি হাসলাম। &quot;একটা মানুষের ভেতরটা না জেনে, শুধু বাইরের কয়েকটা ঘটনা দিয়ে তাকে &#039;চরিত্রহীন&#039; বা &#039;সম্মানিত&#039; বলে দাগিয়ে দেওয়াটাই তো সবচেয়ে বড় ভুল, তাই না?&quot;

আমার নাম আজও কারো কারো মুখে &quot;চরিত্রহীন নার্স।&quot; কিন্তু আমি আর সেই তকমায় লজ্জা পাই না। কারণ আমি জানি, যে রাতে একটা মেয়ের সত্যি কথা বলার মতো কেউ ছিল না, সেই রাতে আমিই ছিলাম তার পাশে।

সমাজ যাকে দাগিয়ে দেয়, সে সবসময় দোষী না। আর সমাজ যাকে সম্মান দেয়, সে সবসময় নির্দোষ না। আসল চরিত্র বোঝা যায় সংকটের মুহূর্তে, কে পালায় আর কে দাঁড়িয়ে থাকে, সেটা দেখে অন্য কিছুতে না।

━━━━━━━━━━
আজ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন। গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করছি সেই মানুষটিকে, যিনি বাংলার ঘরে ঘরে একটা করে চরিত্র রেখে গেছেন, যাদের সাথে আমরা বড় হই, কাঁদি, ভালোবাসতে শিখি।

নবম কি দশম শ্রেণিতে পড়ি তখন। বাবার আলমারিতে চার খণ্ডের একটা পুরনো সংকলন ছিল, মলাট কিছুটা জীর্ণ, পাতাগুলো হলুদ হয়ে আসা। সেখান থেকেই প্রথম হাতে তুলে নিয়েছিলাম শরৎ বাবুর শ্রীকান্ত।

পরের শুরুটা হয়েছিল বিরাজবৌ আর দেবদাস দিয়ে - জীবনের সেই বয়সে, যখন প্রেম শব্দটা শুনলেই বুক কাঁপত, ভালোবাসাকে মনে হতো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সত্যি। তারপর একে একে এসেছে দত্তা, গৃহদাহ, শেষ প্রশ্ন, বিন্দুর ছেলে, সতী, রামের সুমতি  - প্রতিটা বই যেন জীবনের একেকটা ধাপে নতুন করে চেনাল মানুষকে, সম্পর্ককে, আর নিজেকেও।

শরৎ বাবুর চরিত্ররা কোনো এক সময়ের বন্দি না - তারা প্রতিটা প্রজন্মের পাঠকের ভেতরেই নতুন করে বেঁচে ওঠে, কারণ তিনি লিখেছিলেন মানুষের হৃদয়ের ভাষায়, যা কখনো পুরনো হয় না।

━━━━━━━━━━

&#x2712;&#xfe0f; এই গল্পের বীজ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস *চরিত্রহীন* থেকে নেওয়া যেখানে মূল প্রশ্ন ছিল, সমাজ যাকে &quot;চরিত্রহীন&quot; বলে দাগিয়ে দেয়, সেই দাগটা কি তার সত্যি পরিচয়, নাকি সমাজের নিজের সংকীর্ণ মাপকাঠির প্রতিফলন মাত্র।

আবু তাহের রিপন
পনের সেপ্টেম্বর ছাব্বিশ। 
গল্পের ভেতরের গল্প।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/274467/</link>
				<pubDate>Tue, 15 Sep 2026 17:38:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পাড়ার লোকে আমাকে নিয়ে যা বলে, সবটাই সত্যি। আবার একটা কথাও সত্যি না।</p>
<p>এই দুটো কথা একসাথে কীভাবে সত্যি হতে পারে, সেটা বোঝাতেই আজ কলম ধরলাম।</p>
<p>রাত নয়টায় আমি একা বের হই ঘর থেকে, এটা সত্যি। কালো বোরকা বা ওড়না গায়ে জড়িয়ে অন্ধকার গলি দিয়ে হাঁটি, এটাও সত্যি। মাঝেমধ্যে ভোররাতে ফিরি, সেটাও কেউ মিথ্যা বলেনি।</p>
<p>পাড়ার মুরুব্বিরা আমার নাম শুন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-274467"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/274467/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">49cce8d25c39603e12287c06c835ffc3</guid>
				<title>অমিয় সেনের মৃত্যুর পর তার লেখার টেবিলে পাওয়া গেল পঞ্চাশ বছরের একটা রহস্য - একটা মোটা ফাইল, যাতে সাজানো ছিল দুইশোরও বেশি কবিতা, প্রতিটার শিরোনামে একটাই নাম।

নীরা।

&quot;নীরার জন্য কবিতা&quot;, &quot;নীরা, আজ বৃষ্টি হচ্ছে&quot;, &quot;নীরাকে লেখা শেষ চিঠি&quot; নাম বদলায়, কিন্তু নীরা থেকে যায় প্রতিটা পঙক্তিতে, প্রতিটা দশকে।

অথচ পঞ্চাশ বছরের সাহিত্যজীবনে অমিয় সেন কখনো স্বীকার করেননি, নীরা আসলে কে। সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করলে তিনি হাসতেন, বলতেন, &quot;নীরা তো সবার মধ্যেই আছে। আপনার মধ্যেও।&quot;

পাঠকরা তাতেই সন্তুষ্ট থেকেছে বহু বছর - একটা রহস্যময়ী মিউজ, যাকে ঘিরে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী প্রেমের কবিতা লেখা হয়েছে।

কিন্তু তরুণ সাংবাদিক প্রিয়া বসাক এই সন্তুষ্টিতে বিশ্বাসী ছিল না।

কবির মৃত্যুর তিন মাস পর, একটা স্মারক সংখ্যা তৈরির দায়িত্ব পেয়ে সে প্রথমবার হাত দেয় অমিয় সেনের ব্যক্তিগত আর্কাইভে - পরিবারের অনুমতি নিয়ে, একটা পুরনো, ধুলোমাখা স্টাডিরুমে।

সেখানেই সে খুঁজে পায় ফাইলটা।

প্রথম কবিতাটার তারিখ ১৯৭৪ সাল। শেষ কবিতাটা লেখা হয়েছে মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে, ২০২৪ সালে - হাতের লেখা কাঁপা, কালি অসম, কিন্তু নামটা সেই একই।

&quot;নীরা, আজও তুমি এলে না। কিন্তু আমি জানি, তুমি এসেছিলে।&quot;

প্রিয়া থমকে যায় লাইনটায়। &quot;তুমি এসেছিলে&quot; মানে অমিয় সেন কি সত্যিই কারো অপেক্ষায় ছিলেন? নাকি এটাও কল্পনারই আরেকটা স্তর?

সে ফাইলের নিচে খুঁজে পায় আরেকটা জিনিস - একটা পুরনো, হলুদ হয়ে যাওয়া খাম। ভেতরে একটা সাদাকালো ছবি, এক তরুণীর, ১৯৭০-এর দশকের পোশাকে। ছবির পেছনে হাতে লেখা শুধু একটা অক্ষর

&quot;ন।&quot;

প্রিয়ার বুকের ভেতর একটা উত্তেজনা জাগে, যেটা সে সাংবাদিকতার এত বছরে কমই অনুভব করেছে।

সে ছবিটা নিয়ে অমিয় সেনের স্ত্রী মালবিকা দেবীর কাছে যায়। বয়স্ক মহিলা ছবিটা দেখে অনেকক্ষণ চুপ করে থাকেন।

&quot;এই মেয়েটাকে চিনি,&quot; শেষে বলেন তিনি, গলায় একটা অদ্ভুত ভার। &quot;কিন্তু ওর নাম নীরা ছিল না।&quot;

প্রিয়ার হাত কাঁপতে শুরু করে।
&quot;তাহলে কে ছিলেন উনি?&quot;

মালবিকা দেবী জানালার বাইরে তাকান, অনেকক্ষণ। তারপর বলেন - 

&quot;সেই গল্পটা বলার আগে, তোমাকে জানতে হবে, আমার স্বামী কেন কখনো নীরার আসল পরিচয় স্বীকার করেননি। আর সেটা প্রেমের গল্প না, প্রিয়া। সেটা অন্য কিছু।&quot;

মালবিকা দেবীর ড্রয়িংরুমে তখন বিকেলের আলো মরে আসছিল। দেয়ালঘড়ির টিকটিক শব্দ ছাড়া ঘরে আর কোনো শব্দ ছিল না।

প্রিয়া নিঃশ্বাস চেপে বসে রইল। তার সামনে রাখা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া চায়ের কাপ আর সেই সাদাকালো ছবি - যেখানে মেয়েটি বিষণ্ণ কিন্তু তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে।

মালবিকা দেবী দেয়ালে টাঙানো অমিয় সেনের ছবিতে চোখ রাখলেন। চশমার আড়ালে সেই চেনা শান্ত চোখ দুটো যেন আজও কোনো গভীর অন্ধকার ঢেকে রেখেছে।

&quot;ওর নাম ছিল নীলাঞ্জনা,&quot; ধীর গলায় বললেন মালবিকা দেবী। &quot;আমরা সবাই ওকে নীলু বলে ডাকতাম। সত্তরের উত্তাল দশকের কলকাতা... চারদিকে তখন নকশাল আন্দোলনের আগুন। মিছিল, স্লোগান, বারুদের গন্ধ আর রাতের অন্ধকারে কোনো এক তরুণের লাশ পড়ে থাকাটা তখন রোজকার ঘটনা।&quot;

প্রিয়ার চোখ বড় হয়ে গেল। সে তো নিখাদ প্রেমের কবিতা খুঁজতে এসেছিল, কিন্তু এর ভেতরে তো মিশে আছে এক রক্তাক্ত ইতিহাসের ক্ষতবিক্ষত ছায়া!

&quot;নীলু ছিল অমিয়ের খুব কাছের বন্ধু,&quot; মালবিকা দেবী বলতে লাগলেন। &quot;না, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেমের সম্পর্ক তাদের ছিল না। তবে অমিয় ওকে অন্য এক নজরে দেখত। নীলু রাজনীতি করত, একরোখা বিপ্লবী ছিল। আর অমিয় ছিল শান্ত, কবিতার পাতায় ডুবে থাকা এক সংবেদনশীল কিন্তু চরম ভীরু তরুণ।&quot;

মালবিকা দেবী থামলেন। তাঁর চোখ ভিজে এল জলে।

&quot;১৯৭৪ সালের এক তুমুল বর্ষার রাত। অমিয় তখন প্রেসিডেন্সির পেছনের একটা মেসে থাকত। মাঝরাতে দরজায় হঠাৎ হালকা অথচ ব্যাকুল করা কড়া নাড়ার শব্দ। দরজা খুলে অমিয় দেখল - বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নীলু। ওর পায়ে গু*লি*র ক্ষত, র*ক্ত চুইয়ে পড়ছে মেঝের ওপর। পুলিশ ওর পিছু নিয়েছিল। ও শুধু অমিয়কে বলেছিল - &#039;আমাকে এই একটা রাত তোমার ঘরে একটু লুকিয়ে রাখো। ভোর হলেই আমি চলে যাব।&#039; &quot;

প্রিয়ার বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল। &quot;অমিয়বাবু কি আশ্রয় দিয়েছিলেন?&quot;

মালবিকা দেবী এক তীব্র দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

&quot;না। অমিয় তখন সবে লেখালেখি শুরু করেছে, জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। মেসের ঘরে এক পলাতক বিপ্লবীকে আশ্রয় দিলে নিজের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাবে, পুলিশ তাকেও ধরে নিয়ে যাবে - এই আতঙ্কে অমিয় দরজাটা বন্ধ করে দিয়েছিল। সে শুধু বলেছিল, &#039;তুমি চলে যাও নীলু, এখানে থাকলে আমি শেষ হয়ে যাব।&#039; &quot;

ড্রয়িংরুমের বাতাস যেন এক লহমায় বরফ হয়ে গেল।

&quot;তারপর?&quot; প্রিয়ার গলা শুকিয়ে এল।

&quot;তারপর সেই রাতেই মেসের সামনের অন্ধকার গলিতে নীলু পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। পরদিন সকালে হেস্টিংসের খালের পাড়ে পাওয়া যায় ওর নিথর দেহ।&quot;

মালবিকা দেবী প্রিয়ার দিকে তাকালেন। সেই চোখে বহু দশকের এক জমানো সত্যের ভার।

&quot;যে রাতে নীলু মারা গেল, ঠিক তার পরদিন সকাল থেকে অমিয় লিখতে শুরু করল তার জীবনের প্রথম কবিতা - &#039;নীরার জন্য&#039;। 

নীলাঞ্জনা হয়ে গেল &#039;নীরা&#039;। 

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লেখা এই দুইশো কবিতা কোনো নিছক রোমান্টিক বন্দনা ছিল না, প্রিয়া। ওটা ছিল এক ভীরু মানুষের নিজের বিবেকের কাছে প্রতিদিন ক্ষমা চাওয়ার এক নীরব প্রায়শ্চিত্ত!&quot;

প্রিয়া স্তব্ধ হয়ে ছবির দিকে তাকাল। ছবির পেছনের &#039;ন&#039; অক্ষরটা যেন এক অব্যক্ত হাহাকার।

তবে কি পঞ্চাশ বছর ধরে যে নামকে পুরো বাংলা সাহিত্য চিরন্তন প্রেমের প্রতীক বানিয়ে রেখেছিল, তা আসলে ছিল এক মানুষের আজীবন বয়ে বেড়ানো আত্মদহন?

কিন্তু প্রিয়ার ভেতরের অনুসন্ধিৎসু মন হঠাৎ আরেকটা খটকা অনুভব করল।

যদি এটাই পুরো সত্য হয়, তবে মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগের শেষ কবিতায় অমিয় সেন কেন লিখেছিলেন - &quot;নীরা, আজও তুমি এলে না। কিন্তু আমি জানি, তুমি এসেছিলে।&quot;

নীলাঞ্জনা যদি ১৯৭৪ সালেই শেষ হয়ে গিয়ে থাকে, তবে অমিয় সেন শেষ জীবনে কার ছায়া দেখতে পেয়েছিলেন?

মালবিকা দেবী কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তাঁর দৃষ্টি তখন মেঝের ওপর স্থির।

&quot;তুমি কি সত্যি জানতে চাও শেষ দিনগুলোতে অমিয় কেন ওভাবে লিখেছিল?&quot; মালবিকা দেবীর কণ্ঠস্বর যেন আরও মন্থর, আরও ভারী হয়ে এল।

প্রিয়া কিছু না বলে শুধু নিঃশব্দে মাথা নাড়ল। তার হাত তখনো সেই পুরনো ডায়েরির শেষ পাতাটায় চেপে ধরা।

&quot;পঞ্চাশ বছর ধরে অমিয় একটা মুখোশ পরে বেঁচে ছিল,&quot; বললেন মালবিকা দেবী। &quot;বাইরের জগত জানত সে এক সফল কবি, রূপক আর প্রেমের জাদুকর। কিন্তু আমি দেখেছি এক অন্য মানুষকে - যে মানুষটা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত, বৃষ্টির শব্দ শুনলেই যার শরীর ভয়ে কাঁপত।&quot;

মালবিকা দেবীর চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল।

&quot;বয়সের সাথে সাথে ডিমেনশিয়া যখন তাকে গ্রাস করতে শুরু করল, তখন বর্তমানের সব চেনা মুখ তার কাছে ধূসর হয়ে গেল। ছেলে, মেয়ে, এমনকি আমি - আমরা সবাই তার স্মৃতি থেকে মুছে যেতে থাকলাম। শুধু মুছে যায়নি ১৯৭৪ সালের সেই বর্ষার রাত আর দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ।&quot;

প্রিয়ার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেল। সে কল্পনায় দেখতে পেল এক জরাজীর্ণ, স্মৃতিভ্রষ্ট বৃদ্ধকে।

&quot;জীবনের শেষ ছয়টা মাস অমিয় প্রায় সারাক্ষণ তার স্টাডিরুমের জানালায় চোখ রেখে বসে থাকত। প্রায়ই সে বিড়বিড় করত - &#039;নীলু এসেছে... দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে... আমি এবার আর দরজা বন্ধ করব না।&#039; &quot;

মালবিকা দেবী থামলেন, যেন বুকের ভেতরের বহু বছরের জমে থাকা এক পাথর ঠেলে সরিয়ে কথা বলছেন।

&quot;মৃত্যুর ঠিক দুই সপ্তাহ আগে, এক ঝোড়ো বিকেলে সে হঠাৎ টেবিল ছেড়ে উঠে গিয়ে মেইন দরজাটা হাট করে খুলে দিল। বাইরে তখন প্রচণ্ড বৃষ্টি, রাস্তায় কেউ ছিল না। কিন্তু অমিয় সেই শূন্য অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত মায়াবী হাসি হাসল। যেন কেউ একজন নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে তার চেয়ারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।&quot;

প্রিয়া কাঁপতে থাকা গলায় বলল, &quot;তারপর?&quot;

&quot;তারপর সে কাঁপা কাঁপা হাতে সেই শেষ লাইনটা লিখল - নীরা, আজও তুমি এলে না। কিন্তু আমি জানি, তুমি এসেছিলে। 
এবং 
সেই খাতাটা বন্ধ করে সে আর কখনো কলম ধরেনি।&quot;

প্রিয়া বুঝতে পারল, নীরা কোনো জলজ্যান্ত নারীর শরীর ছিল না। নীরা ছিল অমিয় সেনের এক আজীবন প্রায়শ্চিত্ত, যা শেষ মুহূর্তে এসে ক্ষমার এক রূপ ধরে তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল।

কিন্তু কবিতা কি তবে কেবলই এক ব্যক্তিগত অনুশোচনা? সাহিত্য কি শুধু এক ভীরু মানুষের নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা কাপুরুষতার দলিল?

নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির এক চিরন্তন ট্র্যাজেডি?

স্টাডিরুমের টেবিলটায় তখনো সেই ফাইলটি খোলা।

প্রিয়া ফাইলে হাত রাখল। পাতাগুলোর ওপর দিয়ে আঙুল বোলাতেই তার শিরদাঁড়া দিয়ে এক ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল।

পঞ্চাশ বছর ধরে পুরো বাংলা সাহিত্য যে পঙক্তিগুলোকে নিখাদ প্রেমের রূপকথা ভেবে পাঠ করেছে, তা আসলে ছিল এক প্রেমিকের রক্তক্ষয়ী প্রায়শ্চিত্তের দলিল!

যে মানুষটা এক ঝড়ের রাতে নিজের সুরক্ষার জন্য দরজার খিল তুলে দিয়েছিল, সে-ই মানুষটা বাকি জীবন সেই বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কলম দিয়ে নিজের আত্মাকে চিরে ফেলেছিল।

তার আর কোনো সাংবাদিক সুলভ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দরকার ছিল না। সে ফাইলটা ব্যাগে ভরল না, টেবিলেই রেখে দিল।

কিছু সত্য জনসমক্ষে এনে ভেঙে ফেলার জন্য নয়; কিছু সত্যকে তাদের কাল্পনিক মহিমায় বেঁচে থাকতে দিতে হয়।

কারণ বাস্তবের নীলু হয়তো এক অন্ধকার খালের পাড়ে মারা গিয়েছিল, কিন্তু কবিতার ‘নীরা’ আজও কোটি তরুণের ভালোবাসার প্রথম ও শেষ দীর্ঘশ্বাস হয়ে বেঁচে আছে।

বাইরে তখন বিকেলের আলো নিভে এসেছে। কলকাতার আকাশ জুড়ে নামছে এক মায়াবী গোধূলি।

ব্যক্তিগত ভীরুতা, এক রাতের অপরাধবোধ আর এক চিরন্তন কাল্পনিক মিউজকে আশ্রয় করে যিনি সৃষ্টি করেছেন বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত ও রহস্যময় প্রেমের পঙক্তিমালা —

তিনি আমাদের চিরচেনা সাহিত্যিক ও কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (Sunil Gangopadhyay)।
আর তার সেই অমর সৃষ্টি—&quot;নীরা&quot;।

আজ ৭ সেপ্টেম্বর, বাংলা সাহিত্যের এই অবিসংবাদিত বরপুত্র ও প্রেমের অমর রূপকার সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন।

​নীরা হয়তো ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে, কিন্তু তাঁর পঙক্তিতে আজও স্পন্দিত হয় কোটি হৃদয়ের অতৃপ্ত ভালোবাসা।

শুভ জন্মদিন, সুনীলদা!
সাহিত্যের আকাশে আপনি থাকবেন চিরভাস্বর। সশ্রদ্ধ ভালোবাসা ও প্রণাম। &#x1f940;&#x1f4d6;

সেদিন ছিলো সুনীলদার জন্মদিন তাঁর নীরা চরিত্র কে কল্পনা করে এই লেখা। 
.
—আবু তাহের রিপন 
সাত সেপ্টেম্বর ছাব্বিশ। 
.

​#সুনীল_গঙ্গোপাধ্যায়  #নীরা  #বাংলাসাহিত্য  #কবিতা #শুভজন্মদিন #প্রেমেরকবিতা #সুনীলগঙ্গোপাধ্যায়  #বাংলাগল্প  #SunilGangopadhyay  #Neera  #BanglaLiterature  #BanglaPoetry  #Storytelling #আবুতাহের_রিপন #গল্পেরভেতরেরগল্প</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/272932/</link>
				<pubDate>Fri, 11 Sep 2026 16:20:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অমিয় সেনের মৃত্যুর পর তার লেখার টেবিলে পাওয়া গেল পঞ্চাশ বছরের একটা রহস্য &#8211; একটা মোটা ফাইল, যাতে সাজানো ছিল দুইশোরও বেশি কবিতা, প্রতিটার শিরোনামে একটাই নাম।</p>
<p>নীরা।</p>
<p>&#8220;নীরার জন্য কবিতা&#8221;, &#8220;নীরা, আজ বৃষ্টি হচ্ছে&#8221;, &#8220;নীরাকে লেখা শেষ চিঠি&#8221; নাম বদলায়, কিন্তু নীরা থেকে যায় প্রতিটা পঙক্তিতে, প্রতিটা দশকে।</p>
<p>অথচ পঞ্চাশ বছরের সাহিত্যজীব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-272932"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/272932/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c1479f538d2fb22b31e2ec166af7d1f8</guid>
				<title>লেখালেখির এই মঞ্চে আজ প্রথমদিন। সবার জন্য ভালবাসা। 
লেখালেখি চলুক &#x2764;&#xfe0f;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/271776/</link>
				<pubDate>Tue, 08 Sep 2026 18:40:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>লেখালেখির এই মঞ্চে আজ প্রথমদিন। সবার জন্য ভালবাসা।<br />
লেখালেখি চলুক &#x2764;&#xfe0f;</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">78ee096f51cb41e1ea47f58e77d1563c</guid>
				<title>আবু তাহের রিপন changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/271773/</link>
				<pubDate>Tue, 08 Sep 2026 18:35:36 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>