-
‘একটি স্কুলঘরে শেষ হয়েছিল তাঁর জীবন, কিন্তু শেষ হয়নি তাঁকে ঘিরে থাকা বিপ্লবের গল্প।’
আজ চে গুয়েভারার ৫৯তম মৃত্যুবার্ষিকী।
মৃত্যুর মুখেও যিনি কিংবদন্তি।
একটি ছোট্ট শ্রেণিকক্ষ। সামনে দাঁড়িয়ে একজন সৈনিক। তাঁর হাতে বন্দুক। আর যাঁকে হ*ত্যা করতে এসেছেন, তিনি বন্দি এক বিপ্লবী – আর্নেস্তো চে গুয়েভারা।
১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর। বলিভিয়ার লা হিগুয়েরা গ্রামের একটি স্কুলঘরে শেষ হতে চলেছে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম আলোচিত বিপ্লবীর জীবন।
চেকে হ*ত্যা করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন বলিভিয়ার সেনাসদস্য মারিও তেরান। পরবর্তী সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ঘরে প্রবেশ করার পর চে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনি আমাকে মারতে এসেছেন?’
তেরান কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তাঁর বর্ণনায়, চে তখন উঠে বসেছিলেন। তাঁর চোখে ছিল দৃঢ়তা।
চে তাঁকে বলেছিলেন, ‘শান্ত হও, ঠিকমতো নিশানা করো।’
এরপর গর্জে উঠেছিল বন্দুক।
কিন্তু একজন মানুষের শরীরকে হ*ত্যা করা আর তাঁর বিশ্বাসকে হ*ত্যা করা যে এক কথা নয়, চে গুয়েভারার মৃত্যুর পরের ইতিহাস যেন তারই সাক্ষ্য দেয়।
১৯২৮ সালে আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া এই চিকিৎসক তরুণ বয়সে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করতে গিয়ে দেখেছিলেন দারিদ্র্য, বৈষম্য ও শোষণের নির্মম বাস্তবতা। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে বিপ্লবের পথে নিয়ে যায়।
কিউবার বিপ্লবে ফিদেল কাস্ত্রোর অন্যতম সহযোগী হিসেবে তিনি পরিচিতি পান। পরে কিউবার বাইরে গিয়েও বিপ্লব ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। বলিভিয়ায় সেই প্রচেষ্টারই এক পর্যায়ে ধরা পড়েন এবং নিহত হন।
চে গুয়েভারা বিতর্কের ঊর্ধ্বে নন। তাঁর বিপ্লবী আদর্শ, সশস্ত্র সংগ্রাম এবং বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে তাঁর ভূমিকা নিয়ে রয়েছে নানা সমালোচনা ও মতভেদ। তাঁকে বুঝতে হলে সেই ইতিহাসও মনে রাখতে হয়।
তবু মৃত্যুর প্রায় ছয় দশক পরও তাঁর মুখচ্ছবি পৃথিবীর নানা প্রান্তে প্রতিবাদ, বিদ্রোহ ও বিপ্লবের প্রতীকের মতো ব্যবহৃত হয়।
কেন?
সম্ভবত এ কারণে যে, চে কেবল একজন ব্যক্তি নন; তিনি এমন এক স্বপ্নের প্রতীক, যে স্বপ্নে মানুষ বৈষম্যহীন পৃথিবীর কথা ভাবে।
আবার তাঁর জীবন মনে করিয়ে দেয়, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ কতটা জটিল, রক্তাক্ত ও বিতর্কিত হতে পারে।
১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর একটি স্কুলঘরে তাঁর জীবন শেষ হয়েছিল। কিন্তু তাঁর নাম থেমে থাকেনি সেই ঘরের চার দেয়ালে।
কেউ তাঁকে বিপ্লবের নায়ক মনে করেন, কেউ দেখেন বিতর্কিত এক সশস্ত্র বিপ্লবী হিসেবে। ইতিহাস তাঁকে বিচার করবে তাঁর কাজ, আদর্শ ও সিদ্ধান্তের পূর্ণ প্রেক্ষাপটে।
তবে একটি সত্য অস্বীকার করা কঠিন – কিছু মৃত্যু একজন মানুষের জীবন শেষ করে, কিন্তু তাঁকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলোকে শেষ করতে পারে না।
চে গুয়েভারার মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ।
আবু তাহের রিপন।
.
.
#CheGuevara #চে_গুয়েভারা #বিপ্লব #ইতিহাস3 Comments
Friends
ঈশিতা ঈরু
@eshitabiswaseru15
MD.Mazharul Islam Ripon
@md-mazharulislamripon
Salful Alam
@alamict9
1 Sen
@1sen
Shruti Radhe
@shrutiradhe
Shruti
@shruti
শায়লা এ্যামিন
@shaylaaemin945gmail-com
নাজমুর রহমান
@nazmur
Farhan Sadik
@farhansadik

আবু তাহের রিপন, চে গুয়েভারার জীবনের এই অজানা ও গভীর দিকগুলো খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন আপনি।