<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Violet Rose | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/afsanajannatultumpa/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/afsanajannatultumpa/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Violet Rose.</description>
	<lastBuildDate>Thu, 04 Jun 2026 23:17:13 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">7e6552741ba7327cb871c4de9b687cb4</guid>
				<title>“এটা আমার শেষ নয়”
পর্ব-৩:স্তব্ধ শব্দের প্রতিধ্বনি
&quot;শক্ত থাকার অভিনয়ে আমি নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি...
কষ্টগুলোকে নীরবে গিলে ফেলেছি,
আর এখন বুঝি—
নীরব যন্ত্রণাই সবচেয়ে ভয়ংকর।&quot;-আয়াজ রহমান
সকাল
আয়াজ দরজা খুলে বাইরে যেতেই সে  থামল। নিচে তাকাতেই তার চোখে পড়ল একটি ছোট বক্স।
সে কৌতূহল নিয়ে বক্সটি হাতে তুলে খুলল। ভেতরে একটি কেক, আর একটি ছোট চিরকুট।
চিরকুটে লেখা—
&quot;আমি সব সময় চাই, কেক যেমন মিষ্টি হয়, তোমার জীবনও ঠিক তেমনই মিষ্টিতে ভরে যাক।&quot;
কেকটা দেখে মনে হচ্ছিল, যেন একদম এইমাত্র বেক করা হয়েছে।
আয়াজ একটু সামনে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ তার চোখ পড়ল রাস্তায়—
গতকালকের কেকটা এখনো পড়ে আছে। তার পাশেই তানহার ফোন।
এক মুহূর্ত দেরি না করে আয়াজ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ফোনটা তুলে নিল। ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল।
— &quot;পুরো একটা পাগল...&quot; বিড়বিড় করে বলল সে।
স্কুলে—
ঐশী ভ্রু কুঁচকে তানহার দিকে তাকাল।
— &quot;কিরে তানহা, তুই ঘুমাচ্ছিস কেন? আর একটু পরেই তো ক্লাস শুরু হবে!&quot;
তানহা চোখ না খুলেই বলল,
— &quot;আমাকে একটু ঘুমাতে দে, ঐশী... গতকাল সারারাত ঘুমাতে পারিনি।&quot;
ঐশী অবাক হয়ে বলল,
— &quot;কেন? সারারাত ঘুমাসনি কেন?&quot;
তানহা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।
মনে মনে ভাবল—
&quot;ঐশীকে যদি বলি, আয়াজের জন্য চিন্তা করতে করতে আর কেক বানাতে গিয়ে সারারাত জেগেছি, তাহলে তো ও আমাকে মেরেই ফেলবে!&quot;
— &quot;কিরে? কিছু বলছিস না কেন?&quot; আবার জিজ্ঞেস করল ঐশী।
তানহা দ্রুত সামলে নিয়ে বলল,
— &quot;আরে, সামনে পরীক্ষা তো... তাই পড়াশোনা করছিলাম।&quot;
ক্লাসে বসেও তানহার মন পড়ায় নেই।
তার মাথায় বারবার একটাই চিন্তা ঘুরছে—
&quot;আয়াজ এখন কেমন আছে? কেকটা কি ওর পছন্দ হয়েছে?&quot;
এদিকে—
আয়াজ তৃপ্তি নিয়ে তানহার বানানো কেক খাচ্ছে। মুখে অজান্তেই একটা হাসি লেগে আছে।
ঠিক তখনই আয়েশা এসে বলল,
— &quot;কেকটা কি খুব মজার? তুই এত মজা করে খাচ্ছিস আর হাসছিস যে!&quot;
আয়াজ হেসে বলল,
— &quot;হুম, অনেক মজা।&quot;
আয়েশা কেকের একটা টুকরো নিতে যেতেই আয়াজ দ্রুত প্লেটটা সরিয়ে নিল।
— &quot;তোর এটা খাওয়া লাগবে না।&quot;
— &quot;কেন?&quot; অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল আয়েশা ।
— &quot;তুই তো ডায়েট করছিস। ডায়েট করলে চিনি খাওয়া নিষেধ।&quot;
আয়েশা জেদ করে বলল,
— &quot;জাস্ট একটা টুকরো দে!&quot;
আয়াজ মুচকি হেসে বলল,
— &quot;তোর ভাই হওয়ার সুবাদে আমি তোকে জিমে বাড়তি দুই ঘণ্টা কাটাতে দিতে পারি না।&quot;
হঠাৎ আয়েশা থমকে গেল।
— &quot;ওয়েট আ মিনিট! তুই আজ স্কুলে যাসনি কেন?&quot;
আয়াজ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,
— &quot;তোর সাথে ক্যাপিটালে যাব। তাই আজ আর স্কুলে যাইনি।&quot;
আয়াজের জন্য দুশ্চিন্তা করতে করতে তানহা ধীরে ধীরে বাড়ির দিকে ফিরছিল।
আজ আয়াজ স্কুলে আসেনি—কেন জানি তার মনটা একদমই ভালো নেই।
ভাবল, একটা কল করবে...
কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ল—
ফোনটা তো ভেঙে পড়ে গিয়েছিল!
তবে অদ্ভুত ব্যাপার, আয়াজের টেনশনে সে ফোনের কথাটাই যেন ভুলে গিয়েছিল।
&quot;তানহার ফোনটা তার বাবা দুই মাস আগে কিনে দিয়েছিল। এখন যদি বাবা জিজ্ঞেস করে, তখন সে কী বলবে?&quot;
মনে হালকা একটা চাপা ভয় কাজ করছিল,
কিন্তু তার থেকেও বড় চিন্তা—
আয়াজ এখন কেমন আছে?
তানহারা প্রতিবেশী হলেও, তানহা খুব একটা আয়াজদের বাসায় যায় না।
কারণ—সে ওদের পরিবারের টক্সিসিটির কথা ভালো করেই জানে।
তবুও সে এমন ভাব করে যেন কিছুই জানে না।
শুধু একটা কারণেই—
আয়াজ যেন কোনোদিন লজ্জা না পায়।
চার দিন হয়ে গেছে আয়াজকে দেখেনি।
এই চার দিনেই তানহার অবস্থা একদম খারাপ হয়ে গেছে।
&quot;একবার কি ওদের বাসায় যাওয়া উচিত?&quot;—নিজের মনেই ভাবল সে।
জানালা দিয়ে আয়াজদের বাসার দিকে তাকিয়ে ছিল তানহা।
হঠাৎ করেই একটা ছোট বল এসে তাকে আঘাত করল।
— &quot;কোন ফাজিল মারল এটা!&quot; রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল সে।
নিচে তাকাতেই সে থমকে গেল—
রাস্তায় দাঁড়িয়ে আয়াজ, আর ইশারায় তাকে নিচে ডাকছে!
তানহার বুক ধক করে উঠল।
অবাক হওয়ার পাশাপাশি ভীষণ খুশি হয়ে গেল সে।
আয়াজ তো কোনোদিন এভাবে ডাকেনি!
নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না তানহা।
এক মুহূর্ত দেরি না করে দৌড়ে নিচে নেমে গেল।
আয়াজ একটু বিরক্ত হয়ে বলল,
— &quot;কোথায় হারিয়ে ছিলে তুমি ? কতক্ষণ ধরে ডাকছি!&quot;
তানহা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
— &quot;কোথায় ছিলে এতদিন?&quot;
— &quot;ক্যাপিটালে গিয়েছিলাম।&quot; শান্ত গলায় উত্তর দিল আয়াজ।
তানহার চোখে অভিমান ফুটে উঠল।
— &quot;ক্যাপিটালে কী কাজ ছিল তোমার? তুমি জানো আমি কতটা টেনশন করছিলাম? একবার অন্তত বলে যেতে পারতে! আমি ঠিকমতো ঘুমাতেও পারিনি, খেতেও পারিনি... তোমার জন্য কতটা চিন্তা করেছি, তুমি জানো?&quot;
তানহা আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল—
হঠাৎ আয়াজ থামিয়ে দিল।
— &quot;আচ্ছা, হয়েছে... আয়াজ একটু ভাব নিয়ে বলল আমি মডেলিং করতে গিয়েছিলাম।&quot;
তানহা অবাক হয়ে বলল,
— &quot;মডেলিং? কবে থেকে শুরু করলে? আর হঠাৎ কেন?&quot;
আয়াজ একটু বিরক্ত হয়ে বলল,
— &quot;তুমি এত প্রশ্ন করো কেন? তোমার আর কিছু জানার দরকার নেই।&quot;
এইটুকু বলেই সে তানহার হাতে একটা ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে চলে গেল।
বাসায় ফিরে তানহা ধীরে ধীরে ব্যাগটা খুলল।
ভেতরে দুটি বক্স।
প্রথম বক্সটা খুলতেই সে থমকে গেল—
একটি নতুন ফোন...
আর তার ভেতরে আগের সেই সিম কার্ড আর মেমোরি কার্ড লাগানো।
দ্বিতীয় বক্স খুলতেই দেখা গেল—
অনেকগুলো চকলেট।
তানহার চোখ ভিজে উঠল।
মুখে অজান্তেই একটা হাসি ফুটে উঠল।
আয়াজের ওপর যত রাগ ছিল, সব এক মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।
খুশি আর অনুভূতির মিশ্রণে
সে নীরবে কেঁদে ফেলল।
মডেলিংয়ের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টটা আয়াজ দুই দিন আগেই করেছিল।
সেখান থেকেই সে ভালো পারিশ্রমিক পেয়েছিল।
তামিম খুশি হয়ে বলল,
— &quot;খুব ভালো কাজ করেছিস আয়াজ। আগামী উইকেন্ডে নতুন প্রজেক্টের জন্য আবার আসিস।&quot;
টাকা হাতে পেয়ে আয়াজের মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠল।
দেরি না করে সে সরাসরি মার্কেটে চলে গেল তানহার জন্য একটি নতুন ফোন কিনতে।
বাসায় ফিরে সে খুব যত্ন করে তানহার পুরনো সিম কার্ড আর মেমোরি কার্ড নতুন ফোনে সেট করল।
গ্যালারি ওপেন করতেই তার চোখ থেমে গেল।
তানহার গ্যালারি জুড়ে শুধু তারই ছবি...
আয়াজ মৃদু হাসল।
আপনমনে বিড়বিড় করে বলল,
— &quot;মেয়েটা সত্যিই আস্ত একটা পাগল...&quot;
২০২৫ সাল
আয়েশা আয়াজের বাসায় এসেছে হাসপাতালের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে।
ওয়ারড্রোব খুলে কাপড় খুঁজতে গিয়ে হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল একটি ডায়েরিতে।
কৌতূহল দমাতে না পেরে সে ডায়েরিটা হাতে নিল।
কভারের দিকে তাকাতেই সে এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।
তানহা আর আয়াজের ছোটবেলার একটি ছবি সেখানে লাগানো।
ধীরে ধীরে পাতাগুলো উল্টাতে লাগল আয়েশা ।
ভেতরে একের পর এক তানহার ছবি...
আয়াজ যেগুলো যত্ন করে রেখেছিল।
একটি ছবি ছিল সম্ভবত হাই স্কুলের।
ছবির নিচে লেখা ছিল—
&quot;ছবিটা আমি ইচ্ছাকৃতভাবে তোমাকে না জানিয়েই তুলেছিলাম, তানহা। তোমাকে সেদিন ভীষণ সুন্দর লাগছিল... ছবিটা না তুলে পারলাম না।&quot;
 আয়েশা আরেকটি পাতা উল্টাল।
২০১৪ – বসন্তের দিন
সেদিন আমি সাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলাম।
হঠাৎই চোখে পড়ল—তুমি সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলে।
আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্রেক চাপতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারালাম। মুহূর্তেই আমরা দুজনেই মাটিতে পড়ে গেলাম।
উঠে দাঁড়িয়ে তোমাকে কিছু বলতে যাব, ঠিক তখনই চারপাশের গাছগুলো যেন আরও জীবন্ত হয়ে উঠল—ফুলগুলো একে একে ঝরে পড়তে শুরু করল তোমার ওপর।
বসন্তের হালকা বাতাসে তোমার চুলগুলো মুখজুড়ে উড়ছিল।
তুমি ভয় মেশানো চোখে আমার দিকে তাকালে।
আর সেই এক মুহূর্তে, সূর্যের আলোয় তোমাকে এমন লাগছিল—যেন পৃথিবীর সব সৌন্দর্য একসাথে তোমার মাঝে এসে থেমে গেছে।
আমার বুকের ভেতর  এক কাঁপন শুরু হলো।
হার্টবিট বেড়ে গেল, অথচ আশ্চর্যভাবে গরম না থাকা সত্ত্বেও আমি ঘেমে গিয়েছিলাম।
তুমি কিছু বলতে যাচ্ছিলে...
কিন্তু আমি কোনো উত্তর না দিয়ে, প্রায় তাড়াহুড়ো করেই সাইকেল নিয়ে চলে এলাম।
পিছনে রয়ে গেল তোমার কণ্ঠস্বর—
&quot;আয়াজ, আমি সরি...&quot;
আজও সেই শব্দটা কানে বাজে।
বাসায় ফিরে অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে ছিলাম।
তখনই প্রথম বুঝেছিলাম—এই অনুভূতিটা সাধারণ কিছু নয়।
সেদিন সারাটা দিন শুধু তোমার কথাই ভেবেছিলাম, তানহা।
হাই স্কুলের প্রথম দিন
আজ আমাদের হাই স্কুলের প্রথম দিন।
নীল রঙের ইউনিফর্ম পরে তানহাকে যখন আমার দিকে দৌড়ে আসতে দেখলাম, মনে হলো চারপাশের সবকিছু যেন থমকে গেছে।
তানহাকে সেদিন অসম্ভব সুন্দর লাগছিল।
আমরা একই স্কুলে ভর্তি হয়েছি—এই আনন্দে আমি নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না।
কিছু না বলেই আমি ক্লাসরুমের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম, আর তানহা আমার পিছু পিছু আসছিল।
তানহার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে খুব ইচ্ছে করছিল...
কিন্তু সেই সংকোচ আমাকে থামিয়ে দিল।
ডায়েরির পরের পৃষ্ঠা:
আজ তানহা আমার জন্য পার্কে অপেক্ষা করছিল।
আমি পার্কে পৌঁছাতেই চোখ অচিরেই ওকে খুঁজে নিল।
দূরেই ওকে দেখতে পেলাম।
কিন্তু ওর কাছে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে দেখলাম—
একটা ছেলে ওকে প্রপোজ করছে।
দৃশ্যটা দেখেই ভেতরটা রাগে জ্বলে উঠল।
কিছু না ভেবেই আমি সেখান থেকে সোজা বাসায় ফিরে এলাম।
তানহা আমাকে বারবার কল করছিল...
আমি ফোন রিসিভ করিনি, এমনকি বন্ধও করে দিলাম।
তানহাকে অন্য কারো সাথে সহ্য করা আমার পক্ষে অসম্ভব।
রাগে আমার বুক ভার হয়ে আসছিল, কিন্তু কখনোই ওকে সেটা বুঝতে দিইনি।
ডায়েরির শেষ পাতা
তানহাকে আমি কোনোদিন আমার মনের কথা খুলে বলতে পারিনি।
ভয় হয়...
যদি বলি, আমাদের সম্পর্কটাও কি আমার বাবা-মায়ের সম্পর্কের মতো ভেঙে যাবে?
তানহা যখনই সামনে আসে, আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না...
তাই সবসময় ওকে ইগনোর করার চেষ্টা করি।
কিন্তু আজ মনে হচ্ছে... সব বলে দিই।
আমি বিশ্বাস করি, সে আমাকে ছেড়ে যাবে না।
কিন্তু সে যদি আমার বিশ্বাসটা ভেঙে ফেলে...
সবকিছু যখন ঠিকঠাক চলছিল... ঠিক তখনই আমার জীবনে কিছু একটা নড়েচড়ে উঠল।
শান্তিটা যেন হঠাৎই ভেঙে গেল—এক অদৃশ্য অশান্তির ছায়া পড়ে গেল আমার জীবনে।
আর সেই অশান্তির নাম—
এশান খান।
(চলবে...)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253121/</link>
				<pubDate>Thu, 04 Jun 2026 11:03:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“এটা আমার শেষ নয়”<br />
পর্ব-৩:স্তব্ধ শব্দের প্রতিধ্বনি<br />
&#8220;শক্ত থাকার অভিনয়ে আমি নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি&#8230;<br />
কষ্টগুলোকে নীরবে গিলে ফেলেছি,<br />
আর এখন বুঝি—<br />
নীরব যন্ত্রণাই সবচেয়ে ভয়ংকর।&#8221;-আয়াজ রহমান<br />
সকাল<br />
আয়াজ দরজা খুলে বাইরে যেতেই সে  থামল। নিচে তাকাতেই তার চোখে পড়ল একটি ছোট বক্স।<br />
সে কৌতূহল নিয়ে বক্সটি হাতে তুলে খুলল। ভেতরে একটি কেক, আর একটি ছোট চিরকুট।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253121"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253121/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">34b695f8566655f2496a1a966817c5a4</guid>
				<title>এটা আমার শেষ নয়              
পর্ব ২:কাঠের দেয়াল
সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। সময়ের মূল্য যারা বোঝে না, কিংবা যাদের আমরা গুরুত্ব দিই না, সময় তাদের আমাদের জীবন থেকে ছিনিয়ে নেয়—সে মানুষ হোক বা কোনো বস্তু।-আয়াজ রহমান
হঠাৎ কানে এলো একটানা &#039;বিপ... বিপ... বিপ...&#039; শব্দ। আয়াজ ধীরস্থিরভাবে চোখ মেলে তাকাল। চারপাশটা ঝাপসা, তবে ধীরে ধীরে দৃশ্যপট স্পষ্ট হয়ে উঠল। বুঝতে পারল, আয়াজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে। জ্ঞান ফিরতে দেখে নার্স দ্রুত ডাক্তারকে ডেকে আনলেন। ডাক্তার এসে আয়াজের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলেন এবং নার্সকে নির্দেশ দিলেন, &quot;তার পরিবারকে খবর দাও।&quot;
ডাক্তার আয়াজ দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বললেন, &quot;এখন কেমন বোধ করছেন মিস্টার আয়াজ? রিপোর্টাররা যা শুরু করেছে, সব জায়গায় এখন শুধু আপনার খবর। হাসপাতালের নিচতলা এখন রিপোর্টারদের ভিড়ে ঠাসা।&quot;
ঠিক সেই মুহূর্তে আয়েশা কেবিনে ঢুকল। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, সে অনেক রাত থেকে ঘুমাতে পারেনি। চোখের নিচে কালি, অবিন্যস্ত চেহারা। ডাক্তার আয়েশাকে আশ্বস্ত করে বললেন, &quot;চিন্তার কিছু নেই, মিস্টার আয়াজ এখন বিপদমুক্ত।&quot;
আয়েশা আয়াজের নিকট এসে বসল। তার কণ্ঠস্বর কাঁপছিল, &quot;তোর যদি কিছু হয়ে যেত, তাহলে আমার কী হতো? একবারও কি আমার কথা চিন্তা করলি না?&quot;
আয়াজ অতিকষ্টে হাতের ইশারায় অক্সিজেন মাস্কটা সামান্য সরিয়ে নিল। অস্ফুট স্বরে কিছু একটা বলতে চাইল। আয়েশা শোনার জন্য তার কান আয়াজের  মুখের কাছে নিয়ে এল। আয়াজ দুর্বল কণ্ঠে বলল, &quot;আমাকে কেন বাঁচালে?&quot;
আয়েশা কেঁদে ফেলল, &quot;এসব কেমন কথা? তুই শুধু আমার ভাই না, তুই আমার সন্তানসম! তানহার জন্য তুই মরতে গিয়েছিলি, কিন্তু একবারও কি আমার কথা ভাবলি না?
আয়াজের চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।আয়াজ আবারও কিছু বলার চেষ্টা করল। আয়েশা আবারও তার কান এগিয়ে দিল।আয়াজ  ফিসফিস করে বলল, &quot;তুমি ঠিকই  বলেছিলে আপু, যারা আমাদের যত্ন নেয়, তাদের যত্ন নেওয়া উচিত। যখন প্রায় মরেই যাচ্ছিলাম, তখন তোমার ওই কথাগুলোই বারবার আমার কানে বাজছিল।&quot;
আয়েশা পরম মমতায় আয়াজের মাথায় হাত রাখল। আর্দ্র কণ্ঠে বলল, &quot;বেশি কথা বলিস না, একটু বিশ্রাম নে। তোর বাড়ি থেকে যা যা প্রয়োজন, আমি সব নিয়ে আসবো।&quot;
আয়েশা কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল। এর কিছুক্ষণ পরেই  আয়াজের সহকারী  ঢুকল এবং আয়াজের  দেখাশোনা করার জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগল।  আয়াজ নিজের ভাবনায় ডুবে গেল—অতীতের সেই মুহূর্তগুলো একের পর এক ভেসে উঠতে লাগল আয়াজের চোখের সামনে।
সাল ২০১৬। হাইস্কুলের বারান্দা, টিফিনের সময়ের কোলাহল। আয়াজ তখন স্কুল মাতানো এক নাম। ছ&#039;ফুট লম্বা, সুদর্শন, আর ব্যক্তিত্বে  এক শীতলতা—সব মিলিয়ে স্কুলের প্রতিটি মেয়ের ক্রাশ ছিল সে। কিন্তু আয়াজ ছিল প্রচণ্ড রকমের ইন্ট্রোভার্ট। নিজের জগতে থাকতেই সে বেশি পছন্দ করত।
তানহা সবসময় আয়াজের ছায়ার মতো লেগে থাকত। আয়াজের প্রতি তানহার এই অতিরিক্ত যত্ন আর আসক্তি স্কুলের অন্য মেয়েদের চক্ষুশূল ছিল। মেয়েরা প্রায়ই তানহাকে ঘিরে ধরে খোঁচা দিত। একজন জিজ্ঞেস করল, &quot;তানহা, আয়াজ কি তোর বয়ফ্রেন্ড? ও তো তোকে পাত্তাই দেয় না!&quot;
তানহা এক মুহূর্তের জন্য দমে না গিয়ে মাথা উঁচু করে জবাব দিল, &quot;আয়াজ আমাকে  পাত্তা দিক বা না  দিক, ও আমার সাথে যতটা কথা বলে, তোদের দিকে তো চোখ তুলেও তাকায় না।&quot;
অন্য এক মেয়ে বিদ্রুপ করে বলল, &quot;ওর চামচামি করিস না তো,
তানহা নির্বিকার, &quot;চামচামি করলে করেছি, তাতে তোদের কী?&quot;
তানহা নিজে ছিল প্রচণ্ড রূপবতী। তার চেহারায় এক ধরনের মায়া ছিল, যা খুব কম মানুষের থাকে।&quot;তানহা ছিল ফরসা এবং মাঝারি হাইটের।&quot; 
স্কুলের অনেক ছেলেই তাকে পছন্দ করত, কিন্তু তানহা আয়াজের পেছনে এভাবে পড়ে থাকত যে সবাই বুঝে নিত তার মনে শুধু আয়াজই আছে। তাই কেউ তাকে আর প্রস্তাব দেওয়ার সাহস করত না।
স্কুল ছুটির পর। আয়াজ স্কুলের গেট দিয়ে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। তানহা  তার পিছু পিছু হাঁটছিল। তানহা আয়াজকে ডাকল, &quot;আয়াজ, শোন! চল, একসাথেই বাড়ি যাই।&quot;
আয়াজ না থেমে, গম্ভীর গলায় বলল, &quot;আমার কাজ আছে। আমি এখন বাড়ি যাচ্ছি না।&quot;
তানহা নাছোড়বান্দা, &quot;কী কাজ? আমি কি সাথে যেতে পারি না?&quot;
&quot;না।&quot;—এক কথায় উত্তর দিয়ে আয়াজ দ্রুত ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেল।
সবকিছু আড়াল থেকে দেখছিল ঐশী। সে তানহার এই পাগলামি দেখে তানহা অবহেলা নিতে পারছিল না ।
&quot;ঐশী শ্যামবর্ণ,  লম্বা, আর তার নাক ছোট। সে কিউট ,মাথার চুল ছোট রাখতে পছন্দ করে। তার ব্যক্তিত্ব খুবই  ক্যারিশম্যাটিক।&quot;
 সে তানহার হাত ধরে বলল, &quot;চল, কোথাও বসি। তোর সাথে খুব জরুরি কিছু কথা আছে।&quot;
তানহা ইতস্তত করে বলল, &quot;আয়াজকে নিয়ে কিছু বলবি তো? তাহলে থাক, আমি শুনব না।&quot;
ঐশীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। সে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে প্রশ্ন করল, &quot;তোর জীবনে সবচেয়ে বেশি ইমপর্ট্যান্ট কে? আমি, নাকি আয়াজ?&quot;
তানহা মৃদু হেসে শান্ত গলায় বলল, &quot;এ কেমন কথা? তোরা দুজনেই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, আর আয়াজকে আমি ভালোবাসি।&quot;
ঐশী আরও রেগে চিৎকার করে উঠল, &quot;তুই যেকোনো একজনকে বেছে নে।&quot;
তানহা অবাক হয়ে তাকাল, &quot;তোরা দুজনেই আমার খুব কাছের, কাউকে আলাদা করতে পারব না।&quot;
ঐশী এবার তিক্ত সত্যটা সামনে আনল, &quot;একটু লজিক দিয়ে ভাব তো তানহা! আয়াজ তোকে পাত্তাও দেয় না, বরং সবসময় অপমান করে। তুই কেন নিজের আত্মসম্মান এভাবে নষ্ট করছিস? কত ভালো ভালো ছেলে তোকে পছন্দ করে, যারা তোকে যোগ্য সম্মান দেবে। তাদের কথা একবারও ভেবেছিস?&quot;
এতদিন ঐশী খুব হাসি-খুশি ছিল, আজ তাকে এতটা রাগী দেখে তানহা ভয় পেয়ে গেল। ঐশী আবার চিৎকার করল, &quot;কী হলো? চুপ করে আছিস কেন? কিছু বলছিস না কেন?&quot;
তানহা কাঁপা গলায় বলল, &quot;কিন্তু... ওই ছেলেগুলো তো আর আয়াজ হবে না।&quot;
ঐশীর ধৈর্যের বাঁধ তখন প্রায় শেষ। সে বুঝতে পারল, তানহার সাথে এতক্ষণ ধরে যুক্তি দিয়ে কথা বলা মানে হলো &#039;গরুর সামনে বিন বাজানো&#039;। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে সামলে নিল। সে  শীতল কণ্ঠে বলল, &quot;আজকের পর থেকে তুই আমার আর বন্ধু না।&quot;
ঐশী হনহন করে হাঁটতে শুরু করল। তানহা আতঙ্কিত হয়ে পেছনে ডাকতে লাগল, &quot;প্লিজ ঐশী! এমন করিস না, আমার কথা শোন... ঐশী!&quot;
তানহার আর্তনাদ ঐশীর কানে পৌঁছাল না। সে ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে গেল, আর তানহা স্কুলের গেটে একা দাঁড়িয়ে রইল—একদিকে অপূর্ণ ভালোবাসা, অন্যদিকে পরম বন্ধুর অভিমান।
রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বসে আছে আয়াজ। চারদিকে মানুষের কোলাহল, সবাই নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছোটাছুটি করছে। স্টেশনের অদূরে কিছু মেয়ে আয়াজের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ফিসফিস করছে, &quot;দেখ দেখ, কী সুদর্শন ছেলেটা!&quot;
হঠাৎ পেছন থেকে কেউ একজন আয়াজের চোখ চেপে ধরল। আয়াজ মুচকি হাসল, সে জানে এটা আয়েশা। সে মূলত আয়েশাকে নিতেই স্টেশনে এসেছে। আয়েশাকে দেখে সে জড়িয়ে ধরল। তাকে আয়েশার সাথে দেখে সেই মেয়েগুলো সেখান থেকে চলে গেল, হয়তো ভেবেছে আয়েশা আয়াজের প্রেমিকা। ঠিক তখনই আয়াজ খেয়াল করল, পাশে দাঁড়ানো এক যুবক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকে পর্যবেক্ষণ করছে।
আয়াজ ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, &quot;আপনি কি? আপনাকে তো চিনতে পারছি না।&quot;
আয়েশা হেসে উত্তর দিল, &quot;তুই ভুলে গেছিস? ভুলে যাওয়ারই কথা। ও যখন বিদেশ চলে যায়, তখন তো তুই অনেক ছোট ছিলি।&quot;
আয়াজ তবুও চিনতে পারল না। আয়েশা পরিচয় করিয়ে দিল, &quot;ও তো তামিম,  বড় খালামনির ছেলে।&quot;
আয়াজ চমকে উঠে বলল, &quot;ও আচ্ছা! সেই ভাইয়া, যে এখন বিখ্যাত ফটোগ্রাফার? আম্মু প্রায়ই তোমার কথা বলে। আট বছর আগে তোমাকে দেখেছিলাম। কেমন আছো ভাইয়া?&quot;
তামিম হাসিমুখে বলল, &quot;আমি ভালো আছি। আন্টির কথা খুব মনে পড়ছিল, তাই ভাবলাম ঘুরে আসি। কাজেকর্মে খুব ব্যস্ত থাকি তো, এখন একটু সময় পেলাম তাই চলে এলাম।&quot;
পরে তারা তিনজন বাসায় ফিরল। ডিনারের সময় তামিম আয়েশার দিকে তাকিয়ে বলল, &quot;আয়াজ তো দারুণ সুদর্শন হয়েছে। ও চাইলে এখন থেকেই প্রফেশনাল মডেলিং শুরু করতে পারে।&quot;
আয়েশা একটু চিন্তিত হয়ে বলল, &quot;আয়াজ তো এখনো হাইস্কুলে পড়ে। ভার্সিটিতে ভর্তির আগে এসব করলে পড়াশোনায় সমস্যা হতে পারে না?&quot;
তামিম আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল, &quot;সমস্যা হবে না। ও শুধু উইকেন্ডে সময় দেবে। ক্যারিয়ারটা আগেভাগে শুরু করা সবসময়ই ভালো।&quot;
আয়েশা কিছু বলতে যাবে, এমন সময় মিসেস রহমান (আয়াজের মা) যোগ করলেন, &quot;তামিম ঠিকই বলেছে। আয়াজের এখন থেকেই ক্যারিয়ারের দিকে নজর দেওয়া উচিত। তামিম, তুমি যা ভালো মনে করো সেটাই করো।&quot;
পরদিন সকালে চলে যাওয়ার সময় তামিম আয়াজের হাতে একটি কার্ড দিয়ে বলল, &quot;উইকেন্ডে ক্যাপিটালে আমার অফিসে যাস। আমার অ্যাসিস্ট্যান্টকে এই কার্ডটা দিলেই হবে, তারপর আমরা ফটোশুট শুরু করব।&quot;
আয়াজ দ্বিধা নিয়ে বলল, &quot;আমি এখনো নিশ্চিত নই ভাইয়া, ভেবে জানাব।&quot;
তামিম হেসে বলল, &quot;আমি জানি তুই নিজের ভালোর জন্যই সিদ্ধান্ত নিবি। আর হ্যাঁ, মডেলিং করলে ভালো পেমেন্টও পাবি।&quot; এই বলেই তামিম চলে গেল।
আয়াজ স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল, তখন তার মা বললেন, &quot;স্কুল শেষ হওয়ার সাথে সাথে বাসায় চলে আসবি। তোদের সাথে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা আছে।&quot; আয়াজ কোনো প্রশ্ন না করেই স্কুল ইউনিফর্ম পরে বেরিয়ে গেল।
স্কুলে
তানহা এসে ধরল, &quot;আমি কাল থেকে তোকে কত কল করেছি! তুই কীভাবে আমাদের বন্ধুত্ব এভাবে নষ্ট করতে পারিস? তুই যদি আমাকে না বুঝিস, তাহলে কে বুঝবে?&quot;
ঐশী  বিরক্তি নিয়ে বলল, &quot;কেন, আয়াজ আছে তো বোঝার জন্য!&quot; এই বলেই ঐশী উল্টো দিকে গিয়ে বসল।
তানহার মনটা খারাপ হয়ে গেল। স্কুল শেষ করে সে সোজা বাসায় চলে এল। সে ভাবল, ঐশীকে মানানোর জন্য একটা কেক বানাবে। ঐশী কেক খুব পছন্দ করে। আর এই সুযোগে আয়াজকেও কিছুটা কেক দেবে, সেই বাহানায় তার সাথে কথা বলা যাবে। এই ভেবে তানহা রান্নাঘরে গিয়ে কেক বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
আয়াজের বাসার লিভিং রুমে চারজন বসে আছে—আয়াজ, আয়েশা, মিস্টার রহমান এবং মিসেস রহমান। নিস্তব্ধ ঘরটাতে  এক চাপা উত্তেজনা।
মিস্টার রহমান গম্ভীর গলায় শুরু করলেন, &quot;তোমাদের মা আর আমি একটা সিদ্ধান্তে এসেছি। আমরা আলাদা হয়ে যাচ্ছি। আমি বিদেশ চলে যাব। আয়াজ হাইস্কুল শেষ না করা পর্যন্ত ওর মা ওর সাথেই থাকবে।&quot;
আয়েশা নির্বাক হয়ে বসে রইল। কিন্তু আয়াজ হঠাৎ অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। সে হাততালি দিয়ে উঠল, যেন কোনো মজার নাটক দেখছে। সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
আয়াজ বলল, &quot;তোমাদের আলাদা তো অনেক আগেই হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। আসলে তোমাদের বিয়েটাই করা উচিত হয়নি। তোমাদের সম্পর্কের কোনো বন্ডিং কি কোথাও আছে? কেউ কি বিশ্বাস করবে এটা লাভ ম্যারেজ ছিল?&quot;
মিস্টার রহমান চিৎকার করে উঠলেন, &quot;আয়াজ! তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? কী সব উল্টোপাল্টা কথা বলছিস!&quot;
আয়াজ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল, &quot;সুস্থ ছিলাম কবে? তোমাদের মতো বাবা-মা যাদের থাকে, তারা কি আর সুস্থ থাকতে পারে?&quot;
মিস্টার রহমান আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না, সজোরে একটা চড় বসিয়ে দিলেন আয়াজের গালে। আয়াজের গালটা মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠল, ঠোঁট ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়ল। আয়েশা দৌড়ে যেতে চাইছিল ওকে আটকাতে, কিন্তু আয়াজ হাত তুলে বাধা দিল।
আয়াজ শান্ত কিন্তু হিমশীতল কণ্ঠে বলল, &quot;আজ আমাকে বাধা দিও না আপু। এই স্বার্থপর মানুষগুলোর আসল চেহারা বের হতে দাও।&quot;
মিস্টার রহমান ক্ষোভে কাঁপছিলেন, &quot;স্বার্থপর? আমরা স্বার্থপর? তোদের এতো সুন্দর লাইফস্টাইল দিয়েছি, এতো টাকা খরচ করেছি—আর তুই বলছিস আমরা স্বার্থপর?&quot;
আয়েশা কাঁদতে কাঁদতে বলল, &quot;ভাই, প্লিজ... আর কিছু বলিস না।&quot;
আয়াজ বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, &quot;আজ অন্তত সত্যিটা বলতে দাও বাবা। এতো কিছু দিয়েছো, শুধু ভালোবাসা আর যত্নটাই দিতে পারলে না। ছোটবেলা থেকে আমাদের ওপর কম অত্যাচার করোনি। সামান্য ভুলে অন্ধকার ঘরে বন্দি করে রেখেছো, খাবার বন্ধ করে দিয়েছো, পিটিয়েছো! বৃষ্টির রাতে বাইরে ছেড়ে দিয়েছো—এগুলো কি ভালোবাসা ছিল?&quot;
মিস্টার রহমান রুক্ষ স্বরে বললেন, &quot;ভুল করেছিস বলেই শাস্তি দিয়েছি!&quot;
আয়াজ হাসল, তবে সেই হাসিতে কোনো আনন্দ ছিল না, ছিল বিষাদ। &quot;এখনও তো ভুল করছি বাবা! কী শাস্তি দেবে বলো? আমি তো তোমার সেই শাস্তির জন্যই অপেক্ষায় আছি।&quot;
সে তার মায়ের দিকে তাকাল, যে সবসময়কার মতো মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে আছে। &quot;মা, তুমি আজও কিছু বললে না?&quot;—বলতে বলতে আয়াজ ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। আয়েশা তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছে।
অন্যদিকে, তানহা নিজের হাতে বানানো কেক নিয়ে সোজা চলে গেল ঐশীর বাসায়। ঐশী তখনও ভীষণ অভিমান করে বসে আছে, কোনো কথা বলছে না।
তানহা কেকের বক্সটা সামনে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, &quot;দেখ, তোর জন্য কেক বানিয়ে এনেছি।&quot;
ঐশী তাও চুপ। তানহা এবার কান্নায় ভেঙে পড়ল, &quot;ঐশী, তুই ছাড়া আমাকে কে বুঝবে? বন্ধু বললে ভুল হবে, তুই তো আমার বোন। প্লিজ, আমার সাথে এমন করিস না।&quot;
তানহাকে কাঁদতে দেখে ঐশীর মনটা নরম হয়ে এল। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, &quot;তোর কান্না দেখলে আমার খুব কষ্ট হয়। রাগ করে আছি বলে কি আর বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে গেছে? আমি জানতাম, আমি রাগ করলে তুই আমার জন্য কেক নিয়ে আসবিই।&quot;
ঐশী মুচকি হাসল।
বাসায় ফিরে তানহা আয়াজের জন্য যত্ন করে কেকটা প্যাকেট করল। তার মনটা ছটফট করছিল আয়াজকে দেখার জন্য। সে যখন আয়াজের বাসার সামনে গিয়ে পৌঁছাল, দেখল আয়াজ ধীর পায়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসছে। সামনে যেতেই তানহা থমকে দাঁড়াল। আয়াজের চোখ দুটো অসম্ভব লাল, গালটাও ফুলে লাল হয়ে আছে, আর ঠোঁটটা একটুখানি কাটা।
তানহা আঁতকে উঠে তার কাছে দৌড়ে গেল, &quot;আয়াজ! তোমার এটা কী হয়েছে? তোমার গাল আর ঠোঁট এমন কেন? কী হয়েছে তোমার?&quot;
আয়াজ বিরক্ত স্বরে বলল, &quot;আমাকে একা থাকতে দাও।&quot;
তানহা সহজে দমে যাওয়ার পাত্রী নয়। সে জেদ করে আয়াজের হাত চেপে ধরল। আয়াজ এবার চরম বিরক্তি নিয়ে ঝাড়ি দিল, &quot;এই মেয়ে! তোমার আর কোনো কাজ নেই? সারাদিন আমার পিছু পিছু কেন ঘুর?&quot;
আয়াজের ঝাড়ি শুনে তানহা হাত ছেড়ে দিল।
তানহা শান্ত গলায় বলল, &quot;আমি তোমার বন্ধু, তাই তোমার যত্ন নেওয়াটা আমার দায়িত্ব।&quot;
আয়াজ তিক্ত হাসল। কণ্ঠস্বর কেঁপে উঠল, &quot;বন্ধু আছ, বন্ধুর মতো থাক! আমার এত যত্ন নেওয়ার দরকার নেই। কিছু হলেই যত্ন করতে চলে আসো ? আমার কারো যত্ন লাগবে না, তোমারও না!&quot;
এই কথাগুলো বলতে বলতে আয়াজের চোখে পানি জমে উঠল।
তানহা তার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝল—
এই কথাগুলো রাগ থেকে না, কষ্ট থেকে বলা।
তানহা আবার তার হাত ধরে কিছু বলতে যাচ্ছিল—
কিন্তু আয়াজ হাত ছাড়ানোর জন্য তাকে ধাক্কা দিল।
তানহা ভারসাম্য রাখতে না পেরে পড়ে গেল।
তার এক হাতে থাকা ফোনটা মাটিতে পড়ে ভেঙে গেল।
কেকটাও পড়ে গেল... সব নষ্ট হয়ে গেল।
আয়াজ সবকিছু দেখল—
কিন্তু কিছু না বলেই বাসার ভেতরে চলে গেল।
ভেতরে ঢুকে দরজাটা জোরে বন্ধ করে দিল।
দরজার সাথে হেলান দিয়ে নিচে বসে পড়ল।
দরজার ওপাশে—
তানহা ধীরে ধীরে উঠে দরজার সামনে এসে বসে পড়ল।
দরজায় হাত রেখে বলল—
তানহা (কাঁপা গলায়): আয়াজ... আমি তোমার কষ্ট বুঝি।
আমি শুধু তোমার খারাপ সময়ে তোমার পাশে থাকতে চাই।
আমি তোমাকে একা ছেড়ে দিতে পারি না...
দরজার এপাশে আয়াজ দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে। তানহার কথাগুলো তার হৃদয়ে তীরের মতো বিঁধছে। সে নিজের হাতটা দরজার ওপর রাখল, ঠিক যেন তানহার হাতের বিপরীতে। দরজার এপাশে তানহা আর ওপাশে আয়াজ—মাঝখানে শুধু একটা কাঠের দেয়াল, কিন্তু দুজনেই একে অপরের উপস্থিতি অনুভব করছে। দরজার দুই পাশে বসে থাকা দুটি মানুষ নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলছে। মাঝখানের এই দূরত্বটুকু যেন কোনো অদৃশ্য দেয়াল, যা তারা চাইলেই ভাঙতে পারছে না।
(চলবে...)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/252965/</link>
				<pubDate>Wed, 03 Jun 2026 13:12:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এটা আমার শেষ নয়<br />
পর্ব ২:কাঠের দেয়াল<br />
সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। সময়ের মূল্য যারা বোঝে না, কিংবা যাদের আমরা গুরুত্ব দিই না, সময় তাদের আমাদের জীবন থেকে ছিনিয়ে নেয়—সে মানুষ হোক বা কোনো বস্তু।-আয়াজ রহমান<br />
হঠাৎ কানে এলো একটানা &#8216;বিপ&#8230; বিপ&#8230; বিপ&#8230;&#8217; শব্দ। আয়াজ ধীরস্থিরভাবে চোখ মেলে তাকাল। চারপাশটা ঝাপসা, তবে ধীরে ধীরে দৃশ্যপট স্প&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-252965"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/252965/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d95a0205351111edc25fcab2c2840586</guid>
				<title>এটা আমার শেষ নয়
পর্ব ১: শুরু শেষ, কিন্তু শেষ নয়
&quot;সে কখনো বিদায় বলেনি... কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে, তার নীরবতাই আমার জীবনে শোনা সব শব্দের চেয়ে বেশি জোরে প্রতিধ্বনিত হয়েছে।&quot;
— আয়াজ রহমান
২০১১ সাল
জানলার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল তানহা। বাইরের আবহাওয়াটা আজ অদ্ভুত সুন্দর; না খুব বেশি ঠান্ডা, না খুব বেশি গরম। ঠিক এমন এক স্নিগ্ধ সকাল
তানহা লক্ষ্য করল পাশের বাড়িতে একটি নতুন পরিবার এসেছে। শুনল ওরা রাজধানী থেকে এসেছে। পরিবারে বাবা, মা, একটি মেয়ে আর একটি ছেলে।
তানহার বয়স তখন মাত্র এগারো। ছেলেটিকে দেখে মনে হলো সেও ওর সমবয়সী। কিন্তু ছেলেটির দিকে তাকিয়ে তানহার মনের ভেতর এক অজানা প্রশান্তি খেলে গেল। ঘোর কাটল বাবার ডাকে। &quot;তানহা!&quot; &quot;আসছি বাবা!&quot; তানহা সাড়া দিল।
তানহার পুরো নাম তানহা মির্জা। বাবা করিম মির্জা আর ছোট বোন চার বছরের তারিন। তারিনের জন্মের সময় তাদের মা মারা যান। স্ত্রীর শোক আর দুই মেয়ের দেখাশোনার জন্য করিম সাহেব নিজের ব্যবসা গুটিয়ে নেন। লোকে বলে, স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি পাগলপ্রায় হয়ে গিয়েছিলেন, তাই ব্যবসা সামলাতে পারেননি। তবে বিদেশে দশ বছর থেকে তিনি যা উপার্জন করেছিলেন, তাতে তাদের অভাব নেই।
তানহা ছোটবেলা থেকেই দেখেছে তার বাবা তার মাকে কতটা ভালোবাসতেন। মা সামান্য অসুস্থ হলেই বাবা অস্থির হয়ে যেতেন। তানহা মনে মনে চাইত, তার জীবনেও যেন এমন একজন আসে, যে তাকে এইভাবেই আগলে রাখবে।
মি. করিম:
&quot;আমি প্যানকেক বানিয়েছি। তুমি আর তারিন খেয়ে নিও। আমি একটু বাইরে যাচ্ছি, দরজা ভালো করে লক করে রাখবে।&quot;
তানহা:
&quot;ঠিক আছে বাবা। কিন্তু কখন ফিরবে?&quot;
মি. করিম:
&quot;তিন ঘণ্টার মধ্যে।&quot;
এই বলে তিনি বেরিয়ে গেলেন।
তানহা দরজা লক করে তারিনকে ডাকতে গেল।
তারিন তখন রান্নাঘরে বসে প্যানকেক খাচ্ছিল।
সেই সকালেই দরজায় বেল বাজল। তানহা দরজা খুলে দেখল সেই ছেলেটি দাঁড়িয়ে। শান্ত, নিশ্চুপ। &quot;কে তুমি?&quot; তানহা প্রশ্ন করল। &quot;আমি তোমাদের নতুন প্রতিবেশী। আজই এসেছি। তোমাদের কাছে কি ইলেকট্রিশিয়ানের নম্বর হবে?&quot; তানহা নম্বরটা দিয়ে দিল। ছেলেটি কোনো কথা না বলে চলে গেল।
পরদিন স্কুলে
তানহা স্কুলে গেল। তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু ছিল ঐশী —শৈশবের বন্ধু, প্রায় বোনের মতো।
ক্লাসে হঠাৎ শিক্ষক বললেন—
&quot;আজ থেকে আমাদের ক্লাসে নতুন ছাত্র আসছে।&quot;
সবার দৃষ্টি দরজার দিকে গেল।
সেই ছেলেটি ঢুকল।
&quot;হ্যালো, আমি আয়াজ রহমান। আমি রাজধানী থেকে এসেছি। আমার পরিবারে বাবা, মা আর বড় বোন আছে।&quot;
শিক্ষক হাসলেন।
&quot;ধন্যবাদ আয়াজ
। তুমি সামনে খালি সিটে বসো।&quot;
তানহা তাকে দেখে অবাক হয়ে গেল।
আয়াজকে তানহাদের সামনের সিটেই বসতে দেওয়া হলো। তানহা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, কিন্তু আয়াজ
যেন তাকে চিনতেই পারল না।
টিফিন পিরিয়ডে তানহা ও ঐশী আয়াজের কাছে গেল। &quot;হাই! চিনতে পারছ? কাল আমাদের বাসা থেকে নম্বর নিয়েছিলে।&quot; আয়াজ তানহার দিকে তাকাল, কিন্তু তার চোখে ভেসে উঠল অন্য দৃশ্য। কাল নম্বর নিয়ে যাওয়ার পর তার বাবা তাকে চড় মেরেছিলেন দেরি হওয়ার জন্য।
দেখেছিল তার বাবা-মায়ের সেই চিরচেনা তিক্ত ঝগড়া। বড় বোন আয়েশা তাকে জড়িয়ে ধরে রক্ষা করার চেষ্টা করছিল।
বর্তমানে ফিরে এসে আয়াজ কোনো উত্তর না দিয়ে উঠে চলে গেল। ঐশী বিরক্ত হয়ে বলল, &quot;কী অসভ্য ছেলে! এর সাথে কথা বলার দরকার নেই।&quot;
তানহা কিছু বলল না, কিন্তু তার ভেতরে কেমন যেন  অনুভূতি রয়ে গেল।
 স্কুলের ছুটি হলো। আয়াজ হেঁটে বাসায় ফিরছে, আর তানহা ওর পিছন পিছন হাঁটছে; যেহেতু ওদের দুজনের বাসা একই দিকে। আয়াজ হঠাৎ কী যেন মনে করে থমকে দাঁড়াল। তারপর তানহার কাছে গিয়ে (কিছুটা বিরক্তির স্বরে) বলল:
আয়াজ: তুমি কি আমাকে ফলো করছো?
তানহা: তোমাকে ফলো করার কোনো ইচ্ছাই আমার নেই। আমার বাসা এই দিকেই।
আয়াজের তখন মনে পড়ল— &quot;ও হ্যাঁ, ওর বাসা তো এই দিকেই!&quot; এরপর আয়াজ আবার হাঁটতে শুরু করল।
&#x1f319; সময়ের সাথে সাথে
স্কুলে তারা প্রায়ই ঝগড়া করত, আবার কখনও চুপচাপ একে অপরকে সাহায্য করত।
আয়াজ বাইরে থেকে কঠিন ছিল, কিন্তু ভেতরে ছিল ভাঙা।
তানহা সেটা বুঝতে পারত।
ধীরে ধীরে, না চাইলেও তার মনে জায়গা করে নিল আয়াজ ।
২০১৩ সাল।
আয়াজের বড় বোন আয়েশা পড়াশোনার জন্য অন্য শহরে চলে যাচ্ছে। (বয়সে সে তার চেয়ে ছয় বছরের বড় ছিল।আর সুন্দর? তার মতো সুন্দর মেয়ে খুব কমই দেখা যায়। চেহারা, ব্যক্তিত্ব, উপস্থিতি— সবদিক থেকেই যেন সে ছিল নিখুঁত।)
 যাওয়ার আগে সে আয়াজকে  বলল,
আয়েশা: আয়াজ, একটা কথা মনে রাখবি— যারা আমাদের যত্ন করে, আমাদেরও উচিত তাদের যত্ন নেওয়া। কারণ সত্যিই যত্ন করার মতো মানুষ এই পৃথিবীতে খুব কম থাকে। তুই নিজের খেয়াল রাখিস ভাই।
আয়াজ: এই কথার মানে কী আপু?
আয়েশা: সময় আসুক, সময় হলেই সব বুঝতে পারবি। কিন্তু আমার এই কথাটা সবসময় মনে রাখিস
( আয়াজ তখন অঝোরে কাঁদছিল।)
আয়েশা: কাঁদছিস কেন? আমি তো মাঝেমধ্যে আসব তোকে দেখতে।
আয়াজ: তুমি না থাকলে আমাকে কে দেখে রাখবে আপু?
আয়েশা: (একটু হেসে) কেন, তানহা আছে না?
আয়েশা হাসলেও আয়াজের মন শান্ত হলো না। সে আকুতি করে বলল:
 তুমি আমাকে তোমার সাথে নিয়ে যাও আপু। আমি আর এই জাহান্নামে (নিজের বাসায়) থাকতে চাই না।
আয়েশা আয়াজ কে জড়িয়ে ধরল, কিন্তু কোনো উত্তর দিতে পারল না। সে জানত তাদের বাবা-মা কতটা বিষাক্ত । এরপর আয়েশা চলে গেল।
আয়েশা চলে যাওয়ার পর আয়াজ পার্কে একা বসে কাঁদছিল। তানহা এসে তাকে একটি চকলেট দিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করল।পার্কে আসা সাধারণ মানুষগুলো পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল। কেউ কেউ মুখ টিপে হাসছিল, কেউ আবার বিরক্তির স্বরে বলছিল— &quot;দেখো কাণ্ড! ধামড়া একটা ছেলে মাঝরাস্তায় বসে মেয়েদের মতো হাউমাউ করে কাঁদছে। কোনো লজ্জা-শরম নেই!&quot;
পেছন থেকে একদল তরুণ বিদ্রূপ করে বলল, &quot;নিশ্চয়ই প্রেমে ছ্যাকা খেয়েছে! &quot;
মানুষের এই আজেবাজে কথা আর বাঁকা চাউনি আয়াজের কানে যাচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু ওর প্রতিবাদ করার মতো শক্তি ছিল না। আশেপাশের মানুষ আজেবাজে কথা বলছিল, কিন্তু তানহা সেসব গায়ে মাখল না। সে শুধু জানত, এই একরোখা ছেলেটার আড়ালে এক আকাশ কষ্ট লুকিয়ে আছে। সে আয়াজকে একা ফেলে যাবে না।
২০২৫ সাল।
টেলিভিশনের পর্দায় ব্রেকিং নিউজ— সুপারস্টার আয়াজ রহমান আবার এক সাংবাদিকের গায়ে হাত তুলেছেন। নিজের বিলাসবহুল বাসায়  মদ খাচ্ছিল আয়াজ । তার ম্যানেজার অস্থির হয়ে বললেন,
ম্যানেজার: এসব কী হচ্ছে আয়াজ ? আজ আবার নিজেকে এমন তর্কের মুখে ফেললে! তোমার ক্যারিয়ার তো এভাবে শেষ হয়ে যাবে। তুমি এখন সুপারস্টার, এমন ভাবমূর্তি তোমার জন্য কতটা ক্ষতিকর সেটা কি বুঝতে পারছ?
আয়াজ: (মদের গ্লাসে চুমুক দিয়ে) জীবনটাই তো শেষ হয়ে গেছে, আর আপনি পড়ে আছেন আমার ইমেজ নিয়ে!
আয়াজ আরও বেশি করে ড্রিঙ্ক করতে শুরু করল। নেশায় চুর হয়ে সে যখন বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে চাইল, তখন ম্যানেজার তাকে বাধা দিলেন।
ম্যানেজার: কোথায় যাচ্ছ তুমি? এই মাতাল অবস্থায় বাইরে যেও না!
আয়াজ ম্যানেজারের কথা কানেই তুলল না। তুলবে কী করে, সে তো তখন নিজের মধ্যেই নেই। ম্যানেজার তাকে আটকানোর জন্য ধরতে গেলে আয়াজ সজোরে একটা ধাক্কা দিয়ে তাকে ফেলে দিল। এরপর সে টলমল পায়ে নিজের গাড়িতে গিয়ে বসল এবং ড্রাইভ করে নদীর ধারে চলে এল।
চারপাশে এক গুমোট হাওয়া বইছিল। ঝোড়ো বাতাসে আয়াজের চুলগুলো এলোমেলো হয়ে উড়ছে। মৃত্যুর খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আয়াজের মুখে তখন এক তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল।
সে চিৎকার করে বলল, &quot;আজ আমি নিজেকে এই কষ্ট থেকে মুক্তি দেব!&quot;
নদীতে ঝাঁপ দিল আয়াজ । জলের সেই অতল গহ্বরে আয়াজের দম যখন প্রায় বন্ধ হয়ে আসছিল, ফুসফুস ফেটে যাওয়ার মতো যন্ত্রণায় সে যখন ছটফট করছিল, ঠিক তখনই তার ঝাপসা চোখের সামনে এক অলৌকিক দৃশ্য ভেসে উঠল।
সে দেখল, চারপাশের নীলচে অন্ধকার ভেদ করে তানহা তার দিকে এগিয়ে আসছে। ঠিক যেন কোনো এক মৎস্যকন্যার মতো  সাবলীল ভঙ্গিতে সে সাঁতরে আসছে আয়াজের দিকে। জলের নিচে তানহার সেই দীর্ঘ চুলগুলো ঢেউয়ের মতো খেলছিল, আর তার শরীরের প্রতিটি ভঙ্গি ছিল মায়াবী।তখন ঠিক সেই মুহূর্তে কানে ভেসে এল আপুর সেই কথা— &quot;যারা আমাদের কেয়ার করে, তাদের কেয়ার করা উচিত।&quot;
হঠাৎ এক ঝলক ঠান্ডা হাওয়া আয়াজ কে ছুঁয়ে গেল। চোখ মেলে সে দেখল এক অপার্থিব জগৎ। চারপাশে রঙিন ফুল, পাখি আর প্রজাপতি। পাশে বৃক্ষাকৃতির ঘড়ি , যা থমকে আছে।
টিক... টিক... কোনো শব্দ নেই।
পাখিগুলো ছিল সেখানে, কিন্তু একটুও নড়ছিল না।
প্রজাপতিগুলো শূন্যে  ডানা মেলে স্থির হয়ে ছিল।
মনে হচ্ছিল, সময় নিজেই যেন... ভেঙে পড়েছে।
তারপর সে  দেখল সামনে সাদা গাউন পরা একটি মেয়ে— তার প্রিয় তানহা।
তানহা কাছে এসে হাসল। তার চুলের সুবাসে চারপাশ ম ম করছে। আয়াজ চোখে পানি চলে এল।
আয়াজ তাকে স্পর্শ করতে যেতেই তানহা সোনালি ধূলিকণার মতো বাতাসে মিলিয়ে গেল। সাথে সাথে সেই মৃত ঘড়িটি সচল হয়ে উঠল— টিক টিক টিক...
আয়াজ স্থির হয়ে গেল।
তার শ্বাস যেন থমকে গেল।
তার চারপাশের পৃথিবী আবারও অন্ধকারে ঢেকে গেল।
আর হঠাৎই, এক ঝড়ের মতো বাস্তবতা তাকে আঘাত করল।
সে কোনো স্বপ্নে ভেসে নেই।
সে অন্য কোনো জগতেও নয়।
আয়াজ বুঝতে পারল, সে আসলে একটি কফিনে বন্দি। জীবনের ঘড়িটি হয়তো শেষ বারের মতো চলার সংকেত দিচ্ছে।
(চলবে...)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/252950/</link>
				<pubDate>Wed, 03 Jun 2026 08:32:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এটা আমার শেষ নয়<br />
পর্ব ১: শুরু শেষ, কিন্তু শেষ নয়<br />
&#8220;সে কখনো বিদায় বলেনি&#8230; কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে, তার নীরবতাই আমার জীবনে শোনা সব শব্দের চেয়ে বেশি জোরে প্রতিধ্বনিত হয়েছে।&#8221;<br />
— আয়াজ রহমান<br />
২০১১ সাল<br />
জানলার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল তানহা। বাইরের আবহাওয়াটা আজ অদ্ভুত সুন্দর; না খুব বেশি ঠান্ডা, না খুব বেশি গরম। ঠিক এমন এক স্নিগ্ধ সকাল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-252950"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/252950/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">335fa0fedc97dae6fa42f663fd9c92c1</guid>
				<title>Violet Rose changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/252948/</link>
				<pubDate>Wed, 03 Jun 2026 08:29:22 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>