Profile Photo

Rahman anisurOffline

  • anisur1969
  • Profile picture of Rahman anisur

    Rahman anisur

    4 years ago

    আমাদের গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলাঃ-
    আনিছুর রহমানঃ
    সভ্যতার ক্রমবিকাশ আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার সাড়া জাগানো আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য খেলা ধুলা। শৈশবে যে সব খেলাধুলা সবাই খেলেছেন আজকের বয়ো বৃদ্ধরা সে সব খেলাধুলা না দেখতে পেয়ে তারাও এখন ভুলে গেছেন বহু খেলার নাম।

    এক সময় গ্রামের শিশু ও যুবকেরা পড়া শুনার পাশা পাশি বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় অভ্যস্ত ছিল। তারা অবসরে গ্রামের মাঠে দল বেধে খেলতো এ সব খেলা। আর খেলাধুলার মাধ্যমে শৈশবে দুরন্তপনায় জড়িয়ে থাকতো ছেলে মেয়েরা। কিন্তু মাঠ বিল ঝিল হারিয়ে যাওয়ায় আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া ও কালের বিবর্তনে মহাকালের ইতিহাস থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে এসব খেলাধুলা।

    এই সকল খেলাধুলা গ্রামীণ বাংলা আর আমাদের আদি কালের ক্রীড়া সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহন করে। তাই এ সব খেলাধুলা এক সময় আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বলে বিবেচিত হত।

    নতুন প্রজন্মের কাছে এগুলো এখন শুধুই গল্প। আবার প্রাশ্চাত্যের আধুনিক খেলাধুলার কারনে বর্তমান এই সমস্ত খেলার নাম শুনে কেহ কেহ হাসে। আমাদের দেশে এক সময় গ্রামীণ খেলা দেখার জন্য শত শত মানুষের ঢল নামতো খেলা প্রাঙ্গণে। খেলা দেখে কিযে আনন্দিত হতো সবাই। যেমন- নৌকা বাইচ, হাডুডু, লাঠি খেলা ইত্যাদি। কিন্তু এখন গ্রামে খেলার মাঠ আর নদী, খাল, বিল শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এই সব খেলা শুধুই স্মৃতি।

    তাছাড়া বিদেশী খেলা আমাদের দেশে ঢুকে পড়ার কারনে আর মিডিয়ার বদৌলতে এখন দেশী খেলা কেউ দেখতে চায় না। এক সময় দাদা, নানারা,বাপ, চাচারা ও এ দেশের ছেলে মেয়েরা গ্রামীণ খেলাকে প্রধান খেলা হিসেবে খেলতো। গ্রামের এই সব খেলা গুলোর মধ্যে হাডুডু, দাঁড়িয়াবন্ধা,গোল্লাছুট, বৌছি, চোর ডাকাত, রশি খেলা, বেতখেলা, পুতুল, লুডু, লুকোচুরি, কুতকুত, কানামাছি, ডাংগুলি, সব চেয়ে জনপ্রিয় খেলা ছিলো।

    গ্রামীণ এসব খেলাধুলা ছিল প্রতিভা বিকাশের অন্যতম বিনোদন ও স্বাস্হ্য সচেতন মুলক খেলা। যা আমাদের আদি ক্রিড়া সংস্কৃতি। এসব খেলাধুলা আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করতো। বর্তমানে গ্রামীণ খেলাধুলা বিলুপ্ত হতে হতে অস্তিত্ব খুজে পাওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা খেলাসমুহ থেকে সামান্য কিছু খেলার নাম আজ তুলে ধরার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশে এই সব খেলাধুলা সর্বাধিক পরিচিত ও খুব জন প্রিয়
    ছিল।
    ১. ইচিং বিচিং ২. ওপেনটি বায়োস্কোপ ৩. কড়ি খেলা ৪. কানা মাছি ৫. লাঠি খেলা ৬. কাবাডি ৭. কুতকুত ৮. গোল্লাছুট ৯. ষাড়ের লড়াই ১০. বউ চি ১১. টোপাভাতি/ জুলাভাতি ১২. ডাংগুলি ১৩. দাঁড়িয়া বান্ধা ১৪. নুনতা ১৫. নৌকা বাইচ ১৬. পুতুল খেলা ১৭. ফুল টোকা ১৮. বাঘ ছাগল ১৮. মার্বেল ১৯. মোরগ লড়াই ২০. লুডু ২১. ষোলো গুটি ২২. এক্কা দোক্কা ২৩. এলাটিং বেলাটিং ২৪. ঘুড়ি উড়ানো ২৫. গাইগো দানি/ কত’দু ২৬. পানি ঝুপ্পা ২৭. গোলাপ টগর ২৮. রুমাল চুরি ২৯. ফুটবল ৩০. চার গুটি ৩১. তাস খেলা ৩২. চাড়াখেলা ৩৩. বাঘ ছাগল ৩৪. লাটিম ৩৫. চোর ডাকাত ৩৬. চেয়ার সাজানো ৩৭. হাড়ি ভাঙ্গা ইত্যাদি।

    কিছু কিছু খেলা আমাদের স্কুল গুলোতে প্রতি বছর বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতায় এখন ও অনুষ্ঠিত হয়। এই খেলা গুলো দিয়ে গ্রামীণ খেলার প্রতিযোগিতায় ক্রিড়া মোদীদের শ্রেষ্ঠত্বের মেধা বিকাশের মান দন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
    আমাদের গ্রামীণ ক্রিড়া সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে অবশ্যই গ্রামীণ ফেডারেশন গঠন করা জরুরী। যাতে করে আগামী প্রজন্ম আমাদের গ্রামীণ খেলাকে জানতে পারে।ভুলে না যায় আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য। ছোট বেলার খেলা গুলোর সাথে সবাইকে পরিচয় করার জন্যই আজকের এই আয়োজন।

    কিছু খেলা আছে যা শুধুমাত্র কেবল মেয়েরাই খেলে। মেয়েরা ফুটবল বা ক্রিকেট তেমন একটা খেলে না আর সে কারনেই হয়তো তাদের খেলাগুলো এখন ও অল্প বিস্তর টিকে আছে। বাংলাদেশের মেয়েদের সব চেয়ে প্রিয় দুটো খেলা হলো টোভাতি/ জুলাভাতি ও পুতুল খেলা। এছাড়া আছে এক্কা, দোক্কা, কড়ি খেলা, গুটি খেলা, এলাটিং বেলাটিং, ওপেনটি বায়োস্কোপ ইত্যাদি।
    আবার কিছু খেলা আছে ছেলেরা এখন ও গ্রামে জনপ্রিয় খেলা হিসেবে খেলে থাকে। যেমন – ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, দাঁড়িয়াবন্ধা, মার্বেল, লাটিম, ডাংগুলি, ঘুড়ি উড়ানো, নৌকা বাইচ ইত্যাদি।
    ঘরে বসে মেয়েরা পুতুল খেলতে বেশী পছন্দ করে। এমন মেয়ে খুজে পাওয়া যাবেনা যে ছোটবেলায় পুতুল খেলে নাই। আবার ছেলেরা ফুটবল, ক্রিকেট, তাস, লুডু, ঘুড়ি এগুলো সবাই খেলতে পছন্দ করে থাকে।

    অবশেষে, বর্তমান যুগে প্রযুক্তি ও মিডিয়ার ব্যবহার ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের গোটা বিশ্ব। আমাদের একটু চেষ্টাই পারে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করাতে এই সব খেলার সাথে। যা আমাদের ইতিহাস, গর্ব আর শেকড়কে টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী ভুমিকা রাখতে পারে এর মাধ্যমে। তাই এই খেলাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া গুরত্ব পূর্ণ অবদান ও শক্তিশালী ভুমিকা রাখতে পারে।
    ৩১/০৫/২০২২.

    8
    2 Comments
    • দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না…

    • দরকারী লেখা। শেকড়ের স্মৃতিগুলো জমা থাক। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নেবেন।

Skip to toolbar