Profile Photo

Ashik MokamiOffline

  • ashikmokami
  • Profile picture of Ashik Mokami

    Ashik Mokami

    • 6 days, 22 hours ago

    উপকথা নভেম্বর ৮
    😅😅😅😅😅😅😅😅😅😅😅😅😅😅

    স্পর্শকলা

    আশিকের চাকরি নেই, সিনার চাকরি আছে কিন্তু সেটা নিয়ে পার্টিতে কথা বলা যায় না, কারণ সে মর্গের পাশে “চিরশান্তি সাজঘর” নামের দোকানে লাশের মেকআপ করে, আর একদিন রাতে ম্যাগি খেতে খেতে সিনা বলল, “দশ বছরে আমার একটা কাস্টমারও কমপ্লেইন করে নাই, কিন্তু একটা ‘বাহ্‌’ও বলে নাই, জিরো ফিডব্যাক,” আশিক বলল, “আমার তো ফিডব্যাকই সমস্যা, ইন্টারভিউতে বলল প্যাশন আছে স্কিল নাই,” তখন সিনা চামচ নামিয়ে বলল, “তোর প্যাশন আছে, আমার ফিডব্যাক দরকার, আজ থেকে তুই দর্শক আর আমি গ্যালারি,” আশিক বলল, “মানে?” সিনা বলল, “মানে মানুষের শরীরটা একটা প্রদর্শনী, প্রতিটা জায়গা একেকটা ঘর, আর একই ছোঁয়া একেকজনের কাছে একেক রকম লাগে বলেই এটা শিল্প, তুই ছুঁবি, আমি বলব কেমন লাগল, তুই খাতায় লিখবি, এর নাম স্পর্শকলা আর এই প্রদর্শনীর নাম সিনার গ্যালারি,” আশিক জিজ্ঞেস করল এটা দিয়ে খাবে কী, সিনা বলল, “আগে আর্টের পেট ভরুক, তোর পেট পরে,” তারপর সে সোফায় চিত হয়ে শুয়ে চুলের ক্লিপটা বুকের ওপর রেখে বলল, “এটা লাল কার্ড, তুললেই সব বন্ধ, কোনো প্রশ্ন নাই, কোনো অভিমান নাই,” আর আশিক হাত ধুয়ে এসে খাতা খুলে দর্শকের গাম্ভীর্য নিয়ে প্রথম ঘরের দরজায় দাঁড়াল, মাথার তালুতে দুই আঙুল ঘষতেই সিনা বলল, “রিসেপশন, মনে হচ্ছে কেউ বলছে স্যার একটু বসুন, স্যার আসছেন, কিন্তু স্যার আর আসে না,” কপালে হাত রাখতেই বলল, “জ্বর দেখার ঘর, কেউ চিন্তা করছে আবার ভাবছে আমি অভিনয় করছি,” ভুরুতে আঙুল বোলাতেই বলল, “রাজনীতি, ডানে টানলে বিস্ময়, বাঁয়ে টানলে সন্দেহ,” কানের লতিতে বলল, “ছুটির আগের দিন, আট বাই দশ,” ঘাড়ের পেছনে বলল, “ঘাড়ে হাত পড়লেই মনে হয় কেউ বলবে ভাই একটু কথা ছিল, ভয় আর আরামের কম্বো,” কাঁধে বলল, “এখানে পুরো মাসের বাজারের লিস্ট বসে আছে, একটু বেশিক্ষণ থাক,” কণ্ঠার হাড়ের খাঁজে আশিকের আঙুল থামতেই সিনা চোখ বন্ধ করে বলল, “এইটা ছোট্ট একটা বারান্দা, বৃষ্টি দেখার জন্য বানানো,” আর আশিক খাতায় লিখল, ‘বারান্দা, বৃষ্টি, সময় লাগবে,’ তারপর কনুইয়ের ভাঁজে সিনা বলল, “অকারণ বিষণ্ণ, রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস ইট্‌স কমপ্লিকেটেড,” হাতের তালুতে বলল, “ছোট্ট অফিস যেখানে সারাদিনের হিসাব জমা,” আঙুলের ডগায় বলল, “ফেসবুকে যে মন্তব্য লিখে মুছে ফেলা হয়েছিল, সেটা এখানে লুকানো,” পাঁজরে আশিক আঙুল রাখতেই সিনা এমন হেসে উঠল যে ক্লিপটা মেঝেতে গড়িয়ে গেল, ক্লিপ কুড়িয়ে আশিক দুই হাতে সেটা ফেরত দিয়ে বলল, “ভুল করলে বলিস, আমি ঘর বন্ধ করে দেব,” সিনা বলল, “এটা সুড়সুড়ি না, এটা হাসি আর কান্নার সীমান্ত, ভুল ছুঁলে আন্তর্জাতিক সংকট,” তারপর মেরুদণ্ড বেয়ে নামতে নামতে সে বলল, “প্রতিটা কশেরুকায় একেকটা সিজন, ধারাবাহিক নাটক,” কোমরের পাশে আশিক আঙুল ছোঁয়াতেই সিনার কনুই ছুটে এসে তার পাঁজরে লাগল আর সে বলল, “সুড়সুড়ির রাজধানী, এখানে আর্টিস্ট ভুল করলে আর্টিস্টই মার খায়,” নাভির চারপাশে ধীরে বৃত্ত আঁকতেই সিনা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “গোল ঘর, সবাই ঢোকার আগে একবার থমকে দাঁড়ায়,” হাঁটুর পেছনে বলল, “এইটা পলিটিক্যাল, মনে হলো কেউ আমার ভোট চুরি করছে,” গোড়ালিতে বলল, “পুরনো সিনেমার শেষ দৃশ্য, কেউ চলে যাচ্ছে আর পেছনে সানাই,” আর পায়ের তলায় আশিকের আঙুল পড়তেই সিনা এক ঝটকায় পা টেনে নিয়ে বলল, “এইটা শিল্প না, এটা অত্যাচার, প্রতিবাদী ঘরানা, দর্শক শিল্পীকে লাথি দেয়,” আশিক মেঝে থেকে উঠে খাতায় লিখল ‘পায়ের তলা: বিপজ্জনক, হেলমেট লাগবে,’ তারপর সিনা সোজা হয়ে বসে গলা পরিষ্কার করে বলল, “এবার গোপন তলা,” আশিক ঢোক গিলে বলল, “গ্লাভস?” সিনা বলল, “গ্লাভস, কারণ এখানে ঢোকার নিয়ম হলো প্রথমে ভদ্রতা, তারপর শিল্প,” সে ড্রয়ার খুলে সার্জিক্যাল গ্লাভস, উলের গ্লাভস আর একজোড়া রান্নাঘরের ওভেন গ্লাভস বের করল, আশিক ওভেন গ্লাভস পরে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমাকে তো বিস্কুট বানাতে এসেছি মনে হচ্ছে,” সিনা বলল, “তুই এখন অভিব্যক্তিবাদী, ওটা খুলে উলেরটা পর,” উলের গ্লাভস পরে আশিক প্রথমে বাহুর ভেতরের দিকের নরম ঘরটায় গেল, যেখানে সিনার ঘাম আর শ্যাম্পুর গন্ধ মিলেমিশে ছিল, সিনা বলল, “এইটা গোপন দরজার সামনের বারান্দা, আরামের, কিন্তু জানি এরপর কী,” তারপর আশিক উরুর ভেতরের দিকে, পিঠের নিচের সেই দুটো ছোট্ট গর্তে, কোমরের বাঁকে, মেরুদণ্ডের একদম শেষে, আর যেসব ঘরের নাম ভদ্রসমাজে ফিসফিস করে বলা হয় তার দরজায় দরজায় ধীরে ধীরে হাত রাখল, প্রতিবার সে একবার থেমে জিজ্ঞেস করল, “ঠিক আছে?” আর সিনা প্রতিবার চোখ বন্ধ রেখেই বলল, “হ্যাঁ, এবার এই ঘরটার ব্যাখ্যা আমি দিচ্ছি, ‘উনিশশো আটানব্বইয়ের বিশ্বকাপ জেতার মুহূর্ত, পুরো পাড়া ছাদে’,” আরেক ঘরে বলল, “ভোরের প্রথম আজান, কিন্তু আমি ঘুমাইনি, আমি অপেক্ষা করছিলাম,” আরেক ঘরে কিছুই বলল না, শুধু আশিকের কবজি আঁকড়ে ধরে রাখল, আর আশিক খাতায় লিখল, ‘এই ঘরে মন্তব্য নাই,
    মন্তব্যই এই ঘরের সবচেয়ে বড় মন্তব্য,’ একবার আশিক অতি উৎসাহে একটু বেশি এগিয়ে গেলে সিনা শান্ত গলায় ক্লিপটা তুলে ধরল, আর আশিক বিদ্যুতের গতিতে হাত সরিয়ে মাথা নুইয়ে বলল, “ঘর বন্ধ, ধন্যবাদ, ভুল আমার,” সিনা হেসে বলল, “এটাই আসল শিল্প, দর্শক জানে কখন থামতে হয়,” মিনিট দশেক পর সে নিজেই ক্লিপটা নামিয়ে রেখে বলল, “ঘর আবার খোলা, তবে এবার গ্লাভস ছাড়া,” আশিক সঙ্গে সঙ্গে উলের গ্লাভস খুলতে গিয়ে একটা আঙুল আটকে ফেলল আর তিন মিনিট ধরে নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করল, সিনা সোফায় হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ে বলল, “আর্টিস্ট স্টেটমেন্ট দে, দর্শকের হাত খোলা অবস্থায় কেমন লাগছে?” আশিক বলল, “ভয় লাগছে, অথচ আজ সকালে ইন্টারভিউতে এতটা লাগেনি,” আর তারপর খালি হাতে সে যখন সিনার গলার পাশ থেকে কাঁধ, কাঁধ থেকে পিঠ, পিঠ থেকে কোমরের বাঁক পেরিয়ে সেই গোপন ঘরগুলোর একটার ভেতর হাত বাড়াল, ওই ঘরে কী হলো সেটা গ্যালারির নিয়মে দরজার বাইরেই থাকবে, শুধু এটুকু বলা যায় যে সেদিন খাতা আর লেখা হয়নি, আশিকের কলম মেঝেতে পড়ে ছিল, ঘড়ির কাঁটা এগারোটা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, আর জীবনে প্রথমবার সিনা ছাদের দিকে তাকিয়ে আলতো করে বলেছিল, “বাহ্‌,” পরদিন সকালে সিনা কাজে গেল, টেবিলে নতুন ক্লায়েন্ট এক বয়স্ক ভদ্রলোক, সে অভ্যাসমতো চুল ঠিক করল, ঠোঁটে হালকা রং দিল, তারপর কী মনে করে ভদ্রলোকের কনুইয়ের ভাঁজে একবার আঙুল বোলাল, কোনো প্রতিক্রিয়া নেই, শুধু ঠান্ডা, স্থির, চুপ, সিনা একটু হেসে বলল, “আপনি তো কিছুই বললেন না, তবু আপনাকে সাত বাই দশ দিলাম, নীরবতাও একধরনের রিভিউ, আর জানেন, কাল রাতে আমি জীবনে প্রথম একটা ‘বাহ্‌’ বলেছি,” ঠিক তখনই আশিকের মেসেজ এল, ‘সিনার গ্যালারি: পাঁচ তারকা, দ্বিতীয়বার যাব, টিকিট ফ্রি আছে তো?’ আর সিনা ফোনের স্ক্রিনে আঙুল ঘষে লিখল, ‘আগে আর্টিস্ট স্টেটমেন্ট দিস, আর আসার সময় গ্লাভস ধুয়ে আনিস,’ তারপর পাঠিয়ে দিয়ে ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনি কিন্তু কাউকে বলবেন না,” আর টেবিলের ওপর শুয়ে থাকা মানুষটি, জীবনে প্রথমবার, তার সবচেয়ে বিশুদ্ধ দর্শকের ভূমিকায়, চুপ করে রইল।

    1
    3 Comments
    • Ashik Mokami, আপনার এই লিখনশৈলীতে মানবিক অনুভূতির যে সূক্ষ্ম পরশ ফুটে উঠেছে, তা সত্যিই অসাধারণ এবং ‘এই ঘরে মন্তব্য নাই, মন্তব্যই এই ঘরের সবচেয়ে বড় মন্তব্য’—আপনার এই লাইনটি আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। আপনি এই অসাধারণ রচনার মাধ্যমে যেভাবে নীরবতাকে শিল্প হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছেন তা অতুলনীয়; আশা করছি আপনি এমন সুন্দর লেখা নিয়মিত আমাদের উপহার দেবেন এবং অন্যদের লেখাতেও লাইক বা মন্তব্যের মাধ্যমে সরব থেকে আমাদের এই আঙিনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবেন।

    • সম্মতির কোমল ছোঁয়ায় স্পর্শও একদিন শিল্প হয়ে ওঠে…..🤍🖤

    • আপনার লেখাটির “এই ঘরে মন্তব্য নাই, মন্তব্যই এই ঘরের সবচেয়ে বড় মন্তব্য” লাইনটি ভীষণ গভীর আর আবেগী, আপনার কি মনে হয় সব অনুভূতির জন্য শব্দের প্রয়োজন আছে?

Skip to toolbar