Profile Photo

মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেলOffline

  • Ashraful710
  • সূর্য দ্বারা পারিপার্শ্বিক আন্তঃনাক্ষত্রিক পদার্থে তৈরি বুদবুদের মত সূর্যের চারপাশে মহাজাগতিক বিশাল অঞ্চলটিকে সৌরমণ্ডল বলে। এই বুদবুদ ক্রমাগতভাবে সূর্য থেকে সৃষ্ট Plasma বা সৌর প্রাণরস দ্বারা স্ফীত হয়। উল্লেখ্য যে, আয়নিত গ্যাস এবং ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত পদার্থের চতুর্থ অবস্থাকে (কঠিন, তরল ও বায়বীয় এর পরের অবস্থাই হচ্ছে চতুর্থ অবস্থা) Plasma বলে । সৌরমণ্ডলের বাইরে সৌর প্রাণরস (Plasma) আকাশগঙ্গা ছায়াপথ থেকে প্রবেশ করা আন্তঃনাক্ষত্রিক প্রাণরসের (Plasma) সাথে মিশে যায়। সৌরমণ্ডলের অভ্যন্তরে মহাজাগতিক রশ্মির পরিমাণ বাইরের অঞ্চল থেকে কম থাকার কারণে অভ্যন্তরে ও বাইরে বিকিরণ মাত্রার পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। ফলে সৌরমণ্ডলের অভ্যন্তরীণ গ্রহ পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহগুলি এর প্রভাব থেকে রক্ষা পায়।
    জলন্ত অগ্নিপিণ্ড সূর্য যখন ছায়াপথে পরিভ্রমণ করে তখন সৌরঝড় ও নাক্ষত্রিক গ্যাসের মধ্যে সংঘর্ষ হয় । ফলে সূর্যের চারপাশ ও গ্রহগুলির আশেপাশে এক সুবিশাল বুদবুদ, যা সৌর উপাদান এবং চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত এই অঞ্চলটি Heliosphere। NASA এর বিজ্ঞানীরা ছায়াপথে সূর্যের চলার পথ চিত্রায়িত করে ঐ অঞ্চলটিকে ‘নাক’ আকৃতির বলে অভিমত প্রকাশ করেন । বলতে গেলে এটি হচ্ছে ‘সৌরজগতের নাক’ (Solar system’s nose)। সৌর মণ্ডলের ব্যাসর্ধের এক হাজার কোটি কিলোমিটারে সৌর বায়ু দশ লক্ষ কিলোমিটার গতিবেগে গমণ করে। এই সৌর বায়ু আন্তঃনাক্ষত্রিক পদার্থের সাথে অন্তর্হিত হয়ে এর গতিবেগ কমতে থাকে এবং এক সময় থেমে যায়। গতিবেগ কমে যাওয়ার ঘটনাকে অন্ত অভিঘাত (Termination shock) বলে। উল্লেখ্য যে, সৌর বায়ু হচ্ছে সূর্যের উপরের বায়ুমণ্ডল থেকে মুক্ত চার্জযুক্ত কণার একটি প্রবাহ । এটি বেশিরভাগ ইলেকট্রন, প্রোটন এবং আলফা কণা নিয়ে গঠিত হয়, যার মধ্যে গতি বা তাপীয় শক্তি থাকে ১.৫ থেকে ১০ কিলোভোল্ট । সূর্যের বাইরের এই স্তরটিকে সৌরমুকুট (Corona) বলে । তাপমাত্রা প্রায় ২ মিলিয়ন ডিগ্রি ফারেনহাইট (১.১ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস)। এই স্তরে সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ দ্রুত গতিশীল কণাকে ধরে রাখতে পারে না ফলে তারা দূরে প্রবাহিত হয় । Coronal hole এর উপর সৌর বায়ুর গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ মাইল (৮০০ কিলোমিটার) গতিতে পৌঁছায় । সৌর বায়ুতে প্লাজমার সংমিশ্রণে (সৌর প্লাজমাতে) বিভিন্ন পদার্থ যেমন: C, N, O, Ne, Mg, Si, S, Fe এবং কিছু পারমাণবিক নিউক্লিয়াস ও আইসোটোপের বিরল চিহ্ন রয়েছে । সৌরমণ্ডলের বহিস্থ এক বিস্তৃত বলয় বা পরিমণ্ডলটি সৌরখাপ (Heliosheath) হিসেবে পরিচিত । Heliosphere এর বাইরের সীমানা বা সৌরমণ্ডলের সর্ববহিস্থ স্তরটিকে সৌর নিবৃত্তি (Heliopause) বলে। যেখানে বিপরীত দিক থেকে আসা আন্তঃনাক্ষত্রিক পদার্থ সৌরমণ্ডলের সাথে সংঘর্ষ করে বিলম্বিত হয়ে ধনু অভিঘাত (Bow shock) সৃষ্টি করে । সৌরমণ্ডলের সামগ্রিক আকৃতি ধূমকেতুর মত । তবে এর এক প্রান্ত গোলাকার এবং অপর প্রান্তটি একটি লম্বা লেজের মত অংশ যুক্ত থাকে বলে এটিকে সৌর লেজ (Heliotail) বলে । সূর্য থেকে প্রায় ৯০০ কোটি মাইল (প্রায় এক হাজার চার শত পঞ্চাশ কোটি কিলোমিটার) দূরে Heliopause এর অবস্থান । সৌরজগতের বাইরে আন্তঃনাক্ষত্রিক (একটি নক্ষত্র থেকে আরেকটি নক্ষত্রের মাঝখানে যে সুবিশাল জগৎ) বিশাল মহাশূন্য বা শূন্যতাকে বলে Interstellar space । ঠান্ডা, অন্ধকার, গ্যাসীয়, উষ্ণ, তেজষ্ক্রিয় এবং মানব অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণই বাইরের এক অজানা মহাজগৎ । সূর্যের Heliosphere এর বাইরের সৌরজগত, গ্রহ এবং আন্তঃনাক্ষত্রিক স্থান অধ্যয়নের জন্য ০৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দ এবং ২০শে আগস্ট ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান NASA এর তৈরি Voyager মহাকাশযানটিকে অনুসন্ধান করতে মহাকাশে পাঠানো হয় । সেই কর্মসূচীর অংশ হিসেবে Voyager-2 মহাকাশযানটি ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে সৌরজগতের সীমানা অতিক্রম করে পৃথিবী থেকে প্রায় এক হাজার আট শত কোটি কিলোমিটার দূরে Heliopause এলাকায় অনুসন্ধান করে । মানুষের তৈরি এই মহাকাশযান উৎক্ষেপণের পর এক দীর্ঘ সময় পেরিয়ে সূর্য কেন্দ্রিক সবগুলি গ্রহকে অতিক্রম করে এটি পৌঁছে যায় অপার মহাকাশের এক অজানা রহস্যেঘেরা অন্ধকার জগতে । এতই দূরত্ব যে, Voyager-2 থেকে পাঠানো কোন বেতার সংকেত (Radio signal) পৃথিবীতে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় ১৭ ঘন্টা । বিস্ময়কর যে, Voyager-2 এই অঞ্চলে প্রবেশকালে যে সৌর রশ্মির (Cosmic ray) মুখোমুখি হয়েছিল তা সৌরজগতের বাইরে উদ্ভূত বা সৃষ্ট এবং তার চারপাশে যে সকল বস্তুকণা ছিল– তা সূর্য থেকেও সৃষ্ট নয় । এগুলি তৈরি হয়েছে আশপাশের অন্য তারকা বা নক্ষত্র থেকে, অতিনবতারা (Supernova) অর্থাৎ বিস্ফোরিত তারকার অবশিষ্টাংশ থেকে কিংবা অন্যান্য উৎস থেকে । সূর্যের ১১ বছরের চক্রে Heliosphere এর সীমানা পরিবর্তন হয়ে থাকে ।

    6
    1 Comment
    • দারুণ! আমার জন্য একটু খটমোটে কিন্তু যারা এ ব্যাপারগুলোতে আগ্রহী তাদের নিশ্চয়ই ভালো লাগবে।

Skip to toolbar