Profile Photo

মো: নাজমুল আখতারOffline

  • Faith
  • সমুদ্র শব্দ
    লেখক : মোঃ নাজমুল আখতার।

    খরগশের কান সদৃশ্য খাড়া খাড়া দু’টো কান দুই দিকে হালকা দু’মুখি কৌনিক কোনে হেলে রয়েছে। কথা বলার বাচনভঙ্গি ও শরীরের ক্লাসিক্যাল মুভমেন্টে তার মাথায় ফোপানো চুলের উপর বসানো কালো ব্যান্ডটি সত্যিই তাকে রানীর পদমর্যাদায় নিয়ে গেছে। রানীর যেমন কয়েকজন সেবা দাসী থাকে বা স্ব-বান্ধবী থাকে ঠিক তেমনি এই কোম্পানীর কয়েকজন মেয়ে কলিগ সারাক্ষণ তাকে ফলো করে তার মতই অবিকল সাজে নিজেদেরকে অন্যের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করছে..

    আইশ্যাডো, আইলাইনার অথবা লিপষ্টিক আর মিনি মিররে একটু পর পর মুখে মেকআপ লাগিয়ে নিজের চেহারাকে দেখে নিচ্ছে। অফিসের রিসিপশনের টেবিলেই তারা মেয়ে জুগল কেউ হাই চেয়ারে, কেউ বা টেবিলের সাথে পিঠ ঠেসে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ফিসফিস খিলখিল শব্দে চোখ টিপনি দিয়ে একে অপরের সাথে কথা বলছে।

    অফিসে এখন যেই প্রবেশ করুক – প্রথমেই আগে তাদেরকে দৃষ্টি দর্শনে মুগ্ধ হয়ে বাকী কাজ সারতে হবে। কোম্পানী তার ব্যান্ড ভ্যালুকে আরো অধিকতর গ্রোথ করার পরিকল্পনায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে এই অফিসের সবাইকে সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যাবে আজকে..

    রাত দশটার দিকে গাড়ী ছাড়ার কথা থাকলেও সবার আসতে আসতে ও সবকিছু গুছিয়ে রেডি হতে রাত প্রায় দেড়টায় গাড়ী ছাড়লো। গাড়ীর সিটে কে কার সাথে বসবে এই নিয়ে বেশ হই হুল্লোড় ও কথার রসিকতায় পরিবেশটা যেন উৎসব মুখর হয়ে উঠলো।

    তবে এই খরগোশ সুন্দরীর পাশে বা তার খুব কাছাকাছি বসার জন্য মনে হচ্ছে সবাই গোপন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়লো।

    আমি বাবা পেয়িং গেস্ট !
    এই অফিসের একজন কর্মকর্তা যে কিনা আমার অতি শুভাকাঙ্খি তারই দাওয়াতে তাদের এই সমুদ্র সৈকত ভ্রমনে নিজেকে শামীল করেছি। কোথায় কোন কথা বলবো এবং কার সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে মোটামুটি এগুলো ভাবতে ভাবতে আমার জন্য নির্ধারিত সিটের জানালা ঘেষে ঘোর চুপটি মেরে বসে পড়লাম।

    আমার ঠিক এক সিট পিছন থেকে এক মাঝারি গড়নের ও গোলগাল চেহারার এক ছেলের তার খালি গলায় গাওয়া গানের কন্ঠে তারে দিকে আমার মনোনিবেশ চলে গেলো। এতো সুন্দর স্বরে সে যে একের পর এক গান গেয়ে যাচ্ছে আমার তো মনে হচ্ছে সে হয়তো নিয়মিত কোন স্বর সঙ্গীত একাডেমিতে নিয়মিত গান চর্চা করে। খানিক কিছুক্ষণ শোনার পর নিজেও নিজেকে নিজের মুখে গাওয়া গান গুন গুন করে কানকে শোনাতে লাগলাম।

    বাসে বসা সবার দৃষ্টি ও তার প্রতিভার মুগ্ধতায় এবার এই ছেলটির প্রতি সবার দৃষ্টিগোচর হলো। বাসে বসা মেয়েগুলো যথেষ্ট সুন্দর ও ভালোলাগার মত হলেও এবার তারা নিজেদের বিরুদ্ধে এরকম একজন ছেলে প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়ে গেলো। খরগোশ সুন্দরী এবার যেন তার নিজের দিকে সবাইকে আকৃষ্ট করার জন্য পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্ম কৌশল অবলম্বন করতে থাকলো –

    গান গাওয়া ছেলেটি যেন তার গান গাওয়া বাদ দিয়ে তাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবার সে এই ছেলেটির পিছু নিলো। তার গানে ঠোঁট মেলানো, ওয়াও ওয়াও বলে চিৎকার করা, ওয়ান মোর ওয়ান মোর বলে আরেকটি গান হবে বলে রিকোয়েস্ট করা।

    গান, কৌতুক, ধাঁধা, সূরা কেরাত সবকিছু মিলে গাড়ী চলতে থাকলো। নাস্তার বিরতিতে যাত্রা বিরতি দিয়ে কোন এক বিলাস বহুল হোটেলের সামনে গাড়ী এসে থামলো। এবার যে করেই হোক ছেলেটির সাথে নাস্তার টেবিলে পাশাপাশি বসা ও তাকে আমার রুপের মহে বশে আনা, কোম্পানীর সমস্ত এমপ্লয়ই যেন শুধু আমাকে শুধুই আমাকে নিয়ে ভাবে আর কাউকে নয়..

    নাস্তা সেরে গাড়ী আবার চলতে শুরু করলো। প্রায় দ্বি-প্রহর সময়ে আমরা কক্সবাজারে এসে পৌছালাম। নির্দিষ্ট হোটেল ও রুম নম্বর সবাই সবারটা বুঝে নিয়ে যার যার মত নির্ধারিত রুমে চেলে গেলো।

    কিন্তু এই খরগোশ সুন্দরীকে নিয়ে আমার কেমন জানি তার অতি উৎসাহি আচরণে কিছুটা ভিন্নতারূপ মনে হতে লাগলো। আসলে তার উদ্দেশ্যে কি? সে কি আসলেই এই অফিসের কোন এমপ্লয়ই! নাকি ভারাটে কোন খরগোশ সুন্দরী ?

    3
    4 Comments
Skip to toolbar