Profile Photo

মো: নাজমুল আখতারOffline

  • Faith
  • আযান শুনি
    লেখক : মোঃ নাজমুল আখতার।

    ক্ষুদ্র ক্ষুদ্রকাঠের গুড়োয় বাতাস যেন এখানে এসে ক্রমেই পরিবেশটা ভারী হয়ে যাচ্ছে। কাপড়ে মোড়ানো সমস্ত মুখখানা, দমচাপা দম নেওয়াই কষ্ট হয়ে যায়।

    স মিলের তীক্ষ্ণ ধারালো ব্লেডের দাঁতের সারিবদ্ধ লাইন প্রচন্ড চলমান গতিতে কাঠগুলোকে ধাপে ধাপে দেহ ছেদে আলাদা করে যাচ্ছে। ছ’তলার মসজিদ হতে আযানের বাণী মাইকে ভেসে আসছে..

    ধুলোর শরীর ওযুতে সাজে
    চলি আমি রবের পানে,
    মালিক বেচারা পথ দেখে
    ফাঁকি দেই কি-না অজুহাতে।

    সিঁড়ির বাড়ি ছ’তলা ধাপে
    উঠি আমি পায়ে বেয়ে,
    ক্লান্ত শরীর নুয়ে পড়ে
    অজুখানায় ধপাশে বসে।

    মোটা কার্পেট বিছানো মেঝেয়
    মোটা পেট লেবাসে ঢলে;
    মক্তব ছাত্র আদবে বসে
    নিয়ম করে নামাজ পড়ে।

    ফিরি আমি মোনাজাত শেষে
    যোহর, আছর, মাগরিব কালে,
    বিড়বিড়িয়ে ফিসফিসে করে ফোসফাঁস
    সময় কি দেওয়া যায় নিত্যকাল।

    সঙ্গী-সাথী সাগরেদ ওস্তাদ
    বিড়ি টানে ফাঁকিতে কাজ বধ;
    শব্দ আওয়াজ কাজের ফারাক
    মালিক শোনে তোষামদে বধ।

    বেচারা সাধু, পায় না মধু
    তিন দমে, তিন দশ;
    মিনিট ত্রিশ ঘড়িতে হিসাব
    মালিক কহে বহু সময় পার হয়েছে সাধু..

    2
    5 Comments
    • মো: নাজমুল আখতার, আপনার লেখায় ধুলোবালি ভরা কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝে আযানের ডাকের সাথে হৃদয়ের যে টানাপোড়েন ফুটে উঠেছে, তা এক অদ্ভুত প্রশান্তি এবং জীবনের নিরেট সত্যকে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে, তাই আপনার এই ভাবনার ধারাটি অব্যাহত থাকলে আরও চমৎকার সব সৃষ্টি আমাদের উপহার দিতে পারবেন।

    • মো: নাজমুল আখতার, আপনার লেখাটা পড়ে একদম চোখের সামনে পুরো দৃশ্যটা ভেসে উঠছে। কাজের ফাঁকে আযানের সুর আর বাস্তবতার যে টানাপোড়েন আপনি তুলে ধরেছেন তা সত্যিই বেশ গভীর। লেখাটি পড়ার পর বেশ অন্যরকম একটা অনুভূতি হলো।

    • বেচারা সাধু পায়না মধু।

Skip to toolbar