-
গল্পের নাম- তৃষ্ণা পর্ব১
প্রচন্ড গরমে ঘামে ভেজা অবস্থা। নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই। দুই চোখ যেদিকে যাবে,সেইদিকে যাওয়ার ইচ্ছে প্রবল। তবে নিয়তির খেলা বুঝা দায়।
নিয়তির কথা বলছি কারণ, এখন স্টেশনে থাকার কথা ছিলো।কিন্তু? আমি রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছি। সন্দেহপ্রবন ভাবে আমার দিকে অনেকেই তাকিয়ে আছে। তাকানোর কথাই।
উসকোখুসকো চুল,খালি পা, ফর্সা চামড়া কালো হয়ে আছে, পুরানো ময়লা কাপড়।
আজকে মনে হচ্ছে, ঢাকা শহরে রিক্সার অভাব পড়ছে। প্রচন্ড তাপমাত্রায় গলা শুকিয়ে কাঠ। উদ্ভট চিন্তাভাবনা করতে করতে একটি রিক্সার সন্ধান পেয়েছি। ১০টাকার ভাড়ার জায়গায় ২০টাকা দিতে হবে। কারণ জানতে চাইলে, নানান অজুহাতের গল্প বলে দিলো রিক্সাওয়ালা।
এই মুহুর্তে দামাদামি করার সময় ছিলো না। তাই অহেতুক তর্কবিতর্ক না করে, রিক্সাতে উঠে পড়লাম। গন্তব্যে যাওয়ার আগে আমার পরিচয় টা দিয়ে নিচ্ছি। আমার নাম নিলয়। পুরো নাম নিলয় তালুকদার। ৫ফুট ৯ইঞ্চি এবং স্বাস্থ্য অনেক ভালোই ছিলো। কিন্তু এখন স্বাস্থ্য টা আর ভালো নেই! সেই কথা পরে বলছি। তার আগে আমার পারিবারিক পরিচয় টা দিয়ে দেই। আমার বাবা একজন ব্যবসায়ী। নাম রফিক তালুকদার। মা একজন মায়াবতী। পৃথিবীর সকল মায়েরাই মায়াবতী হন।আমার মা একজন গৃহিণী।মায়ের নাম রিপা বেগম তালুকদার । আমার বড় ভাইয়ের নাম শাহিন তালুকদার, ছোট বোনের নাম দিপা তালুকদার। আমরা ২ভাই, ১বোন।সবকিছু ঠিকঠাক চলছি। পড়ালেখা, খাওয়া গাওয়া,আড্ডা, আরামদায়ক জীবন ছিলো। বড় ভাই অনেক রাগী। তবে বাবার সকল ব্যবসার দেখাশুনা বড় ভাই করেন। ছোটবোন এখনও ৮ম শ্রেণীতে পড়ে। আমি এখন অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ছি।
সমুদ্রের বিশালতার মতো, এবং মেঘ বিহীন আকাশের মতো আমার জীবন ছিলো।
তবে সমুদ্রে অশান্ত ঢেউয়ের জুয়ার যেমন উঠে, ঠিক তেমন ভাবে আকাশও কালো মেঘের ছায়া আচ্ছন্ন হয়৷
ঠিক তেমন ভাবে, আমার এতো সুন্দর জীবন টা কালবৈশাখীর মতো লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।অতীতের সেই কালবৈশাখীর কথা মনে হতেই, নিলয়ের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। সম্পর্ক গুলো কীভাবে বদলে যায়, সেটা নিলয়ের জীবনে না হলে বিশ্বাস করতো না। নিলয় এখন ও ভাবছে সে হয়তো কল্পনা দেখছে জেগে। মানুষ স্বভাবতই ঘুমিয়ে দেখে, তবে নিলয় জেগে জেগে দেখছে হয়তো! এসব ভাবতে ভাবতে রিক্সা হঠা থেমে গেলো। নিলয় জিজ্ঞাসুক দৃষ্টি তে থাকানোর পর বুঝলো, গন্তব্যে চলে এসেছে।
রিক্সাওয়ালা- মামা, নামেন আইসা গেছি।
নিলয়- হ্যাঁ, তাই তো! আমি খেয়ালই করিনি।
রিক্সাওয়ালা- মামা,কিছু মনে কইরেন না। ২/১ টা জ্ঞানের কথা বলি। জ্ঞান আদান-প্রদান জ্ঞানীরা করে। আপনাকে দেখে জ্ঞানী লোক লাগতেছে।
নিলয়- হ্যাঁ বলো, তবে তাড়াতাড়ি আমার হাতে সময় খুবই কম।
রিক্সাওয়ালা- আপনারে দেইখা লাগতাছে দিনে দুপুরে ভূত দেখছেন। ভূত দেখলে ডরাইয়েন না মামা। বিসমিল্লাহ বইলা সামনে আগাইয়া যাইবেন, দেখবেন ভূত বাপ বাপ বইলা দৌড়াইবো। তয়, আপনারে দেইখা লাগতাছে মায়ামোহ দুনিয়াডা আপনারে সাঁতরাইতাছে।
নিলয়(আকাশের দিকে তাকিয়ে)- এই মায়ামোহ পৃথিবী টা সবাইকে সাঁতারাচ্ছে। কেউ ডুবে? কেউ ভেসে উঠে!
(নিলয় এবার রিক্সাওয়ালার দিকে চেয়ে) শুনেন আমি এখন যাই৷ আপনারা ভাড়া নেন।
তারপর নিলয় ভাড়া দিয়ে সেখানে থেকে চলে যায়। হাসপাতালের সিঁড়ি দিয়ে দৌড়িয়ে উঠছে। অনেকের সাথে ধাক্কা খাওয়ার অবস্থা। তবে সামলিয়ে নিচ্ছে।
ওইদিকে রিক্সাওয়ালা(আফসোস করে)- আহহা রে! দেখতে মায়া লাগে। জীর্ণশীর্ণ অবস্থা।খোদা গো তুমি মায়া কইরো।
রিক্সাওয়ালা আফসোস করতে করতে প্রস্থান করে।১ম পর্ব সমাপ্ত।
(২য় পর্বে থাকবে, নিলয় কেনো হাসপাতালে আসলো। এবং পরবর্তী পর্বে থাকবে, নিলয়ের অতীত, তাঁর জীবনের গল্প। তাই সাথেই থাকুন। ধীরে ধীরে গল্পের মোহ আপনাকে বেঁধে রাখবে।)11 Comments-
@Uttam Kumar Biswas ধন্যবাদ
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 14 May 2022 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

ইশতিয়াক জিন্দানী রিশাত
সাদা কাগজের কালো কালি।
আমার নাম ইশতিয়াক জিন্দানী রিশাত। আমার জন্ম ১৯৯৮ সালের ১৩ই নভেম্বর শুক্রবার। জন্ম থেকে নিশ্বাসের স্বাদ নিচ্ছি সিলেট জেলায়। অর্থাৎ আমার জন্ম বাংলাদেশের সিলেট জেলার, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার, মল্লিকপুর গ্রামে। আমার পিতা রিয়াজ উদ্দীন ইসকা। একজন সাংবাদিক ও লেখক। জেনেটিক ভাবেই আমার রক্তে লেখালেখির পোকা রয়েছে। প্রতিদিন আমার গল্পের সাগরে সাঁতরাতে হয়। নানান গল্প খেলা করে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে।
অনেক জ্ঞানীরা লেখকদের বিভিন্ন ভাবে প্রকাশিত করেছেন। লেখক ২প্রকার। ১ছাগল লেখক, এবং ২পাগল লেখক। ছাগল লেখক টাকার জন্য লেখে, এবং পাগল লেখে ভালো লেখার জন্য লেখে। আমি হচ্ছি পাগল লেখক। মানুষ পড়বে, এবং বলবে লেখা টা ভালো। এতেই তৃপ্তি। তবে, মানুষজন বলে লেখকদের না-কি তৃপ্তি নেই। তাঁদের তৃষ্ণা বৃদ্ধি পেতেই থাকে।
দেখা যাক আমার তৃষ্ণা কত টুকু বৃদ্ধি পায়।
তুলট এর মাধ্যমে নিজের লেখালেখির প্রতিভা আরও বিকশিত হবে।
আশাকরি, মগজের আরও বিস্তার হবে,এই তুলটের মসৃণ পথে।
ধন্যবাদ।



অনবদ্য