<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Israt Lamia | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/israt-lamia/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/israt-lamia/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Israt Lamia.</description>
	<lastBuildDate>Fri, 19 Jun 2026 19:47:07 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">0bdb54974f0e245b28ab4397844426b5</guid>
				<title>আগন্তুক (পর্ব-১)
ইসরাত লামিয়া


&quot;একটা সরু ফাঁকা জায়গা। দৈর্ঘ্যে এক থেকে দেড় মিটারের মতো প্রস্থ অনেকটা কম। দুপাশে বিল্ডিং এর দেয়াল। একটা ঘর ও আছে। পিছনে একটা ছোট দরজা দিয়ে এই অবরুদ্ধ জায়গাটায় প্রবেশ করা হয়। সামনে পুরোটা অংশজুড়ে একটা বড় গেট তালাবদ্ধ করা। নিচে মাটি আর উপরে বন্ধ করে দেয়া আকাশ। মধ্যে ফাঁকা জায়গাটায় একটা হাহাকার যা সবার মন কে নাড়িয়ে দেয়। শুধু নারায় না তাদের মন। ওকে ছেড়ে দিন ছাড়ুন না চিৎকার করছে একটা মেয়ে কন্ঠ। বিল্ডিংয়ের পাশে ঘর সেই পাশের দেয়ালটা খানিক পেছনে সরানো একটা ঘর ও কয়েকটা থাম এর কারণে তারই একটা থামে বাধা মেয়েটি। তার সামনে একটা ছেলেকে বিরামহীনভাবে মেরে যাচ্ছে একদল লোক। আর মেয়েটা তার হাতে বাঁধা দড়ি ছেড়ার প্রাণপণ চেষ্টা করছে যা ইতোমধ্যে তার হাতে রক্তপাতের শুরু করেছে। আর ছেলেটির শরীরের রক্তে মাটি ভিজে কাদা কার যেন মাত্রই বৃষ্টি হলো। আস্তে আস্তে শব্দ বেড়ে চলল। মেয়েটার কান্না ছেলেটার আর্তনাদ আর তাদের হাসি সব মিলে এক জঘন্য আওয়াজ যে কারো কাছে অসহ্য লাগবে তা। কিন্তু শব্দটা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে, বাড়ছে আরো বাড়ছে আরো।&quot;না&quot; চিৎকার করে ঘুম থেকে উঠে বসে পরে দিবা। সে খুব দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে। ঘেমে গেছে অবশেষে স্বপ্ন বুঝতে পেরে একটু শান্ত হল। কাঁপা হাতে গ্লাস থেকে পানি খেতে লাগল দিবা। তখনই তার কানে এলো, &quot;আল্লাহু আকবর&quot; এতক্ষণে সে খেয়াল করল ঘরে তমা আর পরী নেই। পাশে রাখা ওড়নাটা চট করে পড়ে ঘর থেকে বের হলো সে। বারান্দায় দাঁড়াতেই দেখতে পেল মাঠে জানাজার নামাজ পড়ানো হচ্ছে। সেখানে স্থির হয়ে দাড়িয়ে গেল দিবা এক অজানা ভাবনায়। &quot;দিবা তুমি শুনেছ কেশব স্যার আর আমাদের ক্লাস নেবেন না। ভালোই হলো&quot; কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়ে বলল পরি। &quot;নীচে চলো। আনসু কে তো এখনই নিয়ে যাবে,&quot; তাগিদ দিয়ে বলল তমা। কিন্তু একই রকম স্থির চলো বিরক্ত হল পরী থাক পরী ও হয়তো একটু বেশি আপডেট আনসার জন্য চলো আমরা যাই তমার কথায় দুজনে নিচে চলে গেলো। দিবা এখনও স্থির। যখন তার ঘোর ভাঙলো তখন সবাই আনসুকে নিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে চলে যাচ্ছে। দিবা ছিল 6 তলায়। খুব দ্রুত নামতে শুরু করলো সে। আনসু দিবাদের সাথেই পড়ত। কাল রাতে মারা গেছে। রিপোর্ট বলছে অপুষ্টির জন্য। দিবা যখন নিচে পৌঁছালো তখন তারা আনসু কে নিয়ে gate এর বাইরে। দিবা তবুও থামলো না।ছুঁতে চললো। গেট এর সামনে পৌঁছাতেই দারোয়ান তাকে থামিয়ে দিল। &quot;আর জাইয়ও না দিবা মা। ওরা দেখলে তোমারে শাস্তি দিবো। এমনিতেই তোমার উপর খেইপ্পা আছে। তুমি ঘরে চইল্যা যাও।&quot; &quot; জানি চাচা। আমি আর যাবো না। এখানেই একটু দাড়াই।&quot; বলেই পিছনে ফিরে চলে যেতে লাগলো দিবা। খুব আতঙ্কিত দেখাচ্ছিল তাকে। &quot; দিবা মা একটু শুইনা যাও&quot; পেছন থেকে ডাকলো দারোয়ান চাচা। দিবা কাছে এসে দেখলো তার সাথে আর একজন দাড়ানো। &quot; ইনি তোমাগো নতুন স্যার। ওনারে একটু টিচারস রুমডা দেখায় দাও তো মা। &quot; নমঃস্কার। আসুন আমার সাথে&quot;। নতুন টিচার মাথা নেড়ে শুধু রেসপন্স করলো মুখে কিছুই বলল না। দিবা তাকে কিছুদূর এগিয়ে দিয়ে বা দিকের পথটা দেখিয়ে দিয়ে নিজে ঘরে ফিরে এলো।

প্রতিষ্ঠানের নাম ইন্টারন্যাশনাল হলি কেয়ার গার্লস স্কুল এন্ড অ্যাকম্মোডেশন সেন্টার। এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু মা-বাবা হীন মেয়েদের জন্য। যেসব মেয়েরা ন্যূনতম ১১ বছর বয়সী এবং অনাথ আশ্রমে থাকে তারা এখানে আসে। তারা এখানে পড়াশুনা ও থাকার সুযোগ পায়। বড় বড় বিল্ডিং গুলোর মধ্যে আছে ক্লাসরুম, লাইব্রেরী, সাইন্সল্যাব আর থাকার জায়গা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের জন্য। যেহেতু এরকম প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বেশি একটা নেই তাই এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারের থেকে একটা বড় অনুদান পায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হাওয়া সত্বেও। পুরো বাংলাদেশে প্রায় ৯-১০ টি এরকম প্রতিষ্ঠান আছে। তার মধ্যে ৬ টিই সরকারি। সরকারের অনুদান ছাড়াও এনজিও, বিরোধী দল, বড় নেতা যাদেরই মহান হবার প্রয়োজন হয় তারাই বড় একটা সংখ্যা অনুদান করে। ১৯৯৫ সালে শরীফ ইসলাম প্রথম এই প্রতিষ্ঠান চালু করেন যা কিনা বেসরকারি উদ্যোগে প্রথম করা হয়। শরীফ ইসলামের টাকা পয়সা ছিল অনেক কিন্তু দেয়ার মত কোনো উত্তরাধিকার ছিল না। কোনো দাতব্য সংস্থায় দান না করে  তিনি এই উদ্যোগ নেন। এর জন্য অনেক প্রশংসিত ও হন। তারপর যখন ওনার মৃত্যু হয় তখন প্রতিষ্ঠানটিকে চালাতে শুরু করে এনজিও। বারবার সরকার বদল, প্রতিযোগিতা, ক্ষমতা সবকিছুর জেরে অনেকবার হাতবদল হয় প্রতিষ্ঠানটির। যখন যে পেয়েছে প্রতিষ্ঠানকে বড় করেছে মহান হতে। সময় বদলেছে, বদলেছে নিরাপত্তা। এভাবে ২০২০ সালে এসে এই প্রতিষ্ঠানের আছে তিনদিকে ৬ তোলা ভবন। মোটামুটিভাবে এটাই হলো এই প্রতিষ্ঠানের বেড়ে ওঠার ইতিহাস। 

তারপর সূর্যের মিষ্টি রোদে সাথেই শুরু হলো একটা দিন। দিবা ক্লাসেই আছে। সবকিছু আগের মত শুধু health education and defence বিষয়ের শিক্ষক টি বদলেছেন। তাদের নতুন স্যার ক্লাসে ঢুকলেন। যে কিনা এই স্কুলেও নতুন। দিবা বুঝতে পারল ইনাকে গতকাল ও টিচার্স রুম দেখিয়ে দিয়েছিল। নতুন স্যারের  বয়স কম তা দেখলেই বোঝা যায়। মুখে একটা শান্তভাব। পরিপাটি করা পোশাক আর চুল। হাতে একটা সাধারন ঘড়ি। কথা বলেন বেশ গুছিয়ে, বিরামহীনভাবে। চোখ সবসময় যেন কিছু খুঁজতে থাকে। এটা ক্লাস টুয়েলভ। &quot;আমি তোমাদের hed এর নতুন স্যার। আমার নাম মিহির মিত্র। এটা আমার প্রথম কাজ আর তোমরা আমার প্রথম ব্যাচ। এভাবে অনেকক্ষণ কথা বলে সবার সাথে হালকা হলো মিহির। &quot; আমরা কথা দিয়ে শুরু করবো?&quot; একজন দাড়িয়ে মিহিরকে দেখিয়ে দিল। এই ক্লাসে আর কিছুই পড়ানোর সময় হলো না মিহিরের। 

দিবা দেখল মিহির খুব স্পষ্ট ভাবে সবকিছু বোঝাতে পারে। অন্য টিচারদের থেকে অনেকটা আলাদা। অনেকটা focused তার বিষয়ের উপরে। তবুও সে কিছুতেই পড়ায় মন দিতে পারছে না। সে অন্যকিছু নিয়ে ভাবছে। ক্লাস শেষে সাইন্সল্যাবে আসে দিবা। যেভাবেই হোক নিজের উপর আঘাত করতে হবে তাকে তাই ল্যাবের একটা ভারী পাথর নিজের পায়ের উপর ফেলবে বলেই স্থির করলো সে। &quot; তুমি এখানে কি করছো?&quot; জিজ্ঞাসা করলো মিহির। চমকে ওঠে দিবা। &quot; গ্লোব নিতে এসেছি।&quot; &quot;ও&quot; দিবা গ্লোব টা হতে নিয়ে নেয়। &quot; ও হ্যা আগামী সপ্তাহে তোমাদের একটা hed এক্সাম আছে তার সিলেবাস টা আমি দিচ্ছি। তুমি ক্লাসে দিয়ে দেবে।&quot; লিখতে লিখতে মিহির জিজ্ঞাসা করে,&quot;তোমার নাম?&quot;  &quot; দিবা&quot;  &quot; এই নাও। সবাইকে দেবে। এরপর আমার যে ক্লাসটা আছে তাতে আমি পুরানো শুরু করবো।&quot; দিবার এবারের চেষ্টাটা ব্যর্থ হল। মিহির ক্লাসে এসে বলতে শুরু করে, &quot;তোমরা জানো আগামী সপ্তাহে তোমাদের এক্সাম। সিলেবাসও জানো।&quot; তখন পুরো ক্লাস একসাথে বলে ওঠে, &quot;না…&quot;  &quot;জানো না?&quot;
- &quot;না&quot;
- আমি তো একজনকে দিয়ে পাঠালাম। কোথায় সে?
 দিবা সাথে সাথেই দাঁড়িয়ে যায়। মিহির কিছু না বলে শুধু থাকে।
- &quot;ভুলে গেছি&quot; দিবা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। মিহির হালকা ধমকের সুরে বলে, &quot;বস&quot;। মিহির আবার সিলেবাস টা দিয়ে দেয়।

রাতটা খুব নীরব। যদিও পূর্ণিমা রাত ছিল তবুও কেমন একটা ছিমছিমে পরিবেশ। মিহির ঘর থেকে বের হয়ে বারান্দায় দাঁড়ালো। &quot;না ঘুমানো যাবে না। আজকে পুরো স্কুলটা ঘুরে দেখতে হবে।&quot; একা একাই বলল। মিহিরের ঘরটা ৬ তালায়। মিহির ভবনগুলো ঘুরে লক্ষ্য করলো একোমোডেশন এর ক্ষেত্রে প্রত্যেক তালাই টিচার আর স্টুডেন্ট আছে শুধু ৬ ও ৭ ছাড়া। তার ইচ্ছে করলেই স্টুডেন্টদের একোমোডেশন একেবারে শেষ করে টিচারদের টা দিতে পারত কিন্তু তা করা হয়নি। করলে সিস্টেমটা আরো ভালো হতো। ঘুরতে ঘুরতে আবার ছয় তলায় এসে পরল মিহির। এবার নিজের ঘরে যাবে বলেই মনস্থির করে। কিন্তু হঠাৎ একটা ছায়া দেখতে পায় যেন কেউ তাড়াতাড়ি করে হেটে গেল। মিহির তাকে অন্ধের মত অনুসরণ করতে শুরু করে। হঠাৎই সে হারিয়ে ফেলে ছায়াটাকে। তখন চারদিকে তাকিয়ে দেখে সে এক অবরুদ্ধ জায়গায় এসে পড়েছে। সরু গলির মত একটা জায়গা। দিবার স্বপ্নে দেখা জায়গাটা শুধু স্বপ্নই ছিল না। মিহির চারদিক দেখতে দেখতে হঠাৎই একটা নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পেল। বুঝতে পারল ছায়া মানবী আশেপাশেই কোথাও আছে। শব্দের অনুসরণ করতে করতে ধীরে ধীরে ছায়া মানব কে খুঁজে পেয়ে তার হাত চেপে ধরলো মিহির। হাত ছাড়াতে চেষ্টা করতে লাগল ছায়া মানব। মিহির তাকে টেনে থামের গায়ে ফেলল। এতে সে চিৎকার করতে গেলে তার মুখ চেপে ধরে মিহির। এতক্ষণে তারা দুজনেই স্থির। মিহির তার হাত সরালো ধীরে ধীরে। ছায়া মানবী কে দেখে চমকে যায় মিহির। &quot;তুমি!!&quot; মিহিরের চমক না কাটতেই নিজেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে যায় সে। মিহির উচ্চ স্বরে বলল, &quot;দাঁড়াও দিবা&quot;।  কিন্তু সে দাড়ালো না। পরদিন ক্লাসে ঢুকে একটা ভীড় লক্ষ্য করলো মিহির। অনেক জন এক জায়গায় জড়ো হয়ে আছে। &quot;কি হয়েছে এখানে?&quot; ছাত্রীরা সরে গেলে মিহির দেখে দিবা একটা বেঞ্চের উপর বসা আর তার পা থেকে রক্ত পড়ছে। একজন মিহিরকে জানায় দিবার পায়ের ওপর বেঞ্চ পড়েছে  ক্লাসের মধ্যে কারোর ছুটির প্রয়োজন পড়লে তার অনুমতি দেয় তরিকুল স্যার, ভূগোল টিচার। তাই তাকে ডেকে আনা হয়। তরিকুল স্যার এসব দেখে খুব বিরক্ত হন এবং দিবার উপর রেগেও যান সমানভাবে। উপস্থিত সবাই তা বোঝে। মিহিরও বোঝে। সাথে সাথে মিহির এটাও বুঝতে পারে যে দিবা ইচ্ছে করেই নিজেকে আহত করেছে। যেহেতু তরিকুল স্যার রেগে যায় তাই দিবা কোন ওষুধ পায়না। বিকেলে দিবা, পরী আর তমা ছাদে বসে কথা বলছিল।
-&quot;তোমার পায়ের যা অবস্থা ওষুধ না লাগালে ইনফেকশন হবে।&quot; চিন্তিত হয়ে বলে পরী
-&quot;সত্যিই এত বেশি আঘাত কেউ করে?&quot; পরীর কথার সায় দেয় তমা।
- &quot;করলাম বলেইতো বাঁচলাম। ভূগোলে তো ফেল করলাম তাই বলে ওই স্যারের কাছে ধরা দিলে হবে? জানিনা তারপর কি হবে তাছাড়া…&quot;
 আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল দিবা কিন্তু থেমে গেল মিহিরকে দেখে। মিহিরের হাতে একটা বক্স ছিল। মিহির তমা আর পরী কে উদ্দেশ্য করে বলল, &quot;তোমরা নিচে যাও। আমি দিবার সাথে একটু কথা বলব।&quot; তমা আর পরী নিচে চলে যায়। 
-&quot;পায়ের কি অবস্থা?&quot;
-ভালো 
-ওষুধ দিয়েছো?
- লাগবেনা
- পা টা দাও। ওষুধ লাগাতে হবে নাহলে ইনফেকশন হবে। ব্যাথাও বাড়বে।
-আমি লাগিয়ে নিতে পারব।
-&quot;নেও&quot; ,বলে ডেটলের শিশিটা দিবা কে দিল মিহির। দিবা একটু লাগাতেই জলে উঠলো আর পারলো না। তখন মিহির ওর সামনেই বসে পড়ল তারপর পা তাই নিজেই ওষুধ লাগাতে শুরু করলো। &quot;এত বড় একটা বেঞ্চ ফেলতে পারো আর পায়ে সামান্য ওষুধ লাগাতে পারো না।&quot; দিবা চমকে উঠে পা সরিয়ে নিল। মিহির জানে যে সব দিবা ইচ্ছে করে করেছে। এক সরকারের ভয়ে ও নিজেকে আহত করেছে তা অন্য এক স্যার জেনে গেছে। মিহির যে অন্যদের মতোই হবে সেটাই স্বাভাবিক আর তার দরুন দিবার উপর চাপ নতুন শর্ত। আগের সপ্তাহের ভূগোল পরীক্ষায় ফেল করেছিল দিবা। তাই তরিকুল স্যার ওকে উনার ঘরে যেতে বলেছিল যেগুলো ভুল হয়েছে তা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। দিনে ক্লাসের জন্য সময় হবে না তাই রাতে। দিবা তার উত্তরে বলেছিল যে তার লাগবেনা সে নিজেই বুঝে নিতে পারবে। তখন স্যার যা বলল তার সারাংশ এই যে যদি সে স্যারের কথা না শুনে তাহলে এই ফেলের জন্য তাকে প্রি টেস্ট পরীক্ষায় বসতে দেয়া হবে না। কিন্তু তারপর কি হবে তা দিবার জানা নেই। অনেক মেয়েই এই প্রস্তাবের সম্মুখীন হয়েছে। দিবাও এর আগে ২-৩ বার এই প্রস্তাব পেয়েছি তবে তা এড়াতে সক্ষম হয়েছে। আর এবারও তাই করল। &quot;আমার দুইটা শর্ত আছে&quot;। দিবা যেন এই কথাটা শোনার অপেক্ষাতেই ছিল। &quot;কি শর্ত?&quot; মিহির ওর মত ফার্স্ট এইড এর কাজ চালাতে চালাতে বলল, &quot;প্রথম শর্ত কাল রাতে তুমি যেখানে গিয়েছিলে সেখানে আবার আমাকে নিয়ে যেতে হবে&quot;। চমকে উঠলো দিবা পারলে এখনই ছুটে পালাতে সে। কিন্তু মিহির এখন দিবার পায়ে ব্যান্ডেজ বাধছে। &quot;আমার দ্বিতীয় শর্ত তুমি কেন তোমার পায়ে বেঞ্চটা ফেলেছ সেটা আমাকে বলবে।&quot; 
-এখানেই তো আছেন ক&#039;দিন পর এমনিতেই সব জানতে পারবেন।
- আমি এখনই জানতে চাই।
- আমি বলতে পারব না 
-তুমি কিন্তু শর্ত মানছো না।
- আমার পক্ষে সম্ভব না। বলে চলে যায় দিবা। &quot;কেউ যদি কিছু না বলে কাজটা করব কিভাবে? দিবার দিকে নজর রাখতে হবে মেয়েটা অনেক কিছুই জানে মনে হচ্ছে।&quot;

রাত প্রায় তিনটা বাজে। ঘরের বাহিরে মিহির বারান্দায় দাঁড়িয়ে ব্লুটুথ দিয়ে কারো সাথে কথা বলছে। &quot;এত সহজ হবে না কাজটা। স্কুলটা তো ঘুরে দেখলাম কিন্তু এর আড়ালেও অনেক জায়গা আছে যা দেখা বাকি আছে। সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় অনেকটা সুবিধা হচ্ছে।&quot; তখন এক অন্ধকার মূর্তিকে চলে যেতে দেখল মিহির। যদিও রাতটা অমাবস্যার ছিল তাও মিহিরের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে ওটা দিবা ছিল। &quot;ফোনটা রাখ আমি পরে কথা বলছি&quot;। মিহির ফোন কেটে দিবার পিছুপিছু চলতে শুরু করে। তারা আবার অবরুদ্ধ জায়গাটায় এসে পড়ে। দিবা লক্ষ্য ই করেনি যে কেউ তাকে অনুসরণ করছিল। &quot;বাহ আমি নিয়ে আসতে বললে পারব না অথচ একা একা ঠিকই আসা হচ্ছে।&quot; চমকে উঠে পেছনে তাকায় দিবা। 
- আমি!!
- হুম আমি। সেদিন বেশ বলছিলে পারবে না। এখন কি হলো?
- &quot;দেখুন আমি এখানে ঘুরতে আসি নি। আপনি ঐদিন এত জোরে টানলেন যে আমার পায়েলটা এখানে কোথাও পড়েছে। আমাকে খুঁজতে হবে সময় নষ্ট করতে পারব না। আপনি যান এখান থেকে।&quot; বলে দিবা খুঁজতে শুরু করে।
- &quot;তুমি তোমার কাজটা করতে থাকো। একি! অন্ধকার যে কিভাবে খুজবে? এই নেও আলো।&quot; মিহির মোবাইলে ফ্ল্যাশ অন করে দিবার হাতে দেয়। দিবাও নিয়ে নেয়। পায়েল খুঁজতে থাকে আর মিহির আশপাশটা ভালোভাবে লক্ষ্য করছে। &quot;আচ্ছা দিবা এখানে তো আলোও ঠিকমতো আসে না বৃষ্টি তো দূরের কথা তাহলে মাটিটা ভিজা ভিজা কেন?&quot; মাটিতে এক হাঁটু নুইয়ে বসে মাটি দেখছিল মিহির। দিবাও মাটিতে বসে খুঁজছিল। মিহিরের প্রশ্ন শুনে দাঁড়িয়ে যায় দিবা। মিহির ও দাড়িয়ে যায়। &quot;আপনি এরকম কেন? সব সময় ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর সব প্রশ্ন করেন।&quot; মিহির কি বলবে বুঝতে না পেরে দিবার দিকে তাকিয়ে থাকে। &quot;কি হচ্ছে এখানে?&quot; সর্বনাশের আর একটুও বাকি নেই বুঝতে পারে দিবা। কেশব স্যার ফরিদ স্যারসহ আরো কিছু স্টাফ। &quot;দিবা, তুমি এখানে কেন? আর স্যার আপনি?….&quot; আতঙ্কে অস্থির হয়ে ওঠে দিবা। মিহির এখনো কিছুই বোঝেনি। &quot;আসলে স্যার উপর থেকে আমার ঘড়িটা পড়ে যায় তাই একা আসতে পারছিলাম না তাই দিবাকে.…&quot; । দিবা বুঝতে পারলো এই অজুহাতে কাজের কাজ কিছুই হবে না। &quot;আপনারা এটা ঠিক করেননি। একটু বেশি চিনে ফেলেছেন। এটা তো ভালো কথা হল না।&quot; ওদের কথায় দিবার ভয় বেড়ে চলল। সেদিন রাতে দিবার দেখা স্বপ্ন চোখের সামনে ভেসে উঠলো। &quot;আর কখনো হবে না। স্যার সত্যি বলছি।&quot; &quot;এই তোমরা ধরো স্যারকে।&quot; কেশব স্যারের হুকুম পাওয়া মাত্র স্টাফরা দুদিক থেকে শক্ত করে ধরে মিহিরকে। দিবা এবার কাঁদতে শুরু করে। &quot;কি করছেন এসব?&quot; মিহির অবাক হয়ে প্রশ্ন করে। &quot;স্যার বলছি তো আর হবে না। আমরা সত্যিই ঘড়ি খুঁজতে এসেছি। স্যার প্লিজ ছাড়ুন না ওনাকে। স্যার প্লিজ।&quot; &quot;খুব আকুতি দেখছি। ছাড়বো তবে শর্ত আছে শুনবে?&quot; দিবা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলে, &quot;হ্যাঁ শুনবো।&quot;
-তাহলে কাল রাতে চলে এসো। বাকি কথা সেখানেই হবে। কেশব স্যারের কথার মানে সবাই বুঝতে পারে। মিহির দিবার দিকে তাকিয়ে দেখে অপমানে দিবার চোখ থেকে আবার পানি পরছে। দিবাকে উত্তর দেবার সুযোগ না দিয়ে মিহির বলে, &quot;আবার কথার কি আছে ঘড়ি খুঁজতেই তো এসেছি তাহলে…&quot; 
-আমি রাজি 
- না তুমি যাবে না।
-&quot;আমি যাব, যাব আমি&quot; বলতে বলতে দৌড়ে চলে যায় দিবা।

সকালে টিচার্স রুমে কেশব স্যার মিহিরকে বলে, &quot;স্যার, আপনাকে ধন্যবাদ। আর কাল রাতের জন্য দুঃখিত ও।&quot; 
- বুঝলাম। কিন্তু ধন্যবাদ কেন? 
-আরে স্যার, আপনার জন্যই তো সম্ভব হলো ওই মেয়েকে বাগে আনা। সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল তো বাঁকাতেই হয়। আপনাকে মারার ভয় না দেখালে ওই মেয়ে জীবনে রাজি হতো না। শুধুমাত্র ওই মেয়েটাই জায়গাটার খবর জানে। ওকে দমিয়ে রাখতে হবে তো।
- কিভাবে দমাবেন? 
-কেন আজ রাতে আসছে তো! কোনো মতে একটা ভিডিও করতে পারলেই হবে। তারপর না হয় আপনার কাছেও একদিন পাঠিয়ে দেব। বেশি ডানা হয়েছে মেয়েটার কারো কথাই শোনে না। এবার ডানা ছেঁটে দেব।&quot; বলতে বলতে চলে যায় কেশব। মিহিরের রাগ হয় নিজের উপর। দিবার কথা শুনলেই ভালো হতো। দিবা বারণ করেছিল ওই জায়গাটায় যেতে। দিবা ক্লাশে আসেনি আজ। বাইরে বের হয়নি পর্যন্ত। দিবা বিকেলে ছাদে যাচ্ছিলো, হঠাৎ হ্যাঁচকা টানে দেয়ালের উপর পড়ে যায়। যদিও বারান্দায় তবুও থামের এই আড়ালে দাড়ালে কেউ দেখতে পায় না। দিবার সামনে মিহির। 
-&quot;আমি তোমাকে অন্য রকম ভেবেছিলাম। আলাদা। কিন্তু তুমিও সবার মত। এতো সহজে রাজি হয়ে গেলে। লড়াই করতে পারলে না হেরে গেলে।&quot; মিহির নিজের উপরে রাগ দিবার উপরেই দেখালো। 
-&quot;কেন ভেবেছেন আমাকে অন্যরকম? আমিও ওদের একজন। ওদের ভবিষ্যৎ যা আমারও তাই।&quot; মিহিরকে সরিয়ে দিয়ে ঘরে চলে এলো দিবা। কিন্তু মিহিরের কথাটা ভুলতে পারল না দিবা। রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে দিবার ঘরের দিকে তাকিয়ে আছে মিহির। একটু আগে ও দিবাকে কেশবের ঘরের দিকে যেতে দেখেছে। মিহির কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না এই সবকিছু। ঘরে ঢুকে যাচ্ছিল মিহির।
-স্যার 
- তুমি!!
- চলে এলাম।
- কিন্তু কিভাবে?
- ওই স্যারকে তিনটা ঘুমের ওষুধ খাওয়ালাম।
 মিহিরের বিস্ময় কাটছিলই না। দিবার মুখে হাসি আর উল্লাস প্রথম দেখলো মিহির।
-&quot;good, very good. কিন্তু কাল কি হবে? 
-পরে দেখা যাবে। আপনাকে thanks. আপনি না বললে বুঝতেই পারতাম না লড়াই এখনো বাকি আছে।
- &quot;ঘুমোতে যাও এখন।&quot; দিবা চলে যাচ্ছিল তখন মিহিরের ডাকে আবার পিছনে ফিরে তাকালো।
- দিবা তোমার পায়েল। মিহিরের থেকে পায়েল টা নিল দিবা। মিহিরের প্রতি এক অদ্ভুত ভালো লাগা নিয়ে নিজের ঘরের দিকে গেল দিবা। পরদিন ক্লাস নিতে এসে মিহির দেখল দিবা বাইরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। তাহলে এটাই তার শাস্তি। 

একদিন বিকেলে মিহির ছাদে এসে দেখে দিবা ছাদে একা বসে আছে। মিহির পাশে গিয়ে বসে। দিবা খেয়াল করলো কিনা বোঝার জন্য দিবার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে দিবা অন্যকিছু ভাবায় মগ্ন আছে। মিহির দিবাকর হালকা ধাক্কা দিয়ে বলে, &quot;কি ভাবছো তুমি?&quot;
- আনসুর কথা 
- &quot;আনসু?&quot; জিজ্ঞাসু ভাবে বলে মিহির। 
-আপনি যেদিন আসলেন সেইদিনই ওর লাশ নিয়ে গেল।
- দেখেছিলাম বটে। কি হয়েছিল ওর সাথে? -ও hed এক্সাম এ ফেল করেছিল তাই স্যার ওকে ঘরে ডেকেছিল কিন্তু ও যায়নি। স্যার তাতে খুব রেগে যান এবং মাঝরাতে ওকে জোর করে ঘরে নিয়ে যায়। তারপর ভোরে এম্বুলেন্স এর শব্দ।

&quot;খেলাটা একটু অন্যরকম ভাবে খেলতে হবে। আস্তে আস্তে, সময় নিয়ে।&quot; ফোনে কথা বলছে মিহির। অন্যদিক থেকে জবাব আসে, &quot;তোর প্ল্যানটা কি বলতো?&quot; &quot;ভালো করে শোন…&quot;

দিবা টেবিলে বসে অংক করছিল। তখন তমা এসে বলে, &quot;দিবা, তাড়াতাড়ি দেখবি চল দুদক থেকে লোক এসেছে। আনসুর মৃত্যুর তদন্ত করতে।&quot;
- সত্যি!! চল 
দিবা আর তমা সুবিধামত একটা জায়গা করে নিল যাতে সব দেখতে পারে। সব টিচারই ওখানে উপস্থিত ছিল শুধু মিহির বাদে। 
-&quot;রিপোর্ট এ আছে মৃত্যুটা অপুষ্টির জন্য হয়েছে কিন্তু এমনটা হলো কি করে? অপুষ্টিতো ১-২ দিনের রোগ নয়। ডাক্তার দেখাননি। প্রেসক্রিপশন কোথায়? আমরা সবটা দেখতে চাই।&quot; দুদকের লোকেরা একের পর এক জেরা করতে থাকে। কিন্তু টিচাররা কোনো প্রশ্নেরই ঠিকমতো উত্তর দিতে পারে না। আর প্রেসক্রিপশন তো দেখাতেই পারে না কারণ আনসুর সাথে এরকম কিছু হয়নি। তাতে আস্তে আস্তে হেরে যাচ্ছিল টিচাররা আর উত্তেজনা বাড়ছিল দিবা আর তমার মধ্যে। খুশি হয়ে হাত মিলালো তারা। 
-&quot;সব রিপোর্ট আমার কাছে।&quot; ফাইল হাতে আগমন মিহিরের। &quot;দেখুন, আনসুর প্রথম প্রেসক্রিপশন। তিন মাস পর আরও একটা। ওর ইমিউনিটি লেভেল ফল করছিল। তাই যখন হাই ফেভার হয় তখন ওর শরীর এন্টিবডি তৈরি করতে পারেনি। এই কাগজটা দেখুন। ডেট সার্টিফিকেট এখানে স্পষ্ট লেখা আছে।&quot; টিচারদের মুখে এতক্ষণে জয়ের হাসি। দিবার মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো। শেষে মিহির এই কাজটা করতে পারলো। দুদকের লোকেরা ভালো করে কাগজ দেখে চলে গেলো। সব টিচারের মধ্যে মিহির এখন মধ্যমণি। তার জন্যই তো রক্ষা। শুধু তাই নয়, এখানকার মেয়েদের পুষ্টিকর খাবারের জন্য মিলল নতুন অনুদান।

&quot;তাহলে স্টেপ ওয়ান এ আমরা সফল।&quot; ফোনে কথা বলছি মিহির ছাদে বসে। সে এখন অনেক খুশি। অপর পাশে থেকে জবাব আসে, &quot;ভেরি গুড। তাহলে নেক্সট প্ল্যান কী?&quot; &quot;প্লান তো আছেই। একটা না অনেকগুলো।&quot; কথা বলতে বলতে মিহির পিছনে ঘুরে দেখে দিবা দাড়িয়ে আছে। &quot;পরে কথা বলছি।&quot; ফোন রেখে দেয় মিহির। 
-&quot;আপনিতো খুব ফাস্ট। আসতে না আসতেই খেলায় নেমে পড়লেন। কিন্তু আপনার জানা উচিত সবকিছুরই একটা শেষ আছে। আপনারাও শেষ হবেন। আজকে আনসার মৃত্যু নিয়ে আপনারা যা করলেন একদিন আপনাদের মৃত্যু হবে ততটাই নিষ্ঠুরভাবে যতটা নিষ্ঠুর আপনারা আজকে হলেন। 
-কথায় বলে পিপিলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে। যাদের মারতে চাও তাদের উড়তে দিতে হবে তো, এটাই তো খেলার মজা!!!

দিবা এখন খুব কনফিউশনে আছে। কিছুতেই মিহিরকে বুঝতে পারছে না সে। দিবা আর তমা পড়ার টেবিলে বসে পড়ছে। - তমা, পরী কোথায় গেছে? 
-মিহির স্যার ঘরে ডেকেছে,সেখানে। 
-&quot;কি!!!&quot; অবাক হয়ে যায় দিবা। 
-হুম, আমিও গিয়েছিলাম দুদিন আগে। স্যার খুব ভালো করে পড়া বুঝিয়ে দেন। একদম বাজে কথা বলেন না আর উনার পড়ানোর সময় উনি ডিফেন্সের কথাও বলেন শুনতে খুব ভাল লাগে। পরীর মুখেও একই বর্ণনা শুনে দিবার কনফিউশন আরো বেড়ে যায়।

দিবা বারান্দা দিয়ে যাচ্ছিল মিহিরের কথা ভাবতে ভাবতে। হঠাৎ হেচকা টানে এসে পরল বারান্দার সেই ফাঁকা স্থানে যেখানে আগেরবার মিহিরের সাথে কথা হয়েছিল। আজও সামনে আর পিছনে দেয়াল। -আজকে রাতে একবার ঘরে আসতে হবে।
-কেন?
-&quot;আর হ্যা, তোমার ঘরে যার থাকে তারা ঘুমানোর পর।&quot; আর কথা না বাড়িয়ে মিহির চলে যায়। দিবা অনেক ভাবল হঠাৎ এভাবে ডাকার কারণ কি হতে পারে। কিন্তু কিছুই মাথায় আসলো না। রাতে দরজায় হালকা নক করলো দিবা কারন সবাই এখন ঘুমাচ্ছে। রাত প্রায় একটা বাজে। ভেতর থেকে শব্দ এলো,&quot;কে?&quot;  &quot;দিবা&quot; দরজা খুলল মিহির।
-&quot;তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম&quot; বলতে বলতে বাইরে বের হয় সে। ঘরের দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করে বলে, &quot;চলো&quot; &quot;কোথায়?&quot; মিহির চলতে শুরু করে দিবা ও যায় সাথে সাথে। 
-ওই জায়গাটায়।
- না আমি যাব না।
- &quot;কিছু হবে না।&quot; আশ্বাস দেয় মিহির। &quot;একটা নাম দেয়া উচিৎ জায়গাটার। কি নাম দেয়া যায় বলোতো? আচ্ছা, প্যানেল নামটা কেমন?&quot;
- আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
-বুঝতেও হবে না। কথা বলতে বলতে এসে পড়ে ওরা। প্যানেলে ঢুকেই দরজাটা বন্ধ করে দেয় যাতে কেউ সন্দেহ না করে।
- &quot;আপনি কি করতে চাইছেন?&quot;মিহির কোনো উত্তর দেয় না। দিবা শুধু অবাক হয়ে দেখতে থাকে। মিহির প্রথমে চারদিক ভাল করে দেখল তারপর পকেট থেকে রুমাল বের করে তাতে কিছু মাটি নিল। রুমালে গীট বেধে হাতে নিল। তারপর ছুটে গেল ঘরের কাছে। খুব অস্থির ছিল মিহির। যেন ভয় করছিল আর সেই ভয়ে সরাতে কাজে ব্যস্ত হয়ে পরলো। &#039;এই ঘরের মধ্যে কি আছে বলতো?&quot;
-জানি না। 
- তলার চাবি কার কাছে থাকতে পারে? -দারোয়ান চাচার কাছে একটা বড় চাবির গোছা আছে। কিন্তু এই ঘরের চাবি আছে বলে মনে হয় না। 
-&quot; হুম…&quot; চিন্তিত হয়ে পড়ে মিহির।
-কি হলো?
- কিছু না চলো এবার যাই। বের হয়ে যায় ওরা। 
-আপনি ওই জায়গায় কি করলেন? 
- &quot;প্যানেল&quot; শুধরে দিল মিহির
- &quot;হা ওই প্যানেলে।&quot; 
-তোমার ঘর
- মানে?
-&quot;তোমার ঘরে এসে গেছে। গুডনাইট&quot; চলে যায় মিহির।

আজ চার দিকে রঙের ছড়াছড়ি। স্কুলের মাঠে হচ্ছে দোল উৎসব। ভীড় কমাতে বিল্ডিংয়ের ছাদেও সমান আয়োজন। সবাই সাদা পোশাকে। মিহির একটা সাদা পাঞ্জাবি পড়ে থামের উপর ভর করে দাঁড়িয়েছিল। মিহিরের মনটা আজ খুব খারাপ। পরিবার থেকে দূরে এটাই তার প্রথম দোল। বাসর সবার কথা খুব মনে পড়ছে তার। &quot;sir&quot; দিবার ডাকে মিহির সোজা হয়ে দাঁড়াল। &quot;আবির লাগাবো?&quot; &quot;হ্যাঁ নিশ্চয়ই&quot;। মিহিরের গায়ে কোনো আবির ছিল না দিবা ই প্রথম আবির লাগিয়ে প্রণাম করল। মিহির দিবার হাতে থাকা আবির থেকেই তাকে একটু আবির মাখালো। দিবা চলে যাচ্ছিল। কিছুদূর গিয়ে মিহিরের ডাকে দাঁড়িয়ে পড়ল। মিহির দিবার কাছে গিয়ে বললো, &quot;চোখ বন্ধ কর, একটা সারপ্রাইজ আছে&quot;। &quot;সারপ্রাইজ!!&quot; 
-&quot;চোখ বন্ধ করো না বলা পর্যন্ত খুলবে না।&quot; দিবা চোখ বন্ধ করলো মিহির পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা কাগজে মোড়ানো লাল আবির বের করে দিবার সিথিতে পরিয়ে দিল। দিবা সাথে সাথে চোখ খুলে ফেলল। তারপর নিজের সিঁথিতে হাত দিলে সিঁথির লাল রং দিবার হতেও লাগল। দিবা এমন ভাবে মিহিরের দিকে তাকালো যেন সে অনেক বড় অপরাধ করে ফেলেছে। হাতের আবির ফেলে দিবা দৌড়ে চলে গেল। মিহির ও ছুটতে ছুটতে এলো। সবাই দল খেলায় ব্যস্ত। তাই বিল্ডিংগুলো ফাঁকা। দিবা বাথরুমে গিয়ে পানি দিয়ে সিঁদুর মুছতে শুরু করে।
- ধুয়ে ফেলছো? জানো সিঁদুর মুছে ফেললে কি হয়?
- আপনি কেন করলেন এটা?
- তোমাকে ভালোবাসি তাই।
- ওরা যদি জানতে পারে আমাদের দু&#039;জনকেই মেরে ফেলবে।
- ওরা জানতে পারবে এটাই শুধু সমস্যা তো!! দাঁড়াও।
 মিহির দিবার কাছে এগিয়ে এলো। দিবার চুলে মাঝখান থেকে সিথি করা ছিল মিহির পাশ থেকে সিথী করে দিল।
- দেখতো এবার বোঝা যায় কিনা।

উৎসবে শেষে আবার ক্লাস শুরু। মিহির দেখল আজকে দিবা কে পাশ থেকে সিথী করায় আরো বেশী সুন্দর লাগছে। লাইব্রেরীতে দাঁড়িয়ে বই নিচ্ছিল দিবা। মিহির দিবার পাশে দাঁড়িয়ে একটা বই হাতে নিয়ে দেখতে শুরু করে। বইয়ের দিকে তাকিয়েই বলে, &quot;দিবা&quot;। চমকে উঠে দিবা। এতক্ষণ মিহিরকে লক্ষ্যই করেনি সে। &quot;আজ রাতে একবার ঘরে আসতে হবে।&quot; কথাটা বলেই বই রেখে স্বাভাবিক ভাবেই চলে যায় মিহির। রাতে মিহির ল্যাপটপে কাজ করছিলো। দরজার নক শুনেই বলে, &quot;ভিতরে এসো&quot;। দিবা ভিতরে এসে অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে। &quot;দরজাটা বন্ধ করে দাও।&quot; মিহির কাজ করতে করতেই বলল, &quot;এখানে বস&quot;। মিহির খাটেই বসে ছিল। দিবাকেও বসার জন্য খাটই দেখিয়ে দেয়।
- তোমাকে একটা কাজ করতে হবে।
- কি কাজ?
- &quot;মন দিয়ে শোনো&quot; মিহির বলতে শুরু করে। দিবা ভালো করে বুঝে নেয় তার কাজটা। কিন্তু এসব কেন করবে বুঝতে পারে না। সব শেষে দিবা যখন চলে যাচ্ছিল তখন মিহির বলে, &quot;দিবা, তোমাকে না এভাবেই বেশি সুন্দর লাগে।&quot;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/24314/</link>
				<pubDate>Mon, 26 Jul 2021 10:39:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আগন্তুক (পর্ব-১)<br />
ইসরাত লামিয়া</p>
<p>&#8220;একটা সরু ফাঁকা জায়গা। দৈর্ঘ্যে এক থেকে দেড় মিটারের মতো প্রস্থ অনেকটা কম। দুপাশে বিল্ডিং এর দেয়াল। একটা ঘর ও আছে। পিছনে একটা ছোট দরজা দিয়ে এই অবরুদ্ধ জায়গাটায় প্রবেশ করা হয়। সামনে পুরোটা অংশজুড়ে একটা বড় গেট তালাবদ্ধ করা। নিচে মাটি আর উপরে বন্ধ করে দেয়া আকাশ। মধ্যে ফাঁকা জায়গাটায় একট&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-24314"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/24314/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">21a9ceb001dbe30a92c6270688f765a3</guid>
				<title>Israt Lamia and Mohammad Shahriar Hossain are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/9014/</link>
				<pubDate>Sun, 25 Apr 2021 09:30:30 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e785a04364da58c2af8d4bfe426e8bc5</guid>
				<title>Israt Lamia and md.iqbal hussain are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/8064/</link>
				<pubDate>Sun, 18 Apr 2021 21:52:53 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6bf353b8d4a0df226b300c02520b781b</guid>
				<title>স্বাধীনতা
ইসরাত লামিয়া

আমার কাছে স্বাধীনতা মানে,
    একা একটা ঘরে থাকা।
আমার কাছে স্বাধীনতা মানে,
    চিৎকার করে কাঁদা।
আমার কাছে স্বাধীনতা মানে,
     অট্টহাসিতে ফেটে পরা।
মাঝে মাঝে আমার কাছে স্বাধীনতা মানে
     প্রিয়জনের অধীনে থাকা।

আমার কাছে স্বাধীনতা মানে,
     নাচ,গান আর রং তুলির টান।
আমি স্বাধীনতাকে যুদ্ধের মাঝে খুঁজি না, 
  আবার,কাছের মানুষের অধিকারকেও -- স্বাধীনতা মনে করি না।

আমার কাছে স্বাধীনতা মানে,
   রাগ,দুঃখ,অভিমান,অভিযোগ 
                                 করতে পারা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/6119/</link>
				<pubDate>Wed, 07 Apr 2021 09:03:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্বাধীনতা<br />
ইসরাত লামিয়া</p>
<p>আমার কাছে স্বাধীনতা মানে,<br />
    একা একটা ঘরে থাকা।<br />
আমার কাছে স্বাধীনতা মানে,<br />
    চিৎকার করে কাঁদা।<br />
আমার কাছে স্বাধীনতা মানে,<br />
     অট্টহাসিতে ফেটে পরা।<br />
মাঝে মাঝে আমার কাছে স্বাধীনতা মানে<br />
     প্রিয়জনের অধীনে থাকা।</p>
<p>আমার কাছে স্বাধীনতা মানে,<br />
     নাচ,গান আর রং তুলির টান।<br />
আমি স্বাধীনতাকে যুদ্ধের মাঝে খুঁ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-6119"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/6119/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">49dd7b0f61296222f3fa3017ef58ec86</guid>
				<title>Israt Lamia and Md.Masud ahmed are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/5329/</link>
				<pubDate>Mon, 29 Mar 2021 13:34:45 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">16d152c71033b3f5dab04134422ee245</guid>
				<title>হঠাৎ ( শেষ পর্ব)
…………
বিয়ের সব সরঞ্জাম একপাশে সরিয়ে সেখানে রাখা হলো বড়ই পাতা, গরম পানি আর আগরবাতি। &quot;আল্লাহ হু আকবর&quot; সবার সম্মিলিত কন্ঠের আওয়াজে জ্ঞান ফিরল মুসকানের। তাকে যে ঘরে রাখা হয়েছে সেই ঘরটা অন্ধকার। কেউ নেই এই ঘরে সবাই তখন অন্য কাজে ব্যস্ত। একটু আগে একটা লাশের দাফন হয়েছে এই বাড়ি থেকে তারই শান্তি কামনায় সবাই দোয়া করছে। ঘরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। মুসকান উঠে বসলো বিছানায়। সে ভাবতেই পারছে না যে আতাশ আর তার কাছে ফিরবে না। কিন্তু কি হলো হঠাৎ যে আতাশকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো। কি হয়েছিল তার সাথে জানতে হবে মুসকান কে। সব কিছু জানতে হবে। সবার আড়ালে মুসকান রেস্টুরেন্টে এল। সেখানে এসে অন্য চিত্র দেখল সে। পুলিশ সিল করেছে রেস্টুরেন্টটা। পুলিশ এখনও সেখানেই আছে। সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাদের মাঝে ইশরাক কেও দেখলো মুসকান। মুসকান ইশরাকের কাছে জানতে চাইল কি হয়েছিল সেখানে। ইশরাক তাকে জানান একজন স্যান্ডউইচ অর্ডার করেছিল। সেটা দিতে একটু দেরি করেছিল আতাশ। তাতেই রেগে গিয়ে আতাশের উপর গুলি চালিয়েছে ওই লোক। এখন পুলিশ বলছে ওই লোকটি একটি খুনের আসামি। পুলিশ তাকে খুজছিল পুলিশ রেস্টুরেন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা চেক করেছে। সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তারা এখনও কাজ করছেন। একজন পুলিশ অফিসার তার সাথে দুইজন হাবিলদার। পুলিশ অফিসারের নাম সীমান্ত। বয়স 27 থেকে 28 এর মধ্যে। এখন সে ফোনে কথা বলছে। মুসকান এর সাথে কথা বলতে যাবে এমন সময় ফোনটা এসেছে তার। &quot;হ্যালো স্যার, হাইওয়ের একটি ফুটেজ থেকে জানা গেছে মাহমুদ (খুনি) এখন বান্দরবন এর দিকে গেছে। ওখানে হয়তো ওর কোন ডেরা আছে। জঙ্গলের মধ্যে&quot;। ফোনের ঐপাশ থেকে এইসব কথা শুনে উত্তেজিত হয়ে উঠল সীমান্ত। &quot;কি বললে বান্দরবান। এখনই ওই রাস্তায় চেকপোস্ট বসাও যাতে মাহমুদ কিছুতেই বান্দরবান ঢুকতে না পারে। এদিকের কাজ শেষ করে আমরাও রওনা হচ্ছি ওই পথে।&quot; ফোন রেখে সীমান্ত কোথাও মুসকান কে খুঁজে পেল না। সে ইশরাক কে  জিজ্ঞাসা করল মুসকান এর ব্যাপারে। &quot;এখানে যে মেয়েটা ছিল সে কোথায়?&quot; &quot;এখানেই তো ছিল কোথায় গেল?&quot; বিস্মৃত হল ইশরাক ও। &quot;আচ্ছা ঐ মেয়েটি অতাশের কে হয়?&quot; &quot; অতাশের বিয়ে হবার কথা ছিল। আজ ওদের গায়ে হলুদ ছিল আর কাল বিয়ে।&quot; &quot;মেয়েটার নাম কি?&quot; &quot;মুসকান&quot; &quot;আচ্ছা ওর বাড়িটা আপনি চেনেন? একটু নিয়ে চলুন তো।&quot; &quot; হ্যা চলুন।&quot; ইশরাক সীমান্ত আর হাবিলদারদের মুসকানের বাড়িতে নিয়ে গেল। এতক্ষণে সবার খেয়াল হল যে মুসকান তার ঘরে নেই। সবাই মিলে খুঁজছে মুসকান কে কিন্তু পুরো বাড়িতে কোথাও মুসকান কে পাওয়া গেলোনা। মুসকানের মা কান্নায় অস্থির হয়ে পড়লো। এমন সময় বাড়িতে এলো পুলিশ। &quot;কি হল সবাই এতটা অস্থির হয়ে আছে কেন?&quot; সীমান্ত ইশরাক কে বলল। &quot;বুঝতেই তো পারছেন একটা বিয়ে বাড়ি মুহূর্তের মধ্যে শোকের বাড়িতে পরিণত হয়েছে। সবাই কান্নাকাটি তো করবেই&quot; ইশরাক উত্তর দিল। &quot;মুসকান বাড়িতে এসেছে কাকিমা?&quot; একজন ভদ্রমহিলাকে প্রশ্ন করলো ইশরাক। &quot;মুসকানকেই তো কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না, বাবা&quot;, বলতেই কাঁদতে শুরু করলেন ভদ্রমহিলা। &quot;মুসকান বাড়ি আসেনি।&quot; এবার পুলিশের উপর মাসকন কে খুঁজে বার করারও ভার পরল।

 সীমান্ত এবার বান্দরবান এর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও মাহমুদকে খুঁজে পাওয়া গেলোনা, তাকে বান্দরবানের ঢুকা থেকে আটকানো গেল না। এবার পুলিশের কাজ আরও কঠিন হয়ে গেছে। পুলিশের একটি দল গেছে অতাশের বাবা-মায়ের কাছে। সেখানে মুসকান গেছে কিনা তার খবর নিতে। সেখানের টিম সীমান্তকে জানালো যে না মুসকান সেখানে যায়নি। তারা সীমান্তকে আরো জানালো, অন্ধকারে ডুবে থাকা অতাশের পরিবার আরো অন্ধকারে তলিয়ে গেছে অতাশের মৃত্যুতে। সীমান্তের খুব খারাপ লাগলো এসব কথা শুনে। কিন্তু এই মুহূর্তে অতাশের খুনের সুষ্ঠু বিচার ছাড়া আর কিছুই করার নেই সীমান্তের। এসব কিছু ভাবতে ভাবতে বান্দরবানে এসে পৌছালো সীমান্ত। গাড়িতে যতোটা আশা যায় আসলো তারা। সামনে ঘন জঙ্গল পায়ে হাঁটা ছাড়া আর উপায় নেই। বুট পরে নিল সীমান্ত আর তার টিম। সীমান্ত ছাড়া তাদের টিমে আরো চারজন আছে।

জঙ্গল ঘন অন্ধকার কোথাও আলোর কোন লেশমাত্র নেই। পরিবেশটা ভৌতিক পরিবেশ এর চাইতে কিছু কম নয়। এই অবস্থাতেই নির্ভয় পা টিপে টিপে চলছে মাহমুদ। চলার অভ্যাস আছে তার। কিন্তু সে একা নয় তার পিছু পিছু হাটছে আরো একজন। যে পিছু পিছু হাটছে তার অভ্যাস না থাকলেও কোন সমস্যা হচ্ছে না। একজন আগাচ্ছে নিজের বাঁচার তাগিদে আর অন্যজন যাচ্ছে নিজের ভালোবাসাকে সুবিচার দেয়ার তাগিদ। মাহমুদ কিন্তু বুঝতে পারছে না যে তার পিছু পিছু কেউ আসছে। যে পিছু পিছু  আসছে তার হাতে একটা মোটা লাঠি। সে চেষ্টা করছে তার ও মাহমুদের মাঝখানে দূরত্ব কমাতে যাতে সহজেই মাহমুদকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা যায়। সে তা করতে পারছে ও। সাবধানী ভঙ্গিতে অনেকটাই কাছে এসে পড়েছে মাহমুদের। সে মাহমুদকে আঘাত করতে যাবে ঠিক এমন সময় পেছন একটি শব্দ শুনে দাঁড়িয়ে পরল মাহমুদ। পেছনের ব্যক্তিটি তাড়াতাড়ি লুকিয়ে নিয়ে নিলো নিজেকে। পেছন থেকে পুলিশরা আসছে বুঝতে পেরে গেল মাহমুদ নিজের জোরে জোরে পা ফেলে লুকিয়ে পড়ল। পুলিশ ও পেছনে পেছনে ওই দিকে গেল। আড়াল থেকে বেরিয়ে এল মুসকান। এতক্ষণ সেই পিছনে ছিল মাহমুদ এর। প্রায় হাতের মধ্যেই এসে গেছিল কিন্তু পুলিশ এসে সব গন্ডগোল করে দিল। মুসকান ওখানে একটি গাছের সাথে হেলান দিয়ে অতাশের কথা ভাবতে শুরু করলো। ভাবতে ভাবতে চোখে পানি এসে গেল তার। তারপর হঠাৎ ঝোঁপ থেকে শব্দ শুনতে পেলো মুসকান। না কোন মানুষ তো নয় তাহলে কি জন্তু-জানোয়ার। হতেই পারে এই ঘন জঙ্গলে জন্তু-জানোয়ার থাকা অসম্ভব কিছু না। ভয় করতে লাগল মুসকান এর। মরতে ভয় নেই মুসকানের। অতাশ কে ছাড়া এই পৃথিবীতে একলা বেঁচে থাকার কোন ইচ্ছাও নেই মুসকানের। কিন্তু অতাশকে সুবিচার না দেয়া পর্যন্ত কোনো ছুটি নেই মুসকানের। সে নিজে নিজে প্রতিজ্ঞা করেছে অতাশের খুনিকে সে নিজের হাতেই মারবে। তা বাদে অন্য কিছু মাথায় নেই মুসকানের। কিন্তু এখান থেকে এখন পালাতে হবে মুসকানকে তা না হলে সুবিচার পাবেনা অতাশ। খুব কাছে চলে এসেছে জন্তুটি। এবার তার অবয়ব ও স্পষ্ট দেখতে পেল মুসকান। জন্তুটি দ্রুত এগিয়ে আসছে মুসকানের দিকে। আর কিছু দেখতে পেল না সে চোখ বন্ধ করে ফেলল। তখনই করো টানে ছিটকে পড়ল মাটিতে।

মুসকান বসে আছে তাঁবুতে। পুলিশের তাবু। পুলিশ মাহমুদকে তো ধরতে পারেনি তবে উদ্ধার করেছে মুসকান কে। মুসকান এখন সীমান্তের তাঁবুতে আচ্ছন্ন হয়ে বসে আছে। এতক্ষণে সীমান্ত অনেক প্রশ্ন করেছে মুসকান কে কিন্তু কোন উত্তর দেয়নি সে। তাই হতাশ হয়ে চুপ করে গেছে সীমান্ত। আপাতত মুসকানের জন্য খাবার আনতে গেছে সে। যদিও সীমান্ত জানে বৃথাই খাবার নিয়ে যাওয়া, এই খাবার খাবে না মুসকান। কিন্তু সীমান্তের ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে খাবার খেতে শুরু করল মুসকান। &quot;তাও ভাল আপনি খাবারটা খাচ্ছেন। আমি তো ভেবেছিলাম আপনি খাবার ও খাবেন না।&quot; মুসকান মোটেও কর্ণপাত করলো না সীমান্তের কথাতে। সেসবকিছু যেন শুনতেই পাচ্ছে না সে। তবুও সীমান্ত বলে যাচ্ছে, &quot;আপনি তো কোনো প্রশ্নের উত্তরই দিচ্ছেন না। আপনি কি করে এখানে এলেন বলুনতো?&quot; এবারও কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল না। &quot; আমি আপনার কষ্টটা বুঝতে পারছি। কিন্তু এভাবে চুপ করে থাকলে তো আর হবে না কিছু তো বলতে হবে। আপনি এখানে কেন এসেছেন?&quot; মুসকান খেয়েই যাচ্ছে। সীমান্ত বুঝতে পারলো মুসকানকে কিছু বলে লাভ নেই। সীমান্ত চলে যাচ্ছিল তখন মুসকান বলে উঠলো, &quot;অতাশ&quot;। অবাক হলো সীমান্ত। &quot;অতাশ কাঁদছে&quot;। সীমান্ত বিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করল, &quot;আতাশ কাদবে কি করে?&quot;
- কাঁদছে অতাশ কাঁদছে। ওর খুব কষ্ট হচ্ছে, ব্যথা করছে ওষুধ লাগাতে হবে।
 মুসকান নিজে নিজে এসব কথা বলে যাচ্ছে। সীমান্তএর বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল। সে বুঝল মানসিক বিভ্রাট হয়েছে মুসকানের। অবশ্য এভাবে প্রিয়জনকে হারালে তা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এভাবে বিড়বিড় করতে করতেই ঘুমিয়ে পরল মুসকান। সীমান্ত মুসকানের খাবারে ঘুমের ওষুধ দিয়ে দিয়েছিল তারই ইফেক্ট এটা। এখন বিশ্রাম দরকার মেয়েটার। সীমান্তর খুব খারাপ লাগছে মুসকান কে দেখে। মেয়েটার মুখটা অসম্ভব নিষ্পাপ লাগছে যেন ফুলের মত পবিত্র। এবার সীমান্ত ও তার টিম নেমে পরল কাজে। মাহমুদ করো সাথে যোগাযোগ করার জন্য ফোন চালু করলেই লোকেশন ট্রেস হয়ে যাবে। এমন ভাবে ডিভাইস সাজালো তারা। কাজ শেষ করে তাঁবুতে এসেই দেখলো আরেক কণ্ড। মুসকান ভিতরে নেই। ভয় পেয়ে গেল সীমান্ত। ভয় পেয়ে দৌড়ে বাইরে আসতেই দেখা পেল মুসকানের। হাঁফ ছেড়ে বাঁচল সীমান্ত।&quot; তুমি ঘুম থেকে কখন উঠলে?&quot; মুসকান কোন উত্তর দিল না। একা একা আকাশের দিকে তাকিয়ে কি যেন বলছে বিড়বিড় করে। &quot;কি হলো মুসকান তুমি এখানে কি করছ বলত?&quot;  আগের মতো নীরব থাকলো মুসকান। এবার আর রাগকে সামলাতে পারল না সীমান্ত। মুসকান কে হ্যাঁচকা টান দিয়ে বলল, &quot;আমি কি বলছি তাকে তোমার কানে ঢুকছে। তুমি কি করছো এখানে? উত্তর দাও&quot;
- আতাশ
- অতাশ অতাশ অতাশ পাগল হয়ে গেছো তুমি। আকাশ মারা গেছে। আর এটা কি তুমি বুঝতে পারছ না।&quot; রাগে চিৎকার করছে সীমান্ত।
- না অতাশ ততক্ষণ মরবে না যতক্ষণ না ওর খুনি মরছে। যতক্ষণ ওকে না মারা হবে ততক্ষণ অতাশ শান্তি পাবে না। ওর ব্যথা করবে। কষ্ট হবে।
- আতাশ এখন সব ব্যথা, সব কষ্ট থেকে বাইরে। তুমি বুঝতে পারছ আমি কি বলছি?
- না অতাশ কষ্ট পাচ্ছে। ওর কষ্ট হচ্ছে&quot; বলতে বলতেই অজ্ঞান হয়ে গেল মুসকান। সীমান্ত মুসকান কে বিছানায় শুইয়ে দিল। তারপর একা একা বলতে শুরু করল, &quot;সত্যি মানুষের জীবন পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত জিনিস যেখানে হঠাৎ হঠাৎ এমন কিছু হয় যে সব বদলে যায়। আমারও একটা পরিবার ছিল জনো মুসকান। মা-বাবা একটা ছোট বোন সবাই ছিল। স্বপ্ন ছিল, আমার ছোট বোনটা ডাক্তার হতে চাইত। এসএসসিতে ভাল রেজাল্টও করেছিল কিন্তু সেই রেজাল্টটা আমাদের এসে জানতে পর্যন্ত পারে নি। এই মাহমুদ আমার বোনকে মেরে ফেলে। আমার বাবা যখন তার মেয়েকে সুবিচার দিতে চাইল তখন মরতে হলো আমার বাবা-মাকেও।  তোমার মত আমিও সুবিচার পাওয়ার জন্য ছুটছি মুসকান। নিজের কথা বলতে বলতে গলা ধরে এল সীমান্তর।

 সীমান্ত আর তার টিম মিলে মাহমুদকে ধরার কাজে ব্যস্ত। কিছুতেই মাহমুদের লোকেশন ট্রেস করা যাচ্ছে না। ফোনটা যদিও কিছু সময়ের জন্য অন হয়েছিল তবে সেই সময়টা যথেষ্ট নয় লোকেশন ট্রেস করার জন্য। হতাশ হতে হলো সীমান্তকে। &quot;না না না এভাবে হবেনা। আমাদের অন্য উপায়ে ধরতে হবে মাহমুদকে ধরার জন্য।&quot; সবার উদ্দেশ্যে বলল সীমন্ত। সীমান্ত তাঁবুতে এলো তার পিস্তল নিতে। অপারেশনে বেরোবে তারা। কিন্তু কোথাও পিস্তলটা খুঁজে পাচ্ছেনা সে। মুসকান ঘুমিয়ে আছে কাঁথা গায়ে দিয়ে। তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীর ঢেকে রেখেছে সে। সীমান্ত সব জায়গায় খুঁজলো পিস্তলটা কিন্তু কোথাও খুঁজে পেল না। অথচ এখানেই পিস্তলটা রেখেছিল সে। তারপর কি জানি কি সন্দেহ হল সীমান্ত মুসকানের কথাটা  তুলল। একি! মুসকান কোথায় এখানে তো বালিশ রাখা। সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে গেল সীমান্ত। মুসকানকে ডাকতে লাগল চিৎকার করে। সীমান্তের টিমের একজন এসে সীমান্তকে জানালো &quot;মাহমুদের লোকেশন ট্রেস করা যাচ্ছে, স্যার। আমাদের এক্ষুনি বেরোতে হবে&quot;।  সীমান্তের মুসকানের কথাগুলো মনে পড়ছে। মুসকান বলেছিল যে ও আতাশকে সুবিচার দিতে চায়। তাই মাহমুদ যে পথে আছে সে পথে মুসকান কে খোজাই ভালো হবে। সীমান্ত আর তার টিম রওনা হল মাহমুদকে খোঁজার জন্য। যেতে-যেতে সীমান্তর মুসকানের কথাই মনে হচ্ছিল। আস্তে আস্তে জট খুলতে লাগল সীমান্তর কাছে। সীমান্তর পিস্তলটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে কি মুসকানই? ভয় বাড়তে লাগল সীমান্তর। মুসকান কিছু করে বসার আগেই পৌঁছাতে হবে তাদের। ডিভাইসে লোকেশন দেখে দেখে আগাচ্ছে তারা। আস্তে আস্তে দৃশ্যমান হচ্ছে মাহমুদের ডেরা। ওরা এসে পড়ল মাহমুদের ডেরার সামনে। &quot;ফাস্ট, ফাস্ট&quot; সকলকে তাড়া দিয়ে বলল সীমান্ত। ঠিক তখনই তাদেরকে থেমে যেতে হল গুলির আওয়াজে। ভেতর থেকেই আসছে গুলির আওয়াজ। ছুটে ডেরার ভিতরে গেল সীমান্ত আর তার টিম। সীমান্ত যা সন্দেহ করেছে ঠিক তাই হল। মাটিতে লুটিয়ে পড়লো মাহমুদ আর পিস্তল হাতে দেখা গেলো মুসকানকে। সীমান্ত ছুটে এলো মুসকানের কাছে। &quot;এটা তুমি কি করলে মুসকান?&quot; &quot;অতাশ হাসছে অতাশ হাসছে।&quot; বলতে বলতে ঢলে পরলো মুসকান।

 পুলিশের নজরদারিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে মুসকানকে। পুলিশের হেফাজতে আছে মুসকান। মুসকান এর বাবা মা ও  এসেছে হাসপাতালে। কেবিনের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন সবাই। সীমান্তও আছে। ডাক্তার আসতেই ডাক্তারের কাছে উৎকণ্ঠা নিয়ে উপস্থিত হল মুসকানের বাবা-মা। &quot;মুসকান একটা ট্রমা তে আছে। সেখান থেকে বের হওয়া তার জন্য কষ্টের। তাই মেন্টাল ট্রিটমেন্ট নিতে হবে মুসকান কে। মেন্টাল আসাইলেমে রাখতে হবে ওকে। টিপ আর এখন ওর যে অবস্থা তাতে……&quot; &quot;ওর এখন যে অবস্থা মানে, ডাক্তার?&quot; ডাক্তারকে প্রশ্ন করলেন মুসকানের বাবা। &quot;আপনারা জানেন না মুসকান তো মা হতে যাচ্ছে। ৫ সপ্তাহ চলছে। ডাক্তারের কথাশুনে ভেঙে পড়েছে মুসকানের বাবা-মা। ডাক্তার চলে যাবার পর মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে কান্না আর দুশ্চিন্তা করছিল মুসকানের বাবা-মা। তাদের সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে এলো সীমান্ত। &quot;এখন কি হবে আমাদের মেয়েটার। একটা খুনের বোঝা ওর মাথার উপর। তারপর আবার বাচ্চা হবে। কি পরিচয় নিয়ে বড় হবে বাচ্চাটা? মেয়েটা জিবন তো শেষ ই এর সাথে আমরাও আর মুখ দেখাতে পারব না কাউকে।&quot; &quot;আপনার প্লিজ এভাবে ভেঙ্গে পরবেন না। নিশ্চয়ই মুসকানের মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রাখবে কোর্ট।&quot;

কোর্টে উঠল মুসকানের কেস। সেখানে মুসকানের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এবং যেহেতু মাহমুদও একজন আসামি ছিল যাকে পুলিশ খুঁজছিল তাই মুসকান  কে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। তারপর সীমান্ত হাইকোর্টে আপিল করে সেখানে মুসকান ও তার বাচ্চার কথা ভেবেই শাস্তি কমিয়ে তিন বছরে আনা হয়।

৩ বছর পর..……
&quot;মুসকান, তুমি রেডি? চলো গাড়িতে উঠবে।&quot; &quot; অতাশ কোথায়?&quot; &quot;মা-বাবার কাছে আছে।&quot; মুসকান কে নিয়ে মেন্টাল অ্যাসাইলাম  থেকে বাইরে বেরিয়ে আসছে সীমান্ত। তখন একটা ছোট ছেলে দৌড়ে এলো মুসকানের কাছে। &quot;অতাশ মা এখন খুব ক্লান্ত। আগে বাড়ি চলো তারপর মায়ের কোলে উঠবে এখন বাবার কাছে এসো।&quot; সীমান্ত মুসকানকে নিয়ে গাড়িতে উঠলো। সাথে গাড়িতে উঠলো তার বাবা-মা। এই তিন বছর মুসকান মেন্টাল অ্যাসাইলাম এ ছিল। সেখানেই তাঁর ছেলে হয়। মুসকানের ছেলে সীমান্তকে বাবা বলে জেনেছে। আস্তে আস্তে মুসকান আগের সব কথা ভুলে গেছে এবং এটাই ছিল মুসকানের সুস্থ হবার উপায়। এখন মুসকান সম্পূর্ণ সুস্থ। আতাশ বলে এখন সে একজনকেই চেনে আর সে হলো তার ছেলে। সীমান্ত আতাশের বাবার অপারেশন করায়। আর আতাশের বাবা মা ও ছোট বোনের দায়িত্বও নেয়। তারা এখন সীমান্ত বাবা মা হিসেবেই থাকে।

সত্য ঘটনা: রেস্তুরায় গিয়েছেন স্যান্ডউইচ এর অর্ডার করেছিলেন কিন্তু তা পরিবেশনে কিছুটা দেরি হয়ে যায় এতেই রেগে গিয়ে ওয়েটারকে কে গুলি করে বসেন খদ্দের। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওয়েটার এর। ঘটনাটি ঘটেছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পূর্বে নজি - ল- গ্রদ শহরতলীতে।

           ***গল্পটির কিছু অংশ সত্য ঘটনা থেকে নেয়া হলেও সম্পূর্ণ গল্পটি কাল্পনিক এর সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই।

                     ( ইসরাত লামিয়া)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/5306/</link>
				<pubDate>Sun, 28 Mar 2021 03:18:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হঠাৎ ( শেষ পর্ব)<br />
…………<br />
বিয়ের সব সরঞ্জাম একপাশে সরিয়ে সেখানে রাখা হলো বড়ই পাতা, গরম পানি আর আগরবাতি। &#8220;আল্লাহ হু আকবর&#8221; সবার সম্মিলিত কন্ঠের আওয়াজে জ্ঞান ফিরল মুসকানের। তাকে যে ঘরে রাখা হয়েছে সেই ঘরটা অন্ধকার। কেউ নেই এই ঘরে সবাই তখন অন্য কাজে ব্যস্ত। একটু আগে একটা লাশের দাফন হয়েছে এই বাড়ি থেকে তারই শান্তি কামনায় সবাই দোয়া করছে। ঘরটা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-5306"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/5306/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9f43e68b8a2b7231f60a43c3c423420a</guid>
				<title>হঠাৎ (১ম পর্ব)
……………
সূর্য প্রায় ডুবতে চললো। তবে আকাশে হলুদ অভা এখনো আছে। মুসকান পার্কের বেঞ্চিতে বসে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছে আতাশের জন্য। খুব চটে গেছে মুসকান। আতাশের আসার কথা বিকাল 5 টা বাজে এখন বাজে সাড়ে পাঁচটা আতাশ এখনো আসেনি।ফোনটা ও রিং হয়ে যাচ্ছে ধরছে না। প্রায় 36 টা মিসকল জমা পড়েছে আতাশের মোবাইলে সবগুলোই মুসকানের ।&quot;আজকে আসুক আতাশ  ওর একদিন নয় আমার একদিন।একদিন ও সময় মত আসবে না ।ফোনটাও ধরবেনা।&quot; মুসকান রেগে গিয়ে একা একা বিড়বিড় করছে। দূর থেকে আতাশ এর মত কাউকে দেখা যাচ্ছে। হ্যাঁ, এটাতো আতাশ ই  ছুটতে ছুটতে আসছে। আতাশ মুসকান এর কাছে আসতেই মুসকান দাঁড়িয়ে পরল। আতাশ হাঁপাতে হাঁপাতে বলছে ,&quot;সরি সরি অনেক দেরি হয়ে গেল। আসলে বিকালে এত অর্ডার থাকে যে সবকিছু ম্যানেজ করতে দেরি হয়ে গেল। সরি&quot; &quot;ফোনটা তো অন্তত ধরতে পারতে। না তাও ধরবেনা । আচ্ছা বাদ দাও এখন বলো তুমি কবে আমার বাড়িতে আসবে।&quot; &quot;তোমার বাড়ি আমি কেন যাব?&quot; &quot;মা বাবার সাথে কথা বলতে ।আমি কিছু শুনতে চাই না এবার তো একটা সিদ্ধান্ত এ আসতেই হবে। তুমি জানো আমার পাত্রপক্ষ এসেছিল। এই নিয়ে চারবার আমি পাত্রপক্ষকে ফিরিয়ে দিয়েছি। বাড়ির সবাই আমার উপর রেগে আছে। আমি আর এভাবে ম্যানেজ করতে পারছি না। এবার যা করার তুমি করবে।&quot; &quot;আমি কি করবো?&quot; &quot;কেন? আমার আম্মু আব্বুর সাথে বিয়ের কথা বলবে।&quot; &quot;এখন আমি বিয়ের কথা বলতে পারব না।&quot; &quot;কেন?&quot; &quot;কেন তুমি জাননা আব্বু চোখের অপারেশন এর টাকা ইত জোগাড় করতে পারছিনা। বিয়ে কিভাবে করব?&quot; &quot;তাহলে আমি কি করবো? বিয়ে করে ফেলবো।&quot; &quot;যা ইচ্ছা করো।&quot; আতাশ রাগ করে চলে গেল। মুসকান পেছন থেকে অনেকবার ডাকল কিন্তু আতাশ সাড়া দেয়নি। 

আতাশের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে। সেখানে তার বাবা-মা আর ছোট বোন থাকে ।তার মা আগে অন্যের বাসায় কাজ করতো। এখন আর করতে পারেনা। আতাশের বাবার চোখে ছানি পড়ে মারাত্মক ইনফেকশন হয়েছে। এক্ষুনি অপারেশন না করা হলে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।আতাশের ছোটবোন ক্লাস এইটে পড়ে। আতাশ এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকায় আসে পড়াশোনা করতে। তখন তার বাবা-মা দুজনেই কাজ করতো। ঢাকায় এসে পড়াশোনা খুব কম করতে পেরেছে আতাশ। তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ে মাও তার দেখাশোনা করার জন্য কাজ করতে পারে না। আতাশকেই টাকা পাঠাতে হয়। আতাস প্রথম প্রথম টিউশনি করত পরে তাও পাইনি। এখন একটা ছোটখাটো রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করে। ইচ্ছা আছে কোন বড় রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করবে। অনেক চেষ্টা করেও তা জোগাড় করতে পারছে না সে।

 মুসকান তার বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। তার বাবার মুদি দোকান। মা গৃহিণী। সে মাস্টার্স করেছে। এরকম পরিবারের মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে হয় ।কিন্তু মুসকানের তা হয়নি। হয়নি মুসকান এর জন্যই। সে বিয়ে করতে রাজি নয়। আতাশের জন্য রাজি হতে পারেনি। আর আতাশ এত সমস্যার মাঝে বিয়ে করতে রাজি নয় আকাশ আর মুসকান এর ঝগড়া হয়েছে। দুদিন তাদের মাঝে কোন কথাই হয়নি। এই দুদিন খাওয়া-দাওয়া ভালো করে হয়নি মুসকানের। মনতো খারাপ ছিল তাই। দুইদিন পর আতাশ প্রথম ফোন দিল মুসকান কে। মুসকান ফোনটা ধরল না পরপর পাঁচবার ফোনটা রিং হওয়ার পর ষষ্ঠবারে ফোন ধরল সে। &quot;মুসকান সরি আমার ওভাবে বলা উচিত হয়নি।&quot; তাহলে এখন কি করবে? আমাকে বলে দিয়েছে এবার যদি আমি পাত্রপক্ষকে ফিরিয়ে দেই তাহলে আমাকে বাড়িতে আর থাকতে দেবেনা।&quot; &quot;ঠিক আছে তুমি আমাকে সাত দিনের সময় দাও আমি তার মাঝেই একটা ব্যবস্থা করবো।&quot; এই ৭ দিন আতাশের সবচেয়ে খারাপ কেটেছে। নতুন রেস্টুরেন্টে কাজ খুঁজছে সে। ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা না থাকায় অনেক বড় বড় রেস্টুরেন্ট থেকে রিজেক্টেড হয়ে পড়েছে। বাড়ি থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে দুই থেকে তিন বার ফোন করা হয় টাকার জন্য। 30 হাজার টাকা ,এতগুলো টাকা সেটা একেবারে পাবে কি করে। অনেক চেষ্টা করেও দারিদ্রতার সাথে খাপ খাওয়াতে পারছে না আতাশ। মুসকান ও খারাপ সময় কাটিয়েছে। বাবা-মার সাথে প্রতিদিন ঝগড়া করেছে। নতুন চাকরির খোঁজ করেছে। সব রকম কাজ করতে প্রস্তুত কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। সাত দিন পর আতাশ আর মুসকান পার্কের বেঞ্চিতে বসে আছে। কেউ কোন কথা বলছে না। এভাবে অনেক্ষণ কাটলো আতাশ ই প্রথম শুরু করলো, &quot;ভাবছি টাকা ধার নেব ।আব্বুর অপারেশনটা করাতেই হবে। কার কাছ থেকে ধার নেয়া যায় বলোতো।&quot; &quot; জানিনা &quot; দুজনের মধ্যে এটুকুই কথা হলো। দুজনে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস চেপে রাখলো কারণ তারা জানে তাদের কেউ টাকা দিয়ে সাহায্য করবে না।

 আজ আতাশ গেছে শেরাটন হোটেলে একটা ইন্টারভিউ ছিল। ইন্টারভিউ হবে ইংরেজিতে। বড় হোটেল অনেক সময় বিদেশীরা আসে তাই ওয়েটারকে তো মোটামুটি ইংরেজি জানতেই হবে সেখানেই সমস্যা। আতাশ ইংরেজিতে ভালো না। ইন্টারভিউ রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে সে। অনেকগুলো চিন্তা মাথায় কিন্তু কোনটাই চিন্তা করতে পারছে না সে। সব অগোছালো লাগছে তার। এমন সময় ডাক এলো আতাশ ইসলাম। ভেতরে গিয়ে আতাশ বাতাস চেয়ারে বসতেই একের পর এক প্রশ্ন আসতে থাকলো ইংরেজিতে। আতাশ কিছু বুঝতে পারল না তাই তাকে চুপ করে থাকতে হলো। অবশেষে একজন তাকে বাংলায় প্রশ্ন করল,&quot; তুমি যদি ইংরেজি না পারো তবে বাংলাতে নিজের সম্পর্কে কিছু বল।&quot; আতাশ এর একটু সময় হচ্ছিল নিজেকে গোছাতে। তখন অন্য একজন বলে উঠল,&quot;বাংলায় বলে আর কি হবে ইংরেজী না জানলে তো আর কাজ করতে পারবো না। তাছাড়া ও তো বাংলা ও কিছু বলতে পারছিনা ছেড়ে দিন পর্যন্ত ডাকা যাবে আমার নাম আতাশ ইসলাম।&quot; &quot;আতাশ বলতে শুরু করলো আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় এসেছি শুধু মাত্র একদিন স্ট্রাগেল পড়ার জন্য যখন আমি ঢাকায় আসছিলাম তখন আমারও চোখ ভর্তি স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে আমার পরিবারের সব সমস্যার সমাধান করবো।  কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন হয়। প্রথমে আমি আমার লেখাপড়া ছেড়ে দেই কাজ করতে শুরু করি। এখন আমি একটা ছোট রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করি এই কাজটা আমাকে অনেক কষ্ট করে পেতে হয়েছে। এই কাজ পাওয়ার আগে আমাকে কী না করতে হয়েছে। এখন আমার বাবা অসুস্থ। খুব অসুস্থ। অপারেশন করাতে না পারলে আমার বাবা আর কোনদিন চোখে দেখতে পাবে না। তাই এই কাজটা এখন আমার সবচেয়ে বেশি দরকার। আর যোগ্যতার কথা। জীবনে তো অনেক কিছুর সাথে মানিয়ে নিয়েছি নিজেকে এটা চেষ্টা করব বাতাস চোখের কোন হয়েছিল বাড়ি ফিরে যাচ্ছে আতাশ। সে বুঝে গেছে এবারও সে কাজটা পাচ্ছেনা। হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসতেই আবার অন্য ঘটনা। বাড়ীওয়ালা তার জিনিসপত্র ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। চার মাসের বাড়ি ভাড়া বাকি। আতাশ অনেক কষ্টে তার থেকে দুদিন পেল। এটা প্রথমবার হয়েছে এরকম আগেও হয়েছে। আকাশের 2 দিন 4 মাসে গতিয়েছে। সে নিজেও জানে না যে টাকা দিয়েছে তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব না আপাতত ।ম্যানেজ করা আর কি। আজ মুসকান নয় বরং আতাশ অপেক্ষা করছে কিন্তু খারাপ লাগছে না তার। অপেক্ষা করার অভ্যাস আছে তার। কিন্তু মুসকান তাকে বেশি অপেক্ষা করালোনা ।আগেই চলে এলো মুসকান রেগে আছে একটু না অনেক বেশি রেগে আছে। রেগে থাকাই তো স্বাভাবিক। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হয়ে এত দিনেও বিয়ে না করে থাকো তো সহজ কথা নয় ।কিন্তু সে আছে কারণ সে আতাশ কে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবে না।  &quot;তুমি কি সত্যিই কিছু করতে পারবে নাকি ?&quot; &quot;আমি সমাধান পেয়ে গেছি মুসকান।&quot; &quot;সত্যি? তার মানে তোমার কাজটা হয়ে গেছে।&quot; উল্লসিত হলো মুসকান &quot;না,&quot; আতাশ বলল,&quot; তুমি আমার জন্য অনেক অপেক্ষা করেছো মুসকান। কিন্তু আর না এবার তুমি তাই শুনবে যা তোমার মা-বাবা বলবেন। আমি বুঝে গেছি আমি আর কিছু করতে পারবোনা। তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করে ফেলো। মুসকান আমি তোমার যোগ্য না।&quot; &quot;আতাশ, তুমি জানো তুমি কি বলছ!&quot; &quot;জানি আমি আর কথা বাড়াতে চাই না তুমি চলে যাও।&quot; এই বলে আতাশ চলে যাচ্ছে। মুসকান পেছন থেকে অনেকবার ডাকলো কিন্তু আতাশ দাড়ালো না। একবার পেছনে ও ঘুরল না। মুসকান ওখানে বসেই বেশ অনেক্ষণ কাদল। আজকে মুসকান এর বাবা মায়ের পছন্দ করা ছেলের সাথে আংটি বদল। বাড়িতে বেশ ভালোই আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু মুসকানের মনটা খারাপ। শুধু খারাপ না খুব খারাপ। কাল সারারাত ঘুমায় নি ।সে আতাশকে অনেকবার ফোন করেছে কিন্তু আতাশ ফোন ধরেনি। তাহলে আর কি বাবা-মায়ের কথামতো রাজি হল সে। সব আয়োজন শেষ এখন শুধু আংটি পড়ানো বাকি। আংটি পড়াতে যাবে তখনই কলিং বেল বাজল। হয়তো কেউ এসেছে তার জন্য আংটি পরানো বন্ধ থাকে না। &quot;মুসকান আমি একটা কাজ পেয়েছি,&quot; উত্তেজিত হয়ে আছে আতাশ। আনন্দ এ নিজের উত্তেজনা ধরে রাখতে পারছে না। তাই স্থান কাল সব ভুলে কথাগুলো বলছে সে। &quot;হোটেল শেরাটনে আমি কাজটা পেয়ে গেছি। এখন আর কোন সমস্যা নেই। বাবার অপারেশন হবে আর বিয়েটাও। তারপরই এক বিশ্রী অবস্থা। এই বর্ননা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। বাড়ি এখন ফাঁকা। এখানে মুসকানের বাবা-মা মুসকান আতাশ আছে। &quot;আমি এখন একটা ছোট রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করি।&quot;আতাশ মুসকানের বাবা-মা কে উদ্দেশ্য করে বলছিল। &quot;তবে এখন একটা বড় রেস্টুরেন্টে কাজ পেয়েছি। ভালো সেলারি দেবে। সামনের মাস থেকে কাজ শুরু এডভান্স 1000 টাকা আর প্রথম মাসের স্যালারি 8000 টাকা একেবারে দিয়ে দেবে। আপনার মেয়ে আমার সাথে খারাপ থাকবে না&quot;।  &quot;হ্যাঁ, আমি আতাশকে ভালোবাসি আর বিয়ে যদি করতেই হয় ওকেই করব।&quot; &quot;আমি আর কি বলব?  মুসকান এর বাবা গম্ভীরভাবে বলছে আমার মেয়ে তো তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে, মতামত চাইছি না।&quot; অর্থাৎ মুসকানের বাবার বিয়েতে রাজি। ঠিক হলো এই মাসের মধ্যেই তাদের বিয়ে হবে। তাদের বিয়ে হবার পর তারা একসাথে গ্রামে যাবে আর সেখানেই আতাশের বাবার অপারেশন হবে। এই একমাস আতাশের এবং মুসকান দুজনেরই জন্য খুব ভালো দিন ছিল। তারা প্রায় প্রতিদিনই দেখা করেছে। বিয়ের প্ল্যান করেছে। আজও মুসকান অপেক্ষা করছে আতাশের জন্য। সবসময়ের মত আজও আতাশ দেরি করছে ঠিক কিন্তু মুসকান তাতে রেগে যাচ্ছে না বরং ভালো লাগছে তার। মুসকানের মনে হচ্ছে এই অপেক্ষার শেষ না হলে খারাপ হবে না, ভালোই হবে। কিন্তু তা হলোনা মুসকানের অপেক্ষাকে শেষ করে দিয়ে আতাশ আসছে। &quot;সরি সরি আমার দেরি হয়ে গেল।&quot; &quot;না ঠিক আছে আমার খারাপ লাগছিলো না।&quot; &quot;কেন?&quot; &quot;আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে আজ কোথায় ঘুরা যায় বলোতো?&quot; &quot;কেন এই পার্কে। ঘোরার জন্য এরচেয়ে ভালো জায়গা আর কি হতে পারে।&quot; &quot;তাহলে চলো&quot; &quot;চলো&quot; আতাশ মুসকানের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো। মুসকান দেরি না করে সেই হাত ধরে ফেলল। সারা বিকেল ঘুরল তারা। ঘুরতে ঘুরতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেল তা তারা খেয়ালই করেনি। শুধু যে সূর্য ডুবে গেছে তাইনা আকাশে মেঘ করেছে, বেশ ভালো মেঘ। যে কেউ আকাশ দেখে বলে দিতে পারবে যে খুব বৃষ্টি হবে। বৃষ্টি নামল অল্প সময়ের ব্যবধানে। শুধু বৃষ্টি নয় তার সাথে ঝড়ো হাওয়া। আতাসের আর মুসকানের এখনই কোথাও আশ্রয় নেয়া দরকার। কিন্তু আশ্রয় নেয়ার মত গাছতলা ছাড়া আর কোন জায়গা পাচ্ছিল না তারা। যখন তারা একটা কুড়ে ঘর খুঁজে পেল ততক্ষনে পুরো ভিজে গেছে তারা। গা থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। &quot;বাড়িতে কেউ আছেন?&quot; দরজায় কড়া নেড়ে চিৎকার করে বলল আতাশ। অনেকবার দরজা ধাক্কানোর পর দরজা খোলা হল। &quot;আপনারা কারা?&quot; ভেতর থেকে পুরুষ কন্ঠ ভেসে এলো। &quot;বৃষ্টির সময় টুকু একটু থাকার জায়গা হবে, খুব ঝড় হচ্ছে। একটু উপকার করুন।&quot; &quot;সে একটু উপকার করতে পারি কিন্তু আপনারা স্বামী স্ত্রী তো। স্বামী-স্ত্রী ছাড়া একটা মেয়ে আরেকটা ছেলেকে তো থাকতে দিতে পারি না।&quot; এই প্রশ্নের উত্তর দিতে একটু সময় নিল তারা। তারা বলতে পারতো যে তাদের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে কিন্তু বলেনি পাছে যদি ওদের থাকতে না দেয় তাই। &quot;আমরা স্বামী-স্ত্রী&quot; আতাশের সাথে মুসকান ও গলা মেলালো। অবশেষে তারা দুজন থাকার জন্য একটা ঘর পেল। রাতটা তারা সেখানে কাটাল।

 আজ মুসকান তার বিয়ের মার্কেট করতে যাচ্ছে আতাশকে অনেকবার বলার পরেও আতাশ আসতে পারেনি তার কাজের জন্য। পুরানো রেস্টুরেন্টে এটাই তার শেষ মাসের কাজ। মার্কেট সেরে বাড়ি ফিরে মুসকান দেখলো তার নামে একটা চিঠি এসেছে। গত মাসে একটা কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিয়েছিল মুসকান তার ই চিঠি এটা অর্থাৎ মুসকান চাকরিটা পেয়ে গেছে। হঠাৎ হঠাৎ মানুষের জীবন কতটা বদলে যায়। এক মাস আগেও তারা হতাশায় ডুবে ছিল। অথচ আজ একটা একটা করে তারা সব পেয়ে যাচ্ছে। খুশির খবরগুলো হঠাৎ করে আসে আর এমনভাবে আসে যে জীবনটাই বদলে যায়।

 আজ মুসকান আতাশের বিয়ের আগের দিন। দিনটা যে বিশেষ তাতে কোনো সন্দেহ নেই আজকের পরে তারা এমন একটা জীবন শুরু করতে যাচ্ছে যেখানে ভালোবাসার মানুষটা কাছেই থাকবে আর দূরে থাকবে সব অভাব। পুরানো রেস্টুরেন্টে আজ শেষ দিন আতাশের। দিনটা শুক্রবার তাই প্রচুর অর্ডার আছে রেস্টুরেন্টে। আতাশ খুব ব্যস্ত সময় পার করছে।একটার পর একটা অর্ডার আসছে। মাঝে ফোনটা বেজে উঠেছে বারবার। একটা অর্ডার সার্ফ করতেই আরেকটা অর্ডার পেয়ে গেলো। &quot;এই ওয়েটার একটা স্যান্ডউইচ আর একটা কোল্ড ড্রিঙ্কস নিয়ে এসো।&quot; একটা ভারী গলা ভেসে এলো আতাশে দিকে। আকাশের লোকটাকে দেখে একটু অন্যরকম লাগল। বেশ রাগী লোকটা। দেখেই বোঝা যাচ্ছে। এখনো বেশ রেগে আছে মনে হচ্ছে। চোখটা লাল, মুখের উপর লম্বা একটা গোঁফ এ  তাকে আরো ভয়ঙ্কর লাগছে। &quot;জি স্যার এক্ষুনি আনছি&quot;, বলেই আতাশ চলে গেল খাবার আনতে। স্যান্ডউইচ রেডি করতে করতে আতাশ দেখল ফোনে ২৪ টা মিসডকল সবগুলো মুসকান। আবারো ফোন বেজে উঠলো। মুসকান এর ফোন। এবার আতাশ ফোনটা ধরলো। &quot; হ্যালো মুসকান কথা বলার একদম সময় নেই। খুব ব্যস্ত অনেক অর্ডার আসছে আজ।&quot; &quot; মানে তুমি এখনো রেস্টুরেন্টে। আজকে আমাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। আমাদের দুজনের এখানে একসাথে গায়ে হলুদ হবে। সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। তুমি রেডি হবে না। তোমার জন্য আমিও রেডি হতে পারছিনা।&quot; &quot;এইতো এটাই আমার লাস্ট অর্ডার। এটা দিয়ে আমি বের হব। তুমি এখন ফোনটা রাখো।&quot; আতাশ ফোনটা তো রাখলো কিন্তু কথা বলতে বলতে পুড়ে গেল স্যান্ডউইচটা। ওদিক থেকে লোকটা রাগী গলায় তারা দিচ্ছে,&quot; আমার অর্ডারটা কখন আসবে?&quot;  আকাশ তাড়াতাড়ি হাত চালাতে লাগলো। অন্য একটা স্যান্ডউইচ দ্রুত গরম করলো সে কিন্তু বসে থাকা রেগে যাচ্ছে। খুব দ্রুতই রেগে যাচ্ছে সে। এবার আকাশ স্যান্ডউইচ নিয়ে আসছে আতাশকে দেখে যেন আরও রাগ বেড়ে গেল লোকটার। এরপর একটা বিকট শব্দ। সবকিছু কেমন উলট পালট হয়ে গেল আতাশের হাত থেকে ট্রে টা নিচে মাটিতে পড়ে গেল। তার কিছুক্ষণ বাদে আতাশও লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। দেখতে দেখতে লাল হয়ে উঠল মেঝে আর গোঙাতে গোঙাতে নিথর হয়ে গেল আতাশের দেহটা।

 &quot;আতাশের আক্কেল দেখেছো&quot;, আমাকে কখন বলল বের হচ্ছে কিন্তু এখনো আসলো না। আমি আবার ফোন করছি।&quot; মুসকান তার মাকে বলছিল কথাগুলো। মুসকান আবার ফোন করে আতাশকে। &quot;আতশ আর কতক্ষণ? তুমি কোথায় বলতো? প্লিজ বল না যে এখনো রেস্টুরেন্টে।&quot;
-মুসকান আমি আতশ না ইশরাক বলছি।
- ও ইশরাক। আতাশ কোথায়? আতাশ কে ফোন  দাও। কতক্ষন ধরে অপেক্ষা করছি। ও কি করছে এখনো। আমি  আতশ এর সাথে কথা বলবো।
- আটাশ কথা বলতে পারবে না মুসকান। ও আর কখনো কথা বলবে না।
- মানে, বাজে কথা বন্ধ করো আর আতাস  কে ফোনটা দাও আমাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হতে পারছে না। 
- আমি তো বলছি মূসকান আতশ আর কথা বলতে পারবে না। কারণ ও মারা গেছে। ওর dead body টা তোমার বাড়িতে পাঠানোর ব্যাবস্থা করা হয়েছে। 
- আমি বিশ্বাস করি না। এইতো একটু আগেই আমার আতশ এর সাথে কথা...&quot;  মুসকান গাড়ির শব্দ শুনতে পেলো। সাথে সাথে মুস্কানের হাত থেকে ফোন টা পড়ে গেলো। দৌড়ে বাইরে এসে মুসকান দেখল সেখানে আতাশের লাশ নামানো হচ্ছে। মুসকান আতাশের কাছে এলো। &quot; আতশ, ওঠো না আতশ। আমাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হবে তো। আতশ তুমি রেডী হবে না। আতশ ওঠো না আতশ, আতশ&quot;  চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কাদতে লাগলো মুসকান। এতক্ষণে ভিড় জমে গেছে তাদের বাড়িতে বুকের ফটো দেখে সবাই রক্তে আকাশের ষাট লাল হয়ে গেছে জ্ঞান হারালো মুসকান সবাই মিলে ব্যবস্থা করল একটু আগেও এই বাড়িটা উৎসবে মেতেছিল আর এখন শোকে আচ্ছন্ন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/5213/</link>
				<pubDate>Fri, 26 Mar 2021 10:56:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হঠাৎ (১ম পর্ব)<br />
……………<br />
সূর্য প্রায় ডুবতে চললো। তবে আকাশে হলুদ অভা এখনো আছে। মুসকান পার্কের বেঞ্চিতে বসে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছে আতাশের জন্য। খুব চটে গেছে মুসকান। আতাশের আসার কথা বিকাল 5 টা বাজে এখন বাজে সাড়ে পাঁচটা আতাশ এখনো আসেনি।ফোনটা ও রিং হয়ে যাচ্ছে ধরছে না। প্রায় 36 টা মিসকল জমা পড়েছে আতাশের মোবাইলে সবগুলোই মুসকানের ।&#8221;আজকে আসুক আতাশ  ওর এক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-5213"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/5213/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>