-
হঠাৎ (১ম পর্ব)
……………
সূর্য প্রায় ডুবতে চললো। তবে আকাশে হলুদ অভা এখনো আছে। মুসকান পার্কের বেঞ্চিতে বসে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছে আতাশের জন্য। খুব চটে গেছে মুসকান। আতাশের আসার কথা বিকাল 5 টা বাজে এখন বাজে সাড়ে পাঁচটা আতাশ এখনো আসেনি।ফোনটা ও রিং হয়ে যাচ্ছে ধরছে না। প্রায় 36 টা মিসকল জমা পড়েছে আতাশের মোবাইলে সবগুলোই মুসকানের ।”আজকে আসুক আতাশ ওর একদিন নয় আমার একদিন।একদিন ও সময় মত আসবে না ।ফোনটাও ধরবেনা।” মুসকান রেগে গিয়ে একা একা বিড়বিড় করছে। দূর থেকে আতাশ এর মত কাউকে দেখা যাচ্ছে। হ্যাঁ, এটাতো আতাশ ই ছুটতে ছুটতে আসছে। আতাশ মুসকান এর কাছে আসতেই মুসকান দাঁড়িয়ে পরল। আতাশ হাঁপাতে হাঁপাতে বলছে ,”সরি সরি অনেক দেরি হয়ে গেল। আসলে বিকালে এত অর্ডার থাকে যে সবকিছু ম্যানেজ করতে দেরি হয়ে গেল। সরি” “ফোনটা তো অন্তত ধরতে পারতে। না তাও ধরবেনা । আচ্ছা বাদ দাও এখন বলো তুমি কবে আমার বাড়িতে আসবে।” “তোমার বাড়ি আমি কেন যাব?” “মা বাবার সাথে কথা বলতে ।আমি কিছু শুনতে চাই না এবার তো একটা সিদ্ধান্ত এ আসতেই হবে। তুমি জানো আমার পাত্রপক্ষ এসেছিল। এই নিয়ে চারবার আমি পাত্রপক্ষকে ফিরিয়ে দিয়েছি। বাড়ির সবাই আমার উপর রেগে আছে। আমি আর এভাবে ম্যানেজ করতে পারছি না। এবার যা করার তুমি করবে।” “আমি কি করবো?” “কেন? আমার আম্মু আব্বুর সাথে বিয়ের কথা বলবে।” “এখন আমি বিয়ের কথা বলতে পারব না।” “কেন?” “কেন তুমি জাননা আব্বু চোখের অপারেশন এর টাকা ইত জোগাড় করতে পারছিনা। বিয়ে কিভাবে করব?” “তাহলে আমি কি করবো? বিয়ে করে ফেলবো।” “যা ইচ্ছা করো।” আতাশ রাগ করে চলে গেল। মুসকান পেছন থেকে অনেকবার ডাকল কিন্তু আতাশ সাড়া দেয়নি।আতাশের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে। সেখানে তার বাবা-মা আর ছোট বোন থাকে ।তার মা আগে অন্যের বাসায় কাজ করতো। এখন আর করতে পারেনা। আতাশের বাবার চোখে ছানি পড়ে মারাত্মক ইনফেকশন হয়েছে। এক্ষুনি অপারেশন না করা হলে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।আতাশের ছোটবোন ক্লাস এইটে পড়ে। আতাশ এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকায় আসে পড়াশোনা করতে। তখন তার বাবা-মা দুজনেই কাজ করতো। ঢাকায় এসে পড়াশোনা খুব কম করতে পেরেছে আতাশ। তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ে মাও তার দেখাশোনা করার জন্য কাজ করতে পারে না। আতাশকেই টাকা পাঠাতে হয়। আতাস প্রথম প্রথম টিউশনি করত পরে তাও পাইনি। এখন একটা ছোটখাটো রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করে। ইচ্ছা আছে কোন বড় রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করবে। অনেক চেষ্টা করেও তা জোগাড় করতে পারছে না সে।
মুসকান তার বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। তার বাবার মুদি দোকান। মা গৃহিণী। সে মাস্টার্স করেছে। এরকম পরিবারের মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে হয় ।কিন্তু মুসকানের তা হয়নি। হয়নি মুসকান এর জন্যই। সে বিয়ে করতে রাজি নয়। আতাশের জন্য রাজি হতে পারেনি। আর আতাশ এত সমস্যার মাঝে বিয়ে করতে রাজি নয় আকাশ আর মুসকান এর ঝগড়া হয়েছে। দুদিন তাদের মাঝে কোন কথাই হয়নি। এই দুদিন খাওয়া-দাওয়া ভালো করে হয়নি মুসকানের। মনতো খারাপ ছিল তাই। দুইদিন পর আতাশ প্রথম ফোন দিল মুসকান কে। মুসকান ফোনটা ধরল না পরপর পাঁচবার ফোনটা রিং হওয়ার পর ষষ্ঠবারে ফোন ধরল সে। “মুসকান সরি আমার ওভাবে বলা উচিত হয়নি।” তাহলে এখন কি করবে? আমাকে বলে দিয়েছে এবার যদি আমি পাত্রপক্ষকে ফিরিয়ে দেই তাহলে আমাকে বাড়িতে আর থাকতে দেবেনা।” “ঠিক আছে তুমি আমাকে সাত দিনের সময় দাও আমি তার মাঝেই একটা ব্যবস্থা করবো।” এই ৭ দিন আতাশের সবচেয়ে খারাপ কেটেছে। নতুন রেস্টুরেন্টে কাজ খুঁজছে সে। ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা না থাকায় অনেক বড় বড় রেস্টুরেন্ট থেকে রিজেক্টেড হয়ে পড়েছে। বাড়ি থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে দুই থেকে তিন বার ফোন করা হয় টাকার জন্য। 30 হাজার টাকা ,এতগুলো টাকা সেটা একেবারে পাবে কি করে। অনেক চেষ্টা করেও দারিদ্রতার সাথে খাপ খাওয়াতে পারছে না আতাশ। মুসকান ও খারাপ সময় কাটিয়েছে। বাবা-মার সাথে প্রতিদিন ঝগড়া করেছে। নতুন চাকরির খোঁজ করেছে। সব রকম কাজ করতে প্রস্তুত কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। সাত দিন পর আতাশ আর মুসকান পার্কের বেঞ্চিতে বসে আছে। কেউ কোন কথা বলছে না। এভাবে অনেক্ষণ কাটলো আতাশ ই প্রথম শুরু করলো, “ভাবছি টাকা ধার নেব ।আব্বুর অপারেশনটা করাতেই হবে। কার কাছ থেকে ধার নেয়া যায় বলোতো।” ” জানিনা ” দুজনের মধ্যে এটুকুই কথা হলো। দুজনে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস চেপে রাখলো কারণ তারা জানে তাদের কেউ টাকা দিয়ে সাহায্য করবে না।
আজ আতাশ গেছে শেরাটন হোটেলে একটা ইন্টারভিউ ছিল। ইন্টারভিউ হবে ইংরেজিতে। বড় হোটেল অনেক সময় বিদেশীরা আসে তাই ওয়েটারকে তো মোটামুটি ইংরেজি জানতেই হবে সেখানেই সমস্যা। আতাশ ইংরেজিতে ভালো না। ইন্টারভিউ রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে সে। অনেকগুলো চিন্তা মাথায় কিন্তু কোনটাই চিন্তা করতে পারছে না সে। সব অগোছালো লাগছে তার। এমন সময় ডাক এলো আতাশ ইসলাম। ভেতরে গিয়ে আতাশ বাতাস চেয়ারে বসতেই একের পর এক প্রশ্ন আসতে থাকলো ইংরেজিতে। আতাশ কিছু বুঝতে পারল না তাই তাকে চুপ করে থাকতে হলো। অবশেষে একজন তাকে বাংলায় প্রশ্ন করল,” তুমি যদি ইংরেজি না পারো তবে বাংলাতে নিজের সম্পর্কে কিছু বল।” আতাশ এর একটু সময় হচ্ছিল নিজেকে গোছাতে। তখন অন্য একজন বলে উঠল,”বাংলায় বলে আর কি হবে ইংরেজী না জানলে তো আর কাজ করতে পারবো না। তাছাড়া ও তো বাংলা ও কিছু বলতে পারছিনা ছেড়ে দিন পর্যন্ত ডাকা যাবে আমার নাম আতাশ ইসলাম।” “আতাশ বলতে শুরু করলো আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় এসেছি শুধু মাত্র একদিন স্ট্রাগেল পড়ার জন্য যখন আমি ঢাকায় আসছিলাম তখন আমারও চোখ ভর্তি স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে আমার পরিবারের সব সমস্যার সমাধান করবো। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন হয়। প্রথমে আমি আমার লেখাপড়া ছেড়ে দেই কাজ করতে শুরু করি। এখন আমি একটা ছোট রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করি এই কাজটা আমাকে অনেক কষ্ট করে পেতে হয়েছে। এই কাজ পাওয়ার আগে আমাকে কী না করতে হয়েছে। এখন আমার বাবা অসুস্থ। খুব অসুস্থ। অপারেশন করাতে না পারলে আমার বাবা আর কোনদিন চোখে দেখতে পাবে না। তাই এই কাজটা এখন আমার সবচেয়ে বেশি দরকার। আর যোগ্যতার কথা। জীবনে তো অনেক কিছুর সাথে মানিয়ে নিয়েছি নিজেকে এটা চেষ্টা করব বাতাস চোখের কোন হয়েছিল বাড়ি ফিরে যাচ্ছে আতাশ। সে বুঝে গেছে এবারও সে কাজটা পাচ্ছেনা। হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসতেই আবার অন্য ঘটনা। বাড়ীওয়ালা তার জিনিসপত্র ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। চার মাসের বাড়ি ভাড়া বাকি। আতাশ অনেক কষ্টে তার থেকে দুদিন পেল। এটা প্রথমবার হয়েছে এরকম আগেও হয়েছে। আকাশের 2 দিন 4 মাসে গতিয়েছে। সে নিজেও জানে না যে টাকা দিয়েছে তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব না আপাতত ।ম্যানেজ করা আর কি। আজ মুসকান নয় বরং আতাশ অপেক্ষা করছে কিন্তু খারাপ লাগছে না তার। অপেক্ষা করার অভ্যাস আছে তার। কিন্তু মুসকান তাকে বেশি অপেক্ষা করালোনা ।আগেই চলে এলো মুসকান রেগে আছে একটু না অনেক বেশি রেগে আছে। রেগে থাকাই তো স্বাভাবিক। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হয়ে এত দিনেও বিয়ে না করে থাকো তো সহজ কথা নয় ।কিন্তু সে আছে কারণ সে আতাশ কে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবে না। “তুমি কি সত্যিই কিছু করতে পারবে নাকি ?” “আমি সমাধান পেয়ে গেছি মুসকান।” “সত্যি? তার মানে তোমার কাজটা হয়ে গেছে।” উল্লসিত হলো মুসকান “না,” আতাশ বলল,” তুমি আমার জন্য অনেক অপেক্ষা করেছো মুসকান। কিন্তু আর না এবার তুমি তাই শুনবে যা তোমার মা-বাবা বলবেন। আমি বুঝে গেছি আমি আর কিছু করতে পারবোনা। তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করে ফেলো। মুসকান আমি তোমার যোগ্য না।” “আতাশ, তুমি জানো তুমি কি বলছ!” “জানি আমি আর কথা বাড়াতে চাই না তুমি চলে যাও।” এই বলে আতাশ চলে যাচ্ছে। মুসকান পেছন থেকে অনেকবার ডাকলো কিন্তু আতাশ দাড়ালো না। একবার পেছনে ও ঘুরল না। মুসকান ওখানে বসেই বেশ অনেক্ষণ কাদল। আজকে মুসকান এর বাবা মায়ের পছন্দ করা ছেলের সাথে আংটি বদল। বাড়িতে বেশ ভালোই আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু মুসকানের মনটা খারাপ। শুধু খারাপ না খুব খারাপ। কাল সারারাত ঘুমায় নি ।সে আতাশকে অনেকবার ফোন করেছে কিন্তু আতাশ ফোন ধরেনি। তাহলে আর কি বাবা-মায়ের কথামতো রাজি হল সে। সব আয়োজন শেষ এখন শুধু আংটি পড়ানো বাকি। আংটি পড়াতে যাবে তখনই কলিং বেল বাজল। হয়তো কেউ এসেছে তার জন্য আংটি পরানো বন্ধ থাকে না। “মুসকান আমি একটা কাজ পেয়েছি,” উত্তেজিত হয়ে আছে আতাশ। আনন্দ এ নিজের উত্তেজনা ধরে রাখতে পারছে না। তাই স্থান কাল সব ভুলে কথাগুলো বলছে সে। “হোটেল শেরাটনে আমি কাজটা পেয়ে গেছি। এখন আর কোন সমস্যা নেই। বাবার অপারেশন হবে আর বিয়েটাও। তারপরই এক বিশ্রী অবস্থা। এই বর্ননা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। বাড়ি এখন ফাঁকা। এখানে মুসকানের বাবা-মা মুসকান আতাশ আছে। “আমি এখন একটা ছোট রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করি।”আতাশ মুসকানের বাবা-মা কে উদ্দেশ্য করে বলছিল। “তবে এখন একটা বড় রেস্টুরেন্টে কাজ পেয়েছি। ভালো সেলারি দেবে। সামনের মাস থেকে কাজ শুরু এডভান্স 1000 টাকা আর প্রথম মাসের স্যালারি 8000 টাকা একেবারে দিয়ে দেবে। আপনার মেয়ে আমার সাথে খারাপ থাকবে না”। “হ্যাঁ, আমি আতাশকে ভালোবাসি আর বিয়ে যদি করতেই হয় ওকেই করব।” “আমি আর কি বলব? মুসকান এর বাবা গম্ভীরভাবে বলছে আমার মেয়ে তো তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে, মতামত চাইছি না।” অর্থাৎ মুসকানের বাবার বিয়েতে রাজি। ঠিক হলো এই মাসের মধ্যেই তাদের বিয়ে হবে। তাদের বিয়ে হবার পর তারা একসাথে গ্রামে যাবে আর সেখানেই আতাশের বাবার অপারেশন হবে। এই একমাস আতাশের এবং মুসকান দুজনেরই জন্য খুব ভালো দিন ছিল। তারা প্রায় প্রতিদিনই দেখা করেছে। বিয়ের প্ল্যান করেছে। আজও মুসকান অপেক্ষা করছে আতাশের জন্য। সবসময়ের মত আজও আতাশ দেরি করছে ঠিক কিন্তু মুসকান তাতে রেগে যাচ্ছে না বরং ভালো লাগছে তার। মুসকানের মনে হচ্ছে এই অপেক্ষার শেষ না হলে খারাপ হবে না, ভালোই হবে। কিন্তু তা হলোনা মুসকানের অপেক্ষাকে শেষ করে দিয়ে আতাশ আসছে। “সরি সরি আমার দেরি হয়ে গেল।” “না ঠিক আছে আমার খারাপ লাগছিলো না।” “কেন?” “আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে আজ কোথায় ঘুরা যায় বলোতো?” “কেন এই পার্কে। ঘোরার জন্য এরচেয়ে ভালো জায়গা আর কি হতে পারে।” “তাহলে চলো” “চলো” আতাশ মুসকানের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো। মুসকান দেরি না করে সেই হাত ধরে ফেলল। সারা বিকেল ঘুরল তারা। ঘুরতে ঘুরতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেল তা তারা খেয়ালই করেনি। শুধু যে সূর্য ডুবে গেছে তাইনা আকাশে মেঘ করেছে, বেশ ভালো মেঘ। যে কেউ আকাশ দেখে বলে দিতে পারবে যে খুব বৃষ্টি হবে। বৃষ্টি নামল অল্প সময়ের ব্যবধানে। শুধু বৃষ্টি নয় তার সাথে ঝড়ো হাওয়া। আতাসের আর মুসকানের এখনই কোথাও আশ্রয় নেয়া দরকার। কিন্তু আশ্রয় নেয়ার মত গাছতলা ছাড়া আর কোন জায়গা পাচ্ছিল না তারা। যখন তারা একটা কুড়ে ঘর খুঁজে পেল ততক্ষনে পুরো ভিজে গেছে তারা। গা থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। “বাড়িতে কেউ আছেন?” দরজায় কড়া নেড়ে চিৎকার করে বলল আতাশ। অনেকবার দরজা ধাক্কানোর পর দরজা খোলা হল। “আপনারা কারা?” ভেতর থেকে পুরুষ কন্ঠ ভেসে এলো। “বৃষ্টির সময় টুকু একটু থাকার জায়গা হবে, খুব ঝড় হচ্ছে। একটু উপকার করুন।” “সে একটু উপকার করতে পারি কিন্তু আপনারা স্বামী স্ত্রী তো। স্বামী-স্ত্রী ছাড়া একটা মেয়ে আরেকটা ছেলেকে তো থাকতে দিতে পারি না।” এই প্রশ্নের উত্তর দিতে একটু সময় নিল তারা। তারা বলতে পারতো যে তাদের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে কিন্তু বলেনি পাছে যদি ওদের থাকতে না দেয় তাই। “আমরা স্বামী-স্ত্রী” আতাশের সাথে মুসকান ও গলা মেলালো। অবশেষে তারা দুজন থাকার জন্য একটা ঘর পেল। রাতটা তারা সেখানে কাটাল।
আজ মুসকান তার বিয়ের মার্কেট করতে যাচ্ছে আতাশকে অনেকবার বলার পরেও আতাশ আসতে পারেনি তার কাজের জন্য। পুরানো রেস্টুরেন্টে এটাই তার শেষ মাসের কাজ। মার্কেট সেরে বাড়ি ফিরে মুসকান দেখলো তার নামে একটা চিঠি এসেছে। গত মাসে একটা কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিয়েছিল মুসকান তার ই চিঠি এটা অর্থাৎ মুসকান চাকরিটা পেয়ে গেছে। হঠাৎ হঠাৎ মানুষের জীবন কতটা বদলে যায়। এক মাস আগেও তারা হতাশায় ডুবে ছিল। অথচ আজ একটা একটা করে তারা সব পেয়ে যাচ্ছে। খুশির খবরগুলো হঠাৎ করে আসে আর এমনভাবে আসে যে জীবনটাই বদলে যায়।
আজ মুসকান আতাশের বিয়ের আগের দিন। দিনটা যে বিশেষ তাতে কোনো সন্দেহ নেই আজকের পরে তারা এমন একটা জীবন শুরু করতে যাচ্ছে যেখানে ভালোবাসার মানুষটা কাছেই থাকবে আর দূরে থাকবে সব অভাব। পুরানো রেস্টুরেন্টে আজ শেষ দিন আতাশের। দিনটা শুক্রবার তাই প্রচুর অর্ডার আছে রেস্টুরেন্টে। আতাশ খুব ব্যস্ত সময় পার করছে।একটার পর একটা অর্ডার আসছে। মাঝে ফোনটা বেজে উঠেছে বারবার। একটা অর্ডার সার্ফ করতেই আরেকটা অর্ডার পেয়ে গেলো। “এই ওয়েটার একটা স্যান্ডউইচ আর একটা কোল্ড ড্রিঙ্কস নিয়ে এসো।” একটা ভারী গলা ভেসে এলো আতাশে দিকে। আকাশের লোকটাকে দেখে একটু অন্যরকম লাগল। বেশ রাগী লোকটা। দেখেই বোঝা যাচ্ছে। এখনো বেশ রেগে আছে মনে হচ্ছে। চোখটা লাল, মুখের উপর লম্বা একটা গোঁফ এ তাকে আরো ভয়ঙ্কর লাগছে। “জি স্যার এক্ষুনি আনছি”, বলেই আতাশ চলে গেল খাবার আনতে। স্যান্ডউইচ রেডি করতে করতে আতাশ দেখল ফোনে ২৪ টা মিসডকল সবগুলো মুসকান। আবারো ফোন বেজে উঠলো। মুসকান এর ফোন। এবার আতাশ ফোনটা ধরলো। ” হ্যালো মুসকান কথা বলার একদম সময় নেই। খুব ব্যস্ত অনেক অর্ডার আসছে আজ।” ” মানে তুমি এখনো রেস্টুরেন্টে। আজকে আমাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। আমাদের দুজনের এখানে একসাথে গায়ে হলুদ হবে। সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। তুমি রেডি হবে না। তোমার জন্য আমিও রেডি হতে পারছিনা।” “এইতো এটাই আমার লাস্ট অর্ডার। এটা দিয়ে আমি বের হব। তুমি এখন ফোনটা রাখো।” আতাশ ফোনটা তো রাখলো কিন্তু কথা বলতে বলতে পুড়ে গেল স্যান্ডউইচটা। ওদিক থেকে লোকটা রাগী গলায় তারা দিচ্ছে,” আমার অর্ডারটা কখন আসবে?” আকাশ তাড়াতাড়ি হাত চালাতে লাগলো। অন্য একটা স্যান্ডউইচ দ্রুত গরম করলো সে কিন্তু বসে থাকা রেগে যাচ্ছে। খুব দ্রুতই রেগে যাচ্ছে সে। এবার আকাশ স্যান্ডউইচ নিয়ে আসছে আতাশকে দেখে যেন আরও রাগ বেড়ে গেল লোকটার। এরপর একটা বিকট শব্দ। সবকিছু কেমন উলট পালট হয়ে গেল আতাশের হাত থেকে ট্রে টা নিচে মাটিতে পড়ে গেল। তার কিছুক্ষণ বাদে আতাশও লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। দেখতে দেখতে লাল হয়ে উঠল মেঝে আর গোঙাতে গোঙাতে নিথর হয়ে গেল আতাশের দেহটা।
“আতাশের আক্কেল দেখেছো”, আমাকে কখন বলল বের হচ্ছে কিন্তু এখনো আসলো না। আমি আবার ফোন করছি।” মুসকান তার মাকে বলছিল কথাগুলো। মুসকান আবার ফোন করে আতাশকে। “আতশ আর কতক্ষণ? তুমি কোথায় বলতো? প্লিজ বল না যে এখনো রেস্টুরেন্টে।”
-মুসকান আমি আতশ না ইশরাক বলছি।
– ও ইশরাক। আতাশ কোথায়? আতাশ কে ফোন দাও। কতক্ষন ধরে অপেক্ষা করছি। ও কি করছে এখনো। আমি আতশ এর সাথে কথা বলবো।
– আটাশ কথা বলতে পারবে না মুসকান। ও আর কখনো কথা বলবে না।
– মানে, বাজে কথা বন্ধ করো আর আতাস কে ফোনটা দাও আমাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হতে পারছে না।
– আমি তো বলছি মূসকান আতশ আর কথা বলতে পারবে না। কারণ ও মারা গেছে। ওর dead body টা তোমার বাড়িতে পাঠানোর ব্যাবস্থা করা হয়েছে।
– আমি বিশ্বাস করি না। এইতো একটু আগেই আমার আতশ এর সাথে কথা…” মুসকান গাড়ির শব্দ শুনতে পেলো। সাথে সাথে মুস্কানের হাত থেকে ফোন টা পড়ে গেলো। দৌড়ে বাইরে এসে মুসকান দেখল সেখানে আতাশের লাশ নামানো হচ্ছে। মুসকান আতাশের কাছে এলো। ” আতশ, ওঠো না আতশ। আমাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হবে তো। আতশ তুমি রেডী হবে না। আতশ ওঠো না আতশ, আতশ” চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কাদতে লাগলো মুসকান। এতক্ষণে ভিড় জমে গেছে তাদের বাড়িতে বুকের ফটো দেখে সবাই রক্তে আকাশের ষাট লাল হয়ে গেছে জ্ঞান হারালো মুসকান সবাই মিলে ব্যবস্থা করল একটু আগেও এই বাড়িটা উৎসবে মেতেছিল আর এখন শোকে আচ্ছন্ন।-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 08 June 2022 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 10 March 2023 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 19 September 2024 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 01 July 2025 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
Friends
হাবিবুল্লাহ
@habibulla
স্মৃতি রানী রত্না
@srratna1990
মোঃ মুহিউদ্দীন
@md-muhiuddin
মীর অনাবিল
@miranabil
মহাম্মদ ইদ্রিস আলি
@fivefullstop
পার্থসারথি
@kumarpartha
নির্বোধ সুদীপ্ত
@sajalbhowmick
জামাল হোসেন বিষাদ
@jamalbishad



মৃত্যু তোমাকে কিছুই দেবেনা, কষ্ট ছাড়া। মুসকান এই বেদনা বয়ে যাবে বহুদিন। পরের পর্ববগুলোতে লেখক মুসকানকে কীভাবে উপস্থাপন করে সেটাই দেখার বিষয়। ধনবাদ লেখককে।