-
হঠাৎ ( শেষ পর্ব)
…………
বিয়ের সব সরঞ্জাম একপাশে সরিয়ে সেখানে রাখা হলো বড়ই পাতা, গরম পানি আর আগরবাতি। “আল্লাহ হু আকবর” সবার সম্মিলিত কন্ঠের আওয়াজে জ্ঞান ফিরল মুসকানের। তাকে যে ঘরে রাখা হয়েছে সেই ঘরটা অন্ধকার। কেউ নেই এই ঘরে সবাই তখন অন্য কাজে ব্যস্ত। একটু আগে একটা লাশের দাফন হয়েছে এই বাড়ি থেকে তারই শান্তি কামনায় সবাই দোয়া করছে। ঘরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। মুসকান উঠে বসলো বিছানায়। সে ভাবতেই পারছে না যে আতাশ আর তার কাছে ফিরবে না। কিন্তু কি হলো হঠাৎ যে আতাশকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো। কি হয়েছিল তার সাথে জানতে হবে মুসকান কে। সব কিছু জানতে হবে। সবার আড়ালে মুসকান রেস্টুরেন্টে এল। সেখানে এসে অন্য চিত্র দেখল সে। পুলিশ সিল করেছে রেস্টুরেন্টটা। পুলিশ এখনও সেখানেই আছে। সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাদের মাঝে ইশরাক কেও দেখলো মুসকান। মুসকান ইশরাকের কাছে জানতে চাইল কি হয়েছিল সেখানে। ইশরাক তাকে জানান একজন স্যান্ডউইচ অর্ডার করেছিল। সেটা দিতে একটু দেরি করেছিল আতাশ। তাতেই রেগে গিয়ে আতাশের উপর গুলি চালিয়েছে ওই লোক। এখন পুলিশ বলছে ওই লোকটি একটি খুনের আসামি। পুলিশ তাকে খুজছিল পুলিশ রেস্টুরেন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা চেক করেছে। সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তারা এখনও কাজ করছেন। একজন পুলিশ অফিসার তার সাথে দুইজন হাবিলদার। পুলিশ অফিসারের নাম সীমান্ত। বয়স 27 থেকে 28 এর মধ্যে। এখন সে ফোনে কথা বলছে। মুসকান এর সাথে কথা বলতে যাবে এমন সময় ফোনটা এসেছে তার। “হ্যালো স্যার, হাইওয়ের একটি ফুটেজ থেকে জানা গেছে মাহমুদ (খুনি) এখন বান্দরবন এর দিকে গেছে। ওখানে হয়তো ওর কোন ডেরা আছে। জঙ্গলের মধ্যে”। ফোনের ঐপাশ থেকে এইসব কথা শুনে উত্তেজিত হয়ে উঠল সীমান্ত। “কি বললে বান্দরবান। এখনই ওই রাস্তায় চেকপোস্ট বসাও যাতে মাহমুদ কিছুতেই বান্দরবান ঢুকতে না পারে। এদিকের কাজ শেষ করে আমরাও রওনা হচ্ছি ওই পথে।” ফোন রেখে সীমান্ত কোথাও মুসকান কে খুঁজে পেল না। সে ইশরাক কে জিজ্ঞাসা করল মুসকান এর ব্যাপারে। “এখানে যে মেয়েটা ছিল সে কোথায়?” “এখানেই তো ছিল কোথায় গেল?” বিস্মৃত হল ইশরাক ও। “আচ্ছা ঐ মেয়েটি অতাশের কে হয়?” ” অতাশের বিয়ে হবার কথা ছিল। আজ ওদের গায়ে হলুদ ছিল আর কাল বিয়ে।” “মেয়েটার নাম কি?” “মুসকান” “আচ্ছা ওর বাড়িটা আপনি চেনেন? একটু নিয়ে চলুন তো।” ” হ্যা চলুন।” ইশরাক সীমান্ত আর হাবিলদারদের মুসকানের বাড়িতে নিয়ে গেল। এতক্ষণে সবার খেয়াল হল যে মুসকান তার ঘরে নেই। সবাই মিলে খুঁজছে মুসকান কে কিন্তু পুরো বাড়িতে কোথাও মুসকান কে পাওয়া গেলোনা। মুসকানের মা কান্নায় অস্থির হয়ে পড়লো। এমন সময় বাড়িতে এলো পুলিশ। “কি হল সবাই এতটা অস্থির হয়ে আছে কেন?” সীমান্ত ইশরাক কে বলল। “বুঝতেই তো পারছেন একটা বিয়ে বাড়ি মুহূর্তের মধ্যে শোকের বাড়িতে পরিণত হয়েছে। সবাই কান্নাকাটি তো করবেই” ইশরাক উত্তর দিল। “মুসকান বাড়িতে এসেছে কাকিমা?” একজন ভদ্রমহিলাকে প্রশ্ন করলো ইশরাক। “মুসকানকেই তো কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না, বাবা”, বলতেই কাঁদতে শুরু করলেন ভদ্রমহিলা। “মুসকান বাড়ি আসেনি।” এবার পুলিশের উপর মাসকন কে খুঁজে বার করারও ভার পরল।সীমান্ত এবার বান্দরবান এর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও মাহমুদকে খুঁজে পাওয়া গেলোনা, তাকে বান্দরবানের ঢুকা থেকে আটকানো গেল না। এবার পুলিশের কাজ আরও কঠিন হয়ে গেছে। পুলিশের একটি দল গেছে অতাশের বাবা-মায়ের কাছে। সেখানে মুসকান গেছে কিনা তার খবর নিতে। সেখানের টিম সীমান্তকে জানালো যে না মুসকান সেখানে যায়নি। তারা সীমান্তকে আরো জানালো, অন্ধকারে ডুবে থাকা অতাশের পরিবার আরো অন্ধকারে তলিয়ে গেছে অতাশের মৃত্যুতে। সীমান্তের খুব খারাপ লাগলো এসব কথা শুনে। কিন্তু এই মুহূর্তে অতাশের খুনের সুষ্ঠু বিচার ছাড়া আর কিছুই করার নেই সীমান্তের। এসব কিছু ভাবতে ভাবতে বান্দরবানে এসে পৌছালো সীমান্ত। গাড়িতে যতোটা আশা যায় আসলো তারা। সামনে ঘন জঙ্গল পায়ে হাঁটা ছাড়া আর উপায় নেই। বুট পরে নিল সীমান্ত আর তার টিম। সীমান্ত ছাড়া তাদের টিমে আরো চারজন আছে।
জঙ্গল ঘন অন্ধকার কোথাও আলোর কোন লেশমাত্র নেই। পরিবেশটা ভৌতিক পরিবেশ এর চাইতে কিছু কম নয়। এই অবস্থাতেই নির্ভয় পা টিপে টিপে চলছে মাহমুদ। চলার অভ্যাস আছে তার। কিন্তু সে একা নয় তার পিছু পিছু হাটছে আরো একজন। যে পিছু পিছু হাটছে তার অভ্যাস না থাকলেও কোন সমস্যা হচ্ছে না। একজন আগাচ্ছে নিজের বাঁচার তাগিদে আর অন্যজন যাচ্ছে নিজের ভালোবাসাকে সুবিচার দেয়ার তাগিদ। মাহমুদ কিন্তু বুঝতে পারছে না যে তার পিছু পিছু কেউ আসছে। যে পিছু পিছু আসছে তার হাতে একটা মোটা লাঠি। সে চেষ্টা করছে তার ও মাহমুদের মাঝখানে দূরত্ব কমাতে যাতে সহজেই মাহমুদকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা যায়। সে তা করতে পারছে ও। সাবধানী ভঙ্গিতে অনেকটাই কাছে এসে পড়েছে মাহমুদের। সে মাহমুদকে আঘাত করতে যাবে ঠিক এমন সময় পেছন একটি শব্দ শুনে দাঁড়িয়ে পরল মাহমুদ। পেছনের ব্যক্তিটি তাড়াতাড়ি লুকিয়ে নিয়ে নিলো নিজেকে। পেছন থেকে পুলিশরা আসছে বুঝতে পেরে গেল মাহমুদ নিজের জোরে জোরে পা ফেলে লুকিয়ে পড়ল। পুলিশ ও পেছনে পেছনে ওই দিকে গেল। আড়াল থেকে বেরিয়ে এল মুসকান। এতক্ষণ সেই পিছনে ছিল মাহমুদ এর। প্রায় হাতের মধ্যেই এসে গেছিল কিন্তু পুলিশ এসে সব গন্ডগোল করে দিল। মুসকান ওখানে একটি গাছের সাথে হেলান দিয়ে অতাশের কথা ভাবতে শুরু করলো। ভাবতে ভাবতে চোখে পানি এসে গেল তার। তারপর হঠাৎ ঝোঁপ থেকে শব্দ শুনতে পেলো মুসকান। না কোন মানুষ তো নয় তাহলে কি জন্তু-জানোয়ার। হতেই পারে এই ঘন জঙ্গলে জন্তু-জানোয়ার থাকা অসম্ভব কিছু না। ভয় করতে লাগল মুসকান এর। মরতে ভয় নেই মুসকানের। অতাশ কে ছাড়া এই পৃথিবীতে একলা বেঁচে থাকার কোন ইচ্ছাও নেই মুসকানের। কিন্তু অতাশকে সুবিচার না দেয়া পর্যন্ত কোনো ছুটি নেই মুসকানের। সে নিজে নিজে প্রতিজ্ঞা করেছে অতাশের খুনিকে সে নিজের হাতেই মারবে। তা বাদে অন্য কিছু মাথায় নেই মুসকানের। কিন্তু এখান থেকে এখন পালাতে হবে মুসকানকে তা না হলে সুবিচার পাবেনা অতাশ। খুব কাছে চলে এসেছে জন্তুটি। এবার তার অবয়ব ও স্পষ্ট দেখতে পেল মুসকান। জন্তুটি দ্রুত এগিয়ে আসছে মুসকানের দিকে। আর কিছু দেখতে পেল না সে চোখ বন্ধ করে ফেলল। তখনই করো টানে ছিটকে পড়ল মাটিতে।
মুসকান বসে আছে তাঁবুতে। পুলিশের তাবু। পুলিশ মাহমুদকে তো ধরতে পারেনি তবে উদ্ধার করেছে মুসকান কে। মুসকান এখন সীমান্তের তাঁবুতে আচ্ছন্ন হয়ে বসে আছে। এতক্ষণে সীমান্ত অনেক প্রশ্ন করেছে মুসকান কে কিন্তু কোন উত্তর দেয়নি সে। তাই হতাশ হয়ে চুপ করে গেছে সীমান্ত। আপাতত মুসকানের জন্য খাবার আনতে গেছে সে। যদিও সীমান্ত জানে বৃথাই খাবার নিয়ে যাওয়া, এই খাবার খাবে না মুসকান। কিন্তু সীমান্তের ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে খাবার খেতে শুরু করল মুসকান। “তাও ভাল আপনি খাবারটা খাচ্ছেন। আমি তো ভেবেছিলাম আপনি খাবার ও খাবেন না।” মুসকান মোটেও কর্ণপাত করলো না সীমান্তের কথাতে। সেসবকিছু যেন শুনতেই পাচ্ছে না সে। তবুও সীমান্ত বলে যাচ্ছে, “আপনি তো কোনো প্রশ্নের উত্তরই দিচ্ছেন না। আপনি কি করে এখানে এলেন বলুনতো?” এবারও কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল না। ” আমি আপনার কষ্টটা বুঝতে পারছি। কিন্তু এভাবে চুপ করে থাকলে তো আর হবে না কিছু তো বলতে হবে। আপনি এখানে কেন এসেছেন?” মুসকান খেয়েই যাচ্ছে। সীমান্ত বুঝতে পারলো মুসকানকে কিছু বলে লাভ নেই। সীমান্ত চলে যাচ্ছিল তখন মুসকান বলে উঠলো, “অতাশ”। অবাক হলো সীমান্ত। “অতাশ কাঁদছে”। সীমান্ত বিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করল, “আতাশ কাদবে কি করে?”
– কাঁদছে অতাশ কাঁদছে। ওর খুব কষ্ট হচ্ছে, ব্যথা করছে ওষুধ লাগাতে হবে।
মুসকান নিজে নিজে এসব কথা বলে যাচ্ছে। সীমান্তএর বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল। সে বুঝল মানসিক বিভ্রাট হয়েছে মুসকানের। অবশ্য এভাবে প্রিয়জনকে হারালে তা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এভাবে বিড়বিড় করতে করতেই ঘুমিয়ে পরল মুসকান। সীমান্ত মুসকানের খাবারে ঘুমের ওষুধ দিয়ে দিয়েছিল তারই ইফেক্ট এটা। এখন বিশ্রাম দরকার মেয়েটার। সীমান্তর খুব খারাপ লাগছে মুসকান কে দেখে। মেয়েটার মুখটা অসম্ভব নিষ্পাপ লাগছে যেন ফুলের মত পবিত্র। এবার সীমান্ত ও তার টিম নেমে পরল কাজে। মাহমুদ করো সাথে যোগাযোগ করার জন্য ফোন চালু করলেই লোকেশন ট্রেস হয়ে যাবে। এমন ভাবে ডিভাইস সাজালো তারা। কাজ শেষ করে তাঁবুতে এসেই দেখলো আরেক কণ্ড। মুসকান ভিতরে নেই। ভয় পেয়ে গেল সীমান্ত। ভয় পেয়ে দৌড়ে বাইরে আসতেই দেখা পেল মুসকানের। হাঁফ ছেড়ে বাঁচল সীমান্ত।” তুমি ঘুম থেকে কখন উঠলে?” মুসকান কোন উত্তর দিল না। একা একা আকাশের দিকে তাকিয়ে কি যেন বলছে বিড়বিড় করে। “কি হলো মুসকান তুমি এখানে কি করছ বলত?” আগের মতো নীরব থাকলো মুসকান। এবার আর রাগকে সামলাতে পারল না সীমান্ত। মুসকান কে হ্যাঁচকা টান দিয়ে বলল, “আমি কি বলছি তাকে তোমার কানে ঢুকছে। তুমি কি করছো এখানে? উত্তর দাও”
– আতাশ
– অতাশ অতাশ অতাশ পাগল হয়ে গেছো তুমি। আকাশ মারা গেছে। আর এটা কি তুমি বুঝতে পারছ না।” রাগে চিৎকার করছে সীমান্ত।
– না অতাশ ততক্ষণ মরবে না যতক্ষণ না ওর খুনি মরছে। যতক্ষণ ওকে না মারা হবে ততক্ষণ অতাশ শান্তি পাবে না। ওর ব্যথা করবে। কষ্ট হবে।
– আতাশ এখন সব ব্যথা, সব কষ্ট থেকে বাইরে। তুমি বুঝতে পারছ আমি কি বলছি?
– না অতাশ কষ্ট পাচ্ছে। ওর কষ্ট হচ্ছে” বলতে বলতেই অজ্ঞান হয়ে গেল মুসকান। সীমান্ত মুসকান কে বিছানায় শুইয়ে দিল। তারপর একা একা বলতে শুরু করল, “সত্যি মানুষের জীবন পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত জিনিস যেখানে হঠাৎ হঠাৎ এমন কিছু হয় যে সব বদলে যায়। আমারও একটা পরিবার ছিল জনো মুসকান। মা-বাবা একটা ছোট বোন সবাই ছিল। স্বপ্ন ছিল, আমার ছোট বোনটা ডাক্তার হতে চাইত। এসএসসিতে ভাল রেজাল্টও করেছিল কিন্তু সেই রেজাল্টটা আমাদের এসে জানতে পর্যন্ত পারে নি। এই মাহমুদ আমার বোনকে মেরে ফেলে। আমার বাবা যখন তার মেয়েকে সুবিচার দিতে চাইল তখন মরতে হলো আমার বাবা-মাকেও। তোমার মত আমিও সুবিচার পাওয়ার জন্য ছুটছি মুসকান। নিজের কথা বলতে বলতে গলা ধরে এল সীমান্তর।সীমান্ত আর তার টিম মিলে মাহমুদকে ধরার কাজে ব্যস্ত। কিছুতেই মাহমুদের লোকেশন ট্রেস করা যাচ্ছে না। ফোনটা যদিও কিছু সময়ের জন্য অন হয়েছিল তবে সেই সময়টা যথেষ্ট নয় লোকেশন ট্রেস করার জন্য। হতাশ হতে হলো সীমান্তকে। “না না না এভাবে হবেনা। আমাদের অন্য উপায়ে ধরতে হবে মাহমুদকে ধরার জন্য।” সবার উদ্দেশ্যে বলল সীমন্ত। সীমান্ত তাঁবুতে এলো তার পিস্তল নিতে। অপারেশনে বেরোবে তারা। কিন্তু কোথাও পিস্তলটা খুঁজে পাচ্ছেনা সে। মুসকান ঘুমিয়ে আছে কাঁথা গায়ে দিয়ে। তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীর ঢেকে রেখেছে সে। সীমান্ত সব জায়গায় খুঁজলো পিস্তলটা কিন্তু কোথাও খুঁজে পেল না। অথচ এখানেই পিস্তলটা রেখেছিল সে। তারপর কি জানি কি সন্দেহ হল সীমান্ত মুসকানের কথাটা তুলল। একি! মুসকান কোথায় এখানে তো বালিশ রাখা। সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে গেল সীমান্ত। মুসকানকে ডাকতে লাগল চিৎকার করে। সীমান্তের টিমের একজন এসে সীমান্তকে জানালো “মাহমুদের লোকেশন ট্রেস করা যাচ্ছে, স্যার। আমাদের এক্ষুনি বেরোতে হবে”। সীমান্তের মুসকানের কথাগুলো মনে পড়ছে। মুসকান বলেছিল যে ও আতাশকে সুবিচার দিতে চায়। তাই মাহমুদ যে পথে আছে সে পথে মুসকান কে খোজাই ভালো হবে। সীমান্ত আর তার টিম রওনা হল মাহমুদকে খোঁজার জন্য। যেতে-যেতে সীমান্তর মুসকানের কথাই মনে হচ্ছিল। আস্তে আস্তে জট খুলতে লাগল সীমান্তর কাছে। সীমান্তর পিস্তলটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে কি মুসকানই? ভয় বাড়তে লাগল সীমান্তর। মুসকান কিছু করে বসার আগেই পৌঁছাতে হবে তাদের। ডিভাইসে লোকেশন দেখে দেখে আগাচ্ছে তারা। আস্তে আস্তে দৃশ্যমান হচ্ছে মাহমুদের ডেরা। ওরা এসে পড়ল মাহমুদের ডেরার সামনে। “ফাস্ট, ফাস্ট” সকলকে তাড়া দিয়ে বলল সীমান্ত। ঠিক তখনই তাদেরকে থেমে যেতে হল গুলির আওয়াজে। ভেতর থেকেই আসছে গুলির আওয়াজ। ছুটে ডেরার ভিতরে গেল সীমান্ত আর তার টিম। সীমান্ত যা সন্দেহ করেছে ঠিক তাই হল। মাটিতে লুটিয়ে পড়লো মাহমুদ আর পিস্তল হাতে দেখা গেলো মুসকানকে। সীমান্ত ছুটে এলো মুসকানের কাছে। “এটা তুমি কি করলে মুসকান?” “অতাশ হাসছে অতাশ হাসছে।” বলতে বলতে ঢলে পরলো মুসকান।
পুলিশের নজরদারিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে মুসকানকে। পুলিশের হেফাজতে আছে মুসকান। মুসকান এর বাবা মা ও এসেছে হাসপাতালে। কেবিনের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন সবাই। সীমান্তও আছে। ডাক্তার আসতেই ডাক্তারের কাছে উৎকণ্ঠা নিয়ে উপস্থিত হল মুসকানের বাবা-মা। “মুসকান একটা ট্রমা তে আছে। সেখান থেকে বের হওয়া তার জন্য কষ্টের। তাই মেন্টাল ট্রিটমেন্ট নিতে হবে মুসকান কে। মেন্টাল আসাইলেমে রাখতে হবে ওকে। টিপ আর এখন ওর যে অবস্থা তাতে……” “ওর এখন যে অবস্থা মানে, ডাক্তার?” ডাক্তারকে প্রশ্ন করলেন মুসকানের বাবা। “আপনারা জানেন না মুসকান তো মা হতে যাচ্ছে। ৫ সপ্তাহ চলছে। ডাক্তারের কথাশুনে ভেঙে পড়েছে মুসকানের বাবা-মা। ডাক্তার চলে যাবার পর মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে কান্না আর দুশ্চিন্তা করছিল মুসকানের বাবা-মা। তাদের সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে এলো সীমান্ত। “এখন কি হবে আমাদের মেয়েটার। একটা খুনের বোঝা ওর মাথার উপর। তারপর আবার বাচ্চা হবে। কি পরিচয় নিয়ে বড় হবে বাচ্চাটা? মেয়েটা জিবন তো শেষ ই এর সাথে আমরাও আর মুখ দেখাতে পারব না কাউকে।” “আপনার প্লিজ এভাবে ভেঙ্গে পরবেন না। নিশ্চয়ই মুসকানের মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রাখবে কোর্ট।”
কোর্টে উঠল মুসকানের কেস। সেখানে মুসকানের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এবং যেহেতু মাহমুদও একজন আসামি ছিল যাকে পুলিশ খুঁজছিল তাই মুসকান কে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। তারপর সীমান্ত হাইকোর্টে আপিল করে সেখানে মুসকান ও তার বাচ্চার কথা ভেবেই শাস্তি কমিয়ে তিন বছরে আনা হয়।
৩ বছর পর..……
“মুসকান, তুমি রেডি? চলো গাড়িতে উঠবে।” ” অতাশ কোথায়?” “মা-বাবার কাছে আছে।” মুসকান কে নিয়ে মেন্টাল অ্যাসাইলাম থেকে বাইরে বেরিয়ে আসছে সীমান্ত। তখন একটা ছোট ছেলে দৌড়ে এলো মুসকানের কাছে। “অতাশ মা এখন খুব ক্লান্ত। আগে বাড়ি চলো তারপর মায়ের কোলে উঠবে এখন বাবার কাছে এসো।” সীমান্ত মুসকানকে নিয়ে গাড়িতে উঠলো। সাথে গাড়িতে উঠলো তার বাবা-মা। এই তিন বছর মুসকান মেন্টাল অ্যাসাইলাম এ ছিল। সেখানেই তাঁর ছেলে হয়। মুসকানের ছেলে সীমান্তকে বাবা বলে জেনেছে। আস্তে আস্তে মুসকান আগের সব কথা ভুলে গেছে এবং এটাই ছিল মুসকানের সুস্থ হবার উপায়। এখন মুসকান সম্পূর্ণ সুস্থ। আতাশ বলে এখন সে একজনকেই চেনে আর সে হলো তার ছেলে। সীমান্ত আতাশের বাবার অপারেশন করায়। আর আতাশের বাবা মা ও ছোট বোনের দায়িত্বও নেয়। তারা এখন সীমান্ত বাবা মা হিসেবেই থাকে।সত্য ঘটনা: রেস্তুরায় গিয়েছেন স্যান্ডউইচ এর অর্ডার করেছিলেন কিন্তু তা পরিবেশনে কিছুটা দেরি হয়ে যায় এতেই রেগে গিয়ে ওয়েটারকে কে গুলি করে বসেন খদ্দের। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওয়েটার এর। ঘটনাটি ঘটেছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পূর্বে নজি – ল- গ্রদ শহরতলীতে।
***গল্পটির কিছু অংশ সত্য ঘটনা থেকে নেয়া হলেও সম্পূর্ণ গল্পটি কাল্পনিক এর সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই।
( ইসরাত লামিয়া)
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 05 June 2022 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 07 March 2023 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 16 September 2024 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 28 June 2025 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
Friends
হাবিবুল্লাহ
@habibulla
স্মৃতি রানী রত্না
@srratna1990
মোঃ মুহিউদ্দীন
@md-muhiuddin
মীর অনাবিল
@miranabil
মহাম্মদ ইদ্রিস আলি
@fivefullstop
পার্থসারথি
@kumarpartha
নির্বোধ সুদীপ্ত
@sajalbhowmick
জামাল হোসেন বিষাদ
@jamalbishad




গতিশীল ভাষা, সুন্দর সাসপেন্স। শেষে এসে নাটকীয় বদল। সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে রচিত জেনে আরও সারপ্রাইজিং লাগল। শুভেচ্ছা নিবেন।