Profile Photo

বিষণ্ন সুমনOffline

  • logolabbd
  • Profile picture of বিষণ্ন সুমন

    বিষণ্ন সুমন

    3 months, 3 weeks ago

    আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “চার”
    দুপুর ১১টা ৩০ মিনিট। সবাই একমনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখছে।

    রাফি বেরিয়ে যাবার ঠিক পরপরই একটা অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়লো। দারোয়ান ইউনুস গলির মোড় থেকে ভবনের গেটের দিকে সবে ফিরছে, এমন সময় দেখা গেল একজন লোক খুব সাবধানে গেট দিয়ে ভবনের ভেতরে ঢুকছে। লোকটা মাঝবয়সী। মুখে চাপ দাড়ি। চুল কোকড়া। মুখটা স্পষ্ট বুঝা না গেলেও তার দেহ কাঠামো বেশ চওড়া এটা স্পষ্টতঃই ঠাহর করা গেল।

    ইন্সপেক্টর শামিম চোখ চেপে বললেন, “এই লোকটা কে? একে তো এই বিল্ডিং এর কেউ বলে মনে হচ্ছে না।”

    লোকটা একতলার করিডোরে না ঢুকে সোজা দোতলার সিড়ির দিকে চলে গেল। বাকিটা ক্যামেরার দৃষ্টির বাইরে থাকায় তাকে আর দেখা গেল না।

    আর ঠিক তখনই কথা বলে উঠেন সায়মা রহমান। “স্যার… এই লোকটা… মানে আমি ঠিক নিশ্চিত না। কিন্তু, মনে হচ্ছে একে আমি আগেও একবার দেখেছি।”

    “কোথায় বলুন তো?”

    “মনে হচ্ছে আমাদের এই বিল্ডিংয়েই। তার হাঁটার ভঙ্গীটাও আমার চেনা মনে হচ্ছে। দেখেন কেমন পা টেনে টেনে হাঁটছে।”

    ইন্সপেক্টর চোখ সরু করলেন। “আপনি নাম বলতে পারবেন?”

    সায়মা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন। “না তা পারবো না। কিন্তু, ইউনুস হয়তো চিনতে পারে।”

    দারোয়ানকে আবার ডাকা হলো। ভিডিও রিওয়াইন্ড করে তাকে দেখানো হলো। সাথে সাথে সে চেঁচিয়ে উঠলো। “হ স্যার, ওরে চিনি তো। নাম রাজু। আমাগো বাড়িওয়ালার বাসায় কাজ করে যে মাইয়াটা শিরিন, হের কেমন জানি ভাই লাগে। শুনছি হেয় আগে জেলে আছিল। কদিন আগেই ছাড়া পাইছে। প্রতারণা মামলায় ধরা খাইছিল। ”

    ইন্সপেক্টর সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে এক অফিসারকে নির্দেশ দিলেন —“রাজু নামের যাদের বিরুদ্ধে মিরপুরে প্রতারণা বা ভায়োলেন্সের মামলা আছে, খুঁজে বার করো। ছবি লাগবে।”

    এদিকে একজন পুলিশ উপরে গিয়ে আবার লিনাদের সামনের বাসার ভাড়াটিয়ার কাজের মেয়ে রহিমাকে ডেকে আনলো। ভিডিও ফুটেজে রাজুর চওড়া কাঠামোর দেহ দেখেই সে চিনতে পারলো। “স্যার এই লোকটারেই আমি ছাদে দেখছি।”

    “তুমি বলছো, দুপুর বেলায় কেউ ঢোকেনি। কিন্তু ক্যামেরায় তো দেখা গেল কেউ একজন ঠিকই ঢুকেছে।” ইউনুসকে বললেন ইন্সপেক্টর শামিম।

    দারোয়ান মাথা নিচু করে ফেললো। তারপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে হালকা স্বরে বলল, “স্যার, আমি তখন বাইরে একটা মেয়েরে রিকশা ধরাই দিছিলাম। তাই গেটের দিক খেয়াল করি নাই। হের লাইগাই বিষয়টা আমার চোখ এড়াইছে।”

    ইন্সপেক্টর বললেন, “তাহলে দেখা যাচ্ছে তুমি পুরো সময় গেটে ছিলে না।”

    “না স্যার। ছিলাম তো। খালি দুই-তিন মিনিটের জন্য সামনের মোড়ে গেছিলাম। আসলে চা খাইতে মন চাইছিলে তো।”

    তার কথা শুনে সবার চোখ কপালে উঠল। “তার মানে খুনি ঠিক তখনই ঢুকতে পেরেছে, যখন তুমি বাইরে ছিলা!” ইন্সপেক্টরের চোখে রাগের আভাস। “ তাকে তুমি ঢুকতে দেখনি। কিন্তু, বের হতে নিশ্চয়ই দেখেছ?”

    “জী স্যার। ভাবছি হের বইনের সাথে দেখা করতে আইছে।”

    “কিন্তু, এই ব্যাপারটা তুমি কিন্তু আগে বলনি কেন?”

    রাফির ঘর থেকে যে চুড়ি পাওয়া গিয়েছিল, সেটার ব্যাপারে তদন্তকারীরা জানাল, চুড়িটা সত্যি লিনার। কিন্তু ওটা কয়েকদিন আগে থেকেই লিনার কাছে ছিল না। তার বান্ধবী, তৃষা নামে এক মেয়ে, জানিয়েছে, গত সপ্তাহে সে লিনার বাসায় এসেছিল। তারপর তারা ছাদে গিয়েছিল। সেখানেই গল্প করার সময় এক ফাঁকে লিনা বাম হাতের চুড়িটা খুলে কার্ণিশে রেখেছিল। পরে হয়তো সেটা আর নিতে মনে ছিলনা তার।

    তাহলে রাফি ডায়রিতে যা লিখেছে, সেটায় যা বুঝা গেল, ভাবনাটা হয়তো সত্যি। কিন্তু, সেটা বাস্তবে রুপ দেওয়া তার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। সে লিনাকে এক তরফা ভালোবাসত, কিন্তু কখনো বলতে পারেনি। সেও হয়তো সেদিনই ওরা নেমে যাবার পর ছাদে গিয়েছিল। কার্ণিশে পড়ে থাকা চুড়িটা দেখেই চিনতে পারে। আবেগের আতিশায্যে সেটা নিজের কাছে রেখে দেয়। পরে হয়তো সেটাই ফিরিয়ে দেবার জন্য লিনাকে ফোন করে। অবস্থাদৃষ্টে এটাই স্পষ্ট, লিনাকে সে খুন করেনি। খুন করলে লিনার চুড়ি নিজের কাছে রাখতো না। আসলে রাফি যে সময়টায় বাসায় ছিল, সে তখন জানেই না একতলায় লিনার বাসায় কী ভয়ংকর ঘটনা ঘটছে।

    ইন্সপেক্টর শামিম চুপচাপ বসে থাকলেন কিছুক্ষণ। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, “খুনি আমাদের চোখের সামনেই আছে। এখন কেবল তাকে ধরবার অপেক্ষা।”

    একজন কনষ্টেবলকে পাঠালেন তিন তলায়। বাড়িওয়ালার কাজের মেয়ে শিরিনকে তার এখনি দরকার। একমাত্র সেই বলতে পারে তার ভাই রাজু এই মুহুর্তে কোথায়?
    (চলবে)

    4
    6 Comments
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন

ডিজাইনার

স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।

Skip to toolbar