-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় এক)
বিকেলের আলো তখনো পাহাড়ের গা ছেড়ে যায়নি। খাগড়াছড়ির শহর অনেক পেছনে পড়ে গেছে, আর পিচঢালা রাস্তার পরিচিত চেহারাটাও বেশ কিছুক্ষণ হলো বদলে গেছে সরু, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে।গাড়িটা ধীরে ধীরে ওপরে উঠছিল। রাস্তার এক পাশে পাহাড় উঠে গেছে ধাপে ধাপে, কোথাও মাটির ঢাল, কোথাও কালচে পাথরের খাঁজ, কোথাও আবার বাঁশঝাড় আর বুনো গাছপালা এমন ঘন হয়ে আছে যে ভেতরের কিছুই দেখা যায় না। অন্য পাশে ঢাল নেমে গেছে নিচের উপত্যকার দিকে।
অনেক নিচে কোথাও পাহাড়ি ছড়া চিকচিক করছে, কোথাও গাছের মাথার ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে টিনের ছাউনি দেওয়া দু-একটা ঘর। দূরের কোনো পাহাড়ের ঢালে জুমের পুরনো জমির রেখা, কোথাও নতুন চাষের চিহ্ন, কোথাও কুয়াশার মতো পাতলা ধোঁয়া উঠছে। বর্ষার শেষ ভাগ বলে মাটির গায়ে এখনো ভেজা ভাব।
পাহাড়ের বুক চিরে নামা ছোট ছোট জলধারা জায়গায় জায়গায় রাস্তা পার হয়েছে, গাড়ির চাকা তার ওপর দিয়ে গেলে স্বচ্ছ পানি দুপাশে ছিটকে পড়ছে। বাতাসে ভেজা মাটি, স্যাঁতসেঁতে পাতা, বাঁশপাতা আর বুনো ফুলের গন্ধ। শহরের ধুলো আর মানুষের কোলাহল থেকে এই জায়গাটা এতটাই আলাদা যে মনে হয়, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যেন অন্য একটা পৃথিবীতে এসে পড়া গেছে।
গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে রাখা মানুষটার চোখ কিন্তু শুধু রাস্তার দিকে নেই। রাস্তা যতটা সে দেখছে, তার চেয়ে বেশি দেখছে রাস্তার বাইরে।
একটা বাঁক আসার আগেই তার চোখ চলে যাচ্ছে বাঁকের পরের ঢালে। রাস্তার পাশে নতুন কাটা মাটি দেখে সে এক মুহূর্তের জন্য গতি কমিয়ে দিচ্ছে। কোথাও পাথর আলগা হয়ে আছে কি না, কোথাও পাহাড়ের গা থেকে পানি নেমে এসে রাস্তা দুর্বল করেছে কি না, কোথাও গাছের আড়ালে মানুষের চলাচলের চিহ্ন আছে কি না, সেদিকেও তার দৃষ্টি যাচ্ছে। কয়েকবার এমন হয়েছে, সামনে রাস্তা ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও সে হঠাৎ আয়নায় তাকিয়েছে, তারপর আবার চোখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
তার মধ্যে কোনো অহেতুক অস্থিরতা নেই। বরং সে অস্বাভাবিক রকমের স্থির।
গাড়ি চালানোর সময় তার শরীরের কোনো অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া নেই। স্টিয়ারিংয়ে দুই হাতের অবস্থান একই থাকে। ব্রেক করার আগে চোখ রাস্তার অনেকটা সামনে চলে যায়। বাঁক নেওয়ার সময় গাড়ির গতি এতটাই হিসেব করে কমায় যে চাকার শব্দও প্রায় শোনা যায় না।
দেখলে মনে হবে, মানুষটা এই ধরনের রাস্তার সঙ্গে অপরিচিত নয়। কিন্তু তার চেহারা দেখে তাকে পাহাড়ি পথের কোনো সাধারণ চালকও মনে হয় না।
বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে অনেক আগেই। মাথার চুলের বেশিরভাগই ধূসর, কপালের দুপাশে বয়সের রেখা স্পষ্ট। চোখের কোণে সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়েছে, মুখের চামড়ায় বয়সের ছাপ আছে। কিন্তু শরীরের গড়ন এখনো শক্ত এবং সংহত। বুক চওড়া, কাঁধ দুটো ভারী, কোমর সরু। দীর্ঘদিন নিয়মিত শরীরচর্চা করা মানুষের মতো তার চলাফেরায় একটা সংযত শক্তি আছে।
বয়স তাকে ধীর করেছে, এমন কোনো লক্ষণ নেই। বরং তার চোখে এমন এক ধরনের সতর্কতা, যা সাধারণত দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর মানুষের মধ্যে তৈরি হয়।
মানুষটা কর্ণেল রেজোয়ান। মাত্র কদিন আগেই অবসর নিয়েছে।
তার সামরিক জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে দেশের নানা জায়গায়, কখনো শহরে, কখনো সীমান্তের কাছাকাছি, কখনো এমন দুর্গম এলাকায় যেখানে রাস্তা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অনেক দূর পায়ে হাঁটতে হয়েছে। দীর্ঘদিনের সেই জীবনের একটা অভ্যাস এখনো তাকে ছেড়ে যায়নি, কোনো জায়গায় ঢুকলে সে জায়গাটাকে শুধু চোখ দিয়ে দেখে না, পড়ার চেষ্টা করে।
তবে আজ তার মাথায় কোনো দায়িত্ব নেই। কোনো অপারেশন নেই। মাথার উপর কোনোরকম আদেশ নেই। সে আজ নিজের জন্য বেরিয়েছে।
বহু বছর আগে, চাকরিতে থাকতেই খাগড়াছড়ির এই দুর্গম এলাকায় একটা জমি কিনেছিল রেজোয়ান। তখন জায়গাটার আশপাশে এত রাস্তা ছিল না। শহর থেকে এত সহজে এখানে আসাও যেত না। জায়গাটার প্রতি তার আকর্ষণের কারণ ছিল এর নির্জনতা। পাহাড়ের গায়ে তখনো মানুষের হাত খুব বেশি পড়েনি। কয়েকটা পুরনো পথ, কিছু পাহাড়ি ছড়া, বাঁশঝাড়, বুনো গাছ আর দূরের পাহাড়ি বসতি, এই ছিল চারপাশের চেহারা।
সেই সময়েই একটা ছোট স্বপ্ন দেখেছিল সে। অবসরের পর এখানে একটা রেস্টহাউজ করবে। খুব বড় কিছু নয়, কাঠ আর পাথরের একটা সুন্দর বাড়ি, সামনে প্রশস্ত বারান্দা, বারান্দার ওপারে পাহাড়, পেছনে কয়েকটা গাছ আর ছোট একটা বাগান। পরিবার নিয়ে বছরে দু-একবার আসবে। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে কয়েকটা দিন কাটাবে। ভোরে উঠে বারান্দায় বসে চা খাবে, সামনে মেঘে ঢাকা পাহাড় দেখবে, দুপুরে বই পড়বে, সন্ধ্যায় অন্ধকার নামা দেখবে।
এই সামান্য স্বপ্নটার কথা মনে পড়তেই তার ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ একটা হাসি ফুটল। তারপরই গাড়ির গতি কমে গেল। সামনের বাঁকটা পেরোতেই সে রাস্তার পাশে কিছু অস্বাভাবিক দেখতে পেয়েছে। পাহাড় কেটে নতুন একটা রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।
রেজোয়ান ব্রেক করল। গাড়ি থেমে গেল। সে কিছুক্ষণ স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখেই সামনের দৃশ্যটা দেখল। তারপর ইঞ্জিন বন্ধ করে গাড়ি থেকে নামল।
নতুন কাটা মাটির রং এখনো গাঢ় লালচে। পাহাড়ের ঢাল থেকে শিকড় বেরিয়ে আছে। কয়েকটা মাঝারি আকারের গাছ কেটে পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। কাটা গুঁড়িগুলোর গায়ে করাতের দাগ স্পষ্ট। মাটির ওপর ভারী গাড়ির চাকার দাগ একটার ওপর আরেকটা পড়ে শক্ত হয়ে গেছে।
রেজোয়ান নিচু হয়ে চাকার দাগ দেখল। একটা গাড়ি নয়। অনেকগুলো।
চাকার গভীরতা দেখে বোঝা যায়, হালকা গাড়ি নয়। ভারী ট্রাক বা নির্মাণসামগ্রী বহনকারী কোনো গাড়ি নিয়মিত এই পথ ব্যবহার করছে।
সে মাথা তুলল। দূর থেকে মেশিনের গম্ভীর শব্দ ভেসে আসছে। পাহাড়ের নীরবতার মধ্যে সেই শব্দ অস্বাভাবিকভাবে স্পষ্ট।
রেজোয়ান গাড়িতে ফিরে বসল। নতুন রাস্তা ধরে এগোল।
কিছুদূর যাওয়ার পর দৃশ্যটা আরও পরিষ্কার হয়ে উঠল। পাহাড়ের একটা বড় অংশ কেটে জায়গা সমান করার কাজ চলছে। মাটি কাটার মেশিন দাঁড়িয়ে আছে। পাশে লোহার পাইপ, কাঠ, বালু, পাথর আর নির্মাণসামগ্রী। কয়েকটা বড় ড্রাম পড়ে আছে। পাহাড়ের ঢালের একটু ওপরে বাঁশ আর টিন দিয়ে কয়েকটা অস্থায়ী ঘর তৈরি হয়েছে। সেখানে কাপড় শুকোচ্ছে। একটা ঘরের সামনে কয়েকজন শ্রমিক বসে চা খাচ্ছে।
আরও সামনে গিয়ে রেজোয়ান দেখল বাঁশের বেড়া। নতুন বাঁশের খুঁটি দিয়ে জায়গাটা ঘিরে ফেলা হয়েছে। বেড়ার পাশে দুজন লোক দাঁড়িয়ে। একজনের হাতে লাঠি। অন্যজনের হাতে টর্চ।
রেজোয়ানের গাড়ি কাছে যেতেই একজন হাত তুলে থামার সংকেত দিল।
রেজোয়ান গাড়ি থামাল।
লোকটা কাছে এসে জানালার পাশে দাঁড়াল। বয়স চল্লিশের মতো। গায়ে ধূসর শার্ট, নিচে পুরনো প্যান্ট, পায়ে স্যান্ডেল। মুখে এমন এক ধরনের নিশ্চিন্ত ভাব, যেন এখানে কে ঢুকবে আর কে ঢুকবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তারই।
“কোথায় যাবেন?”
রেজোয়ান তার দিকে তাকাল। “সামনে।”
লোকটা ভ্রু কুঁচকাল। “ওদিকে কাজ চলছে। গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে না।”
“কীসের কাজ?”
“রিসোর্টের।”
রেজোয়ান কিছু বলল না। তার চোখ তখন লোকটার পাশ দিয়ে আরও সামনে চলে গেছে। রাস্তার ধারে একটা বড় সাইনবোর্ড দাঁড়িয়ে আছে।
গাড়ির হেডলাইটের প্রয়োজন হলো না। বিকেলের আলোয় এবার নামটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্ট।
রেজোয়ানের চোখ কয়েক সেকেন্ড বোর্ডটার ওপর স্থির রইল। তারপর সে গাড়ি থেকে নামল। “এই জায়গাটা আমার।”
লোকটা প্রথমবার তাকে ভালো করে দেখল। “আপনার?”
“হ্যাঁ।” রেজোয়ান চারপাশটায় একটু চোখ ঘুরিয়ে আবার লোকটার মুখের উপর স্থির হলো। “এই জায়গার মালিক আমি।”
লোকটা আবারও তাকে ভালো করে মেপে দেখলো। তারপর বললো, “স্যার, এসব আমরা জানি না। আমাদের নির্দেশ আছে, বাইরে থেকে কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া যাবে না।”
রেজোয়ানের চোখ এবার তার মুখে উঠল। “কার নির্দেশ?”
লোকটা উত্তর দিল না। তার সেই নীরবতাই যথেষ্ট ছিল।
রেজোয়ান আর কথা বাড়াল না। গাড়িটা রাস্তার একপাশে রেখে পায়ে হাঁটতে শুরু করল।
লোক দুজন তাকে আটকানোর চেষ্টা করল না। তাদের মুখের ভাবেই বোঝা গেল, তারা মনে করছে, একটু সামনে গিয়ে জায়গাটা দেখে মানুষটা নিজেই ফিরে আসবে।
অরণ্যের ভেতরে ঢুকতেই বাইরের শব্দ ধীরে ধীরে কমে গেল। মাথার ওপর গাছের ডালপালা জড়িয়ে আছে। কোথাও বাঁশঝাড়ের সরু পাতা বাতাসে কাঁপছে, কোথাও বুনো লতাগুল্ম গাছের গায়ে উঠে গেছে। পায়ের নিচে ভেজা পাতা, তার নিচে নরম মাটি। জায়গায় জায়গায় পাহাড়ি পানির সরু ধারা মাটির ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। বাতাসের গন্ধও বদলে গেল, বাইরে নির্মাণকাজের ধুলো আর ডিজেলের গন্ধ ছিল, এখানে শুধু ভেজা মাটি, পাতা আর অরণ্যের গন্ধ।
রেজোয়ান ধীরে ধীরে এগোল। বহু বছর আগের জায়গা। সবকিছু বদলে গেছে, তবু তার মনে থাকা কয়েকটা চিহ্ন এখনো আছে। একটা বাঁকা গাছ। তার পাশে বড় পাথর। আর একটু নিচে সরু ছড়া।
গাছটা সে খুঁজে পেল। তারপর পাথরটাও। কিন্তু পাথরটা যেখানে থাকার কথা সেখানে নেই। মাটিতে পড়ে আছে।
রেজোয়ান থেমে গেল। সে নিচু হয়ে পাথরটা হাতে তুলে নিল। পাথরের গায়ে ভেজা মাটি। নিচের দিকে ছিঁড়ে যাওয়া শিকড়ের অংশ লেগে আছে। কেউ পাথরটা উপড়ে ফেলেছে।
সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। সামনেই বাঁশের বেড়া। বেড়ার ওপারে তার জমির একটা বড় অংশ পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছে। গাছ কাটা হয়েছে। মাটি সরানো হয়েছে। কোথাও সাদা চুন দিয়ে রেখা টানা। কোথাও কাঠের খুঁটি পোঁতা।
রেজোয়ান আরও কিছুদূর এগিয়ে একটা উঁচু জায়গায় উঠল। সেখান থেকে পুরো জায়গাটা পরিষ্কার দেখা গেল।
নতুন রাস্তা তার জমির ভেতরে ঢুকে গেছে। মাটি সমান করার কাজ চলছে। নির্মাণসামগ্রী এনে রাখা হয়েছে। কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছে।
সবকিছু দেখে বিষয়টা তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। এটা হঠাৎ করে করা হয়নি। অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথমে জায়গাটা মাপা হয়েছে। তারপর রাস্তা কাটা হয়েছে। সীমানার চিহ্ন সরানো হয়েছে।
এখন শুধু পরের ধাপের অপেক্ষা।রেজোয়ান পকেট থেকে মোবাইল বের করল। একটার পর একটা ছবি তুলল। কাটা গাছ। নতুন রাস্তা। বাঁশের বেড়া। মাটি কাটার মেশিন। নির্মাণসামগ্রী। অস্থায়ী শেড। রিসোর্টের সাইনবোর্ড। সবকিছু।
তারপর মোবাইলটা পকেটে রেখে দাঁড়িয়ে রইল। তার খুব রাগ হচ্ছিল। কিন্তু রাগের ওপর সিদ্ধান্ত নিতে সে অভ্যস্ত নয়। প্রথমে জানতে হবে, কীভাবে তারা এখানে ঢুকেছে। কারা কাজ করছে। কোম্পানির মালিক কে। জমির রেকর্ডে কোনো পরিবর্তন করা হয়েছে কি না। আর প্রশাসন এসব জানে কি না।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত সে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। রেজোয়ান ফিরে দাঁড়াল।
বিকেলের আলো তখনও পাহাড়ের গায়ে আছে। পশ্চিম দিকের সূর্য একটু নিচে নেমেছে, কিন্তু অরণ্যের ভেতর এখনো যথেষ্ট আলো। দূরের পাহাড়ের চূড়ায় সোনালি আভা পড়েছে, নিচের ছড়ার পানি সেই আলো ধরে চিকচিক করছে।
রেজোয়ান ধীরে ধীরে গাড়ির দিকে হাঁটতে লাগল। ঠিক তখনই নতুন রাস্তার দিক থেকে ভারী ইঞ্জিনের শব্দ ভেসে এল। সে থেমে তাকাল।
একটা ট্রাক পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরে উঠছে। তার পেছনে আরেকটা গাড়ি। তারপর আরও একটা। তিনটে গাড়িই ঢুকছে তার জমির দিকে।
রেজোয়ান কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রইল। তারপর গাড়িতে উঠে বসল। ইঞ্জিন চালু করার আগে আবার একবার রিয়ারভিউ মিররে তাকাল। মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের বোর্ডটা এখনো দেখা যাচ্ছে। সে গাড়ি ঘুরিয়ে নিচের রাস্তা ধরল।
মাথার ভেতর তখন একটা সিদ্ধান্ত তৈরি হচ্ছে। তাকে আইনের পথ দিয়েই শুরু করতে হবে। প্রথমে প্রশাসনের কাছে যাবে। তারপর ভূমি অফিসে যাবে। প্রয়োজনে থানায় যাবে। কোম্পানির মালিকের সঙ্গেও কথা বলবে।
নিজের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য স্বাভাবিক যে পথগুলো আছে, সবগুলোই সে আগে ব্যবহার করবে। তারপরও যদি কেউ না শোনে, তখন কী করতে হবে, সে সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া যাবে।
গাড়ি পাহাড়ি রাস্তা ধরে ধীরে ধীরে নিচে নামতে লাগল। পেছনে পড়ে রইল কাটা পাহাড়, বাঁশের বেড়া আর সেই বোর্ড। মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্ট।
(চলবে)5 Comments-
আজই সেবা’র পেজে এই সিরিজটা দেখলাম। তখনই ভাবছিলাম, এই সিরিজটা তুলটে দেয়ার জন্য আপনাকে অনুরোধ করবো। কিন্তু মেঘ না চাইতেই জল পেয়ে গেলাম। আপনাকে ধন্যবাদ। পাহাড়, অরণ্য আর রহস্য সবমিলেয়ে জমজমাট একটা গল্পের আভাস পাচ্ছি।
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন
ডিজাইনার
স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
Friends
মেহেদী মারুফ
@maruf1
Redowan Hussain
@redowanhussain
ডা.এম.এইচ.রহমান খান
@drmhrahmankhan
Hashem Molla
@hashemmolla
Nusrat jahan
@shuha
রুবেল দে
@alexrubel630
Afra Anjum
@afraanjum
Sk Sagor
@sksagor
, মিঠুন কুমার ঘোষ
@mkghosh



পাহাড়ি পথের বর্ণনা আর অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেলের দৃঢ় চরিত্রের মেলবন্ধনে গল্পটি অত্যন্ত সাবলীল ও মনোগ্রাহী হয়েছে, বিশেষ করে আপনার লেখা—”অরণ্যের ভেতরে ঢুকতেই বাইরের শব্দ ধীরে ধীরে কমে গেল”—অংশটি আমাকে যেন নিজেই সেই নিরিবিলি পাহাড়ে নিয়ে গেল। বর্ণনার এই নিখুঁত ভঙ্গি বজায় রেখে পরবর্তী পর্বগুলো সাজাতে পারলে পাঠকদের আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে, তাই আপনার লেখনীর এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরামর্শ রইল। আপনার আগামী লেখাগুলো পড়ার অপেক্ষায় রইলাম, কলম থামাবেন না যেন।