Profile Photo

মামুনুর রশিদOffline

  • “বিসর্জনের পদাবলি”
    Mamun-অনুভূতির আজন্ম গল্পকার।

    আমার বুকের অন্দরে তোমার নিশিদিন আনাগোনা,
    যেন এক বৈরাগী বাউল— একলা হাঁটছো আপন মনে।
    রক্তাক্ত স্মৃতির শিয়রে ফেলে যাচ্ছ চরণের ছাপ,
    ঠিক যেমন কোনো জীর্ণ মন্দিরের দোরগোড়ায় শেওলা ধরা বিষাদ।
    তোমার কি একটুও ক্লান্তি লাগে না হে পথিক?
    এই যে আমার পোড়া ভিটের মতো হৃদয়ের ধ্বংসস্তূপ—
    এখানে তো কেবলই বিসর্জনের বাদ্যি বাজে,
    তবুও কেন তোমার এই বিরামহীন পায়চারি?

    মাঝে মাঝে হঠাৎ করেই থির জলে পাথর ছোঁড়ার মতো—
    উথাল-পাথাল করে দাও আমার পাষাণ-চাপা স্থিরতা।
    পুরোনো জখমগুলো তখন কচি শিশুর মতো ডুকরে কেঁদে ওঠে,
    তোমার ওই নিঠুর আঙুলের ছোঁয়ায়।
    আমি আনমনে আঁতকে উঠি—
    ঠিক যেন নিঝুম রাতে কেউ শ্মশানের চিতেয় আগুন জ্বেলে দিয়ে
    অন্ধকারে দাঁড়িয়ে অট্টহাসি হাসছে।

    তুমি তো জানো না প্রিয়, তোমার এই অবিরাম হেঁটে চলা—
    আমার পাজরের হাড়গুলোকে তিলে তিলে চূর্ণ করে দেয়।
    ঠিক যেমন শ্রাবণের শেষে খরস্রোতা নদী কূল ভাঙে ধীরলয়ে,
    তুমিও তেমনি আমার নিশ্বাসটুকু শুষে নিচ্ছ প্রতি পলে।
    আমি টের পাই, তোমার ওই প্রতিটি পদক্ষেপ—
    আমায় একটু একটু করে নিয়ে যাচ্ছে কোনো এক অন্তিম শ্মশানের পথে।

    3
    5 Comments
    • চমৎকার সব উপমা, অনবদ্য একটা কবিতা হয়েছে!

    • “জীর্ণ মন্দিরের দোরগোড়ায় শেওলা ধরা বিষাদ” কিংবা “শ্মশানের চিতায় আগুন জ্বেলে দিয়ে অট্টহাসি”—এই উপমাগুলো আপনার কবিতাকে এক অদ্ভুত বিষন্নতায় মুড়িয়ে দিয়েছে।

Skip to toolbar