Profile Photo

মানিকুল ইসলাম মানিক (কবি/সাহিত্যিক)Offline

  • হাসির আড়ালে
    মানিকুল ইসলাম মানিক

    তখনো তাদের চোখেমুখে মুক্ত ঝরা হাসি,
    ভাব প্রকাশের এক অনবদ্য ভঙ্গি।
    কোথাও বোঝার উপায় নেই;
    তারা অনাথ,
    তারা ছন্নছাড়া,
    তারা ঘরহীন,
    তারা মলিন।
    অভুক্ত থেকেও তারা হাসতে পারে,
    হাসতে পারে রোদ বৃষ্টি ঝড়ে।

    কঠিন জীবনচক্রে তাদের-
    নেই কোন অভিযোগ,
    নেই কোনো প্রাপ্তির আশা,
    নেই কোন হারানোর ব্যথা।

    সমাজের দুর্বোধ্য যাঁতাকলে পৃষ্ঠ তারা,
    পৃষ্ঠ তাদের জীবন।
    তবুও তাদের কোন-
    আহাজারি নেই,
    আহার নেই,
    কষ্ট নেই,
    ক্লান্তি নেই,
    আছে, আছে শুধু মুখ ভরা হাসি।
    এ হাসিতেই আছে সুখ,
    আছে শান্তুি,
    আছে স্বপ্ন,
    আছে অদৃশ্য মহাপ্রলয়,
    এ হাসিতেই যেন মুক্তা ঝরে,
    কিন্তু! সমাজপতিরা বুঝবে কি করে?
    তারা তো কেবল পেট আর পকেট পুরে।

    মহাকালের পথে ধাবিত তারা,
    তারা হারতে শিখেনি,
    শিখেছে হাসি নিয়ে বাঁচতে।

    তারা ভালো খাবার চায়নি,
    ভালো পোশাক চায়নি,
    চায়নি বিলাসবহুল গাড়ি-বাড়ি।

    কিন্তু! তারা কি পেয়েছে?
    সমাজই বা তাদের কি দিয়েছে?
    হ্যাঁ, তারা পেয়েছে,
    অনেক কিছুই পেয়েছে।
    অবহেলা পেয়েছে,
    গ্লানি পেয়েছে,
    অশোভনীয় সম্বোধন পেয়েছে,
    লাথি, গুড়ি পেয়েছে,
    কি চায় আর তাদের!
    তারা ব্যথাতুর জীবনে একটু,
    একটু শান্তি নিয়ে বাঁচতে চায়।
    ।। যবনিকা ।।

    1
    3 Comments
    • সুন্দর।ধন্যবাদ।

    • আপনার এই লেখায় “অভুক্ত থেকেও তারা হাসতে পারে” লাইনটি আমার হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে, যা জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে পরম মমতায় ফুটিয়ে তুলেছে। রাস্তার পথশিশুদের নিয়ে এমন মানবিক নিবেদন পড়া সত্যিই খুব অনুপ্রেরণাদায়ক, আশা করি আপনার কলম দিয়ে এমন আরও হৃদয়স্পর্শী লেখা আমরা নিয়মিত পাব।

    • আপনার লেখার এই লাইনটি খুব মনে দাগ কাটলো যে, “অভুক্ত থেকেও তারা হাসতে পারে, হাসতে পারে রোদ বৃষ্টি ঝড়ে”— সত্যি বলতে ওদের এই হাসিটার পেছনের কষ্টগুলো আমরা কয়জনই বা বোঝার চেষ্টা করি!

কবি: মানিকুল ইসলাম মানিক ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে রাজশাহীর বাগমারা থানার ভরট্ট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কবি ও সাহিত্যিক মানিকুল ইসলাম মানিক। বর্তমানে তিনি বাগমারা থানার ২নং নরদাশ ইউনিয়নের কুমারপুর গ্রামে বসবাস করছেন। শৈশব থেকেই সাহিত্য ও কবিতার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ। ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তিনি নিয়মিত কবিতা লেখা শুরু করেন। তাঁর কবিতায় প্রেম, প্রকৃতি, মানবিকতা, বিরহ ও জীবনের নানা অনুভূতি নান্দনিকভাবে ফুটে ওঠে। সহজ-সরল ভাষা, আবেগঘন প্রকাশভঙ্গি এবং জীবনঘনিষ্ঠ ভাবনা তাঁর কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কাজের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইংরেজি বিষয়ে বি.এ. (সম্মান), এম.এ. এবং এল.এল.বি. ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর লেখা বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা, সাময়িকী ও অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা কবিতার জগতে নিজস্ব কাব্যভাষা ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে অবদান রাখা এবং পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেওয়াই তাঁর সাহিত্যিক প্রত্যাশা।

Skip to toolbar