<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | লবঙ্গ লতিকা | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/md-russel-miah/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/md-russel-miah/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for লবঙ্গ লতিকা.</description>
	<lastBuildDate>Tue, 08 Sep 2026 17:19:48 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">12fcbff2e270b3b7869a5040e4782284</guid>
				<title>&#039;কেমন আছো তুমি?&#039; 


আমাদের বিরহের বহুবছর পর আমাকে জানতে চাইলে- কেমন আছো তুমি? সত্যি বলতে, তোমাকে না পাওয়ার সকরুণ বেদনা, তোমার সাথে অনিচ্ছুক বিচ্ছেদ, কতশত মিথ্যে প্রতিশ্রুতি- সব কিছুকে যখন একটু একটু করে সময়ের মলাটে মুড়িয়ে দিবো বলে খসড়া ভাবনায় ছিলাম সেই সময় তোমার এমন প্রশ্ন আমার ঘন-গভীর বেদনাকে কেবল মলাট নয়, একেবারে প্রচ্ছদশূন্য করে দিলো, উদোম করে দিল আমার বহুদিনের চেপে রাখা বেদনার আব্রু। তোমার চলে যাওয়ার দিন হতে &#039;কেমন আছো তুমি&#039; প্রশ্নের দিন পর্যন্ত অনুভূতিতে যতটা কষ্ট জমে ছিল সব কষ্টেরা যেন দ্বিগুণ হলো তোমার সামাজিকতা রক্ষার প্রশ্নে- কেমন আছো তুমি? আমার রোজকার বেদনা কেবলই তোমাকে ঘিরে এবং সেই বেদনার ব্ল্যাকহোল আরো যেন প্রসারিত হলো তুমি যখন জানতে চাইলে- কেমন আছো তুমি?


অন্য অন্য প্রেমিকেরা, ব্যর্থ প্রেমিকেরা, হয়তো প্রেমিকাদেরও কেউ কেউ, &#039;কেমন আছো তুমি&#039;- বহুদিনের পুরনো প্রাক্তনের এমন প্রশ্নে বাঁধভাঙ্গা আনন্দে আপ্লুত হতে পারে। কিন্তু আমি পারিনি। বরং বেদনায় ভারে ভেঙে পড়েছিলাম তোমার চাবুক প্রশ্নে- কেমন আছো তুমি?


আমাদের তো কথা ছিল চোখের গায়ে চোখ হয়ে থাকার, শরীরের পাড়ে শরীর, কপাট বন্ধ মনের ঘরে দুইয়ের ভেতর দুই। দিন-রাত-বছরের তিনশ&#039; পঁয়ষট্টি দিন, অধিবর্ষে আরোও একদিন, একসাথে বাঁচবো দুজন, তারপর মরে যাব একসাথে, বৃদ্ধ হয়ে অথবা অসময়ে অবৃদ্ধ বেলায়।


অষ্টপ্রহর দুই যখন দুইকে জুড়ে থাকবো, মনে মনে, শরীরে শরীরে, শরীরে-মনে, তখন &#039;কেমন আছো তুমি&#039; এই প্রশ্নের সুযোগ কোথায় বলো? নিশিদিন এক হয়ে থাকা বর-বধুদের কে কবে জানতে চেয়েছে- কেমন আছো তুমি?


আমরা বড়জোর একে অন্যকে এই প্রশ্ন-ই করতে পারতাম- এখন কেমন লাগছে? সেটা কেবল কেউ যদি অসুখে পড়তাম অথবা কোন নতুন জায়গায়, নতুন কোন সুখকর দৃশ্যে, অথবা কোন একটা ভালোলাগার উপহার হাতে তুলে দিয়ে এমন বলা যেত- ভালো লেগেছে?


আমাদের জীবন মেলেনি ভুল অঙ্কে, তাই এমন প্রশ্নের সুযোগ তোমার মিললো- কেমন আছো তুমি? আর তোমার অবুঝ প্রশ্নে বহুদিন পর আমার বেদনা সাগরের নীল জলে প্লাবিত হলো কাজল চোখের দু-কূল। 


শেষটায় বলি, তোমাকে ছেড়ে কেমন থাকি, কেমন আছি- কিছুই তোমার অজানা নয়। তাই, আমাদের দুই হাতে এক হতে না পারার দুঃখকে তুমি আর জাগিয়ো না। এমন প্রশ্ন তোলা থাক অন্য অন্য ব্যর্থ প্রেমিক অথবা প্রেমিকাদের জন্য। তুমি বরং এই-ই বলো- আমি আছি অনেক ভালো। 


আমার মন্দ থাকার ভীষণ অসুখ কেবল যে তোমার ভালো থাকায় সারে!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/223193/</link>
				<pubDate>Fri, 22 Nov 2024 10:01:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8216;কেমন আছো তুমি?&#8217; </p>
<p>আমাদের বিরহের বহুবছর পর আমাকে জানতে চাইলে- কেমন আছো তুমি? সত্যি বলতে, তোমাকে না পাওয়ার সকরুণ বেদনা, তোমার সাথে অনিচ্ছুক বিচ্ছেদ, কতশত মিথ্যে প্রতিশ্রুতি- সব কিছুকে যখন একটু একটু করে সময়ের মলাটে মুড়িয়ে দিবো বলে খসড়া ভাবনায় ছিলাম সেই সময় তোমার এমন প্রশ্ন আমার ঘন-গভীর বেদনাকে কেবল মলাট নয়, একেবারে প্রচ্ছদ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-223193"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/223193/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e80419d3212df7f2e03bdc57422149ae</guid>
				<title>কাজলিয়াত: এক প্রেম কথা


আঠার বছর আগের এক শীতে আমরা গ্রাম ছেড়েছিলাম। বিগত জীবনের স্মৃতি সাথে করে পেছনে ফেলে এসেছিলাম জন্মের মায়া, বেড়ে ওঠার পিছুটান, জোড়া পায়ের দীর্ঘ ছাপ, কিছু প্রিয় পরিজন আর আশ্রয়ের তিনটে ঘর। 


শহরে এসে উঠেছিলাম নগণ্য ভাড়ার একটা পুরনো টিনের ঘরে। শহরের মানুষগুলো হয় বস্তিতে, না হয় বাসায় থাকে, বাড়িতে বা ঘরে থাকে না। অথচ আমরা শহরের ভৌগলিক সীমায় থেকেও গ্রামের চেয়ে নিচুমান, না বস্তি, না বাসা, ভগ্নপ্রায় একটা ঘরে থাকতাম। এক রুমে চার ভাই, অন্য রুমে মা; দুই রুমের ঘরে পাঁচজন। অন্য তিনটে পরিবারের সাথে এক চুলায় রান্না, ভাগাভাগির টয়লেট আর লাইন ধরে গোসল। ঘন্টা, মিনিট, সময়ের মাপে দিন, রাত, সপ্তাহ অন্যদের সাথে তাল মিলিয়ে চললেও আমাদের জীবন ঘড়ির বেতাল কাঁটা তখন চলছিলো শম্বুক গতিতে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।


০২.
শহর থেকে গ্রাম অথবা গ্রাম থেকে শহর, দূরত্ব বেশি ছিল না। চাইলে হেঁটেই যাওয়া যেতো, গিয়েছিও কয়েক বার। শুরুর দিকে প্রায়ই গ্রামে যেতাম। বেশিরভাগ সময় দিনে দিনেই ফিরে আসা হতো, থাকা হতো না। আর যখন থাকার প্রয়োজন হতো আমাদের রেখে আসা ঘরেই থাকতাম। কিন্তু যত্নের অভাবে এবং দীর্ঘদিন মেরামত না করায় ঘরগুলো একসময় ভেঙ্গে পড়ে। আমাদের ভিটায় ঘর তোলে মেজো চাচা। তখন কাগজ-কলমে আমাদের একটা ভিটার ঠিকানা থাকলেও আশ্রয়ের ঘর আসলে ছিল না। মামার বাড়ি একই গ্রামে হওয়ায় ঘরহীন আমরা ঐ সময়টাতে মামা-চাচার ঘরে থাকতাম।


এভাবে দেখতে দেখতে প্রায় ষোল বছর চলে গেল। আমাদেরকে কাজের সূত্রে দেশ-বিদেশে থাকতে হয়, গ্রামে যাওয়ার সুযোগ খুব বেশি হয় না। কিন্তু আম্মা নিয়মিত গ্রামে যান। ওই গ্রামে তাঁর মা, বাবা, স্বামীর কবর। সোঁদা গন্ধ ঐ গ্রামীণ মাটিতে তাঁর আশৈশব কেটেছে, কেটেছে কৈশোর, যৌবন। এই গ্রামের প্রতি জন্মের টান আমাদেরও আছে কিন্তু মায়ের টানের কাছে তা যেন খুব নস্যি!


তাই মায়ের জন্য হলেও গ্রামে একটা আশ্রয়ের ঠিকানা বড় প্রয়োজন।


০৩.
একসময় আমার দেশের বাইরে পোস্টিং হয়। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আগে গ্রামে আম্মার থাকার মত একটা ঘর তৈরির প্রয়োজন তীব্রভাবে অনুভব করি। সুতরাং আমার চলে আসার মাসখানেক আগে জোরেশোরে কাজ শুরু হলো। কিন্তু শেষ করা গেল না। 


অবশেষে মেজো ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে আম্মার জন্য একটা আশ্রয় দৃশ্যমান হলো।


০৪.
আশ্রয় তো হলো, এবার তার একটা নাম দেয়া প্রয়োজন। আমার ইচ্ছে, একটা গ্রামীণ নাম দেই। আম্মার নাম মিলিয়ে ঠিক করলাম- কাজল ভিলা, কাজল কটেজ অথবা কাজল কুটির। ভিলা এবং কটেজ শব্দ দুটি ইংরেজি, কেমন শহুরে গন্ধ তাতে! সুতরাং কাজল কুটির চূড়ান্ত। কাউকে বলা হল না, মনে মনে ঠিক করে রাখলাম। 


কিছুদিন পরের একদিনের কথা- মামাতো ভাই ফোন করে জানালো, আম্মা ঘরের একটা নাম দিতে চান এবং নামটাও নাকি ইতোমধ্যে ঠিক করেছেন। 

আম্মা মনে মনে এমনটা ভেবেছেন শুনে আমি বেশ অবাকই হলাম। অবাক হওয়ার কারণ জাগতিক এসব বিষয়ে আম্মার আগ্রহ কোনদিন চোখে পড়েনি।


০৫.
আম্মা-আব্বার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর। একই গাঁয়ে, একই পাড়ায় কাছাকাছি বাড়ি, দুজন দুজনকে সম্ভবত পছন্দ করতেন। তাদের প্রেম ছিল কি-না জানিনা, বিয়েটা পারিবারিক আয়োজনেই হয়। কখনো দুজনকে ঝগড়া করতে দেখিনি, ভাব ছিল খুব। একটা ব্রাশ দুজন ব্যবহার করতেন।


যতদূর মনে পড়ে, একবারই আমি আম্মাকে দেখেছিলাম রাগ করে বাবার বাড়ি চলে যেতে। আমার দুই মামার সাথে বিয়ে হয়েছে আমার দুই ফুপুর। এই সম্পর্কগুলো এমন লতায়-পাতায় জড়ানো থাকে যে এক সংসারে সমস্যা হলে তা অন্য সংসারেও সংক্রমিত হয়। এরকমই কোন এক ঘটনার প্রেক্ষিতে আম্মা বাপের বাড়ি চলে যান। আমি তখন বেশ ছোট এবং ছোট ভাই স্তন্যপায়ী। আমাদের দুই বাড়ি পশ্চিমে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আম্মা ছোট ভাইকে দুধ খাইয়ে আবার চলে যেতেন, মনে পড়ে। 


এই একমাত্র ঘটনার বাইরে আম্মা এবং আব্বার মাঝে কোন বিষয়ে মনোমালিন্য মনে পড়ে না।


০৬.
আব্বা লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত ছিলেন, সাথে ছিল হার্নিয়ার সমস্যা। আম্মাকে আব্বার পাশে দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। বাড়িতেও আব্বার জন্য কম মসলায় আলাদা রান্না করতে হতো। কিন্তু আম্মার বিরক্ত ভরা মুখ কখনো চোখে পড়েনি। অথচ আব্বা মারা গেলে আম্মাকে গগন বিদারী চিৎকারে কান্না করতে আমি দেখিনি। কেমন যেন বোবা হয়ে গিয়েছিলেন। আমি বরং খুব কান্না করেছিলাম এবং আম্মা আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। আসলে নিজের ছোট ছোট সন্তানদের কথা চিন্তা করে তাকে হয়তো তখন এমন শক্ত হতে হয়েছিল। তাছাড়া দীর্ঘদিন যমের সাথে যুদ্ধ করে করে আব্বা যে এভাবে একদিন হেরে যাবেন সেটা বুঝেই আম্মা হয়তো নিজেকে এমন পাথর রূপে প্রস্তুত করেছিলেন। 


আমাদের সেই মা নিজের জন্য যখন একটা ঘর হল প্রথমেই চিন্তা করলেন ঘরটির সাথে মৃত স্বামীকে কি করে জড়িয়ে দেয়া যায় এবং নামটাও বেছে নিলেন ওভাবেই। 


০৭.
আম্মার নাম কাজল, তখনকার সময় বিবেচনায় বেশ আধুনিক নাম। আমার ধারণা, আম্মাকে এই নামটা আব্বা-ই দিয়েছিলেন। আব্বার অনেক কাগজপত্রে, এমনকি রান্নার পাতিলে, মুড়ির টিনের গায়ে খোদাই করে লেখা ছিল আম্মার নাম- কাজল। স্বামীর বেঁচে থাকা দিনগুলোতে আম্মা হয়তো &#039;বাবুর বাপ&#039; (আমার বড় ভাইয়ের নাম বাবু) ছাড়া আব্বাকে অন্য কোন নাম দিতে বা অন্য কোন নামে ডাকতে পারেননি। তাই স্বামীর মৃত্যুর পর নিজের নামের সাথে স্বামীর নাম জড়িয়ে দিয়ে নতুন নীড়ের নাম রাখতে চাইলেন- কাজলিয়াত। কাজলের সাথে লিয়াকতের যোগ- &#039;কাজলিয়াত&#039;।


একবার মনে হল আম্মাকে বলি, &#039;লিয়াকত-কাজল কুটির&#039; নাম রাখি। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হল তাতে তো দুজন দুজনে মিশে রইলো না। 


সুতরাং কাজলিয়াত-ই সই।


০৮.
আমাদের মা কোন সেলিব্রেটি নন। বিরুশকা (বিরাট এবং আনুশকা), দীপবীর (দীপিকা এবং রণবীর), রণলিয়া (রণবীর এবং আলিয়া) ব্রাঞ্জেলিনা (ব্র্যাট পিট এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলি), শোয়েনিয়া (শোয়েব মালিক এবং সানিয়া মির্জা)- আমাদের আম্মা এবং আব্বাকে এদের মত সন্ধিবদ্ধ করে সাংবাদিকেরা পত্রিকার পাতায় নতুন নামে সংবাদ ছাপবে না। তাইতো আম্মাকে নিজেকেই তাঁর ঘরের নাম ঠিক করতে হলো। 


মাতৃভাষার জন্য জীবন দেয়া সালাম, বরকত, রফিক এবং জব্বারদের অভিধানে একটা নতুন শব্দ দিল আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সনদবিহীন মা- কাজলিয়াত।


আমার কেন জানি মনে হয়- মনে মনে নামটা ঠিক করার পরও না জানি কত সহস্র লজ্জার ভারী পর্দা সরিয়ে আম্মা মুখ ফুটে কাজলিয়াত শব্দটা উচ্চারণ করেছেন।


০৯.
এক মর্মর পাথরের কঠিন বুক খুঁড়ে কাজলিয়াত নামটি লেখা হয়নি আজও, দেয়ালটা রয়ে গেছে ফাঁকা। তবে দিবো, একদিন গড়ে দিবো এই নাম। এবং সবাইকে জানাবো, সম্রাট শাহজাহানের মত প্রেমিকেরাই কেবল তাজমহল গড়ে না, কাজলের মত নিঃস্ব প্রেমিকারাও প্রয়াত স্বামীর স্মৃতিকে ধরে রাখতে কাজলিয়াত মহল গড়তে জানে। 


তাজমহলের গা ছুঁয়ে বয়ে চলা আগ্রার যমুনা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভাটির দেশে পাড়ি জমায় বুঝি সেই দারুণ প্রেমের সাক্ষী হতেই- কাজলিয়াত মহল!


১০.
পৃথিবীর অন্য অন্য মানুষেরা ভিন্ন ভাবতে পারে, আমাদের আবেগের কানাকড়ি মূল্য তাদের কাছে না-ই থাকতে পারে, তবে আমাদের জন্য মা-বাবাই পৃথিবী। 


তাই অন্তত আমাদের কাছে এক অমর প্রেমের অন্য নাম &#039;কাজলিয়াত&#039;।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/215184/</link>
				<pubDate>Tue, 28 May 2024 08:40:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কাজলিয়াত: এক প্রেম কথা</p>
<p>আঠার বছর আগের এক শীতে আমরা গ্রাম ছেড়েছিলাম। বিগত জীবনের স্মৃতি সাথে করে পেছনে ফেলে এসেছিলাম জন্মের মায়া, বেড়ে ওঠার পিছুটান, জোড়া পায়ের দীর্ঘ ছাপ, কিছু প্রিয় পরিজন আর আশ্রয়ের তিনটে ঘর। </p>
<p>শহরে এসে উঠেছিলাম নগণ্য ভাড়ার একটা পুরনো টিনের ঘরে। শহরের মানুষগুলো হয় বস্তিতে, না হয় বাসায় থাকে, বাড়িতে বা ঘরে থাকে না।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-215184"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/215184/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6c28459b87ea2632eac1a345b181c188</guid>
				<title>ভাঙা ডানার পরী

হেই রাইতেও পূর্ণিমা আছিলো। বিশাল আসমানের বিরাট কপালে দুধ সাদা চাঁনডা যেন মায়ের হাতের আদরের টিপ। ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়া ফকফকা চাঁনডা রাইতভর গড়াগড়ি দ্যায় দিলরুবার মাটির বিছানায়। খলখল জোছনায় জ্বলজ্বল করে ওর সুন্দর মুখখান! বহুদিন এমন জোছনা দ্যাহে নাই দিলরুবা- যেন দূর আসমানের আলোর বৃষ্টি দুনিয়ার রাইতে।

&#039;চান্দের বুড়িও বুঝি আইজ সাদা শাড়ি পরছে&#039;- ভাবতে ভাবতে উদাস অয় দিলরুবা। আর তহনই কোলের মাইয়াডা কাইন্দা উঠলে একটা দুধের বোঁটা মাইয়ার মুখে দেয়। অভাবের শরীর বাচ্চার দুধের যোগান ঠিকঠাক দিবার না পারলেও মিথ্যা সান্ত্বনায় ছোট্ট চোখ জোড়ায় ঘুম অন্তত দ্যায়।

০২.
মাইয়া ঘুমাইয়া গেলে ঘর ভরা চান্দের আলো দিলরুবারে আবার উদাস করে- চার বছর বয়সে মায়েরে হারাইয়া এতিমখানায় আইছিলো। বাপেরে দ্যাহে নাই কোনদিন। বয়স অইলে বুঝছে- জন্মের বাপ একজন থাকলেও কাগজ-কলমে লেখাপড়া করা বাপ ওর নাই। আগের সংসার ভাঙনের পর রহমত নামে এক ব্যাডার লগে মায়ের সম্পর্ক অয়। বিয়া ছাড়াই দুইজন একসাথে থাকতো। দিলরুবা পেটে আওনের পর লোকটা কই যে উধাও অয়- আর খোঁজ মিলে নাই। ঐ ব্যাডাই ওর জন্মের বাপ বইলা হুনছে কিন্তু কোনদিন তারে চোখে দ্যাহে নাই- তাই বাপ ডাকটা আর মুখে ফুটে নাই। 

মায়ের আগের ঘরের সৎ ভাইডা দিলরুবার চাইতে সাত বছরের বড়। যেই বাড়িতে ওরা ভাড়া থাকতো মায়ের মরণের পর ভাইডা ঐ বাড়িতেই কাম নেয়। যন্ত্রের মতন খাটার বদলে থাকন-খাওন ফ্রি, সাথে লাথি-গুতা মাগনা। হেইবার দ্যাশে ভয়ংকর শীত! এত ঠান্ডা- মুখের কতাও জইম্যা যায়, গলা আসমানে তুইলা কতা কওন লাগে। হেই শীতের মধ্যে মেঝেতে থাইকা থাইকা ভাইডার বুকে ঠান্ডা জমলো। ডাক্তার-বদ্যি মিলে নাই, আল্লার মাল চইলা গেল আল্লার কাছে। মরা ভাইয়ের লাশ দেখতে বিয়ার আগে শেষবার এতিমখানার সদর দরজা পার অইছিলো দিলরুবা। কাফনে মোড়া নিথর ভাইডা &#039;ছুটি&#039; গল্পের ফটিকের মতন ওরে যেন কইলো- &quot;বইন, আমার অহন ছুটি অইছে বইন, আমি অহন যাই,,,।&quot;

বাপ দুই অইতে পারে কিন্তু গর্ভ তো এক! গর্ভের টান কি মুছা যায়? 

সৎ-আপনের পার্থক্য মুইছা খুব কাঁদছিলো মরা ভাইডার জন্যে। 

০৩.
মন উদাসী এই জ্যোছনা রাতে মনে পড়ে প্রিয় বান্ধবী শবনমরে। শবনমের পাহাড় সমান দুঃখের কাছে দিলরুবার দুখী জীবনটা একটু আড়াল পাইতো, নিজের বিশাল দুঃখকেও সামান্য মনে অইতো।

বড় ঘরের বাপ পায় নাই শবনম কিন্তু সুখের নহর আছিলো সংসারে। শবনমের একমাত্র ফুবু ওর বাপেরে খুব ভালবাসতো। এক বর্ষায় সাপের কামড়ে বইনটা মারা গেলে বইনের মত একটা মাইয়া জানি অয়- জীবন সংসার বুঝবার পর থাইক্যাই শবনমের বাপের চাওয়া। বাসর রাইতে নতুন বউরে এই কথা কইতেই বউ রোকসানা ঘোমটা টাইনা শরমে মুখ ঢাকে। তারপর কেবলই সময় গড়ায়- ওঝা, কবিরাজ, ঝাড়, ফুঁক, তাবিজ, কবজ সব চেষ্টাই চলে। কিন্তু সুসংবাদ আর মেলে না!

সাত বছর পর অবশেষে খোদার মর্জিতে রোকসানার শরীর কতা কয়। শবনমের বাপের আনন্দ কি আর ধরে! খুশিতে কি যে করে মানুষটা! বৌয়ের পেট আর নিজের কান- সুতার দুই দিক ধইরা নাড়ীর বান্ধনে আটকা পড়া গর্ভের শবনমের লগে কতা বান্ধে বাপ- &#039;মির্জা বাড়ির টিভিতে কইছে বিমান পইড়া মানুষ মরছে ম্যালা। আমি বোতল বন্দী পরীর ডানা কাইটা পাঠামু, তুমি পরীর পালকে ভাইসা ভাইসা দুনিয়ায় আইবা মা।&#039; 

আবেগে ডোবা স্বামীর আউলা চুলে আদরের হাত বোলায় আহ্লাদি রোকসানা, কয়- &quot;পাগল!&quot; 

দিন যায়। পেট বাড়ে। একদিন ব্যথাও ওঠে। কিন্তু গাঁয়ের দাই পারে না, ভ্যানে কইরা গঞ্জের ডাক্তারের কাছে নিতে অয়। হাসপাতালে যাওনের সময় শবনমের মা স্বামীর হাত দুইখান নিজের হাতে নিয়া কয়- &quot;আমি তো ম্যালাই দেখলাম দুনিয়াডারে, বাচ্চাডা মাইয়াই মনে কয়। আমার কিছু অইয়া গেলে ওরে দেইখা রাইখো, নাম রাইখো চন্দ্রা।&quot; আল্লাহর উপর ভরসা কইরা ভীত রোকসানারে সাহস দেয় ওর স্বামী। 

নিজের অনাগত সন্তান কোলে নেয়ার আগাম আনন্দে অপারেশন রুমের সামনে পায়চারি করতে থাকে শবনমের বাপ। 

কিন্তু বাচ্চার জন্মের খবরের বদলে চিন্তিত মুখে ডাক্তার জানায়- মা অথবা সন্তান, একজনরে বাঁচানো যাইবো। সহজ কতা, একজনরে মরতে অইবো! 

এই কতা হুইনা বাপের বাঁধ ভাঙা আনন্দে হঠাৎ ভাটা পড়ে, নিজের অজান্তেই গাল বাইয়া কান্দন নামে। কান্দন ধরা কন্ঠে ডাক্তাররে কয়- &quot;আমাগো তিনজনরেই মাইরা ফেলা যায় না স্যার?&quot;

কিছুক্ষণ পর শিশুর কান্দনের শব্দ কানে ভাসে- একজন যোগ অয়, একজন বিয়োগ। হিসাবের সহজ নিয়ম- যোগ আর বিয়োগ মিলাইয়া বিয়োগ। তাইতো যোগের আনন্দ ছাপাইয়া ওঠে বিয়োগের বেদনায়। 

মা মরা শবনম ছোট চাচার সংসারে পরগাছা অইয়া বাড়তে থাকে। ভালো যে ওরা আগাছা ভাবে নাই, নইলে উপড়াইয়া ফেলতো!

০৪.
মায়ের মরণে নাকি সন্তান এতিম অয় না, বাপেরে মরতে অয়! এতিম হওয়ার শর্তপূরণের জন্যেই বুঝি শবনমের আট বছর বয়সে ওর বাপেরও মরণ অয় বজ্রপাতে। বাপের মৃত্যুতে এতিম পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় চাচার অভাবের সংসার ছাইড়া শবনমের নতুন ঠিকানা অয় এতিমখানা। এতিমখানায় ভর্তির সময় বাধে নতুন বিপত্তি, বড় কর্তা কয়, &quot;তোর নামডা ক্যামন হিন্দু হিন্দু ঠ্যাকে। তোরে একখান নতুন নাম দেই- শবনম, শবনম অর্থ ভোরের শিশির। বুঝলি, নামের ফজিলতেও জান্নাত মিলবার পারে।&quot; 

মৃত মায়ের কাছ থাইকা পাওয়া একমাত্র উপহার নিজের চন্দ্রা নামডা ঢাকা পড়ে বড়কর্তার দেওয়া শবনম নামের ছায়ায়। 

নিজের সাথে মায়ের শেষ এবং একমাত্র স্মৃতিটুকুও হারাইয়া যায় এতিম আলয়ে!

০৫.
দিলরুবা এতিমখানায় সহজে কারো সাথে মিশবার পারতো না, কান্না করতো খুব। শবনমই আছিলো ওর খেলার-মেলার সাথী। আঙুলে আঙুল মিলাইয়া বান্ধবী অইছিলো। এতিমখানায় থাকতেই শবনমের বিয়া অয় দিলরুবার তিন গাঁও পরের নিশ্চিন্তপুরে। মায়ের শরীর পাইছিলো শবনম কিন্তু মায়ের মত জামাইয়ের এত ভালোবাসা ওর কপালে জুটে নাই। বিয়ার তিন বছর পরও বাচ্চার মা অইতে না পারায় জামাই দ্বিতীয় বউ ঘরে আনলো প্রথম সন্তানের মুখ দেহনের লাইগা। অথচ শবনমের বাপ সাত বছর গেলেও আরেকটা ঘর করে নাই, মায়েরে পর করে নাই। 

সতীনের সংসার, সারাক্ষণ শীল-পাটার ঘষাঘষি। শবনম কুলাইতে পারে না, একদিন রাইতের আন্ধারে ঝুইলা পড়ে কুয়াতলার আমগাছে। চিরজীবনের মুক্তি মেলে!

অথচ ওর জামাই পরে আরও একটা, মানে তিন নাম্বার বউ ঘরে আনলেও বাপ ডাক হুনার ভাগ্য তার অয় নাই। পুরুষের কি আর কোন দোষ থাকে!

চোখের পানিতে দিলরুবার চটচটা বালিশখান ভিজা ওঠে।

০৬.
পনের বছর বয়সে দিলরুবা প্রথম বুঝবার পারে, একখান জোছনা ভরা চাঁন ওর মনের আকাশে উঁকি দিছে। রোজই খেয়াল করে, এতিমখানায় বাজার দেয় যে ছেলেটা; শ্যামলা, লম্বা, বড় বড় চোখ আর কোঁকড়া কোঁকড়া চুল, ক্যামন বোকা বোকা চাইয়া থাকে ওর দিকে, চোখ আর সরে না। দিলরুবার শরম পায়! ক্যামন ক্যামন লাগে! এই ক্যামন ক্যামন গোপন অনুভূতিই যে দুই&#039;য়ের ভবিষ্যৎ বান্ধবো, দুই&#039;রে এক কইরা দিবো তা নিজেরাও বুঝবার পারে নাই। 

প্রতিদিন কাজ শেষে মানুষটা যহন ফিরা যায় দিলরুবা বারান্দার গ্রীল ধইরা চাইয়া থাকে। গেট থাইকা বাইর হউনের শেষ কদমটা দেওনের আগে পিছন তাকাইলে চার চোখ শেষবার মিলে, রোজই মিলে। দিলরুবার নিস্তরঙ্গ জীবনে এ কোন ঢেউ উঠলো! খালি মানুষটারে মনে আহে!

স্বপ্নেও আহে মানুষটা, কয়- &quot;তোমার চোখ আমারে সবই কইছে। পরাণডারে বাঁধবা আমার লগে?&quot;

&quot;সুতা কাইটা দিবা নাতো?&quot; -দিলরুবা আশ্বস্ত অইতে চায়।

কিন্তু উত্তর মিলবার আগেই ভোরবেলার বেরসিক ঘন্টা পড়ে। দিলরুবার ঘুম ভাঙে, ভাঙে স্বপ্ন। 

লোকমুখে অনেকবারই হুনছে ভোরবেলার স্বপ্ন নাকি সত্যি অয়! কথাটা মনে আইতে নিজের অজান্তেই শরমের হাসি ফোটে দিলরুবার ঘুম জড়ানো চোখে-মুখে ।

০৭.
মাঝে একদিন দিলরুবা অসুখে পড়ে, হাসপাতালে ভর্তি করতে অয়। দুইদিন ওরে দেখবার না পাইয়া মানুষটা নিজেরে ধইরা রাখবার পারে না, জিগায়- কেউ এখান থাইকা চইলা গেছে কিনা? জানবার পারে, দিলরুবা অসুস্থ। শহরের সরকারি হাসপাতালে খোঁজ করে, ঠিকই খুঁইজা নেয়। চুপে চুপে কাছে যায়, দ্যাহে দিলরুবা ঘুমে। মানুষটা অপেক্ষায় থাকে। ঘুম ভাঙলে দিলরুবা বড় অবাক অয়- ঐদিনের স্বপ্নডা কি ও আবার দেখতাছে? গায়ে চিমটি কাটে- না, স্বপ্ন না, বাস্তব, খুব বাস্তব!

&quot;তোমারে মনে চায়। রইবা আমার লগে?&quot;- একসাথে একজীবন থাকবো বইলা হেই যে হাত ধরলো মরণের আগে কোনদিন দুইয়েরে দুই ছাড়ে নাই।

০৮.
চারপাশের হাওয়া যে ভালানা ওর জামাই তা বুঝবার পারছিলো ঠিকই। রাইতে রাইতে গোপনে বাড়িতে আইতো সাপের মতন। হেইদিনও আইছিলো, ভয়ে ভয়ে। দিলরুবা গরম গরম ভাজা ডিমখান প্লেটে তুইলা দিতেই অদূরে কান্দনের শব্দ। জানের বাজিতে জীবনের শেষ দৌড় দিলো বাড়ির পিছন দিয়া। কিন্তু হেই রাইতেও পূর্ণিমা আছিলো, আকাশ ভাইঙ্গা জোছনার বৃষ্টি। চান্দের আলো ওরে পালাইতে দিলো না, ধরা পড়লো। বুট পরা মানুষগুলা জামাইডারে বিরাট বন্দুকের ছোট্ট গুলিতে নিথর কইরা দিলো! জ্যাতা একখান মাছ কাটার পর লাফাইলে আমাগোর মনটা কেমন কইরা ওঠে কিন্তু বুটওয়ালাগো কোন বিকার নাই! হাসতে হাসতে জানডারে আসমানে পাঠাইয়া দেয় যেন মিথ্যা বন্দুক দিয়ে আলতার রং মাখাইয়া মৃত্যু মৃত্যু খেলা। তমিজরে নিমিষে শেষ কইরা ওরা ঢুকে দিলরুবার ঘরে। তারপর কি অয় হেই কতা লোক মানসে লেখন যায়না! তবে নখের আঁচড়ে, দাঁতের কামড়ে ওর যৈবতী দেহডায় নির্মম অত্যাচারের ক্ষত চিহ্ন লেপ্টে থাকে, এটুকুন লেখা যায়।

মনের আসমানে ওঠা চাঁন্দের আলো তমিজরে ওর সাথে যোগ করছিলো আর দুনিয়ার আসমানে ওঠা চাঁন্দের আলো তমিজরে ওর থাইক্যা বিয়োগ করলো!

দিলরুবার খালি মনে অয়, রাইতটা পূর্ণিমা না অইলে তমিজ বাঁইচা যাইতো।

০৯.
হেই রাইতে তিন বছরের হালিমারে কোলে কইরা আর পাঁচ বছরের আছমারে হাতে ধইরা নারীর আপন ঠিকানা নিজের স্বামীর ভিটা ছাড়ে সাত মাসের পোয়াতি দিলরুবা। নিজের মতোই অত্যাচারের শিকার অন্য অন্য গ্রামবাসীর সাথে বাড়ির পাশের চেনা পথ ধইরা অচেনা পথের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়। 

আসমানের আলোয় চোখ রাইখা বেশ খানিকটা পথ পার আগাইলে বড় স্রোতের নদী, ভয়ংকর খরস্রোতা! গর্ভবতী দিলরুবার পক্ষে দুইডা ছোট মাইয়ারে নিয়া এই ধারের নদী পাড়ি দেওয়া অসম্ভব প্রায়। কোলের মাইয়াটারে বাঁচাইতে গেলে হাতের মাইয়াডা ছুইটা যায়। ক্ষুরধার নদীর জলে দিলরুবা প্রাণপণ চেষ্টা করে মাইয়া দুইডারে আগলাইয়া রাখতে। কিন্তু মাঝনদীতে আইসা দিলরুবা আর পারেনা। ভয়াল স্রোতে নিজের ভারী দেহের সাথে দুই মাইয়ার তাল রাখা অসম্ভব অইয়া পড়ে। হঠাৎ স্রোতের তীব্র টান কাইড়া নেয় বড় মাইয়া আছমারে। ভরা পূর্ণিমায় ডুবতে থাকা মাইয়াডারে বিন্দুর মতো দ্যাহে একবার, শেষবার। তীব্র আর্তনাদে ঐ দুঃসহ রাতের বাতাসই কেবল ভারী করবার পারে অভাগী দিলরুবা, সন্তানরে বাঁচাইতে আর পারে না।

স্বামী আর সন্তান হারানোর ঐ পূর্ণিমা রাইতে দিলরুবার গগনবিদারী কান্দনের সাক্ষী থাকে দূর আসমানের ফকফকা চান, গনগনে তারা আর কয়েকটা রাইতচরা পাখি। 

১০.
মেজ মাইয়া হালিমার হঠাত ঘুম ভাইঙ্গা যায়, দ্যাহে, মায়ের চোখে জল- &quot;মা,কান্দ ক্যা? আব্বারে মনে আইছে?&quot; মাইয়ারে বুকের কাছে টাইন্যা নেয়, জোরে চাইপা ধরে। &quot;মা, বুবু আজ স্বপ্নে আইছিলো। কইলো, আমাগো তাল গাছে নাকি ম্যালা সেলাই পাখি বাসা বানাইছে।&quot;- মায়ের ভেজা চোখে চোখ রাহে মাইয়াডা। আবার কয়- &quot;মা জানো, এই দ্যাশে আহনের আগে বুবুর পোলাডার লগে আমার মাইয়াডার বিয়া অওনের কথা আছিলো, বুবুর পষ্ট মনে আছে। কইছে, আমি যেদিন বুবুর দ্যাশে যামু ঐদিনই বিয়াডা দিবো। আচ্ছা মা, ততদিনে কি আমার মাইয়াডা অনেক ডাঙর অইয়া যাইবো? তহন ওরে বুঝি একখান বড় শাড়ি পরানো লাগবো, না মা!&quot; 

মাইয়ার কথায় উত্তর দিবার পারেনা দিলরুবা, কন্ঠ ধইরা আহে। যে কান্দন থাইমা গেছিলো তা আবার ফিনকি দিয়া ওঠে। যতই চাপা দিবার চায় ততই তীব্র অয়- গরীবের লজ্জা ঢাকনের মত, একদিক ঢাকতে গেলে আরেকদিক খোলাসা অইয়া পড়ে। দিলরুবার চাপা কান্দন আর চাপা থাকেনা, ফুপাইয়া ওঠে। মায়ের কোলে বান্ধা পরা মাইয়া অপ্রস্তুত অইয়া পড়ে। ওর চোখও জলে ভইরা ওঠে। 

&quot;আর কোনদিন আমি তোমারে বুবুর কতা কমু না মা, বুবুরে আর স্বপ্নও দেখমু না।&quot;- হাত দিয়া মায়ের চোখ মুছে মাইয়া, মায়ে মুছে মাইয়ারে। দুইজন দুইজনরে দ্যাহে চার চোখ মেইলা। তারপর মাইয়ার কপালের মধ্যিহানে একখান চুমা দিয়া দিলরুবা কয়- &quot;মা রে, স্বপ্নই কেবল আমাগো বাঁচাইয়া রাখছে রে মা! জলপাই রং মানুষগুলা কেবল স্বপ্নটুকুই কাইড়া নিবার পারে নাই। স্বপ্নই আমাগো সুখ মা!&quot; 

১১.
দিলরুবার অন্দরে জমা পাথর চাপা দুঃখেরা অজানা এক দরিয়ার টানে বরফ গলা নদীর মতন গড়াইয়া পড়ে। কাজল ধোয়া ঐ কষ্ট নদী অজানা দরিয়ার সাথে মিলনের পথ ভুলে দিলরুবার পুরোনো বালিশের বুকে আঁকে দুঃখের মানচিত্র।

ওদিকে শেষ প্রহরের ক্লান্ত রাইত পূর্ণিমার চাদর গায়ে ঘুমাইয়া পড়ে দুবলা ঘাসের নরম বিছানায়। দিনের আলো ফুটবার আগে শেষ আকাশে একলা জাগে একটা ধবল চাঁন।

১২.
হেই রাইতেও পূর্ণিমা আছিলো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/215122/</link>
				<pubDate>Sun, 26 May 2024 11:53:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভাঙা ডানার পরী</p>
<p>হেই রাইতেও পূর্ণিমা আছিলো। বিশাল আসমানের বিরাট কপালে দুধ সাদা চাঁনডা যেন মায়ের হাতের আদরের টিপ। ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়া ফকফকা চাঁনডা রাইতভর গড়াগড়ি দ্যায় দিলরুবার মাটির বিছানায়। খলখল জোছনায় জ্বলজ্বল করে ওর সুন্দর মুখখান! বহুদিন এমন জোছনা দ্যাহে নাই দিলরুবা- যেন দূর আসমানের আলোর বৃষ্টি দুনিয়ার রাইতে।</p>
<p>&#8216;চান্দের বুড়িও বুঝি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-215122"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/215122/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6e06809f78d97801720969dfbd57b83c</guid>
				<title>সারিয়াকান্দি: এক দুঃখময় ভালোবাসা

নারী-পুরুষের প্রেম সস্তা না হলেও চেষ্টায় মেলে। পৃথিবী জুড়েই মানবীয় প্রেমের দেখা পাওয়া যায়। মন মিলে গেলে, পছন্দের পুরুষ বা নারীকে জগতের দূরতম স্থান হতে আপন নীড়ের ঠিকানায় নিয়ে আসাও কঠিন নয়। প্রেমের টানে প্রেমিক পুরুষ কিংবা প্রেমিকা নারীর দেশান্তরী হওয়ার ঘটনা আজকাল ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা খবরের কাগজে হামেশাই মেলে। এমনকি মহাশূন্যেও দুই নভোচারী মিলতে পারে মানবীয় প্রেমে। 

সুতরাং নারী-পুরুষের প্রেম দামি হলেও দুর্লভ নয়।

০২.
তবে প্রিয় কোন জায়গার প্রেমে যদি পড়েন তবে আপনি ফেঁসেছেন। এই প্রেম এমনই সংক্রামক যে ভালোবাসার প্রিয় সেই জায়গা আপনাকে খুব করে টানবে অথচ জীবনের বাস্তবতায়, সময়ের অভাবে আপনি সেই টানে সাড়া দিতে পারবেন না। এমনকি বেঁচে থাকা অবশিষ্ট জীবনে কোনদিন হয়তো সেখানে আর যাওয়াই হবে না। অথচ ঐ জায়গার ভালোলাগা প্রিয়গুলো মনে করে প্রতিনিয়ত পুড়লেও স্থানটিকে আবার ঘৃণাও করতে পারবেন না। কারণ, স্থান তো প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার মতো প্রেমের সাথে বেইমানি করতে জানে না। প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেম সহজ প্রাপ্য এবং তা সহজ পাচ্যও। তাইতো প্রেমিক বা প্রেমিকার মধ্যে কেউ একজন বেঈমানি করলে অপরজনের ঘৃণা আসতে পারে এবং সময়ের ফেরে প্রিয় প্রেমিক বা প্রেমিকা হতে পারে অপ্রিয় শত্রুও। কিন্তু স্থানের প্রতি প্রেম সহজে মিললেও ভোলা সহজ নয়। কারণ এই প্রেম বেঈমানি করতে না জানায় কখনো শত্রু হয় না। 

সুতরাং এই প্রেম ভোলা যায় না। এ এক যন্ত্রণা!

০৩.
আমার একজন বউ বর্তমান, তাই নারী প্রেমও বিদ্যমান। তবে নারী প্রেমের সাথে সাথে আবার স্থান প্রেমও চলমান। প্রেমের নারীকে সাথে নিয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াতে পারি। কিন্তু ভালোলাগার এবং প্রেমের সেই জায়গাকে সাথে নিয়ে ঘুরতে পারি না। বরং সেই জায়গাকে ভালোবেসে তার ব্যর্থতায় পাওয়া বিরহ নিয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরি। 

প্রিয় সেই ভৌগোলিক প্রেমের গল্পই আজ বলবো।

০৪.
সারিয়াকান্দি আমার ভৌগোলিক প্রেম, আরেক প্রেমিকা। প্রিয় পছন্দের সারিয়াকান্দিকে বড় ভালোবাসলেও সাথে করে, সাথী করে ঘুরতে পারি না। বিচ্ছেদের হাহাকার মনকে পোড়ায়। 

ভালো লাগা আর মনপোড়ানোর সারিয়াকান্দিকে নিয়ে এই লেখা।

০৫.
সারিয়াকান্দিতে ষড়ঋতুর বাংলার রূপের বদল না চাইলেও চোখে এসে ধরা দেয়। বর্ষায় তার এক রূপ, দীর্ঘ যমুনার প্রশস্ত দুকূল তখন ছাপিয়ে যায় নতুন জলে। এমনকি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসার উঠোনে মা মাছকে সন্তান দলসহ ঘুরতে দেখেছি। উপজেলা পরিষদের ভেতরে খেলার মাঠ থেকে মাছ ধরে সেই মাছ সুস্বাদু রান্না শেষে পরিবেশিত হয়েছে আহার টেবিলে। আবার নিজ হাতে যমুনার তাজা ইলিশ জলের উপর তুলেছি এই সারিয়াকান্দিতে। 

শরৎ এখানে কাশফুলের কোমল মায়ায় ঢেকে দেয় পৃথিবীর বিস্তীর্ণ চরাচরের এক সংকীর্ণ অংশ। দূর-দুরান্ত থেকে প্রেমাঙ্গণ সেই কাশফুলের মায়ায় মৌমাছির মতো ছুটে আসে হৃদয়ে হৃদয় রাঙানো ভালোবাসার প্রেমিক-প্রেমিকা। এক শরৎ বিকেলে যমুনার জলে ভাসতে ভাসতে এমনকি মেঘালয়ের পাহাড়শ্রেণী প্রত্যক্ষ করার অবাক আর মুগ্ধকর দৃশ্যের সাক্ষী আমি নিজেই। 

যমুনার জল নেমে যাওয়া হেমন্ত, শীত আর বসন্তে চরের রূপ আবার পুরোই ভিন্ন। তখন ধুধু বালুময় মরুর বুক হেসে ওঠে সবুজ ধানের ক্ষেত, হলুদ সরিষার মাঠ আর লাল লঙ্কার ঝাল হয়ে। 

সারিয়াকান্দির বিশাল চরভূমির একখন্ড জুড়ে আছে ছোট্ট সুন্দর ধারাবর্ষার চর। ভরা বর্ষায় চারিদিকে জল ছাড়া যখন দৃষ্টিসীমায় আর কিছুই পড়ে না তখন দ্বীপ মতন ধারাবর্ষার কৃত্রিম বন আমাদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়, মন জুড়িয়ে দেয়। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এ যেন সুন্দরবনের এক প্রতিরূপ! 

ফুল, জল, মরু, বালি, মায়ার মানুষ- প্রকৃতির প্রায় সবটাই মেলে এখানে, কেবল বরফেরই দেখা নেই। আশা রাখছি, সারিয়াকান্দির বুকে একদিন এমন কেউ আসবেন যিনি বাস্তবে পারুক আর নাই পারুক নিখরচায় মানুষকে অন্তত আশ্বাসটুকু দিতে পারবেন যে, তিনি চেয়ার পেলে সারিয়াকান্দিতে তুলতুলে তুষারপাত হবে। সেদিন ভ্রমণ পিপাসু মানুষেরা বরফ বৃষ্টির সারিয়াকান্দিতে ভিড় করবে কাশ্মীর আর সুইজারল্যান্ডের অবকাশ যাত্রা বাতিল করে।

কত বড় বড় মিথ্যার সুদৃশ্য মোড়কে মুড়িয়ে আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখা হয় আশ্বাসে আশ্বাসে! হাজারো মিথ্যার ভিড়ে এমন একটা ছোট্ট স্বপ্ন কেউ দেখাবে না, সে কি করে হয়!

০৬.
মনে পড়ে নান্দিনার চরের সাতাশ বছর বয়সী সেই মেয়েটার কথা। বছর বছর বাচ্চা জন্ম দেয়া হাড় জিরজিরে মেয়েটার কোল জুড়ে তখন পর্যন্ত সাতটা সন্তান। জন্মদাত্রী যেমন রুগ্ন, গর্ভজাত সন্তানেরাও তেমনই লিকলিকে। তার মা, নারী আর সংসার জীবনের একটুখানি চোখ পেতে দেখলাম, ছোট্ট পাতিল মাটির চুলোয় বসিয়েছে, পাতিলের গলা অবধি অজাত কচু শাক। এতগুলো সন্তান আর স্বামী নিয়ে এইটুকু পাতিলের পুরোটা ভরে রান্না করলেও সবার আধপেটে খাওয়া হবে না। প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করা যমুনার মাছে মেয়েটির টানাটানির সংসার কালঘড়ি ধরে এগোয় ধীরলয়ে। নিশাচর স্বামী রাত জেগে মাছ ধরে অথচ নিজেদের পাতে মাছ খুব একটা জোটে না। তবুও অসীম স্রষ্টার ওপর পূর্ণ ভরসা করে তারা ভাল থাকে- আলহামদুলিল্লাহ, অথবা ভালো থাকার অভিনয়কে জীবনের অংশ করে নেয়। 

অন্যদিকে, সব মিললেও কত না মেলার অনন্ত বেদনা আমাদের, কত পাওয়ার প্রত্যাশা দিনরাত!

অভাবি মৎস্যজীবী আর দিনমজুর চরের মানুষদের নতমুখ দুঃখি জীবনের অন্দরে ঢু দিলে নিজের জীবন, অবস্থান আর প্রাপ্তি নিয়ে কোন অভিযোগ অবশিষ্ট থাকে না, বরং স্রষ্টার প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞতা জন্মে। 

০৭.
যদি পকেটে পুরে রাখা যেত তবে মিহি সুতোয় বোনা পৃথিবীর সবটুকু মসলিন জুড়ে একটা বিরাট পকেট বানাতাম, সারিয়াকান্দিকে রাখতাম সেই বুক পকেটে। অন্য কাউকে না হোক, সারিয়াকান্দিকে আমার চেয়েও বেশি ভালোবাসা প্রিয় মেয়েটাকে মাঝে মাঝে পকেট থেকে বের করে দেখাতাম- &#039;মা, এই তোর প্রিয় সারিয়াকান্দি। এই তোর ডুব-সাতারের নদী, বেতাল ভাসার জল যমুনার কূল।&#039;

সারিয়াকান্দি এক ভালবাসার নাম; যেখানে অনন্ত যৌবনা নদী যমুনা আছে, যেখানে চর ভরা মাটি মন মানুষ আছে, যেখানে আজও বুক ভরা ভালবাসার আপাদমস্তক বাঙালি নারী আছে। 

০৮.
সরিয়াকান্দিকে নিঃশর্ত ভালোবাসা সবসময়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/214793/</link>
				<pubDate>Tue, 21 May 2024 08:04:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সারিয়াকান্দি: এক দুঃখময় ভালোবাসা</p>
<p>নারী-পুরুষের প্রেম সস্তা না হলেও চেষ্টায় মেলে। পৃথিবী জুড়েই মানবীয় প্রেমের দেখা পাওয়া যায়। মন মিলে গেলে, পছন্দের পুরুষ বা নারীকে জগতের দূরতম স্থান হতে আপন নীড়ের ঠিকানায় নিয়ে আসাও কঠিন নয়। প্রেমের টানে প্রেমিক পুরুষ কিংবা প্রেমিকা নারীর দেশান্তরী হওয়ার ঘটনা আজকাল ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা খবরের ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-214793"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/214793/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">12c94c8b3eca19f9ba7a7709a3cb9377</guid>
				<title>লবঙ্গ লতিকা changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/214792/</link>
				<pubDate>Tue, 21 May 2024 08:00:53 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>