Profile Photo

Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]Offline

  • Md-Zaker-Hayat-Khan
  • ঊনমানুষের গল্প
    জাকের আদিত্য

    নামাজ পরসো?
    জ্বী পড়েছি।
    আজকে বাইরে গেছিলা?
    না।
    যা হোক ধীরে ধীরে বুঝতে শিখসো। যাও তরকারিটা গরম করে আনো।
    নীলা তরকারি গরম করতে যায়।

    মা, বাবা আসছে?

    হ্যা।

    বাবা কি মারবে?

    নীলা নির্বাক। যাও ছোট চাচার সাথে ঘুমাতে যাও।

    আবদুল্লাহর তিন দিন ধরে জ্বর। ডাক্তারের কাছে নেয়া দরকার। সবুজ রান্না ঘরের পাশেই ছিলো। তার চোখ মুখ কঠোর হয়ে গেছে। সবুজ ভার্সিটির ছাত্র। সাথে দুটো টিউশনি করে।

    ভাবী, আজ আমি বড়ভাইকে ছাড়বো না।

    সবুজ তুমি এসব নিয়ে ভেবো না। ঘুমাতে যাও।

    সবুজ নিজের ঘরে ফিরে যায় আবদুল্লাহকে নিয়ে।

    আবদুল্লাহর বাবা খাওয়া শেষ করে। খাওয়া শেষে এক খিলি পান খায়।

    নীলা বলে, আবদুল্লাহর তিন দিন ধরে জ্বর চলছে। ডাক্তার দেখানো উচিৎ।

    তিন দিন আগে জামাল আবদুল্লাহকে পিটিয়েছে। তারপর আবদুল্লাহর জ্বর চলে আসলো। আবদুল্লাহ সে রকম কিছুই করে নি। এলাকার একটা বাসায় গল্প করতে গিয়েছিলো। জামাল এ কারণে আবদুল্লাহকে পিটিয়েছে। সারা দিন ফাজলামি। আবদুল্লাহ এলাকার একটা বাসায় যায়। সমবয়সীদের সাথে খেলতে। জামাল তা পছন্দ করে না। এতো টাকা দিয়ে মাসের পর মাস পড়াচ্ছে আর ছেলে গেছে জাদু দেখতে। ঐ বাসার বড় ছেলেটা ভালো ম্যাজিক দেখায়। হাত সাফাই এর খেলা। আবদুল্লাহর ইচ্ছে সে জাদু শিখবে। মাকে নিয়ে রূপকথার দেশে চলে যাবে। যেখানে মা কে কেউ মারবে না।

    জামাল ওদের দেখতে পারে না। ওদের অনেক টাকা। তাছাড়া ভালো মতো নামাজও পরে না। তন্ত্র, মন্ত্র জানে বোধ হয়। গভীর রাতে ম্যাজিশিয়ানটা গান শোনে। হারাম টাকার মালিক এর চেয়ে বেশি কি আর করবে? টাকা পয়সা অনেক। হারাম পথের টাকা। সেই জন্য সে তিন দিন আগে ছেলেকে মেরেছে।

    নীলা আবার বলে, আবদুল্লাহর অনেক জ্বর। ডাক্তার দেখাতে হবে।

    জামাল বলে, এমনিতেই পাপের সন্তান। জ্বর তো হবেই।

    নীলার বুক ফেটে কান্না আসে। আর কতোবার এই প্রসঙ্গ তোলা হবে? নীলা এই এলাকায় আসার পর ঐ বাড়িতে গিয়েছিল। পরিচিত হতে। বাড়ি ফিরে অনেক প্রশংসাও করেছিল। তখন থেকেই জামালের সন্দেহ। নীলার তাই ঐ বাড়িতে যাওয়া নিষিদ্ধ।

    যাই হোক জামাল বলে চলো ঘুমাতে যাই। নীলার আবারো কান্না আসে। জামাল এখন মদ খাবে আর নীলাকে বলবে নাচতে। সম্পূর্ণ উলঙ্গ হতে হবে নীলাকে। তারপর জামাল তাকে গালি দেবে। যদি মেজাজ ভালো না থাকে নীলাকে মারবে, নোঙরামি করবে। নীলার পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে কিন্তু সে জামালের দাসী। সে আগে একটা চাকরি করতো। আবদুল্লাহর জন্মের পর কাজ ছাড়তে হলো।

    জামাল বললো, ঘরের কাজ করো। অফিসে যাও তো বসের সাথে নষ্টামি করতে। পর্দা করো। তোমার তো কোনই শরম নেই, চরিত্রহীন বেশ্যা।

    নীলা মাথার হিজাব খুলে ফেলছে। একে একে পোশাক খুলছে। তার চোখ ফেটে জল আসছে। জামাল এখন পুরো নেশাগ্রস্থ। নোঙরা ভাষায় খিস্তি করছে। সারা এলাকা শুনছে…..

    গল্পটা আর লিখতে ইচ্ছে করছে না। গত সাত বছর ঢাকা শহরের নাম না জানা কোন এক গলিতে প্রতিদিন প্রতিরাত একই গল্পের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে……এর উপসংহার পাঠক নিজে বেছে নিবে।

    4
    6 Comments
Skip to toolbar