-
মানুষ যখন কোনো নিষিদ্ধ মোহের চোরাবালিতে পড়ে, তখন তার ভেতরের ভালো-মন্দের চেনা হিতাহিত জ্ঞানটা এক নিমেষে কর্পূরের মতো উড়ে যায়। মায়ার সেই মায়াজাল আর নিষিদ্ধ চাহিদা পূরণের তীব্র তাড়নায় আমি এক নতুন ফন্দি আঁটলাম। ভাবলাম, আবার নিজের সেই দর্জি দোকানটা শুরু করব। কিন্তু হাতে তো টাকা নেই, তাই এনজিও বা ব্যাংক থেকে সুদের কিস্তি তোলার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু আমার ঘরের লক্ষ্মী সোহাগী তো বোকা ছিল না, ও আমার মনের ভেতরের সেই গোপন পঙ্কিলতার গন্ধটা ঠিকই পেয়েছিল।ও আমার এই কিস্তি তোলার সিদ্ধান্তে এক্কেবারে বেঁকে বসল। ওর সোজা আর অকাট্য যুক্তি ছিল, ‘আপনার যদি ব্যবসা করতেই হয়, তবে নিজে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে টাকা জড়ো করেন, তারপর দোকান করেন। ঋণের এই কিস্তির জালে আমি আপনাকে জড়াতে দেব না।’ ও কোনোভাবেই আমাকে কিস্তির কাগজে সই করে দিতে রাজি হলো না। ওর এই বাধা সেদিন আমার মায়ায় অন্ধ মগজে এক তীব্র বিষাক্ত ক্ষোভের জন্ম দিল। আমার মনে হতে লাগল, ও আমার স্বাধীনতায়, আমার মায়ার কাছে পৌঁছানোর রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।দিন দিন আমাদের ঘরের শান্ত বাতাস বিষিয়ে উঠতে লাগল। কিস্তির টাকা নিয়ে রোজ রোজ শুরু হলো তুমুল অশান্তি, তীব্র চিৎকার। আর ঠিক তেমনই এক অভিশপ্ত রাতে, রাগের মাথায় নিজের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে ফেললাম। যে সোহাগীর চোখের একটু হাসির জন্য একদিন আমি বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছিলাম, যার অসহায়ত্বের কথা শুনে সমাজ আর পরিবারের বিরুদ্ধে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম—সেদিন রাতে অন্ধ আক্রোশে আমি সেই সোহাগীর গায়ের ওপর হাত তুললাম! আমাদের সাত বছরের সাজানো, সুন্দর আর তিল তিল করে গড়ে তোলা ভালোবাসার সংসারে ওটাই ছিল প্রথম শারীরিক আঘাত। চড়টা যখন ওর গালে গিয়ে পড়ল, ও আর্তনাদ করে ওঠেনি, শুধু এক অদ্ভুত, অসাড় আর মৃত চোখে আমার দিকে তাকাল। সেই চাহনিতে কোনো রাগ ছিল না, ছিল এক বুক ভালোবাসার চিরতরে মরে যাওয়ার শেষ দীর্ঘশ্বাস। আমার অগোছালো জীবনের সেই ৬০ ওয়াটের আলোটা যেন নিজ হাতে আমি চিরতরে নিভিয়ে দিলাম।”
3 Comments
Friends
Shakhil Uddin
@shakhiluddin
rupa roy
@ruparoy
Mahabubur Rahman
@mahabuburrahman
সৈয়দ আনোয়ারুল হক
@sahaque
মোঃ মিঠুন আলী (কচুরিপানার ফুল)
@mithun
_এম. ফরহাদ
@mdfarhad
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor


সুন্দর লেখনি।