<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Mehedi Tonmoy | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/mehedi-hasan-tonmoy/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/mehedi-hasan-tonmoy/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Mehedi Tonmoy.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 22 Jun 2026 10:05:43 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">afed4369712aa2c1459d8a2dc20a57f2</guid>
				<title>শহরের ভেতরে ট্যাক্সি চালায় আহমেদ। প্রতিদিন ট্যাক্সি চালিয়ে কোন-কোনদিন সে বাড়ি ফেরে কোনদিন সে বাড়ি ফেরে না। যদি দূরে কোথাও থাকে তাহলে সে সেদিন বাড়ি ফেরে না আবার কাছে থাকলে সে বাড়ি ফিরে আসে। শহরের জ্যামের ভেতরে খুব চতুর হয়ে গাড়ি চালাতে হয়। কখন কীভাবে কী হয়ে যায়, বলা যায় না। তারও ভুল হয়, জরিমানা দিতে হয়। অনেক সময় ঘুষ দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতে হয় পুলিশের কাছে থেকে। এসব রোজকার অভ্যাস।
একদিন শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাবার ভাড়া এলে সে চালাতে বসলো। আহনেদ চালাতে চালাতে রাস্তায় একটা দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীসহ গাড়িটা বেশ আঘাতপ্রাপ্ত হলো। শেষপর্যন্ত যাত্রীটি মারা গেলো। ফলে আহমেদকে আলাদা করে বেশ কিছু জরিমানা দিতে হলো। গাড়িতার অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে রয়েছে। গাড়ি আর গাড়ি নেই বললেই চলে। তাই গাড়িটি গ্যারেজ মেকানিকের কাছে দেওয়া হলো। মেকানিক তার পূর্বপরিচিত বন্ধু।
কিছুদিন পর আহমেদ সুস্থ হয়ে গাড়িটির খোঁজ করতে আসলে জানতে পারলো তার বন্ধুটি মারা গেছে। এদিকে তার গাড়ির কোনো কাগজপত্র দেওয়া ছিলো না। ফলে তার গাড়িটি খুঁজে পাবার কোনো ব্যবস্থা রইলো না। গ্যারেজটি বন্ধ হয়ে রয়েছে। তার তার কাছে যেহেতু কাগজপত্র জমা দেবার কোনো দলিল নাই তাই সে গাড়িটি হারানো ভয়ে ভীতসন্ত্রস্থ হয়ে পড়লো। এদিকে সে ভাবছিল যে সে গাড়িটি বন্ধুর কথা ভেবে নিয়ে যাবে। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ করে দেবে। জরিমানা দিয়ে সে তখন প্রায় নিঃস্ব। বাড়িতে বউ ছেলেমেয়ে দুঃখে আছে। কারণ, সে তখন কাজ করার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলো না।
এদিকে তার একটা সমস্যা হচ্ছিলো ভীত ভিতরে। সে কথাটা কাউকে বলতে পাচ্ছিলো না। সে চলতি পথে বেরাতে পাচ্ছিলো না। সে এমনিতে যখন যাত্রী হিসাবে চলাচল করতে থাকে তখন সে ভয়ে অস্থির হয়ে যেতে থাকে কখন কী ঘটনা ঘটে। এক্সিডেন্ট ট্যাক্সিডেন্ট হয়ে যায় কখন। কে জানে?
এজন্য সে বেশ ভয়ের ভেতরে জীবন-যাপন করতে শুরু করলো। সে যদি গাড়িতা পায়ও তাহলেও সে গাড়িটা চালাতে পারবে কিনা সে বুঝতে পারলো না। সে এটা বুঝতে পারলো না যে এক্সিডেন্টটা ঘটার কারণে এই এমনটা হয়েছে। তার মনের মাঝে দুর্ঘটনার ভয় ঢুকে গেছে।
বিষয়টা জানতে পেরে তার স্ত্রী ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন। তিনি প্রথমে যেতে না চাইলেও ঝগড়া করে কান্নাকাটি করে সর্বময় কোলাহলময় করে তুলে নিয়ে অদ্ভুত ভঙ্গিমা জুড়ে দিলো। অবশেষে সে একতা শর্তে রাজী হলো যেন সে অন্য কাউকে এই গোপনীয় বিষয়টা যেন না জানায়। তাহলে সে যাবে। তার স্ত্রী এতে রাজী হলো। সে তাকে নিয়ে গেলো।
কিছুদিন বিষয়টা মাথাচাড়া দিলো না। তারপর সময়ের সাথে সাথে গাড়ি হারানোর সংবাদ আর কঠিন দরিদ্রতার কারণে সে আবারও পূর্বের ন্যায় আচারণ করতে শুরু করলো। এবার সে ভয় আরো বৃদ্ধি পেলো। ভাবতে লাগলো সেই নেমটেম্পলেটের কথা যেখানে তার মায়ের নাম লেখা ছিলো। সে ভাবতে লাগলো এই মুহুর্তে এইখানে অইখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে সে বিষয়টা নিয়ে আরো ভাবতে শুরু করলো। এবং সে সেসব নিয়ে আরো বেশি ভাবতে লাগলো। যেন কি হতে পারে তার ভবিষ্যতে যে সে একবার বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। যদিও সে পূর্বেও সে দুর্ঘটনার সম্মুখিন হয়েছে। সসব বিষয়াদি নিয়েও সে ভাবতে শুরু করলো। এভাবে সে প্রায় পাগল পাগল অবস্থা। তখন সে একদিন তার বাড়িতে গ্যারেজে মেকানিকের ছেলে এসে দাড়িয়েছে দেখে।
সেই আহমেদ খুব খুশি হলো। সে বললো আপনার গাড়ি দেখলাম গ্যারেজে তাই চলে আসলাম। আপনি হসপিটালে ছিলেন তাই হয়তো জানেন না। বাবা তখন আপনার গাড়িটি ঠিক করছিলেন। অই সময়ে কারা বা কে যে এসে তাকে খুন করেছে। তাদের কাউকেই সঠিকভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আহমেদ আর কিছু ভাবতে পারলেন না। শুধু ভাবলেন যে, বন্ধুকে খুন করবে কীভাবে? কীজন্য? আর সেদিনের এক্সিডেন্টের সাথে তার কোনো যোগসূত্র আছে কী? কিংবা গাড়িটার সাথে সেই যাত্রীর? আছে কি কোনো যোগসাদৃশ?
তার এখনো ধারণা নেই হয়তো সে গাড়িটা পুনরায় চালাতে পারবে কিনা! এসব ভেবে দেখতে সে দেখলো সেই ছেলেটা একাকী চলে যাচ্ছে। যার হাঁটা অবিকল তার বন্ধুর মতোই। তাকে আর সে থামাতে চেষ্টা করলো না।

Taxi.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/72470/</link>
				<pubDate>Fri, 10 Dec 2021 11:02:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শহরের ভেতরে ট্যাক্সি চালায় আহমেদ। প্রতিদিন ট্যাক্সি চালিয়ে কোন-কোনদিন সে বাড়ি ফেরে কোনদিন সে বাড়ি ফেরে না। যদি দূরে কোথাও থাকে তাহলে সে সেদিন বাড়ি ফেরে না আবার কাছে থাকলে সে বাড়ি ফিরে আসে। শহরের জ্যামের ভেতরে খুব চতুর হয়ে গাড়ি চালাতে হয়। কখন কীভাবে কী হয়ে যায়, বলা যায় না। তারও ভুল হয়, জরিমানা দিতে হয়। অনেক সময় ঘুষ দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-72470"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/72470/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b88270da47ac2461c38d93f27acc359e</guid>
				<title>গ্রীষ্মের  এক প্রখর দিন। দাবদাহ যেন চূর্ণ করে দিচ্ছে সর্বত্র। সারাদিন অফিসের কাজকর্ম সেরে, আমি অফিস থেকে বের হলাম। হাতে ব্যাগ দুটি। একটি কাগজপত্রের, অন্যটি খাবারের। কাগজপত্র সেই যে শিশুকাল থেকে ধরতে শুরু করেছিলাম। আজও তার সঙ্গী সেজে আছি। আর খাবারের সংযোগ আজীবন রয়ে গেছে। সারাজীবনে আমার স্কুলে টিফিন নিয়ে যেতে হয়নি। বাড়িতে এসেই খাওয়া হতো সবসময়। আর এখন আমার টিফিন নিয়ে চলতে হচ্ছে। এমনটা ভাবছিলাম। হটাৎ আমাকে একজন কি যেন বলল। আমি ঠিক শুনতে পাইনি। কিংবা শুনতে মন চায়নি। আমি তাকিয়ে দেখলাম সে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। সে আমাকে বলছে, আমরা কি ভাত পাবো না?
আমি একটু অবাক হলাম তবে বিষয়টা গল্পজনক হলেও সত্যি আমার লোম শিউরে উঠলো। আমার হাতের ব্যাগ পড়ে যাচ্ছে প্রায়। আমি সেটা সামলে নিলাম এবং  বললাম কেন আপনাকে আমি তেমন কোনো কথা দিয়েছি? সে বললো, কেমন কথা? আমি বললাম বাদ দেন। আপনি এই কথাটা আমাকে কেন বললেন? আমি বলতেই ও প্রত্যুত্তরে আমাকে বললো, আপনার হাতে খাবারের টিফিনটা দেখে বললাম। আমি বললাম; হ্যাঁ, সেতো আমি খেয়ে ফেলেছি। আপনি খাননি দুপুরে? সে বললো, না। আমার বাচ্চারাও খায়নি। টাকা নেই, চাল নেই, ঘরে। আমি বললাম, চলেন আপনাকে খাওয়াই।
আমি বলতেই, তিনি বললেন, তিনি বললেন, না না থাক। আমি এখন নোঙ্গরা আছি। আমি বললাম আসেন আপনি পরিষ্কার হয়ে খাবেন। তিনি আমাকে বললেন, তাহলে যে আমার পরিষ্কার হয়ে খাবেন। তিনি আমাকে বললেন, তাহলে যে আমার পরিষ্কার ছাড়া খাবো এ-তো বেঈমানী। এটা করা যাবেনা। আমি একটু বিরক্ত হয়ে বললাম, আগে চলুন। যে আসলো। আমরা একটা হোটেলে ঢুকলাম। কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া যাকে বলে। আমি মন দিয়ে দেখলাম। খেতে খেতে সে তার গল্প বলছে। তার বাচ্চাদের সে পড়াতে পারেনা। টাকা নেই। তাদের ভবিষ্যৎ নেই। সে ভীষণ গরিব তার বাবা-মা তার জন্য কিছু রেখে যায়নি। এমন অবস্থা। আমি সব মন দিয়ে শুনলাম। তাকে বললাম তোমার বউকে আমার বাসায় কাজ করতে আসতে বলবে। ঘরের কাজ। দৈনিক দু’ঘন্টা। আর একটা প্যাকেটে তার পরিবারের জন্য খাবার দিলাম। সে খুব খুশি হয়ে সালাম দিয়ে চলে গেল। আমিও বড় বুকমন নিয়ে বাসায় আসলাম। তখন বেশ রাত হয়েছে প্রায়। ঘরে ঢুকতেই (প্রেসার কুকারের শব্দ) আমার ছেলে তার মাকে বলছে, মা; অনেক তো বেজে গ্যালো। আমরা কি ভাত পাবো না?

Rice.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/72469/</link>
				<pubDate>Fri, 10 Dec 2021 11:01:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গ্রীষ্মের  এক প্রখর দিন। দাবদাহ যেন চূর্ণ করে দিচ্ছে সর্বত্র। সারাদিন অফিসের কাজকর্ম সেরে, আমি অফিস থেকে বের হলাম। হাতে ব্যাগ দুটি। একটি কাগজপত্রের, অন্যটি খাবারের। কাগজপত্র সেই যে শিশুকাল থেকে ধরতে শুরু করেছিলাম। আজও তার সঙ্গী সেজে আছি। আর খাবারের সংযোগ আজীবন রয়ে গেছে। সারাজীবনে আমার স্কুলে টিফিন নিয়ে যেতে হয়নি। বাড়িতে এসেই খাওয়া হতো সবসময়। আর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-72469"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/72469/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">03c589106b213512619866da782f4e7c</guid>
				<title>শীতের এক সকালে জন্ম হয়েছিল আমার। কোন ধনী ঘর নয় সাধারণ এক মধ্যবিত্ত ঘরে। অতি সাধারণভাবে সেখানে সব খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যায়। আমার জন্মের পর থেকেই আমার বাবা মা আমাকে খুব কষ্ট করে মানুষ করে। তাদের কাছে একমাত্র সম্বল বলে ছিল কিছু জমিজমা। সেখানে চাষাবাদ করে যা পেতো তাই দিয়ে সঙ্গসার চালানো হতো। সংসার চালানোর জন্য বাবা পাশের মাটিতে কাজ করতো। আমাকে পড়াশোনা শেখাতো তাঁরা। আমি পড়াশোনার পাশাপাশি টুশনি করতাম। তাদের সাহায্যের জন্য আমিও কাজ করার স্পৃহা পেতাম। এর মাঝে আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়লো সে শুকিয়ে কাঢ় হয়ে গেল। ভাত রুটি তরুতরকারী কিছুই খেতে পারছিল না। কিছুদিনের ভেতরেই, কোনো বলা নেই, কওয়া নেই। তার এমন অসুস্থতা আমি মেনে নিতে পারলাম না। আমরা। গ্রামের ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করালাম। সেখানে সে কিছু ওষুধ দিলো। তার অবস্থা একটু উন্নতির মতো হলো। আবার কিছুদিন পর তার একই অবস্থা তৈরি হলো। কেন জানিনা তখন আমার সন্দেহ তৈরি হল মায়ের কোনো বড় রোগ হয়েছে। আল্লাহ্‌ না করুক আমার এমন ভাবনা যেন বিফলে যায়। আমি আর বাবা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম আবার। সে কিছু পরীক্ষা করলো কিন্তু কোনো ফলাফল আসলো না। এতে তিনি চিন্তিত হয়ে শহরের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে বললেন। আমরা শহুরে ডাক্তারের কাছে যেতে চাইলেও কিছুটা দ্বিধা করলাম না। শহরের ডাক্তারের কাছেও কোন ফল বের করতে পারলো না সেখানে থেকে রাজধানীতে নিয়ে যেতে বললেন। আমরা কিছুদিন পরে রাজধানীতে গেলাম। সেখানে বড়বড় সব কারবার। বড়বড় ডাক্তার বড় বড় দালানকোঠা দেখে চোখ উপরে ওঠার মতো অবস্থা। মাকে দেখে ডাক্তার সাহেব কিছু টেস্ট দিলেন। টেস্ট পেতে আবার কয়েকদিন সময় লাগবে। এজন্য তিনি সেখানে ভর্তি করালেন। হস্পিটালে মানুষের সমাগম। কেমন দুর্গন্ধময় পরিব্বশ স্বাদহী রান্না আমাদের কয়েকদিনের মধ্যেই অস্থির করে তুলেছিল। কিছুদিনের জন্য ওষুধ দিয়েছিল ডাক্তার, সেগুলোই চলছিল। নার্সই এসে খাওয়াচ্ছিল ওষুধ ঠিকভাবে। আমার বলেন, মেয়েরা এত এগিয়ে গিয়েছে বড়বড় দেশ সেখানে বড় বড় ব্যাপার। এবার ডাক্তারের ডাক পড়লো। ডাক্তার আমাদের ডেকে আনলেন আমার মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে। আমাদের শক্ত হতে বললেন, আরও বললেন যে ভাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ঠিকমত চিকিৎসা করানো যায়। এমন নয় যে ক্যান্সার হয়েছে বলেই তিনি মারা যাবেন। তা ঠিক নয় এর জন্য ক্যামো থেরাপি দিতে হবে যদিও আমি কিছু ওষুধ দিচ্ছি তারপরও যদি বেড়ে যায় রোগ। আমরা বাবা নিজেদের ধরে রাখতে পারছেন না। আমি খুব কষ্ট করে নিজেকে সামলে রাখলাম। তারপর হস্পিটাল থেকে বাড়িতে ফিরলাম। সবকিছু শূন্য মনে হলো আমাদের। ওষুধের দাম দিতেই আমাদের পরিবারের অবস্থা খারাপ হয়ে এলো। তারপর হস্পিটাল থেকে বাড়িতে ফিরলাম। সবকিছু শুন্য মনে হলো আমাদের। ওষুধের দাম দিতেই আমাদের পারিবারিক অবস্থা খারাপ হয়ে এলো। তার উপরে আমার দুইটা বোন রয়েছে। তাদের বিয়ে দিতে হবে। বিয়ে ঠিক হয়ে আছে আগামী মাসে। এখন কিভাবে সব সম্ভব হয়ে উঠবে। তা ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। কিছুদিন পর মায়ের অবস্থা আরো খারাপ হলে আমি ডাক্তার সাহএবের সাথে যোগাযোগ করলাম। তিনি আমার মাকে নিয়ে যেতে বললেন। আমি থেরাপী হতে পারে বলে টাকা নিয়ে যেতে বললেন। আমি টাকার পরিমাণ শুনে মুর্ছা গেলাম। (ফোন রেখে বাবাকে কথাটা বললাম) বাবা বললেন জমি বিক্রি করতে হবে। কোন কথা বললাম না আমি। কিছুদিনের ভেতরে বাবা একটি জমি খুবই স্বল্পদামে বিক্রি করে দেন। তারপর আমরা আবার ডাক্তারের কাছে গেলাম। ডাক্তার আমাদের আলাদা একটা হস্পিটালে আসতে বললেন। যেখানে উচু এবং মার্জিত স্বভাবের মানুষের দেখা পেলাম। তিনি আমাদের কেমো-থেরাপি বিষয়টা বুঝিয়ে বললেন। এতে কি কি হতে পারে সে বিষয়ে ধারনা দিলেন। এখানে ভর্তি হতে বললেন। অনেক বেশি টাকা দিয়ে আমার মাকে সেখানে ভর্তি করালাম। এখন কেমো-থেরাপি দেওয়া হলো। তারপূর্বে তার চুল কেটে ফেলা হলো। কেমো-থেরাপি দেয়ার পরে সে ডাক্তার বললো রোগীর অবস্থা ভাল তবে সুস্থ হয়ে উঠতে আরো সময় লাগবে। সেখানে কিছুদিন রেখে আরো টাকার প্রয়োজন পড়লে বাবা বাড়ি চলে গেলো এবং আরো একটা জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়লো। আমরা মাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে এলাম। এখন মা কাউকে সেভাবে চিনপতে পারলো না। মা আমাদের কাছে চিন্তিত হয়ে কথা বলেন। তবুও তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন ভেবে আমরা ভাল থাকার চেষ্টা করি। আমার মা প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এমন সময়ে আবার তার ঠান্ডা জ্বর কাশি দেখা দিলো। আমরা ভাবলাম এতো সাধারণ অসুখ তাই তেমন নজরে আনলাম না একেবারেই। কিছুদিন ভুলে থাকলাম। ওষুধ দিলাম। হটাৎ করে দুনিয়ায় নতুন ধরণের রোগের সন্ধান মিলেছে। করোনা নামকীয় এই রোগেও এমন লক্ষণসুলভ আচারণ করে বিষয়টা জেনে ডাক্তারের কাছে গেলাম। কেমো-থেরাপি দেয়া হয়েছে প্রায় বিশ দিন। এতদিন সুস্থই ছিল আমি ডাক্তারকে দেখাতেই ডাক্তার বললেন বড় হস্পিটালে নিয়ে যেতে। তার করোনা হয়েছে। আমরা হস্পিতালে নিয়ে যাবার জন্য অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা করলাম। ধার করে, সুদ টেনে, বেশি করে টিউশন করে নতুনভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিলাম। বেশ কয়েকদিন সময় লাগলো। এর মাঝে মা আরো অসুস্থ হয়ে পড়লো। আমরা যেদিন মাকে হস্পিটালে নিয়ে যাবো, তার আগের রাতে আমাদের মা সব শুন্য করে চলে গেলেন।

Mother.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/72468/</link>
				<pubDate>Fri, 10 Dec 2021 10:59:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শীতের এক সকালে জন্ম হয়েছিল আমার। কোন ধনী ঘর নয় সাধারণ এক মধ্যবিত্ত ঘরে। অতি সাধারণভাবে সেখানে সব খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যায়। আমার জন্মের পর থেকেই আমার বাবা মা আমাকে খুব কষ্ট করে মানুষ করে। তাদের কাছে একমাত্র সম্বল বলে ছিল কিছু জমিজমা। সেখানে চাষাবাদ করে যা পেতো তাই দিয়ে সঙ্গসার চালানো হতো। সংসার চালানোর জন্য বাবা পাশের মাটিতে কাজ করতো। আমাকে পড়াশোনা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-72468"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/72468/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>