Profile Photo

Mehedi TonmoyOffline

  • Mehedi-Hasan-Tonmoy
  • Profile picture of Mehedi Tonmoy

    Mehedi Tonmoy

    4 years, 6 months ago

    শহরের ভেতরে ট্যাক্সি চালায় আহমেদ। প্রতিদিন ট্যাক্সি চালিয়ে কোন-কোনদিন সে বাড়ি ফেরে কোনদিন সে বাড়ি ফেরে না। যদি দূরে কোথাও থাকে তাহলে সে সেদিন বাড়ি ফেরে না আবার কাছে থাকলে সে বাড়ি ফিরে আসে। শহরের জ্যামের ভেতরে খুব চতুর হয়ে গাড়ি চালাতে হয়। কখন কীভাবে কী হয়ে যায়, বলা যায় না। তারও ভুল হয়, জরিমানা দিতে হয়। অনেক সময় ঘুষ দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতে হয় পুলিশের কাছে থেকে। এসব রোজকার অভ্যাস।
    একদিন শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাবার ভাড়া এলে সে চালাতে বসলো। আহনেদ চালাতে চালাতে রাস্তায় একটা দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীসহ গাড়িটা বেশ আঘাতপ্রাপ্ত হলো। শেষপর্যন্ত যাত্রীটি মারা গেলো। ফলে আহমেদকে আলাদা করে বেশ কিছু জরিমানা দিতে হলো। গাড়িতার অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে রয়েছে। গাড়ি আর গাড়ি নেই বললেই চলে। তাই গাড়িটি গ্যারেজ মেকানিকের কাছে দেওয়া হলো। মেকানিক তার পূর্বপরিচিত বন্ধু।
    কিছুদিন পর আহমেদ সুস্থ হয়ে গাড়িটির খোঁজ করতে আসলে জানতে পারলো তার বন্ধুটি মারা গেছে। এদিকে তার গাড়ির কোনো কাগজপত্র দেওয়া ছিলো না। ফলে তার গাড়িটি খুঁজে পাবার কোনো ব্যবস্থা রইলো না। গ্যারেজটি বন্ধ হয়ে রয়েছে। তার তার কাছে যেহেতু কাগজপত্র জমা দেবার কোনো দলিল নাই তাই সে গাড়িটি হারানো ভয়ে ভীতসন্ত্রস্থ হয়ে পড়লো। এদিকে সে ভাবছিল যে সে গাড়িটি বন্ধুর কথা ভেবে নিয়ে যাবে। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ করে দেবে। জরিমানা দিয়ে সে তখন প্রায় নিঃস্ব। বাড়িতে বউ ছেলেমেয়ে দুঃখে আছে। কারণ, সে তখন কাজ করার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলো না।
    এদিকে তার একটা সমস্যা হচ্ছিলো ভীত ভিতরে। সে কথাটা কাউকে বলতে পাচ্ছিলো না। সে চলতি পথে বেরাতে পাচ্ছিলো না। সে এমনিতে যখন যাত্রী হিসাবে চলাচল করতে থাকে তখন সে ভয়ে অস্থির হয়ে যেতে থাকে কখন কী ঘটনা ঘটে। এক্সিডেন্ট ট্যাক্সিডেন্ট হয়ে যায় কখন। কে জানে?
    এজন্য সে বেশ ভয়ের ভেতরে জীবন-যাপন করতে শুরু করলো। সে যদি গাড়িতা পায়ও তাহলেও সে গাড়িটা চালাতে পারবে কিনা সে বুঝতে পারলো না। সে এটা বুঝতে পারলো না যে এক্সিডেন্টটা ঘটার কারণে এই এমনটা হয়েছে। তার মনের মাঝে দুর্ঘটনার ভয় ঢুকে গেছে।
    বিষয়টা জানতে পেরে তার স্ত্রী ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন। তিনি প্রথমে যেতে না চাইলেও ঝগড়া করে কান্নাকাটি করে সর্বময় কোলাহলময় করে তুলে নিয়ে অদ্ভুত ভঙ্গিমা জুড়ে দিলো। অবশেষে সে একতা শর্তে রাজী হলো যেন সে অন্য কাউকে এই গোপনীয় বিষয়টা যেন না জানায়। তাহলে সে যাবে। তার স্ত্রী এতে রাজী হলো। সে তাকে নিয়ে গেলো।
    কিছুদিন বিষয়টা মাথাচাড়া দিলো না। তারপর সময়ের সাথে সাথে গাড়ি হারানোর সংবাদ আর কঠিন দরিদ্রতার কারণে সে আবারও পূর্বের ন্যায় আচারণ করতে শুরু করলো। এবার সে ভয় আরো বৃদ্ধি পেলো। ভাবতে লাগলো সেই নেমটেম্পলেটের কথা যেখানে তার মায়ের নাম লেখা ছিলো। সে ভাবতে লাগলো এই মুহুর্তে এইখানে অইখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে সে বিষয়টা নিয়ে আরো ভাবতে শুরু করলো। এবং সে সেসব নিয়ে আরো বেশি ভাবতে লাগলো। যেন কি হতে পারে তার ভবিষ্যতে যে সে একবার বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। যদিও সে পূর্বেও সে দুর্ঘটনার সম্মুখিন হয়েছে। সসব বিষয়াদি নিয়েও সে ভাবতে শুরু করলো। এভাবে সে প্রায় পাগল পাগল অবস্থা। তখন সে একদিন তার বাড়িতে গ্যারেজে মেকানিকের ছেলে এসে দাড়িয়েছে দেখে।
    সেই আহমেদ খুব খুশি হলো। সে বললো আপনার গাড়ি দেখলাম গ্যারেজে তাই চলে আসলাম। আপনি হসপিটালে ছিলেন তাই হয়তো জানেন না। বাবা তখন আপনার গাড়িটি ঠিক করছিলেন। অই সময়ে কারা বা কে যে এসে তাকে খুন করেছে। তাদের কাউকেই সঠিকভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আহমেদ আর কিছু ভাবতে পারলেন না। শুধু ভাবলেন যে, বন্ধুকে খুন করবে কীভাবে? কীজন্য? আর সেদিনের এক্সিডেন্টের সাথে তার কোনো যোগসূত্র আছে কী? কিংবা গাড়িটার সাথে সেই যাত্রীর? আছে কি কোনো যোগসাদৃশ?
    তার এখনো ধারণা নেই হয়তো সে গাড়িটা পুনরায় চালাতে পারবে কিনা! এসব ভেবে দেখতে সে দেখলো সেই ছেলেটা একাকী চলে যাচ্ছে। যার হাঁটা অবিকল তার বন্ধুর মতোই। তাকে আর সে থামাতে চেষ্টা করলো না।

    Taxi.

    5
    4 Comments
Skip to toolbar