-
প্রবন্ধ: আদম পাহাড়ের পায়ের ছাপ ও মানুষের দৈহিক উচ্চতা নির্ণয়ের সূত্র।
উদ্দেশ্য :
১. শ্রীলঙ্কার আদম চূড়ায় অবস্থিত পদচিহ্নের সম্ভাব্য পরিচয় বিশ্লেষণ করা।
২. মানুষের পায়ের দৈর্ঘ্য ও দৈহিক উচ্চতার মধ্যে একটি আনুপাতিক সম্পর্ক নির্ণয় করা।
৩. ১ : ৬.৭৮৯ অনুপাতের সাহায্যে ৬৭ ইঞ্চি দীর্ঘ পদচিহ্নের সম্ভাব্য দেহের উচ্চতা নির্ণয় করা।
৪. গাণিতিক বিশ্লেষণের আলোকে গবেষণার ব্যাখ্যা প্রদান ।প্রবন্ধ আলোচনা :
শ্রীলঙ্কার শ্রীপাড়া প্রদেশে ৭৩৫৯ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি পাহাড় অবস্থিত। এই পাহাড়টি আদম চূড়া নামে পরিচিত। ঐ পাহাড়ের চূড়ায় একটি বিশাল পাথর খন্ডের উপর ৬৭ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য এবং ৩০ ইঞ্চি প্রস্থ বিশিষ্ট একটি পায়ের ছাপ রয়েছে। বৌদ্ধ মতে, খ্রীস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে সর্বপ্রথম এটি আবিষ্কার হয়। আবিষ্কারের পর বৌদ্ধ ধর্মের লোকজন দাবি করেন এটি গৌতম বুদ্ধের পায়ের ছাপ। আবার মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মের লোকজন এটিকে হযরত আদম আ. এর পায়ের ছাপ দাবি করেন। তাদের মতে, আল্লাহ আদম আ. ও হাওয়া আ. কে বেহেশতে একটি নির্দিষ্ট গাছ থেকে দূরে থাকতে ও এর ফল খেতে নিষেধ করেছিলেন।তারা শয়তানের ধোঁকায় পরে ঐ নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়ে আল্লাহর অবাধ্য হন। অবাধ্য হওয়ার শাস্তি হিসেবে তাদেরকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেন। আদম আ.এর অবতরনের স্থানটি ছিল শ্রীলঙ্কার এই আদম পাহাড়ের চূড়া এবং অবতরণের স্মৃতি স্বরূপ আল্লাহ কুদরতি ভাবে উনার একটি পায়ের ছাপ ঐ পাহাড়ের চূঁড়ায় বসিয়ে দেন। যুক্তিসংগত বৈজ্ঞানিক প্রমানের অভাবে সেই পায়ের ছাপটি যে কার,তা অমীমাংসিত থেকে যায়। এ অমীমাংসিত বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে মীমাংসা প্রয়োজন। সে লক্ষেই আমার এ প্রচেষ্টা।অনেক গবেষণার পর আমি মানুষের পায়ের ছাপের দৈর্ঘ্যের ও দৈহিক উচ্চতার একটি আনুপাতিক সূত্র আবিষ্কার করি। আর সেটি হচ্ছে ১ : ৬.৭৮৯ । এ সূত্রের সাহায্যে আমি ৬৭ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের পায়ের ছাপের মানুষটির দৈহিক উচ্চতা বের করি। আর তা হচ্ছে ৩৮ ফুট। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায় গৌতম বুদ্ধের দৈহিক উচ্চতা ছিল ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি। সে হিসেবে ঐ পায়ের ছাপটি অবশ্যই গৌতম বুদ্ধের নয়।
অপরপক্ষে, হাদিসে উল্লেখ আছে বেহেশতে হযরত আদম আ. কে ৯০ ফুট উচ্চতা দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং কেয়ামতের পর পৃথিবীর মানুষকে ৯০ ফুট উচ্চতা দিয়ে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন। এর কারণ জানতে আমি মহাবিশ্বের বিভিন্ন গ্রহ উপগ্রহের গ্রেভেটি বা মধ্যাকর্ষন শক্তি নিয়ে অধ্যয়ন শুরু করি। অনেক পড়াশোনা শেষে বুঝতে পারি, যে কোন গ্রহেের গ্রেভেটি অনুযায়ী সে গ্রহের জীবের উচ্চতা নির্ধারিত হয়। বেহেশত পৃথিবী অপেক্ষা অনেক বড় বিধায় সেটির গ্রেভেটি অনেক বেশি। আবার পৃথিবী বেহেশতের তুলনায় ছোট, তাই পৃথিবীর গ্রেভেটি অনেক কম। ৯০ ফুট উচ্চতার মানুষ কম গ্রেভেটির পৃথিবীতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে না,বার বার পরে যাবে। সে কারনে আল্লাহ কুদরতি ভাবে আদম আ. এর দৈহিক উচ্চতা কমিয়ে পৃথিবী গ্রহের সর্বোচ্চ উপযোগী করে প্রেরন করেন। যা ছিল ৩৮ ফুট। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৩৮ ফুট বা তার কম উচ্চতা সম্পন্ন মানুষ পৃথিবীতে ভারসাম্য রক্ষা করে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে। প্রথম মানবের সম্মানার্থে আল্লাহ উনাকে পৃথিবী গ্রহের সর্বোচ্চ উচ্চতা দান করেছিলেন। আমার গবেষণা মতে নি:সন্দেহে বলতে পারি, আদম আ. এর পৃথিবী জীবনের দৈহিক উচ্চতা ছিল ৩৮ ফুট এবং পায়ের পাতার দৈর্ঘ্য ছিল ৬৭ ইঞ্চি। শ্রীলঙ্কার আদম চূড়ার পায়ের ছাপটি হযরত আদম আ. এর নিজের।অনেকের মতে, আদম আ. এর আগমনের পূর্বেও পৃথিবীতে মানুষ ছিল। তাদের এধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আসলে আদম আ. এর আগমনের পূর্বে পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী ছিল। সেগুলোর মধ্যে প্রায় মানব আকৃতির অনেক প্রজাতির প্রাণী ছিল। কিন্তু সেগুলো আমাদের প্রজাতির মানুষ ছিল না। এখনও যেমন প্রায় মানব আকৃতির বনমানুষ,বানর,হনুমান ইত্যাদি রয়েছে। এদের শরীরের বিভিন্ন হাড়,মাথার খুলি এবং মানুষের বিভিন্ন হাড় ও মাথার খুলির সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
এ বিষয়ে গবেষণা করেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক ইয়োহানেস হাইলি সেলিইসি । তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর ক্লিভল্যান্ড মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি এর সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৪ সালে ইথিওপিয়ায় প্রাপ্ত মানব আকৃতির একটি মাথার খুলি পরীক্ষা করে তিনি বলেন, এটি ছিল অস্টালো পিথিসিন অনোমেনসেস প্রজাতির এপের মাথার খুলি। কার্ব’ন ডেটিং পরীক্ষায় তিনি জানতে পারেন, এ কঙ্কালটির বয়স ছিল ৩৮ লক্ষ বছর। পরবর্তীতে, ১৯৭৪ সালে প্রাপ্ত আরেকটি মাথার খুলি পরীক্ষা করে জানা যায়, এটি অস্টালো পিথেকাস আফারনসিস প্রজাতির আরেকটি এপের মাথার খুলি। যার বয়স ছিল ৩২ লক্ষ বছর।
এ দুটি প্রাচীন কঙ্কাল নিয়ে গবেষণা শেষে অধ্যাপক হাইলি ০২/০৯/২০১৯ সালে বি বি সি ন্যাচার জার্নালে প্রকাশ করেন যে, এতদিন ধারণা করা হতো এগুলো মানুষের পূর্ব পূরুষের কঙ্কাল। যা ছিল সম্পূর্ণ ভুল । লক্ষ লক্ষ বছরেও এ দুটি প্রজাতি সম্পূর্ণ আলাদাই ছিল। বিবর্তিত হয়ে এক হয়ে যায়নি। অর্থাৎ দেখতে প্রায় একই রকম হলেও পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রত্যেক প্রজাতি আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়েই বেঁচে থাকে।
যেমন আমরা বলতে পারি – টাকি মাছ,শোল মাছ ও গজার মাছ দেখতে প্রায় একই রকম।কিন্তু, লক্ষ লক্ষ বছরেও তিনটি আলাদা প্রজাতির মাছ বিবর্তিত হয়ে এক হয়ে যায়নি। তারা আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়েই বেঁচে আছে।
সুতরাং বলা যায়, মানুষ সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্রজাতি, যা আদম আ. ও হাওয়া আ. এর মাধ্যমেই বিস্তার লাভ করেছে। বিবর্তনের মিথ্যা দাবি অনুযায়ী বানর থেকে নয়। কারণ বানর সম্পূর্ণ আলাদা প্রজাতি। তারা তাদের বৈশিষ্ট্য নিয়েই বেঁচে আছে।
উপসংহার ঃ পরিশেষে যুক্তিসংঘত ভাবে বলা যায়-
(১) শ্রীলঙ্কার আদম পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত পায়ের ছাপটি হযরত আদম আ. এর পায়ের ছাপ হওয়া যুক্তিযুক্ত।
(২) সূত্র ১ : ৬.৭৮৯( এক অনুপাত ছয় দশমিক সাত আট নয়)
এই সূত্র ব্যবহার করে কোন মানুষের পায়ের ছাপের দৈর্ঘ্যকে ৬.৭৮৯ দ্বারা গুণ করলে ঐ মানুষটির সর্বোচ্চ দৈহিক উচ্চতা পাওয়া যাবে।গবেষণায়-মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (কবি মিজান পঞ্চায়েত/কবি মিজান বিএসসি)
7 Comments-
পায়ের ছাপের দৈর্ঘ্যের সাথে উচ্চতার এমন গাণিতিক সম্পর্কটি বেশ চমকপ্রদ এবং চিন্তার খোরাক জোগায়। আপনি যে বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করেছেন, তা কি অন্যান্য বিজ্ঞানীদের মতামতের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন? আশা করি আপনি এই গ্রুপে অন্য সবার লেখায় নিয়মিত রিঅ্যাকশন দেবেন এবং মন্তব্য করে আমাদের আড্ডাটাকে আরও জমজমাট করে তুলবেন।
-
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (কবি মিজান পঞ্চায়েত/ কবি মিজান বিএসসি), গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আদম পাহাড়ের পায়ের ছাপ নিয়ে আপনার এই যৌক্তিক অনুসন্ধানটি বেশ কৌতূহল উদ্দীপক, বিশেষ করে আপনার উদ্ভাবিত ‘১ : ৬.৭৮৯’ অনুপাতটির প্রয়োগ আমাকে নতুন করে ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে; আপনি আপনার এই বিশ্লেষণের ধারা অব্যাহত রেখে চমৎকার সব তথ্যবহুল লেখা উপহার দিয়ে আমাদের সমৃদ্ধ করতে থাকুন।
-
Friends
নাজমুল হাসান সাকিব
@publiconline
সিরাজুল ইসলাম
@sherajulislam
tamim yeasin
@tamimyeasin
নাহিদ হাসান নয়ন
@nahid-hasan-noyon
Nusrat jahan Sadia
@nusratjahansadia
ফরিদুল ইসলাম
@dailychandpursomoy
Eqbal Hossain
@eqbalhossain
আব্দুর রাজ্জাক শেখ
@arazzak
S Ahmed Tusher
@sahmedtusher


আদম পাহাড়ের রহস্যে বিশ্বাস, গণিত ও কৌতূহল মিলেমিশে এক বিস্ময়জাগানো অনুসন্ধানের পথ খুলেছে…🖤