<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/muhammadullahbinmostofa/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/muhammadullahbinmostofa/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 31 Oct 2026 15:40:45 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">42b161598841e66f05745e8773b659df</guid>
				<title>এইগুলা সত্যি না, এসব কথা বিশ্বাস করার দরকার নাই।

গত দুতিনদিন আমার ফিডে এইগুলাই এসেছে। আমি সার্চ করে আনিনি, কিংবা চাইনি আসুক।
না, এটা অসত্য হলে আমিই খুশি হতাম সবার আগে।  কিন্তু অসত্য হওয়ার উপায় নেই। বছরের প্রতিদিনই আমার কাছে আসে এইগুলা। আমি ধর্ষ’ণ প্রতিরোধ মঞ্চের প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় সংগঠক। এমন অনেক সংগঠনে আছি। তাই যা মিডিয়াতে আসে না, মামলায়ও না, তা গ্রুপে পেয়ে যাই আমরা। সে যাই হোক, সাম্প্রতিক সময়কার এইসব ঘটনা সাম্প্রতিক না; প্রতিদিনই ঘটে। বিচ্ছিন্ন ঘটনা, বিশ কোটির মধ্যে দুয়েকটা বিচ্ছিন্ন ঘটবে, ওটাই রাষ্ট্রের ভাষা। তাই কোনটা শিশু, কোনটা গণধ’র্ষণ আর কোনটা ধর্ষ’ণ-হ’ত্যা এগুলো রাষ্ট্র কোনোদিন আলাদাভাবে নেয়নি। নিবে না, কারণ দেশে আইন আছে বিচারের বাস্তবায়ন নেই। কোনোটার না, একটুও না। যদি একটু স্মৃতি খাটান আপনারা যাদের চিনতে পারবেন তাদের দিয়েই বলি, শুনেছি আ’ছিয়া হ’ত্যার আসামিদের ফাঁ’সি হয়েছে, রামিসা হ’ত্যার আসামিদেরও ফাঁ’সি হয়েছে খবর পান নাই? সিলেটের ফাহিমা হ’ত্যায়ও ফাঁ’সিই হয়েছে। ময়মনসিংহের নিচামণিরে তিনজন আদর করিয়া উপরে পাঠাই দিছিল মনে আছে? ওদের ফাঁ’সি হয়েছে। মোটামুটি সব ফাঁ’সির রায় বাস্তবায়ন হয়ে গেছে, হ্যাপি তো তাই না? 

গেল ছয় বছরে ধর্ষ&#039;ণের শিকার ৩ হাজার ৪৮৭ শিশু। আই রিপিট অ্যাগেইন ধর্ষ’ণের শিকার। তারা স্রেফ শিশু। শিশু মৃ’ত্যুর সংখ্যাও আড়াইহাজারের বেশি। শিশু সুরক্ষার ব্যাপারে আলাদা ভাবা যেতো। যায়নি, যাবে না, বাচ্চাদের নিয়ে এতো ভাবাভাবি কীসের! শিশুদের নিয়েই বললাম, বাকিটা আপনাদের সুদৃষ্টি; নারীদের কথা বললে তো আবার ফেমিনিস্ট ট্যাগ বসাই দিবেন, সেটা জানি আমি। পাকিস্তানেও গণধ’র্ষণের শাস্তি সবাইকে মৃ’ত্যুদণ্ড, সব্বাইকে মানে সব্বাইকে; বাস্তবায়নেও সক্ষম। আমাদের প্রগতিশীল উন্নয়নশীল দেশে কী করলাম আমরা! হায় স্বাধীনতা, ধর্ষ’কদের রাজত্ব কায়েম করতেই কি আমরা
সর্বস্ব ত্যাগ করেছিলাম? আমি আসলে ভাষা খুঁজে পাই না। দুয়েকটা ঘটনা ছাড়া সব রেপি’স্টদের দেখেছি মোটেও অনুতপ্ত নয় তারা! যেন এমনই ঘটার কথা ছিল! চারিত্রিক দুর্বলতা বলে চালিয়ে দিবেন না প্লিজ, কোনটা সামাজিক অবক্ষয়ে সৃষ্ট সেটাও যদি ধরতে না পারেন! নামাজ রোজার মতো সমাজে ইনসাফ কায়েমের প্রয়োজনীয়তা আছে। এই জাতি নিয়া সমাজসংস্কারক হিসেবে পরিচিত মুহাম্মদ (সা.) গর্ব করতে পারতেন কি? আমরা অন্ধ বধিরের মতো মসজিদে বসে তাসবিহ পড়লেই কি আল্লাহর সামনে গৌরবের সাথে দাঁড়াতে পারবো? আমি কাউকেই দোষ দিতে চাই না, এসব মীমাংসা প্রস্তাব অনেক আগে থেকেই দিয়ে এসছি আমরা, কাজে দেয়নি। দিবে কীভাবে? আমরা এমন একটা রাষ্ট্রে বসবাস করি যেখানে সমর্থন নেই, আছে উপেক্ষা। সরকার আমাদের সহায়তা করার বদলে অনেকটা লাত্থি মেরে তাড়িয়ে দেয়, সে আপনি যেকোনো কিছুর জন্য যান না কেন। আগে তো অন্তত ফলাও করে বলা যেতো ধর্ষ’ণ ছাত্রলীগের কালচার আওয়ামী লীগের কালচার, এখন আসলে দোষটা কারে দিব? ব্যাপার না, বিচার দিবসের অপেক্ষা মাত্র! আল্লাহ সবারেই হিসেবনিকেশ বুঝাই দিবেন। ইনসাফের সিস্টেম নিয়ে আসাটা জরুরি না, অজুহাত রেখে দিয়ে ময়দানে নামাটা জরুরি। ওটাই সম্ভবত মহান কর্তব্য, ওটাই!

[এইখানে ছবি আপলোড করা যায় না &#x1fae4;]

ডায়েরি অব অ্যা মেহমুদ 
২৬ অক্টোবর ২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/286882/</link>
				<pubDate>Mon, 26 Oct 2026 11:39:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এইগুলা সত্যি না, এসব কথা বিশ্বাস করার দরকার নাই।</p>
<p>গত দুতিনদিন আমার ফিডে এইগুলাই এসেছে। আমি সার্চ করে আনিনি, কিংবা চাইনি আসুক।<br />
না, এটা অসত্য হলে আমিই খুশি হতাম সবার আগে।  কিন্তু অসত্য হওয়ার উপায় নেই। বছরের প্রতিদিনই আমার কাছে আসে এইগুলা। আমি ধর্ষ’ণ প্রতিরোধ মঞ্চের প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় সংগঠক। এমন অনেক সংগঠনে আছি। তাই যা মিডিয়াতে আসে না,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-286882"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/286882/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d8dab295d4067c485c73bf9d3b380685</guid>
				<title>মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা and Sol Nova are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/285852/</link>
				<pubDate>Mon, 19 Oct 2026 14:01:27 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">54c858d432c9e4e1dac89282f08b7dfb</guid>
				<title>প্রজাতন্ত্রের শবাগারে নিরাপত্তার কীর্তন
অধিকারহীনতার রাষ্ট্রতত্ত্ব, পুরুষতান্ত্রিক নীতিশাস্ত্র এবং সভ্যতার ছদ্মবেশে ক্ষমতার ইতরামি

রাষ্ট্রের একটি বিশেষ প্রতিভা আছে: সে মানুষের বিপন্নতাকে পরিসংখ্যানে রূপান্তরিত করতে পারে, আর পরিসংখ্যানকে এমন নির্বিকারভাবে উপস্থাপন করতে পারে, যেন মৃত্যুরও কোনো ব্যক্তিগত ব্যাকরণ নেই। একজন মানুষ নিহত হলে রাষ্ট্রের ভাষায় একটি ঘটনা ঘটে; একাধিক মানুষ নিহত হলে কয়েকটি ঘটনা ঘটে; আর একই ধরনের ঘটনা যখন রাষ্ট্রের নৈতিক বিবেককে বারবার অভিযুক্ত করে, তখন সেগুলোকে বলা হয় বিচ্ছিন্ন ঘটনা। রাষ্ট্রের এই শব্দতাত্ত্বিক কুশলতা দেখে অভিধানও সম্ভবত লজ্জায় মুখ ঢাকে।

এখানে মৃত্যু অপেক্ষা মৃত্যুর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাটি অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। কে মরলেন, কেন মরলেন, তাঁকে বাঁচানোর প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেন বাঁচানো গেল না, অপরাধীর দণ্ডবিধান কোথায় গিয়ে ঠেকল, কোন কর্তৃপক্ষের অবহেলা কোন পর্যায়ে দায়মুক্তির আবরণ পেল, এসব প্রশ্নের চেয়ে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার প্রশ্নটি যখন অধিক জরুরি হয়ে ওঠে, তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যে রাষ্ট্র তার নাগরিকের চেয়ে নিজের প্রতিকৃতির প্রেমে বেশি নিমগ্ন।

রাষ্ট্রের প্রতিকৃতিটি অবশ্য বড় যত্নে নির্মিত। সেখানে রাষ্ট্র সর্বদা সদাশয়, প্রশাসন সদা তৎপর, আইন সর্বদা নিরপেক্ষ, নিরাপত্তাব্যবস্থা সর্বদা সজাগ এবং বিপর্যয়গুলো নিছক কিছু অনভিপ্রেত ব্যতিক্রম। কেবল বাস্তবের নাগরিকটি সেই প্রতিকৃতির ফ্রেমে ঢুকতে পারেন না। তিনি ফ্রেমের বাইরে দাঁড়িয়ে দেখেন, তাঁর দুর্দশার ওপর রাষ্ট্রের গাম্ভীর্য কী চমৎকারভাবে আলো ফেলে রেখেছে।

নিরাপত্তা এখানে অধিকার নয়, একপ্রকার প্রশাসনিক অলংকার। রাষ্ট্র সেটিকে প্রদর্শন করে, বক্তৃতায় ব্যবহার করে, প্রয়োজনমতো তার পরিভাষা পাল্টায়; অথচ নিরাপত্তাহীন মানুষের কাছে তার কার্যকারিতা কতটুকু, সেই প্রশ্নটি উত্থাপিত হলেই রাষ্ট্রের কপালে জবাবদিহির ঘাম দেখা দেয়। তখনই শুরু হয় বিজ্ঞপ্তির পবিত্র আবৃত্তি, তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা এবং দায়িত্বের এমন এক পরস্পরবিরোধী বণ্টন, যেখানে সবাই দায়িত্বশীল, অথচ দায়ী কেউ নন।

এ এক অভিনব প্রজাতান্ত্রিক ধর্মতত্ত্ব। রাষ্ট্রের ভুল হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রকে ভুল বলা যায় না; প্রশাসনের ব্যর্থতা থাকতে পারে, কিন্তু ব্যর্থতার দায় নির্দিষ্ট করা যায় না; নাগরিকের অধিকার থাকতে পারে, কিন্তু সেই অধিকার দাবি করার সময়, স্থান ও পদ্ধতি নির্ধারণের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব যেন নাগরিকের হাতে নেই। রাষ্ট্র নাগরিককে অধিকার দিয়েছে, অতএব নাগরিকের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত; রাষ্ট্র অধিকার রক্ষা করতে পারেনি, অতএব নাগরিকের ধৈর্য ধরা উচিত। এই যুক্তির দার্শনিক সৌন্দর্য এমনই যে, এর কাছে স্ববিরোধিতাও মাথা নত করে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী মানবাধিকার-সংক্রান্ত অনুসন্ধানগুলো আমাদের সামনে যে প্রশ্ন রেখে গেছে, তা নিছক কোনো সরকারের ব্যর্থতার বিচার নয়। প্রশ্নটি ক্ষমতার প্রকৃতি নিয়ে। যে ক্ষমতা একসময় নিজেকে অপরিহার্য ঘোষণা করে নাগরিকের প্রতিবাদকে শত্রুতা হিসেবে পাঠ করতে শেখে, তার পতন ঘটলেও সেই পাঠপ্রণালি সমাজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয় না। ক্ষমতার পোশাক বদলাতে পারে, তার উচ্চারণে নতুন শব্দ সংযোজিত হতে পারে, কিন্তু নাগরিককে সন্দেহের বস্তু হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকে গেলে শাসনব্যবস্থার অন্তর্লীন ব্যাকরণটি বদলায় না।

এইখানেই ইতিহাসের কৌতুকটি সবচেয়ে নির্মম। যে মানুষটি গতকাল ক্ষমতার দম্ভে ক্ষুব্ধ ছিলেন, আজ ক্ষমতার নৈকট্যে পৌঁছে তিনিই দম্ভের যৌক্তিকতা আবিষ্কার করতে পারেন। যে কণ্ঠস্বর একদিন স্বাধীনতার জন্য ব্যাকুল ছিল, সেটিই একসময় অন্যের স্বাধীনতাকে শৃঙ্খলিত করার পক্ষে যুক্তি সাজাতে পারে। বিপ্লব তখন ইতিহাসের একটি ঘটনা হয়ে থাকে, কিন্তু বিপ্লবের নৈতিকতা ক্ষমতার অলিন্দে প্রবেশের অনুমতি পায় না।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তাই আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত আরও মৌলিক। রাষ্ট্র কাকে নিরাপদ রাখতে চায়? নাগরিককে, নাকি ক্ষমতার অবাধ চলাচলকে? আইন কাকে সংযত করে? অপরাধীকে, নাকি প্রশ্নকারীকে? প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক আনুগত্য কোন দিকে নিবদ্ধ? সংবিধান ও নাগরিক অধিকারের দিকে, নাকি সাময়িক ক্ষমতাকেন্দ্রের সদিচ্ছার দিকে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোনো শোভন সংবাদ সম্মেলনের গদ্যে পাওয়া যাবে না। উত্তর পাওয়া যাবে সেই মানুষটির অভিজ্ঞতায়, যিনি বিপদের সময় সাহায্য চান; সেই পরিবারের দীর্ঘশ্বাসে, যারা ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষায় বছরের পর বছর কাটায়; সেই নারীর নীরবতায়, যাঁর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করার আগেই সমাজ তাঁর চরিত্রের ময়নাতদন্ত শুরু করে; সেই ভিন্নমতাবলম্বীর সংশয়ে, যিনি কথা বলার আগে নিজের নাগরিকত্বের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবেন।

অধিকারহীনতা মানুষের কাছ থেকে প্রথমে সুযোগ কেড়ে নেয়, তারপর আত্মবিশ্বাস, তারপর প্রতিবাদের ভাষা। দীর্ঘস্থায়ী বঞ্চনার সবচেয়ে সফল রূপটি তাই প্রকাশ্য নিপীড়ন নয়, বরং বঞ্চিত মানুষকে তাঁর বঞ্চনার সঙ্গে অভ্যস্ত করে তোলা। একসময় মানুষ ন্যায়বিচারকে নিজের প্রাপ্য বলে দাবি করার পরিবর্তে ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দরকষাকষি করেন। তাঁর আকাঙ্ক্ষা সংকুচিত হতে হতে এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে তিনি আর অন্যায়ের অবসান চান না; চান, অন্যায়টি যেন অন্তত তাঁর ঘরের দরজায় এসে না দাঁড়ায়।

এমন সমাজে রাষ্ট্রের সাফল্য পরিমাপ করা সহজ। নাগরিক যত কম প্রশ্ন করবেন, শাসন তত স্থিতিশীল বলে বিবেচিত হবে। মানুষ যত বেশি ভয়কে ব্যক্তিগত সতর্কতা বলে মেনে নেবেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা তত বেশি সফল বলে প্রচারিত হবে। আর নাগরিক যখন নিজের অধিকার সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার আগেই সম্ভাব্য পরিণতির হিসাব কষতে শুরু করবেন, তখন রাষ্ট্রকে আর প্রতিটি কণ্ঠস্বর দমন করতে হয় না। মানুষ নিজের ভেতরেই একটি ক্ষুদ্র প্রহরী নিয়োগ করেন।

এই প্রহরী রাষ্ট্রের সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবিষ্কার। তার বেতন লাগে না, ইউনিফর্ম লাগে না, অস্ত্র লাগে না। সে কেবল মানুষের বিবেকের পাশে বসে থেকে প্রতিটি বাক্যের আগে জিজ্ঞেস করে, এ কথা বললে বিপদ হবে না তো? এ প্রশ্ন করলে অসুবিধা হবে না তো? এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে নিজেরই ক্ষতি হবে না তো? একসময় নাগরিকের মুখ বন্ধ করার জন্য রাষ্ট্রকে আর হাত বাড়াতে হয় না; নাগরিক নিজেই নিজের কণ্ঠস্বরের গলায় হাত রাখেন।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এই আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রবণতাকে আরও গভীর করে, বিশেষত নারীর জীবনে। এখানে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের ভাষা এতই পরিশীলিত যে তার অন্তর্গত নিয়ন্ত্রণকামিতাটি প্রথম দর্শনে ধরা পড়ে না। নারীকে বলা হয় সতর্ক হতে, সংযত হতে, সাবধানে চলতে, পোশাক ও আচরণে বিবেচক হতে। অপরাধীর সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধের দায়টি ধীরে ধীরে স্থানান্তরিত হয় সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর জীবনযাপনের ওপর।

অর্থাৎ যে সমাজ অপরাধীর হাত থামাতে অপারগ, সে সমাজ নারীর পা বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব করে। তারপর সেই বন্ধনকে সুরক্ষা, সেই সংকোচনকে শালীনতা এবং সেই অধীনতাকে পারিবারিক মূল্যবোধের নাম দেয়। শব্দের এমন নৈতিক আত্মসাৎ দেখলে মনে হয়, অভিধানটি বুঝি দীর্ঘদিন ধরে পুরুষতান্ত্রিক অভিভাবকত্বের অধীনে রয়েছে।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় অপরাধীর পরিচয়ের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পোশাক, চলাফেরা, সম্পর্ক, সময়জ্ঞান এবং ব্যক্তিগত অভ্যাস নিয়ে যে সামাজিক অনুসন্ধিৎসা দেখা যায়, তা প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বিচারের অনুসন্ধিৎসা নয়; এটি ক্ষমতার আত্মরক্ষামূলক কৌতূহল। সমাজ জানতে চায়, নারীটি এমন কী করেছিলেন যে তাঁর ওপর অপরাধটি সংঘটিত হলো। অথচ প্রথম প্রশ্নটি হওয়া উচিত, অপরাধী এমন কী অধিকারবোধে বিশ্বাসী ছিলেন যে অন্য একজন মানুষের শরীর, ইচ্ছা ও স্বাধীনতার ওপর নিজের কর্তৃত্ব আরোপ করতে পারলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে পুরুষতন্ত্রের শিকড়ে হাত দিতে হয়। সেখানে পাওয়া যায় নারীকে স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে নয়, পরিবারের সম্মান, পুরুষের কর্তৃত্ব কিংবা সামাজিক শালীনতার বাহক হিসেবে বিবেচনা করার দীর্ঘ অভ্যাস। নারীর শরীরকে তাঁর নিজের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্র হিসেবে স্বীকার করার পরিবর্তে সেটিকে পরিবারের নৈতিক পুঁজির অংশ বানানো হয়। ফলে নারীর ওপর সহিংসতা সংঘটিত হলে সমাজের একাংশের প্রথম উদ্বেগ হয় পরিবারের সম্মান, অপরাধীর দায় নয়।

সম্মান নামক এই বিমূর্ত সম্পত্তিটির মালিকানা আশ্চর্যজনকভাবে পুরুষের হাতে থাকে, অথচ তার রক্ষণাবেক্ষণের সমস্ত দায় নারীর ওপর ন্যস্ত। পুরুষের আচরণে পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয় না, নারীর স্বাধীনতায় হয়; পুরুষের অনৈতিকতা ব্যক্তিগত বিচ্যুতি, নারীর অনৈতিকতা সামাজিক বিপর্যয়। পুরুষের জন্য নৈতিকতার বিধান নমনীয়, নারীর জন্য তা প্রস্তরলিপি। এই বিধান রচয়িতাদের কেউ কেউ আবার নারী-সম্মানের রক্ষাকর্তা হিসেবেও পরিচিত। আত্মপ্রবঞ্চনার এমন সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠান পৃথিবীর আর কোথাও আছে কি না, গবেষণা করে দেখা যেতে পারে।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের এই অদ্ভুত আত্মীয়তা এখানেই। উভয়েই কখনো কখনো মানুষের স্বাধীনতাকে সম্ভাব্য বিপদের উৎস হিসেবে কল্পনা করে। রাষ্ট্র ভিন্নমতকে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা বলে, পুরুষতন্ত্র নারীর স্বাধীনতাকে সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ বলে। রাষ্ট্র নাগরিকের কণ্ঠস্বরকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, পুরুষতন্ত্র নারীর শরীর, চলাচল ও আকাঙ্ক্ষাকে। উভয়েরই যুক্তি, নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বিপর্যয় ঘটবে। উভয়েরই অস্বস্তি এই সত্যে যে স্বাধীন মানুষকে শাসন করা যায়, কিন্তু মালিকানার বস্তুতে পরিণত করা যায় না।

এই সমাজে নিরাপত্তা তাই ক্রমশ এক পরিহাসমূলক ধারণায় পরিণত হয়। নারীকে নিরাপদ রাখতে তাঁর স্বাধীনতা সংকুচিত করা হয়, নাগরিককে নিরাপদ রাখতে তাঁর মতপ্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, রাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে রাষ্ট্রের সমালোচনাকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার নামে সবাইকে নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে আপস করতে শেখানো হয়। কেবল নিয়ন্ত্রণকারীরা নিজেদের নিরাপদ মনে করেন।

আর পুরুষতন্ত্রের সবচেয়ে বড় কৌতুকটি হলো, সে নিজেই নিজের উৎপাদিত ভয়ের প্রতিষেধক হিসেবে নিজেকে বাজারজাত করে। যে সামাজিক বিধান নারীকে দুর্বল, নির্ভরশীল ও পরাধীন করে তোলে, সেই বিধানই পরে দাবি করে, নারীকে রক্ষা করার জন্য তার কর্তৃত্ব অপরিহার্য। এটি অনেকটা আগুনের কাছে অগ্নিনির্বাপণের চুক্তি স্বাক্ষর করানোর মতো। আগুন নিজেই শর্ত নির্ধারণ করবে, কতখানি পুড়িয়ে দেওয়ার পর তাকে নেভানোর অনুমতি দেওয়া হবে।

অতএব রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং নাগরিকের অধিকারকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করানো একটি মৌলিক রাজনৈতিক প্রতারণা। যে রাষ্ট্র নাগরিকের স্বাধীনতাকে নিজের অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করে, সে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবোধে গভীর অসুস্থতা রয়েছে। যে সমাজ নারীর স্বাধীনতাকে তার নিরাপত্তার অন্তরায় মনে করে, সে সমাজের নৈতিক চিকিৎসা প্রয়োজন। আর যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ক্ষমতার সমালোচনাকে শত্রুতা বলে, তার গণতন্ত্রবিষয়ক বক্তৃতা যতই দীর্ঘ হোক, তার শ্রবণেন্দ্রিয়ের ওপর আস্থা রাখা কঠিন।

প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র কতটা শক্তিশালী, তা নয়; রাষ্ট্রের শক্তি কাকে রক্ষা করছে। প্রশ্নটি সমাজ কতটা ঐতিহ্যনিষ্ঠ, তা নয়; ঐতিহ্যের নামে কার স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। প্রশ্নটি নিরাপত্তাব্যবস্থার বাহ্যিক জাঁকজমক কতখানি, তা নয়; সবচেয়ে অসহায় মানুষটির বিপদের মুহূর্তে সেই ব্যবস্থা কতখানি মানবিক।

রাষ্ট্রের হাতে অস্ত্র থাকতে পারে, সমাজের হাতে বিধান থাকতে পারে, পুরুষতন্ত্রের হাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সঞ্চিত অভ্যাস থাকতে পারে। কিন্তু কোনো কিছুই মানুষের মর্যাদার ঊর্ধ্বে নয়। রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব নাগরিকের অধিকার থেকে বৈধতা পায়, নাগরিকের অধিকার রাষ্ট্রের অনুগ্রহ থেকে নয়। নারীর স্বাধীনতা পুরুষের সদিচ্ছার দান নয়, মানুষের সমান মর্যাদারই অনিবার্য পরিণতি।

যে রাষ্ট্র এই সত্য বিস্মৃত হয়, সে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ক্রমশ ক্ষমতার নিরাপত্তায় পর্যবসিত হয়। যে সমাজ এই সত্য অস্বীকার করে, সে সমাজে শালীনতার মুখোশের আড়ালে নিপীড়ন দীর্ঘজীবী হয়। আর যে নাগরিক অন্যের অধিকারহীনতায় স্বস্তি খুঁজে পান, তিনি বুঝতে পারেন না, নিজের স্বাধীনতার কবর খননের কাজে তিনিও নীরবে অংশ নিচ্ছেন।

রাষ্ট্রের বর্ম যতই পুরু হোক, তার ভেতরে যদি নাগরিকের আর্তনাদ অনুপ্রবেশ করতে না পারে, তবে সেই বর্ম নিরাপত্তার নয়, বধিরতার। সমাজের নৈতিক বিধান যতই প্রাচীন হোক, তা যদি মানুষের মর্যাদাকে সংকুচিত করে, তবে তার প্রাচীনত্ব গৌরব নয়, কেবল দীর্ঘস্থায়ী অপরাধের সাক্ষ্য। আর সভ্যতার যতই ঢাকঢোল বাজুক, মানুষ যদি নিজের শরীর, কণ্ঠস্বর ও স্বাধীনতার ওপর নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারেন, তবে সেই সভ্যতা মূলত ক্ষমতার সুসজ্জিত আত্মপ্রবঞ্চনা।

রাষ্ট্র হয়তো তার সীমানা পাহারা দিচ্ছে। সমাজ হয়তো তার সম্মানের সংজ্ঞা রক্ষা করছে। পুরুষতন্ত্র হয়তো তার প্রাচীন সিংহাসনে বসে শালীনতার বিধান পাঠ করছে। কিন্তু মানুষের মর্যাদা যখন এই তিন প্রহরীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্বের বৈধতা প্রমাণ করতে বাধ্য হয়, তখন প্রশ্ন জাগে: আমরা কি সত্যিই সভ্যতার মধ্যে বাস করছি, নাকি বর্বরতার এমন এক পরিশীলিত সংস্করণে, যেখানে নিপীড়নের হাত রক্তমাখা না থেকে কেবল দস্তানায় ঢাকা থাকে?


— মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা
লেখক; কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলা সাহিত্য আন্দোলন</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/285230/</link>
				<pubDate>Thu, 15 Oct 2026 14:29:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রজাতন্ত্রের শবাগারে নিরাপত্তার কীর্তন<br />
অধিকারহীনতার রাষ্ট্রতত্ত্ব, পুরুষতান্ত্রিক নীতিশাস্ত্র এবং সভ্যতার ছদ্মবেশে ক্ষমতার ইতরামি</p>
<p>রাষ্ট্রের একটি বিশেষ প্রতিভা আছে: সে মানুষের বিপন্নতাকে পরিসংখ্যানে রূপান্তরিত করতে পারে, আর পরিসংখ্যানকে এমন নির্বিকারভাবে উপস্থাপন করতে পারে, যেন মৃত্যুরও কোনো ব্যক্তিগত ব্যাকরণ নেই। একজন মানুষ নিহত হলে রাষ্ট্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-285230"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/285230/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">204c7b22ae9f1a9224bab32aba231c55</guid>
				<title>আই ডোন্ট হ্যাভ অ্যা প্ল্যান 
— মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা 

আমার কোনো প্ল্যান নেই—
আমি শুধু দেখি, চারপাশে ধেয়ে আসা অন্ধকারের ছায়া।
শিশুদের নিষ্পাপ চোখে ভয়,
মানুষরূপী জানোয়ারদের থাবায়
হুমকিগ্রস্ত প্রতিটি শৈশব।
আমাকে একটা প্ল্যান দিন না, ভাই—
কীভাবে নিরাপদ করব এই ছোট্ট আলোগুলোকে?
কীভাবে ওদের মুখে আবার ফুটিয়ে তুলব নিশ্চিন্ত হাসি?
আমার বোনদের, নারীদের আর্তনাদ
বাতাসে বাতাসে ভারী হয়ে উঠছে।
ধর্ষণের এই ভয়াবহ মহাযজ্ঞ,
এই পৈশাচিক উন্মাদনা—
কীভাবে থামানো যায় একে?
নারীর সম্মান আর নিরাপত্তার জন্য
আপনাদের কি কোনো শক্ত প্ল্যান নেই?
আইনের শাসন কি তবে কেবলই বইয়ের পাতা?
আইন কেন রুখে দাঁড়ায় না এই অন্যায়ের সামনে?
আমাকে একটা স্পষ্ট প্ল্যান দিন,
কীভাবে বন্ধ করা যায় এই খুন, ছিনতাই আর সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য?
কীভাবে ফিরে আসবে শান্ত ও নিরাপদ কোনো সকাল?
দেশের তরুণদের হতাশা আমায় কুঁড়ে কুঁড়ে খায়,
কর্মসংস্থানের এই ঘোর সংকট,
দিশেহারা হাজারো স্বপ্ন—
তাদের জন্য কি কোনো সুস্পষ্ট পথ নকশা থাকবে না?
দেশের এই বিশৃঙ্খলা, অস্থিরতা আর অরাজকতা দেখে
আমি আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না।
আমার বুক ফেটে যায়, আমার চিন্তারা এলোমেলো হয়ে যায়।
আমাকে একটি প্ল্যান দিন—
একটি সঠিক, সত্য ও সাহসী প্ল্যান,
যা দেখে অন্তত বিশ্বাস করতে পারি,
সব অন্ধকার পেরিয়ে আমাদের দেশটা আবার শান্ত হবে।


১০ অক্টোবর ২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/283932/</link>
				<pubDate>Sat, 10 Oct 2026 01:20:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আই ডোন্ট হ্যাভ অ্যা প্ল্যান<br />
— মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা </p>
<p>আমার কোনো প্ল্যান নেই—<br />
আমি শুধু দেখি, চারপাশে ধেয়ে আসা অন্ধকারের ছায়া।<br />
শিশুদের নিষ্পাপ চোখে ভয়,<br />
মানুষরূপী জানোয়ারদের থাবায়<br />
হুমকিগ্রস্ত প্রতিটি শৈশব।<br />
আমাকে একটা প্ল্যান দিন না, ভাই—<br />
কীভাবে নিরাপদ করব এই ছোট্ট আলোগুলোকে?<br />
কীভাবে ওদের মুখে আবার ফুটিয়ে তুলব নিশ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-283932"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/283932/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3247f7f8693a225e7497db746f42fb58</guid>
				<title>অবনী ও রবি তারা মুছে যাবে সবই
তুমি হবে কবিতাটা আমি হব কবি।

হেলাল হাফিজের কবিতা নকল করে লিখছিলাম। আমাকে এতো বিরহী হওয়া মানায় না। তাই বিরহ আর বিদ্রোহের মধ্যে একটু রোমান্স &#x1f92d;

প্রতীক্ষার কবি হেলাল হাফিজের জন্মদিনে অনেক শ্রদ্ধার্ঘ্য &#x2764;&#xfe0f;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/283137/</link>
				<pubDate>Wed, 07 Oct 2026 12:09:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অবনী ও রবি তারা মুছে যাবে সবই<br />
তুমি হবে কবিতাটা আমি হব কবি।</p>
<p>হেলাল হাফিজের কবিতা নকল করে লিখছিলাম। আমাকে এতো বিরহী হওয়া মানায় না। তাই বিরহ আর বিদ্রোহের মধ্যে একটু রোমান্স &#x1f92d;</p>
<p>প্রতীক্ষার কবি হেলাল হাফিজের জন্মদিনে অনেক শ্রদ্ধার্ঘ্য &#x2764;&#xfe0f;</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9881ac25b638bed76f52a71b9ebc84fa</guid>
				<title>মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/281681/</link>
				<pubDate>Sat, 03 Oct 2026 18:42:08 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2df487af91e964f7ccadfe4d040399b5</guid>
				<title>আমাদের ছেলে সমাজ 
— মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা 

সারাদিন ধরি শুধু মেয়েদের দোষ
শতশত পাপ করে আমি নির্দোষ।

বাইরে তো খেলা করি
কত যে ঝামেলা করি
আর অবহেলা করি
নগ্নতা দেখে দেখে উঠে যায় জোশ।

চরিত্রহীন ধরা খেলে
কোনো ছাড় না পেলে
সব অভিযোগ ঠেলে 
সেজে যাই সবশেষে মহান পুরুষ।

চাহিদাটা নয় ফিকে 
চোখ মেয়েদের দিকে 
দোষটা ওদের লিখে 
আমি মহান থাকি হয়ে যাই খুশ।

ওদের গায়ে হাত তুলি
তুলে ধরি দোষগুলি
আমি চলি খোলাখুলি 
নেই সমাজের কোনো রাগ-রোষ।

সারাদিন ধরি শুধু মেয়েদের দোষ
গরু ছাগলের মতো দিতে পারি ঢুস।

০৫ আগস্ট ২৬
মজদুর.রেড-এ প্রকাশিত</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/281041/</link>
				<pubDate>Thu, 01 Oct 2026 22:30:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমাদের ছেলে সমাজ<br />
— মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা </p>
<p>সারাদিন ধরি শুধু মেয়েদের দোষ<br />
শতশত পাপ করে আমি নির্দোষ।</p>
<p>বাইরে তো খেলা করি<br />
কত যে ঝামেলা করি<br />
আর অবহেলা করি<br />
নগ্নতা দেখে দেখে উঠে যায় জোশ।</p>
<p>চরিত্রহীন ধরা খেলে<br />
কোনো ছাড় না পেলে<br />
সব অভিযোগ ঠেলে<br />
সেজে যাই সবশেষে মহান পুরুষ।</p>
<p>চাহিদাটা নয় ফিকে<br />
চোখ মেয়েদের দিকে<br />
দোষটা ওদের লিখে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-281041"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/281041/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2adaec392b31b50be0369486ad807983</guid>
				<title>খু’ন নাকি আত্মহ’নন? 

হয়তো ধীরে ধীরে হ’ত্যা করা হয়েছে তাকে। কে করেছে? আমরাই তো করলাম! দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আমাদের নৈতিক আপত্তি থাকতেই পারে, কোনো সম্পর্ক আমাদের মূল্যবোধের সঙ্গে না-ও মিলতে পারে, কিন্তু তাই বলে একটা মানুষকে প্রকাশ্যে টেনে এনে, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হাজার হাজার মানুষের সামনে বিচার বসানোর অধিকারটা আমরা কোথায় পেলাম? ধরলাম, ঘটনাটা নৈতিকতার বাইরে গেছে, বেশ তো, তদন্তের জন্য পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারতাম, আইন তার নিজের মতো চলত, কে দোষী কে নির্দোষ সেটা তদন্তে বের হতো, আদালত বিচার করত; কিন্তু আমরা তা করলাম না, আমরা নিজেরাই বিচারক হয়ে গেলাম। বরং ৭৫ বছরের একজন মানুষের ভূমিকা কী ছিল সেটা জানার আগে ১৯ বছরের একটা মেয়েকে চেপে ধরলাম, তার চরিত্রের পোস্টমর্টেম শুরু করলাম, সে লোভী কি না, সে প্রস্টিটিউট কি না, সে কেন সেখানে গেল, কী চেয়েছিল, তার উদ্দেশ্য কী ছিল, যেন মেয়েটার জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের হিসাব আমাদের কাছে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু সে যে মানুষ, তারও যে একটা জীবন ছিল, স্বপ্ন ছিল, ভুল করার অধিকার ছিল, পরিস্থিতির শিকার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, এমনকি নিজের পছন্দে কিছু করার অধিকারও ছিল, এই কথাটা আমরা কতজন ভাবলাম? আর সত্যি বলতে কী, আমি তো জানিই না সে কী চেয়েছিল, আপনিও জানেন না, আমরা কেউই জানি না; অথচ জানি না বলেই তো তদন্তের দরকার ছিল, ফেসবুকের রায়ের না। আমরা বড় অদ্ভুত জাতি, কারও ব্যক্তিগত জীবনে উঁকি দেওয়ার পর নিজেদের নৈতিকতার চশমাটা চোখে দিয়ে বসে যাই, তারপর মানুষটার চরিত্রের সার্টিফিকেট বানিয়ে ফেলি। এই দেশে ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা বললে অনেকেই এমনভাবে তাকায় যেন খুব অদ্ভুত কোনো কথা বলেছি, এইটা জাপান না, এইটা শকুনে খামচে ধরা বাংলাদেশ; এখানে মানুষকে ছিঁড়ে খাওয়ার মতো খবর পেলেই আমরা জড়ো হয়ে যাই, শিশুকা’ম, পশুকা’ম, নারী নির্যাতন, ধর্ষ’ণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, কত কী ঘটে, কত কিছু চাপা পড়ে যায়, কত মানুষ বিচার পায় না, কিন্তু কোন ছেলে কোন মেয়ের সঙ্গে কথা বলল, কে কাকে ভালোবাসল, কার সঙ্গে কার ছবি উঠল, কে কোথায় গেল, সেসব নিয়ে আমাদের নৈতিকতার ঘুম ভেঙে যায় খুব সহজে। তখন আমরা সবাই পুলিশ, সবাই বিচারক, সবাই আলেম, সবাই মনোবিজ্ঞানী, সবাই আবার চরিত্র বিশ্লেষকও। মেয়েটা হয়তো অন্য একটা জীবনের স্বপ্ন দেখেছিল, হয়তো অতি বয়স্ক কাউকে বিয়ে করা বা সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে পড়া তার জীবনের পরিকল্পনাই ছিল না, হয়তো পরিস্থিতি তাকে সেখানে নিয়ে গেছে, হয়তো নিজের সিদ্ধান্তেই গেছে, হয়তো তার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, হয়তো হয়নি, আমরা কিছুই জানি না; অথচ আমরা এমনভাবে কথা বলছি যেন তার জীবনের সব পাতা আমাদের সামনে খোলা ছিল। থামলাম না আমরা, কারণ আমাদের হাতে ফেসবুক আছে। টিজিং করতে করতে, ট্রল করতে করতে, একটা মানুষকে নিয়ে হাসতে হাসতে, তার ছবি শেয়ার করতে করতে, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গল্প বানাতে বানাতে আমরা এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাই তাকে, যেখানে সে নিজের কাছেই অপরাধী হয়ে ওঠে। তারপর একদিন যদি সে নিজেকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে নেয়, আমরা খুব সহজে বলি, মানুষটা দুর্বল ছিল। একটু শক্ত হতে পারত। জীবনটা তার ছিল না যেন আমাদের ছিল! একটা মানুষ তখনই নিজেকে বিলিয়ে দেয়, যখন জীবন তাকে এমন কিছু দিয়ে দেয় যার ভার সে আর ঠিকমতো সামলাতে পারে না। আর সেই ভারটা যে আমরাও একটু একটু করে বাড়িয়ে দিয়েছি কি না, সেই প্রশ্নটা আমরা নিজেদের করি না। আমরা শুধু শেষ দৃশ্যটা দেখি, তার আগের প্রতিটা দিন দেখি না। অথচ মানুষের শেষ সিদ্ধান্তের আগে কতগুলো ছোট ছোট মৃত্যু ঘটে, সেগুলোর কোনো খবর আমরা রাখি না। আত্মসম্মান মরে, মানুষের ওপর বিশ্বাস মরে, নিজের ওপর বিশ্বাস মরে, কাছের মানুষগুলো একে একে দূরে সরে যায়, তারপর একদিন মানুষটা নিজেই নিজের কাছে অসহ্য হয়ে ওঠে। এটা আত্মহ’নন, নাকি আমরা তাকে ধীরে ধীরে সেখানে পৌঁছে দিয়েছি, আমি জানি না। তাই সুষ্ঠু তদন্ত চাই। শুধু এই ঘটনার না, এর সঙ্গে জড়িত প্রতিটি বিষয়ের। কারণ ধীরে ধীরে হ’ত্যা হয়তো সর্বনিম্ন স্তরের সত্য; কোনো কিছু না হলে এটাই সত্যি, কিন্তু এরচেয়ে বড় কিছু যদি থেকে থাকে, সেটাও সামনে আসুক। আর একটা কথা খুব বলতে ইচ্ছে করছে, নাকি দাঁড়িটুপি আছে বলে তদন্তও থেমে যাবে? শুনেছি আলেমের দোষ ধরতে হয় না, তারা নাকি গুনাহের ঊর্ধ্বে। আমাদের জন্য গান শোনা পাপ, মেয়েদের সঙ্গে কথা বলা পাপ, প্রেম করা পাপ, মেয়েরা ঘর থেকে বের হলে কত রকমের প্রশ্ন; কিন্তু ধর্মীয় পরিচয় আছে এমন কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে হঠাৎ আমরা খুব সাবধান হয়ে যাই, বলি, আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার। অবশ্যই নিশ্চিত হওয়া দরকার, সবার ক্ষেত্রেই। অভিযোগ উঠলেই কেউ অপরাধী হয়ে যায় না, আবার দাড়ি-টুপি থাকলেই কেউ তদন্তের ঊর্ধ্বে চলে যায় না। এই সহজ কথাটা আমরা কেন বুঝি না? ধর্মকে সম্মান করা আর ধর্মীয় পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা এক জিনিস না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্যি হলে তার বিচার হবে, মিথ্যা হলে সেটাও পরিষ্কার হবে, কিন্তু পরিচয়ের কারণে সত্যটাকে চার দেয়ালের মধ্যে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা কেন থাকবে? আমরা কি ধর্মকে এতটাই দুর্বল করে ফেলেছি যে একজন মানুষের অপরাধ প্রকাশ পেলে ধর্মের সম্মান নষ্ট হয়ে যাবে? বরং অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের সামনে দাঁড় করানোই তো ধর্মের ন্যায়বোধকে সম্মান করা। আর ওই মেয়েটার কথা বারবার মনে পড়ছে। জানি না সে কী চেয়েছিল, জানি না তার জীবনে কী ঘটেছিল, জানি না শেষ রাতে তার মাথার ভেতর কী চলছিল। শুধু এটুকু জানি, সে একজন মানুষ ছিল। আমাদের মতোই। তারও হয়তো কিছু স্বপ্ন ছিল, কিছু লজ্জা ছিল, কিছু ভুল ছিল, কিছু ভালোবাসা ছিল, কিছু না বলা কথা ছিল। আমরা তাকে সেসব কিছু থেকে আলাদা করে শুধু একটা ভাইরাল ঘটনা বানিয়ে ফেললাম। তারপর আবার প্রশ্ন করছি, খু’ন নাকি আত্মহ’নন? জানি না। সত্যিই জানি না। কিন্তু জানার জন্য তদন্ত দরকার, বিচার দরকার, একটু ন্যায়বোধ দরকার। আমাদের ফেসবুকের রায় না।

 ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/276368/</link>
				<pubDate>Sun, 20 Sep 2026 17:03:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>খু’ন নাকি আত্মহ’নন? </p>
<p>হয়তো ধীরে ধীরে হ’ত্যা করা হয়েছে তাকে। কে করেছে? আমরাই তো করলাম! দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আমাদের নৈতিক আপত্তি থাকতেই পারে, কোনো সম্পর্ক আমাদের মূল্যবোধের সঙ্গে না-ও মিলতে পারে, কিন্তু তাই বলে একটা মানুষকে প্রকাশ্যে টেনে এনে, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হাজার হাজার মানুষের সামনে ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-276368"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/276368/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">57d546d67faa9f7fc74884287cac8e85</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/260962/</link>
				<pubDate>Wed, 12 Aug 2026 22:06:27 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">404787448953369b97cbcbe96ec7b186</guid>
				<title>জামাতিদের ব্যর্থতা কোথায় জানেন?

সাহিত্যে এদের প্রভাব বিস্তারের যথেষ্ট ওয়ে আছে। কীভাবে সেটা বলি। এই ধরুন মতিউর রহমান মল্লিক; তার প্রখরতা বুঝতে গেলে যেকোনো কবিতা পড়াই যথেষ্ট। কিন্তু বাংলা সাহিত্যে তাকে তাঁর যোগ্যতা দেখানোর জন্য জামাতিরা কি রিপ্রেজেন্ট করতে পেরেছে? না, এরা শুধু সংগঠন সংশ্লিষ্ট কবিতা-গান ছাড়া অন্য টপিকে আগ্রহ বা তৎপরতা দেখায় না। নয়তো এরাই মেনে নিতো সাহিত্য স্বাধীন। মেনে নিতো আল মাহমুদের চিরায়ত রোমান্টিক কবিতাগুলোকে। মেনে নিতো প্রগতিশীলতাই সাহিত্যের ধর্ম।

কোনো লেখকের এতো গান-কবিতা আমি দেখি নাই, শুনি নাই; যতোটা এই মল্লিক সৃষ্ট কবিতা-গান শুনেছি, দেখেছি। তাই হলফ করে বলতে পারি তাঁকে এমন একজন মডেল বানানো যাইতো, যার প্রতিপত্তি বিস্তার অনায়াসে সাহিত্যকে গ্রাস করতো। না, করেনি। করার মতো যথেষ্ট যোগ্যতা তাঁর মধ্যে ছিল। কিন্তু তা আর হলো কই?

জামায়াতের ব্যর্থতা এইটুকু যে, তারা যথেষ্ট পরিমাণ সাহিত্যিক পেয়েও, সাহিত্যচর্চার প্লাটফর্ম পেয়েও তাদেরকে সর্বজনীন করে পাবলিশ করতে পারে নাই।

নয়তো আমার ধারণা, আল মাহমুদ, মল্লিক, আসাদ বিন হাফিজ এরাই কিন্তু ইসলামি সাহিত্যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

যারা জামায়াতের সমর্থক, এখন তাদেরকে প্রশ্ন করলে মল্লিককের ১০টির জায়গায় ২০টি গানের নাম বলে দিতে পারবে। কিন্তু কবিতার বেলায় তাদের জড়তা আসবেই আসবে। হ্যাঁ, আমি জানি গানের শ্লোক মানুষের মস্তিষ্কে খুব দ্রুত গেঁথে যায়। কিন্তু তিনি কি শুধুই গানের পাখি? তাঁর কবিতা কি তবে পাঠোপযোগী না? 

বাংলা সাহিত্য আন্দোলনের এইচআরএম বিভাগের একটা সভায় এই নিয়া কথা হলো। কোন ছাত্র সংগঠনের সাহিত্য বিভাগ শক্তিশালী? আমি বলে দিলাম, অবশ্যই ছাত্রশিবিরের। কারণ যেই সংগঠনের মল্লিকের মতো মানুষ ছিল, সিবগাতুল্লাহর মতো সাহিত্য সম্পাদক ছিল, আল মাহমুদ ও মাহফুজুর রহমান আখন্দ স্যারের মতো গুপ্ত সমর্থক আছে &#x1f609; (আমার সাহিত্যের টিচার হিসেবে) তাদের সাহিত্য বিভাগ নিয়া কোনো প্রশ্ন নয়। একজন মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট নেতার সামনেও আমি এইগুলা বলতে সংকোচ বোধ করি নাই। যা কিছু ঠিক, তা বলে দেওয়ার অবশ্যই দরকার আছে।

কিন্তু ‘সত্যনিষ্ঠ দলের প্রয়োজন’ আর ‘আদর্শ কীভাবে প্রচার করতে হয়’ এই নিয়া পইড়া থাকা দল কি কখনো ‘সাহিত্যের মাধ্যমে কীভাবে সমাজ প্রভাবিত হয়’ এই টপিকে আলোচনা করবে না? সাহিত্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়। এই ধরুন, আপনি আপনি কাদিয়ানীর বই পড়তে শুরু করলেন, কদিন পর দেখবেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সাথে আপনার অনেক বিভেদ তৈরি হয়েছে। কিংবা ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো আপনি আর ধরে রাখতে পারছেন না। একইভাবে শিয়াদের বই পড়লে শিয়া প্রভাবিত হবেন। নাস্তিক্যবাদের বই পড়লে নাস্তিকদের মতো চিন্তাশীল হয়ে উঠবেন। মানে সাহিত্য স্বাধীন। ভালো মন্দ যেকোনো অবস্থাতেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এখানে পাঠকের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য হলো আদর্শ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বিকাশের সাথে মনের সংযোজন করা। নয়তো যারা গোঁড়া পাঠক, তারা অনায়াসে যা পড়ে, তাই বিশ্বাস করে ফেলে। প্রভাবের দিক নিয়া আমার ব্যক্তিগত একটা দিক বলে দেওয়া উচিত। এই দেখুন না, আমি বাঙালি কিন্তু উর্দু সাহিত্যের আল্লামা ইকবাল, নসীম হিজাজি, এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ আমার ধর্মীয় চেতনায় এতটাই প্রভাব ফেলতে পেরেছে যে, আমি যতোই ধর্ম থেকে দূরে থাকি না কেন, এরা আমার মস্তিষ্কে ঈমানের রিচার্জ করে মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়। ফলাফল হয়ে কী, এইভাবে চলতে থাকলে একদিন ঈমানের মেয়াদ ফুরিয়ে একদম নাই হয়ে যেতো, কিন্তু যথাসময়ে রিচার্জের কারণে আমি সত্যিকারের খাঁটি মুমিন-মুসলিম থাকতে পারছি বলে আমার ধারণা।

দলীয় সমালোচনা খুব একটা করি না আমি। আমাদের দলগুলোর আত্মসমালোচনা কম, বিরোধীদের ভুল ধরতে মরিয়া, টিজ করতে ব্যস্ত। কিন্তু একটা জিনিস পরিষ্কার করতে পেরেছি আসা করি। সাহিত্যিকরা কখনোই কোনো দলের হন না। তারা জনমানুষের। দল শুধু ওতোটুই নেয়, যতোটুকু তার দরকার আছে; ওতোটুকোই গুরুত্ব দেয়, যতোটায় তার স্বার্থ চরিতার্থ করা যায়। 

আল্লাহ কবি মতিউর রহমান মল্লিকের কবিতাগুলোকে জান্নাতের ফুল বানিয়ে দিন, কারণ কবিরা ফুল পছন্দ করেন। বাহ্ রে, তিনি সেখানে থাকবেন আর ফুল থাকবে না তা হতে পারে নাকি!

প্রসঙ্গ: কবি মতিউর রহমান মল্লিকের সাহিত্যে প্রভাব ও বিস্তার
— মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা 
কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলা সাহিত্য আন্দোলন।
১২ আগস্ট ২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/260960/</link>
				<pubDate>Wed, 12 Aug 2026 21:57:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জামাতিদের ব্যর্থতা কোথায় জানেন?</p>
<p>সাহিত্যে এদের প্রভাব বিস্তারের যথেষ্ট ওয়ে আছে। কীভাবে সেটা বলি। এই ধরুন মতিউর রহমান মল্লিক; তার প্রখরতা বুঝতে গেলে যেকোনো কবিতা পড়াই যথেষ্ট। কিন্তু বাংলা সাহিত্যে তাকে তাঁর যোগ্যতা দেখানোর জন্য জামাতিরা কি রিপ্রেজেন্ট করতে পেরেছে? না, এরা শুধু সংগঠন সংশ্লিষ্ট কবিতা-গান ছাড়া অন্য টপিকে আগ্রহ বা তৎপরতা দেখায়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-260960"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/260960/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">975a75687e9e16f5f5b549930c79578d</guid>
				<title>মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/239438/</link>
				<pubDate>Thu, 19 Mar 2026 14:47:40 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>