Profile Photo

তিতা ফুলOffline

  • nadia1
  • Profile picture of তিতা ফুল

    তিতা ফুল

    • 1 month ago

    “প্রেমে পড়েছো বুঝি?”

    আবরারের এমন প্রশ্নে থতমত খায় মেয়েটা।এ আবার কেমন প্রশ্ন?ভালো হবে না এই ছেলে। কাকে ভালো বলছিলো ও এতক্ষন! এ তো আস্ত একটা পাজি।এদিকে ওর থেকে কোন জবাব না পেয়ে হাসি আরো গাঢ় হয় তার। মেয়েটাকে লজ্জায় ফেলতে ভালোই লাগে বেশ।জানে এখন আর কোন কথা বলবে না বউ তার।তাই নিজে থেকেই প্রশ্ন করে ফের,

    “কি ম্যাডাম? কোন দুনিয়ায় হারিয়ে গেলেন?এইযে, এখানে আমি!”

    “ আপনি কি জানেন?”

    “কি?”

    “আপনি একটা প্রচুর খারাপ মানুষ।”

    বলেই মুখ ঝামটা মেরে দোলনা থেকে উঠে রুমে চলে যায় মেয়েটা। এদিকে ওর অমন প্রতিক্রিয়ায় হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ ছেলেটার।
    –
    –
    –

    পরদিন শুক্রবার, ছুটির দিন থাকায় বাসায় ছিল আবরার। দুপুরের পর বেরিয়েছিল, এসেছে একেবারে সন্ধ্যার পর। হাতে ভারী ব্যাগ একটা।প্রশ্ন করার আগেই উত্তর পেয়ে যায় ইন্তিহা।

    “ বই এনে দিয়েছি, পড়াশুনা শুরু করবে আজকে থেকে।”

    অবাক হয় মেয়েটা। কোনমতে টেনেটুনে অনার্সটা শেষ করেছে নাহয়। ভাইয়ের জোরাজুরিতে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছিল যদিও, তবে পড়ার ইচ্ছা একদমই ছিল না তার। আবরারের সাথে বিয়ে হওয়ার পর তো আরও বেশি না। বিয়ের পর ওবাড়িতে গিয়ে বই খাতা কিচ্ছু আনে নি। একপ্রকার হাওয়ায় উড়ছিল পড়াশুনা শেষ ভেবে।এখন আবার এসব কি দেখতে হচ্ছে!

    “ কিসের বই, কার বই, আর আমাকে বলছেন কেন?”

    ইন্তিহার প্রশ্নে করতে দেরি, তবে ওপাশ থেকে জবাব আসতে দেরি হয় না।

    “মাস্টার্সের বই, আপনার বই, আর আপনি পড়বেন, তাই আপনাকে বলছি, আর কিছু?”

    থতমত খায় মেয়েটা।ওর তো মনেই ছিল না যে, লোকটা একটা ডিগ্রি করা পাজি। তার সাথে এসব ছলচাতুরি চলবে না।একটু ভেবে চিন্তে ফের প্রশ্ন করে মেয়েটা,

    “ কিন্তু আমি তো বই কিনেই রেখেছি ওই বাড়িতে। আপনি আবার নতুন করে কিনে লস করে ফেললেন না?”

    “ উফফ বউ, এত্ত ভাবো তুমি আমাকে নিয়ে?আমার মনটা খুশিতে নেচে উঠলো গো। তবে তুমি জেনে খুশি হবে যে, এগুলো তোমারই বই। আমি হাসিবকে দিয়ে কুরিয়ার করে আনিয়েছি, তোমাকে সারপ্রাইজ দিবো বলে।এখন বলো, সারপ্রাইজটা কেমন হয়েছে, বউ?”

    আবরারের কথা বলার ভঙ্গিমা দেখে ভেতরে ভেতরে শরীর জ্বলে উঠে ওর। লোকটাকে তো এমনি এমনি হাড়ে বজ্জাত বলে না সে। অভিনয় দেখো, এ তো বাংলা ছায়াছবি করার কথা, এখানে কি করছে! নাহ, এভাবে বললে হবে না, সব প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে লোকটা আজ।ইন্তিহা এবার লজ্জা পাওয়ার ভান করে। অভিনয় কি ও কম জানে নাকি?

    “ শুনুন না!”

    “হ্যাঁ, বলুন না!”

    “ আরে ধুর, শুনবেন তো আগে?”

    “জি জি, বলুন প্রিয়তমা!”

    “বলছি, এখন তো আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে তাই না?”

    “একদম ভুল বললে প্রিয়তমা।এখন না, দুই মাস আগে!”

    হাসি মুছে যায় মেয়েটার মুখ থেকে। মানে, অভিনয়টাও কি ঠিকঠাক করতে দিবে না নাকি?রাগ না করে অভিনয় পুনরায় চালিয়ে যায় সে।

    “ যাই হোক, বলছি বিয়ের পর আবার কিসের পড়াশুনা বলুন? বিয়ের পর মানুষ সংসার করে, বাচ্চা সামলায়, ঘুরতে যায়। এতসবের মধ্যে পড়াশুনা করার সময় আছে নাকি? তাছাড়া আমাকে দিয়ে আপনি চাকরি করাবেন নাকি, যে এতো পড়াশুনা করতে হবে? তারচেয়ে বরং এক কাজ করি, আমরা কোথাও ঘুরতে যাই, কি বলেন?”

    ইন্তিহার কথা বলার ধরন পাল্টে যাওয়ার সাথে সাথেই অবশ্য ওর উদ্দেশ্য ধরে ফেলেছে ছেলেটা। তবুও ওর সাথে তাল মিলিয়ে কথা বলছিল এতক্ষন। জানতো, বউ তার ভীষণ পড়াচোর।তবুও সুযোগ যখন পেয়েছে, হাতছাড়া করা কি ঠিক হবে? অন্তত আবরারের জন্য তো একদমই না।

    “ আমিও তাই বলি।অযথা এসব পড়াশুনা কে করে বলো তো? একেবারে বেকার জিনিস।তা, সংসারী বউ আমার, যা বলছো ভেবে বলছো তো? মানে পরে কান্নাকাটি করে পস্তাবে না তো আবার?”

    শেষের কথাটা নিচু স্বরে বলে সে। ইন্তিহা ঢোক গিলে। কার সাথে কথা বলছে ও? এ- তো ওর থেকে দশ কাঠি উপরে। নাহ, এসব অভিনয় করে লাভ নাই কোনো। শেষে দেখা যাবে কি-না-কি বলে বসবে বজ্জাত লোকটা। মান সম্মানের ব্যাপার-সেপার।গলা ঝেড়ে অভিনয় বাদ দিয়ে সিরিয়াস হয় সে। বিষয়টা আলোচনায় আগানো দরকার।

    “শুনুন।”

    “বলুন?”

    “ আমি সিরিয়াস।”

    “আমিও”

    “আমি কিন্তু পড়াশুনা করতে চাই না আর।”

    “ আমি কখন বললাম পড়তে?আগেই তো বললাম, চলো সংসার করি।চলো চলো, দেরি হচ্ছে তো।”

    দুঃখে কপাল চাপড়াতে ইচ্ছে হচ্ছে মেয়েটার। এ কেমন অত্যাচার! লোকটা কি ভালো হবে না একটুও? হাতে থাকা চায়ের কাপটা শব্দ করে রাখে সে টেবিলের উপর। রাগে নাক ফুলিয়ে চলে যেতে নিলে সামনে দাঁড়িয়ে আটকায় ছেলেটা।

    “ আরে আরে যাচ্ছো কোথায়? সংসার তো শুরুই করলাম না এখনো!”

    “আপনার সাথে কথা নাই কোনো! সবসময় এমন করেন আপনি!’

    ‘’আরে তুমি রেগে যাচ্ছ কেন বলো তো? আচ্ছা ঠিক আছে, বলো এবার। মজা করছি না, বলো।’’

    “আমি পড়বো না আর।”

    “ কারন?”

    “পড়তে ভালো লাগে না আমার।”

    “কি করতে ভালো লাগে তোমার?”

    “আবার!”

    “ আরে আমি তো প্রশ্নই করলাম। আচ্ছা, বলো পড়তে কি সমস্যা?”

    “সমস্যা নাই কোনো। এমনিই,, ভালো লাগে না।তাছাড়া আমি চাকরি করতে চাই না। এতো পড়ে কি হবে আর?”

    আবরার সিরিয়াস হয়।চেয়ার টেনে বসে ওর সামনে। দুহাত ধরে বোঝানোর ভঙ্গিতে বলে,

    “দেখো, শুধু মাস্টার্স টা শেষ করে রাখো।এরপর তো শেষ। মাত্র একটা বছরেরই তো ব্যাপার। দেখতে দেখতে কেটে যাবে।তাছাড়া, চাকরি তো আমি করাবো না তোমাকে দিয়ে। কিন্তু যোগ্যতাটুকু অর্জন করে রাখো। আল্লাহ কখন কাকে কোন পরিস্থিতিতে ফেলেন, কেউই জানি না আমরা।অন্তত ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য কারো কাছে হাত যেন পাততে না হয়, এটুকুই চাই আমি।”

    “আপনি এসব কথা বলছেন কেন? আপনি থাকতে আমি চাকরি কেন করবো? তাছাড়া আপনাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না আমি।”

    হাসে ছেলেটা। প্রাণহীন হাসি। বোকা মেয়েটা কিনা ছেড়ে যাওয়ার কথা পর্যন্ত ভেবে ফেলছে! দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তাকায় প্রেয়সীর পানে। বোকা চাহনিতে চেয়ে থাকা মেয়েটা যে বোঝে না চোখের ভাষা।

    “ধরো, আমি গুরুতর অসুস্থতায় পড়লাম, কিছু করার সামর্থ্য হারালাম। আল্লাহ পরীক্ষা করলেন আমাদের। ওই সময় কি করবে তুমি? অন্য কারো উপর নির্ভরশীল হবে, নাকি নিজের যোগ্যতায় কিছু করবে, আমার পাশে থাকবে শেষ পর্যন্ত? বলো?”

    “ আপনি আজ এসব কি ধরনের কথা বলছেন? ভালো লাগে না আমার।”

    “ আরে মন খারাপ করছো কেন? আমি কি বলেছি এমন হবেই? শুধু ভাবতে বলেছি, এমন যদি কখনো হয়ও, কি করবে তুমি তখন?”

    “ অবশ্যই আপনার পাশে থাকবো! ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।”

    “ তো তখন কিভাবে থাকবে আমার পাশে? সংসার চালাবে কিভাবে? কিছু তো একটা করতে হবে তাই না?”

    “হ্যাঁ, করবো।”

    “কি করবে?”

    ‘চাকরি করবো’ কথাটা বলতে গিয়েও থেমে যায় সে।এতক্ষন তো চাকরি করবে না বলে পড়াশুনা বন্ধ করে দিবে বলে বলছিলো। এখন কিভাবে বলবে চাকরি করার কথা। ওর চুপ থাকা দেখে হাসি ফুটে উঠে ছেলেটার মুখে।

    “ এবার বলো, পড়বে না?”

    “কিন্তু এসব কথা আপনি বলবেন না আর। আমার কান্না পায়!”

    ধক করে উঠে ছেলেটার বক্ষপিঞ্জর।ওর নত মুখটা উপরে তুলে তাকায় চোখের পানে।

    “ একটা সত্যি কথা বলবে?”

    “কি?”

    “ভালোবাসো আমায়?”

    পুনরায় মাথা নিচু করে ফেলে ইন্তিহা।এই প্রশ্নের উত্তর যে নেই ওর কাছে! ওর চুপ থাকা ছেলেটার বুক পুড়ায়। ভালোবাসা কি আর বলে বোঝানোর জিনিস? প্রসঙ্গ বদলায় আবরার।

    “ আচ্ছা বাদ দাও। এখন বলো, মাস্টার্সটা শেষ করবে তো?”
    মাথা নেড়ে হ্যাঁ বোঝায় ইন্তিহা। স্বস্তির শ্বাস ছাড়ে ছেলেটা।

    “ঠিক আছে, কালকে থেকে সন্ধ্যার পর আমার কাছে পড়তে বসবে এক ঘণ্টা করে।”

    “আপনি পড়াবেন আমায়?”

    অবাক হয় ইন্তিহা।ওর অবাকতা দেখে হঠাৎই হেসে ফেলে ছেলেটা।

    “ কেনো, পড়াতে পারবো না আমি?”

    “না, সেটা বলিনি। আমি তো নিজেই পড়তে পারবো।”

    “পারবে, পড়বে না তো আর!”

    লজ্জা পায় মেয়েটা।ভুল বলে নি আবরার। আজ না, কাল- বলে বলে আর পড়তে বসা হয় না। শেষে পরীক্ষার আগে দিয়ে অবস্থা খারাপ হয়।

    “আচ্ছা, বসুন আপনি। আমি কিছু একটা নিয়ে আসি আপনার জন্য।”

    “লাগবে না। বসো তুমি এখানে। “

    “আরে পাঁচ মিনিট লাগবে। বানানো আছে, শুধু নিয়ে আসবো। বসুন তো।”

    এবার আর না করে না আবরার। ইন্তিহা চলে যেতেই বারান্দায় যায় সে। সন্ধ্যার সময়টায় গরম একটু কম লাগে সারাদিনের তুলনায়। আর বৃষ্টিমুখর আবহাওয়া হলে তো কথাই নাই।সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায় এক নিমেষেই।
    কিছুক্ষনের মধ্যেই হাতে ট্রে নিয়ে বারান্দায় আসে ইন্তিহা। নুডলস, সস, সাথে এককাপ চা। আবরার দুধ চা পছন্দ করে খুব।ট্রে-তে চায়ের কাপ একটা দেখে প্রথম দিনের কথা মনে পড়ে যায় ছেলেটার। মাথায় দুষ্ট বুদ্ধিগুলো নাড়াচাড়া দেয়।চায়ের কাপ হাতে নিয়ে প্রশ্ন করে সে,

    “ তোমার মনে আছে, প্রথমবার তোমাদের বাড়িতে গিয়ে যখন আমার জন্য চা এনেছিলে, সে সময় আমি কি করেছিলাম?”

    “ কি করেছিলেন?”

    “ মনে নাই?”

    “কিসের কথা বলছেন?”

    চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে মুচকি হাসির রেখা ফুটে উঠে ছেলেটার ঠোঁটের কোনে।বউটা তার এতো বোকা কেনো? কিচ্ছু বুঝে না। নাকি বুঝেও না বুঝার ভান করে, কে জানে!

    “ আচ্ছা, তুমি চা খাও না কেন?”

    “ মজা না।স্বাদ বুঝি না আমি।”

    “কি বলো? চায়ে স্বাদ পাও না তুমি?এটাও কোনো যুক্তি হলো?”

    “ অতশত বুঝি না আমি। ভালো লাগে না আমার, ব্যাস। তাছাড়া চা তো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও।আপনার উচিত চা খাওয়া ছেড়ে দেয়া।”

    “ অসম্ভব! চা খাওয়া ছাড়বো, তাও আমি? ভাবতে পারলে কিভাবে?বুক কাঁপলো না তোমার?”

    “ আশ্চর্য! মানে, আপনি কি?”

    “কি আমি?”

    চুপ হয়ে যায় মেয়েটা। কথা বলে পারা যাবে না এই লোকের সাথে।তারচেয়ে বরং চুপ থাকাই ভালো।

    “ কি হলো, বললে না তো?”

    “কি বলবো?”

    “ কি আমি?”

    “ আপনি মানুষ।”

    “ আর?”

    “ আর কি?”

    “ তোমার স্বামী যে, সেটা বলবে না?”

    “আপনি কি কথা একটু কমিয়ে বলতে পারেন না?”

    “ ছি বউ! আমি না তোমার আপন স্বামী? এমন কথা বলতে পারলে তুমি?”

    “ খুবই দুঃখিত অনুভব করছি, বড় ভুল হয়ে গেছে আমার। এবার কি অনুগ্রহ করে থামতে পারেন আপনি?”

    “ জী অবশ্যই, তবে একটা শর্ত আছে।”

    “ কি শর্ত?”

    “ আমার কাপ থেকে এক চুমুক খেতে হবে চা। আমি একদম ভালো হয়ে যাবো, একটা কথাও বলবো না।”

    “ পাগল না আমি। আপনার প্লান বুঝে গেছি। আমাকে কেনো খাওয়াতে চান, খুব ভালো করেই জানি আমি।”

    বিষম খায় ছেলেটা। বলে কি এই মেয়ে? এ তো সাংঘাতিক ব্যাপার সেপার।

    “ কি বলো, জেনে গেছো? “

    “ হ্যাঁ, কি ভেবেছেন? আমি কিছু বুঝি না? এসব বোঝা আমার এক মাথার খেল!”

    “ এক মাথার খেল! যাই হোক, কি বুঝেছো সেটা বলো আগে। “

    “ আপনি…”

    “ হ্যাঁ, বলো? কি আমি?”

    (চলবে)
    _________________________

    তোমার আকাশ আমার মেঘ
    পর্ব-১২
    -তিতা ফুল

    7
    5 Comments
    • আপনার লেখাটা পড়ে একদম মুগ্ধ হয়ে গেলাম, আবরার আর ইন্তিহার খুনসুটিগুলো যেন বাস্তব জীবনের কোনো গল্পের মতো মনে হচ্ছে!

    • লেখাপড়া, চাকুরি – এইসব বাস্তবিক বিষয় আশয়ের গভীরে দিয়েও বয়ে চলেছে মানবিক ভালোবাসা। বেশ ভালো লাগল।

    • খুনসুটির আড়ালে দায়িত্ব, অভিমানের আড়ালে ভালোবাসা—ইন্তিহা ও আবরারের সম্পর্কটি ধীরে ধীরে দারুণ মায়াময় হয়ে উঠছে।

Friends

Profile Photo
Md.Mohsin Ali
@fivertrading007gmail-com
Profile Photo
Redowan Hussain
@redowanhussain
Profile Photo
নৈশান
@noishan
Profile Photo
Hashem Molla
@hashemmolla
Profile Photo
Kazi Mahabubur Rahman
@kazimahabuburrahman
Profile Photo
mithila jannat
@mithilajannat
Profile Photo
Sk Sagor
@sksagor
Profile Photo
Md. Ashraful Alam
@md-ashrafulalam
Profile Photo
Fazilatun Nesa
@fazilatun-nesa
Skip to toolbar