-
প্রিয় তুহিন,
আজ তোমার এবং আমার জীবনের অনেক আনন্দের একটা দিন।
আজ তোমার বড় ছেলে আদিত্য এর এস,এস,সি এর রেজাল্ট বের হয়েছে , সে জিপিএ ৫ পেয়েছে।
কত স্বপ্ন ছিলো আমাদের! আজকের দিনটাকে ঘিরে।
কিন্তু সব স্বপ্ন কি পূরণ হয়?
কথা ছিলো তুমি ওকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যাবে, ঠিক যেমনটা পিএসসি পরীক্ষায় নিয়ে যেতে।যদিও পিএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ছিলো একদম আমার অফিসের পাশেই।
তবু্ও আমি যেতে পারি নাই , কারণ আমার তখন অফিসের বাহিরে যেতে হয়েছিলো।
যেদিন ওর পিএসসি র রেজাল্ট বের হয়, সেদিন আমি পাইকপাড়া সেন্টার এ ছিলাম। তুমি আমাকে ফোনে রেজাল্ট জানিয়েছিলে, আমি তখন ছুটি নিয়ে বাসায় চলে এসেছিলাম।
এরমধ্যেই তুমি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছো, বাহিরে থেকে বিরিয়ানি নিয়ে এসেছিলে, কি যে হুলুস্থুল শুরু করেছিলে!
এস,এস,সি পরীক্ষার কেন্দ্র ছিলো গণভবণ সরকারী বিদ্যালয় এ।
প্রতিটি পরীক্ষায় আমি ওকে সাথে করে নিয়ে গিয়েছি, ও পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকার পরে রাস্তার পাশে বসে অপেক্ষা করেছি।
আমি তোমার ছেলেকে বলে দিয়েছিলাম – আল্লাহ না করুন ,তারপরেও যদি আমি কোন দূর্ঘটনায় পড়ি, তবে যেন ও আমার কথা চিন্তা না করেই পরীক্ষা দিতে চলে যায়।কারণ কেউ না কেউ আমাকে সাহায্য করতে আসবে, কিন্তু ওর পরীক্ষার সময়ে ঠিক মত না যেতে পারলে পরীক্ষা দিতে পারবেনা।
জানি তুমি এই কথা শুনলে আমার উপর রাগ করতে।
কিন্তু আমার অবস্থাটা একবার বুঝার চেষ্টা করলে বুঝতে পারবে- কত কিছু মাথায় নিয়ে আমাকে চলতে হয়!
কারণ আমি যে একা। তুমি যে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে সেটা কি আমরা কেউ স্বপ্নেও ভেবেছিলাম? তেমনি আমারও তো কিছু হয়ে যেতে পারে, তখনও যেন ওরা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে।
তুমি থাকলে ওর জন্য যেগুলো করতে আমি তা হয়তো করতে পারিনি , তবে আমি চেষ্টা করেছি।
তুহিন , বাবা ছাড়া সন্তানদের মানুষ করা অনেক কঠিন।
বিশেষ করে ছেলেদেরকে।সারাদিন আমি অফিসে থাকি, আমার পক্ষে ওকে সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এরপরও যতটুকু সম্ভব ও কি করছে, কার সাথে মেলামেশা করছে? এগুলো চেষ্টা করেছি খোঁজ নিতে।স্রোত এর বিপরীত এ সাঁতার কাটা সহজ নয় , তাই এ যুগের ছেলেদের জন্য যে গুলো দরকার আমি সেগুলো দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমার সাধ্যমত।
আমি জানি তুমি থাকলে রেহান আরও ভালো রেজাল্ট করতো।
তুমিতো জানো যে, আমি শাসন করতে পারি না। আর ওরা আমাকে একটুও ভয় পায় না।
গতকাল রাতে থেকে আমি ভীষন ভয়ে ছিলাম, কি হবে ওর রেজাল্ট? ও সেটা কিভাবে গ্রহণ করবে?
তোমার ছেলে তোমার কিছু কিছু গুণ পেয়েছে , তার মধ্যে আছে- আবেগ , অনুভূতি প্রকাশ না করা। এই কারণে ই আমি চিন্তায় ছিলাম।
আজ সকালে ও আমাকে বললো- তুমি রেজাল্ট দেখো। আমি বললাম- নাহ, তুমিই রেজাল্ট দেখবে।
ও রেজাল্ট দেখে ছুটে এসে আমাকে দেখালো, আলহামদুলিল্লাহ। কি যে আনন্দ হলো আমার!
লেখাটি কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।
আজ এখানেই শেষ করছি।
ইতি
তোমার আমি।
২৮/০৭/২০২৩3 Comments
Friends
Hasina Sultana Rima Rima
@hasinasultanarimarima
আনিকা মারজান ইরা
@anikamarjanera
Marketing Online
@marketingonline
Munmun Chakraborty
@munmunchakraborty
Md Babul Hossain
@mdbabulhossain
আনিকা ইসলাম হৃদিতা
@hridita
আয়মন সিদ্দিকা উর্মি
@asurmi85
Song For Peace
@songforpeace
Sahriar Rubaiat
@sahriarrubaiat


বাহ্ আনন্দ আর গভীর ভালোবাসায় মেশানো চিঠিখানি পড়ে খুব ভালো লাগলো!
“গণভবণ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়” নামটি আমার ভীষণ চেনা, নামটি দেখা মাত্র অজস্র স্মৃতি আর রঙ্গীন একটা শৈশব চোখের সামনে ভেসে উঠল!