-
একটা সিনেমা নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশে হাইপ উঠেছে খুব। হাইপ উঠার মূল কারণ যে শুধু সিনেমাটা, আমি তা বলবো না। অন্তত আমার এটা মনে হয়নি। আমার মনে হয়েছে, সিনেমাটা যতটা না সিনেমার জন্য, তার চেয়ে বেশি মার্কেটিং পলিসির জন্য হাইপ উঠাতে পেরেছে।
বলছিলাম রাঁধুনি নিবেদিত হাওয়া সিনেমাটির কথা।
সুকর্ণ শাহেদ ধীমানের সংলাপে, মেজবাউর রহমান সুমনের রচনা ও পরিচালনায় মুভিটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরীফুল রাজ, নাসিরুদ্দিন সহ অনেকেই।
মুভির গল্পটার আইডিয়াটা যে বেহুলা-লক্ষিন্দরের গল্প থেকে নেয়া হয়েছে একথা সত্য তবে বেহুলা-লক্ষিন্দরের গল্পের সাথে “হাওয়া”র গল্পের কোন মিল নেই। সত্যি বলতে হাওয়া মুভির গল্পটা আসলে কতটুকু গল্প সেটাই আমার কাছে কনফিউজিং মনে হয়েছে।
যাক গে, গল্পে পরে আসছি, আগে হাওয়া মুভিটা নিয়ে হাইপ উঠার সম্ভাব্য কারণগুলো বিশ্লেষণ করা যাক।
হাওয়া মুভিটার প্রমোশনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে রাঁধুনি কোম্পানী। তাদের নিবেদিত এই ছবিটির প্রচারে তারা প্রচুর পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে। ইউনিভার্সিটিগুলোতে কুইজ ক্যাম্পেইন করেছে, ফেসবুকে কুইজ ক্যাম্পেইন করেছে, প্রত্যেকটা জায়গায় তারা হাওয়া এবং রাঁধুনিকে যুগপত ভাবে উপস্থাপন করেছে। ব্যবসায়ীক একটা প্রতিষ্ঠানের পুরোদস্তুর ব্যবসায়ীক ছবি, ব্যবসায়ীক চিন্তা-ভাবনায় কমার্শিয়াল মার্কেটিং পলিসি পুরোপুরিই কাজে লাগিয়েছে তারা। তাই ছবি যেমনই হোক, ছবিটাকে যেন ভালো বলতেই হয়, তার সব পদ্ধতিই তারা গ্রহণ করেছে।আরেকটা বিষয় হচ্ছে, নবাগতা তুষিকে তারা পরিচিত করে তুলছে এই মুভির প্রমোশনাল প্রোগ্রাম আর বিশেষ প্রদর্শনী গুলোর মাধ্যমে। আমি যখন ব্লকবাস্টার সিনেমা’স এ মুভিটি দেখতে গেলাম, তখনও সেখানে উৎসব স্ক্রীণে “হাওয়া” মুভির বিশেষ প্রদর্শনী চলছিল, যেখানে তুষি এসেছিল এবং সাথে সাদা সাদা কালা কালা গানের গীতিকার হাশিম মাহমুদও এসেছিলেন, কিন্তু চঞ্চল চৌধুরী আসেন নি, দরকারও ছিলো না, কারণ তিনি ইতিমধ্যেই পরিচিত সবার কাছে।
হাজার খানেক ফ্রি টিকেট দিয়েছে বিভিন্ন ক্যাম্পেইনে, যেখানে আলোচনা হয়েছে শুধুই হাওয়া এবং রাধুঁনি নিয়ে। এত বেশি তারা আলোচনা করেছে যে, মানুষ অবচেতন মনেই হাওয়া মুভি ও রাঁধুনির কথা আরো একবার শুনেছে। হিউম্যান সাইকোলজি অনুযায়ী বারবার রাঁধুনীর নাম শোনার কারণে মানুষ বাজারে গিয়ে মশলার প্যাকেট কেনার সময় অবচেতন মনেই কিনবে রাধুঁনী মশলার প্যাকেট, কোন সিনেপ্লেক্সে মুভি দেখতে গেলে অবচেতন মনেই পছন্দের প্রথমে রাখবে হাওয়া মুভিকে।
1.25 কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা মুভিটা ইতিমধ্যেই 7.12কোটি টাকারও বেশি উপার্জন করে নিয়েছে, এটা কিন্তু তাদের মার্কেটিং পলিসির জন্যই।এবার আসি সিনেমার গল্পে। যদি অল্প কথায় গল্পটা বলতে চাই বা হাওয়া মুভিতে কী আছে বলতে চাই তাহলে ৬টি বাক্যই যথেষ্ট।
1. বন্দর থেকে সাগরে জেলে নৌকায় যাওয়া।
2. জেলে নৌকায় জেলেদের মাছ ধরা ও কয়েকটি নৌকা একসাথে হয়ে গান-বাদ্য করা।
3. কিছু বেশি লাভের জন্য জেলেদের মাছ চুরি।
4. মাছের জালে নারীর দেহ।
5. এক নারীর জন্য জেলে নৌকায় নানান ঘটনা ঘটা।
6. স্বার্থের জন্য জেলেদের মাঝে পরস্পর খুনোখুনি।
এখানেই মুভির গল্প শেষ।মুভিতে দুইটা বিষয় গভীর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে।
1. পুরুষ চরিত্রের অন্ধকার দিক।
2. সাগরের জেলেদের মাঝে জেঁকে বসা কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিশ্বাস।মুভির সিনেমাটোগ্রাফী, চরিত্রগুলোর অভিনয়, নতুন হয়েও তুষির চরিত্রে রহস্যময়তা ফুটিয়ে তোলার কাজ, সাউন্ড কোয়ালিটি, কালার গ্রেডিং নিয়ে কোন কথা হবে না, চমৎকার এবং এতই চমৎকার যে, আমি 10 এর মধ্যে 10ই দিবো। একটা স্ক্রীণেই পুরো মুভিটাকে শেষ করে দেয়া এই চমৎকার কাজের জন্য তারা ফুল মার্কস পেতেই পারে।
যে বিষয়গুলো খারাপ লেগেছে, তার মধ্যে বলা যেতে পারে অতিরিক্ত পরিমাণ আঞ্চলিক গালাগালি ও বাজে ভাষার প্রয়োগ, ছোট একটা স্টোরিকে টেনেটুনে লম্বা করার প্রবণতা, মানুষরূপী সাপ এর মতো আজগুবি বিষয়কে সত্যের মতো করে উপস্থাপন করা, এন্ডিং এ কোন ইউনিকনেস না থাকা।
সব মিলিয়ে মুভিটি ভালো লাগবে এটা ঠিক কথা, যদি আপনি কোন সিনেপ্লেক্সে বসে দেখেন। স্মার্টফোন বা পিসিতে দর্শক ধরে রাখার মতো মুভি “হাওয়া” নয় বলেই আমার মনে হয়েছে।
যা হোক, মুভিটিতে যারা কাজ করেছেন, সবাই যে খুবই পরিশ্রম করেছেন, তা বুঝাই যায়। মুভিটির সকল কলা-কুশলীকে তাই ধন্যবাদ দিতেই হবে।2 Comments
Friends
Kazi Adam
@kaziadam
রেদোয়ান আসিফ রিসান
@redoanasifrisan
bithy 123 bithy
@bithy123bithy
Emon Rahman
@emonrahman
Ashaduzzaman-Khokon
@ashaduzzaman-khokon
Fatima Sadia
@fatimasadia
শাহাদাতুর রহমান সোহেল
@sr-sohel
মোঃ আরিফুল ইসলাম
@ammouriful
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron


খুব ভালো লাগলো আপনার রিভিউটি জেনে। হাওয়া সিনেমাটি নিয়ে আমিও বেশ আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু সময় ও সুযোগ সবসময়ের মত এবারো হয়ে ওঠেনি। অনেকের কাছে মুভিটি নিয়ে অনেক কিছু শুনে দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম ইতিমধ্যে।