Profile Photo

Sadia AnonnaOffline

  • sadiaanonna
  • Profile picture of Sadia Anonna

    Sadia Anonna

    3 hours, 45 minutes ago

    তোমাকে_ভালোবাসা_নিষেধ
    লেখিকাঃLittle_Miss_Danger
    পর্ব — ০২
    আধীরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। কোলে কোকো। কিন্তু তার মনটা যেন একেবারেই এখানে নেই।
    বারবার বাবার কিছুক্ষণ আগের মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে।
    এমন করল কেন বাবা?
    একটা সাধারণ ছবি দেখেই মানুষ এতটা বদলে যেতে পারে?
    আধীরা কোকোর মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে আবার ভাবল।
    ছবিতে তো চারজন ছিল।
    ছোট মেয়েটা হতে পারে পিশি—অনন্যা।
    আর তিনজন ছেলের মধ্যে একজন বাবা, একজন কাকা প্রীতম।
    কিন্তু তৃতীয়জন?
    কে সে?
    কোনো বন্ধু?
    কোনো আত্মীয়?
    নাকি—
    বাবার খুব কাছের কেউ?
    কোকো হঠাৎ আধীরার কোল থেকে মুখ তুলে তার দিকে তাকাল।
    আধীরা মৃদু বিরক্ত হয়ে বলল,
    — “তুইও জানিস না, তাই না?”
    কোকো চুপচাপ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
    আধীরা আবার দূরের আকাশের দিকে তাকাল।
    ছবিটার কথা যতই ভুলে থাকার চেষ্টা করছে, ততই যেন প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরছে।
    ছোট মেয়েটা পিশি হতে পারে।
    একজন কাকা প্রীতম হতে পারে।
    একজন বাবা রাজীব হতে পারে।
    কিন্তু—
    ওই আরেকজন কে?
    আর সবচেয়ে বড় কথা—
    তাকে দেখেই বাবা এমন ব্যবহার করলেন কেন?
    আধীরা কিছুতেই উত্তরটা খুঁজে পেল না।
    আধীরা আর বেশি কিছু ভাবল না। ছোট্ট মাথাটা আর খাটিয়ে কী হবে? হয়তো সত্যিই ছবিতে থাকা মানুষটা বাবার কোনো বন্ধু, কিংবা দূরসম্পর্কের আত্মীয়।
    নিজেকেই বোঝাল,
    — “এত ভাবার কী আছে! বাবা যখন বলতে চায়নি, নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে।”
    ব্যাপারটা আপাতত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে আধীরা বই খুলে বসে গেল।
    কাল তার ICT পরীক্ষা।
    আর এই ICT বিষয়টাই তার কাছে ভীষণ বিরক্তিকর লাগে। SSC-তে ICT বইটা কত ছোট ছিল, পড়তেও বেশ সহজ লাগত। কিন্তু কলেজে উঠে মনে হয়, ICT বইটা যেন আস্ত একটা উপন্যাস! যত পড়ে, ততই মনে হয়—শেষই হচ্ছে না।
    আধীরা বিরক্ত মুখে বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে পড়ায় মন দেওয়ার চেষ্টা করল।
    কোকোও কিছুক্ষণ আগে তার পাশে এসে গোল হয়ে শুয়ে পড়েছে।
    ঘড়ির কাঁটা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলল।
    রাত ঠিক ৯টা।
    বাংলাদেশে তখন রাত।
    আর হাজার হাজার মাইল দূরে, New York City-তে তখন সকাল ১১টা।
    শহরের ব্যস্ততা তখন চরমে। উঁচু উঁচু skyscraper-এর ফাঁক দিয়ে সকালের রোদ এসে পড়েছে বিশাল এক penthouse-এর বারান্দায়।
    বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে একজন পুরুষ।
    এক হাতে ধোঁয়া ওঠা coffee mug, অন্য হাতে কানে ধরা phone। পরনে সাদা shirt, হাতার অংশটা কনুই পর্যন্ত গুটানো। বাতাসে সামান্য এলোমেলো হয়ে আছে তার কালো চুল।
    আর তার নীল চোখজোড়া—
    দূরের শহরের দিকে স্থির।
    চোখে কোনো ব্যস্ততা নেই, নেই কোনো অস্থিরতা। বরং সেই দৃষ্টিতে এমন এক অদ্ভুত শীতলতা, যা দেখে তার অভিব্যক্তি দেখে বোঝা বড় কঠিন।
    ওপাশ থেকে কেউ একটানা কিছু বলে চলেছে।
    শিবাংশ এতক্ষণ নিশ্চুপ।
    শুধু coffee-তে ধীরে ধীরে চুমুক দিচ্ছে আর শুনছে।
    কিছুক্ষণ পর তার কণ্ঠ ভেসে এলো—
    — “Are you done?”
    ওপাশে সঙ্গে সঙ্গে নীরবতা।
    শিবাংশের দৃষ্টি তখনও শহরের ওপর স্থির।
    — “I don’t care about excuses. I care about results.”
    আবারও ওপাশ থেকে কিছু বলার চেষ্টা হলো।
    শিবাংশ এবার ভ্রু সামান্য কুঁচকে ফেলল।
    — “I already told you once.”
    একটু থেমে ঠান্ডা গলায় বলল,
    — “I don’t repeat myself.”
    কথাটা শেষ করেই সে ফোনটা কানের কাছ থেকে সরিয়ে নিল।
    Call ended.
    শিবাংশ আবার coffee mug-এ চুমুক দিল।
    যেন এই কয়েক মিনিটে কিছুই ঘটেনি।
    শিবাংশ রাজাওয়াত।
    চব্বিশ বছর বয়সেই যে নিজের নামের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার সাম্রাজ্য জুড়ে ফেলেছে।
    ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৮টা ৩০ মিনিট।
    আজ আধীরার ICT পরীক্ষা।
    রাজীব বরাবরের মতোই চেয়েছিল, মেয়েকে পরীক্ষার দিন নিজেই গাড়িতে করে কলেজে পৌঁছে দিবে। গাড়িটাও ইতিমধ্যে বের করার জন্য প্রস্তুত।
    কিন্তু আধীরা একেবারেই রাজি নয়।
    — “বাবা, প্লিজ গাড়িতে যাব না ……..ফাহমিদার সঙ্গে চলে যাব।”
    রাজীব ভ্রু কুঁচকে বললেন,
    — “কেন? গাড়িতে গেলে তো আরামে যেতে পারবি।”
    আধীরা সঙ্গে সঙ্গে নিজের যুক্তি সাজিয়ে ফেলল।
    — “রাস্তায় প্রচুর জ্যাম থাকে। আর গাড়িকে রিকশাগুলো ঠিকমতো side-ও দেয় না। রিকশায় গেলে অনেক সহজে যাওয়া যায়।”
    রাজীব কিছুক্ষণ মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
    যুক্তিটা একেবারে ভুলও নয়।
    তাই শেষ পর্যন্ত আর জোর করলেন না।
    — “ঠিক আছে। সাবধানে যাস। আর পরীক্ষা শেষ হলে আমাকে ফোন করিস।”
    আধীরা খুশি হয়ে মাথা নেড়ে বলল,
    — “Okay, বাবা!”
    কিন্তু রাজীব জানতেন না—
    জ্যাম ছিল আধীরার কাছে শুধু একটা অজুহাত।
    আসল কারণ?
    ফাহমিদার সঙ্গে একসঙ্গে কলেজ যাওয়ার সুযোগটা সে কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চায়নি।
    পরীক্ষার টেনশনের থেকেও তার কাছে বন্ধুর সঙ্গে সকালের আড্ডাটাই যেন বেশি জরুরি!
    সেদিন আশ্চর্যজনকভাবে ফাহমিদা একদম punctual! 😭
    ঠিক সময়মতোই এসে হাজির। আর কোনো ঝামেলা ছাড়াই দুজন একসঙ্গে কলেজে পৌঁছে গেল।
    সকাল ৯টায় শুরু হলো ICT পরীক্ষা।
    প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে আধীরা প্রথমে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল। পরিচিত প্রশ্নগুলো দেখে একে একে লিখেও ফেলছিল।
    কিন্তু মাঝামাঝি একটা প্রশ্নে এসে তার চোখ কপালে উঠল।
    “Logic Gate-এর চিত্র অঙ্কন করো।”
    আধীরা প্রশ্নটার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল।
    তারপর মনে মনে—
    “হায় ভগবান!”
    এটা তো সে কাল পড়েইনি!
    স্যার কতবার বলেছিল—
    “এই chapter-এর Logic Gate খুব ভালো করে পড়বে। পরীক্ষায় আসবেই।”
    কিন্তু আধীরা ম্যাডাম তখন মনে মনে ভেবেছিল, “এটা না পড়লেও চলবে!”
    এখন নিজের সেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জন্য নিজের গালে নিজেই থাপ্পড় মারতে ইচ্ছে করছে।
    চার নম্বরের প্রশ্ন!
    এটা ছেড়ে দেওয়া মানে সরাসরি চার নম্বর জলে ফেলে দেওয়া।
    আধীরা বিরক্ত মুখে আবার প্রশ্নটার দিকে তাকাল।
    ফাহমিদা নেই।
    মুমতাহিনা নেই।
    মাইশা নেই।
    সাবেরাও নেই।
    আজ সবার সিট আলাদা আলাদা জায়গায় পড়েছে!
    তবে সামনে বসে আছে আরেক বান্ধবী—আখি।
    আধীরা একটু ঝুঁকে পা দিয়ে আখির চেয়ারে আলতো করে গুঁতো দিল।
    আখি পেছনে ঘুরতেই আধীরা ফিসফিস করে বলল,
    — “দোস্ত, Logic Gate-এরটা পারছিস?”
    আখি চোখ বড় বড় করে তাকাল।
    আধীরা হাতজোড় করার ভঙ্গি করে খুব আস্তে বলল,
    — “পারলে একটু দেখাস ভাই… বাঁচা আমায়!”
    আখি মুখ চেপে হাসি থামানোর চেষ্টা করল।
    আর আধীরা আবার নিজের খাতার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল—
    “আধীরা, আজ তোর এই অবস্থা তোর নিজের কর্মের ফল!”
    আধীরা অস্থির ভঙ্গি করে খুব আস্তে বলল,
    — “লেকচার পরে দিস ভাই আগে দেখা বান্ধবী!”
    আখি নিজের খাতা একটু ঘুরিয়ে দেখাতেই আধীরা চোখ কুঁচকে দ্রুত দেখে নিল। তারপর যা বুঝল, সেটুকু কাজে লাগিয়ে নিজের খাতায় Logic Gate-এর diagram এঁকে ফেলল।
    শেষে একবার নিজের আঁকাটা দেখে মনে মনে বলল—
    “যাক বাবা! চার নম্বর তো বাঁচল!”
    তারপর আর কোনোদিকে না তাকিয়ে পরের প্রশ্নে চলে গেল।
    পরীক্ষা শেষে সবার মুখেই মোটামুটি স্বস্তির ছাপ। আধীরা, মুমতাহিনা আর বাকি বন্ধুরা কলেজ থেকে বেরিয়ে গেটের দিকে এগিয়ে গেল।
    গেটের বাইরে এসেই মুমতাহিনার চোখ চকচক করে উঠল।
    সামনেই একটা বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাজ ।
    মুমতাহিনাকে দেখেই রাজের মুখে হাসি ফুটে উঠল। মুমতাহিনাও একগাল হেসে আধীরার দিকে তাকাল।
    — “আমি তাহলে যাই।”
    আধীরা মুচকি হেসে বলল,
    — “যা যা।”
    মুমতাহিনা রাজের বাইকে উঠে বসল। আধীরাও পাশে দাঁড়িয়ে রইল।
    রাজ মুমতাহিনার boyfriend হলেও আধীরার কাছে সে অনেকটা পাতানো দাদার মতো। মুমতাহিনার সঙ্গে তার সম্পর্কটাও বেশ অনেকদিনের। মুমতাহিনা যতই দুষ্টুমি করুক, পড়াশোনার ব্যাপারে কিন্তু একদম গাফিলতি দেয় না। পড়াশোনায় সে বরাবরই ভালো।
    রাজ বাইক স্টার্ট করতে যাবে, ঠিক তখনই আধীরা মজা করে বলল,
    — “রাজ দাদা, বউকে নিয়ে চলে যাচ্ছো যে? এই বোনটার কী হবে?”
    রাজ হেসে আধীরার দিকে তাকিয়ে বলল,
    — “আরে আমার বোনরে! বাইকে উঠবি? এদিকে আয়।”
    আধীরা সঙ্গে সঙ্গে দুহাত নেড়ে পিছিয়ে গেল।
    — “না না! তোমাদের couple-এর moment নষ্ট করতে চাই না। যাও, যাও! Bye!”
    মুমতাহিনা লজ্জা পেয়ে আধীরার দিকে তাকাল।
    — “তুইও না!”
    আধীরা হেসে হাত নেড়ে বলল,
    — “যা লজ্জা পেতে হবেনা ! Enjoy কর!”
    রাজও হেসে বাইক চালিয়ে চলে গেল।
    আধীরা কিছুক্ষণ তাদের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে নিজের ব্যাগটা কাঁধে ঠিক করে নিল।অন্য বান্ধবীদের থেকে বিদায় নিয়ে আধীরা আর ফাহমিদা পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে রাস্তা পার হওয়ার জন্য দাঁড়াল।
    চারপাশে গাড়ির ব্যস্ততা।
    ঠিক তখনই—
    হঠাৎ আধীরা নিজের কাঁধের ওপর কারও হাতের স্পর্শ অনুভব করল।
    সে থমকে গেল।
    কে?
    #চলিত……।

    3
    4 Comments
Skip to toolbar