<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | সালমান সাদিক | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/salmansadique/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/salmansadique/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for সালমান সাদিক.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 22 Jun 2026 00:44:19 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">e1a7029b3a4d4d76e922f42db8876c31</guid>
				<title>সালমান সাদিক and Prithvi-Sarker are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/231428/</link>
				<pubDate>Fri, 18 Jul 2025 19:18:23 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b132dc3150fe09e08fb9e75e715a1644</guid>
				<title>গল্গঃ খোয়াড়ের রাখালটি মূলত যা করেছিলো
লেখকঃ সালমান সাদিক

 পৃথিবীর কোথাও কোথাও কিছু খোয়াড় রয়েছে যেখানে জংলি মানুষেরা মানুষ পালে। এইসব খোয়াড়ের আয়তন বেশ বড় হয়ে থাকে বলে শোনা যায়। আবার কিছু কিছু এমনও পেয়েছি যেগুলি ধনী লোকেরা করে থাকে। একটি বৃহদায়তন ভূমি, যার চারপাশে থাকে সমুদ্র; সেই ভূমিতে কিছু মানুষকে বিভিন্ন কিছুর প্রলোভন দেখিয়ে আনা হয়। অতঃপর তারা যখন মনে করে থাকে যে তারা এখান থেকে লাভবান হয়ে ফিরবে ঠিক তখনই সেইসব ধনী লোকেরা তাদেরকে শিকার করতে শুরু করে। এগুলি অত্যন্ত আনন্দদায়ক ব্যাপার বলে শিকারী মহলে একটি স্বীকৃত বিনোদন হিসেবে কদর পেয়ে এসেছে। 
 এমনই একটি কাহিনি, যেটা ঘটেছিলো এক চতুর লোক আর কিছু রাম ছাগলের মধ্যে। মূলত খোয়াড়টি ছিলো বড় এবং অনেকেই এখানে শিকারের আনন্দ নিতে আসতো। সমভূমি হওয়ায় এই জায়গাটিতে প্রজনন হতো অধিক হারে। ফলে শিকার ছিলো অগুণতি ও ক্ষেত্র ছিলো ব্যাপক। এই চতুর লোকটি ছিলো খোয়াড়ের রাখাল। সে দেখতো বিভিন্ন মানুষেরা এই খোয়াড় বা শিকার-ভূমিতে নানা সময়ে অবারিত আনন্দ লাভ করছে। তার খাহেশ হলো, সেও যদি এগুলি করতে পারতো! মানে এই অবারিত আনন্দ তার মনের মধ্যে ওই শিকারী সত্তার জন্ম দেয়, যা অন্যান্য বহিরাগত আগে থেকে নিজের সঙ্গে নিয়ে ঘুরছে। 
 এই লোকটি ছিলো অত্যধিক চতুর। সে বুঝতে পারে, যে খোয়াড়ের পশুগুলিতে তার তেমন কোনো অধিকার নাই। তাই সে কিছু কিছু প্লান নিয়ে আগাতে থাকে। সে খোয়াড়ের পশুগুলির মধ্যে এই কানপড়া দিতে থাকে, যে তোমরা খোয়াড়ে পালিত শিকার বা পশু নও। তোমরাও শিকারীদের মতোই, তোমরাও তাদের মতোই। এই কানপড়াগুলি প্রথমদিকে খুব বেশি কাজ করে না। কারণ খোয়াড়ে পালিত পশু তো ওই সার্কাসের হাতির মতোই যার সাথে শেকলের সম্পর্ক এতটাই পোক্ত, যে সে কি না এই য়াকিন লাভ করে, যে শেকলটি বাহ্য কোনো শেকল নয়, এটি হলো এমন শেকল যা অদৃশ্য হলেও হতে পারে। তেমনই এইসব পশুরা প্রথমদিকে এরূপই আচরণ করে।
 চতুর রাখালটি তখন ভিন্ন কায়দা অবলম্বন করে। ওই যে দ্বীপবাসী ধনীগণ যেমন শিকারকে চরে বেড়ানোর সুযোগ দিয়ে তার মাঝে এই য়াকিন পয়দা করে, যে এই দ্বীপটি তোমার, তুমি এখানে নিরাপত্তার হকদার হয়েছো। এই রাখাল লোকটি ঠিক এই য়াকিনের বীজ বুনতে থাকে খুবই সুচতুর পদ্ধতিতে। সে আগেভাগেই পশুগুলিকে জানিয়ে দিতে থাকে, কীভাবে কখন এবং কে পরবর্তী শিকার হতে যাচ্ছে। এই ব্যাপারটি পশুগুলির মধ্যে প্রথমত আতংক সৃষ্টি করে। কেউ কেউ এটা মেনে নেয়। কেউ কেউ তার পরিবার পরিজন ও স্বজাতির কথা বিবেচনা করে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর জন্য এগিয়ে আসে। 
 কিন্তু একটা পর্যায়ে এই ফলবান পদ্ধতি ফল দিতে শুরু করে। এই যে ভয়ের মধ্যে বসবাস, এই ভয়টা তাদেরকে এতটাই বেচইন করে তোলে এবং এতটাই আতংক তৈয়ার করে, যে তারা ভিতরে ভিতরে পুরোনো ধ্যান-ধারণার প্রতি য়াকিন হারিয়ে নতুন কিছু আচরণের মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, যে এইসব হিংস্র শিকারীকে বিতাড়িত করতে পারলে তারা ওই স্বর্গীয় ভূমির অধিকার লাভ করবে, যেখানে থাকবে না কোনো ভয়। ফলে সেখানে তারা যথেচ্ছা অগুণতি বেড়ে উঠতে থাকবে যেমনভাবে ক্যাঙ্গারু ও গরুরা শিকারী ও হিংস্র প্রাণীমুক্ত ভূমিতে বেড়ে ওঠে প্রবল প্রজন্মের মধ্য দিয়ে। ফলে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, যে যেহেতু একে একে তারা শিকার হচ্ছে তাহলে কেন নয়, একবারেই সবাই শিকার হয়ে বিচরণ ভূমিতে ঐক্য গড়ে তুলবে! তারা এটাই ভাবে, যে প্রবল এই ঐক্যের ভিতর কতক শিকারী আর কতগুলি প্রাণই বা নিতে পারবে! যখন শিকারী আর শিকারে সংঘর্ষ ঘটবে প্রাণ ঝরবে, খুন বইবে। কিন্তু একটা পর্যায়ে এই বিপুল অগুণতির ঐক্য তাদেরকে রুখে দিবে। এমনটি নয়, যে সেখানে কিছু স্পার্টান বা ক্ষুদ্র আরব গোষ্ঠী অগুণতির বিরুদ্ধে রোখ তৈয়ার করেছে। কিন্তু এই রোখ ছিলো এমন একটি ব্যারিকেড যা টপকে ওপাশে যাওয়ার সাধ্য কিছু সংখ্যক শিকারীর ছিলো না, তথাপি যারা ভাবতো শিকার শুধুই শিকার। ফলে আচম্বিত এই মুকাবিলা এই খোয়াড়কে শিকারীদের হাত থেকে চিরতরে মুক্ত করে। অন্তত খোয়াড়ের পশুগুলি এটিই বিশ্বাস করেছিলো। তাদের ত্রাতা ভূমিকায় ওই চতুর রাখালকে তারা স্বীকার করে নেয়। ফলে রাখালটি তাদের খোদাভক্তি লাভ করে।
 রাখালটি তখন বেশকিছু যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেয়। রাখালটি যখন তাদেরকে পালতো তখন সে দেখেছে কিছু প্রাণ এমন যাদের মধ্যে রয়েছে দারুণ দম। ফলে এদের দিয়ে শ্রমসাধ্য কাজগুলি করানো যায়। কিছু আয়েসী প্রাণ, তারা খুব সম্ভব তার আস্থাভাজন হিসেবে পরবর্তী রাখালের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। আয়েসী প্রাণগুলি রাখালের দায়িত্ব পালনে আলসেমি করবে না। কারণ তাদের জন্য খোদাভক্তি লাভ করা রাখালটি ব্যবস্থা করবে নানাবিধ আয়েস ও ভোগের যোগাড়। তাদের মধ্যে এই ভয়ও পয়দা করে দিবে, যে এগুলি তোমাদের অধিকার তথাপি ওই শ্রমিক দল, যারা পরবর্তীতে অসভ্য শ্রেণী বলে বিবেচিত হবে; তারা এগুলি লাভ করার জন্য কখনো কখনো তোমাদের বিরুদ্ধে দাবি তুলবে। এ ছাড়াও আরো কিছু কিছু প্রাণ আছে যারা শান্তিকামী ও খোদার এবাদতে মশগুল প্রাণ। এগুলিকে সে এই মত ও পন্থা বাতলে দেয়, যে খোদা তো তিনিই যিনি তাদেরকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। সুতরাং হে খোদাভক্ত সরল শান্তিকামী প্রাণ, তোমরা এবাদত করো আমার, যাকে তোমরা অধিষ্ঠিত করেছ খোদার আসনে, যার ভূষণ দিয়েছো পিতা। 
 এই যে বিভিন্ন শ্রেণীভুক্ত করা হলো প্রাণগুলিকে তারা সেই থেকে স্ব স্ব শ্রেণীর দায়িত্বগুলি নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছে। এর মধ্যে কিছু কিছু ছিলো চতুর। রাখালটি তাদের জন্য তেমন কোনো পথ-নির্দেশ বাতলাতে পারেনি৷ কারণ এরা ছিলো দূরান্তের প্রাণ, এদের কাছে এসকলই অগ্রাহ্য করে বেঁচে থাকার মত অফুরান জীবনীশক্তি বর্তমান। তথাপি এই শ্রেণীটি যাতে অন্যান্যদের উপর নিজের প্রভাব বিস্তার করে খোদার আসন থেকে চতুর রাখালটিকে না নামাতে পারে সে জন্য রাখাল তাদেরকে এই ভূষণ দিলো, যে হে অমুক দূরান্তের প্রাণ, মূর্খ তোমরা, তোমাদের কোনোরূপ নাজাত নাই। কারণ না তোমরা খোদার পথ অনুসরণ করেছ আর না তোমরা ওই মহান লড়াইতে অংশ নিয়েছ, যে লড়াই পশুগুলিকে দিয়েছে এই অবারিত ভূমি ও আমার মতো একজন মহান প্রভু, যার ভূষণ পিতা। 
 এই শ্রেণী বিন্যাস সে এ জন্যই করে যাতে করে এই যে শিকার ও শিকারীর লড়াই যেখানে সে মূলত নিজের খোদা হয়ে ওঠা ও বহিরাগত শিকারীর মত অবারিত আনন্দ লাভের সুযোগ দেখেছিলো; এই সুযোগগুলি যাতে আজন্ম বা চিরায়ত হয়। এটা সে কেন করে বা এই প্রবণতা সে কই থেকে পায়? এই প্রশ্নের উত্তর হলো ওই আকাঙ্ক্ষা যা একদলকে স্বজাতের শিকারীরূপে কবুল করে নেয়। এরচেয়েও জটিল জটিল ব্যাখ্যা হয়তো করা সম্ভব। কিন্তু সেগুলির তেমন কোনো প্রাসঙ্গিকতা নাই বিধায় সেগুলি নিয়ে আলাপ উঠলো না বা কাহিনিটির অন্যান্য নাটকীয় মোড় ও ধারা বিবরণীতে ছেদ পড়ার আশংকা হয়। 
 এইভাবে পর্যায়ভুক্ত সকলেই নিজ নিজ পর্যায় নিয়ে সন্তুষ্টির সাথে দিন গুজরান করতে থাকে। তারা ভাবে, হা আমরা নিয়ত শিকার হওয়ার আশংকা থেকে মুক্ত হয়েছি, এখন আমরা শান্তিতে আছি। এই বাহ্য সান্ত্বনা তাদের মনে খোদা সম্পর্কে কোনোরূপ সন্দেহ তৈয়ার করে না। অথচ এই খোদা ছিলো একটি চতুর রাখাল, যে তার পালের উপর স্ব অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আর আর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও বড় বড় প্রভুগুলির সাথে আসন লাভে আকাঙ্ক্ষী হয়েছিলো। 
 ফলত দূরান্তের ওই সকল প্রাণ উষ্ণ হয়ে ওঠে। তারা খোদাটির নামে অপপ্রচার ও কটুক্তিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় এবং অন্যান্য প্রাণগুলির সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে তারা ওই খোদার খোদা হয়ে ওঠার লড়াইটিকে সম্মান দেখায়। এতে করে কিছু কিছু সমর্থন তারা পায়৷ তাদের বক্তব্য ছিলো, হে অফুরান অগুণতি প্রাণ,দেখো খোদার আদর্শ তো সত্য। কিন্তু আমাদের খোদা অন্যান্য খোদাদের সাপ্লাইয়ার হিসেবে নাম কামাচ্ছেন এই আমাদেরকেই গোপনে অগোচরে তাদেরই কাছে বেচে দিয়ে। যখন তারা এগুলি বলছিলো তখন খোদা তাদের বিরুদ্ধে তার অমোঘ হাতিয়ার আয়েসী প্রাণগুলিকে বলে, দেখ হে গর্দভদল, তোমাদের অভিভাবককে নিয়ে মূর্খগুলি কী বলছে। তোমরা কী বুঝ না, যখন তোমাদের খোদাকে তারা কটুক্তি করছে তখন মূলত তারা খোদার বাতলে দেওয়া ওই মুক্তির মহান সংগ্রামের গায়েই কালিমা লেপন করছে। হে অলসদল, এদেরকে পিটিয়ে মেরে ওই দূরান্তে তাড়িয়ে দাও যেখানে তাদের বিচরণ ভূমি। 
 অলস আয়েস-প্রিয় শ্রেণীটি তখন বিভিন্ন বিবৃতি প্রকাশ করতে থাকে। জনমনে বিভিন্ন সম্ভাবনা ও প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে দেয়। বলে দেখ এই এই যুক্তিগুলি কী বলে বা দেখ, হে ধর্মপ্রাণ খোদাভক্ত, তোমাদের খোদার বিরুদ্ধে কীরূপ কথাবার্তা! নিশ্চয় এর পেছনে রয়েছে বহিরাগত ষড়যন্ত্র, যারা মূলত আবারো তোমাদেরকে শিকার করতে আগ্রহী ও লোলুপ যাদের দৃষ্টি। 
 নানাবিধ যুক্তির আড়াল তৈয়ার হয়। খোদাভক্তের দল খোদার স্তুতি করে। শ্রমিকদল নিজস্ব কর্মের নিশ্চয়তা নিয়ে শংকিত হয়। আরো নানাবিধ প্রাণের দল তখন দূরান্তের প্রাণগুলিকে আবারো দূরান্তে তাড়িয়ে দেয়। এভাবে চতুরতা ও কৌশল আবারো খোদাটির রাজ্যে শান্তি ও স্থিতি ফিরিয়ে আনে। খোদাটি তখন পার্শ্ববর্তী খোদাগুলির কাছে আরো গ্রহণযোগ্য ও আস্থাভাজন হয়ে ওঠে। বিভিন্ন বিনিয়োগ ও লাভালাভের হিসেব নিকেশ হতে থাকে।
 এইসব হিসেব নিকেশের কিছু কিছু ছ্যাড়া পাতা শ্রমিকদলের সামনে আসে। তারা দেখে, এই লাভালাভের হিসেবে তাদের প্রাপ্যটা মূলত শূন্য। তখন তারা কানাঘুষা করতে থাকে। এরা ছিলো সবচেয়ে বড় মূর্খ। ফলে তারা অকল্পনীয় কিছু আলাপ সামনে আনে। তারা কেউ কেউ কয়, এই খোদাটি ছদ্মবেশী ভুয়া খোদা। মূল খোদাটির আসন দখল করে বসে আছে। তারাও খোদা খেদানোর ডাক দিয়ে কয়, হে সকল প্রাণ, আমরা কি এই জন্য সংগ্রাম করেছিলাম! সকলে কয়, হা হা তা তো তা তো যথার্থ যথার্থ! সকলে বলতে কিছু কিছু কয় আরকি, সকলে নয়। 
 এই সংগ্রাম কিছু কিছু সংকট তৈয়ার করে। এই অস্থিতিশীলতার ফলে অপরাপর খোদাগুলি বিনিয়োগ কমায়, খোদাটির উপর চাপ সৃষ্টি করে। তারা কয়, হে ক্ষুদ্র, তোমার পশুগুলিকে সামলাও নয়তো ওই উন্নত আসনটি হারাবে। ফলে খোদাটি তার দলভুক্ত ভক্তকুলের কাছে এগুলি কয়, যে হাড্ডিগুলি তোমরা ভাগ পাও সেগুলি তো হারাতে বসেছো হে! তখন হাড্ডি হারানোর ভয়ে ওই ভক্তগুলি খড়গহস্ত হয়। শ্রমিকদলের কিছু কিছু গায়েব হয়। কিছু কিছুর হাড্ডি নিখোঁজ হয়। কিছু কিছু বিস্তীর্ণ ভূমিতে লাশ হয়ে মৃত্তিকায় মিশে যায়। ফলে তারা নিজেদের ওই শূন্য নিয়ে পিছু হটে। দূরান্তের প্রাণগুলি কয়, তোমরা কে! আমাদের সাথে যখন একই আচরণ হলো কই ছিলে তোমরা! খোদাভিরুর দল খোদার কুদরত দেখে আভক্তি নত হয়, খোদার দরবারাভিমুখি হয়, খোদার খড়মে সেজদা যায়। তারা বলে এ তো সত্যই সেই খোদা যে খোদার এবাদতে আমরা এযাবৎকাল কাটিয়ে এসেছি। ফলত শ্রমিকদলের আর কোনো উপায় থাকে না। তারা ফিরে যায় সেখানেই যেখানে তারা পূর্বে ছিলো। 
 অদ্ভুত এই নিয়মে একে একে দলগুলি প্রতিবাদী হয়। তারপর অধীনতা স্বীকার করে আবারো নতজানু হয়। এই-ই হয়তো খোদারূপি চতুর রাখালটির সুদূরপ্রসারী প্লান। 
 এভাবে মরণশীল প্রাণীদের মরণ আসে। তারা মরে যায়। তাদের শিশুরা বড় হয়। এই সিলসিলা সহজে ভাঙে না। এভাবেই চলতে থাকে। একদল মার খায় আর আরেকদল চুপ থাকে, তামাশা দেখে। খোদার দেহ চেঞ্জ হয়। কিন্তু সেই খোদার চরিত্র থেকে যায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/218974/</link>
				<pubDate>Wed, 14 Aug 2024 09:42:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্গঃ খোয়াড়ের রাখালটি মূলত যা করেছিলো<br />
লেখকঃ সালমান সাদিক</p>
<p> পৃথিবীর কোথাও কোথাও কিছু খোয়াড় রয়েছে যেখানে জংলি মানুষেরা মানুষ পালে। এইসব খোয়াড়ের আয়তন বেশ বড় হয়ে থাকে বলে শোনা যায়। আবার কিছু কিছু এমনও পেয়েছি যেগুলি ধনী লোকেরা করে থাকে। একটি বৃহদায়তন ভূমি, যার চারপাশে থাকে সমুদ্র; সেই ভূমিতে কিছু মানুষকে বিভিন্ন কিছুর প্রলোভন দেখিয়ে আনা হয়। অতঃপ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-218974"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/218974/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2ea78bc510c6938c312174b11085b1eb</guid>
				<title>অনেকদিন হবে। প্রায় এক বছর এই প্লাটফর্মে আসা হয়নি। আবার হাজির হবো নতুন কিছু গল্গ নিয়ে। বন্ধুরা কি সবাই আছেন? জানি না!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/205115/</link>
				<pubDate>Mon, 18 Sep 2023 10:22:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অনেকদিন হবে। প্রায় এক বছর এই প্লাটফর্মে আসা হয়নি। আবার হাজির হবো নতুন কিছু গল্গ নিয়ে। বন্ধুরা কি সবাই আছেন? জানি না!</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0e0c143876353207e7e6cea17dd90cba</guid>
				<title>সালমান সাদিক and আহমেদ হানিফ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/141330/</link>
				<pubDate>Thu, 01 Sep 2022 23:36:39 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f1638d58dea885a10650dd6f9400f765</guid>
				<title>গল্পঃ যে রাস্তায় ঘুরে-ফিরে
লেখকঃ সালমান সাদিক

একটা শহরের অস্তিত্ব ছিলো। হয়তো সে শহরটা ছিলো না বা সেটা থাকার কথাও ছিলো না। কিন্তু সবশেষে সেই শহর আসলে ছিলো। জানা যায় না, এখনও আছে কি না!
শহরের বাসিন্দারা ছিলো একে অপরের পরিচিত। সেখানে কোনো আগন্তুক এসেছিলো বলে জানা যায় না। তবু সে শহরের বাসিন্দারা ছিলো একে অপরের থেকে বেশ কিছুটা বিচ্ছিন্ন। যদিও তারা ছিলো একটা বংশের মতোই। 
একজন রাস্তার এপাশে আর অপরজন রাস্তার ওপাশে। তা সত্ত্বেও তারা কখনোও কারো কাছাকাছি হওয়ার সুযোগ পায়নি। হয়তো চেষ্টাই করেনি। যেমন দুটা জমির মাঝের আইল বা দেয়াল। দেয়াল বা আইল ভেঙে ফেললে দুইটা জমি বলে হয়তো আর কিছু থাকবে না। কিন্তু থাকার প্রয়োজন দুইটা জমিরই।
তারা সকালে যখন হাঁটতে বের হয় তখন তারা এক রাস্তাতেই চক্কর দিতে থাকে। তারা দৌড়ায়। তাদের পোশাক ঘামে ভিজে যায়। এসব পরিশ্রম শেষে তারা দিনটা শুরু করে উদ্যম নিয়ে। যদিও এই উদ্যমের আসলে কী প্রয়োজন তা হয়তো তারা জানে না বা হয়তো কখনও এসব ব্যাপার তাদের মাথাতেই আসেনি। আসলে প্রতিটা কাজ বা ফলের পেছনে এতো এতো কারণ, যে কারণ খোঁজাটাই যেন অর্থহীন। অন্তত তাদের কাছে তো অবশ্যই। 
নির্দিষ্ট বাড়িগুলোতে তারা দিনের পর দিন বাস করে আসছিলো। নির্দিষ্ট রাস্তায় সকালের হাঁটাহাঁটি আর নির্দিষ্ট কাজ। এভাবেই নির্ঝঞ্ঝাট তাদের দিনগুলো চলে যাচ্ছিলো। 
কিন্তু যেদিন কাহিনিকার তার রাস্তা বদল করলো। যখন শহর পেরিয়ে ঘন বনে সে গেলো এবং আবিষ্কার করলো, তার সামনে জমিন হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে এবং সামনে ঘন কুয়াশায় সবকিছু অস্পষ্ট, সে বুঝতে পারলো, তারা সীমাহীন অর্থহীন শূন্যতার মধ্যে বাস করছে। যদিও তারা তা জানে না।
এবং তারা সেভাবেই রয়ে গেলো। কারণ কাহিনিকার ফিরে এসেছিলো। আসলে সে বুঝেনি বা সে আসলে বুঝতে দিতে চায়নি। কে জানে!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/131320/</link>
				<pubDate>Thu, 11 Aug 2022 16:55:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পঃ যে রাস্তায় ঘুরে-ফিরে<br />
লেখকঃ সালমান সাদিক</p>
<p>একটা শহরের অস্তিত্ব ছিলো। হয়তো সে শহরটা ছিলো না বা সেটা থাকার কথাও ছিলো না। কিন্তু সবশেষে সেই শহর আসলে ছিলো। জানা যায় না, এখনও আছে কি না!<br />
শহরের বাসিন্দারা ছিলো একে অপরের পরিচিত। সেখানে কোনো আগন্তুক এসেছিলো বলে জানা যায় না। তবু সে শহরের বাসিন্দারা ছিলো একে অপরের থেকে বেশ কিছুটা বিচ্ছিন্ন। যদ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-131320"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/131320/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ed16ddcd7192404a0eddddac4303176c</guid>
				<title>সালমান সাদিক and জনী আহমেদ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/129646/</link>
				<pubDate>Sun, 07 Aug 2022 06:06:43 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c9f42b71addeaf7cc244bdf230e484bf</guid>
				<title>গল্পঃ মরেছে, মেরেছে, বেঁচেছে!
লেখকঃ সালমান সাদিক 

সাত সকাল। বাতাস বইছে। এখনও গরমটা সেভাবে পড়েনি। শুনশান মৃত্যুপুরী।
-মারছে, মারছে...
আঘাতের পর আঘাত আসছেই। কোনো থামাথামি নেই। শূন্য রাস্তায় মারামারি চলছে। কে কাকে মারছে, কে মরছে, কে আঘাত পাচ্ছে দেখার সময় নেই।
-শালা তোরে আইজকা শেষই কইরালবাম!
-শুয়ারের বাচ্চা তোর মুখের মইদ্দে সান্দায়া দিমু।
ভোঁতা আওয়াজ। কেউ কাউকে মারলো। হাড্ডিতে লেগেছে। ভেঙেছে কি না বলা যায় না। ব্যথা! ব্যথার কথা বলছেন? ব্যথা কাকে বলে জানা নেই।
-দেখেন ভাই, আপনে কাজডা না করলে আগামীকাল আপনেরে মাইরা ফালামু।
-ভাই, মারামারিরে ডরাই না। আইসেন, দেহা যাইবো, কে কারে কী করে।
দুইটা গুলি বা বুক বরাবর তিন-চারবার ছুরির পোঁচ। কুপিয়ে হত্যা করা যায়। চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথার উপরে একটা আঘাত করতে পারলে খুলি দুই টুকরা হয়ে যাবে।
-দেখ শুয়ারের বাচ্চা, তুই তোর সীমা অতিক্রম করছোস। অহন আল্লারে ডাক।
গুলির আওয়াজ। পাশের কাঁঠাল গাছ থেকে দুইটা পাখি উড়ে গেলো। কাঁঠাল গাছটার গোড়ায় রক্তের ছিটা ছিটকে গেলো। আঘাত করেছে কেউ। কেউ কুকুর মারছে, কেউ মারছে শুয়োরের বাচ্চা।
*
আঘাতের পর আঘাতে শরীরের বোধশক্তি লোপ পেয়েছে। বুঝতে পারছি, কেউ মারছে। পাঁজরের হাড়গুলো ভেঙেছে। নাকটা ভেঙেছে। কখন যে ভাঙলো! হাত দিয়ে নাকটা ছোঁয়ার চেষ্টা করলাম। আহ! হাতটাও শালার ভাঙছে। একটু আগে মুখের মধ্যে রক্তের স্বাদ পাচ্ছিলাম। নোনামতন। এখন আর পাচ্ছি না কেন? রক্ত কি তবে আর নাই শরীরে! আচ্ছা, তাহলে তো আমার মরে যাওয়ার কথা!
-আমি কি মরেছি?
-মনে হয় না। মরলে তো কিছু একটা ঘটতো। এখনও পৃথিবীর স্পর্শ-ছোঁয়া পাচ্ছি।
-আমার মনে হয় না। ছোঁয়া যদি পাবোই তাহলে ব্যথা অনুভব করছি না কেন?
-আসলে ব্যথা হয়ত ভয়েই পালিয়েছে। ব্যথারও তো অনুভূতি কিছু আছে না কি! হয়তো বা শরমে।
-হতে পারে।
-এ সময়ে আর কথা বাড়ানো উচিত হবে না।
-কেন?
-কারণ, এখনও মার খাচ্ছি। মার খাওয়ার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। বেচারা এতো কষ্ট করে মারছে!
-ওই শালাও কারো হাতে ভালো ধোলাই খেয়েছে।
-ওর ধোলাই খেতে হবে কেন!
-হ্যাঁ, নাহয় এতো সময় মারে কীভাবে! জিদের চোটেই শালা ক্লান্তি ভুলে গেছে।
-ভাই, এমনে ভাবো কেন। হয়তো বা যারা মারে তারা ক্লান্ত হয় না। তারা মেরেই যায়। হয়তো মারার মধ্যে আলাদা একটা আনন্দ আছে। এ জন্যই হয়তো ওরা ক্লান্ত হয় না
-দেখ ভাই অতশত বুঝি না। মার তো তুমিই খাচ্ছো!
-হ্যাঁ, আমি তুমি, আমরাই তো মার খাচ্ছি।
-তোমার কি মনে হয় না, আমরা যথেষ্ঠ মার খেয়েছি?
-কি জানি। ঠিক বুঝতে পারছি না।
-আমার মনে হয়, আমাদের এবার একশানে যাওয়ার সময় এসেছে। কী কও!
-দাঁড়াও আরেকটু খেয়ে নেই। মার খেতেও তো সুখ!
*
শুয়োরের বাচ্চাটাকে দেখেছে সে। শালা, দেখলেই মন চায়, গায়ের আশ মিটিয়ে একটা ধোলাই দেই। চিন্তাটা মাথায় আসতেই ঠোঁটের কিনারা বিদ্রুপের হাসিতে খানিকটা বিকৃত হলো।
-দেখ শালা এবার, মজা কারে কয়।
-হাতটা গুটিয়ে নে। সুবিধা হবে।
-আচ্ছা কতক্ষণ মারলে মনের আশ মিটবে বলে মনে হয়?
-জানা নাই। আগে তো মারতে দিবি না কি!
-আমার মনে হয় টাইম সেট করে নিলে ভালো হয়। মনে আছে তো, ওই পাড়ার জামশেদরে দিতে হবে।
-হুম!
-এখন কিচিরমিচির থামা।
-শালার গরের শালা!
সে মারলো, সুখ পেলো। অবশ করা সুখ, যা ছড়িয়ে পড়ে। অবশ করা সুখে বিবশ হয়ে সে মেরে গেলো একটা শুয়োরের বাচ্চাকে।
*
-তুমি বাপু মার খাচ্ছিলে?
-হ্যাঁ, চাচা। খাচ্ছিলাম।
-তো কতক্ষণ মার খেলে?
-বলতে পারবো না।
-তারপর কী হলো?
-কিছুই হলো না। একসময় মার থেমে গেলো। একলা ফুটপাতে পড়ে রইলাম। এক টোকাই এসে পকেট হাতড়াচ্ছিলো। আরেক শালা প্যান্ট ধরে টানছিলো। জুতো জোড়া কে কখন খুলে নিয়েছিলো, জানা নাই।
-তুমি তো তখন কিছুই করতে পারো নাই! ইশ, আমি যদি থাকতাম! শুয়ারগুলার মুখ থেঁতো করে দিতাম একেবারে।
-চাচা, কাহিনি তো সেখানেই। যে শালা প্যান্ট ধরে টানছিলো, ওই শালারে দিলাম কষে এক লাথি। কয়দিন খায় না কে জানে! আর ওরা, শালারা সারাদিন তো জুতার গাম খায়া বেড়ায়। খাচ্ছোর আর কারে কয়! তো ওই শালা ছিটকে গিয়ে পাশের ম্যানহোলের ঢাকনার সাথে বেধে রাখা রডে গিয়ে বাড়ি খেলো। তা রডের মাথাটা ছিলো আবার ছুঁচলো। একেবারে ফুটা করে দিলো ওই শালারে। যা একখান সিন ছিলো না কাক্কু!
-কিন্তু... কিন্তু তুমি না বলছিলা, তোমার পা ভেঙে গিয়েছিলো?
-হ্যাঁ, গিয়েছিলো তো!
-তাহলে তুমি লাথি মারলা কেমনে! 
-আপনাকে বলেছি কি না, যে শালা আমারে মারছিলো ওই শালারও পা ভাঙা ছিলো।
-সেটা কীভাবে সম্ভব!
-চাচা, আপনার পাও তো ভাঙা। আপনে তো কোনোকিছু ছাড়াই দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আপনার মুখে এ কথা মানায় না।
-বাছা, আমার কথা আলাদা।
-আমার কথা আলাদা হতে দোষ কি?
-কি জানি, বাপু!

জানেন, এরা যখন দোষ খুঁজছিলো তখন চাচার মধ্যে, বাছার মধ্যে আশ্চর্য কৌতুক পাচ্ছিলাম। আসলে এসব বাতাসে ছড়ায়। এটাই তো বেঁচে থাকার উপায়।
-এই উপায় তুই কই পাইলি শালা!
-কেনে, আর কী উপায় তোর জানা আছে ক দেহি।
-মানুষ খায় বলেই বেঁচে থাকে।
-তাই নাকি! হাহ হা। তুই শালা হাসালি রে।
-কেন, খারাপ কিছু কি বললাম?
-শালা তোর মাত্র জন্ম হইছে তো। তাই তুই জানোস না। আমরা হইলাম মানুষের উপরের ধাপ। আমগো খাবার বাতাসে ঘুইরা বেড়ায়। হেহ হে।
-কী কস শালা! তোর মাথাত আগে থেইকাই সমস্যা আছিলো।
- হাহ হা। সমস্যা ছিলো বইলাই বাইচা আছিলাম। অহনও আছে বইলাই আছি।
-তুই শালা একটা উন্মাদ।
-হ্যাঁ, আমি উন্মাদ। আগে মানুষ ছিলাম। এখন বাইচা থাকতে হইলে মানুষকে উপরের লেভেলে উঠতে হয়।
- তাইলে আমি কী, আমি কি তাইলে মানুষ না না কি!
-তুই, মনে আছে, ওই যে, রাস্তায় হঠাৎ একদিন মারামারি হচ্ছিলো।
-হ্যাঁ, বেশিদিন হয়নি তো।
-আসলে ওই সময়ে তুই শুয়োর থেইকা মানুষ হইতে গেছিলি। পরে রডে বাড়ি খায়া আমগো লেভেলে উইঠা আইছোস।
-দেখ শয়তানি ছাড়। আমার মনে হয় তোর মাথায় বান্দরের মগজ ফিট করা।
-সেটা ভালো এক হিসেবে। আমি শুয়ার ছিলাম না।
-তাই না কি! হাহ হা। ভালো করে তাকা ওই যে বেডে শুয়ে থাকা বাছাটার দিকে। কী, কিছু মনে পড়ে?
-হুম, কেমন পরিচিত মনে হচ্ছে।
-হাহ হা। আয়নায় নিজের চেহারাটা দেখে নে।
-জানিস তো, আমাদের কোনো প্রতিবিম্ব হয় না।
-আসলে তুই আছোস বইলাই তোর কোনো প্রতিবিম্ব নাই। আমরা আছি বইলাই আমাদের আর কোনো দ্বিতীয় সত্তা নাই।
-আচ্ছা, তোর কণ্ঠটা কেমন পরিচিত মনে হচ্ছে।
-তা তো হবেই। মনে পড়ে সেদিনের সেই টোকাইটার কথা?
-হুহ, ওইটা মরছিলো।
-হ্যাঁ, তুইও মরছিলি।
-তাহলে এরা কারা?
-আমরাই। সবসময় যেমন ছিলাম।
-যাহ শালা, মাথাডা ঘুরায়া দিলি।
-শালার মাথা তো ঘুরবোই। দুনিয়াডা সারাক্ষণ যে ঘুরছে এইডা জানোস?
*
-দেখ বাছা, এখানে দুঃখ বা সুখ বলে কিছু নাই।
-আসলে আমি এখনও তেমন করে কিছু অনুভব করতে পারছি না।
-এক সময় পারবা। তখন এই অনুভূতিহীন অনুভূতি নিয়েই এগুতে হবে। তোমাকে বেঁচে থাকতে হলে এভাবেই যেতে হবে।
-চাচা, আপনারও কি এরকম পরিস্থিতি কখনও এসেছিলো?
-দেখ বাছা, সবাই একটা নির্দিষ্ট প্রতিফলনের অনুসরণ করে এগুতে থাকে। 
-আমি তো জানতাম, এই জগতে কোনো প্রতিবিম্ব নাই।
-আসলে আমরা কিছুই জানি না। আমরা এখন পর্যন্ত কোনোকিছু অনুভবই করতে পারি না। বুঝতে পারা বা জানতে পারা তো আরও দূরের ব্যাপার। আসলে আমরা অনুভূতিহীন একটা কিছু, যার কোনো ব্যাখ্যা নাই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/128852/</link>
				<pubDate>Fri, 05 Aug 2022 07:59:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পঃ মরেছে, মেরেছে, বেঁচেছে!<br />
লেখকঃ সালমান সাদিক </p>
<p>সাত সকাল। বাতাস বইছে। এখনও গরমটা সেভাবে পড়েনি। শুনশান মৃত্যুপুরী।<br />
-মারছে, মারছে&#8230;<br />
আঘাতের পর আঘাত আসছেই। কোনো থামাথামি নেই। শূন্য রাস্তায় মারামারি চলছে। কে কাকে মারছে, কে মরছে, কে আঘাত পাচ্ছে দেখার সময় নেই।<br />
-শালা তোরে আইজকা শেষই কইরালবাম!<br />
-শুয়ারের বাচ্চা তোর মুখের মইদ্দ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-128852"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/128852/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c81e9badf2e481fbd69f72bd1e1d8f8e</guid>
				<title>সালমান সাদিক and Shanendra Ramen are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/128611/</link>
				<pubDate>Thu, 04 Aug 2022 11:09:42 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d06468e8c84caaf25fe46186f16dfe61</guid>
				<title>সালমান সাদিক and Jannatul-Tanzeem-Rahman are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/128561/</link>
				<pubDate>Thu, 04 Aug 2022 07:29:20 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ecac5189040a8da0e85304e696c1401a</guid>
				<title>সালমান সাদিক and কাব্য রঙ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/128470/</link>
				<pubDate>Thu, 04 Aug 2022 03:31:02 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c34aa3c692efeba6699eeee9ac0a4d7b</guid>
				<title>সালমান সাদিক and G M Harun Rashid are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/128380/</link>
				<pubDate>Wed, 03 Aug 2022 17:42:50 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1c01035c9e123492c52eafd509d9ee18</guid>
				<title>সালমান সাদিক and মোঃ রাকিবুল হাসান are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/128282/</link>
				<pubDate>Wed, 03 Aug 2022 14:04:14 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a07c27ee2afc1bb0432c63fb1cf6b518</guid>
				<title>সালমান সাদিক and MD KHALID HASAN are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/128258/</link>
				<pubDate>Wed, 03 Aug 2022 11:43:04 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">df958a41971c9df36c94755f909759ea</guid>
				<title>সালমান সাদিক and Anik Uddin are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/128253/</link>
				<pubDate>Wed, 03 Aug 2022 11:04:15 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">20539b1a4add82183659bb8ce8afbbe9</guid>
				<title>সালমান সাদিক and মেহজাবিন হাসান are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/127140/</link>
				<pubDate>Sun, 31 Jul 2022 07:34:41 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a8092340bba3b3221944b73f1b43e6c9</guid>
				<title>গল্প: ছায়া এবং অবয়ব
লেখক: সালমান সাদিক

১.
  পাহাড়-পর্বত আর গিরিপথে ঘেরা এই এলাকাকে পাখির চোখে মনে হবে কোন সুন্দর মুখের বড় বড় পাকা ব্রণ। উঁচু উঁচু পাহাড়ের মাঝের গিরিপথগুলোতে বছরের বেশিরভাগ সময় কুয়াশা জমে থাকে। সকালের আলো যেমন দেরীতে ফোটে তেমনি খুব আগে আগেই আঁধার নেমে আসে। দুইপাশের পাথুরে দেয়ালের ছায়ায় গিরিপথগুলো রহস্যময়। আবার এলোমেলো গজিয়ে ওঠা গাছগুলো তাতে এক অপার্থিব ভৌতিক ছোঁয়া দিয়েছে।

  এই দুর্গম এলাকাতে মানুষের বসবাস কম। এখানে সজীবতা আছে। কিন্তু সেই সজীবতা সামান্য আবরণ মাত্র। রুক্ষ বন্ধুর ভূমি শুধু নরম চাদরে নিজেকে আড়াল করেছে। এখানে মানুষ বুক ভরে শ্বাস নেয় বটে। কিন্তু তার পায়ের তলা সজীব কোমল সবুজকে ভেদ করে একটা সময় রুক্ষ কঠিন প্রস্তরের স্পর্শ পায়। পায়ের পাতার চামড়া তাই ধীরেধীরে শক্ত ও খসখসে হয়ে যায়।

  কুয়াশার খাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকা রহস্য কখনো সবটুকু উন্মোচিত হয় না। মানুষ রহস্য উন্মোচন করতে চায়। চেষ্টা করে। কিন্তু তার চেষ্টা কখনো টপকে যেতে পারে না রহস্যকে। কারণ তাকে বুঝানো হয়েছে এবং দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। রহস্যের পেছনে চলতে চলতে রহস্য পাওয়াটাই স্রেফ অর্জন নয় তা দেখিয়ে দেওয়া যায় না। আসলে রহস্যের পরে আর কিছু তো নেই।

  চারিদিকে যখন আঁধার নামে তখন সেই আঁধারের কোল বেয়ে নেমে আসা জোনাক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আলোর কলি ফোটায়। সেই আলো শুধু চারপাশের আঁধারকেই গাঢ় করে না বরং সেই আলোতে ভ্রান্ত হয়ে কোন সুগভীর গহ্বরে পতিত হওয়ার সম্ভাবনাও আসে।

  ভোরের আলো ফুটতে থাকে পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায়। তারপর সেই আলোর প্লাবন চুইয়ে চুইয়ে গিরিপথগুলোকে আলোকিত করে। ছায়ারা রূপ নেয় ছায়ায়। অবয়বগুলো লুকোয় তখন অদৃশ্য কোন চাদরের ভাঁজে। কুয়াশার ঝাপসা পরিবেশে তারা উদাম গায়ে বের হয়। সন্ধ্যার কুয়াশায় খুঁজতে থাকা অবয়বগুলো জোনাকের সন্ধান দেয়। আর সেই জোনাকের আলোর ধোকায় খাদে পড়ে কঙ্কাল হয় বহু প্রাণী। ভোরের কুয়াশাতে অবয়ব আকৃতি নেয় ধীরেধীরে শক্ত আর বাস্তব কোন প্রাণে। আমাদেরকে দেখিয়ে দেওয়া রহস্য আমরা ভোরের কুয়াশাতে পাই না। আমরা চাই শেষ-না-হওয়া রহস্য। যা আমরা জন্মের পর থেকে দেখে আসি এবং যা আমাদেরকে বুঝানো হয়ে থাকে।

২.
  তার কাজ সকাল-সন্ধ্যা ছায়া আর অবয়ব নিয়ে কাজ করা। ছায়া আর অবয়বের চিত্র আঁকবে বলে সারাদিন গিরিপথে ঘোরা ছাড়া আর কিছু করতে দেখি না। সকালের লম্বাটে ছায়ার ধীরেধীরে ছোট হয়ে আসা দেখতে দেখতে সূর্য মধ্য গগনে সাঁতরে আসে। তারপর ছায়াগুলো হেলে পড়তে পড়তে কুয়াশার আড়ালে মিলিয়ে যায়। সে এসবকিছুই তার ধূসর রঙে গোলা পানিতে সাদা কাগজে তুলির ছোপে আঁকে।

  রাতের আড্ডা যখন জমে ওঠে, যখন কামরা উত্তাপ-করা আগুনে কেউ নতুন কাঠ ফেলে আর তা চড়চড় করে পুড়তে থাকে তখন তার কন্ঠের ক্ষীণ আওয়াজ সবার কানকে খাড়া করে তোলে। বাইরে বাতাসের কোন পাল দিক ভুলে দুই পাহাড়ের ফাঁকে হারিয়ে নাকি কান্নার রোল তোলে। তার কথা সেসময় হাওয়ার খোঁজে বেরোয়। আর সামান্য যা অবশিষ্ট থাকে তা আমরা ভাগ করে নিতে চেষ্টা করি।

  রাত গভীর হচ্ছিলো। আড্ডার সঙ্গীরা ঢুলছিলো। সে তখন তার গল্প শুরু করলো। আধো ঘুম আধো জাগরণে আমরা দু&#039; একজন শুনছিলাম।

  ‘কয়েকদিন ধরেই সূর্যটা যখন বড় পাহাড়টার ওপাশে লুকোতে শুরু করে তখন অবয়বটা বের হয়। আমি প্রথম প্রথম গাছের গুঁড়ি ভেবে মাথা ঘামাইনি। কিন্তু আমি সেসময় যেখানেই থাকি না কেন, অবয়বটাকে দেখতে পেতাম। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, অবয়বটার আসল চেহারা আমাকে দেখতে হবে। এরপরে দেখামাত্রই আমি তাকে অনুসরণ করতে থাকি। সন্ধ্যার কুয়াশা রাতের আঁধারে ঢাকা পড়ে। অবয়বটা ধীরেধীরে ছায়ামূর্তিরর আকার নেয়। আমি নাছোড়বান্দা। আজ তার স্বরূপ দেখেই ছাড়বো।
এটুকু বলে সে থামলো। 

  আমিই শুধু শুনছি। বাকিরা ঘুমিয়ে পড়েছে এতক্ষণে। আগুনের পাশে দেয়ালে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা বুড়োটা নাক ডাকাচ্ছে। শ্লেষ্মা জমে থাকায় আওয়াজ বাধা পাচ্ছে। শ্বাসের সাথে সাথে একদলা হলুদ শ্লেষ্মা নাকের আগায় আসে। তারপর শ্বাসের টানে আবার নাকের ছিদ্রে ঢুকে যায়। ঘড়ঘড়ে বিশ্রী সে শব্দ বাতাসের প্রচন্ড প্রবাহে আঙটা ভাঙা একটা জানালা কপাটের সাথে বাড়ি খাওয়ার আওয়াজে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। ঠান্ডা বাতাস গায়ে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে। উঠে গিয়ে জানালাটা বাধলাম পরিত্যক্ত এক টুকরো কাপড় দিয়ে। ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দে কেউ কেউ একটু উহ আহ করলো। আবার ঠান্ডা হয়ে গেলো। পাশের হুকোতে লম্বা টান দিয়ে ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে সে আবার শুরু করলো।

  তো ধীরেধীরে রাতের আঁধার গাঢ় হলো। চাঁদও মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়েছে। ছায়ামূর্তিকে তখন দেখা যাচ্ছিলো না। আমি তখন পদশব্দ অনুসরণ করছিলাম। এভাবে কতক্ষণ হেঁটেছিলাম মনে নেই। একসময় দিগন্তে ফরসা রেখা ফুটলো। এরপর সূর্য তার প্রথম কিরণ ফেললো। সেই কিরণে সামনে পথের ব্যপ্তি দেখে ছুট লাগালাম। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য দেয়াল আমাকে আর এগুতে দিলো না। ছায়ামূর্তিটা দিব্যি সেই দেয়াল ভেদ করে ওপাশে দৃষ্টিসীমা ছাড়িয়ে হারিয়ে গেলো।

  হঠাৎ পায়ের আওয়াজে সচকিত হলাম। আশপাশে তাকালাম আওয়াজের উৎস তালাশে। আস্তে আস্তে আমার দৃষ্টির সামনে দেয়ালের ওপাশে একটি অবয়ব মানবাকৃতি নিচ্ছে। একসময় সে আমার সামনে এলো। দেয়ালের বাধার কারণে আমি তাকে ছুঁতে পারছিলাম না। তাই প্রচণ্ড কৌতুহল চাপতে না পেরে চেঁচিয়ে উঠলাম, কে তুমি? সে উত্তর করলো, আমি তুমিই!&#039;

৩.
  কামরার সকলে তখন ঘুমে অচেতন। আমার কানে তার কথাগুলো অস্পষ্ট হতে হতে একসময় একদম থেমে গেলো।

  হঠাৎ মাথার ভিতর কে যেন বলে উঠলো, তুমি কে? আমি অজান্তেই বললাম, আমি তুমিই! সে আশ্চর্য হয়ে স্বগতোক্তি করলো, তাহলে একলা কেন তুমিই জানো, ‘তুমি আমিই!&#039;

  তার কথায় হা হা করে হেসে উঠলাম। পাহাড়ের দেয়ালে দেয়ালে বাড়ি খেয়ে উর্ধ্বগামী সে আওয়াজে ঘুমন্ত পাখিরা জেগে উঠলো। তাদের মিষ্টি আর কর্কশ ডাকে অদৃশ্য দেয়ালটা ভেঙে পড়লো।

  আমি তার দিকে হাত বাড়ালাম। এই সময় আমার ঘুম ভেঙে গেলো।

  সে তখন গল্পের শেষ বাক্যটি বলছিলো, আমি তার দিকে হাত বাড়ালাম। তাকে ছুঁতে যাবো এমন সময় হঠাৎ সে মিলিয়ে গেলো!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126609/</link>
				<pubDate>Fri, 29 Jul 2022 04:54:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প: ছায়া এবং অবয়ব<br />
লেখক: সালমান সাদিক</p>
<p>১.<br />
  পাহাড়-পর্বত আর গিরিপথে ঘেরা এই এলাকাকে পাখির চোখে মনে হবে কোন সুন্দর মুখের বড় বড় পাকা ব্রণ। উঁচু উঁচু পাহাড়ের মাঝের গিরিপথগুলোতে বছরের বেশিরভাগ সময় কুয়াশা জমে থাকে। সকালের আলো যেমন দেরীতে ফোটে তেমনি খুব আগে আগেই আঁধার নেমে আসে। দুইপাশের পাথুরে দেয়ালের ছায়ায় গিরিপথগুলো রহস্যময়। আবার এল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-126609"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/126609/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">41592cc91eced0b2b29f301bfece7700</guid>
				<title>সালমান সাদিক and Fazilatun Nesa are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126492/</link>
				<pubDate>Thu, 28 Jul 2022 13:56:50 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1dc4196d649626b8c4c4553d2414c3b8</guid>
				<title>সালমান সাদিক changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126275/</link>
				<pubDate>Wed, 27 Jul 2022 12:12:01 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c43ba80ccc2367f59d0c2af2e679f37a</guid>
				<title>গল্পঃ পলায়ন
লেখকঃ সালমান সাদিক 

১.
 দুইটা পুরি খেতে ইচ্ছে করছিলো খুব। কিন্তু ফুটপাতে বসে আছি চুপচাপ। আসলে খেতে মন চাইলেও পকেটে মাত্র পাঁচটা টাকা আছে। ভাবছি, একটা পুরিও তো হবে। ওইটা খেয়ে অন্তত ইচ্ছাটা মিটাই। তারপরেও ফুটপাত থেকে উঠতে মন চাচ্ছিলো না। সময়ের কাটাটা এই সময়গুলোতে খুব ধীর হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর থেকে নিয়ে রাত দশটা এগারটা পর্যন্ত বাইরে এভাবেই বসে থাকতে হয় একা একা। ইদানিং বাসা থেকে বের হতেও ইচ্ছে করে না। কিন্তু উপায় নেই না বের হয়ে। আসলে বাসায় যে শান্তির জন্য মানুষ ফিরে যায় আমার জন্য সেই শান্তিটুকু নেই সেখানে। অতীতে যদিও এতো অশান্তি ছিলো না। কিন্তু এখন, বর্তমান বা ভবিষ্যতের সময়গুলো আমাকে খুব করে মরে যেতে উদ্বুদ্ধ করে। আসলে কি, আমি ভাবি, মানুষ কি সত্যিই বেঁচে থাকার তাগিদেই এতো দৌড় ঝাপ করে না কি আসলে বেঁচে থাকার কষ্টটা ভুলতেই নিজেকে ব্যস্ত রাখে। অবশ্য এগুলো খুব ফালতু চিন্তা ভাবনা। 
 ফেলে আসা আটটা বছরের কথা মনে পড়লে ভেতরটা হু হু করে ওঠে। বৃষ্টিতে ভেজা ফুটপাতে বসে রাস্তায় পড়ে থাকা সিগারেটের ফিল্টারগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি। এই মুহূর্তে দুইটা কুকুর শুয়ে আছে আমার পাশে। কুকুর দুটো পাশাপাশি শুয়ে থাকলেও মনে হচ্ছে দুটো যেন আলাদা দুই জগতের বাসিন্দা। বৃষ্টির ভয়ে লোকজন বের হয়নি আজ। রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকা। দূরে কিছু ছেলে গিটার বাজাচ্ছে আর বেসুরো গলায় গান গাচ্ছে। হুটহাট দু একটা রিক্সার ক্রিংক্রিং বা গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ বাদ দিলে ওদের কোলাহলটা খুব বেশি করে কানে বাজছে। আমি নিরবে নির্জনে বসে থাকতে চাইছিলাম আসলে। কবরের নিস্তব্ধতা পেতেই মূলত এই শূন্য রাস্তায় বসে আছি। তারপরেও ওদের বেসুরো গলার গান আর ছন্দহীন বাজনা খারাপ লাগছে না।
 ফোনের স্ক্রিনটা অন করলাম। ধুর এখনও দশটাও বাজেনি। আর কতক্ষণ এভাবে বসে থাকা যায়! তা ছাড়া গতকাল দুপুর থেকে পেটে দানা পানি কিছু পড়েনি। পেটটা পাজরের হাড্ডিগুলার সাথে লেগে আসতে চাইছে। পাজরের হাড্ডিগুলা এই চাপ নিতে নিতে তাদের অসন্তুষ্টি আমাকে জানান দিচ্ছে। বাধ্য হয়েই ফুটপাত থেকে উঠে দাঁড়ালাম। মাথা সামান্য ঘুরে উঠলো আর আশপাশ কেমন অন্ধকার অন্ধকার হয়ে এলো। হাঁটতে শুরু করতেই অবশ্য সব ঠিক হয়ে এলো। ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগলাম বাসার দিকে। ভাবছি পথে একটা পুরি খেয়ে নিবো। কিন্তু রাত তো বেশ হয়ে গেছে, এখন তো ওই তেলে ভাজা গরম পুরিগুলা পাবো না। তাই রাস্তার পাশে এক টংয়ে বসে এক কাপ দুধ চা খেয়ে নিলাম। খাওয়ার পরেই গলার কাছে কফ উঠে আসতে চাইলো। কেমন একটা বমি বমি ভাব আর মনে হচ্ছে পেটের ভেতর সবকিছু পচে গেছে। এই কফ উঠে আসার ব্যাপারটা কয়েকদিন ধরেই ঘটছে। মূলত এ জন্যই কিছু খাচ্ছি না গতকাল থেকে। খেলেই মনে হয় পেটের ভেতর সব পচে গেছে আর সব বমি হয়ে উঠে আসতে চায়। কিন্তু বমি তো হয়ই না, আর সেই সাথে অস্বস্তির মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিতে ভাত ভাত গন্ধ করা কফ গলার কাছে উঠে আসে। যতোই পানি টানি খাই না কেন এই ভাব দূর করা যায় না। এখন মনে হচ্ছে চা-টা খেয়ে ভুলই করলাম। ওর চেয়ে টাকাটা রেখে দিলেই ভালো হতো। 
 আজ একটু তাড়াতাড়িই বাসায় ফিরলাম বোধহয়। নিচে গেইটে এখনও তালাটা আটকায়নি চাচা। গেইট খুলে উপরে উঠে এলাম। বাসার সামনে দাঁড়িয়ে নক করতে গিয়েও হাতটা আবার সরিয়ে নিলাম। নাহ, এতো তাড়াতাড়ি বাসায় গিয়ে করবোটা কী! তারচেয়ে চিলেকোঠায় গিয়ে বসা যাক। চিলেকোঠা বলতে সিড়ির মাথায় ছাদের সামনে যে ছোট্ট বদ্ধ জায়গাটা ওটার কথাই বলছি। ছাদে রেলিং নেই বলে সব সময় তালা দিয়ে রাখে চাচা। আমি মাঝে মাঝে ওই ছোট্ট জায়গাটায় গিয়ে বসে থাকি। এখানকার নিরবতাটা অন্যরকম। রাস্তার রিক্সা বা রাতের বেলার যে বালু সিমেন্টের ট্রাকগুলো যায় ওগুলোর আওয়াজও এখানটায় তেমন করে পৌছায় না। আর তা ছাড়া নিচের ফ্ল্যাটগুলোতে স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া বা ছোট মেয়ের কান্নার শব্দগুলা খুব অস্পষ্ট শোনা যায়। আমার কাছে ব্যাপারটা ভালো লাগে। মনে হয়, আমি যেন কোনো অডিও শো শুনছি। কখনও চুপচাপ এইসব শুনতে থাকি বা সিড়িঘরের জানালা দিয়ে দূরের কোনো ফ্ল্যাটের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খেতে থাকা পুরুষের কার্যকলাপ বা ফোনে প্রেমালাপ করতে থাকা কোনো মেয়ের অঙ্গভঙ্গি দেখি। আজকে উঠে এসে অবশ্য একজন সঙ্গী পেয়ে গেলাম। দেখি, ছাদের যে দরজাটা আছে সেটার একেবারে কোণায় গুটিসুটি হয়ে শুয়ে আছে একটা বিড়াল। আমি আসাতেও বিড়ালটা কোনোরকম নড়াচড়া করলো না। আমি খুব আস্তে আস্তে নিঃশব্দে গিয়ে ওর পাশে বসলাম। একটা হাত ওর শরীরে বুলিয়ে দিতে লাগলাম। ও মৃদু গরগর শব্দ করে আমাকে স্বাগত জানালো বুঝি। যদিও চাঁদনি রাতের রূপালি আলোয় সবকিছু আবছা আলো-আঁধারির মাঝে লুকোচুরি করছে তবু সিড়ির মাথায় এই জায়গাটা একদমই ঘুটঘুটে অন্ধকার। আর এই আঁধারের মধ্যে বিড়ালটার চোখ জ্বলজ্বল করছে। আমার চোখও কি ওর মতো জ্বলছে? মনে হয় না। আমি তো আর বিড়াল না। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, মানুষ হওয়ার থেকে একটা বিড়াল হতে পারাটা খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। যদিও আমার ইচ্ছা করছে, বিড়াল হয়ে যেতে। কিন্তু কে কী হবে সেই সিদ্ধান্ত তো আর তার নিজের না। বাধ্য হয়েই মানুষ হয়ে চিলেকোঠায় বসে থাকতে হচ্ছে বিড়াল হওয়ার ইচ্ছে নিয়ে। যদিও বিড়ালটা মানুষ বা অন্যকিছু হতে চায় কি না সে ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এমনকি বিড়াল হিসেবে যে তার অনুভূতি কী রকম বা তার কোনো কষ্ট বা নিরাশা আছে কি না সে ব্যাপারেও আমার কোনো ধারণা নেই। কিন্তু তবু মনে হচ্ছিলো, ইশ যদি বিড়াল হতে পারতাম!

২.
 একটা অন্ধকার ঘরে বসে আছি আমি। ছোট্ট টিভি স্ক্রিনে একটা সিনেমা চলছে। অবশ্য সিনেমা কি না বলতে পারবো না। নেটওয়ার্কের কারণে হোক বা অন্য কোনো কারণেই হোক স্ক্রিনটা ঝিরঝির করছে। সবকিছু কেমন ঘোলা ঘোলা আসছে। এর মধ্যে যে ব্যাপারটা বুঝতে পারছি, এক লোক সিলিংয়ে রশি ঝুলিয়ে গলায় ফাঁস দিচ্ছে। একটু পর পায়ের নিচে যে চেয়ারটা ছিলো সেটা লাথি মেরে দূরে সরিয়ে দিতেই গলায় ফাঁসটা শক্ত করে আটকে গেলো আর দেহটা শূন্যে ঝুলতে থাকলো। এখনও লোকটা পা নাড়াচ্ছে অস্থিরভাবে আর গলা দিয়ে ঘড়ঘড় আওয়াজ করছে, যেমনটা জবাই করা গরু ছাগল করে থাকে। এর মধ্যেই সিলিংয়ের পাশে কড়িকাঠের দিকে স্থীর হয়ে রইলো তার দৃষ্টিহীন অক্ষী কোটর। ঘাড় ভাঙার অস্বস্তিকর আওয়াজ গায়ে কাটা দিয়ে ওঠার মতোন। এই সময়ে ক্যামেরা ফোকাস করছে কড়িকাঠে নখের খোচায় লেখা অনেকগুলো নাম। ঝিরঝিরে স্ক্রিনে অবশ্য নামগুলো পড়া গেলো না।
 টিভি স্ক্রিন ঝিরঝির করতে করতে থেমে গেলো। পুরো ঘর জুড়ে এখন শুধু অন্ধকার। অন্ধকার ঘরটাতে আমি একলা বসে আছি। ঘরটায় কি কোনো জানালা আছে?
 আমি অন্ধকার ঘরটার দেয়ালে দেয়ালে হাতড়াতে লাগলাম। কিন্তু কোনো জানালা খুঁজে পেলাম না। তবে একটা দরজা পেয়ে গেলাম। দরজাটা খুলবো কি না ভাবছি। যদ্দুর মনে পড়ে আজ পূর্ণিমা। বাইরে চাঁদের রূপালি আলোয় সবকিছু খুব সুন্দর লাগার কথা। কিন্তু এটাও অবশ্য জানি না, যে এখন রাত না দিন। দরজাটা খুললে অবশ্য জানা যেতে পারে। কিন্তু কী করবো বুঝতে পারছি না। 
 দীর্ঘ আটটা বছর কারাবন্দী থাকার যে অনুভূতি সেটা আমাকে মুক্ত স্বাধীন ভাবতে দেয় না। যদিও কারাগারে থাকতে যখন ছোট্ট মাঠটায় দিনের বেলা আমাদের ছেড়ে দেওয়া হতো কিছু সময়ের জন্য তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে বিশাল জগতটার কথা ভাবতাম। খুব ইচ্ছে করতো এই জগতে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে। রাতে যে রুটি দিতো ওরা, তা অল্প বাঁচিয়ে রাখতাম। মাঠে এসে এক কোণে রুটির টুকরো ছড়িয়ে দিলে কাক চড়ুই আসতো মাঝে মাঝে। খুটে খুটে রুটির টুকরোগুলো খেতো ওরা। কাছে গেলেই উড়ে পালিয়ে যেতো। ওদের উড়ে যাওয়া দেখতাম তখন। এই ছোট্ট কাজটা আমার রুটিনে পরিণত হয়েছিলো। আর রাতের বেলায় ছোট্ট সেলের মধ্যে নির্ঘুম বসে থাকতাম। সেলের দক্ষিণপাশে লোহার শিক দেওয়া ঘুলঘুলি মতো ছিলো। কখনো বৃষ্টি হতো আবার কখনো দক্ষিণা হাওয়া বইতো। ওই শিক গলে হাত বের করা সম্ভব হতো না। তারপরেও শিক ধরে চেয়ে থাকতাম। মেঘলা দিনে চাঁদ দেখার আশা আর চাঁদনিরাতে রাতের আকাশে বাদুড়ের উড়ে যাওয়া দেখতে চাইতাম। এই দীর্ঘ আটটা বছরে খুব করে চাইতাম খোলা আকাশের নিচে পৃথিবীর বুকে হেঁটে বেড়াতে। 
 দরজার নবে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। খুলবো কি না ভাবছি এখনও। খুলতে ইচ্ছে করছে না। আবার অন্ধকার এই আবদ্ধ ঘরটাতে থাকতেও ইচ্ছে করছে না। পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে ঘরটা ছেড়ে। কিন্তু উপায় নেই। জানি, ওরা আমাকে দেখছে। আমি যদি পালিয়ে যেতে চাই তাহলে ওরা আমাকে ধরে নিয়ে আবার কারাগারের সেই ছোট্ট সেলটাতে ফেরত পাঠাবে। এই যে দরজা খুলতে পারার স্বাধীনতা, এটাও হারাবো তখন। কিন্তু আসলেও কি দরজা খুলতে পারার শক্তি আমার আছে বা স্বাধীনতা! আমি এখনও নব ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে আছি। যদিও দরজার ওপাশে উন্মুক্ত পৃথিবী আর লোক কোলাহলে ভরপুর রাস্তাঘাট নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু সেই কোলাহলে আমি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি না। কেউ আমার দিকে ফিরে চায় না। আমার অস্তিত্ব আছে কি নেই সেটা নিয়েই তখন সন্দিহান হয়ে যাই। 
 আগপিছ ভাবতে ভাবতেই নব ঘুরিয়ে দরজাটা খুলে ফেললাম। শত দ্বিধা ঝেড়ে বাইরে পা দিলাম। কিছুদূর হাঁটতেই বুঝতে পারলাম সবকিছু আগের মতোই অন্ধকার নিরব নিষ্প্রাণ। আরো কিছুদূর যেতে যেতে মনে হলো আমি শূন্যে ঝুলছি। পায়ের নিচে কোনোকিছুর অস্তিত্বই টের পাচ্ছি না। হাওয়ায় ভাসছি যেন। যেতে যেতে একটা সময়ে শূন্য থেকে পড়ে যেতে লাগলাম। পড়ছি তো পড়ছিই। মনে হচ্ছে কোনো তলহীন গহ্বরে আমি। ভাসছি বা ঝুলছি অথবা পড়ছিই হয়তো এখনও নিচের দিকে। কিন্তু আশপাশে কোনো বাতাস নেই। গাঢ় অন্ধকারে আমি শুধু পড়ছিই।

৩.
 আমার অপরাধটা কী? এই প্রশ্নটা শুরুর দিকে বারবার মাথায় আসতো ঘুরে ফিরে আর আমি পাগল হয়ে যেতাম। প্রথম দিকে আমি কয়েকবার পালানোর চেষ্টাও করি। কিন্তু প্রত্যেকবারই ধরা খেয়ে যাই আর অন্ধকার সলিটারি সেলে আটকে থাকতে হতো মাসের পর মাস। প্রথম বছরটা ছিলো এমনই। বেশিরভাগ সময় কেটেছে সলিটারি সেলের অন্ধকার নির্জনতায়। আমি কিছুতেই মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। অসহ্য নির্জনতা আমাকে উন্মাদ করে তুলতো। কিন্তু এই জেলের ভেতর উন্মাদের জন্যও যেন বিশেষ কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিলো না।
 এভাবেই চলতে থাকতাম হয়তো এবং এক সময়ে গিয়ে মরেই যেতাম। কিন্তু এই সময়ে কিছু বন্ধু জুটেছিলো, যারা জেলের ভেতরে খুব পরিশ্রম আর খাটাখাটনি করে ছোট্ট একটা পাঠাগার গড়ে তুলেছিলো। সপ্তায় একদিন করে চেইক হতো প্রতিটা সেল আর এরপরই ট্রলিতে করে বই নিয়ে আসতো এক কয়েদি। সবাই তাকে জেরেমায়াহ বলে ডাকতো। অদ্ভুত প্রাণশক্তি আর ভাবালুতায় সে জেলের মধ্যেই সময় কাটাতে শিখে গেছে। বই পত্তর নিয়ে ডুবে থেকে সে পার করে দিতো জেলের একঘেয়ে দিনগুলো। তো একবার এমনই এক চেইকের পর আমার সেলের পাশ দিয়ে যেতে যেতে আমার হাতে জোর করে একটা বই ধরিয়ে দেয় সে। আমার যদিও বই পড়ার নেশা কোনোকালেই ছিলো না। অবশ্য আমার জীবনটাই তো শুরু এই কয়েদখানার চার দেয়ালের মধ্যে। বইটা হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখতে দেখতেই মনে হলো আর কী-ই বা করার আছে!
 বইটা পড়তে শুরু করলাম। এটা ছিলো সুন্দর একটা উপন্যাস। উপন্যাসটা আমাকে আটকে রেখেছিলো কাহিনির ভেতর। দিনে বাইরে মাঠে বেঞ্চে বসে বা এক কোণে দেয়ালে ঠেস দিয়ে পড়তাম আর রাতের বেলা সেলের বাতি নিভিয়ে দেওয়ার পরও করিডোরের আবছা আলোয় পড়তে থাকতাম। উপন্যাসটা আমার সামনে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করে দিলো। কারাগারের একঘেয়েমি আর বদ্ধতার ভেতর এক নতুন জগতের সন্ধান পেলাম আমি। বইটা দু দিনেই শেষ করে ফেলি। তারপর জেরেমায়াহর সাথে দেখা করে বলি, ভাই, বইটা তো দারুণ ছিলো। এরকম আর কোনো বই কি আছে তোমার কাছে? জেরেমায়াহ মৃদু হেসে বলল, আসো আমার সাথে। তার পিছে পিছে চলে গেলাম পাঠাগারে। ছোট্ট ঘরটায় সাকুল্যে পঞ্চাশটার মতো বই ছিলো। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছিলো, এত্তো বই! আমি হা করে তাকিয়ে ছিলাম বইয়ের আলমারিটার দিকে। এভাবেই শুরু হয় আমার বই পড়া আর জেরেমায়াহর সাথে বন্ধুত্ব। 
 জেরেমায়াহ ভাল লিখতে জানতো। মাঝে মাঝেই তার লেখা পড়তে দিতো আমাকে। তার লেখার মধ্যে এক ধরণের দীর্ঘশ্বাস লুকানো থাকতো। লেখাগুলো যেমন স্বপ্ন দেখাতো তেমনি স্বপ্নের রঙগুলোকে কেড়ে নিতো। তার লেখার মধ্যে একটা সাদামাটা ভাব ছিলো। জীবনটা যে খুব আহামরি কিছু না আর এখানে খুব বেশি চাওয়া পাওয়াও যে থাকা উচিত না এটাই তার লেখার মধ্যে খুঁজে পেতাম। 
 জেরেমায়াহর একটা লেখায় এক ইদুরের কথা এসেছিলো। ইদুরটা থাকতো জেরেমায়াহর সেলে। তারা দুজন একসাথে খেতো, একসাথে ঘুমাতো। কিন্তু একদিন সেল চেইকের সময় এক প্রহরী ইদুরটাকে মেরে ফেলে। জেরেমায়াহকে তারা বলে, ইদুর একটা বিপজ্জনক প্রাণী, ভয়ংকর সব রোগ ছড়ায় আর কাপড় চোপড় সব কেটে ফেলে। জেরেমায়াহ বিষয়টা মেনে নিতে পারেনি। তাই সে ওই লেখার মধ্যে ব্যঙ্গ করে লিখেছিলো, সব প্রাণের মধ্যেই বিপদ আছে। আমাদের উস্তাদরা আমাদেরকে প্রাণের বিপদ থেকে রক্ষা করতে সদা তৎপর। এমনকি ইদুর কিংবা পিপড়াও যেন আমাদের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়েও উস্তাদরা সজাগ দৃষ্টি রাখেন।
 আমরা জেল প্রহরীদেরকে উস্তাদ বলে ডাকতাম। যদিও এখানে সবার সাজা আট বছর করে নির্ধারিত তারপরও কেউ কেউ আরো দু তিন বছর সাজা ভোগ করে যেতো। এর পেছনে ঠিক কী কারণ ছিলো সেটা যদিও আমি কখনো বের করতে পারিনি। তবে আমার মনে হয় প্রতি সোমবারে আমাদেরকে যে কাউন্সিলিং করা হতো সেটা এই স্বেচ্ছা কারাভোগের অন্তর্নিহিত কারণ হতে পারে। অবশ্য যারা সিনিয়র কয়েদি ছিলো তাদেরকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়েও বিভিন্ন ওয়াজ নসিহত করা হতো। এই কাউন্সিলিংটা শুরুর দিকে আমার ভেতর দারুণ প্রভাব ফেলতো। 
 তারা আমাদেরকে আশা দেখাতো। আর এই আশা খুবই ভয়ানকভাবে আমাদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতো। বিশেষ করে নতুনদের জন্য এ ছিলো বিরাট বড় এক প্রলোভন। প্রথম দিনের কিছু কিছু কথা আমার মনে আছে। একজন বেশ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন উস্তাদ আমাদেরকে নিয়ে বসলেন। তিনি বলছিলেন, দেখো তোমাদেরকে এখানে আটকে রাখা হয়েছে এর মানে এই না যে তোমরা কোনো অপরাধ করেছো। আসলে এখানে তাদেরকেই নিয়ে আসা হয় যাদের মধ্যে ভালো হওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। তোমরা এখানে থেকে পরিমিতিবোধ অর্জন করবে। দেখো, লোভ হলো এমন রোগ যা তোমার মধ্যেকার অপরাধের সুপ্ত বীজকে অঙ্কুরিত করতে সাহায্য করে। আমরা চাইছি, তুমি তোমার চাহিদাটা সঠিক ক্ষেত্রে ব্যয় করো। এটা শিখতে পারলেই তুমি সমাজে মঙ্গলের দূত হয়ে সমাজটা পরিবর্তন করতে পারবে।
 কথাগুলো আমার খুবই ভালো লেগেছিলো। সত্যি বলতে ওই মুহূর্তে নিজেকে খুব দামী মনে হচ্ছিলো। যদিও পরবর্তীতে জেরেমায়াহ সহ আরো কিছু বন্ধু জুটেছিলো, যারা আমার এই মোহ ভেঙ্গে দিয়েছিলো। কিন্তু কিছু কিছু কয়েদি এমনভাবে প্রভাবিত হয়েছিলো, যে তারা সত্যি সত্যি সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতো এবং উস্তাদদের অনুসরণ করতো।
 জেরেমায়াহকে একদিন জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আচ্ছা বলতো আমরা কি সত্যি এতকিছু করতে পারবো কখনও? জেরেমায়াহ হেসে বলেছিলো, দেখো, এই কয়েদখানার ভেতরে থেকে তো কিছুই বলা সম্ভব না। আর তা ছাড়া আমরা সমাজকেও তো চিনি না, জানি না। যা তুমি জানোই না, যার সাথে তোমার পরিচয়ই নেই তা নিয়ে তুমি এতকিছু ভাবতে পারো কীভাবে! তবে এটা ঠিক, যে আমরা বের হওয়ার আগ পর্যন্ত অনেককিছুর সম্ভাবনাই আছে। বাস্তবতাটা টের পাবো বের হতে পারলে পরে। আমিও ভেবে দেখলাম, জেরেমায়াহ ঠিকই বলেছে। এরপর থেকে এই কাউন্সিলিং আমাকে খুব বেশি প্রভাবিত করতে পারতো না। যদিও উস্তাদদের অনেক সুন্দর সুন্দর কথা আমি নোট করে রাখতাম। 
 জেরেমায়াহর আট বছরের সাজা শেষ হয়ে আসছিলো। তাকে প্রায়ই বিষণ্ণ দেখতাম। তাকে জিজ্ঞেস করেও এর তেমন কোনো উত্তর আমি পাইনি। আমি মনে মনে বলতাম, তুমি তো মুক্ত স্বাধীন হতে যাচ্ছো, তুমি কেন এতো মনমরা হয়ে থাকবে! তোমার তো এখন হৈ হুল্লোড় করে আনন্দ স্ফূর্তি করার কথা। পাঠাগারের বইগুলো জেরেমায়াহর পড়া শেষ হয়ে গেছিলো বহু আগেই। অনেকগুলো বই তো পড়তে পড়তে মুখস্থই করে ফেলেছিলো সে। কিন্তু যখনই আমি বলতাম, তুমি কতো কিছু জানো! তোমার জীবনটা অনেক সুন্দর৷ জেরেমায়াহ তখন শুকনো হাসি হাসতো আর বলতো, অনেককিছুই তুমি এখনও জানো না। এই যে পড়াশোনা এসব শুধুই নিজের মনের ভার হালকা করার জন্য। বাস্তবে জ্ঞান মানুষের এতো কাজে আসে না। যে যত কম জানে সে তত সুখে থাকে। আমি মনে মনে ভাবতাম, ও হয়তো অনেকদিন কারাবদ্ধ থেকে থেকে আর এই ছোট্ট কামরায় একা থেকে মাথাটা বিগড়ে ফেলেছে। আমি এসব কথা আমলে নিতাম না, নিজের মতো পড়তে থাকতাম। 
 এর মধ্যেই জেরেমায়াহকে বিদায় জানানোর সময় এসে গেলো। আমি চাচ্ছিলাম না, জেরেমায়াহ এখনই চলে যাক। চাচ্ছিলাম, ওর সান্নিধ্যে আরো কিছুদিন কাটাতে। আর ও-ও চাচ্ছিলো আরো বছর দুয়েকের জন্য এখানে থেকে যেতে। কিন্তু জেল কতৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলো। জেরেমায়াহকে তাই বাধ্য হয়েই চলে যেতে হচ্ছিলো। আমি ওর সেলে গেলাম বিদায় জানাতে। ও আমাকে আলিঙ্গন করে কেঁদে ফেললো। যাওয়ার আগে বলছিলো, এই ছোট্ট জগতটা খুব আপন হয়ে গেছিলো। এসব ছেড়ে বাইরের জগতে, অজানা অচেনা জায়গায় আমার কিছুতেই যেতে ইচ্ছে করছে না। তারপরেও যেতে তো হবেই। জীবনটাই এমন আসলে। ভালো থেকো তুমি। বেঁচে থাকলে বাইরে মুক্ত পরিবেশে দেখা হবে কখনো।

৪.
 গতকাল রাত থেকেই আগুন জ্বলছে। আগুন নেভাবার জন্য কোনো উদ্যোগ এখনও কেউ নেয়নি। আর এটা আগুন জ্বালানোরই পরিবেশ। কেউ আগুন নেভানোর কথা ভাবে না। আগুন জ্বালানোর ব্যাপারটার মধ্যে একটা শৈল্পিক সৌন্দর্য আছে। ওরা যেটা করছে, ছোট কাঁচের বোতলে পেট্রল আর কাপড় ভরে খালি বাস আর গাড়িতে ছুড়ে মারছে। আগুন জ্বলে ওঠার প্রক্রিয়াটা খুব সুন্দর। মনে করেন কেউ লাইটার দিয়ে বোতলের মুখে আগুন জ্বালিয়ে বাসের জানালা বরাবর একটা বোতল ছুড়ে মারলো। বোতলটা কাঁচের হওয়ায় ভেতরে গিয়েই ফেটে যায় আর পেট্রল ছড়িয়ে পড়ে এদিক ওদিক। বোতলের মুখে জ্বলতে থাকা কাপড় থেকে পেট্রল পড়ে থাকা জায়গাটা মুহূর্তে জ্বলে ওঠে। তবে এভাবে আগুন জ্বললে বাসগুলা পুরোপুরি নাও পুড়তে পারে। তাই বাস যাতে সুষ্ঠুভাবে পুড়তে পারে এ জন্য বিপদজনক কাজটা করতেই হয়। কোনো সাহসী যুবক তখন একটা সিগারেট জ্বালে। সিগারেটটা আয়েশ করে টেনে পাছাটা ঢুকিয়ে দেয় বাসের পেট্রল বক্সে। দিয়ে কিন্তু এক দৌড়ে আশপাশ থেকে দূরে সরে যায়। তবে ততক্ষণে ভুট্টা ফুটে পপকর্ন হওয়ার মতো করে ফুটে যায় বাসটা। এ এক অবর্ণনীয় দৃশ্য আর জটিল কার্যক্রম। 
 মানুষ কেন এত বিক্ষুব্ধ হয়ে নিজেদের শ্রমে গড়ে ওঠা সবকিছু জ্বালিয়ে দিচ্ছে সেটা বুঝতে পারছি না। তবে যেটা হচ্ছে সেটার মধ্যেই আমি উপভোগ্য বিষয়গুলো দেখতে থাকি। গ্রীষ্মের গরমে আগুনের তাপে চারপাশ ফুটন্ত তেলওয়ালা কড়াই হয়ে আছে। তারপরেও ঘাড়ের কাছে শীতল ঘামের স্রোত বইছে। 
 এরমধ্যেই চারদিকে ছুটাছুটি শুরু হয়ে গেলো। গুলির শব্দ হচ্ছে আর ধোয়ায় সবকিছু ঢেকে যাচ্ছে। আমার জন্য এ সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা।
 শহরটা ইদুরে ভরে গিয়েছিলো। আর চারদিকে প্লেগের মতো এক রোগ ছড়িয়ে পড়ছিলো। আর সবকিছু খুব জ্বলছিলো। মানুষেরা ছুটে পালাচ্ছিলো। ধোয়ার মধ্য থেকে হুটহাট গুলি ছুটে আসছিলো আর দু একজনকে ধরাশায়ী করছিলো। আমি অবশ্য জ্বলন্ত বাসের পাশেই ফুটপাতে বসে ছিলাম। এই দৃশ্যপটে আমার ভূমিকা কী হতে পারে, ভাবছিলাম। 
 মানুষেরা যেদিকে ছুটে পালাচ্ছিলো সেদিক থেকে কিছু দৈত্যাকৃতির বিড়াল আসছিলো শিকারির মতো সন্তর্পণে নিরবে। ভিড়ের মধ্য থেকে তারা বেছে বেছে খেতে লাগলো মোটাতাজা ইদুরগুলোকে। বলতে গেলে এটা খুবই ভয়াবহ এক দৃশ্য। কিন্তু আমার ভেতরে কোনোরকম ভয় কাজ করছে না। এর পেছনে কি কোনো কারণ আছে?
 বিড়ালের ব্যাপারে এক মজার তথ্য কারাগারে থাকতে এক বইতে পেয়েছিলাম। সেখানে লিখেছে, বিড়াল এক অদ্ভুত প্রাণী। বিড়ালের মধ্যে মানুষের সুপ্ত আকাঙ্খা লুকিয়ে থাকে। মানুষ স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়। আর বিড়াল সত্যিই স্বাধীনভাবে বাঁচে। বিড়ালেরা পুরোপুরি বশ্যতা স্বীকার করে না। বিড়ালরা যথেষ্ঠ আদর যত্ন পায়। কিন্তু ওরা নিজেদেরকে এসবের মায়ায় পড়তে দেয় না। এই সাহসিকতা যদিও মানুষের মাঝে নেই আর তারা সবকিছুতেই খুব করে প্রতিক্রিয়াশীল। কিন্তু এই নির্লিপ্ততা তাদের আরাধ্য বাসনা।

৫.
  কারাগারের দিনগুলো চলে যাচ্ছে একঘেয়েমির মধ্যে। ইদানিং বই পড়াও ছেড়ে দিয়েছি। উস্তাদদের কাউন্সিলিংগুলো সবচেয়ে বিরক্তিকর লাগে এখন। কিন্তু তর্ক করার উপায় নেই। এদের সাথে ঝামেলা করলেই বিশেষ নজরদারিতে পড়তে হবে, সলিটারি সেল, খাবার বন্ধ করা সহ আরো নানাভাবে বিরক্ত করবে এরা। তাই কোনোরকম তাল দিয়ে যাই। আমার মুক্তির সময়ও কাছিয়ে আসছে। এ জন্য কোনো ঝামেলায় যেতে চাচ্ছি না। 
 যাইহোক এভাবেই কারাগারে দিনগুলো চলে যায়। যদিও ইদানিং এক ধরণের উদ্বিগ্নতা কাজ করছে। কী হবে এরপর? বা সত্যিই কি মুক্তি পেতে চলেছি তাহলে! এ ধরণের বিভিন্ন জিজ্ঞাসা আমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। 
 এখানকার নিয়ম হলো মুক্ত হওয়ার সাথে সাথে তারা আপনার জন্য একটা কাজ ঠিক করে দেবে। যদিও বেশিরভাগ কাজই কিছু নিম্নশ্রেণীর তারপরেও একেবারে বেকার থাকার চাইতে কোনোকিছুতে ব্যস্ত থাকা ভালো। সে হিসেবেই এই কাজটা এরা করে। আমার জন্য তারা রাস্তা পরিষ্কার, পয়ঃনিস্কাশন জাতীয় কিছু কাজ ঠিক করে দিয়েছে। তারা মুক্তির দিন আমাকে একটা মিটিংয়ে ডাকলো। এখানে সংক্ষেপে তারা আমার ভবিষ্যত কর্মপন্থা বলে দিচ্ছে। জেল সুপার এক বুড়াকে দেখিয়ে বলল, এই যে এনার আন্ডারেই তুমি কাজ করবে। আর শোনো, এই কাজটায় তোমার রিপোর্ট ভালো এলে ইনি তোমাকে আরো ভালো কাজের জন্য রেফার করবেন। দেখো এখান থেকে যারা বের হয় তারা এখানকার আদর্শিক বার্তা সমাজে পৌছে দেয়। আমাদের একটা গুড উইল আছে। আশা করছি তুমিও সেটা রক্ষা করবে। 

 বের হওয়ার সময় তারা নতুন দুই জোড়া পোশাক আর একটা হাত ঘড়ি দিলো। আমি এক প্যাকেট সিগারেটের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সেটা আমাকে দেওয়া হয়নি। এর বদলে একটা চকলেট দিয়েছে এরা, সেই সাথে এ-ও বলে দিয়েছে, সিগারেট তোমার ইমেজকে নষ্ট করবে। তুমি এতোদিন এখানে থাকার ফলে তোমার প্রতি সমাজের লোকেদের অন্যরকম একটা নজর থাকবে। এসব আজেবাজে জিনিস তোমার প্রতি ওদেরকে বীতশ্রদ্ধ করে তুলবে। তোমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটা পালন করতে হলে একটু ভালোভাবে চলবে।
 কিছু করার ছিলো না। এতে অবশ্য আমার কোনোও খেদ ছিলো না। ফটক পেরিয়ে আমি এসে দাঁড়ালাম একটা মহা সড়কে। পার্কিং লটে আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য এমনকি একটা গাড়িও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার কোনো তাড়া ছিলো না। তাই আস্তে ধীরে চকলেটের খোসাটা ছিড়ে চকলেটটা মুখে পুরে দিলাম।

 আমি শহরে নিজের একটা বাসা পেয়েছি। সারাদিন কোনো কাজ থাকে না। বাসায় শুয়ে বসে কেটে যায়। আর ভোরে রাস্তা ঝাড়ু দিতে হয় আমাকে আরো অনেক অনেক কর্মীর সাথে। আমরা করতাম কি, ঝাড়ু দিয়ে ময়লাগুলো স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দিতাম। ময়লা বলতে বিভিন্ন ধরণে পলিথিন, ড্রিংকসের বোতল আর আজেবাজে কাগজ আর গাছের শুকনো পাতা। এগুলো মিলে জ্বলতো বেশ আর পলিথিন পোড়া ধোয়ায় আকাশ বাতাস অন্ধকার হয়ে আসতো। যদিও এগুলো বর্জ্য ফেলে দেওয়ার জন্য ট্রাকের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ট্রাক ব্যবহার নিষিদ্ধ। নগর কতৃপক্ষ মনে করে ট্রাক ব্যবহারে শহরের ময়লা দূর হবে না। এই ময়লা আবার ফিরে আসবে বাতাসে বাতাসে। আবুস সাআদাহ নামে আমাদের সাথে এক বুড়ো ঝাড়ুদার আছে, সে বলেছে, আমরা অনেক করে বলেছি এসব ধোয়া খুবই অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু কে শোনে কার কথা! 
 একটা ব্যাপার খেয়াল করেছি। আমাদের উস্তাদরা বলতো, সমাজ তোমাকে ভিন্ন চোখে দেখবে। আমিও এমনটাই দেখছি। সাধারণ আট দশজন নাগরিকের যে সুযোগ সুবিধা সেটা আমার নেই। এমনকি ওদের মতো আমি কোনো রেস্তোরায় খেতে পারি না বা কোথাও যদি যাই তাহলে পুলিশেরা এসে বলে, তুমি কেন এখানে এসেছো? আমার তেমন কিছু বলার থাকে না। তারা আমার নিরবতায় ক্ষেপে গিয়ে গালি দিয়ে বলে ওঠে, কুত্তার বাচ্চা নিজের খোয়াড়ে ফিরা যা। নবাবগিরি দেখাবি না একদম।
 মাথা নিচু করে ফিরে আসতে হয়। আমার রুটিন তাই ধরা বাধা কিছু নিয়মের মধ্যে আটকে পড়েছে। আর এই রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার ব্যাপারটা আমি কিছুতেই বুঝতে পারি না। আজকে সকালে পরিষ্কার করে আসলাম। দেখা যাবে কাল সকালে দিগুণ ময়লায় রাস্তা ভরে গেছে। এই ময়লা সাফ করো আবার কারা যেন রাতের বেলায় শহরের রাস্তায় রাস্তায় একই ময়লা ছড়িয়ে দিয়ে যায়। আবার সাফ করো। শুনেছিলাম বুড়ো আবুস সাআদাহর কাছে, যে এই সাফ করার কোনো বিরতি নাই। বছরের প্রতিটা দিনই তোমাকে আসতে হবে। একবার আইয়্যাস নামে এক লোক আসেনি এক সকালে। পরে আমরা তাকে আর কোথাও খুঁজে পাইনি। আমি জানতে চাইছিলাম, আচ্ছা শহরের বাইরে গিয়েও তো তাকে খুঁজতে পারতে। বুড়ো অবাক হয়ে বলেছিলো, আরে শহরের বাইরে মানে! শহরের বাইরে আর আছেটা কী! 
 যতো দিন যেতে লাগলো আমার সবকিছু অসহ্য লাগতে শুরু করলো। হুটহাট আমি নিজেকে আজব আজব জায়গায় আবিষ্কার করি। কখনো মনে হয় আমার বুঝি স্মৃতিভ্রমের রোগে ধরেছে নয়তো ঘুমের ভেতর হাঁটার অভ্যাস হয়েছে। দম বন্ধ হয়ে আসতে চায় মাঝে মাঝেই। আমি তাই দৃঢ় পণ করলাম, পালাতে হবে। এই শহরে আর থাকা যাবে না।

 এখন রাত গভীর আর আমি শহর ছেড়ে পালাচ্ছি। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে শহর থেকে বের হওয়ার কোনো রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না। যতোই হাঁটছি পথ শেষ হয় না। আর এই সময়টায় শহরটা আশ্চর্যরকম নিস্তব্ধ হয়ে আছে। এভাবে হাঁটছি তো হাঁটছিই। পথও ফুরায় না আর রাতও শেষ হতে চাইছে না। 
 একটা সময়ে পথটা এসে মিলেছে এক নদীর সাথে। নদীতে নেই কোনো নৌকা বা ফেরি। তবে নদীর পাড়ে ছোট্ট একটা ক্যাফে, যেখানে আলো জ্বলছে আর মৃদু বাজনা আর অস্পষ্ট সুরেলা কন্ঠ ভেসে আসছে। আমি ক্যাফের দিকে এগুলাম।
 ক্যাফে এল জলামে মৃদু আলো। লোক নেই বললেই চলে। আমি এক কাপ কফির অর্ডার দিয়ে ভেতরটা ভালো করে দেখতে লাগলাম। এক কোণে এক বৃদ্ধকে দেখতে পাচ্ছি। যদিও তাকে দেখে মনে হচ্ছে মোমের মূর্তি। পুরো ক্যাফেতে আর কেউ নেই। দেখে মনে হচ্ছে না এখানে কফি টফি কিছু পাওয়া যাবে। ভাবলাম, বুড়াটার সাথে সামনের পথঘাট নিয়ে আলাপ করি। 
 তার সামনে গিয়ে চেয়ার টেনে সামনা সামনি বসলাম। চেয়ার টানার শব্দটা খুব জোরেই হলো। যদিও জ্যুকবক্সে অজানা ভাষায় গান চলছে। কিন্তু তারপরেও জায়গাটা প্রচণ্ড রকম নিরব। বুড়োর সামনে রাখা কাপটা থেকে ধোয়া উড়ছে। বাতাসহীন বদ্ধ পরিবেশে ধোয়া একটা কাব্যিক রেখা তৈরি করে অলসভাবে মিলিয়ে যাচ্ছে। একটু শব্দ করে কাশলাম বুড়োর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। কিন্তু বুড়োর চোখের পাতা ছিলো খোলা আর মুখ ছিলো অভিব্যক্তিহীন। বুড়োর চেহারার রেখাগুলো বাদ দিলে চেহারাটা আমার বেশ পরিচিতই মনে হতে থাকে। যদিও মনে করতে পারছি না, কে হতে পারে এই বুড়ো।
 এই যে শুনছেন? হাতটা তার মুখের সামনে নাড়তে নাড়তে বললাম। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। জ্যুকবক্সে গান বাজছে, “ইশ ও মাত মিন সুকাত”। আমারও মনে হতে থাকে সবকিছু খুব নিরব আর মৃত। যদিও মিউজিকটা হেভি কিন্তু নিষ্প্রাণ। যা বুঝলাম আমাকে নদী পার হয়ে যে করেই হোক পালাতে হবে। অন্যথায় এই বুড়োর মতোন এখানে মূর্তি হয়ে যেতে হতে পারে। আমি উঠে দাঁড়ালাম চেয়ার ছেড়ে। নৌকা না পেলে সাতরে পার হবো তাও এখানে আর এক মুহূর্তও নয়। আমি বুড়োকে পেছনে রেখে উঠে দাঁড়িয়েছি। আমার হাতে একটা মৃত ঠান্ডা স্পর্শ টের পেয়ে ফিরে তাকালাম। বুড়ো ঘড়ঘড়ে কণ্ঠে রেকর্ডারে বেজে ওঠা রেকর্ডের মতোন করে বলে উঠলো, পালাও! তুমি যতটা সময় কাটাতে থাকবে এখানে ততোই মরে যাবে। পালাও!
 আমি ভয় পেয়ে গেলাম। দৌড়ে বের হয়ে এলাম ক্যাফে এল জলাম থেকে। নদীটার কাছে এসে ঝাপ দিলাম কোনোকিছু না ভেবেই। ভাবাবাবির সময় এবং মানসিকতা কোনোটাই নাই অবশ্য আমার। কিন্তু কিছুদূর সাঁতরানোর পর মনে হলো আমি ওপারে যেতে যেতে ঠান্ডায় জমে মরে যাবো। আমার পেশিগুলো আড়ষ্ট হয়ে আসছে আর আমি এখন নিজেকে কোনোভাবেই ভাসিয়ে রাখতে পারছি না। দূরের ক্যাফে থেকে ভেসে আসছে, “য়ুকতাব আলা আবরিক কান রাগুল তয়্যিব ইশ ও মাত মিন সুকাত”। আর আমি ডুবে যেতে যেতেও প্রাণপণে সাঁতারাচ্ছি, পালাতে ব্যস্ত আছি। যদিও পালানোটা অসম্ভবই মনে হচ্ছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126095/</link>
				<pubDate>Tue, 26 Jul 2022 14:38:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পঃ পলায়ন<br />
লেখকঃ সালমান সাদিক </p>
<p>১.<br />
 দুইটা পুরি খেতে ইচ্ছে করছিলো খুব। কিন্তু ফুটপাতে বসে আছি চুপচাপ। আসলে খেতে মন চাইলেও পকেটে মাত্র পাঁচটা টাকা আছে। ভাবছি, একটা পুরিও তো হবে। ওইটা খেয়ে অন্তত ইচ্ছাটা মিটাই। তারপরেও ফুটপাত থেকে উঠতে মন চাচ্ছিলো না। সময়ের কাটাটা এই সময়গুলোতে খুব ধীর হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর থেকে নিয়ে রাত দশটা এগারটা প&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-126095"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/126095/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">956b5bad50d3ad066cc9aa98d9da6153</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126094/</link>
				<pubDate>Tue, 26 Jul 2022 14:33:35 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>