-
এই শহরে ভালোবাসা বারণ :(ছোটগল্প)⇨ASM Shahadat Hossain
❝ভালোবেসে সখী নিভ্রিতে যতনে,
আমার নামটি লিখ তোমার মনেরও মন্দিরে।
আমার পরাণে যে গান বাজিছে,
তাহার তালটি শিখ,তোমার চরণমঞ্জীরে।❞কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এই লাইনগুলোর মাঝেই যেন ভালোবাসার পূর্ণ অর্থ বিদ্যমান।তিনি অতুলনীয় এক গভীর মায়া-মমতা দিয়ে লাইনগুলি সৃষ্টির মাধ্যমে পাঠকসমাজের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।তার এই গানগুলো ছাড়া যেন ভালোবাসার অর্থটাই ব্যর্থ। তিনি এসব লাইন সৃষ্টি করে ভালোবাসার অর্থকে করেছেন আরও সমৃদ্ধ এবং এর মর্যাদাকে নিয়ে গিয়েছেন অতুলনীয় উচ্চতায়।তিনি তার কবি জীবনে এমন অসংখ্য সৃষ্টি আমাদের উপহার দিয়ে গিয়েছেন এবং আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় বেশ শক্ত স্থান দখল করে নিয়েছেন।শুধু তিনিই নন,এমন আরো কবি,লেখক,সাহিত্যিক আছেন যারা প্রেম ভালোবাসা নিয়ে লিখেছেন।
প্রেম নিয়েই যখন কথা উঠলো তখন এই বিষয় নিয়েই একটু স্মৃতির গভীরে যাওয়া যাক।প্রেম শব্দটির অর্থ একেক জনের কাছে একেক রকম হলেও মুলভাবটা কিন্তু একই।কাব্যিক ভাষায়, শাখা-প্রশাখা অনেক হলেও দেহ একটাই।পূর্বের গল্পগুলো বিশেষ করে ঊনবিংশ শতকের প্রেমের গল্পগুলো ছিল খুব মজার।তারা একে অপরের বিশ্বস্ত ছিল,
তাদের একে অপরের প্রতি মায়া ছিল।তখনকার সময়ে এত আধুনিক প্রযুক্তি ছিল না।তাদের সময়ে চিঠি পত্রের মাধ্যমে আলাপ হলেও তা ছিল বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেক ভালো।বর্তমান সময়ে অনেক আধুনিক প্রযুক্তি থাকলেও নেই আগের মতো বিশ্বস্ততা,একে অপরের প্রতি টান,মায়া,যত্ন।এখনকার সময়ের ভালোবাসার অর্থ দুটি। হয়তো Time pass আর নয় তো Sexual enjoyment… বর্তমানের ছেলেমেয়েরা মূলত এই দুই উদ্দেশ্যেই সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে।তবে সবাই এক নয়।সত্যিকারের ভালোবাসাও আছে।না থাকলে আমার মনে হয় পৃথিবীতে প্রেম নামক শব্দটার অস্তিত্বই থাকত না।আর এখনকার ছেলেমেয়েরা প্রেমে ব্যর্থ হলে যে ভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে তা বড়ই হাস্যরসপূর্ণ।আগে প্রেম নিয়ে যে unique গানগুলো লেখা হয়েছিল তা ছিল অর্থবোধক এবং হৃদয়ে ঠাই পাবার মতো।কিন্তু বর্তমানের প্রেমের গানগুলোর আগা-গোড়া কিছুই নেই। বলতে গেলে এখন প্রেম-ভালোবাসার কোনো বিশেষ অর্থই নেই। আর প্রেমের মান -সম্মান নিয়ে কথা বলতে গেলে বলতে হবে তা ধূলার সাথে মিশে গেছে।আমি নিজেও একবার এই প্রেমে পড়েছিলাম।কিন্তু সফল হইনি।শুরু হওয়ার পূর্বেই তা শেষ হয়ে গিয়েছিল।গল্পটা শেষ হয়েছিল লজ্জায়,অপমানে ও ব্যর্থতায়। তবে আমার প্রথম ও শেষ গল্পটা একটু ভিন্ন।আমার এই গল্পটা ছোট,তাহাকে ছোট করেই লিখব।
আমার এই ব্যর্থ গল্পের নায়িকা দেখতে বেশ ভালো,ভদ্র,শিক্ষিত,ঘরের একটি মেয়ে ছিল।স্বাভাবিক শহুরে মেয়েদের চেয়ে সে একটু বেশিই শহুরে ছিল।বালিকার অনেক গুণ ছিল। সে আমাদের স্কুলের বিতর্ক ক্লাবের সভাপতি ছিল-এ থেকেই বুঝা যায় যে সে ছিল ভীষণ যুক্তিবাদী।লেখাপড়া ও কথাবার্তায়ও সে ছিল অতুলনীয়।সেই হিসেবে তার বন্ধু-বান্ধব ছিল অনেক। তবে সে সবার সাথে মেশার প্রয়োজন বোধ করত না।অন্যদিকে আমি ছিলাম সম্পূর্ণ তার বিপরীত-মফস্বল এক গ্রামের ছেলে।কেউ পছন্দ করবে এমন কোনো গুণই ছিল না আমার।আর আমার সমস্যার কথা সবারই জানা। সুতরাং, আমাকে পাত্তা না দেওয়াটাই স্বাভাবিক। হয়েছিলও তাই।আমি প্রথমে তাকে চিঠি লিখলাম।চিঠি লেখার ধরণটাও ছিল একটু আলাদা।চিঠির মূলভাবটা ছিল কিছুটা এরকম-❝আপাতত আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা থাক,পরে কোনো ভালো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে তারপর সম্পর্কের কথা নিয়ে ভাবব।❞এই চেষ্টায় ও প্রথমবার আমার সামনে কথা বলতে এসেছিল আমার সাথে।কিন্তু প্রথম বারেই ও আমাকে সরাসরি Reject করল কিন্তু একটু ঘুরিয়ে।যে কথাটা বারবার বলেছিল সেটা হলো ওর পরিবার নাকি ওর সম্পর্কের কথা শুনলে অনেক রাগ করবে।❝না❞করলেও আমার চেষ্টাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।একটা সময় বললো SSC পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে।কথাটি শুনে খুশি হয়েছিলাম কিন্তু তখন কে জানত যে আমি যা ভেবেছিলাম তা আমার কপালে নেই।এই ভেবে ভয় হচ্ছিল যে আমার সমস্যার জন্য ও আমাকে আবারও না করে বসবে না তো।
অবশেষে পরীক্ষা শেষ হলো এবং আমার ভয় সত্যিকারের রূপ ধারণ করলো। আমার গল্প সীমাহীন আনন্দের পরিবর্তে ভরে গেল ব্যর্থতার কষ্টে।প্রথমে বিশ্বাস হয়নি ওর না বলার কারণটি। কারণটা ছিল যে,ও নাকি ওর বাবার এক ছাত্রের সাথে ২০১৮ সাল থেকে সম্পর্কে জড়িত। যে মেয়ে আমাকে না করে দিল এই কারণে যে ওর বাবা-মা অনেক রাগ করবে, সেই মেয়েই কিনা ২০১৮ সাল থেকে সম্পর্কে জড়িত। আমার বিশ্বাস না হলেও এটাই ছিল আমাকে না করার একমাত্র কারণ ছেলেটির নাম ঠিকানা যখন জিজ্ঞেস করলাম তখন সে যেন একটু হকচকিয়ে গেল।পরে যে গল্পটা বললো সেটা যে নিছক সাজানো একটা গল্প তা বুঝতে আমার একটুও ভুল হলো না।তার দেওয়া ছেলের মোবাইল নম্বরে Call দিতেই আমার সন্দেহ আরো তীব্র হলো।কিন্তু তখন আমার হৃদয়ে কষ্টের ছাপ। তবে কষ্ট যে খুব একটা বেশি হয়েছে বিষয়টি তেমন নয়।তবে একটুও হয়নি এমনও নয়।এসবের পর তাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। একটা সময় ভুলেও গিয়েছিলাম কিন্তু সম্পূর্ণভাবে পারিনি। কিন্তু মাঝে মাঝে যখন মনে পড়ত তখন ভেতরে এক প্রকার আফসোস কাজ করত। নিজেকে অসহায় মনে হত। মাঝে মাঝে আল্লাহর কাছে প্রশ্ন করি যে কেন আমার সাথেই এমনটা হয়।উত্তর পাইনা। কেও দেয়না। আবার প্রশ্ন করি যে এই সমস্যা আমাকে কেন দেওয়া হলো।আবারও বৃথা চেষ্টা। তখন মনে একটা স্বান্তনা কাজ করে যে, আল্লাহ-তিনি তো অন্তর্যামী। তিনি যা করেন ভালোর জন্যেই করেন। আমার ভাগ্যে হয়তো সে ছিল না।তবুও মনকে বোঝায় কে?এখন আর সবসময় তার কথা মনে পড়েনা। যখন মনে পড়ে,তখন কষ্টের এক সামান্য বিন্দু একফোঁটা তৈলের ন্যায় হৃদয়ের এক কোণায় ব্যথার প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করে আমাকেও বুঝতে না দিয়ে নিজে নিজেই নিভে যায়।
হুমায়ুন আহমেদ তার এক বেশ জনপ্রিয় উপন্যাস “শঙ্খনীল কারাগার” এ বলেছেন,
❝মৃত্যুর জন্যে মানুষ শোক করে ঠিকই, কিন্তু সে শোক স্মৃতির শোক, এর বেশি কিছু নয়।❞
আমার মনে মৃত্যু ঘটা সেই কাহিনির স্মৃতি মনে পড়ে বারবার। শোকও হয়। তবে সে গল্পটা বেশি দীর্ঘ না হওয়ায় শোকটা তত গভীরও নয়।আমাদের স্মৃতিশক্তিও কেমন যেন আজব। যে জিনিসটা সারাজীবন ভুলে যেতে চেষ্টা করি, সেটা কখনো ভুলতে পারিনা।আবার যখন কোনো একটা ছোট্ট একটা জিনিস মনে করতে চেষ্টা করি তখন সেটা মনে পড়েনা।তার স্মৃতির কথা বিশেষ ভাবে মনে পড়ে কিছু মানুষের সাথে দেখা হলে এবং কিছু জায়গায় গেলে।বিশেষ করে যখন শিবলীর সাথে আড্ডা দিতে যাই।
ওর সাথে আমার দেখা হয়না অনেকদিন।SSC এর পর থেকে হয়নি একবারও।মাঝখানে একবার অল্প কয়েকদিন কথা হয়েছিল Messenger এ।দিনের পর দিন অতিবাহিত হতে থাকে।মনে খুব আশা জাগে, যদি তার সাথে একবার দেখা হতো,যদি একবার তার সাথে সরাসরি কথা বলতে পারতাম, তাকে নিয়ে আমার অনূভুতি বুঝিয়ে বলতে পারতাম তাহলে হয়তো সে আমাকে বুঝত,আমাকে জড়িয়ে ধরে তার মনের কথাগুলো বলত।আমার এই আশা বড়ই কাল্পনিক।কিন্তু কোটি কোটি যুগের পর যদি দৈবাৎ তার সাথে আমার মঙ্গলগ্রহের লাল অরণ্যের ছায়ায় তার কোনো একটা হাজার ক্রোশী খালের ধারে মুখোমুখি দেখা হয়,আর যদি শকুন্তলার সেই জেলেটা বোয়াল মাছের পেট চিরে সেদিনের সেই সোনার মুহূর্তটিকে আমাদের সামনে এনে ধরে,চমকে উঠে মুখ চাওয়া-চাউয়ি করব,তারপর কি হবে সে ভেবে দেখবে তো…??তারপর সেই সোনার মুহূর্তটি অন্যমনে সমুদ্রের জলে খসে পড়বে না তো..?পড়লেই বা কি করার।এমন কত মুহূর্ত খসে পড়ে গেছে,ভুলে গিয়েছি বলে তার কোনো হিসেব নেই।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়তো ঠিকই বলেছেন,
❝ফিরিবার পথ নাহি,
দূর হতে যদি দেখ চাহি
চিনিতে পারিবে না আমায়।❞
◑ শেষের কবিতা-রবি ঠাকুরমাঝে মাঝে সে ক্ষণিকের জন্য রুপকথার সেই রূপসী কন্যার ন্যায় আমার স্বপ্নে আগমন করে।আমাকে সে ডাকে, কিছু অব্যক্ত কথা যেন আমাকে বলতে চায়। আমিও আকুল হয়ে তার মুখমণ্ডলের দিকে চেয়ে থাকি। কিন্তু সে কি যেন একটা ভয়ের কারণে বলতে পারে না। আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে যেতে একসময় হারিয়ে যায়।তাকে এদিক সেদিক খুঁজেও পাওয়া যায়না।সকালে ঘুম ভেঙে গেলে কিছুই আর মনে থাকে না।নিত্যকার কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে যাই।কিছু কিছু কাজে ও কথায় তাকে মনে পড়ে যায়।তখন তাকে ভেবেই খুব অজানায় কত অভিনয় করে যাই।
চোখের সামনে তাকে খুঁজি,তার ছবি ভেসে ওঠে,মুহূর্তেই হারিয়ে যায়।আশেপাশের মানুষের মাঝে ক্ষণিকের জন্য হলেও তাকে দেখতে চাই।
একটা সময় মনে হয় আর কত…??কতই আর একটা অতীত গল্পকে হৃদয়ে ঠাই দিয়ে স্মৃতির কষ্ট বুকে নিয়ে বেচে থাকব।তখন
মনে পড়ে যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই লাইন,❝অতীতের তীর হতে যে রাত্রে বহিবে দীর্ঘশ্বাস
ঝরা বকুলের কান্না ব্যথিবে আকাশ,
সেই ক্ষণে খুঁজে দেখ-
কিছু মোর পিছে রহিল সে-
তোমার প্রাণের প্রান্তে-বিস্মৃতিপ্রদোষে
হয়তো দিবে সে জ্যোতি,
হয়তো ধরিবে কভু নাম-হারা স্বপ্নের মুরতি।❞একটা সময় মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে ফেলি যে,যতদিন বেচে থাকব মেয়ের সাথে ভালোবাসার সম্পর্কে নিজেকে জড়াব না।করবো না বিয়েও। সারাজীবন চিরকুমার থেকেই জীবনটা কাটিয়ে দিব।
শুধু প্রেমের বিষয় নয়,এখন আমার সামনে কোনো মেয়ে আসলেই আমার অনেক রাগ হয়।দেখতে ইচ্ছে করে না কোনো মেয়েকে।মনে হয় জায়গাটি যত দ্রুত ত্যাগ করা যায়,ততই আমার জন্য ভালো।কিন্তু তাকে সরাসরি বলতে পারিনা যে আমার সামনে থেকে সরে যাও।শুধু সামনে আসলেই না, এখন কোনো মেয়ের প্রতি তাকাতেও ইচ্ছে করে না।কিন্তু উপরওয়ালার মহিমা অনেক বড়।আমার ঘরেই দিয়েছেন চার-চারটি বোন।এখন তাদের তো আর ignore করতে পারিনা।
এখন মাঝে মাঝে ভাবি,সে যদি তার এই কথাগুলো আগেই আমাকে জানাত, তাহলে হয়তো আমার আজ এত আফসোস, কষ্ট থাকত না।এই তার যা ছোট্ট এক ভুল।এই ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই।
আমি কোনো super man নই,আমার নেই কোনো আধ্যাত্মিক শক্তি।নেই রবীন্দ্রনাথ, হুমায়ুন আহমেদের মত কোনো কাব্যিক প্রতিভা। আমি অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতই একজন মানুষ।সুতরাং আমাকে ভালোবাসার অন্য কোনো কারণ নেই।
ভুল মানুষমাত্রই হয়ে থাকে। তাকে ভালোবাসা,তার সাথে সারাজীবন সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে কাটানো,যে কোনো পরিস্থিতিতে একে অপরের পাশে থাকার স্বপ্ন দেখাই হয়তো আমার ভুল ছিল।
❝পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে
কালের যাত্রায়।❞
◑ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরএখন আমি আমাকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।আমার মনে হয়, ওকে ওর মত থাকতে দিই, আর আমি আমার মত থাকি।
কেননা,”ভালোবাসার মানুষকে নিজের করে পেতেই হবে -এটা ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ নয়। বরং ভালোবাসার মানুষ যেখানেই থাক,যার সাথেই থাক ভালো থাকুক- এই কামনা করার নামই ভালোবাসা।
ও ওর মতো সুখে-শান্তিতে জীবন অতিবাহিত করুক, আর আমি আমার প্রতিজ্ঞা নিয়ে,ভালো মানুষ হবার স্বপ্ন নিয়ে নিজের মত করে থাকি।আর কথায় বলে,”সত্যিকারের ভালোবাসাকে কখনো পাওয়া যায় না।থেকে যায় অসম্পূর্ণ।”
সাথে না থাকুক,হৃদয়ের এক কোণায় তার স্মৃতি লুকিয়ে আছে,এটাই অনেক।
জানিনা আমাদের গল্পটা কেমন ছিল, তবে যেমনই ছিল মনে রাখার মতো ছিল।❤️ Best Wishes to BOTH ❤️
4 Comments
Friends
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor
তুলট ডেস্ক
@toulot


চমৎকার গল্পের জন্য অভিনন্দন।