-
শেষ পর্ব
চিঠি
লোকটার ভ্যাবাচেকা দেখে মোহিনী বুঝতে পারে ঘাফলা আছে এই দোকানে। হঠাৎ ওর চোখ যায় কিছু বই এর খালি মলাটে।
মোহিনী বাসায় বসে ভাবছে ওর সাথে কি থাকতে পারে। নতুন এসেছে সে,শত্রু নেই বন্ধু ও নেই। বই এর দোকানের কথা বারবার বলা হয়েছে।
মোহিনীর নজর বুকসেলফে যায়। সে তখনই চমকে উঠে।গত শুক্রবার এ বই এর দোকানের থেকে আনা বইগুলো নেই।
মোহিনীর তখন বুঝতে বাকি থাকে না ঘাফলা আছে। কিছু তো আছে যা সে দেখেও দেখছে না।
তার মনে পড়ে একটা বই তার কাছে রয়ে গেছে। সে বইটা রান্নাঘরের তাকে রেখে এসেছে।সে বইটা উল্টে পাল্টে দেখলো কিছু নেই। সে ভাবতে ভাবতে বই এর মলাটে নজর গেলো মলাট ভারি অনেক। সে মলাট হাত ভুলাতে বুঝলো মলাট ফাপা। সে একটা চাকু নিয়ে মলাট কাটতেই যা দেখলো চোখ বড় বড় হয়ে গেলো
মোহিনী থানার ওসির সাথে কথা বলছিলো। সে সব খুলে বলে। এরপর পুলিশ বই এর দোকানদারকে এরেস্ট করে।
এই ঘটনার সাথে আরো কয়েকজন জড়িত পাওয়া যায় যা দেখে রুনার চোখ কপালে উঠে ।
আজকে রুনার এই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার দিন। সে বাড়ির কাছে স্কুলে বদলি হতে পেরেছে।
মোহিনী ওসির সাথে দেখা করতে আসে। দাওয়াত ছিলো ওসির বাসায়।
ওসি মহিনদ্দিন মোহিনীকে বললো আপনি বুঝলেন কিভাবে বই এর মলাটে কিছু থাকবে। মোহিনী বললো ফাপা থাকায় সন্দেহ হয় আর খুলে ইয়াবা দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। কিন্তু এটা ভাবি নি এর সাথে রুনু জড়িত আছে।কিন্তু চিঠি কেনো দিলো বুঝলাম না।মহিনউদ্দিন বললো তারা দেখা না দিয়ে আপনাকে আবেগে নিয়ে আপনার সাথে সাহিত্যের কথা বলে গোপনে বই ধার নিতো আপনার কাছ থেকে আর তারপর ইয়াবা রেখে দিয়ে বই ফেরত দিতো। আর আপনি চিঠি পছন্দ করেন রুনুকে হয়তো বলেছিলেন। রুনু ভেবেছে আপনি একা কেউ চিঠি লিখলে ভাববেন আপনাকে কোন ছেলে পছন্দ করে তাই আপনি আবেগে ভাসতে পারেন বই দিতে রাজি হবেন আর কি হচ্ছে বুঝবেন না। আর সেইদিন বই এর মালিক না থাকায় অন্য ছেলে ভুলে আপনাকে এই বইগুলো দিয়েছিলো। কারন একেই মলাটের বই ছিলো দোকানে। কিছু বই থাকতো ড্রাগ আর কিছু বই পড়ার জন্য। যাতে কখনো সন্দেহ না হয় কারো। সন্দেহ এড়াতেই আপনাকে চিঠি লেখে। ওরা স্বামী-স্ত্রী একেই দলের লোক, ছদ্মবেশ আর ছদ্মনাম নিয়ে আছে। কেউ জানতো না এই লোক রুনুর স্বামী ।
মোহিনী বললো আমি সবচেয়ে বেশি চমকাই বই এর দোকানদার রুনুর স্বামী শোনার পর। তাই হয়তো রুনু চায় নি আমার উপর সমস্যা হোক।
মহিউদ্দিন বলে যে আপনাকে যে পিঠা দিয়েছে সেই পিঠার কাগজে ডেভিল ব্রেথ নামের ড্রাগ লাগিয়ে রেখেছিল যার ফলে আপনার ১০ মিনিট কোন জ্ঞান ছিলো না আর ও সেই ফাকে বইগুলো রুনু নিয়ে যায় তাই আপনি ওর কোন কথা সেইদিন শুনতে পান নাই। আর এই বই এর ভিতর করে বেচা ইয়াবা এই এলাকার ছেলেরা কিনে নিতো যা কেউ বুঝতে পারতো না। আর ড্রাগের জন্য এই দোকান অনেক পরিচিত ছিলো আর এটা চালাতো রুনু আর তার স্বামী মিলে। অনেক বড় চক্র ছিলো। আর এই চক্র ধরার জন্য অনেকদিন চেষ্টা করা হচ্ছিলো । কিন্তু বই এর দোকানের মতো জায়গা যে হতে পারে কল্পনার বাহিরে আসলে।
মহিনদ্দিন বললো আপনার চিঠি পেয়ে কেনো মনে হলো এটা আপনাকে দিচ্ছে না, এমনি লেখা আপনাকে বিভ্রান্ত করার জন্য।মোহিনী এই কথা শুনে এইবার হেসে উঠলো .।সে বললো লেখাগুলি অনেকটা হাস্যকর ছিলো যারএক লাইন অন্য লাইন এর সাথে তেমন কোন মিল নেই, আমি তাই বই এর দোকানে যাই তখন আমি একটা বই দেখি হয়তো নতুন কোন লেখকের ছিলো । সেখানে লেখা” জীবনের মানে কি জানেন”,এই কথা আমার খটকা লাগে। আর তাই বই এর দোকানের রিসিটে দোকানদারের হাতের লেখা দেখে বুঝে যাই যে চিঠি কে লিখেছে। মহিনদ্দিন বলে সাধারণ মানুষ এইভাবে ভাবতো না আপনি এইভাবে কেনো ভাবলেন। মোহিনী হেসে বলে আরে স্কুলে চাকরি করার আগে আমি সংবাদপত্রের ক্রাইম রিপোর্ট করতাম। সেখানে আমাকে অনেক হুমকি দেওয়ার পর ছেড়ে এই জবে আসি শান্তিতে থাকতে।
এমন সময় মহিনদ্দিন এর ওয়াইফ এসে বলেন এইবার তো রাখো কেইসের কথা। চা খেয়ে নিতে দাও আপুকে। মোহিনী বলে চা আজ খাবো না ভাবি এখন উঠতে হবে কারন বাসার মালামাল গোছাতে হবে। এই বলে মোহিনী ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হাটতে লাগলো।4 Comments
Friends
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
Md.Emamuzzaman Wahedi
@emamuzzaman
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
Saiful-Malek
@saiful-malek
Simon Mrong
@simon-mrong
Kazi Shafiul Boshor Sami
@shafiulsam
Lamia-Tasfia
@lamia-tasfia
Jannatul Ferdous Nusrat
@jannatulferdousnusrat

সুন্দর