<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Shofi-Muhammad | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/shofi-muhammad/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/shofi-muhammad/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Shofi-Muhammad.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 13 Jun 2026 20:41:46 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">1ac112ad76bda597c23db5fdd73a53d1</guid>
				<title>রেললাইনের পাথুরে পথ মাড়িয়ে,অজগরী সড়কের কোলাহল ছাপিয়ে,ঝিলের তিরে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের তালে, হিম হিম বাতাসে দোল খাওয়া বৃক্ষরাজি একেককরে পিছনে ফেলে,হেলেদুলে দিব্যি হেঁটে চলছি আমি। 
বৃষ্টিস্নাত বিকেল। ভেজা মাটির গন্ধ। হৃদয়ে উথাল-পাতাল ছন্দ উঠছে। মনের অলিন্দে ঘুর ঘুর করছে আনন্দরা। মাথার উপর সবুজের শামিয়ানা। তার মাঝে লালের মিছিল। কৃষ্ণচূড়া ফুল ঝরে রাস্তাময় ছড়িয়ে আছে। যেন রক্তিম গালিচায় ঢেকে গেছে পুরো পথ। লাল সবুজের কী অপূর্ব মিশ্রণ!  কী দারুণ!  ভিন্নরকম অনূভুতি! রাঙা প্রকৃতি!  বাহ বাহ! চমৎকার! 
ঝিলের অশান্ত জল ঘেঁষে, শান্ত হয়ে বসে আছে সিড়ি বহুতল ঘাট। বৃষ্টির পানিতে শেওলা জমে কেমন স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে আছে। তাতে কী? আশেকানদের মেহফিল কি আর থেমে আছে? বরং জমে উঠেছে।  যেন ঝড় বইছে।  প্রেমের ঝড়। বৃষ্টিতে জবজবে ঘাটে বসে, একহাতে প্রেমফলের খোসা ছাড়িয়ে, অপরহাতে প্রেয়সীর মুখে পুরিয়ে, মধু বিলাস করছে একদল মৌমাছি। দমকা হাওয়ায় চুলের  ঝুঁটি না নড়লেও বাদামের খোসা ঠিকই নড়ে উড়ে যাচ্ছে।
কোথাও আবার ভিন্ন চিত্র। একে অপরের কাঁধে মাথা হেলিয়ে অন্য জগতে হারিয়ে যাচ্ছে কেউ কেউ। যেখানে শুধুই তারা৷ আর কেউ নেই। দু&#039;জনে দুজনে, গোধূলিলগ্নে,দিকহারা প্রান্তরে, প্রেমময় অন্তরে,মধুর সুরে মন উজাড় করে গান তুলে,,,
,,,মন,,,,,,মাঝি,,,,,,রে,,,,,,।
এতক্ষণে ম্রিয়মাণ সূর্যটা বিদায় জানিয়েছে।  দিনের ফকফকে আলো ধীরে ধীরে কালো হয়ে যাচ্ছে। নেমে আসছে সন্ধ্যা।  জ্বলে উঠেছে ল্যাম্পপোস্ট।  সেখান থেকে আলোকচ্ছটা এসে সন্ধ্যাকালীন ঝিলে ছড়িয়ে পড়ছে। আচমকা হাওয়ায় ফুঁসলে উঠছে তার নোনা জল। আলো -আধাঁরের কী মধুর মিলন! ওরেব্বাহ।!
প্রাকৃতিক এ মোহে মোহগ্রস্ত হয়ে গন্তব্যে পা বাড়ালাম। হঠাৎ থমকে দাঁড়ালাম। মনুষ্যত্ববোধ নড়েচড়ে বসলো। ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল।
৬ বছরের খুদে শিশু।  প্যান্ট পরা। উস্ক-খুস্ক চুল। ধূলোমলিন চেহারা।  ডানহাতে চায়ের ফ্লাস্ক নিয়ে,বামকোলে ক্ষুধায় কাতরানো ছোটভাইকে আগলে রেখে, গুটিকয়েক অর্থ-বাড়ির অন্বেষণে,ধারে ধারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পাশে গাছের আড়ালে টিঙটিঙে হাড্ডিসার কুকুরের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে আরেক ভাই। কী মায়াবী তার চাহনি। কিন্তু,জীবনে একটুও মায়া নেই। বিন্দুমাত্র হাসি নেই। আছে একগাদা কান্না। বুকভরা হতাশা। দুঃখ -দুর্দশা। আর কিচ্ছু নেই। 
অট্টালিকায় ঘেরে এই অচেনা শহরে নির্বাক হেঁটে চলছে ৩ সহোদর।  যে বয়সের শিশুরা মাতৃক্রোড়ে আশ্রিত থাকে। নিরাপত্তার ছাউনিতে আবদ্ধ থাকে।গভীর রজনীতে আচানক ঘুম ভেঙে হাউমাউ করে কেঁদে উঠার পর, মায়ের সুরেলা কণ্ঠে, ঘুমপাড়ানি গান শুনে নিদ্রার কোলে ঢলে পড়ে; সেই বয়সেই কিনা জীবন যুদ্ধে নেমেছে এই ৩ ভাই। 
তারা বোধহয় জেনে গেছে,চাকচিক্যের প্রাচুর্যে ঠাসা এ পৃথিবী তাদের নয়৷ বিলাসিতার ধুম্রজালে ফেঁসে যাওয়া এ নগরী তাদের নয়। সব বিত্তশালীদের।  ধনের ভারে পিঠ নুয়ে পড়া ধনুকুবেরদের।
কিন্তু তারা থামে না। তারা দমে যায় না। হরদম এগিয়ে চলে। দুর্বার গতিতে সামনে চলে। তারা শপথ করে, একদিন তারা মাথা উঁচিয়ে দাঁড়াবে। স্বৈরতার কৃষ্ণ আঁধারে নিমজ্জিত এ সমাজে ন্যায়ের আলোকবর্তিকা হবে। তা কি আদৌ সম্ভব?  হয়তো হ্যাঁ, নয়তো না। তবুও তারা থামেনা। জীবনের চাকাকে সচল রাখতে দিক-দিগন্তে দাপিয়ে বেড়ায়। বৈচিত্র&#x200d;্যের আদলে গড়া এ শহরে, বিচিত্র সব মহলে বিরতিহীন ছুটে চলে। তারা তিন সহোদর চলে। শুধুই চলে।
-- শফী মুহাম্মাদ</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/124938/</link>
				<pubDate>Fri, 22 Jul 2022 01:19:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রেললাইনের পাথুরে পথ মাড়িয়ে,অজগরী সড়কের কোলাহল ছাপিয়ে,ঝিলের তিরে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের তালে, হিম হিম বাতাসে দোল খাওয়া বৃক্ষরাজি একেককরে পিছনে ফেলে,হেলেদুলে দিব্যি হেঁটে চলছি আমি।<br />
বৃষ্টিস্নাত বিকেল। ভেজা মাটির গন্ধ। হৃদয়ে উথাল-পাতাল ছন্দ উঠছে। মনের অলিন্দে ঘুর ঘুর করছে আনন্দরা। মাথার উপর সবুজের শামিয়ানা। তার মাঝে লালের মিছিল। কৃষ্ণচূড়া ফুল ঝরে রা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-124938"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/124938/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0a48936dd0ec5a4d24b5a66e57b2c7af</guid>
				<title>ভুত নয় ভুতুড়ে। পর্ব ৩
 
স্বামীর কিনে দেওয়া লাল শাড়িটা পরে চুপিসারে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে ফাহমিদা। রাত তখন গভীর। গোটা গ্রামজুড়ে ছেয়ে গেছে মৃত্যুপুরীর নিস্তব্ধতা। তবে পাশের ঘর থেকে আছমত চাচা মৃদু নাক ডেকে রাতের নীরবতা ভাঙ্গার ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফাহমিদা ঘর থেকে বেরিয়ে বাঁশবনের পথ ধরল। বনের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে রক্ত-হিম-করা অন্ধকার। দমকা হাওয়ায় বাঁশঝাড়গুলো অদ্ভুত ধ্বনি তুলছে। দূর থেকে ভেসে আসছে শিয়ালের হুক্কাহুয়া আওয়াজ। সব মিলিয়ে বাঁশবন জুড়ে একটা ভুতুড়ে ভাব বিরাজমান, কিন্তু ফাহমিদার অতটুকুনও ডর-ভয় করছেনা। ভয়েরা আজ মরে গেছে। সেও মরতে যাচ্ছে। এ জীবন রেখে কী লাভ? ঐ তো সন্ধ্যার রাতে স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে তার। কাল বাবা নিয়ে যেতে আসবে। একে তো তালাকপ্রাপ্তা,তার উপর বন্ধ্যা, সন্তান হয়না। সমাজে মুখ দেখাবে কী করে গো? এমন হাজারো দুশ্চিন্তা তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। তার চোখে হৃদয়ে ভর করে আছে হতাশার কালো মেঘেরা। হাঁটতে হাঁটতে সে পরিত্যক্ত মেশিনঘরটায় চলে আসে। সেই বৃটিশ আমলের মেশিনঘর। একসময় এখান থেকেই কৃষকরা তাদের ক্ষেতে পানি সেচ করতো,কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেটি অকেজো হয়ে যায়। সেখানে বাসা করে নেয় সাপ বেজিসহ ভয়ঙ্করসব পোকামাকড়ের দল। অনেকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে এখানে আসে। আজ ফাহমিদা এসেছে মৃত্যুর ডাকে সাড়া দিতে,না, বরং মৃত্যুই কিনা তার ডাকে সাড়া দিতে এসেছে।
 
 
 
মেশিনঘরের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল বড় নিমগাছ। ফাহমিদা গাছ বেয়ে মেশিনঘরের পাঁচিলে উঠে দাঁড়ায়। গলায় প্যাচানো লাল ওড়নাটা খুলে তার একপাশ গাছের ডালে বাঁধে । আরেকপাশ দিয়ে ফাঁস তৈরি করে গলায় বেঁধে নেয়। তারপর কী হয়? যা হওয়ার তাই হয়।
 
 
 
- বলটা দে তো দিকি মানসুর!  আমি ওভার করি। কিযে বল করিসনা তুই। অমন করে বল করলে ছক্কা হাঁকাবেনা তো চুমু খাবে? ভ্রু কুন্ঞ্চিত করে বলল ফারুক।
-ওরে বাবা! কেউ এসে তো দেখে যা আমাদের বোলারকে। অমন সুন্দর বল আমি বাপের জনমেও দেখিনি বলে দিলাম হ্যাঁ …বল তো নয় যেন ঢিল ছুঁড়ে। অনেকটা তুচ্ছ করে বলল মানসুর।
-কী বললি তুই? আমি ঢিল ছুঁড়ি বুঝি? তা তুই কী ছুঁড়িস শুনি!
হলো তো। সকাল না হতেই লেগে গেল দুজন। ফারুক তো পারেনা গা বাঁধিয়ে ঝগড়া করে। কে থামাবে ওদের। তাদের চিল্লাচিল্লিতে কানের বারোটা বাজা শেষ। এমন সময় ব্যাটিং প্রান্ত থেকে আশফাক একটা মুরুব্বিয়ানা ভাব নিয়ে বলল,
- কী কচ্ছিস তোরা? অমন করে সকাল সকাল কেউ ঝগড়া করে? লোকে যে মন্দ বলবে। দোহাই লাগে। এবার তো থামবি নাকি। অ্যাই মানসুর! বলটা ফারুককে দে দিকি!
 
 
মানুসর বল দিল। ফারুক নিল। সবাই প্রস্তুত। ফারুক বল করবে বলে কথা। পা টিপেটিপে দৌড়ের মতো ভঙ্গি করে মারল এক ঢিল। তারপর কী হলো জানিনা, বল আকাশে। দুই দুই চার জোড়া চোখ আকাশ পানে তাকিয়ে। রনিদের বাড়ির তাল গাছ পেরিয়ে বল সোজা কচু ক্ষেতে। মানসুর চেঁচিয়ে বলে উঠলো,
-ওই দ্যাখ! কী কচুর বল করলেনা, বল এখন কচুর ক্ষেতে। বলটা খুঁজে আনেন তো দিকি!
 
 
ফারুক আনবে বল? তার মতো অলস আর একটা আছে কিনা জানা নেই। গুগলবাবাও বোধহয় জানেনা। দলের সবার ছোট আমি। সেই অপরাধে কিনা আমার উপর বল কুড়িয়ে আনার দায়িত্ব চাপল।
 
 
 বল কুড়াতে ক্ষেতের সরু আইল ধরে হাঁটতে লাগলাম। দুপাশ কচু ক্ষেতের বিশাল সমারোহ। ইয়ে বড় বড় কচু। আস্ত দানব যেন। কচু চাষ না বলে আদমচাষ বললেও ভুল হবেনা। রনিদের তাল গাছ পেরিয়ে কচুক্ষেতে ঢুঁ মারলাম। টাখনু সমান পানি। ঘনঘন কচু গাছ। হাঁটতে খানিকটা বেগ পোহাতে হচ্ছে। হঠাৎ কচুর চিপায় পা টা বেজে যায়। অমনি হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাই ক্ষেতে। কেন যেন শরীরটা কাঁটা দিয়ে উঠল। বাঁ হাতটা কারো মুখের উপর পড়ল বোধহয়। ঘাড় ঘুরিয়ে বাঁ দিকে তাকাতেই পিল চমকে উঠল। যা দেখলাম,তাতে হৃদপিণ্ডটা গলা পর্যন্ত উঠে আবার নেমে যায়  । একটা কাটা মুণ্ডু পড়ে আছে। ঠিক এক বিঘৎ দূরে। মুখটা ভেংচে জিভ কামড়ে চোখ বড় করে তাকিয়ে আছ। আমার তো কলিজায় পানি নেই।অথচ ক্ষেতে টাখনুসমান পানি। ভয়ে দেহের সব রক্ত জমে গেল। পারিনা কচু গাছে ফাঁস দিয়ে মরি।তাতে কী গ্যারান্টি? এদিকে পা টাও চিপায় আটকে আছে। আমার পরান পাখি উড়ে যায় যায়,কিন্তু গেলোনা। আর কতক্ষণ এভাবে থাকলে আমাকেও মুখ ভেংচে জিভ কামড়ে থাকতে হবে। বহু কষ্টে পা টা হ্যাঁচকা টান দিয়ে দিলাম এক দৌড়। ক্ষেত থেকে বের হয়ে বল তো দূরের কথা কোনোমতে জানটা নিয়ে দৌড়াতে লাগলাম। আমাকে এভাবে দৌড়াতে দেখে মানসুররা ভীষণ অবাক হল। তারাও কৌতুহলী হয়ে আমার দিকে দৌড়ে এল। কাদা পানিতে গড়াগড়ি খেয়ে জংলী প্রাণীর মতো দেখাচ্ছে আমাকে। হাঁপাতে লাগলাম। প্রচুর হাঁপাহাঁপি।
- কী হলো তোর? অমন করে দৌড়াচ্ছিস কেন রে?
- কাটা মাথা! ঐদিকে একটা কাটা মাথা পড়ে আছে।
আমার কথা শুনে প্রথমে ওরা ভয় পেলেও কিছুটা অবাক হলো। বিশ্বাস হচ্ছেনা তাদের। পরে তারা বিষয়টা কী জানার জন্য ক্ষেতে গেল। ঠিকই তো। কাটা মাথা! তাও আবার মেয়ে মানুষের! তারা জলদি করে গ্রামের লোকজন ডেকে নিয়ে আসে।
 
 
 
কিছুক্ষণ পর পুলিশ এলো। সেই চিরচেনা মুখ। ওসি ফরহাদ । সবকিছু আগের মতো। তবে টাক মাথায় চুলের রেখা উঁকি দিচ্ছে। তিনি এক পুলিশকে দিয়ে মাথটা ক্ষেত থেকে বের করে নিয়ে আসে। মাথাটা দেখে ভড়কে যান ইসমাঈল চাচা। চোখে সর্ষেফুল দেখলেন যেন। সবেমাত্র ঘুম থেকে উঠে এসেছেন। নতুন বউটার সাথে মেঝেছিলেন এতক্ষণ। এসে এমন দৃশ্য দেখতে হবে, কল্পনাও আসেনি তার। দুচোখ কে বিশ্বাস করতে পারছেননা তিনি। কাটা মুণ্ডুটা তার ডিভোর্সপ্রাপ্তা বউ ফাহমিদার। বড্ড ভালোবাসতেন তাকে। তাদের ভালোবাসার জুড়ি নেই। কিন্তু বিয়ের ৫ বছর গত হওয়া সত্ত্বেও সে কোনো সন্তান জন্ম দিতে পারেনি। এর জন্য তিনি কত ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়েছেন, তাবিজ কবজ করেছেন,, কোনো কাজ হয়নি। তিনি এটাকে খোদা প্রদত্ত পরীক্ষা ধরে নিয়েছেন। কত নবী অলীরাও তো এই পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি হবেননা কেন? কিন্তু তিনি সমাজের সাথে পেরে উঠেন নি। সবাই ফাহমিদা কে ছেড়ে ২য় বিয়ে করতে বলতো। অনেকে নাক ছিটকাতো। শেষমেশ এক প্রকার বাধ্য হয়ে তাকে তালাক দিয়েছেন। একটুপর তার বাবা তাকে এসে নিয়ে যাওয়ার কথা,,কিন্তু তার তো,,,,, শিশুর মতো হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন ইসমাঈল চাচা। কোন মুখে দাঁড়াবেন শ্বশুরের সামনে। ভেবে কূল পাচ্ছেননা।
 
 ফরহাদ স্যার ফাহমিদার বডি খুঁজতে লাগলেন। খুঁজতে খুঁজতে চলে এলেন মেশিনঘরটায়। ঘরের সবখানে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। আচমকা তার মাথায় তরল কী যেন পড়ে। মাথা তুলে উপরে তাকানো মাত্রই রক্তে ভরে যায় তার চোখ-মুখ। মস্তকহীন একটা দেহ মাথার উপরে ঝুলছে। রক্তের লালে লালেলাল শাড়ি। নিমগাছের সাথে পা দুটো ওড়না দিয়ে বাঁধা। ফরহাদ স্যার দেহটাকে নামিয়ে কতক্ষণ হাতড়িয়ে দেখলেন। শরীরভর্তি কামড়ের চিহ্ন। ধস্তাধস্তির কারণে শাড়ির একটা অংশ ছিঁড়েও গেছে। মনে হচ্ছে,,,,কিন্তু ডান হাতের তালু এখনো মুঠোয় বন্ধি কেন? মুঠোটা সরাতেই একটা তাবিজ বেরিয়ে এল। সম্ভবত খুনির তাবিজ। তার ভিতর একটা চিরকুট। তাতে এরাবিক বর্ণে কী যেন লেখা।অনেকটা (ها) এমন দেখতে। ফরহাদ স্যার মানেটা ঠিক বুঝলেন না। মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে গিয়ে সেটি দেখালেন।
-হুযুর,দেখেন তো এখানে কী লেখা?
- আরবী বর্ণ। হা আলিফ(ها)
- এর মানে কী?
- অনেক কিছুই হতে পারে।
-যেমন?
- হা ها দিয়ে هاجره ( হাজেরাও) হতে পারে।
 
 
 
কথাটা শুনে তার মনে হলো, কেউ তার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করেছে। কতক্ষণ মূর্তির ন্যায় নির্বাক দাড়িয়ে রইলেন। আসলে হচ্ছেটা কী? যেই রহস্যের সমাধা করতে তার জীবনের তেরোটা বেজে গেছে।একপর্যায়ে ওই কেইসটাই বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন সেটি কিনা আবারো  তার পিছু নিয়েছে। এর শেষ কোথায়? তিনি কোন সূত্র ধরে সামনে এগুবেন, বুঝতে পারছেন না। হঠাৎ তার একটা উক্তি মনে পড়ল। খুবই জ্ঞানগর্ভ উক্তি। রাতের আঁধারে এক চিলতে আলো পথহারা পথিককে যেমন পথের সন্ধান যোগায়, পানিশূন্য মরুভূমিতে এক বিন্দু জল যেমন জীবন থেকে নিরাশ তৃষ্ণার্তকে আশার আলো যোগায়, ঠিক তেমনি উক্তিটি শত গোলকধাঁধায় ফেঁসে যাওয়া ওসি ফরহাদ  মুক্তির বার্তা যোগাল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক বছর আগে খুন হওয়া ইমাম সাহেবের বন্ধ কেইস আবার ওপেন করলেন। পুণরায় হাজির করতে লাগলেন সকল স্বাক্ষী- প্রমাণ।
 
 
 
ফাহমিদা খুনের পরের রাতের ঘটনা। চৈত্র মাসের শেষদিকে। শোঁ শোঁ শব্দে বাতাস বইছে। আকাশে ফালি ফালি মেঘের স্রোত। তার ফাঁক দিয়ে ফিকে আধা চাঁদটা উঁকি মেরে আবার লুকিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎই দুনিয়া কাঁপানো ঝড় শুরু হলো। কাল বোশেখী ঝড়। ঝড়ো হাওয়ায় পত্র-লতা, ধূলো বালি দিগ্বিদিক উড়ে যাচ্ছে। মূহুর্তেই প্রবলবেগে বৃষ্টি নেমে এল। ওরে বৃষ্টি রে… টিনের চাল ফুটো হয়ে কাঁথা-বালিশ ভেসে যাওয়ার মতো অবস্থা। সারা রাতের বৃষ্টিতে খাল -বিল ক্ষেত -খামার রাস্তাঘাট পানিতে ভরে বাড়ির উঠোনে উঠে গিয়ে ঠেকেছে। সকাল হতে শোনা গেল, নরিন্দ গ্রামে কবরস্থ ইমাম সাহেবের কবরে পানি ঢুকে মাটি সরে গেছে। ভিতর থেকে ভেসে উঠেছে তরতাজা একটা লাশ। অবাক কাণ্ড! হুজুরের লাশ তো দাফন করার আগেই পঁচে গলে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে ছিল। এতোদিনে তো লাশ কঙ্কাল হয়ে ভূত হয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু লাশ তো দেখছি একেবারে তরতাজা। যেন সদ্য দাফন করা হয়েছে। দ্রুত পুলিশে ফোন দেওয়া হলো। পুলিশ এসে লাশ থেকে কাপড় সরিয়ে যেটা দেখলো,,,,৷ সেই বছরকয়েক আগে হারিয়ে যাওয়া হাজেরা বিবির লাশ!

 
ফরহাদ স্যার ফাহমিদার বডি খুঁজতে লাগলেন। খুঁজতে খুঁজতে চলে এলেন মেশিনঘরটায়। ঘরের সবখানে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। আচমকা তার মাথায় তরল কী যেন পড়ে। মাথা তুলে উপরে তাকানো মাত্রই রক্তে ভরে যায় তার চোখ-মুখ। মস্তকহীন একটা দেহ মাথার উপরে ঝুলছে। রক্তের লালে লালেলাল শাড়ি। নিমগাছের সাথে পা দুটো ওড়না দিয়ে বাঁধা। ফরহাদ স্যার দেহটাকে নামিয়ে কতক্ষণ হাতড়িয়ে দেখলেন। শরীরভর্তি কামড়ের চিহ্ন। ধস্তাধস্তির কারণে শাড়ির একটা অংশ ছিঁড়েও গেছে। মনে হচ্ছে,,,,কিন্তু ডান হাতের তালু এখনো মুঠোয় বন্ধি কেন? মুঠোটা সরাতেই একটা তাবিজ বেরিয়ে এল। সম্ভবত খুনির তাবিজ। তার ভিতর একটা চিরকুট। তাতে এরাবিক বর্ণে কী যেন লেখা।অনেকটা (ها) এমন দেখতে। ফরহাদ স্যার মানেটা ঠিক বুঝলেন না। মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে গিয়ে সেটি দেখালেন।
-হুযুর,দেখেন তো এখানে কী লেখা?
- আরবী বর্ণ। হা আলিফ(ها)
- এর মানে কী?
- অনেক কিছুই হতে পারে।
-যেমন?
- হা ها দিয়ে هاجره ( হাজেরাও) হতে পারে।
 
 
 
কথাটা শুনে তার মনে হলো, কেউ তার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করেছে। কতক্ষণ মূর্তির ন্যায় নির্বাক দাড়িয়ে রইলেন। আসলে হচ্ছেটা কী? যেই রহস্যের সমাধা করতে তার জীবনের তেরোটা বেজে গেছে।একপর্যায়ে ওই কেইসটাই বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন সেটি কিনা আবারো  তার পিছু নিয়েছে। এর শেষ কোথায়? তিনি কোন সূত্র ধরে সামনে এগুবেন, বুঝতে পারছেন না। হঠাৎ তার একটা উক্তি মনে পড়ল। খুবই জ্ঞানগর্ভ উক্তি। রাতের আঁধারে এক চিলতে আলো পথহারা পথিককে যেমন পথের সন্ধান যোগায়, পানিশূন্য মরুভূমিতে এক বিন্দু জল যেমন জীবন থেকে নিরাশ তৃষ্ণার্তকে আশার আলো যোগায়, ঠিক তেমনি উক্তিটি শত গোলকধাঁধায় ফেঁসে যাওয়া ওসি ফরহাদ  মুক্তির বার্তা যোগাল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক বছর আগে খুন হওয়া ইমাম সাহেবের বন্ধ কেইস আবার ওপেন করলেন। পুণরায় হাজির করতে লাগলেন সকল স্বাক্ষী- প্রমাণ।
 
 
 
ফাহমিদা খুনের পরের রাতের ঘটনা। চৈত্র মাসের শেষদিকে। শোঁ শোঁ শব্দে বাতাস বইছে। আকাশে ফালি ফালি মেঘের স্রোত। তার ফাঁক দিয়ে ফিকে আধা চাঁদটা উঁকি মেরে আবার লুকিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎই দুনিয়া কাঁপানো ঝড় শুরু হলো। কাল বোশেখী ঝড়। ঝড়ো হাওয়ায় পত্র-লতা, ধূলো বালি দিগ্বিদিক উড়ে যাচ্ছে। মূহুর্তেই প্রবলবেগে বৃষ্টি নেমে এল। ওরে বৃষ্টি রে… টিনের চাল ফুটো হয়ে কাঁথা-বালিশ ভেসে যাওয়ার মতো অবস্থা। সারা রাতের বৃষ্টিতে খাল -বিল ক্ষেত -খামার রাস্তাঘাট পানিতে ভরে বাড়ির উঠোনে উঠে গিয়ে ঠেকেছে। সকাল হতে শোনা গেল, নরিন্দ গ্রামে কবরস্থ ইমাম সাহেবের কবরে পানি ঢুকে মাটি সরে গেছে। ভিতর থেকে ভেসে উঠেছে তরতাজা একটা লাশ। অবাক কাণ্ড! হুজুরের লাশ তো দাফন করার আগেই পঁচে গলে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে ছিল। এতোদিনে তো লাশ কঙ্কাল হয়ে ভূত হয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু লাশ তো দেখছি একেবারে তরতাজা। যেন সদ্য দাফন করা হয়েছে। দ্রুত পুলিশে ফোন দেওয়া হলো। পুলিশ এসে লাশ থেকে কাপড় সরিয়ে যেটা দেখলো,,,,৷ সেই বছরকয়েক আগে হারিয়ে যাওয়া হাজেরা বিবির লাশ!
চলবে। 
@শফী মুহাম্মদ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/115418/</link>
				<pubDate>Fri, 27 May 2022 07:06:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভুত নয় ভুতুড়ে। পর্ব ৩</p>
<p>স্বামীর কিনে দেওয়া লাল শাড়িটা পরে চুপিসারে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে ফাহমিদা। রাত তখন গভীর। গোটা গ্রামজুড়ে ছেয়ে গেছে মৃত্যুপুরীর নিস্তব্ধতা। তবে পাশের ঘর থেকে আছমত চাচা মৃদু নাক ডেকে রাতের নীরবতা ভাঙ্গার ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফাহমিদা ঘর থেকে বেরিয়ে বাঁশবনের পথ ধরল। বনের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে রক্ত-হিম-করা অন্ধকার। দমকা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-115418"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/115418/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c4cb90c971e24d5d09aeb0c33d561e0f</guid>
				<title>#ভুত নয় ভুতুড়ে। পর্ব ২ 

রাতের আঁধারে গ্রামের আধাপাকা রোডে দিব্যি ছুটে চলছে লাশবাহী গাড়ি। ইমাম সাহেবের কাটা-ছেঁড়া লাশ। বরফে লাশটা গলে গেছে প্রায়। একটা পঁচা গুমোট গন্ধও আসছে তা থেকে। বরুড়া থানাধীন নরিন্দ অভিমুখে চলছে গাড়িটা। আঁকাবাঁকা কর্দমায় ভরা পথ। টানা বৃষ্টিতে পানি জমে আছে কোথাও কোথাও। হঠাৎ গাড়িটা ব্রেক কষে। হার্ড ব্রেক। কাঁচা রাস্তার ঠিক মাঝখানে পানি ভর্তি বিশাল একটা গর্ত। আকস্মিক কঠিন ব্রেকের দরুন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে সেটি। পিছলে যায় গাড়ির চাকা। উল্টে গিয়ে ছিটকে পড়ে পাশের জলাশয় জমিতে। অনেক চেষ্টা মেষ্টা করে কোনোমতে ড্রাইবার ও তার সহযোগী গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়,তবে লাশ বের করে আনতে পারেনি তারা। সকাল হতে ক্যারেং দিয়ে টেনে গাড়ি উপরে তোলা হয়, কিন্তু অবাক করা কাণ্ড! লাশ উধাও। ঘটনাস্থল এলাকার কয়েকজন জলাশয়ে ডুব দিয়ে সাঁতার কেটে লাশ খুঁজে বেড়ায়,  এ যেন জ্যালজলন্ত ডুবুরি! জাল খেমিয়েও খোঁজা হয় দীর্ঘক্ষণ,কিন্তু নাহ,কোথাও লাশের চিহ্নটুকুও নেই! পুরোপুরি নিখোঁজ। আস্ত একটা লাশ মাটিতে ঢুকে গেল নাকি, না কুমির খেয়ে ফেলল? এমন হাজারো প্রশ্ন জনমনে উঁকি দিতে লাগল। 

একেরপর এক অদ্ভুতসব ঘটনায় সবাই হকচকিয়ে গেছে ঠিকই, তবে বিরক্তি বোধ যে করছেনা, তা কিন্তু নয়। এ সব রহস্যের জট খুলতে কত যে মন্ত্র তদবির করা হয়েছে ; আদিনা মুড়ায় মানত করা হয়েছে শিরনির বিশাল বড় বড় ডেগও। শিরনি খেয়ে একেকজনের পেট খাজা বাবার ডেগে পরিণত হয়েছে। তাতে কি আর রহস্যের জট খুলে? ছাই খুলে। যতই রহস্যের উপর থেকে কালো চাদর সরানোর চেষ্টা চলছে ততই সে কালো চাদর কুচকুচে কালো হচ্ছে। ফর্সা হচ্ছেনা বিন্দুমাত্রও।



 বরকত চাচা থানায় বন্দি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ফরহাদ স্যার বরাবর তাকে মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। শারীরিক টর্চার তো আছেই। লাঠির ধারাবাহিক জোরালো আঘাতে শরীর জুড়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। টুপটুপ করে রক্তও গড়িয়ে পড়ছে মাঝেমধ্যে, কিন্তু চাচা খুনের দায় স্বীকার করতে নারাজ। তাতে কী? ফরহাদ স্যার তো মোটেও দমবার পাত্র নন। তিনি চাচাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিতে বললেন,
-খা,,পো! মা,,চ! ক তুই হুজুররে  খুন করছত! 
চাচা কাঁদোকাঁদো অথচ জোরালো কণ্ঠে বললেন,
- না,আই মারিনো,আই হুজুররে কিয়েরে মাইরাম। এনো আঁর লাভ কিতা?
-লাভ লস আমডা দেইখাম। তুই আগে ক হুজুররে মাইচ্চতনি। 
চাচা আবারো জোর গলায় বললেন
-না আঁই মারিনো।
-কী কইলি?  তুই বুঝি মারোস ন।

এ বলে আবারো লাঠি চার্জ। শরীরের জয়েন্টে পয়েন্টে। আঘাতের তীব্রতায় হাড়গোড় ভেঙ্গে যাবার উপক্রম। ভেঙ্গেও গেছে কয়েকটি। তবুও চাচা তার কথায় অনড়। মারতে মারতে ঘেমে গেলেন ফরহাদ স্যার। হাঁপাতে লাগলেন। জোরে জোরে কতক্ষণ শ্বাস ছেড়ে পাশে থাকা চেয়ার টেনে বসলেন তিনি। ভাবছিলেন,অত করে মাইর খাবার পরও কেও কি দোষ স্বীকার না করে পারে? নাকি আমরা ভুল মানুষকে উঠিয়ে এনেছি। উঁহু! কিছুই মাথায় খেলছেনা। হঠাৎ করে   ফোনটা বেজে উঠল।  ওসি স্যার রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একজন পুলিশ তাড়াহুড়ো করে বলতে লাগল,
-স্যার! জলদি একটু চাচার বাড়িতে আসুন। আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণএকটা ক্লু পেয়েছি। যদ্বারা বুঝতে পারব, খুনিটা আসলে কে? 

 ফরহাদ স্যার লকাব থেকে বের হয়ে দ্রুত তার বাইকটায় চড়ে বসলেন। ক্ষিপ্র বেগে বজ্র গতিতে কালো ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ছুটলেন বিজয়পুর গ্রামের দিকে। ডানাহীন পাখি যেন। উড়ে উড়ে ডানায় ভর করে পৌঁছেলেন চাচার বাড়িতে।

- ফরহাদ স্যার! এই দেখুন প্রেসক্রিপশন! বরকত চাচার ঘরের আলমারিতে পাওয়া গেছে এটা।
- হ্যাঁ তো? 
- স্যার! গত ৫- ৩- ২০১২ তারিখে কুমিল্লার ট্রমা সেন্টারের অর্থোপেডিক ও ট্রমা বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল হক স্যার থেকে কেউ ট্রিটমেন্ট নিয়েছে। পেশেন্টের নাম ঠিক লেখা নেই,তবে এক্স-রে রিপোর্ট বলছে, তার পায়ে গুলি লেগেছিল।
- তার মানে কী বলতে চাও?
- স্যার! ঠিক আগেরদিন রাতে ইমাম সাহেবের ঘরের সামনে আপনি মনে হয় কারো পায়ে  গুলি মেরেছিলেন। 
- হ্যাঁ। 
- এটা বলা কি ভুল হবে, সেই ঐ ব্যাক্তি যাকে আমরা,,,,
- হ্যাঁ, সেটা কোনো মহিলা ছিল, কিন্তু তার সাথে বরকতের কী সম্পর্ক ? আর এই প্রেসক্রিপশনইবা এখানে  কী করে এল? 
-  স্যার? বেশ কিছুদিন ধরে হাজেরা গায়েব। সে কোথায় কেও বলতে পারেনা। 
- হাজেরা? কে সে? 
- বরকত চাচার স্ত্রী। 
- তার মানে গুলিটা হাজেরার পায়েই লেগেছিল। আর সে খুন করেছেব ইমাম সাহেবকে। তাও আবার বরকতের কোদাল দিয়ে। আর ফেঁসে যায় তার স্বামী বরকত। তার পর থেকে সে উধাও।
- জ্বি স্যার! 
- বাহ! বাহ! ভেরি টুইস্ট! আচ্ছা এখনো কি হাজেরার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি? 
- জ্বি না স্যার! তার বাপের বাড়ির লোকজনও জানেনা। 
- ঠিক আছে। আচ্ছা ঐ ডক্টরের নাম কী যেন বলেছিলি? 
- কোন ডক্টর, ট্রমা সেন্টারের? 
- হ্যাঁ।
- ড, আব্দুল হক। 
- তার নাম্বারটা দে। দেখি তার কাছে কোনো ক্লু পাওয়া যায় কিনা।  


প্রেসক্রিপশন থেকে ডক্টরের নাম্বার নিয়ে ফোন দিলেন ফরহাদ স্যার। রিং বাজছে, কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ রিসিভ করছেনা। পরপর কয়েকবার ট্রাই করেও কোনো সাড়া মিললনা। বাধ্য হয়ে নিজেই ট্রমা সেন্টারে রওনা দিলেন।



ইমাম সাহেবের লাশ নিখোঁজের দিনখানিক পর। ঝড়ের এক রাতে। খালে বেল পেতে মাছ ধরছেন সফিউল্লাহ মিয়া। মাছ ধরা বড্ড নেশা তার। পেশাও বটে। ২ ঘন্টা ধরে চলা বৃষ্টিটা কিছুক্ষণ হলো থেমে গিয়েছে।টানা বৃষ্টিতে ক্ষেত -খামার খাল-বিল পানিতে ভরে টইটম্বুর। জাল টানতে গিয়ে হঠাৎ অবাক হন তিনি। জালটা একটু ভারী ভারী লাগছে। বড় কোনো মাছ আটকা পড়েছে বোধহয়। খানিক সময়ের জন্য খুশিরা ঝিলিক দিয়ে উঠল তার চোখেমুখে। ভাবছেন,  
&quot;এত বড় মাছ বেইচ্যা মাইয়্যাটর লাইগা এক জোড়া জামা কিনা যাইব। একটা মাত্র মেয়ে তাঁর। সেই কবে জামা কিনে দিছিলেন। মাইয়্যাটা খালি জামার কতা কয়, কিন্তু তার কি তেমন সাধ্য আছে। পোলা একটা বিদেশে পাডাইয়া ঋণের উপর ঋণ লাইগা আছে&quot;


এসব ভাবতে ভাবতে জালটা টেনে ওপরে তুললেন। জালটা ভারী হওয়ায় তুলতো অনেকটা বেগ পোহাতে হয়েছে। টর্চ জ্বেলে দেখলেন মাছ তো বড়ই ,কিন্তু তার গায়ে সাদা কী মুড়ানো? 

জালটা কাছে টেনে পুণরায় সেটি দেখামাত্রই ভড়কে যান তিনি। মাছ তো নয়,আস্ত একটা লাশ। ভয়ে তার আত্মা শুকিয়ে গেল। লোভে ফুলতে থাকা বেলুনটা সূচের আগাতেই চুপসে গেল যেন। কিছুক্ষণের জন্য সটান হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। কী করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। আশেপাশে কোথাও ঘর-বাড়ির কোনো ছায়া নেই। শুধু জমি আর জমি। বাড়ি ফিরবেন,কিন্তু বাড়ি তো অনেকদূর ।

 অদূরে খালপাড় ঘেঁষে বিশাল বড় তালগাছ। তার চতুর্পাশে কলমি শাকের মহড়া।থেমে থেমে ব্যাঙ ডাকছে। মাঝে মাঝে ভয়ঙ্কর শব্দে কী যেন ঝাঁপ দিচ্ছে পানিতে।কুমির-টুমির হবে।আচমকা চমকে উঠলেন সফিউল্লাহ মিয়া। কানে কারো হাঁটার আওয়াজ বাজল যেন। তালগাছের পেছেন দিয়ে কেউ এদিকে আসছে। ভয়ের উপর ভয়। এক কথায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। আজ বুঝি রক্ষে নেই। প্রাণটা চলে যায় যায় করেও গেলনা। আকাশ বাতাস এক করে তিনি আল্লাহ কে ডাকতে লাগলেন। তখন কেও এসে জোরে এক ধমক দিল। নিশ্চুপ বনে গেলেন মিয়া। তিনি মরে গেলেন না তো?  মুনকার-নকির এসেছে তাহলে। কাঁপাকাঁপা চোখে পাশ ফিরে তাকালেন তিনি। 
&quot;আরে এতো দেখছি ইব্রা কাক্কু। তার উকিল বাপ। তিনিও মাছ ধরতে এসেছেন। যাক জানে বাঁচা গেল। কলিজায় পানি ফিরে এল। 
সফিউল্লাহ মিয়া &quot;লাশ&quot; &quot;লাশ&quot;  করে চিৎকার দিয়ে দৌড়ে ইব্রা কাক্কুর নিকট  এলেন। কারেন্টর শট খাওয়া ব্যাক্তির মত কাঁপছিলেন তিনি। এক শ্বাসে কী সব বলে মাথা ঘুরিয়ে ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেলেন। এবার ইব্রা কাক্কু পড়লেন বেকায়দায়। দ্রুত খাল থেকে মুঠোয় করে পানি নিয়ে সফিউল্লাহ মিয়ার চোখে মুখে মেরে বহু কষ্টে তার জ্ঞান ফিরালেন। পকেট থেকে সদ্য বিদেশ থেকে আনা ৩২ বাটনের ফোনটা বের করে ফোন দিলেন থানায়। পুলিশ এসে কতক্ষণ নেড়েচেড়ে বুঝল এটা ইমাম সাহেবের হারিয়ে যাওয়া লাশ। একে তো আগুনে পুড়ে গিয়েছিল তার উপর পানিতে ভেসে ছিল এতোদিন। পঁচে গলে লাশের অবস্থা নাজুক।বমি আসা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পুলিশ লাশটা রাতারাতি হুজুরের বাড়ি নরিন্দ গ্রামে পৌঁছে দেয়। লাশটা গলে গেছে দেখে দ্রুত জানাজা পড়ে ওই রাতেই দাফন করা হয়।



- স্যার! আপনার সাথে কিছু কথা ছিল। দৃঢ় কণ্ঠে বললেন ফরহাদ স্যার।
- কেন নয়? অবশ্যই বলুন! বিনীত স্বরে তবে মৃদু হেসে বললেন আব্দুল হক স্যার।
-গত কিছুদিন আগে আপনি হাজেরা নাম্নী কোন মহিলার ট্রিটমেন্ট করিয়েছিলেন। তার পায়ে গুলি লেগেছিলো। সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাই। বলবেন দয়া করে?
-কিন্তু আমি তো ১ মাস হলো দেশের বাইরে। ফিরলাম গতকাল। তাহলে কাউকে ট্রিটমেন্ট দেওয়ার তো প্রশ্ন আসেনা।
কথাটা শুনে চমকে উঠলেন ফরহাদ স্যার। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল যেন। তিনি আশ্চর্যভরা দৃষ্টিতে ডক্টরের দিকে চেয়ে রইলেন। কিছুই বলতে পারলেননা। এভাবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর অনেকটা কৌতূহলী হয়ে বললেন,
- তা হলে স্যার! তার প্রেসক্রিপশনের ডক্টর আপনি কেন?  আই মিন হাজেরা বেগম এ হসপিটাল থেকে ট্রিটমেন্ট নিয়েছিলো,যে ডক্টর তাকে দেখেছেন তার প্রেসক্রিপশনে পেশেন্টর নাম নেই,কিন্তু ডক্টরের নাম তো আছে। সেটা আপনারই নাম। এই নিন! দেখুন প্রেসক্রিপশন!
এ বলে ফাইল থেকে একটা প্রেসক্রিপশন বের করা দেখালেন ফরহাদ স্যার। প্রেসক্রিপশন দেখে তো ডক্টর যারপরনাই অবাক হলেন, কিন্তু তিনি চেম্বারের ডয়ের থেকে তার মালয়েশিয়া যাওয়ার পাসপোর্ট দেখিয়ে বললেন,
- দেখুন! আমার পাসপোর্ট। এবার আপনিই বলুন আমি কিভাবে কারো ট্রিটমেন্ট করাব?

ফরহাদ স্যারের মাথাটা বুঝি তার দেহ নেই। যত্তসব অদ্ভুত টদ্ভুত ঘটনা তার মাথাটা একেবারে খেয়ে দিয়েছে। তিনি ডক্টরকে কি বলবেন কি বলবেন করেও কিছুই বলতে পারলেন না। মাথাটা চুলকাতে (থুক্কু) মাথার চুল চুলকাতে চুলকাতে কপালটা খানিকটা গুঁজে চেম্বার থেকে বেরিয়ে এলেন।



হাজেরা বিবিকে খুঁজে চলেছেন ফরহাদ স্যার। প্রমাণাদি বলছে খুনি সেই। তাছাড়া তার কাপড় চোপরের আলমারিতে তরল পদার্থ ভর্তি একটা কৌটা পাওয়া গেছে। ঠিক ইমাম সাহেবের ঘরের মেঝেতে ছিটানো পদার্থটা। গন্ধটা একই। পরীক্ষা করা দেখা গেছে, এটা এমন একটা পদার্থ, যেটার উপর কোনো তাপ পড়লে একধরণের  ধোঁয়া সৃষ্টি হয়।ঐ ধোঁয়া কারো নাকে-মুখে ঢুকলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তার হুঁশ ফিরে আসে, কিন্তু সে নিজের বশে থাকেনা। চলে যায় অন্য কারো বশে। ওই রাতেও ঠিক তাই ঘটেছিলো। 

প্রথমে হাজেরা বিবি ইমাম সাহেবের কুপিতে সামান্য পদার্থ ঢেলে দেয়। তা থেকে সৃষ্ট ধোঁয়ায় ইমাম সাহেব অজ্ঞান হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে হাজেরা বিবি তাকে দিয়ে লোকালয়ে ভয় দেখায়। তারপর বরকত চাচার কোদাল দিয়ে সে ইমাম সাহেবকে খুন করে গোরস্থানে ফেলে যায়। কিন্তু ফরহাদ স্যারের এটা বুঝে আসছেনা,কেন হাজেরা বিবি হুজুরকে খুন করতে গেল। কীইবা রহস্য নিহিত এর পিছনে? সম্ভাব্য সব জায়গায় তাকে হন্যে হয়ে তন্ন তন্ন করে খুজলেন,পত্র পত্রিকাতে তার নিখোঁজ সংবাদ ছাপা হয়,দেয়ালে দেয়ালে ঝুলতে থাকে তার ছবি, কিন্তু কোথাও তার কোন রা নেই।



এরই মধ্যে আমার ভাঙা হাত ভালো হয়ে যায়। খুলে ফেলা হয় প্লাস্টারও। তাই আমাকে মাদ্রাসায় চলে যেতে হয়। মাসখানেক পর নাবিলারাও গ্রাম ছেড়ে কুমিল্লা শহরে গিয়ে উঠে। ওই কেইসটার শেষ কী হয়েছে জানতে পারিনি। হাজেরা বিবিকে কি খোঁজে পাওয়া গিয়েছিল? পাওয়া গেল কেন খুন করল হুজুরকে। এভাবেই কেটে যায় অনেকগুলো সপ্তাহ, অনেকগুলো মাস কয়েকটি বছর। তারপর,,,?
- চলবে।
@শফী মুহাম্মদ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/113367/</link>
				<pubDate>Fri, 20 May 2022 08:15:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ভ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ভ</a>ুত নয় ভুতুড়ে। পর্ব ২ </p>
<p>রাতের আঁধারে গ্রামের আধাপাকা রোডে দিব্যি ছুটে চলছে লাশবাহী গাড়ি। ইমাম সাহেবের কাটা-ছেঁড়া লাশ। বরফে লাশটা গলে গেছে প্রায়। একটা পঁচা গুমোট গন্ধও আসছে তা থেকে। বরুড়া থানাধীন নরিন্দ অভিমুখে চলছে গাড়িটা। আঁকাবাঁকা কর্দমায় ভরা পথ। টানা বৃষ্টিতে পানি জমে আছে কোথাও কোথাও। হঠাৎ গাড়িটা ব্রেক কষে। হার্ড ব্রেক। কাঁচা রাস্তার ঠ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-113367"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/113367/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f88d8b751d45ac48d36ab159cece3cde</guid>
				<title>চাপকল থেকে পানি নিয়ে ফিরছিলেন বড় ভাইয়া। জীর্ণ-শীর্ণ অন্ধকার পথ। সন্ধ্যার রাত্রি। পাশে রান্নাঘরের উনুনে জ্বলতে থাকা আগুনে নিভু নিভু প্রকৃতি। হঠাৎ থমকে দাঁড়ান তিনি। কোত্থেকে যেন একটা অদ্ভূত শব্দ ভেসে আসছে। কৌতূহলবশত রান্নাঘরের পিছনে নজর বুলাতেই কিছু একটা চোখে পড়ল তাঁর। ঝাপসা অন্ধকারে বাঁশবনের ধারে কে যেন দাঁড়িয়ে কাঁদছে। ক্রমশ বাড়ছে কান্নার গতি। কান্নার বিকট শব্দ রাতের সুশান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তুলেছে। ভাইয়া তার পিছু নিতে উদ্যত হলেন। পরক্ষণে ভাবলেন, যদি তাঁর কোনো ক্ষতি করে? এমনটা ভেবে দ্রুত ছুটলেন কাছারি ঘরের দিকে।

বেশ কিছুদিন ধরে গ্রামে অদ্ভুতসব ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। কখনো চাপা কান্নার আওয়াজ,কখনোবা টিনের চালে হাঁটার শব্দ বা গভীর রাতে দরোজায় খট-খটানি গ্রামবাসীকে করে তুলেছে কৌতূহলী। হাজারো চেষ্টা শেষেও বিষয়টি সমাধা করতে পারেনি কেউ।

সে রাতে কাছারি ঘরটা ছিল মহাব্যস্ত। ভাইয়া বন্ধুদের সাথে মুড়ির আড্ডা জমিয়েছিলেন। সবাই ভাইয়ার পানি নিয়ে আাসার অপেক্ষা করছিল। এমন সময় দৌড়ে কাছারিতে প্রবেশ করেন তিনি। হাঁপাচ্ছিলেন খানিকটা। বন্ধুদের বিষয়টি বলামাত্রই সবাই লাঠি সোটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। 
আমি তখন ফুপির ঘরে। ফুফাতো বোন নাবিলা পাশে বসা। বয়স আট কি নয় হবে। তার নয়; আমার। তার তো তখন ঘুম পাড়ানি গান শুনে ঘুমিয় পড়ার বয়স। তার সাথে &#039;এক দেশে ছিল এক রাজা&#039; টাইপ গল্প জুড়ে দিয়েছিলাম। আচমকা শোরগোল পড়ে গেল। লোকদের চেঁচামেচিতে সরব হয়ে উঠল পুরো এলাকা। কি হয়েছে জানার জন্য দৌড়ে  ঘর ছেড়ে বেরুলাম। ততক্ষণে বাঁশবনে উপচে পড়া ভিড়। সবাই ক্রন্দনকারীকে খোঁজছে। তন্ন তন্ন করে।যেন চিরুনী অভিযান! গ্রামের সবাই আজ একেকজন ব্যাজহীন পুলিশ। মাঠ পর্যায়ে চলছে তার প্রশিক্ষণ। নাহ, সে উধাও। ঘন আঁধারের বাঁশবনের আড়ালে ভারি আলোর টর্চ জ্বেলেও কিছুই দেখতে পেলোনা তারা। বহু খোঁজা-খুঁজির পর ব্যর্থ হয়ে সবাই বাড়ির পথ ধরল। 


আমাদের বাড়ির পাশে জেঠীদের বাড়ি। জেঠীমা সে রাতে উঠোনে বসে তসবি গুনছিলেন। হেলে দুলে। নিচে চাটাই বিছানো। পাদুটো ছড়ানো সামনের দিকে। দৈনন্দিন রুটিন তাঁর। সেদিনও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। আকস্মিক রাতের আকাশ ভ্রু কুঞ্চাল। তার চেহারা রূপ নিল কালো থেকে নিকষ কালো আধারে। শুরু হলো ঝড়। ঝড়ের ঝাপটায় গাছপালা ভেঙে পড়ার উপক্রম। আকাশ যেন অনবরত তার সমূহক্রোধ ঝেড়েই চলেছে। বিকট শব্দে কাঁপিয়ে তুলছে পুরো জনপদ। 
জেঠিমা তড়িৎগতিতে উঠে পড়লেন। চাটাই গুটিয়ে ঘরের দিকে অগ্রসর হতেই টনক নড়ল তাঁর। কেউ একজন জোরকদমে পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। অন্ধকারে কিছুই দেখাচ্ছেনা। পরিচয় জানতে চেয়েও কোনো সাড়া পাননি তিনি। ঘর থেকে টর্চ নিয়ে দ্রুত তার পিছু নিলেন। কিছুদূর যেতেই তাঁর মনে হল,কেউ পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। ঘুরে টর্চ ফেলামাত্রই থমকে গিয়ে চমকে উঠলেন। আপাদমস্তক সাদা চাদর মুড়ানো একটা ছায়ামূর্তি চোখ বড় করে তাকিয়ে আছে। ভয়ংকর তার চোখ। যেন আগুনের ফুলকি বেরুচ্ছে । চেহারার বা পাশটা আগুনে পুড়ে গেছে হয়তো। ধীরে ধীরে সেটি জেঠিমার দিকে এগুতে লাগল। ভয়ে আত্মা কেঁপে উঠল জেঠিমার। থরথর করে কাঁপছেন তিনি। ধপাস করে হাত থেকে পড়ে যায় টর্চটি। জেঠিমা জোরে চিৎকার দিতেই ছায়ামূর্তিটি মেইন গেটের দিকে দৌড়ে যায়। চিৎকার শুনে লোকজন ওই গেট দিয়েই বাড়িতে ঢুকে পড়ে। আজব কাণ্ড! সে তো এখান দিয়েই পালাল। গেল কোথায়? ইত্যবসরে নেমে এল বৃষ্টি। মুষলধারে। মধ্যরাত অবধি চলল এ বারিধারা। তারপর শান্ত হল পরিবেশ। শান্ত হল সবকিছু।


পরদিন। ভোরবেলা। মসজিদে মুসল্লীরা কাতারবন্দি হয়ে আছে। ইমাম সাহেবের আপেক্ষায় সবাই। বড্ড দেরি হয়ে গেল। কিন্তু, ইমাম সাহেব এলেননা যে?,,সবাই ভাবল, বোধহয় তিনি ঘুমিয়ে আছেন। মেঘলা রাতের কড়া ঘুম তাঁকে পেয়ে বসেছে নিশ্চয়ই। একজন ইমামকে ডাকতে তাঁর ঘরে গেল। দরজা খোলা পেয়ে ভিতরে ঢুকল সে। অবাক কাণ্ড! হুজুর তো নেই,তার উপর ঘরের সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো হয়ে আছে। ঘরের কোণে পিটপিট জ্বলতে থাকা কুপিটা নিস্প্রভ হয়ে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। আশেপাশে কোথাও তার  ছায়া পর্যন্ত নেই। এদিকে নামাজের সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। অগত্যা সে মসজিদে ফিরে এল। নিজেরাই জামাত করে সবাই যে যার বাড়িতে ফিরে গেল। 


ঘন্টাখানিক পর। সবেমাত্র সূর্য তার কিরণ ছড়িয়েছে। মেঘের আড়াল ভেদ করে পূবাকাশে হেসে উঠেছে সূর্য। গ্রামের কৃষক বরকত চাচা। কোদাল কাঁধে গোরস্থানের পাশ কেটে হেঁটে যাচ্ছেন। রাতের বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমায় তিনি আজ ভীষণ খুশি। খুশির তালে, তালের খুশিতে বেশ হেলেদুলে চলছিলেন। কিন্তু, কী হল? খুশির তাল টিনের চাল হয়ে গেল। গোরস্তানের শেষ সীমানায় চোখ ফেলতেই একটি ঝুপড়িতে আটকে গেল তার দৃষ্টি। ধবধবে সাদা কিছু একটা দেখাচ্ছে। কৌতূহলবশে ধীর পায়ে সেখানে এগিয়ে গেলেন। ঝুপড়ির মুখে একটা সাদা চাদর ঝুলছে। চাদর সরাতেই আঁৎকে উঠেন তিনি। আরে! এইডা আমগো ইমাম সাব না?.,,ভারী কিছুর আঘাতে কেউ তার মাথা থেতলে দিছে। আগুনে পুড়ে গেছে চেহারা বাঁ দিক। 

ইমাম সাহেবের লাশ দেখে ঘাবড়ে যান বরকত চাচা। ভয়ে তার শরীর হিম শীতল হয়ে গেল। কাঁপতে লাগলেন তিনি। কোদালটা ফেলে কোনোমতে হাঁপাতে হাঁপাতে লোকালয়ের দিকে ছুটলেন। 
কিছুক্ষণ পর। গোরস্তানে ভিড়। ছোট-বড় সবাই সমবেত হল ঝুপড়ির মুখে। আমি ভাঙ্গা হাত নিয়ে সবার পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বড্ড ভয় করছিল। রাতের ঘটনায় তখনো গা শিউরে ওঠছিল আমার। এরই মাঝে পুলিশ এসে হাজির। বরুড়া থানা প্রধান ফরহাদ। আকারে কিছুটা বেঁটে। তার উপর ইয়ে বড় ভূরি! আস্ত একটা হাঙ্গর বোধহয় ভিতরে সাতরিয়ে বেড়াচ্ছে। গজগজ করে পান চিবুচ্ছিলেন তিনি। পানের পিকে লাল হয়ে আছে গোঁফগুচ্ছ। কেশবিহীন মুণ্ডুতে বয়স বোঝা দায়,তবে চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ বিদ্যমান। 


তিনি ভিড় ঠেলে লাশের কাছে এলেন। হাতে গ্লাভস লাগিয়ে হাতড়াতে লাগলেন পড়ে থাকা নিথর দেহটাকে। ক্যামেরায় ফটোও নিলেন কয়েকটি। তারপর হুযুরের ঘরে এলেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে কামরাজুড়ে তল্লাশি চলল। সেলফে থাকা বইগুলো ঘেঁটেও কোনো ক্লু মিললনা। হঠাৎ ঘরের কোণে থাকা কুপিটার দিকে চোখ পড়ল তার। কেন জানি অদ্ভুত লাগছিলো সেটিকে। ধীরপায়ে সেটির কাছে যেতেই অমনি তার মাথা ঘুরতে লাগলো। উদ্ভট একটা গন্ধ নাক দিয়ে ঢুকল মনে হচ্ছে।। দম বন্ধ হয়ে আসছিল তার। কাঁশতে কাঁশতে হেঁচকি পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। কালক্ষেপণ না করে অতিদ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। তারপর এলাকার মুরুব্বিদের থেকে শুনলেন গত রাতের ঘটনা। সবশেষে তার মনে হল, এ যাবৎ ঘটিত সব ঘটনা যেন একই সূত্রে গাঁথা, কিন্তু কী সেই সূত্র? অনেক ভেবেও ফলাফল দাঁড়ালো যাকে বলে &quot;শূন্য&quot;। নিরুপায় হয়ে থানার পথ ধরলেন ফরহাদ স্যার। মৃতদেহকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠালেন ময়নামতি মর্গে। 


ইমাম হত্যার  বেশ কদিন পর। আমি বাগানের পথ ধরে হাঁটছিলাম। নাবিলা হাঁটছিল আমার হাত ধরে। তখন ছিল দুপুর। প্রখর রোদ্দুর। দীর্ঘ ব্যস্ততা শেষে গাছের ছায়ায় জিরিয়ে নিচ্ছে কৃষকরা। রোদের প্রকট থেকে বাঁচতে গাঁয়ের ছেলেরা পুকুরে লাফিয়ে পড়ছে। সাঁতরিয়ে বেড়াচ্ছে পুরো পুকুর। হাঁটতে হাঁটতে মসজিদের কাছে চলে এলাম। আচমকা একটা খচখচে আওয়াজ কানে বাজল। একটু খটকা লাগল মনের ভিতর। ব্যাপারটা পাত্তা না দিয়ে পুণরায় হাঁটা শুরু করলাম। আবারো একই আওয়াজ! ইমাম সাহেবের ঘরের পিছনের ঝোপঝাড় থেকে আসছে সেটা। অবুঝ মন কেন যেন সেখানে যেতে আগ্রহী হল। নাবিলার কানে ফিসফিস করে বললাম,
_ তুই একটু দাঁড়া তো দিকি! আমি ওদিকটা দেখি আসি।
নাবিলা ভাঙ্গা চাঁপা কণ্ঠে বলল,
_ কই যান? আামাকে নিবেন না বুঝি!
_ না, যাওয়া যাবেনা। ভূত আছে। চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে দেখিস। 

ভূত শুনে চুপসে গেল সে। ভয়ে শুকিয়ে গেল তার মিষ্টি চেহারাটি। কাঁদতে শুরু করল- ওরে কান্না কারে কয়- আামি পড়লাম মহাবিপাকে। কত করে বোঝালাম ওকে। না,আজ তার কাঁদতেই হবে। তখনই ঝোপের আড়াল থেকে কে যেন বেরিয়ে এল। পরনে কালো গাউন। চোখ-মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা। কান্নার শব্দ টের পেয়েছে নিশ্চয়ই। আমাদের দিকে সে তেড়ে আসছে। । ভয়ে আমার কণ্ঠনালি ভেদ করে এক চিৎকার বেরিয়ে এল। আশেপাশে কোথায় ভাইয়া ছিলেন জানিনা; চিৎকার শুনে দৌড়ে এলেন। কালো মূর্তিটা ভয় পেল যেন। পালিয়ে গেল জঙ্গলের দিকে। ভাইয়া পিছু ধাওয়া করেও নাগাল পেলেননা তার। সে লাপাত্তা।



ঘড়ির কাঁটায় রাত ৯টা বেজে ছুঁই ছুঁই। ফরহাদ স্যার অফিসের চেয়ারে বসা। চিন্তারা তার চোখে -মুখে ছাপ ফেলে দিয়েছে। আনমনে কী যেন ভাবছিলেন তিনি। এমন সময় হাবিলদার চা নিয়ে এল। চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে মুখে টেনে চুমুক দিতে যাবেন,অমনি উদ্ভট একটা গন্ধ নাক দিয়ে ঢুকে পড়ল। ঠিক ইমাম সাহেবের ঘরের গন্ধটা। দম বন্ধ হয়ে আসছিল তার। কাপটা রেখেই অফিস থেকে বেরিয়ে পড়লেন। বাইকটায় চড়ে দ্রুত ছুটলেন ঘটনাস্থল বিজয়পুর গ্রামে।  
আকাশে মিটিমিটি তারা জ্বলছে । বেশ চমৎকার দেখাচ্ছে  ভরা চাঁদটাকে। একথালি রূপো যেন আকাশজুড়ে এঁকে দিয়েছে। গ্রামের অধিবাসীরা ইতোমধ্যে নিদ্রার কোলে ঢলে পড়েছে। তাদের চোখে- হৃদয়ে ভর করে আছে রাজ্যের ঘুমেরা। 


ফরহাদ স্যার হুজুরের ঘরের কাছে বাইকটা রেখে ভিতরে ঢুঁ মারলেন। ঘরভর্তি ঘুটঘুটে অন্ধকার। তিনি টর্চ জ্বেলে কুপিটা খুঁজতে লাগলেন। সারা ঘর তন্নতন্ন করে খুঁজেও কুপিটা পাওয়া গেলনা। কই গেল সেটা? নিরাশ হয়ে ফিরে যাবেন,তখনই ঘরের মেঝেতে চোখ পড়ল তার। এক ধরণের তরল পদার্থ মেঝের কোথাও কোথাও ছিটানো। আঙ্গুলের মাথায় নিয়ে কিন্ঞ্চিৎ শুঁকে দেখলেন । সেই একই গন্ধ! জিনিসটা পরীক্ষা করে দেখার জন্যে পদার্থের খানিকটা সংগ্রহে রাখলেন তিনি। আকস্মিক বাইকটার হরণ বেজে উঠল। থতমত খেয়ে যান স্যার। অদ্ভুত তো! বাইকের ইঞ্জিন তো বন্ধ। হর্ণ বাজল কী করে!? ঘর থেকে বেরিয়ে দৌড়ে বাইকের কাছে গেলেন। চারিদিকে ঘুরে ফিরে দেখলেন । কই? কেউ তো নেই আশেপাশে। কী আশ্চর্য ! শোনার ভুল তাহলে? 

ফরহাদ স্যার বাইকে চড়ে বসলেন। ভাবছেন থানায় ফিরে যাবেন। হঠাৎ কেউ তাকে স্বজোরে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় । শক্ত মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে রক্তাক্ত অবস্থা। চোখদুটো কেমন ঝাপসা হয়ে গেছে। তার উপর আবছা অন্ধকার। ব্যথায় অবশ হয়ে যাচ্ছে পুরো শরীর। 

বহুকষ্টে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকালেন তিনি। কেউ মাটিতে ছায়া ফেলে দাঁড়িয়ে আছে। তার দিকে চেয়ে হাসছে। মৃদু বাতাসে সর্পের ন্যায় উড়ছে চুলগুলো। নাগিনীর চেয়ে কম কীসে?  ওসি স্যার ভয় পেলেও সামলে নেন নিজেকে। শরীরটা মাটি  থেকে ওঠিয়ে আনার   একটা  চেষ্টা চালান। সেটা সম্ভব না। দেহটা  আঠার মতো আটকে আছে যেন। মনে হচ্ছে মাটি তাকে শক্ত করে কাঁমড়ে ধরেছে ।   

এদিকে ছায়ামূর্তিটা কাছাকাছি চলে এসেছে। একেবারে নাকের ডগায়। তার হাতে ধারালো কী যেন একটা। সেটি দিয়ে  স্যারকে  জোরে আঘাত হানে। আঘাতটা দু&#039;ভাগ করে দেয় স্যারকে। না, মাটিকে। স্যার তখন সব শক্তি এক করে গড়ানি খেয়ে সরে গিয়েছিলেন। নইলে,,,তারপর  পিস্তলটা বের করে তার পা বরাবর ছুঁড়েন এক গুলি। গুলিটা সরাসরি  পায়ে এসে বিঁধে। ব্যাথায় হাঁসফাঁস করে উঠে সে। স্যার তাকে দৌড়ে ধরতে যাবেন,তার আগে সে গোরস্থানের দিকে  পালিয়ে যায়। হারিয়ে যায়  রাতের অন্ধকারে। 
  

আজ কদিন ধরে ঘর ছেড়ে বেরুচ্ছেননা বরকত চাচা। সেদিনের ঘটনা ভীষণ ভয় পাইয়ে দিয়েছিল তাকে। এদিকে গিন্নি বেচারি শোয়া থেকে উঠতে পারছেনা। পায়ের ব্যাথা তাকে বিষিয়ে তুলছে। বরকত চাচা ভাবলেন আজ ক্ষেতে যাবেন। বিশাল বড় কচু ক্ষেত তার। কচুর লতি বিক্রি করেই চলে তার সংসার। কিন্তু, কোদালটা কোথাও পাচ্ছেন না। পুরো বাড়ি হন্নে হয়ে খুঁজলেন। না,না এবং না। পাওয়া গেলনা। এমন সময় বাড়ির সামনে একটা গাড়ি এসে থামল। নীল রঙের জিপ গাড়ি। ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ২জন পুলিশ। তারা ঢুকল বরকত চাচার বাড়িতে। পুলিশ দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান চাচা। একজন পুলিশ চাচার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বলল
- you are under arrest 
- মানে? আই কিতা করছি
- থানায় চলেন। সব বুঝবেন। 
- না! আমনের এখানে কইতে হইব
- ইমাম সাহেবের লাশের ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী তাকে ধারালো লোহার অস্ত্র দ্বারা খুন করা হয়েছে। আমরা হুজুরের ঘরের পিছনের ঝোপে একটা লোহার অস্ত্র পেয়েছি,যেটাতে হুজুরের রক্ত লেগেছিলো। সেটা আপনারই কোদাল বরকত চাচা। 
-চলবে।
গল্পঃ  #ভুত নয় ভুতুড়ে। পর্ব ১
শফী মুহাম্মদ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/110562/</link>
				<pubDate>Sat, 14 May 2022 05:50:20 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চাপকল থেকে পানি নিয়ে ফিরছিলেন বড় ভাইয়া। জীর্ণ-শীর্ণ অন্ধকার পথ। সন্ধ্যার রাত্রি। পাশে রান্নাঘরের উনুনে জ্বলতে থাকা আগুনে নিভু নিভু প্রকৃতি। হঠাৎ থমকে দাঁড়ান তিনি। কোত্থেকে যেন একটা অদ্ভূত শব্দ ভেসে আসছে। কৌতূহলবশত রান্নাঘরের পিছনে নজর বুলাতেই কিছু একটা চোখে পড়ল তাঁর। ঝাপসা অন্ধকারে বাঁশবনের ধারে কে যেন দাঁড়িয়ে কাঁদছে। ক্রমশ বাড়ছে কান্ন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-110562"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/110562/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">84ef4cd1467c351ce8a11fb47092d1cf</guid>
				<title>Shofi-Muhammad changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/110176/</link>
				<pubDate>Fri, 13 May 2022 10:01:13 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2c7d6d12f809417c38d7ed68dc14b580</guid>
				<title>৩ বছর বয়সে মাকে হারিয়েছে ফারিহা। তারপর থেকে বাবা-ই তার সব। বহু ঝড়- ঝাপটার মোকাবেলা করে তাকে এই অবধি নিয়ে এসেছে্ন তার বাবা ওসমান । এর জন্য যে তার কত বাধ-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে; তা আলাদা করে বলতে হয়না।

একদিন ওসমান সাহেব অফিসে বসে ভাবছেন,
স্ত্রী মারিয়া মারা যাবার পর সেই ৩ বছর বয়স থেকে মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। একটুর জন্য অবসর পান নি তিনি। খুবই বোরিং ফিল করছেন। শরীরটা কেমন নেতিয়ে গেছে। একটু জেতিয়ে তলা দরকার। সপ্তাখানিকের জন্য বিদেশ ট্যুর দিলে কেমন হয়? কিন্তু মেয়েকে কার কাছে রেখে যাবেন? একবার তার প্রাইভেট ম্যাডামকে বলে দেখা দরকার। তিনি ফারিহার সাথে ১ সপ্তাহের জন্য তাদের বাসায় থাকবেন কিনা।
ওসমান সাহেব ম্যাডামকে কল দিয়ে খুব সংক্ষেপে বিষয়টি বুঝিয়ে বললেন। ম্যাডাম ফারিহার সাথে তাদের বাসায় থাকতে রাজিও হয়ে গেল ।

ফোন কেটে ওসমান সাহেব তার এসিস্ট্যান্ট সানজিদাকে ডেকে বললেন,
-- শোনো! আমি কোম্পানির বিজনেস উপলক্ষে কাল দুবাই যাচ্ছি। আমি চাচ্ছি, তুমিও আমার সাথে যাও। কী বলো?
-- কী যে বলেন স্যার! আপনি আমাকে সাথে করে নিয়ে যাবেন, আর আমি যাবো না তা কি কোনোদিন হয়? তাছাড়া আপনার মতো সুন্দর,,,,
-- এ,, এই! এসব ফালতু আলাপ একদমই করবেনা। গেলে কাল ১০ টা নাগাদ আমার বাসায় আসবে। ঠিক আছে? এখন যাও।

সানজিদা বিবাহিতা। তা সত্ত্বেও সে ওসমান সাহেবের প্রতি একটু দুর্বল। ছন্নছাড়া। বিশেষ করে ওসমান সাহেবের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর এ ছন্নছাড়া ভাবটা কেমন যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। স্যারকে তার প্রতি আকৃষ্ট করতে কত যে সুযোগ সন্ধান করেছে,,,কিন্তু সুযোগ নামের সেই সোনার হরিণ তাকে থোড়াই কেয়ার করল। মোটেও পাত্তা দিলনা চাতক পাখির ন্যায় কাতর সুযোগ সন্ধানী সানজিদাকে। কিন্তু, কদিন সে পালিয়ে বেড়াবে। একদিন তো বাঘের থাবায় পড়তেই হয়।

ওসমান সাহেবের রুম থেকে বেরিয়ে সানজিদা তার স্বামী জাকিরকে ফোন দিল। কোনো কাজবাজ নেই জাকিরের। সারাদিন বসে বসে খায় আর ফোনে কার সাথে যেন কথা বলে। জিগ্যেস করলে বলে ফ্রিল্যান্সির ক্লাস করছে।
-- হ্যালো! আমি কাল স্যারের সাথে দুবাই যাচ্ছি। ১ সপ্তাহ পর ফিরব। তুমি এ কদিন নিজে রান্না করে খেয়ে নিও। বিয়ের পর থেকে তো আমারটা খেয়ে যাচ্ছো,এখন না হয়,,

জাকিরবাবু তো মহাখুশি। ১ সপ্তাহ বউ বাসায় থাকবেনা। তাকে রান্না করে খেতে হবে। সমস্যা কী? এই ফাঁকে গার্লফ্রেন্ডকে বাসায় নিয়ে আসবে। রান্নাও খাওয়া হবে, আবার,, এক ঢিলে দুই পাখি।জাকির তার গার্লফ্রেন্ডকে ফোন করে বলল,
-  হেয় জানু! তোমার জন্য একটা গুড নিউজ  আছে। আমার  ওয়াইফ ১ সপ্তাহের জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছে। আগে তো আমরা লুকিয়ে লিটনের ফ্ল্যাটে দেখা করতাম। সেদিন কেটে গেছে। এখন সোজা বাসায়। কেউ নেই। আমি আর তুমি। হ্যাঁ, তুমি কালকেই চলে আসবে,ঠিক আছে?

জাকিরের গার্লফ্রেন্ডের নাম তামান্না। ঘটনাক্রমে সেই ঐ ম্যাডাম যাকে ওসমান সাহেব ফারিহাকে দেখা শুনার জন্য তার বাসায় থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু এখন তো সেটা সম্ভব না, কারণ তাকে তো জাকিরের বাসায় থাকতে হবে। সন্ধ্যার দিকে তামান্না ফারিহার বাসায় গিয়ে বলল,
- শোন! তোমার বাবা নাকি বাইরে কোথাও যাবেন, তাই তিনি আমাকে তোমার সাথে এ বাসায় থাকতে বলেছিলেন, কিন্তু আমি থাকতে পারবোনা। একটা কাজে আটকে গেছি। তোমার বাবাকে বলে দিও।

ফারিহা তার বাবাকে ফোন দিয়ে বলল,
- বাবা, তুমি নাকি কোথায় যাবে? যেওনা বাবা। ম্যাডাম নাকি আসবেনা। আমার খুব ভয় করছে।

বেচারা ওসমান সাহেব কী আর করবেন?  তার খুশির চেয়ে তো মেয়ের খুশি অনেক বড়। তিনি ট্যুরের চিন্তা বাদ দিয়ে দিলেন। ফোন দিলেন এসিস্ট্যেন্ট সানজিদাকে।
- শোন! আমরা কোথাও যাচ্ছিনা। তুমি কাল অফিস জয়েন করবে।

সানজিদার তো আফসোসের শেষ নেই। তার সুযোগ হাতছাড়া। রাজ্যের হতাশা বুকে নিয়ে স্বামী জাকিরকে ফোন দিল,
- স্যার বলেছে উনি নাকি ট্যুরে যাবেন না। তোমার আর রেঁধে খেতে হবেনা। আমি আসছি।
জাকির তো মহা বিপাকে। দ্রুত গার্লফ্রেন্ড তামান্না কে ফোন দিয়ে বলল,
- এই সাবধান! তুমি কিন্তু বাসায় আসবেনা। আমার বউ বাসায় আসছে। রাখছি। পরে কথা হবে।

তামান্না সবেমাত্র ফারিহার বাসা থেকে ফিরছিল। জাকিরের ফোন পেয়ে পুণরায় সে ফারিহার বাসায় গিয়ে তাকে বলল,
- আমি কালকে থেকে আসব। ঠিক আছে? তোমার বাবাকে বলে দিও।
ফারিহা তার বাবাকে ফোন দিল,
- বাবা! তুমি যাও। ম্যাডাম নাকি আসবে।
ওসমান সাহেব ফোন দিলেন সানজিদা কে। বললেন,
- এই আমরা  ট্যুরে যাচ্ছি। তুমি কাল রেডি হয়ে আসবে।

এবার সানজিদা তার স্বামী জাকিরকে ফোন দিয়ে বলল,
- স্যারের সাথে কথা হয়েছে। উনি বলেছেন ট্যুরে যাবেন,সো রান্না তোমারই করে খেতে হবে।
জাকির তামান্নাকে ফোন দিয়ে বলল,
- জানু তুমি আসতে পারো। আমার বউ আসবেনা। ট্যুরে যাবে।

তামান্না এমন প্যারায় বাপের জনমেও পড়েনি। মানে কী? জাকির কি পাগল-টাগল হয়ে গেল নাকি? কী করা যায়?    নিরুপায় হয়ে আবার ফারিহার বাসায় গেল সে
- আমি কাল আসতে পারবোনা। অনেক ব্যস্ত।

ফারিহা ফোন দিল বাবাকে।
- বাবা, ম্যাডাম নাকি আসবেনা। আমার খুব ভয় করছে। তুমি যেওনা বাবা।
 সমাপ্ত।
গল্পঃ  #ঘুর্ণিচক্র।
- শফী মুহাম্মদ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/110164/</link>
				<pubDate>Fri, 13 May 2022 09:51:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>৩ বছর বয়সে মাকে হারিয়েছে ফারিহা। তারপর থেকে বাবা-ই তার সব। বহু ঝড়- ঝাপটার মোকাবেলা করে তাকে এই অবধি নিয়ে এসেছে্ন তার বাবা ওসমান । এর জন্য যে তার কত বাধ-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে; তা আলাদা করে বলতে হয়না।</p>
<p>একদিন ওসমান সাহেব অফিসে বসে ভাবছেন,<br />
স্ত্রী মারিয়া মারা যাবার পর সেই ৩ বছর বয়স থেকে মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। একটুর জন্য অবসর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-110164"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/110164/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>