-
ভুত নয় ভুতুড়ে। পর্ব ৩
স্বামীর কিনে দেওয়া লাল শাড়িটা পরে চুপিসারে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে ফাহমিদা। রাত তখন গভীর। গোটা গ্রামজুড়ে ছেয়ে গেছে মৃত্যুপুরীর নিস্তব্ধতা। তবে পাশের ঘর থেকে আছমত চাচা মৃদু নাক ডেকে রাতের নীরবতা ভাঙ্গার ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফাহমিদা ঘর থেকে বেরিয়ে বাঁশবনের পথ ধরল। বনের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে রক্ত-হিম-করা অন্ধকার। দমকা হাওয়ায় বাঁশঝাড়গুলো অদ্ভুত ধ্বনি তুলছে। দূর থেকে ভেসে আসছে শিয়ালের হুক্কাহুয়া আওয়াজ। সব মিলিয়ে বাঁশবন জুড়ে একটা ভুতুড়ে ভাব বিরাজমান, কিন্তু ফাহমিদার অতটুকুনও ডর-ভয় করছেনা। ভয়েরা আজ মরে গেছে। সেও মরতে যাচ্ছে। এ জীবন রেখে কী লাভ? ঐ তো সন্ধ্যার রাতে স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে তার। কাল বাবা নিয়ে যেতে আসবে। একে তো তালাকপ্রাপ্তা,তার উপর বন্ধ্যা, সন্তান হয়না। সমাজে মুখ দেখাবে কী করে গো? এমন হাজারো দুশ্চিন্তা তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। তার চোখে হৃদয়ে ভর করে আছে হতাশার কালো মেঘেরা। হাঁটতে হাঁটতে সে পরিত্যক্ত মেশিনঘরটায় চলে আসে। সেই বৃটিশ আমলের মেশিনঘর। একসময় এখান থেকেই কৃষকরা তাদের ক্ষেতে পানি সেচ করতো,কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেটি অকেজো হয়ে যায়। সেখানে বাসা করে নেয় সাপ বেজিসহ ভয়ঙ্করসব পোকামাকড়ের দল। অনেকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে এখানে আসে। আজ ফাহমিদা এসেছে মৃত্যুর ডাকে সাড়া দিতে,না, বরং মৃত্যুই কিনা তার ডাকে সাড়া দিতে এসেছে।
মেশিনঘরের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল বড় নিমগাছ। ফাহমিদা গাছ বেয়ে মেশিনঘরের পাঁচিলে উঠে দাঁড়ায়। গলায় প্যাচানো লাল ওড়নাটা খুলে তার একপাশ গাছের ডালে বাঁধে । আরেকপাশ দিয়ে ফাঁস তৈরি করে গলায় বেঁধে নেয়। তারপর কী হয়? যা হওয়ার তাই হয়।
– বলটা দে তো দিকি মানসুর! আমি ওভার করি। কিযে বল করিসনা তুই। অমন করে বল করলে ছক্কা হাঁকাবেনা তো চুমু খাবে? ভ্রু কুন্ঞ্চিত করে বলল ফারুক।
-ওরে বাবা! কেউ এসে তো দেখে যা আমাদের বোলারকে। অমন সুন্দর বল আমি বাপের জনমেও দেখিনি বলে দিলাম হ্যাঁ …বল তো নয় যেন ঢিল ছুঁড়ে। অনেকটা তুচ্ছ করে বলল মানসুর।
-কী বললি তুই? আমি ঢিল ছুঁড়ি বুঝি? তা তুই কী ছুঁড়িস শুনি!
হলো তো। সকাল না হতেই লেগে গেল দুজন। ফারুক তো পারেনা গা বাঁধিয়ে ঝগড়া করে। কে থামাবে ওদের। তাদের চিল্লাচিল্লিতে কানের বারোটা বাজা শেষ। এমন সময় ব্যাটিং প্রান্ত থেকে আশফাক একটা মুরুব্বিয়ানা ভাব নিয়ে বলল,
– কী কচ্ছিস তোরা? অমন করে সকাল সকাল কেউ ঝগড়া করে? লোকে যে মন্দ বলবে। দোহাই লাগে। এবার তো থামবি নাকি। অ্যাই মানসুর! বলটা ফারুককে দে দিকি!মানুসর বল দিল। ফারুক নিল। সবাই প্রস্তুত। ফারুক বল করবে বলে কথা। পা টিপেটিপে দৌড়ের মতো ভঙ্গি করে মারল এক ঢিল। তারপর কী হলো জানিনা, বল আকাশে। দুই দুই চার জোড়া চোখ আকাশ পানে তাকিয়ে। রনিদের বাড়ির তাল গাছ পেরিয়ে বল সোজা কচু ক্ষেতে। মানসুর চেঁচিয়ে বলে উঠলো,
-ওই দ্যাখ! কী কচুর বল করলেনা, বল এখন কচুর ক্ষেতে। বলটা খুঁজে আনেন তো দিকি!ফারুক আনবে বল? তার মতো অলস আর একটা আছে কিনা জানা নেই। গুগলবাবাও বোধহয় জানেনা। দলের সবার ছোট আমি। সেই অপরাধে কিনা আমার উপর বল কুড়িয়ে আনার দায়িত্ব চাপল।
বল কুড়াতে ক্ষেতের সরু আইল ধরে হাঁটতে লাগলাম। দুপাশ কচু ক্ষেতের বিশাল সমারোহ। ইয়ে বড় বড় কচু। আস্ত দানব যেন। কচু চাষ না বলে আদমচাষ বললেও ভুল হবেনা। রনিদের তাল গাছ পেরিয়ে কচুক্ষেতে ঢুঁ মারলাম। টাখনু সমান পানি। ঘনঘন কচু গাছ। হাঁটতে খানিকটা বেগ পোহাতে হচ্ছে। হঠাৎ কচুর চিপায় পা টা বেজে যায়। অমনি হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাই ক্ষেতে। কেন যেন শরীরটা কাঁটা দিয়ে উঠল। বাঁ হাতটা কারো মুখের উপর পড়ল বোধহয়। ঘাড় ঘুরিয়ে বাঁ দিকে তাকাতেই পিল চমকে উঠল। যা দেখলাম,তাতে হৃদপিণ্ডটা গলা পর্যন্ত উঠে আবার নেমে যায় । একটা কাটা মুণ্ডু পড়ে আছে। ঠিক এক বিঘৎ দূরে। মুখটা ভেংচে জিভ কামড়ে চোখ বড় করে তাকিয়ে আছ। আমার তো কলিজায় পানি নেই।অথচ ক্ষেতে টাখনুসমান পানি। ভয়ে দেহের সব রক্ত জমে গেল। পারিনা কচু গাছে ফাঁস দিয়ে মরি।তাতে কী গ্যারান্টি? এদিকে পা টাও চিপায় আটকে আছে। আমার পরান পাখি উড়ে যায় যায়,কিন্তু গেলোনা। আর কতক্ষণ এভাবে থাকলে আমাকেও মুখ ভেংচে জিভ কামড়ে থাকতে হবে। বহু কষ্টে পা টা হ্যাঁচকা টান দিয়ে দিলাম এক দৌড়। ক্ষেত থেকে বের হয়ে বল তো দূরের কথা কোনোমতে জানটা নিয়ে দৌড়াতে লাগলাম। আমাকে এভাবে দৌড়াতে দেখে মানসুররা ভীষণ অবাক হল। তারাও কৌতুহলী হয়ে আমার দিকে দৌড়ে এল। কাদা পানিতে গড়াগড়ি খেয়ে জংলী প্রাণীর মতো দেখাচ্ছে আমাকে। হাঁপাতে লাগলাম। প্রচুর হাঁপাহাঁপি।
– কী হলো তোর? অমন করে দৌড়াচ্ছিস কেন রে?
– কাটা মাথা! ঐদিকে একটা কাটা মাথা পড়ে আছে।
আমার কথা শুনে প্রথমে ওরা ভয় পেলেও কিছুটা অবাক হলো। বিশ্বাস হচ্ছেনা তাদের। পরে তারা বিষয়টা কী জানার জন্য ক্ষেতে গেল। ঠিকই তো। কাটা মাথা! তাও আবার মেয়ে মানুষের! তারা জলদি করে গ্রামের লোকজন ডেকে নিয়ে আসে।কিছুক্ষণ পর পুলিশ এলো। সেই চিরচেনা মুখ। ওসি ফরহাদ । সবকিছু আগের মতো। তবে টাক মাথায় চুলের রেখা উঁকি দিচ্ছে। তিনি এক পুলিশকে দিয়ে মাথটা ক্ষেত থেকে বের করে নিয়ে আসে। মাথাটা দেখে ভড়কে যান ইসমাঈল চাচা। চোখে সর্ষেফুল দেখলেন যেন। সবেমাত্র ঘুম থেকে উঠে এসেছেন। নতুন বউটার সাথে মেঝেছিলেন এতক্ষণ। এসে এমন দৃশ্য দেখতে হবে, কল্পনাও আসেনি তার। দুচোখ কে বিশ্বাস করতে পারছেননা তিনি। কাটা মুণ্ডুটা তার ডিভোর্সপ্রাপ্তা বউ ফাহমিদার। বড্ড ভালোবাসতেন তাকে। তাদের ভালোবাসার জুড়ি নেই। কিন্তু বিয়ের ৫ বছর গত হওয়া সত্ত্বেও সে কোনো সন্তান জন্ম দিতে পারেনি। এর জন্য তিনি কত ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়েছেন, তাবিজ কবজ করেছেন,, কোনো কাজ হয়নি। তিনি এটাকে খোদা প্রদত্ত পরীক্ষা ধরে নিয়েছেন। কত নবী অলীরাও তো এই পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি হবেননা কেন? কিন্তু তিনি সমাজের সাথে পেরে উঠেন নি। সবাই ফাহমিদা কে ছেড়ে ২য় বিয়ে করতে বলতো। অনেকে নাক ছিটকাতো। শেষমেশ এক প্রকার বাধ্য হয়ে তাকে তালাক দিয়েছেন। একটুপর তার বাবা তাকে এসে নিয়ে যাওয়ার কথা,,কিন্তু তার তো,,,,, শিশুর মতো হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন ইসমাঈল চাচা। কোন মুখে দাঁড়াবেন শ্বশুরের সামনে। ভেবে কূল পাচ্ছেননা।
ফরহাদ স্যার ফাহমিদার বডি খুঁজতে লাগলেন। খুঁজতে খুঁজতে চলে এলেন মেশিনঘরটায়। ঘরের সবখানে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। আচমকা তার মাথায় তরল কী যেন পড়ে। মাথা তুলে উপরে তাকানো মাত্রই রক্তে ভরে যায় তার চোখ-মুখ। মস্তকহীন একটা দেহ মাথার উপরে ঝুলছে। রক্তের লালে লালেলাল শাড়ি। নিমগাছের সাথে পা দুটো ওড়না দিয়ে বাঁধা। ফরহাদ স্যার দেহটাকে নামিয়ে কতক্ষণ হাতড়িয়ে দেখলেন। শরীরভর্তি কামড়ের চিহ্ন। ধস্তাধস্তির কারণে শাড়ির একটা অংশ ছিঁড়েও গেছে। মনে হচ্ছে,,,,কিন্তু ডান হাতের তালু এখনো মুঠোয় বন্ধি কেন? মুঠোটা সরাতেই একটা তাবিজ বেরিয়ে এল। সম্ভবত খুনির তাবিজ। তার ভিতর একটা চিরকুট। তাতে এরাবিক বর্ণে কী যেন লেখা।অনেকটা (ها) এমন দেখতে। ফরহাদ স্যার মানেটা ঠিক বুঝলেন না। মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে গিয়ে সেটি দেখালেন।
-হুযুর,দেখেন তো এখানে কী লেখা?
– আরবী বর্ণ। হা আলিফ(ها)
– এর মানে কী?
– অনেক কিছুই হতে পারে।
-যেমন?
– হা ها দিয়ে هاجره ( হাজেরাও) হতে পারে।কথাটা শুনে তার মনে হলো, কেউ তার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করেছে। কতক্ষণ মূর্তির ন্যায় নির্বাক দাড়িয়ে রইলেন। আসলে হচ্ছেটা কী? যেই রহস্যের সমাধা করতে তার জীবনের তেরোটা বেজে গেছে।একপর্যায়ে ওই কেইসটাই বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন সেটি কিনা আবারো তার পিছু নিয়েছে। এর শেষ কোথায়? তিনি কোন সূত্র ধরে সামনে এগুবেন, বুঝতে পারছেন না। হঠাৎ তার একটা উক্তি মনে পড়ল। খুবই জ্ঞানগর্ভ উক্তি। রাতের আঁধারে এক চিলতে আলো পথহারা পথিককে যেমন পথের সন্ধান যোগায়, পানিশূন্য মরুভূমিতে এক বিন্দু জল যেমন জীবন থেকে নিরাশ তৃষ্ণার্তকে আশার আলো যোগায়, ঠিক তেমনি উক্তিটি শত গোলকধাঁধায় ফেঁসে যাওয়া ওসি ফরহাদ মুক্তির বার্তা যোগাল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক বছর আগে খুন হওয়া ইমাম সাহেবের বন্ধ কেইস আবার ওপেন করলেন। পুণরায় হাজির করতে লাগলেন সকল স্বাক্ষী- প্রমাণ।
ফাহমিদা খুনের পরের রাতের ঘটনা। চৈত্র মাসের শেষদিকে। শোঁ শোঁ শব্দে বাতাস বইছে। আকাশে ফালি ফালি মেঘের স্রোত। তার ফাঁক দিয়ে ফিকে আধা চাঁদটা উঁকি মেরে আবার লুকিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎই দুনিয়া কাঁপানো ঝড় শুরু হলো। কাল বোশেখী ঝড়। ঝড়ো হাওয়ায় পত্র-লতা, ধূলো বালি দিগ্বিদিক উড়ে যাচ্ছে। মূহুর্তেই প্রবলবেগে বৃষ্টি নেমে এল। ওরে বৃষ্টি রে… টিনের চাল ফুটো হয়ে কাঁথা-বালিশ ভেসে যাওয়ার মতো অবস্থা। সারা রাতের বৃষ্টিতে খাল -বিল ক্ষেত -খামার রাস্তাঘাট পানিতে ভরে বাড়ির উঠোনে উঠে গিয়ে ঠেকেছে। সকাল হতে শোনা গেল, নরিন্দ গ্রামে কবরস্থ ইমাম সাহেবের কবরে পানি ঢুকে মাটি সরে গেছে। ভিতর থেকে ভেসে উঠেছে তরতাজা একটা লাশ। অবাক কাণ্ড! হুজুরের লাশ তো দাফন করার আগেই পঁচে গলে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে ছিল। এতোদিনে তো লাশ কঙ্কাল হয়ে ভূত হয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু লাশ তো দেখছি একেবারে তরতাজা। যেন সদ্য দাফন করা হয়েছে। দ্রুত পুলিশে ফোন দেওয়া হলো। পুলিশ এসে লাশ থেকে কাপড় সরিয়ে যেটা দেখলো,,,,৷ সেই বছরকয়েক আগে হারিয়ে যাওয়া হাজেরা বিবির লাশ!
ফরহাদ স্যার ফাহমিদার বডি খুঁজতে লাগলেন। খুঁজতে খুঁজতে চলে এলেন মেশিনঘরটায়। ঘরের সবখানে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। আচমকা তার মাথায় তরল কী যেন পড়ে। মাথা তুলে উপরে তাকানো মাত্রই রক্তে ভরে যায় তার চোখ-মুখ। মস্তকহীন একটা দেহ মাথার উপরে ঝুলছে। রক্তের লালে লালেলাল শাড়ি। নিমগাছের সাথে পা দুটো ওড়না দিয়ে বাঁধা। ফরহাদ স্যার দেহটাকে নামিয়ে কতক্ষণ হাতড়িয়ে দেখলেন। শরীরভর্তি কামড়ের চিহ্ন। ধস্তাধস্তির কারণে শাড়ির একটা অংশ ছিঁড়েও গেছে। মনে হচ্ছে,,,,কিন্তু ডান হাতের তালু এখনো মুঠোয় বন্ধি কেন? মুঠোটা সরাতেই একটা তাবিজ বেরিয়ে এল। সম্ভবত খুনির তাবিজ। তার ভিতর একটা চিরকুট। তাতে এরাবিক বর্ণে কী যেন লেখা।অনেকটা (ها) এমন দেখতে। ফরহাদ স্যার মানেটা ঠিক বুঝলেন না। মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে গিয়ে সেটি দেখালেন।
-হুযুর,দেখেন তো এখানে কী লেখা?
– আরবী বর্ণ। হা আলিফ(ها)
– এর মানে কী?
– অনেক কিছুই হতে পারে।
-যেমন?
– হা ها দিয়ে هاجره ( হাজেরাও) হতে পারে।কথাটা শুনে তার মনে হলো, কেউ তার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করেছে। কতক্ষণ মূর্তির ন্যায় নির্বাক দাড়িয়ে রইলেন। আসলে হচ্ছেটা কী? যেই রহস্যের সমাধা করতে তার জীবনের তেরোটা বেজে গেছে।একপর্যায়ে ওই কেইসটাই বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন সেটি কিনা আবারো তার পিছু নিয়েছে। এর শেষ কোথায়? তিনি কোন সূত্র ধরে সামনে এগুবেন, বুঝতে পারছেন না। হঠাৎ তার একটা উক্তি মনে পড়ল। খুবই জ্ঞানগর্ভ উক্তি। রাতের আঁধারে এক চিলতে আলো পথহারা পথিককে যেমন পথের সন্ধান যোগায়, পানিশূন্য মরুভূমিতে এক বিন্দু জল যেমন জীবন থেকে নিরাশ তৃষ্ণার্তকে আশার আলো যোগায়, ঠিক তেমনি উক্তিটি শত গোলকধাঁধায় ফেঁসে যাওয়া ওসি ফরহাদ মুক্তির বার্তা যোগাল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক বছর আগে খুন হওয়া ইমাম সাহেবের বন্ধ কেইস আবার ওপেন করলেন। পুণরায় হাজির করতে লাগলেন সকল স্বাক্ষী- প্রমাণ।
ফাহমিদা খুনের পরের রাতের ঘটনা। চৈত্র মাসের শেষদিকে। শোঁ শোঁ শব্দে বাতাস বইছে। আকাশে ফালি ফালি মেঘের স্রোত। তার ফাঁক দিয়ে ফিকে আধা চাঁদটা উঁকি মেরে আবার লুকিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎই দুনিয়া কাঁপানো ঝড় শুরু হলো। কাল বোশেখী ঝড়। ঝড়ো হাওয়ায় পত্র-লতা, ধূলো বালি দিগ্বিদিক উড়ে যাচ্ছে। মূহুর্তেই প্রবলবেগে বৃষ্টি নেমে এল। ওরে বৃষ্টি রে… টিনের চাল ফুটো হয়ে কাঁথা-বালিশ ভেসে যাওয়ার মতো অবস্থা। সারা রাতের বৃষ্টিতে খাল -বিল ক্ষেত -খামার রাস্তাঘাট পানিতে ভরে বাড়ির উঠোনে উঠে গিয়ে ঠেকেছে। সকাল হতে শোনা গেল, নরিন্দ গ্রামে কবরস্থ ইমাম সাহেবের কবরে পানি ঢুকে মাটি সরে গেছে। ভিতর থেকে ভেসে উঠেছে তরতাজা একটা লাশ। অবাক কাণ্ড! হুজুরের লাশ তো দাফন করার আগেই পঁচে গলে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে ছিল। এতোদিনে তো লাশ কঙ্কাল হয়ে ভূত হয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু লাশ তো দেখছি একেবারে তরতাজা। যেন সদ্য দাফন করা হয়েছে। দ্রুত পুলিশে ফোন দেওয়া হলো। পুলিশ এসে লাশ থেকে কাপড় সরিয়ে যেটা দেখলো,,,,৷ সেই বছরকয়েক আগে হারিয়ে যাওয়া হাজেরা বিবির লাশ!
চলবে।
@শফী মুহাম্মদ।7 Comments
Friends
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
Humayun Kabir Surjo
@humayunkabir-surjo
Rakibul Hasan
@rakibpixel
Neel tripura
@neel
Md Ashfak Sayed
@ashfak
Shohag arnob
@shohagarnobgmail-com
Drako Shajib
@drako
Faiza Fairooz
@faiza



সুন্দর।