Profile Photo

Shofi-MuhammadOffline

  • Shofi-Muhammad
  • Profile picture of Shofi-Muhammad

    Shofi-Muhammad

    4 years, 2 months ago

    #ভুত নয় ভুতুড়ে। পর্ব ২

    রাতের আঁধারে গ্রামের আধাপাকা রোডে দিব্যি ছুটে চলছে লাশবাহী গাড়ি। ইমাম সাহেবের কাটা-ছেঁড়া লাশ। বরফে লাশটা গলে গেছে প্রায়। একটা পঁচা গুমোট গন্ধও আসছে তা থেকে। বরুড়া থানাধীন নরিন্দ অভিমুখে চলছে গাড়িটা। আঁকাবাঁকা কর্দমায় ভরা পথ। টানা বৃষ্টিতে পানি জমে আছে কোথাও কোথাও। হঠাৎ গাড়িটা ব্রেক কষে। হার্ড ব্রেক। কাঁচা রাস্তার ঠিক মাঝখানে পানি ভর্তি বিশাল একটা গর্ত। আকস্মিক কঠিন ব্রেকের দরুন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে সেটি। পিছলে যায় গাড়ির চাকা। উল্টে গিয়ে ছিটকে পড়ে পাশের জলাশয় জমিতে। অনেক চেষ্টা মেষ্টা করে কোনোমতে ড্রাইবার ও তার সহযোগী গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়,তবে লাশ বের করে আনতে পারেনি তারা। সকাল হতে ক্যারেং দিয়ে টেনে গাড়ি উপরে তোলা হয়, কিন্তু অবাক করা কাণ্ড! লাশ উধাও। ঘটনাস্থল এলাকার কয়েকজন জলাশয়ে ডুব দিয়ে সাঁতার কেটে লাশ খুঁজে বেড়ায়, এ যেন জ্যালজলন্ত ডুবুরি! জাল খেমিয়েও খোঁজা হয় দীর্ঘক্ষণ,কিন্তু নাহ,কোথাও লাশের চিহ্নটুকুও নেই! পুরোপুরি নিখোঁজ। আস্ত একটা লাশ মাটিতে ঢুকে গেল নাকি, না কুমির খেয়ে ফেলল? এমন হাজারো প্রশ্ন জনমনে উঁকি দিতে লাগল।

    একেরপর এক অদ্ভুতসব ঘটনায় সবাই হকচকিয়ে গেছে ঠিকই, তবে বিরক্তি বোধ যে করছেনা, তা কিন্তু নয়। এ সব রহস্যের জট খুলতে কত যে মন্ত্র তদবির করা হয়েছে ; আদিনা মুড়ায় মানত করা হয়েছে শিরনির বিশাল বড় বড় ডেগও। শিরনি খেয়ে একেকজনের পেট খাজা বাবার ডেগে পরিণত হয়েছে। তাতে কি আর রহস্যের জট খুলে? ছাই খুলে। যতই রহস্যের উপর থেকে কালো চাদর সরানোর চেষ্টা চলছে ততই সে কালো চাদর কুচকুচে কালো হচ্ছে। ফর্সা হচ্ছেনা বিন্দুমাত্রও।

    বরকত চাচা থানায় বন্দি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ফরহাদ স্যার বরাবর তাকে মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। শারীরিক টর্চার তো আছেই। লাঠির ধারাবাহিক জোরালো আঘাতে শরীর জুড়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। টুপটুপ করে রক্তও গড়িয়ে পড়ছে মাঝেমধ্যে, কিন্তু চাচা খুনের দায় স্বীকার করতে নারাজ। তাতে কী? ফরহাদ স্যার তো মোটেও দমবার পাত্র নন। তিনি চাচাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিতে বললেন,
    -খা,,পো! মা,,চ! ক তুই হুজুররে খুন করছত!
    চাচা কাঁদোকাঁদো অথচ জোরালো কণ্ঠে বললেন,
    – না,আই মারিনো,আই হুজুররে কিয়েরে মাইরাম। এনো আঁর লাভ কিতা?
    -লাভ লস আমডা দেইখাম। তুই আগে ক হুজুররে মাইচ্চতনি।
    চাচা আবারো জোর গলায় বললেন
    -না আঁই মারিনো।
    -কী কইলি? তুই বুঝি মারোস ন।

    এ বলে আবারো লাঠি চার্জ। শরীরের জয়েন্টে পয়েন্টে। আঘাতের তীব্রতায় হাড়গোড় ভেঙ্গে যাবার উপক্রম। ভেঙ্গেও গেছে কয়েকটি। তবুও চাচা তার কথায় অনড়। মারতে মারতে ঘেমে গেলেন ফরহাদ স্যার। হাঁপাতে লাগলেন। জোরে জোরে কতক্ষণ শ্বাস ছেড়ে পাশে থাকা চেয়ার টেনে বসলেন তিনি। ভাবছিলেন,অত করে মাইর খাবার পরও কেও কি দোষ স্বীকার না করে পারে? নাকি আমরা ভুল মানুষকে উঠিয়ে এনেছি। উঁহু! কিছুই মাথায় খেলছেনা। হঠাৎ করে ফোনটা বেজে উঠল। ওসি স্যার রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একজন পুলিশ তাড়াহুড়ো করে বলতে লাগল,
    -স্যার! জলদি একটু চাচার বাড়িতে আসুন। আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণএকটা ক্লু পেয়েছি। যদ্বারা বুঝতে পারব, খুনিটা আসলে কে?

    ফরহাদ স্যার লকাব থেকে বের হয়ে দ্রুত তার বাইকটায় চড়ে বসলেন। ক্ষিপ্র বেগে বজ্র গতিতে কালো ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ছুটলেন বিজয়পুর গ্রামের দিকে। ডানাহীন পাখি যেন। উড়ে উড়ে ডানায় ভর করে পৌঁছেলেন চাচার বাড়িতে।

    – ফরহাদ স্যার! এই দেখুন প্রেসক্রিপশন! বরকত চাচার ঘরের আলমারিতে পাওয়া গেছে এটা।
    – হ্যাঁ তো?
    – স্যার! গত ৫- ৩- ২০১২ তারিখে কুমিল্লার ট্রমা সেন্টারের অর্থোপেডিক ও ট্রমা বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল হক স্যার থেকে কেউ ট্রিটমেন্ট নিয়েছে। পেশেন্টের নাম ঠিক লেখা নেই,তবে এক্স-রে রিপোর্ট বলছে, তার পায়ে গুলি লেগেছিল।
    – তার মানে কী বলতে চাও?
    – স্যার! ঠিক আগেরদিন রাতে ইমাম সাহেবের ঘরের সামনে আপনি মনে হয় কারো পায়ে গুলি মেরেছিলেন।
    – হ্যাঁ।
    – এটা বলা কি ভুল হবে, সেই ঐ ব্যাক্তি যাকে আমরা,,,,
    – হ্যাঁ, সেটা কোনো মহিলা ছিল, কিন্তু তার সাথে বরকতের কী সম্পর্ক ? আর এই প্রেসক্রিপশনইবা এখানে কী করে এল?
    – স্যার? বেশ কিছুদিন ধরে হাজেরা গায়েব। সে কোথায় কেও বলতে পারেনা।
    – হাজেরা? কে সে?
    – বরকত চাচার স্ত্রী।
    – তার মানে গুলিটা হাজেরার পায়েই লেগেছিল। আর সে খুন করেছেব ইমাম সাহেবকে। তাও আবার বরকতের কোদাল দিয়ে। আর ফেঁসে যায় তার স্বামী বরকত। তার পর থেকে সে উধাও।
    – জ্বি স্যার!
    – বাহ! বাহ! ভেরি টুইস্ট! আচ্ছা এখনো কি হাজেরার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি?
    – জ্বি না স্যার! তার বাপের বাড়ির লোকজনও জানেনা।
    – ঠিক আছে। আচ্ছা ঐ ডক্টরের নাম কী যেন বলেছিলি?
    – কোন ডক্টর, ট্রমা সেন্টারের?
    – হ্যাঁ।
    – ড, আব্দুল হক।
    – তার নাম্বারটা দে। দেখি তার কাছে কোনো ক্লু পাওয়া যায় কিনা।

    প্রেসক্রিপশন থেকে ডক্টরের নাম্বার নিয়ে ফোন দিলেন ফরহাদ স্যার। রিং বাজছে, কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ রিসিভ করছেনা। পরপর কয়েকবার ট্রাই করেও কোনো সাড়া মিললনা। বাধ্য হয়ে নিজেই ট্রমা সেন্টারে রওনা দিলেন।

    ইমাম সাহেবের লাশ নিখোঁজের দিনখানিক পর। ঝড়ের এক রাতে। খালে বেল পেতে মাছ ধরছেন সফিউল্লাহ মিয়া। মাছ ধরা বড্ড নেশা তার। পেশাও বটে। ২ ঘন্টা ধরে চলা বৃষ্টিটা কিছুক্ষণ হলো থেমে গিয়েছে।টানা বৃষ্টিতে ক্ষেত -খামার খাল-বিল পানিতে ভরে টইটম্বুর। জাল টানতে গিয়ে হঠাৎ অবাক হন তিনি। জালটা একটু ভারী ভারী লাগছে। বড় কোনো মাছ আটকা পড়েছে বোধহয়। খানিক সময়ের জন্য খুশিরা ঝিলিক দিয়ে উঠল তার চোখেমুখে। ভাবছেন,
    “এত বড় মাছ বেইচ্যা মাইয়্যাটর লাইগা এক জোড়া জামা কিনা যাইব। একটা মাত্র মেয়ে তাঁর। সেই কবে জামা কিনে দিছিলেন। মাইয়্যাটা খালি জামার কতা কয়, কিন্তু তার কি তেমন সাধ্য আছে। পোলা একটা বিদেশে পাডাইয়া ঋণের উপর ঋণ লাইগা আছে”

    এসব ভাবতে ভাবতে জালটা টেনে ওপরে তুললেন। জালটা ভারী হওয়ায় তুলতো অনেকটা বেগ পোহাতে হয়েছে। টর্চ জ্বেলে দেখলেন মাছ তো বড়ই ,কিন্তু তার গায়ে সাদা কী মুড়ানো?

    জালটা কাছে টেনে পুণরায় সেটি দেখামাত্রই ভড়কে যান তিনি। মাছ তো নয়,আস্ত একটা লাশ। ভয়ে তার আত্মা শুকিয়ে গেল। লোভে ফুলতে থাকা বেলুনটা সূচের আগাতেই চুপসে গেল যেন। কিছুক্ষণের জন্য সটান হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। কী করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। আশেপাশে কোথাও ঘর-বাড়ির কোনো ছায়া নেই। শুধু জমি আর জমি। বাড়ি ফিরবেন,কিন্তু বাড়ি তো অনেকদূর ।

    অদূরে খালপাড় ঘেঁষে বিশাল বড় তালগাছ। তার চতুর্পাশে কলমি শাকের মহড়া।থেমে থেমে ব্যাঙ ডাকছে। মাঝে মাঝে ভয়ঙ্কর শব্দে কী যেন ঝাঁপ দিচ্ছে পানিতে।কুমির-টুমির হবে।আচমকা চমকে উঠলেন সফিউল্লাহ মিয়া। কানে কারো হাঁটার আওয়াজ বাজল যেন। তালগাছের পেছেন দিয়ে কেউ এদিকে আসছে। ভয়ের উপর ভয়। এক কথায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। আজ বুঝি রক্ষে নেই। প্রাণটা চলে যায় যায় করেও গেলনা। আকাশ বাতাস এক করে তিনি আল্লাহ কে ডাকতে লাগলেন। তখন কেও এসে জোরে এক ধমক দিল। নিশ্চুপ বনে গেলেন মিয়া। তিনি মরে গেলেন না তো? মুনকার-নকির এসেছে তাহলে। কাঁপাকাঁপা চোখে পাশ ফিরে তাকালেন তিনি।
    “আরে এতো দেখছি ইব্রা কাক্কু। তার উকিল বাপ। তিনিও মাছ ধরতে এসেছেন। যাক জানে বাঁচা গেল। কলিজায় পানি ফিরে এল।
    সফিউল্লাহ মিয়া “লাশ” “লাশ” করে চিৎকার দিয়ে দৌড়ে ইব্রা কাক্কুর নিকট এলেন। কারেন্টর শট খাওয়া ব্যাক্তির মত কাঁপছিলেন তিনি। এক শ্বাসে কী সব বলে মাথা ঘুরিয়ে ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেলেন। এবার ইব্রা কাক্কু পড়লেন বেকায়দায়। দ্রুত খাল থেকে মুঠোয় করে পানি নিয়ে সফিউল্লাহ মিয়ার চোখে মুখে মেরে বহু কষ্টে তার জ্ঞান ফিরালেন। পকেট থেকে সদ্য বিদেশ থেকে আনা ৩২ বাটনের ফোনটা বের করে ফোন দিলেন থানায়। পুলিশ এসে কতক্ষণ নেড়েচেড়ে বুঝল এটা ইমাম সাহেবের হারিয়ে যাওয়া লাশ। একে তো আগুনে পুড়ে গিয়েছিল তার উপর পানিতে ভেসে ছিল এতোদিন। পঁচে গলে লাশের অবস্থা নাজুক।বমি আসা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পুলিশ লাশটা রাতারাতি হুজুরের বাড়ি নরিন্দ গ্রামে পৌঁছে দেয়। লাশটা গলে গেছে দেখে দ্রুত জানাজা পড়ে ওই রাতেই দাফন করা হয়।

    – স্যার! আপনার সাথে কিছু কথা ছিল। দৃঢ় কণ্ঠে বললেন ফরহাদ স্যার।
    – কেন নয়? অবশ্যই বলুন! বিনীত স্বরে তবে মৃদু হেসে বললেন আব্দুল হক স্যার।
    -গত কিছুদিন আগে আপনি হাজেরা নাম্নী কোন মহিলার ট্রিটমেন্ট করিয়েছিলেন। তার পায়ে গুলি লেগেছিলো। সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাই। বলবেন দয়া করে?
    -কিন্তু আমি তো ১ মাস হলো দেশের বাইরে। ফিরলাম গতকাল। তাহলে কাউকে ট্রিটমেন্ট দেওয়ার তো প্রশ্ন আসেনা।
    কথাটা শুনে চমকে উঠলেন ফরহাদ স্যার। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল যেন। তিনি আশ্চর্যভরা দৃষ্টিতে ডক্টরের দিকে চেয়ে রইলেন। কিছুই বলতে পারলেননা। এভাবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর অনেকটা কৌতূহলী হয়ে বললেন,
    – তা হলে স্যার! তার প্রেসক্রিপশনের ডক্টর আপনি কেন? আই মিন হাজেরা বেগম এ হসপিটাল থেকে ট্রিটমেন্ট নিয়েছিলো,যে ডক্টর তাকে দেখেছেন তার প্রেসক্রিপশনে পেশেন্টর নাম নেই,কিন্তু ডক্টরের নাম তো আছে। সেটা আপনারই নাম। এই নিন! দেখুন প্রেসক্রিপশন!
    এ বলে ফাইল থেকে একটা প্রেসক্রিপশন বের করা দেখালেন ফরহাদ স্যার। প্রেসক্রিপশন দেখে তো ডক্টর যারপরনাই অবাক হলেন, কিন্তু তিনি চেম্বারের ডয়ের থেকে তার মালয়েশিয়া যাওয়ার পাসপোর্ট দেখিয়ে বললেন,
    – দেখুন! আমার পাসপোর্ট। এবার আপনিই বলুন আমি কিভাবে কারো ট্রিটমেন্ট করাব?

    ফরহাদ স্যারের মাথাটা বুঝি তার দেহ নেই। যত্তসব অদ্ভুত টদ্ভুত ঘটনা তার মাথাটা একেবারে খেয়ে দিয়েছে। তিনি ডক্টরকে কি বলবেন কি বলবেন করেও কিছুই বলতে পারলেন না। মাথাটা চুলকাতে (থুক্কু) মাথার চুল চুলকাতে চুলকাতে কপালটা খানিকটা গুঁজে চেম্বার থেকে বেরিয়ে এলেন।

    হাজেরা বিবিকে খুঁজে চলেছেন ফরহাদ স্যার। প্রমাণাদি বলছে খুনি সেই। তাছাড়া তার কাপড় চোপরের আলমারিতে তরল পদার্থ ভর্তি একটা কৌটা পাওয়া গেছে। ঠিক ইমাম সাহেবের ঘরের মেঝেতে ছিটানো পদার্থটা। গন্ধটা একই। পরীক্ষা করা দেখা গেছে, এটা এমন একটা পদার্থ, যেটার উপর কোনো তাপ পড়লে একধরণের ধোঁয়া সৃষ্টি হয়।ঐ ধোঁয়া কারো নাকে-মুখে ঢুকলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তার হুঁশ ফিরে আসে, কিন্তু সে নিজের বশে থাকেনা। চলে যায় অন্য কারো বশে। ওই রাতেও ঠিক তাই ঘটেছিলো।

    প্রথমে হাজেরা বিবি ইমাম সাহেবের কুপিতে সামান্য পদার্থ ঢেলে দেয়। তা থেকে সৃষ্ট ধোঁয়ায় ইমাম সাহেব অজ্ঞান হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে হাজেরা বিবি তাকে দিয়ে লোকালয়ে ভয় দেখায়। তারপর বরকত চাচার কোদাল দিয়ে সে ইমাম সাহেবকে খুন করে গোরস্থানে ফেলে যায়। কিন্তু ফরহাদ স্যারের এটা বুঝে আসছেনা,কেন হাজেরা বিবি হুজুরকে খুন করতে গেল। কীইবা রহস্য নিহিত এর পিছনে? সম্ভাব্য সব জায়গায় তাকে হন্যে হয়ে তন্ন তন্ন করে খুজলেন,পত্র পত্রিকাতে তার নিখোঁজ সংবাদ ছাপা হয়,দেয়ালে দেয়ালে ঝুলতে থাকে তার ছবি, কিন্তু কোথাও তার কোন রা নেই।

    এরই মধ্যে আমার ভাঙা হাত ভালো হয়ে যায়। খুলে ফেলা হয় প্লাস্টারও। তাই আমাকে মাদ্রাসায় চলে যেতে হয়। মাসখানেক পর নাবিলারাও গ্রাম ছেড়ে কুমিল্লা শহরে গিয়ে উঠে। ওই কেইসটার শেষ কী হয়েছে জানতে পারিনি। হাজেরা বিবিকে কি খোঁজে পাওয়া গিয়েছিল? পাওয়া গেল কেন খুন করল হুজুরকে। এভাবেই কেটে যায় অনেকগুলো সপ্তাহ, অনেকগুলো মাস কয়েকটি বছর। তারপর,,,?
    – চলবে।
    @শফী মুহাম্মদ।

    7
    6 Comments

Friends

Skip to toolbar