-
অনু কাহিনী
ভালোবেসে ভিখারী
অনেকদিন পর নিজের হাতে বাজার করার জন্য হাঁটতে হাঁটতে বাজার দিকে চলে গেলাম। আমি নিজের হাতে বাজার করা ছেড়ে দিয়েছি। ওসব ঝামেলা গিন্নিই সামলায়।
বাজারের মুখেই এক ভিখারী কে দেখে চমকে উঠলাম। ভিখারীটাকে চেনা চেনা মনে হচ্ছে। কাছে গিয়ে ভালো করে দেখলাম। আরে! এতো আমার ছোট বেলার বন্ধু রাসেল। মাথায় চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে, ভালো করে গোসল করেনি মনে হয় কয়েকদিন। পরনে মলিন কাপড়, উদ্ভ্রান্ত দৃষ্টি। আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম। তার কপালের কাছে বাঁ চোখের ঠিক উপরে একটা কাটা দাগ ছিল। সেই দাগটাই তাকে চিনতে দেরি করতে দিল না। ছোটবেলায় যখন স্কুলে পড়ি তখন আমার সাথে একদিন হাতাহাতি করতে গিয়ে স্কেলের আঘাতে তার কপালটা কেটে গিয়েছিল। সেই কাটাদাগ এখনো আছে। সাথে তার বুদ্ধিদীপ্ত চোখ দুটি।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ” তুই রাসেল না ?”
সে যেন একটু অবাক হলো। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ” চিনলাম না তো!”
“আমি তোর ছোটবেলার বন্ধু অমল। মনে আছে? আমার স্কেলের আঘাতে তোর কপালটা কেটে গিয়েছিল?”
সে কিছুক্ষণ যেন কিছু চিন্তা ভাবনা করলো। স্মৃতির পাতা উল্টে দেখছে আমার নাম কোথাও লিখা আছে কিনা। তারপর মনে হতেই আমাকে বললো, “হ্যাঁ, এবার চিনতে পেরেছি। কেমন আছিস?”
আমি বললাম, ” আমি তো ভালো আছি; তোর এই অবস্থা কেন?”
“আমার কথা আর কি বলবো ভাই? সবই কপালের দোষ। ভালোবেসে আমি আজ ভিখারী।”
ফিটফাট পোশাক পড়ে আমাকে একজন ভিখারীর পাশে বসে থাকতে দেখে আশেপাশে কিছু কৌতুহলী লোক দেখতে লাগলো। তখন আমি রাসেলকে নিয়ে কিছুটা দূরে একটা চা দোকানের পাশে গিয়ে বসলাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, ” আমাকে একটু খুলে বল কি হয়েছে তোর?”
সেখানেও কয়েকজন লোক আমাদের দেখতে লাগলো। রাসেল তার জীবন কাহিনী শোনাল। বড় দুঃখ হল তার জন্য। তার কথা অনুযায়ী যা জানলাম সেটা হচ্ছে-
সে একটা মেয়েকে খুব ভালোবাসতো। মেয়েটা সুন্দরী, কিন্তু এতটা লোভী ছিল সে বুঝতে পারেনি। তার প্রতিদিনই কিছু না কিছু চাই উপহার হিসেবে। তার সেই চাওয়া পূরণ করত রাসেল, বিভিন্নভাবে। তার এই চাওয়া একসময় বেড়ে গেল। রাসেল ও তার প্রেমে এতটা ডুবে ছিল, ভালো মন্দ বোধ বুদ্ধি ও উধাও হয়ে গেল। একদিন তার আবদার পূরণের জন্য রাসেল তার মায়ের গয়না গুলো সব চুরি করে নিয়ে গেল। সমস্ত গয়না সে মেয়েটার হাতে তুলে দিল।
এদিকে গয়না চুরির ব্যাপারটা জানতে পেরে বাবা-মা তাকে ত্যাজ্য পুত্র করে। পুলিশে কমপ্লেইন করে তাকে থানায় পাঠিয়ে দেয়। তার জেল হয়ে গেল। কয়েক বছর জেল খেটে বেরিয়ে সে দেখল সেই মেয়েটি আর নেই। তখন তার আর কিছুই করার ছিল না। মেয়েটি অন্য জায়গায় বিয়ে করে চলে গেছে।
তার মত জেলখাটা আসামীকে কেউ কাজও দেয় না, বাড়িতেও জায়গা নেই। এখন তার পথে পথে ঘুরে ভিক্ষা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। সত্যিই সে ভালবেসে এখন ভিখারী।
তার কথাগুলো শুনে খুব কষ্ট হল। আমার কিছু করার মত নেই। পকেট হাতিয়ে ৫০০ টাকার একটা নোট পেলাম। সেটা তার হাতে দিয়ে চুপিচুপি ফিরে এলাম বাড়িতে- বাজার না করেই।4 Comments
Friends
Shailajananda Ray
@shailajananda
Asmaul husna Shapla
@asmaulhusna
Hassan-Rony
@hassan-rony
Shafi Masnad
@shafi
Tasmin-Aziz
@tasmin-aziz
M-Hussain-Riane
@m-hussain-riane
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন সিয়াম
@shiyam
আয়েশা সিমা
@ayesha-sima
Monirul Islam
@monirul9234

শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানাই প্রিয়… অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী অনুগল্প… এটা একটা পেন্সিলের মত, লিখে কিংবা এঁকে ক্ষয় করতে একদিনও লাগে না অথচ পেন্সিলের কাছে একটা সম্পূর্ণ জীবন…