Profile Photo

SHUVASHIS CHAKRABARTTYOffline

  • SHUVASHIS
  • Profile picture of SHUVASHIS CHAKRABARTTY

    SHUVASHIS CHAKRABARTTY

    4 years, 6 months ago

    বাজির আওয়াজ (THE SOUND OF FIREWORKS)

    টালমাটাল অবস্থায় বাড়ির রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের বড় কালীতলার কাছে এসে পৌঁছেছি,এমন সময় আমার পায়ের কাছে মনে হল বোম ব্লাস্ট হল।কানে হেডফোন ছিল আর আমার ঘাড় নিচে করে হাঁটার অভ্যাস তো ছোট বেলাকার। একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে আশেপাশে তাকানো মাত্রই দেখলাম ছোট ছোট ছেলেরা রাস্তার উপর বাজি 🎆 ফুটাচ্ছে। হেডফোন খোলা হয়েছে, কানে আসছে দুই বাড়ি পর থেকে নিমন্ত্রন রক্ষার্থী ঋষি সম্প্রদায়ের তাল বিহিন ঢোলের আওয়াজ। ফোনের ফ্লাশটা জ্বালিয়ে হাঁটতে শুরু করেছি আবার একটু দূরে বাজির প্রচণ্ড আওয়াজ। আওয়াজ শোনা মাএ আমার চোখে সব ঝাপসা, আমি যেন আমার শৈশবে ফিরে এসেছি তবুও আমার হাঁটা অব্যাহত রয়েছে। ফিসফিস করে কেউ বলছে” হয়ে যাক আজ আবার, না হয় একটু দৌড় দিলি,না হয় একটু হাত_পা ছড়ে গেল “। কী জানি মনে কী চলল , ফিরে এসে ছেলেদের কাছে থেকে ২ টা চকলেট বোমা চেয়ে নিয়ে মৃদু পায়ে শয়তানী হাসি হেসে আস্তে আস্তে রওনা দিলাম।।
    একে তো গ্রামের রাস্তা তার উপর রাস্তার পাশে বড় বড় ঝোপ । ভো ভো ভো কু কুই পি ভোওও মশার ভন ভনানী। কিন্তু একটাও কামড়াচ্ছে না, ওরা কি কিছু বলতে চায়? মেঘ ফুঁড়ে চাঁদের আলো এসে পড়ল ঝোপে। চি,চি স্বরে কে যেন বলে উঠল” কি নিজের মজার জন্য অন্যের গায়ে বাজি মারতে তোমার বিবেক তোমায় বাধা দেয় না? আর করবে তো কি! তোমাদের জীবন তো সওজ, আজ যদি আমাদের মত জীবনের দায় দিন রাত্রি পাখা ঝাপটিয়ে , এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি, এই ঝোপ থেকে অন্য ঝোপে এক ফোঁটা রক্তের জন্য কষ্ট করতে হতো তা হলে বুঝতে জীবন মানে অন্যের গায়ে লুকিয়ে বা প্রকাশে বাজি ছুড়ে মারা নয়।”চোখটা নাক বরাবর নামিয়ে দেখি গুরুগম্ভীর দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে থাকা একটা মশা।তার অবস্থা কোন বিজিত দলের যুদ্ধ পলানো সিপাহীর মত,তাগড়াই দেহ কিন্তু ক্লান্তি ও কষ্টে তার চোখ ,মাথা ও চোখের নিচে রক্তটানার অঙ্গবিশেষ ম্রিয়মান যেন ভেঙ্গে যাবে তার সহস্রবার রক্ত টানার সুচ।” তোমাদের পেট ভরার জন্য তোমার মা বাবা কড়জোড়ে মিনতি করে,বাবা খেয়ে নাও লক্ষি ছেলে আমার।”
    মশা আবার কথা বলে? তা বলতেও পারে , তাদের হয়তো নিজেস্ব ভাষা আছে। কী সব ভুতুড়ে কান্ড।একটু একটু ভয়ে,আর বাজি ছুড়ে মারার উত্তেজনায় মশার ভন ভনানী বিরক্ত লাগছে।তাই মশার উদ্দেশ্যে বললাম “আাাা,,হা মশা থাম” সে আমার কথা বুঝল না, না কি শুনতে পেল না, জানি না। সে বলেই চলল “তোমাদের শিক্ষিত সমাজ আছে বাপের পকেটের টাকা আছে,সেই টাকা বা শিক্ষিত সমাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ আছে,এসব বাদ দিয়ে ও তোমাদের দেশে বিদেশে আত্মীয়ের অভাব নেই। তারা নিশ্চই তোমার কাজের একটা ব্যবস্তা করে দেবে‌।গোড়া থেকেই তোমাদেরকে বড় দ্বিগজ বানানোর চেষ্টা করে, অন্যের কাছে তা আস্ফালন করে বলে, সমাজে যে তোমাদের স্থান অদ্বতীয় তা সবাইকে বলার অফুরন্ত সুযোগ আছে এবং তোমাদের গুরুজনরা ও সেই সুযোগটির সদ্ব্যবহার করে। তোমাদের বসবাসের জন্য রয়েছে নিরাপদ ঘর আর আমাদের বাগানে, ঝোপে , বৃষ্টিতে !!!। তোমাদের মতো আমার বাবার পকেটের টাকা বা শিক্ষিত সমাজ নেই।কোন জলে আমার জন্ম তার ও কোন ঠিক নেই।নিজের জীবন ধারণের জন্য নিজেকেই যুদ্ধ করতে হয়।আমরা মশারা তিন দিনের জীবনে বুঝে গেছি বাঁচতে হলে সংগ্রাম করতে হয় আর তোমরা এখনও তোমাদের বাবা, কাকা ,বংশ মর্যাদা, শিক্ষিত সমাজ ও একে অপরের সমলোচনা নিয়ে ব্যাস্ত। আমাদেরকে ব্যাঙ্গ না করে, সব অতীত ভুলে হাতে হাত দেও তো দেখি, জোর বেশি কার। আগে তোমাদের দাদা,বাবা,কাকার সম্পতি, তাদের কাছ থেকে পাওয়া সুযোগ বাদ দিয়ে, উভয় শূন্য থেকে শুরু করি তারপর তোমার এবং তোমার চৌদ্দগোষ্ঠীর কথা শুনব। তুলনা সমানে সমানে করতে হয় বোকা মানুষ।” মশার কথা শুনতে শুনতে যেন কল্পনার জগতে চলে গিয়েছিলাম। ডান পাশের ঝোপ থেকে আবার বাজির আওয়াজ, বুঝলাম ছেলেগুলোরও একই ফন্দি। কিন্তু সে মশা গেল কই?ডোলের আওয়াজ বন্ধ হয়েছে মিনিট বারো হল, আশা করি এবার ওরা বের হবে। কান পেতে শুনলাম ঢোলের কুড়ুং কুড়ুং আওয়াজ। কি জানি কি মনে হল, পকেট থেকে লাইটার বের করে বাজিতে আগুন দিয়ে ডান পাশের ঝোপের দিকে ছুড়ে দিয়ে ভোঁ দৌড় দিলাম। হয়তো মশার কথায় মাথাটা একটু সাময়িক বিগড়েছে।

    9
    9 Comments
Skip to toolbar